রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 405

ভ্যাট প্রত্যাহারের পরও বাজারে কৃত্রিম সংকট

সয়াবিন তেল নিয়ে এখনো কারসাজি চলছে। আমদানি, উৎপাদন ও বাজারজাত পর্যায়ে ভ্যাট এবং এলসি মার্জিন প্রত্যাহারের পরও নিত্যপণ্যটির কৃত্রিম সংকট কাটছে না। বাজার থেকে খোলা তেল একেবারেই উধাও। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক দ্রব্যমূল্য তালিকায়ও এ তথ্যের সত্যতা মিলেছে। এছাড়া মিল পর্যায় থেকে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পণ্যটি এখনো চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। মানা হচ্ছে না সরকারের বেঁধে দেওয়া দর।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শারিয়ার যুগান্তরকে বলেন, তেল সরবরাহে নিম্ন পর্যায়ে কোনো ধরনের কারসাজির চিত্র দেখা যায়নি। সাপ্লাই চেইনের উচ্চপর্যায় থেকে সমস্যার কারণে তেল নিয়ে দেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কয়েকটা মিলে অভিযান পরিচালনা করে দেখেছি তারা মিল পর্যায় থেকেই আইনের ব্যত্যয় করেছে। আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে। পাশাপাশি এসও’তে (সাপ্লাই ওর্ডার) ব্যবসায়ীরাও ঘাপলা করেছে। এসব মিলের ব্যাপারে আমরা একটি সিদ্ধান্তে যাব। তখন সবকিছু সামনে এসে যাবে।

এদিকে উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের পর এবার আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতদিন আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ছিল ১৫ শতাংশ, এখন তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আগে উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। এসব সিদ্ধান্তের পর ভোক্তার মনে একটু প্রশান্তির বার্তা এসেছিল। এই বুঝি দাম কমবে। কিন্তু দাম কোনোভাবেই কমেনি। বরং ক্রেতাদের দোকানে গিয়ে তেল নেই শব্দটি শুনতে হচ্ছে।

চলতি বছরের ৩১ মের পর থেকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজারে গিয়ে খোলা তেল একেবারেই পাওয়া যায়নি। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি খুচরা বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রব্যমূল্যের তালিকা তৈরি করে টিসিবি। সেখানে শুক্রবার সংস্থাটি খোলা সয়াবিনের দাম উল্লেখ করেনি। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহে বাজারে খোলা তেল পাওয়া যায়নি। বিক্রেতাদের অভিযোগ, নিম্নবিত্ত মানুষের এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন কেনার সামর্থ্য নেই। তারা খোলা সয়াবিন অল্প পরিমাণে ক্রয় করে। কিন্তু বাজারে পণ্যটি না থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। অতি মুনাফার লোভে মিল থেকে খোলা তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। পাশাপাশি বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলও সরবরাহ এখন কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে এখনো পণ্যটির দাম কমানো যাচ্ছে না।

খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৮০-১৯০ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮০০-৮২০ টাকা। কিন্তু সরকারের পক্ষে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের সর্বোচ্চ দর ৭৯৫ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের বেঁধে দেওয়া দর উপেক্ষা করে খুচরা বাজারে লিটারে ১২-২২ ও পাঁচ লিটারে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, সরকার যেসব সুবিধা দিচ্ছে তা ক্রেতা পাবে না। সব সুবিধা আমদানিকারক ও মিলারদের জন্য। তারা এত সুবিধা নিয়েও তেলের দাম কমাচ্ছে না। বরং সরবরাহ কমিয়ে রেখেছে। আর আমাদের বাড়তি দরে কিনতে হচ্ছে বিধায় বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বড় বড় কোম্পানিকে না ধরলে তেলের দাম স্বাভাবিক হবে না। দেখা যাচ্ছে, তদারকি টিম মিল পর্যায়ে অভিযান করে তাদের দোষ খুঁজে পাওয়ার পরও শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি। কিন্তু শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে আমাদের মতো সাধারণ খুচরা বিক্রেতাদের।

সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ ঠিকভাবেই করা হচ্ছে। প্রতিদিন মিল থেকে ট্রাক যাচ্ছে। সরবরাহে মিল থেকে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তিনি জানান, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা দাম নিয়ে ঝামেলা করছেন। পাশাপাশি তিন স্তরে ভ্যাট কমানো হয়েছে। এতে সামনে দামও কমে আসবে। তবে বিশ্ববাজারের দর আমাদের লক্ষ রাখতে হবে।

