রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 413

স্বর্ণের দাম কমল ভরিতে যত

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বুধবার থেকে দেশের বাজারে ভা‌লো মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ১৬৬ টাকা ক‌মি‌য়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস।

ফলে দে‌শের বাজা‌রে ভা‌লো মা‌নের স্বর্ণ প্রতি ভ‌রির দাম ক‌মে দাঁড়াচ্ছে ৭৮ হাজার ১৫৯ টাকা। বুধবার থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে বুধবার থেকে খরচ পড়বে ৭৮ হাজার ১৫৯ টাকা। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হচ্ছিল ৭৯ হাজার ৮২৫ টাকায়।

২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১০৫০ টাকা ক‌মি‌য়ে ৭৪ হাজার ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭৫ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ৯৩২ টাকা ক‌মে প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৩৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ৭০০ টাকা ক‌মি‌য়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৩৬৩ টাকা।

স্বর্ণের দাম কমালেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ১৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৯৩৩ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হ‌য়েছে।

এর আগে গত ৮ মার্চ স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস।

দুর্নীতির তথ্যসহ দুদকে চিঠি দেবে বিএনপি

সরকারের সঙ্গে আছে এমন ‘দুর্নীতিবাজ’দের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দেবে বিএনপি। এতে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানানো হবে।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চিঠির খসড়া তৈরি হয়েছে। শিগগিরই তা দুদকে পাঠানো হবে। এ নিয়ে সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ওই বৈঠকে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আবারও কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

দুদককে চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, এ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই নীতিনির্ধারক চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে খসড়াও তৈরি হয়েছে। দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্যসহ বেশ কয়েকটি খাতে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের নামে নানা দুর্নীতির খবরও প্রকাশ পাচ্ছে।

এছাড়া সম্প্রতি আইনমন্ত্রী ও একজন উপদেষ্টার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে-যাতে এ সরকারের দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত দলের এক স্থায়ী কমিটির সভা থেকে এই ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার বিষয়ে শুধু তদন্ত নয়, বিষয়বস্তু সম্পর্কে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। বিষয়টি তদন্তসহ কয়েকজনের নামের তালিকা বিএনপির পক্ষ থেকে দুদককে দেওয়া হবে। পাশাপাশি নানা খাতে যারা দুর্নীতি করছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানানো হবে।

সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের করোনা পজিটিভ হয়। যে কারণে গত বেশ কয়েকটি সভার তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের করোনা নেগেটিভ হলে স্থায়ী কমিটির সভা প্রতি সপ্তাহের সোমবারে হচ্ছে। গত স্থায়ী কমিটির সভায় দুদককে চিঠি দেওয়ার বিষয় নিয়েই দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে চিঠিতে উল্লেখ থাকবে তাদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দেন নেতারা।

এছাড়াও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আরও কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সারা দেশে গণঅনশনসহ কয়েক দিনের কর্মসূচি ঘোষণার কথা রয়েছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যেমে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই দাবিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে হাটবাজারে হাটসভা, পথসভা ও লিফলেট বিতরণের ১১ দিনের কর্মসূচি পালন করেছে, যা মঙ্গলবার শেষ হয়।

২৭ মার্চ চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ : এদিকে ২৭ মার্চ চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন দলটির জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এই সমাবেশ হবে। এতে বিপুলসংখ্যক লোকসমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত থাকবেন।

জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত যুগান্তরকে বলেন, ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বিশাল সমাবেশ করব। কালুরঘাট থেকেই শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ডাকে আমরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। ওই দিনটিকে স্মরণীয় করতে আমরা এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ওই সমাবেশ থেকে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ডাক আসবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালামসহ ৫০ নেতাকর্মীর আগাম জামিন

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ মুন্সীগঞ্জ জেলার দলীয় ৫০ নেতাকর্মী আগাম জামিন পেয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের মামলায় মঙ্গলবার হাইকোর্ট থেকে তারা আগাম জামিন পান।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের ছয় সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন।

বিএনপির আইনজীবী খোন্দকার আব্দুল হামিদ ডব্লিউ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৬ সপ্তাহের জন‍্য আগাম জামিন প্রদান করেন।

বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘তেল-চাল-ডাল, গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৫ মার্চ বিএনপির লৌহজং উপজেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় ঘোড়দৌড় বাজারস্থ উপজেলার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল বের করলে প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর বিনা উস্কানিতে অতর্কিত হামলা করে। এতে অনেক নেতাকর্মীদের আহত হন। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন রাতেই পুলিশ বাদী হয়ে আমাকেসহ লৌহজং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো: শাহজাহান খান, সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান অপু চাকলাদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ৫৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার আমরা ৫০ নেতাকর্মী হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে ৬ সপ্তাহের জন‍্য আগাম জামিন প্রদান করেন।’

লোপাট ৩ হাজার কোটি টাকা

কারসাজি করে সয়াবিন তেলের মাত্রাতিরিক্ত দাম বাড়িয়েছে মজুতদাররা। এতে গত দেড় মাসে ভোক্তার পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে গড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

এই টাকার বড় অংশই গেছে মিলার ও পাইকারদের কাছে। তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে তারা পর্যায়ক্রমে দাম বাড়িয়েছে। সীমিত কিছু অংশ গেছে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত দরের তুলনায় কত বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, সেই হিসাব-নিকাশে পাওয়া উল্লিখিত তথ্য।

এর আগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান এক বৈঠকে বলেছিলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে ১৫ দিনে ১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। তদারকি জোরদার করতে হবে।

পাশাপাশি কোন পর্যায় থেকে তেল নিয়ে কারসাজি হয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি একটি কমিটি করে চিহ্নিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রয়োজনে আরও কঠোর আইন করতে হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, আমরা তেলের কারসাজি রোধে মিল পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করছি।

পাইকারি ও খুচরা পর্যায়েও অভিযান চালিয়েছি। অসাধুতায় জড়িত অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছি। এতে দেখা গেছে তেল নিয়ে বড় ব্যবসায়ীরাই জড়িত। আমরা আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছি। আশা করছি অসাধুদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম জানুয়ারিতে ছিল প্রতি টন ১ হাজার ৩০০ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮৬০ ডলার।

এর প্রভাবে স্থানীয় বাজারেও তেলের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বৈঠক শেষে বিশ্ব বাজারের মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এই দর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান পর্যন্ত কার্যকর আছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৪৩ টাকা ধরা হয়। এ সময় বলা হয়-এ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেউ যদি বেশি দরে বিক্রি করে তাহলে আইনের আওতায় আনা হবে।

কিন্তু এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম আরও বাড়লে ব্যবসায়ীরা এর দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করলে মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।

এরপর থেকেই বাজারে সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে থাকে মিলার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। অনেকে তেল মজুত করতে শুরু করে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সকারের বেঁধে দেওয়া দামে তেল বিক্রির কথা থাকলেও বাজারে বিক্রি হয়েছে বাড়তি দরে। এ দিন রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

যা নির্ধারিত দরের চেয়ে ৭ টাকা বেশি। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হয় ১৭০ টাকা। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ২ টাকা বেশি। গড়ে প্রতি লিটারে বেশি দাম নিয়েছে সাড়ে ৪ টাকা।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ৪ দিন এই দামে সয়াবিন বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে সয়াবিনের চাহিদা ৫০ হাজার টন। কেজি হিসাবে ৫ কোটি কেজি। এ হিসাবে প্রতিদিন ভোক্তার কাছ থেকে বেশি নেওয়া হয়েছে ২২ কোটি টাকা। ৪ দিনে বেশি নেওয়া হয়েছে ২৮৮ কোটি টাকা।

১১ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি এই ৭ দিন খোলা সয়াবিন বিক্রি হয় ১৫৫ টাকা ও বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয় ১৭০ টাকা দরে। ওই সময়ে গড়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে ৭ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে ১ দিনে বেশি নেওয়া হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। ৭ দিনে বেশি নেওয়া হয়েছে ২৪৫ কোটি টাকা।

১৮ থেকে ২৪ ফেব্রয়ারি এই ৭ দিন খোলা সয়াবিন ১৬৫ টাকা ও বোতল ১৭০ টাকা করে বিক্রি হয়। ওই সময়ে প্রতি লিটারে গড়ে বেশি নেওয়া হয়েছে ১২ টাকা করে। এ হিসাবে প্রতিদিন বেশি নেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ৭ দিনে নেওয়া হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা।

২৫ ফেব্রুয়ারি থেক ২ মার্চ এ ৬ দিন প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৬৮ ও বোতলজাত ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। ওই সময়ে প্রতি লিটারে সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে ১২ টাকা করে। এ হিসাবে এক দিনে বেশি নেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। ৬ দিনে বেশি নেওয়া হয়েছে ৩৬০ কোটি টাকা।

৩ থেকে ১৩ মার্চ এই ১১ দিন প্রতি লিটার তেল বিক্রি হয় গড়ে ২০০ টাকা করে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি লিটারে বেশি নেওয়া হয়েছে ৩২ টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন বেশি নেওয়া হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা।

১১ দিনে বাড়তি নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ মার্চ এই ৪৫ দিনে ভোক্তার পকেট থেকে সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি লোপাট করা হয়েছে ২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে ভোক্তার পকেট থেকে।

এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১৪ সংস্থার একটি অভিযান টিম গঠন করা হয়। তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

পাশাপাশি ভোক্তা অধিদপ্তর নিয়মিত মিল পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করছে। অনিয়ম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তি প্রদান করছে।

পাশাপাশি ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এছাড়া উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে সোমবার। এদিকে আমদানি পর্যায়েও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার নিয়ে গুজব : ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার নিয়ে মঙ্গলবার দিনভর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রিফাইনারি, পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে গুজব এসে ঠাঁই নেয় বিভিন্ন অনলাইন নিউজপোর্টালেও।

সেখানে বলা হয়, আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলামের বরাত দিয়ে অনেকে ছড়িয়ে দেন ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করতে যোগাযোগ করা হলে গাজী তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমার কাছে কেউ জানতে চায়নি, আমি কাউকে কোনো বক্তব্য প্রদান করি নাই।

এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এখতিয়ার। এর আগে দুপুর থেকে বলা হয় উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের পর এবার আমদানি পর্যায়েও ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, সোমবার উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

আর আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের গুজবে ভোজ্যতেল রিফাইনারি ও পাইকাররা সুবিধা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এনবিআর থেকে ভোজ্যতেল আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