ভোটের আগেই বিতর্কিতদের বাদ দেবে আওয়ামী লীগ

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল গোছানোর কাজে জোর দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। করোনা সংক্রমণ কমার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমেছেন আট বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের নেতারা। সারা দেশে শুরু হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর কমিটির সম্মেলনের কাজ। এসব সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় করতে চাইছে আওয়ামী লীগ। ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির পুরোনোদের ফের দেওয়া হচ্ছে বড় দায়িত্ব। পাশাপাশি বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে জনপ্রিয় ও গণমুখী তরুণ নেতাদের নিয়ে আসা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ পদে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন, ভোটের আগে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো সম্মেলনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কমিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ এবং দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে মনোযোগী তারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে আমরা সম্মেলন করতে না পারলেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। এতে জনগণের কাছে আমাদের অবস্থান ভালো হয়েছে। কিন্তু সম্মেলন হতে দেরি হওয়ায় অনেক যোগ্য নেতাও এতদিন জায়গা পাননি। তবে এখন সম্মেলনের কাজে গতি অনেক বেড়েছে। ১০ দিনে অন্তত ২০ জেলা-উপজেলার সম্মেলন হয়েছে। আবার জেলা-উপজেলার সম্মেলনের তারিখও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আশা করছি-আগস্টের আগেই অধিকাংশ (প্রায় সব) জেলা-উপজেলার সম্মেলন শেষ করতে পারব। এর মধ্য দিয়ে আমরা আগামী জাতীয় সম্মেলন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেব।

একই বিষয়ে দলটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে তৃণমূল সম্মেলন শেষ করে আমরা সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা চাই তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে। শুধু নামকাওয়াস্তে সম্মেলন করতে চাই না। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রকৃত অর্থেই একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে আরও বেশি শক্তিশালী ও গণমুখী করতে চাই। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল নেতৃত্বে আমরা ত্যাগীদের নিয়ে আসতে চাই। পাশাপাশি দলের জন্য নিবেদিত ও পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরও জায়গা দিতে চাই। আমরা চাই-নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ের নেতৃত্ব আসুক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারা দেশে আওয়ামী লীগের ৭৮ সাংগঠনিক জেলা এবং সাড়ে ছয়শর মতো উপজেলা কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে এখনো ৪০টির মতো জেলা ও চার শতাধিক উপজেলা কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। গত বছর এ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর সম্মেলন শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পরে তা থেমে যায়। ৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পুনরায় এই কাজে গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনা মেনে করোনা সংক্রমণ কমা ও বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর জোরেশোরে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটির তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা, থানা বা পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। জেলা-উপজেলায় হচ্ছে প্রতিনিধি সম্মেলনও। বিভাগীয় টিমগুলোও নিয়মিত বৈঠক করছে। সেখানে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনের মাধ্যমে দল গোছানোর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা এবং স্থানীয় সংসদ-সদস্যদের মধ্যকার বিভেদ কমিয়ে তাদের নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, মে মাসের মধ্যে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগের (খুলনা) জেলা-উপজেলাগুলোর সম্মেলন শেষ করতে পারব বলে আশা করছি। তিনি জানান, ৩১ মার্চের মধ্যে ১২টি উপজেলার সম্মেলন শেষ করা হবে। এছাড়া ১২ মে মাগুড়া, ১৪ মে মেহেরপুর, ১৫ মে চুয়াডাঙ্গা এবং ১৬ মে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির পুরোনো ও অভিজ্ঞ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। প্রায় সাত বছর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা শেষে বিলুপ্ত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিমকেই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুককে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

সাত বছর পর সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে কেএম হোসেন আলী হাসান ও আব্দুস সামাদ তালুকদারকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলীয় কোন্দলের কারণে ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংসদ-সদস্য হাবিবে মিল্লাতকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে হোসেন ও আবদুস সামাদকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তারা ভারমুক্ত হন।