তিন মাসের ব্যবধানে পিষ্ট ভোক্তা

বাজারে খাদ্যপণ্যের সঙ্গে বাড়ছে সব ধরনের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম। এমনিতেই চাল থেকে শুরু করে ডাল ভোজ্যতেলসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি।

এর সঙ্গে দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা-সাবান, টুথপেস্ট, ডিটারজেন্ট, নারিকেল তেল, সেইভ করার রেজার, এয়ার ফ্রেশনার, অ্যারোসলসহ সব ধরনের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দামও লাগামহীন হয়ে পড়েছে।

গত তিন মাসের ব্যবধানে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে আয় বাড়েনি। ফলে সব মিলিয়ে বাড়তি দামের বোঝা সইতে না পেরে পিষ্ট হচ্ছেন ভোক্তা।

এদিকে একসঙ্গে এতকিছুর দাম বাড়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয় সামলাতে ক্রেতাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ জন্য অনেকেই প্রতিদিন ব্যবহার্য পণ্যের তালিকা কাটছাঁট করছেন। এ যেন অল্প কিছু দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই। পাশাপাশি সকালের নাস্তার টেবিলে রাখা পাউরুটির দামও বেড়েছে। আকার ভেদে ১০-২০ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাস্তার পাশে হোটেলে পরোটার দাম না বাড়ালেও ব্যয় সামলাতে এর আকার ছোট করা হয়েছে। হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতেও সব ধরনের খাবারের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি-করোনা পরবর্তীকালে চাহিদা বাড়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। গত ৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে গণপরিবহণ ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। এর প্রভাবেও ওই সময়ে এক দফা পণ্যের দাম বেড়েছে। শিল্প পণ্যে পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে সাম্প্রতিক সময়ে। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিত্যপণ্য সব ধরনের পণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও এক দফা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ায় ওইসব দেশে পণ্য পরিবহণ ও বিপণন খরচ বেড়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারেও সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কেনার কারণে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তবে সয়াবিন তেলের দাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে বলে এর দাম ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো বাড়াতে পারছে না।

গত আগস্টের পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ, শিল্পের কাঁচামালের দাম গড়ে ৩৫ শতাংশ, গমের দাম ২৪ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে স্থানীয়ভাবে পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একাধিক ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাকালে লাইফবয় সাবান বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা যা এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন মাসের ব্যবধানে প্রতি পিস লাক্স সাবান ৫২ টাকা ছিল, এখন ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি হুইল পাউডারের দাম করোনাকালে ছিল ৮৫ টাকা। এই পণ্যটির দাম এখন ১০০ টাকা। এক কেজি রিম পাউডার ১০৫ টাকা এমআরপি ছিল, এখন ১৪০ টাকা। ১০০ টাকার পেপসোডেন্ট টুথটেস্ট এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ছোট সাইজের অ্যানার্জি বিস্কুটের দাম ৩০ টাকা যা আগে ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি সাইজের প্যাকেটজাত চানাচুর বিক্রি হয়েছে ৪৩ টাকা, যা আগে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ওয়ানটাইম সেইভ করার রেজার বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা, যা আগে ১৫ টাকা ছিল। ২৫০ এমএলের প্যারাসুট বোতলজাত নারিকেল তেল ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ১৩৫ টাকা ছিল। ৪০০ এমএলের অ্যারোসল ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগে ৪০০ টাকা ছিল। ২২০ টাকার এয়ার ফ্রেশনার ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এমকে মুজেরি বলেন, যেকোনো ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে গেলে ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়। তাই ভোক্তার সুরক্ষা দিতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দরকার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কিন্তু দেশে সেটি হচ্ছে না। কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর হাতেই নিত্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণ। এরা কারসাজি করলে তখন সরকারের আর করার কিছু থাকে না। তিনি মনে করেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যা খুশি তাই করার সুযোগ পাবে। বিশ্বের অনেক দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি থাকলেও সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও থাকে। বাংলাদেশেও এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর জন্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর মনিটরিং সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। দেশের প্রেক্ষাপটে ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করা এখন দুরূহ ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছে।

অন্য দিকে বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬৮ টাকা যা তিন মাস আগেও ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক কেজির প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা যা আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা যা আগে ৭৮-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি ছোট দানার মশুর ডাল ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, আগে দাম ছিল ১১০ টাকা। প্রতি কেজি লবণের প্যাকেট বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা, যা আগে ৩০-৩২ টাকা ছিল। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা যা আগে ১৫০ টাকা ছিল। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৬০০-৬৭০ টাকা যা আগে ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দাম গড়ে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য সেবা পণ্য রয়েছে। এগুলোর দাম বাড়ায় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজারে কথা হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে তদারকি করার মতো কেউ অছে কিনা জানি না। প্রত্যেকটি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি। পাশাপাশি নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। এতে প্রতিদিন আমার পরিবার সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে বেতন পাই তা দিয়ে গত দুই বছর আগেও বেশ ভালো ছিলাম। এখন সব ধরনের পণ্যের দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তাই যে পণ্য না কিনলেই নয়, তা বাদ দিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছি। জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, অসাধুদের কারসাজির কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। নানা ইস্যুতে গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণে দেশে বেশ কিছু আইন আছে, সেসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা অনেক বড় ব্যাপার। তারা যৌক্তিক লাভ করবে এটাই আমরা চাই। কিন্তু কেউ যদি কারসাজি করে এদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের অভিযান টিম প্রতিনিয়ত তদারকি করছে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এবার ভোজ্যতেল পাচার!