দীর্ঘ সাত বছর পর নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০ ফেব্রুয়ারি। নতুন কমিটিতে জেলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটির সভাপতি নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের এমপি সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসকে পুনরায় সভাপতি করা হয়। বিদায়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের পরিবর্তে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়মী লীগের সম্মেলনগুলোয়ও। দীর্ঘ ৯ বছর পর পঞ্চগড় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম পুনরায় সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান শেখ মিলন সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অন্যান্য উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলনগুলোয়ও দেখা গেছে শীর্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তৃণমূল কর্মীদের আকাঙ্ক্ষাকে প্রধান্য দিয়ে জেলা-উপজেলা কমিটিতে তৃণমূলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদেরই জায়গা দেওয়া হয়েছে। কোনো বিতর্কিত, সুবিধাবাদী বা হাইব্রিড নেতাকে জেলা বা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাখা হয়নি। দুঃসময়েও যাদের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বিচ্যুতি ঘটেনি, সেইসব ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে। আমরা চেয়েছি তৃণমূলের এসব সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তুলতে। আমাদের নেত্রীর (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই কাজগুলো আমরা সহজে করতে পেরেছি।

চূড়ান্ত আন্দোলনের আগেই পুনর্গঠন শেষ করবে বিএনপি

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে চায় বিএনপি। এজন্য চলমান নানা ইস্যুতে আন্দোলন-কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব পর্যায়ের কমিটি ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। জুনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সাংগঠনিক জেলা ও ইউনিটে কাউন্সিল করে সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকমান্ড। সে অনুযায়ী গত সপ্তাহে বগুড়া জেলার সদর উপজেলা ও পৌর ইউনিটের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে সিলেট, দিনাজপুর, ঢাকা, গাজীপুর জেলাসহ অন্তত ১৫ সাংগঠনিক জেলা ও ৫০টি ইউনিটে কাউন্সিল হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। পরে করোনা মহামারি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি র‌্যাব ও সংস্থটির সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর দলের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিএনপি মনে করছে, চলমান পরিস্থিতিতে সরকার চাপে রয়েছে। এই সুযোগে তারা দল পুনর্গঠনের কাজটি শেষ করতে সক্ষম হবে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মোট ৮২ সাংগঠনিক জেলা শাখার মধ্যে ৫৬টিতে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। তিন মাস মেয়াদে এসব আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। নির্দেশনা ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সব ইউনিটে কাউন্সিল করে কমিটি দিতে হবে। পরে একই প্রক্রিয়ায় জেলার নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। শুধু যথাসময়ে নীলফামারী ও মানিকগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা কাউন্সিল করে কমিটি করতে পেরেছেন। এছাড়া সব জেলার আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নেতারা ইউনিটগুলোর কমিটি গঠনের কাজ শেষ করতে পারেনি। এ নিয়ে হাইকমান্ড জেলা নেতাদের ওপর অসন্তুষ্ট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা জানান, সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান টানা ৫ দিন ১০ সাংগঠনিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের পর জুনের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা শাখার সম্মেলন করার নির্দেশ দেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক জেলাসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটের কমিটি গঠন শুরু হয়েছে। আগামীকাল সোমবার সিলেট ও ২৮ মার্চ দিনাজপুর জেলার কাউন্সিল হবে। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসাবে থাকবেন। ২৯ মার্চ গাজীপুর জেলা ও ৩০ মার্চ ঢাকা জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া শেরপুর, নেত্রকোনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বগুড়া, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির কাউন্সিল মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তৃণমূল থেকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করার প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধায়ন করছেন। সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা শাখা এবং থানা-উপজেলা-পৌর-ইউনিয়ন পর্যায়ে কাউন্সিল করে সরাসরি ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের কাজ চলছে। আমরা রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছি। আমরা যদি দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা না করি, তাহলে তো এটা সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। সুতরাং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য তৃণমূল থেকে নিজের দলের গণতান্ত্রিক চর্চার যে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তা পুরোদমে চলছে।