দেশের ভেতরে অবৈধ মজুতদারির পরও এবার সীমান্ত দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হচ্ছে ভোজ্যতেল। কারণ দেশটিতে ভোজ্যতেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় বেশি। এর ফলে একশ্রেণির মুনাফালোভী জড়িয়ে পড়ছে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে।

এর ফলে দেশের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ভোজ্যতেল নিয়ে বাজার অস্থিরতার যতগুলো কারণ রয়েছে এর মধ্যে এটিও অন্যতম।

এদিকে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সূত্রমতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে শিগগির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘ভোজ্যতেল পাচারের ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর একটি চিঠি দিয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবিকে চিঠি দেওয়া হবে। যাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।’

সূত্র জানায়, সীমান্ত দিয়ে ভোজ্যতেল পাচারের তথ্য জানিয়ে গত ১০ মার্চ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান চিঠি দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলসহ আমদানিকৃত পণ্যের বাজার মূল্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমন্বয় করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিত সরকার কর্তৃক ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর চেয়ে তুলনামূলক কম। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও মিডিয়ার মাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভোজ্যতেল পার্শ্ববর্তী দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে ভোজ্যতেল পার্শ্ববর্তী দেশে যেন পাচার না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে পত্র পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।’

সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘দেশের ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতের মূল্যকেও বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান বাজারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশের মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তবে সার, বীজ, ভোজ্য ও জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে বাজার ব্যবস্থাপনা দিয়ে কাজ হবে না। সেক্ষেত্রে মূল্য ব্যবস্থাপনা দিয়ে ভোজ্যতেল পাচার প্রতিরোধ করতে হবে। অর্থাৎ ভারতের ভোজ্যতেলের দামের তুলনায় যাতে বাংলাদেশে কম না হয়। এখানে কম থাকলে পাচার ঠেকানো যাবে না। তাই এভাবে করতে পারলে ভোজ্যতেলের পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতে এক কেজি সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ১৮৯.৫৯ এবং সর্বনিম্ন ১৬৪.২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে কোম্পানিভেদে দেশি মুদ্রায় দাম পড়ে ১৮৪ থেকে ২১২ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ভারতে পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১২৮.৫ রুপিতে, যা দেশীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৪৪ টাকা।

এদিকে মঙ্গলবার টিসিবির হিসাবে দেশের বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের ক্যান বিক্রি হয় ৮০০ টাকা। যার এক লিটারের মূল্য দাঁড়ায় ১৬০ টাকা। এছাড়া প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হয় ১৫৫ টাকা। এতে দেখা যাচ্ছে, ভারত ও বাংলাদেশের সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি মূল্য পার্থক্য সর্বোচ্চ ৫২ টাকা। এই বাড়তি টাকা মুনাফার লোভে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশে বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য কিছুটা কম থাকার কারণ হচ্ছে সরকার প্রতি লিটারের মূল্য বেঁধে দিয়েছে। এছাড়া বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ১ হাজার ৯শ মার্কিন ডলারে উঠেছে। কিন্তু দেশের ভেতর যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তার আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ২শ মার্কিন ডলার। যে কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের খুচরা মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ভোজ্যতেলের পরিস্থিতি নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব ও জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভোজ্যতেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। রিফাইনারি, পাইকারি বাজার ও খুচরা পর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে। যে কারণে বিভিন্ন পর্যায়ে অবৈধ মজুত করা ভোজ্যতেল প্রায় প্রতিদিনই উদ্ধার হচ্ছে।

জানতে চাইলে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম যুগান্তরকে বলেন, ‘দাম বেশি হলে ভারতে পাচার হবেই। তবে এ ধরনের ঘটনা সত্যি হলে সরকারকে অবশ্য দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত কমিটিগুলো যাতে এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে। বিষয়টি যেন ফেলে রাখা না হয়।’ এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘আমদানি, রিফাইনারি ও পাইকারি পর্যায়ে শেষ রোজা পর্যন্ত মনিটরিং অব্যাহত রাখা, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা এবং ওএমএস চালু রাখার লক্ষ্যে সরকার নিজস্বভাবে ভোজ্যতেল আমদানির উদ্যোগ নিতে পারে। এতে বড় আমদানিকারক ও রিফাইনারিরা চাপের মুখে থাকবেন।’