এদিকে কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর (ভোটার) কারা হবেন, তা নিয়ে বেশ কয়েকটি জেলা শাখায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের চারটি জেলা শাখার নেতারা যুগান্তরকে জানান, তাদের জেলার অর্ধেক থানা ও উপজেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে, বাকি অর্ধেক ইউনিটে ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। কিন্তু দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকতে হবে এবং তারাই কাউন্সিলর হবেন। অথচ উপজেলা ও থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার সুযোগ না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে জেলা কমিটির কাউন্সিল করার জন্য জোর করছেন কয়েকজন দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় নেতা। এটি করা হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যে নির্দেশনা, গণতান্ত্রিক উপায়ে সরাসরি ভোটে নির্বাচনের সুন্দর প্রক্রিয়া তাতে ত্রুটি থেকে যাবে, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতারা ভোটদানের সুযোগ পাবেন না। তাই তারা সব ইউনিটের কমিটি দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ করে জেলার কাউন্সিল দিতে চান। এজন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি হবে ৫১ সদস্যের; ইউনিয়ন এবং মহানগর/পৌরসভা ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি হবে ৭১ সদস্যের; ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি হবে ৭১ সদস্যের, উপজেলা/থানা কাউন্সিল ও উপজেলা/থানা নির্বাহী কমিটি হবে ১০১ সদস্যের, পৌরসভা কাউন্সিল ও পৌরসভা নির্বাহী কমিটিও ১০১ সদস্যের হবে।

এ প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সব কাউন্সিল হবে, সেখানে যেভাবে বলা আছে সেভাবেই। সাংগঠনিক জেলার ক্ষেত্রে কাউন্সিলর হবে থানা বা উপজেলার নির্বাহী কমিটি। থানার ক্ষেত্রে হবে ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটি।

সূত্র জানায়, একই প্রক্রিয়া মেনে ১১ মার্চ বিএনপির বগুড়া সদর উপজেলা ও ১২ মার্চ পৌর ইউনিটে দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল সম্পন্ন হয়। এতে অনুসরণ করা হয়েছে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনে সব ধরনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকা থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে সাত সাংগঠনিক বিভাগের সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকরা বগুড়া যান।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা যেমন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি, একইভাবে দলেও গণতন্ত্রের ভিত আরও মজবুত করতে চাই। সেই চিন্তা থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল পুনর্গঠনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করছেন। তার চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বগুড়া সদর উপজেলা ও পৌর ইউনিটে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। একইভাবে সারা দেশে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগামী দিনে দলের তৃণমূলকে সাজানো হবে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বড় পরিসরে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। তখন দলের নেতাদের অধিকাংশ নেতাই তৃণমূলকে ঠেলে সাজানোর পক্ষে মত দেন। তারা বলেন, তৃণমূল শক্তিশালী না হলে কোনো আন্দোলনই সফল হয় না। একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, আগামী দিনে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার আগে পুনর্গঠনের মাধ্যেমে তৃণমূলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যে প্রক্রিয়ায় তৃণমূলের কমিটি হচ্ছে, এতে দল অনেক শক্তিশালী হবে। ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঢাকা বিভাগের সব জেলায় কাউন্সিল করতে পারব বলে আশা করছি।

ইয়াবা-হেরোইনসহ গ্রেফতার ৪০

বিপুল ইয়াবা বড়ি, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শনিবার ভোর ৬টা থেকে রোববার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয় সেগুলো হচ্ছে-১১০২১ পিস ইয়াবা বড়ি, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ২৯ কেজি ৬৮০ গ্রাম ৪০ পুরিয়া গাঁজা ও ৪ লিটার দেশি মদ।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৬টি মামলা করা হয়েছে।

যে দামে ফ্যামিলি কার্ডে পণ্য পাবেন ক্রেতারা c

স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করতে আজ রোববার শুরু হচ্ছে টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।

এক কোটি পরিবার এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পণ্যসামগ্রী পাবেন।

প্রতি কার্ডের বিপরীতে দেওয়া হবে সয়াবিন তেল, চিনি ও মসুর ডাল। রোজায় দেওয়া হবে ছোলা। কর্মসূচির আওতায় আজ থেকে প্রথম এবং রোজার শুরুতে দ্বিতীয় দফা পণ্য দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট উপকারভোগী তার ইউনিয়ন বা উপজেলার টিসিবির ডিলারের কাছ থেকে কার্ড দেখিয়ে পণ্য গ্রহণ করতে পারবেন। আর ডিলাররা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে বিতরণের লক্ষ্যে পণ্য নিয়ে আসবেন। টিসিবির সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানা যায়, আজ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথমপর্বে একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী পাবেন ২ লিটার সয়াবিন তেল, প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১১০ টাকা। এছাড়া দুই কেজি চিনি ও দুই কেজি মসুর ডালও দেওয়া হবে। প্রতি কেজি চিনির মূল্য হবে ৫৫ টাকা ও মসুর ডাল ৬৫ টাকা।

এছাড়া ৩ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা রমজান থেকে দ্বিতীয় দফায় সাশ্রয়ী মূল্যে উল্লিখিত তিন পণ্যের সঙ্গে আরও দুই কেজি ছোলা যুক্ত করে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ছোলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা।

জানা যায়, যারা সরকারের ২৩ ধরনের ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন না, কেবল তাদেরই টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী করা হয়েছে। উপকারভোগী নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসংখ্যা, দারিদ্র্যের সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসন সম্পৃক্ত থাকছেন।

টিসিবির এই কর্মসূচি কতটা বাজারে প্রভাব পড়বে জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলদেশ (ক্যাব) সভাপতি গোলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, টিসিবি এক কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ীমূল্যে পণ্য দেবে। এর অর্থ উপকৃত হবে ৫ কোটি মানুষ। অর্থাৎ প্রতি পরিবারে ৫ জন থাকছে। এখন প্রশ্ন-স্থানীয় বাজার থেকে কিনে এ পণ্য বিতরণ করলে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নতি হবে না। যদি দেশের বাইরের উৎস থেকে এনে পণ্য দেওয়া হয় তবে সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। বাজারে মূল্যের ওপর প্রভাব পড়বে। তবে এটি ভালো উদ্যোগ। এ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে পারলে ভালো হবে।

শিশু দিবস উপলক্ষে প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের মাঝে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, পুরুস্কার ও খাবার বিতরণ

বঙ্গবন্ধু মেখ মুজিবর রহমান এর ১০২ তম জন্ম বাষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আন্তজার্তিক মানব কল্যাণ ও প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের জন্য সংস্থার উদ্দেশ্যে ১৮ মার্চ বেলা ১:৩০ হইতে দনিয়া কলেজের সম্মুখে পথশিশুদের মাঝে চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, পুরুস্কার ও খাবার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কামরুল হাসান রিপন, সভাপতি স্বেচ্ছাসেবকলীগ(ঢঃিমঃদঃ)।
বিশেষ অথিথি হিসাবে উপস্থি ছিলেন মাজহারুল ইসলাম ( ওসি যাত্রাবাড়ি), মুখলেসুর রহমান, এনটিভির শ্রভ্র সিনহা, ইঞ্জিনিয়ার মাহাবুব। সভার সভাপত্তি¡ করেন সংস্থাার চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সংপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো: ওয়াহিদুন নবী বিপ্লব। সাবির্ক তত্বাবধানে ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ হাসান ও মোহাম্মদ সূজন, ডা: লুৎফর রহমান, রানা, রুবেল, মো: ইয়ামিন, আলআমিন, আইনুল সহ সংস্থার প্রায় ১০০ জন স্বেচ্চাসেবী।

জবিতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু যে অবিসংবাদিত নেতা তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বঙ্গবন্ধু শিক্ষকদের যে শুধু সম্মানের আসনে তুলে ধরেছেন তাই নয় বরং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ছাত্রত্বও হারিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি কখনো কারও সঙ্গে কটু কথা বলেননি, কারও সঙ্গে ঝামেলা করেননি। সংগঠন করেছেন নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো চাঁদাবাজি করেননি। তিনি সব সময় মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করেছেন- এটাই বঙ্গবন্ধু।

আলোচনা সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু মুখেই না অন্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে যেগুলো বাস্তব জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান করতে হবে।

এ সময় শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও উচ্চতর গবেষণার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও বঙ্গবন্ধু রিচার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায়- জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সকল অনুষদের ডিন, শিক্ষক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা জানান উপচার্য। পরবর্তীতে একে একে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, নীল দল, হল প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতি শ্রদ্ধা জানায়।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তির বিষয়ে যা জানাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রথমবারের মতো ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিগত বছরের পরীক্ষা বিষয়ে পর্যালোচনা এবং এবারের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সভায় ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা বিগত বছরের ন্যায় গুচ্ছে থাকার জন্য মত দিয়েছেন। তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা সশরীরে সভায় উপস্থিত থাকলেও কয়েকজন ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সভায় গুচ্ছ থাকবে নাকি আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো- সে বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সেখানে ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ই আরেকবার গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য মত দিয়েছেন। একমাত্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় চেয়েছেন।