মাল্টায় শ্রমবাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ

নানা অনিয়মের অভিযোগ আর মালিক-শ্রমিকের মধ্যে শর্ত রক্ষা না করার কারণে যে কোনো সময় মাল্টার শ্রমবাজার হারাতে পারে বাংলাদেশ। বৈধভাবে এ দেশটিতে আসার পথ বন্ধ হলে ইউরোপে বাংলাদেশিদের প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়বে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে আসা নতুন শ্রমিকরা মাল্টা সরকারের নিয়ম সঠিকভাবে মানছেন না। ফলে এ শ্রমবাজারটি মারাত্মক হুমকির সম্মুখীনে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অনেক বাংলাদেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত কোনো শ্রমিক বৈধভাবে আসতে চাইলে স্থানীয় মালিকের সঙ্গে একটি কাজের চুক্তি নিশ্চিত করতে হয়। পরে মাল্টা থেকে অনুমতিপত্র এলে সেই কাগজপত্র মাল্টা দূতাবাসে জমা দেওয়ার পর সব ঠিক থাকলে ভিসা দেওয়া হয়। ভারতের নয়াদিল্লিতে মাল্টার দূতাবাস।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কোনো বাংলাদেশি মাল্টা এসে থাকছেন না। কোনোভাবে মাল্টায় আসতে পারলে তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। ফলে মাল্টা কোম্পানির মালিকপক্ষের সঙ্গে যে চুক্তি তা ভঙ্গ করছেন তারা। যে কারণে মালিকপক্ষ অনেকটা আস্থা হারিয়ে ফেলছেন বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রতি। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি।

বাংলাদেশি শ্রমিকরা মাল্টাকে এক প্রকার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন। মাল্টা আসার পর এসব শ্রমিক ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমান। এভাবে চলতে থাকলে মাল্টার এ শ্রমবাজার ধরে রাখা সম্ভব হবে না বাংলাদেশের।

এ বিষয়ে গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান মো. খালেদ বলেন, ইউরোপের মধ্যে একটি ভালো শ্রমবাজার হলো মাল্টা। এখানে বেতনও ভালো। কিন্তু অনেক দিন ধরে শুনছি মাল্টায় শ্রমিকরা এসে ইউরোপের অন্য দেশে চলে যায়। এটি খুবই দুঃখজনক এবং ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আনঅফিসিয়াল গত কয়েক বছরে মাল্টা সরকার প্রায় ছয় থেকে সাত হাজার ভিসা দিয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার শ্রমিক ইউরোপের অন্য দেশে চলে গেছে। তারা কয়েক মাস কাজ করে এর পর চলে যায় অন্য দেশে।

তাদের বোঝা উচিত অন্য দেশে যাওয়ার পর তারা অবৈধ হয়ে যায়। পরে এ শ্রমিকরা ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি চুক্তি অনুসারে অবৈধ হিসেবে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার কাতারে চলে আসে।

এসব ভেবে অনন্ত অন্য দেশে না গিয়ে মাল্টাতে কাজ করে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এতে করে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হবে না।

এ বিষয়ে মাল্টা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাউসার আমিন হাওলাদার বলেন, গ্রিস দূতাবাসের সাবেক রাষ্ট্রদূত জসিম উদ্দিন ও বর্তমান কাউন্সিলর মো. খালেদ মাল্টা শ্রমবাজার ধরে রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায়ে শ্রমিক এনে অন্যত্র পাঠিয়ে মাল্টার শ্রমবাজারটি ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন। এটি বন্ধ না হলে বাংলাদেশ ব্লাকলিস্টে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসলামে অনুসন্ধানের স্বাধীনতা

ফরাসি প্রাচ্যবিদ বারঁ কারা দ্যো ভ (Baron Carra de Vaux ) রচিত ‘দ্য লিগ্যাসি অফ ইসলাম’ বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। লেখক যদিও জ্ঞানবিজ্ঞানে আরবদের অবদান কৃতজ্ঞ চোখে দেখেছেন, তারপরেও ‘গ্রিকদের ছাত্র’ বলে তাদের অবদানকে খাটো করতে ভুলেননি।

বার্ট্রান্ড রাসেলও তার ‘হিস্টরি অফ ওয়েস্টার্ন ফিলোসোফি’ নামক ইতিহাসধর্মী বইতে আরবদেরকে কেবল ‘গ্রিক ধ্যানধারনা প্রচারক’ আখ্যা দিয়েছেন। মানে তারা কেবল গ্রিক জ্ঞানবিজ্ঞান অনুবাদ করে ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।

আদতে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বক্তব্যগুলো মোটেও সঠিক নয়। এভাবে ভাবলে আক্ষরিক অর্থেই আরবদের শিক্ষা এবং কৃতিত্বের প্রতি অবিচার করা হবে।

একথা সত্য যে, আরবরা গ্রিক বিদ্যা অর্জন করেছিল এবং তা থেকে উপকৃতও হয়েছিল। কিন্তু তৎপরবর্তীকালে তারা যে জিনিস ইউরোপে পৌঁছে দেয় তা গ্রিকদের থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের চেয়ে হাজার হাজার গুণ বেশি ছিল। আর এটিই ইউরোপের রনেসাঁসের সূচনা ঘটায়।

ইউরোপে রনেসাঁসের সূচনা কোনো গ্রিক চিন্তাধারা থেকে হয়নি। যদি তাই হতো, তাহলে বহু আগেই ইউরোপের উন্নত হয়ে যেত, নবজাগরণের জন্য তাদের হাজার বছর অপেক্ষা করতে হতো না।

একথা সবারই জানা, প্রাচীন গ্রিকরা যে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তা শুধু মাত্র শিল্প ও দর্শনের (Art and Philosophy) মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিজ্ঞানের শাখায় তাদের অর্জন এতটাই সীমিতএবং নিম্নমানের ছিল যে, তা গণনার মধ্যেই পড়ে না। এই বিষয়ে তাদের একমাত্র উল্লেখ্যযোগ্য কাজ হলো আর্কিমিডিস (Archimedes)-এর (Hydro Statics) হাইড্রোস্টাটিক্স।

এটা সর্বজন স্বীকৃত যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং বিজ্ঞানের অগ্রগতির জন্য এমন পরিবেশ প্রয়োজন যেখানে চিন্তাক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে। প্রাচীন আমলে এমন কোনো দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে এতটা স্বাধীনভাবে চিন্তা করার পরিবেশ ছিল, এমনকি গ্রিসেও ছিল না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সক্রেটিসকে এথেন্সের যুবকদের মধ্যে মুক্তচিন্তা ও গবেষণায় উৎসাহ যোগানোর শাস্তিস্বরূপ হেমলক (বিষ) পান করিয়ে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে রয়েছে আর্কিমিডিস। আর্কিমিডিসকে (২১২ খ্রিষ্টপূর্ব) একটি রোমান সৈন্য হত্যা করে, যখন তিনি শহরের বাইরে বালির উপরে জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান করায় ব্যস্ত ছিলেন।

প্লুটার্কের বর্ণনা মতে, স্পার্টার বাসিন্দারা শুধুমাত্র কর্মের প্রয়োজনে লিখতে এবং পড়তে শিখতো। তাদের সমাজে অন্য সকল প্রকার গ্রন্থ এবং বিজ্ঞানীদের লেখাজোখা পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এথেন্সে চিত্রকলা ও দর্শনের উন্নতি হয়েছিল সত্য কিন্তু তারপরও তৎকালীন বহু শিল্পী এবং দার্শনিক যেমন অ্যাসকিলাস, ইউরিপিদিস, ফিদিয়াস, সক্রেটিস এবং অ্যারিস্টটলদের নির্বাসন, কারাদণ্ড বা প্রাণদণ্ড দেওয়া হয় অথবা তারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়।

অ্যাসকিলাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি এলুসিনিয়ান রহস্যের (যা ছিল গ্রিক চিন্তাধারার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ) গোপনীয়তা ভঙ্গ করেছেন। তৎকালীন গ্রিসে বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিপ্লব ঘটানোর মত পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল না।

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগের আগমনের পূর্বের যুগগুলিতে ইউরোপের কি অবস্থা ছিল তা জানার জন্য একটি উপমা উপস্থাপন করছি :

দ্বিতীয় পোপ সিলভাস্টার যিনি সাধারণত গারবার্ট নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন, ৯৪৫ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন আর ১০০৩ সালে মারা যান। তিনি গ্রিক ও ল্যাটিন, এই দুই ভাষাতেই যথেষ্ঠ পারদর্শী ছিলেন। বিভিন্ন বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্যের জন্য তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তিনি ৯৬৭ সালে একবার স্পেনে সফর করেছিলেন এবং বার্সেলোনা শহরে তিন বছর অবস্থান করেছিলেন। সেই সময়গুলিতে তিনি আরবদের লিখিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ অধ্যায়ন করেছিলেন এবং তাদের লেখা পড়ে দারুণভাবে মুগ্ধ ও প্রভাবিত হয়েছিলেন।

স্পেন থেকে ফিরে আসার সময় তিনি তার সাথে আরবদের লিখিতও অনূদিত কিছু পুস্তক ও একটি অ্যাস্ট্রোল্যাব সাথে করে নিয়ে আসেন। তিনি আরবদের লিখিত বিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা (আরবিতে মানতেক শাস্ত্র বলা হয়), গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। আর এজন্য তাকে কঠিন বাধা ও বিপত্তির সম্মুখে পড়তে হয়।

কিছু সংখ্যক খ্রিষ্টান পাদ্রি বলতে থাকে যে, গারবার্ট স্পেনের মুসলিম থেকে যাদুবিদ্যা শিখে এসেছে। আবার কিছু মানুষ বলা শুরু করে, তার ওপর শয়তান ভর করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ১০০৩ সালের ১২ মে রোমে তার মৃত্যু হয়।

ইসলাম আগমনের পূর্বে, সংগৃহীত মানব ইতিহাসে দৃষ্টিপাত করলে স্পষ্ট দেখা যায় সে সময়কালে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আর এর ফলেই প্রাচীনকালে বৈজ্ঞানিক চিন্তন সংক্রান্ত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা বা হাতেগোনা কিছু উদাহরণ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না।

আর ওই সমস্ত বৈজ্ঞানিক চিন্তন গুটি কতক ব্যক্তি মানসেই সীমাবদ্ধ ছিল। চিন্তা ও গবেষণার স্বাধীনতা না থাকার দরুণ এমন হাজারো চিন্তা ও গবেষণাকারীর জন্ম হলেও তাদের কর্ম বিলীন হয়ে গিয়েছে।

ইসলামই সর্বপ্রথম এই পরিবর্তনের জন্য বিপ্লব শুরু করে এবং ধর্মীয় জ্ঞান এবং প্রাকৃতিক জ্ঞানকে একে অপরের থেকে পৃথক করে।

ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস হিসেবে স্রষ্টাপ্রদত্ত স্বর্গীয় বাণী (যার বিশদ প্রমানপুষ্ট এবং বিশুদ্ধ সংস্করণ হিসেবে আল কুরআন রূপে সংরক্ষিত রয়েছে) সাধারণভাবে স্বীকৃত হতো। যার সংরক্ষণ ও স্থায়িত্বের ভার স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রাকৃতিক জ্ঞানের ক্ষেত্রে ইসলাম সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেছিল যাতে কোন ব্যক্তি স্বাধীনভাবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে।