তবে ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছের পক্ষে মত দিলেও যেহেতু আগেরবার কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল তাই তারা এটাকে সংস্করণ করতে বলেছেন। এ ছাড়া সংকট কিভাবে সমাধান করা যায় সে নিয়েও সেখানে আলাপ হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গুচ্ছের টেকনিক্যাল কমিটির আহবায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে গুচ্ছ পদ্ধতিতে গিয়েছি; সেজন্য এ বিষয়ে আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন আহমেদ এ বিষয়ে উদ্যোগ নিবেন।

তৃতীয় সংসারেও ভালো নেই গায়িকা ন্যানসি, যা জানালেন

সাত মাস আগে (২০২১ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে) গীতিকার মহসিন মেহেদীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। এটি এই গায়িকার তৃতীয়বারের মতো বিয়ে।কিন্তু এ সংসারেও ভালো নেই তিনি।কষ্ট, রাগ আর সাংসারিক তৃক্ততা নিজেই ভক্তদের জানিয়েছেন ন্যানসি।

বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানিয়েছেন ন্যানসি। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‌‘বিয়েটা না করলেই বরং প্রাণে না হলেও জানে বেঁচে থাকতাম।’

ন্যানসি লেখেন, ‘আমার আর মেহেদীর সংসার জীবনের বয়স সাত মাস। এদিকে আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমাদের দু’জনের জন্যই নতুন করে অল্প দিনের পরিচয়ে একজন আরেকজনের জীবনসঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত টুকু নেওয়া কঠিন ছিল। এরই মধ্যে একটি নতুন প্রাণের জন্ম দেওয়া যেন আনন্দের চাইতেও দ্বিগুণ ভীতি। আমার দুই ভাই, ভাবী এবং রোদেলা বাদে দুই পরিবারের কোনও সদস্যদের নতুন অতিথির আগমনের সংবাদে নেই কোনও উচ্ছ্বাস, উল্টো রয়েছে বিদ্রূপ মেশানো হতাশা।’

তিনি লেখেন, ‘নতুন অতিথির আগমনের সংবাদে অর্থ বা সম্পদ বণ্টনে কে কী পাবে আর কী হারাবে সে সব নিয়ে রয়েছে চুলচেরা হিসাব! আমি নিজেও যেন ভাবতে বসলাম, আচমকাই গোলক ধাঁধায় পড়ে গেলাম। মনে হলো স্বস্তি খুঁজতে গিয়ে অশান্তিকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে এলাম। বিয়েটা না করলেই বরং প্রাণে না হলেও জানে বেঁচে থাকতাম।’

সংসার জীবনে হাঁপিয়ে উঠেছেন উল্লেখ করে ফেসবুকে এই গায়িকা লেখেন, ‘দুজনই ভালোবেসে যার হাত ধরেছিলাম সেটা যে কোনো কারণেই হোক, শেষ পর্যন্ত টেকাতে পারিনি। আমাদের জীবন চলায় ব্যর্থতার তকমা অনেক জুটেছে। এখন দুজন-দুজনের কাছে ভালোবাসার পাত্র-পাত্রী হওয়ার চাইতেও আস্থার হয়ে ওঠাটাই যেন বড় পরীক্ষা! আর প্রতিদিনকার জীবন যাপন করার প্রক্রিয়া দুজনের এতটাই ভিন্ন যে সেটা রপ্ত করাটাও বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার! খাওয়া, ঘুমানো, আবেগ-অনুভূতি প্রকাশ করার ভঙ্গি, নিত্যদিনের কথা বলা, মতপ্রকাশ, গান শোনা, সিনেমা দেখা, ঘুরতে যাওয়া, কাছে আসা- এর সবই যেন নতুন করে শেখার বিষয়! মনে হলো অল্প দিনেই বেশ হাঁপিয়ে উঠেছি।’

স্ট্যাটাসে বর্তমান স্বামী মেহেদীর ও নিজের আগের সংসারের সন্তানদের বিষয় ন্যানসি লেখেন, ‘মেহেদীর দুই সন্তান তাদের মায়ের বর্তমান স্বামী অর্থাৎ সৎ বাবাকে ঠিকই বহু আগেই হাসিমুখে মেনে নিয়েছে। কিন্তু সৎ মা হিসেবে আমাকে সহ্যই করতে পারে না। অন্যদিকে আমার ছোট মেয়ে নায়লা মেহেদীকে কোনোভাবেই সম্পর্ক অনুযায়ী সৎ বাবার আসনটুকু দিতে নারাজ। কিন্তু স্বচ্ছন্দে তার বাবার জন্য পাত্রী দেখছে এবং তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথাও বলছে। আর ব্যতিক্রম শুধু আমার বড় মেয়ে রোদেলা। দিনশেষে সে সবাই যার যার মতো করে সুখে আছে এটাই দেখতে চায়। এ কারণে বেচারিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় যথেষ্ট নোংরা মন্তব্যেরও মুখোমুখি হতে হয়। আমার রোদেলা! সন্তানের চাইতেও বেশি যে আমার জীবনে মায়ের রূপে এসেছে! আজ আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু বলতে রোদেলাই আছে এবং থাকবে জানি।’