হাদিস শাস্ত্রের মধ্যে দ্বিতীয় বিশুদ্ধ ও প্রামান্য গ্রন্থ হলো ইমাম আল মুসলিম (রহ) সংকলিত গ্রন্থ সহিহ আল মুসলিম। এখানে একটি অধ্যায় লিখিত রয়েছে : ‘শরীয়ত হিসেবে পয়গম্বর (সা.) যা আদেশ করেছেন তা অবশ্য পালনীয় আর পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়।’

এই অধ্যায়ে ইমাম মুসলিম (রহ) একটি বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন যা মুসা ইবনে তালহা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন— আমি একবার নবী (স) এর সঙ্গে ছিলাম যখন তিনি কিছু লোকদের অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তারা তখন খেজুর গাছের শীর্ষে আরোহণ করেছিল। তারা কি করছিল সে বিষয়ে নবী (সা.) খোঁজ নিলেন। তারা তাকে জানাল যে নর ও নারীফুল স্পর্শ করে তারা গাছগুলির পরাগমিলন ঘটিয়ে গর্ভনিষেক করছে।

নবী (সা.) তখন বললেন, আমার মনে হয় এতে তাদের কোনো লাভ হবে না। যখন তারা নবী (সা.)-এর কথা শুনতে পেল তারা তখন পরাগায়ণ করা বন্ধ করল। সে বছর খুব অল্প ফলন হলো। যখন নবী (সা.) ঘটনাটি জানতে পারলেন, তিনি বললেন যদি তারা পরাগায়ণ করে উপকৃত হয় তাহলে অবশ্যই তারা ওই কাজ চালিয়ে যাবে। আমি কেবল অনুমান করেছিলাম, এটা আমার একটি অভিমত ছিল মাত্র। এই ধরনের ব্যাপারে আমার অভিমত অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। তবে স্রষ্টা সম্পর্কে যদি আমি কিছু বলি, তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে; কারণ আল্লাহ সম্পর্কে আমি কখনো অসত্য বলি না।

এই একই ঘটনা নবী (সা.)-এর স্ত্রী আয়েশা এবং তার আজীবন সঙ্গী সাবিত ও আনাস বর্ণনা করে বলেছেন। সবশেষে তিনি ওই খেজুর উৎপাদনকারীদের ডেকে তাদের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তোমাদের বিষয়টি তোমরাই ভালো জানো।’

এই হাদিস অনুসারে একথা পরিষ্কার, ইসলাম ধর্মীয় বিষয় ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিষয়কে একে অপরের থেকে পৃথক করেছে।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে ঐশ্বরিক নির্দেশনাকে আবশ্যিকভাবে মানতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা অনুসারে তাদের কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই বিষয়টি এক মহাবিপ্লব হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

ফেসবুক গ্রুপের নতুন টুল

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রতিনিয়তই ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সব ফিচার নিয়ে আসে। প্রতিমাসে প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ফেসবুক ব্যবহারকারী গ্রুপ ব্যবহার করেন। ফেসবুক শুধু ব্যবহারকারীদের বার্তা আদান-প্রদানই নয় আয়ের নানা সুযোগ দিচ্ছে।

এবার গ্রুপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি টুল নিয়ে আসছে প্ল্যাটফরমটি। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন এই টুল ভুয়া খবর আটকাতে সাহায্য করবে। নতুন এই টুল সব গ্রুপেই নজরদারির কাজ করবে। সেই গ্রুপ থেকে ভুয়া খবর ডিলিট করবে নিজে থেকেই। বিশ্বব্যাপী যত ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে সব গ্রুপেই এই প্রযুক্তি কাজে লাগানো হবে।

পুরো বিষয়টি আর্টিফিসিয়ল ইন্টেলিজেন্সনির্ভর। বর্তমানে ফেসবুকে যত গ্রুপ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যত গ্রুপ খোলা হবে সবগুলোতেই নজরদারি চালাবে ফেসবুক। এর ফলে কোনো গ্রুপে যদি কোনো মেম্বার বা গ্রুপ অ্যাডমিন ভুয়া পোস্ট করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই পোস্ট ডিলিট করবে ওই বিশেষ টুল।

এ বিষয়ে ফেসবুক অ্যাপের কমিউনিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিয়া স্মিথ একটি ব্লগ পোস্টে বলেন, প্রতিটি গ্রুপের অ্যাডমিনরা সফটওয়্যার অটোমেটিক মডারেশন সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। পুরোটাই নির্ভর করবে এটি গ্রুপ অ্যাডমিনের ওপর। গ্রুপ অ্যাডমিন চাইলে সেই সুবিধা নিতে পারেন, এমনকি কেউ না চাইলে সেই অপশন নাও চালু রাখতে পারেন।

ট্রাম্প কার্ড নিয়ে স্বল্পমূল্যের আইফোন

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ‘পিক পারফরম্যান্স’। এবারের ইভেন্টে হার্ডওয়্যার পণ্যের মধ্যে ঘোষণা হয়েছে আইপ্যাড এয়ার, নতুন আইফোন এসই এবং নতুন রঙের আইফোন ১৩। এদিকে একই ইভেন্টে প্রতিষ্ঠানটি তাদের এম১ প্রসেসর লাইনআপে ‘শেষ একটা চিপ’ এনেছে। নতুন এ চিপকে বলা হচ্ছে অ্যাপলের ট্রাম্প কার্ড।

নতুন এম১ চিপ

গত বছর থেকেই নিজস্ব নকশার চিপ নিয়ে আলোচনায় ছিল বিশ্বখ্যাত এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি; এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী চিপটির সক্ষমতা এক লাফে দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়ে চমকে দিয়েছে আইফোন নির্মাতা।

৮ মার্চের ‘পিক পারফরম্যান্স’ আয়োজনে নতুন ‘এম১ আল্ট্রা’ চিপ দেখিয়েছে অ্যাপল। এম১ লাইনআপের নতুন সদস্যটির বাজারে অভিষেক হবে নতুন ‘ম্যাক স্টুডিও’র সবচেয়ে ব্যয়বহুল কনফিগারেশনের মাধ্যমে। কিন্তু দামের বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে চিপটির নকশা এবং এর কার্যক্ষমতা নিয়ে অ্যাপলের প্রতিশ্রুতি।

আইফোন এসই

অনেকদিন ধরেই অ্যাপলের এই ফোন লঞ্চ নিয়ে আলোচনা চলছিল। ফোনটি এখন লঞ্চ করা হয়েছে। এতে রয়েছে এ১৫ বায়োনিক, ৬ কোর সিপিইউ, ৮ কোর জিপিইউ, ১৬ কোর নিউরাল ইঞ্জিন। এতে আপনি পাবেন ৪.৭ ইঞ্চি রেটিনা ডিসপ্লে, ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স। ফোনে লাইভ টেক্সট একটি বিশেষ ফিচার। ফোনে সিরামিক শিল্ড দেওয়া হয়েছে। ৫জি কানেক্টিভিটিসহ এই ফোনে একটি ১২ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা রয়েছে। স্মার্টফোন আইফোন এসই পাবেন ৪২৯ ডলারে।

আইপ্যাড এয়ার ৫জি

অ্যাপলের ইভেন্টে নতুন আইপ্যাড এয়ারও লঞ্চ করেছে। আইপ্যাড এয়ার ৫জিতে রয়েছে একটি ১২ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ফ্রন্ট ক্যামেরা থাকবে। এতে এম১ চিপসেট দেওয়া হয়েছে, যা একটি ৮ কোর সিপিইউ। এ ছাড়াও এতে একটি ১৬ কোর নিউরাল ইঞ্জিন দেওয়া হয়েছে। আইপ্যাড এয়ারে সেকেন্ড জেনারেশনের অ্যাপল পেন্সিলের জন্যও সমর্থন রয়েছে। এটি ম্যাজিক কিবোর্ড সমর্থন করবে। কোম্পানি দাবি করেছে, নতুন আইপ্যাড এয়ার ১০০ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি। এর দুটি ভেরিয়েন্ট লঞ্চ করা হয়েছে। প্রথমটি ৬৪ জিবি, দ্বিতীয়টি ২৫৬ জিবি।

ম্যাক স্টুডিও এম১

অ্যাপল ইভেন্টে ম্যাক স্টুডিও ডেস্কটপ ঘোষণা করা হয়েছে। ম্যাক স্টুডিও ডেস্কটপ এম১ ম্যাক্স এবং এম১ আল্ট্রা চিপসেট বিকল্পের সঙ্গে বাজারে আনা হয়েছে। এটি একটি উচ্চ কর্মক্ষমতা ডেস্কটপ। এটি একটি একক অ্যালুমিনিয়াম বডি দিয়ে তৈরি। থার্মালগুলো পরিচালনা করার জন্য একটি ডাবল সাইড ব্লোয়ার দেওয়া হয়েছে। ম্যাক স্টুডিওটি ৩২জিবি র‌্যাম দিয়ে সজ্জিত এবং একটি ৫১২ জিবি এসএসডি দিয়ে শুরু হয়। এম১ আল্ট্রা সক-তে ২০ সিপিইউ কোর এবং ৬৪ জিপিইউ কোর রয়েছে এবং এটি ১২৮ জিবি পর্যন্ত ইউনিফাইড র‌্যাম এবং ৮টিবি এসএসডি স্টোরেজ সমর্থন করতে পারে। এটি বিশেষভাবে শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, ডিজাইনার, ৩ডি শিল্পী এবং বিজ্ঞানীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। দামের কথা বললে, ম্যাক স্টুডিও এম১ চিপসেট ভেরিয়েন্টের দাম ১৫৯৯ ডলার।

আসছে আইওএস ১৫.৪

এর মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দেয় আইওএস ১৫.৪ এবং আইপ্যাড ওএস ১৫.৪ উন্মোচনের। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহেই আসছে এই দুটো অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণগুলো। সপ্তাহের শুরু থেকেই বিনামূল্যে ওএসগুলো আপডেট করে নেওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নতুন ওএসের সঙ্গে যে ফোন আসছে সেগুলো বিতরণ শুরু হবে এ মাসের ১৮ তারিখ থেকে। সুতরাং ধরে নেওয়া যাচ্ছে ঠিক ওই দিনই ওএসগুলোও বাজারে আসবে।