বিয়ের সাত মাসে কী কী ঘটেছে- তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন জনপ্রিয় এই গায়িকা।লেখেন, ‘এই সাত মাসের পথচলায় এতো বেশি হোঁচট খেয়েছি, সম্পর্কের বিষাক্ত দিক দেখেছি, সন্তানের অবহেলা পেয়েছি, অসম্মানিত হয়েছি, কাছের মানুষগুলোর কাছ থেকে যোগাযোগ হারিয়েছি, সৎ ছেলে মেয়ের কাছ থেকে নিজের সম্পর্কে বারংবার কটু কথা শুনেছি। শ্বশুরবাড়ির তিরস্কার দেখেছি, নিজের অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেছি, পিতা-মাতাহীন নিজেকে অসহায় ভেবেছি, দুমুখো মানুষ দেখেছি, থমকে দাঁড়িয়েছি, অবাক হয়েছি, ঘেন্না করেছি, তীব্র ভয় পেয়েছি, কেঁদেছি, টালমাটাল হয়েছি, অভিযোগে দিশেহারা হয়েছি, এত বছরের সংসার জীবনের মাঝপথে এসে নিজেকে একা আবিষ্কার করেছি, চিৎকার করেছি, গালি দিয়েছি, সুন্দর চেহারার আড়ালে কদর্য রূপ দেখেছি, শিক্ষিত মানুষের বিকৃত রুচি দেখেছি, আধুনিকতার নামে বেলেল্লাপনা দেখেছি, নির্মম সত্যের মুখোমুখি হয়েছি, মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছি, অভিমানে বোবা হয়ে গেছি, বিশ্বাস হারিয়েছি, সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণের শিকার হয়েছি, সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে চেয়েছি, নিজের মৃত্যু কামনা করেছি, মানসিক অবসাদে ভুগে ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছি। পূর্বে অনেক চড়াই উৎরাই পার হলেও এত কিছু একবারে, একসঙ্গে আগে কখনও ঝড়ের গতিতে জীবনে আসেনি। নিজেদের অজান্তেই প্রতিনিয়ত আমরা স্বামী-স্ত্রী একজন অন্যজনের কাছে অপরাধী!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রসঙ্গে ন্যানসি লেখেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের স্বামীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করলে উপহার হিসেবে একগাদা গালি; আতঙ্ক নিয়ে পোস্ট মুছে দিলে পুনরায় সংসার ভাঙার খেতাব! মাঝে মাঝে মনে হয়, বিশ্বজোড়া দজ্জাল শ্বশুরবাড়ি নিয়ে বসে আছি যাদের কাজ হলো আমার খুঁত ধরা।’

পোস্টের শেষে ন্যানসি তার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে লেখেন, ‘এত কিছুর পরও মেহেদী আর আমি সংসার চালিয়ে যেতে চাই, একসঙ্গে বৈরী পথ চলতে চাই, অনাগত সন্তানের মুখ দেখতে চাই, একে অপরকে জীবনে প্রথম প্রেমিক-প্রেমিকার মতো ভালোবাসি বলতে চাই, হাতের ওপর হাত রেখে ঘুরে বেড়াতে চাই, দিন শেষে সাত মাসের চেনা ঘরে ফিরতে চাই, সংসারের পরিচিত গন্ধে শ্বাস নিতে চাই, নিজেদের আনন্দের মুহূর্তগুলো সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই, রাত জেগে অহেতুক ঝগড়া শেষে জড়াজড়ি করে ঘুমোতে চাই। কী অদ্ভুত আমাদের চাওয়া পাওয়া!’

উল্লেখ্য, ন্যানসি ২০০৬ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন ব্যবসায়ী আবু সাঈদ সৌরভকে। ওই সংসারে জন্ম নেয় কন্যা রোদেলা। পরে সৌরভের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। এরপর নাজিমুজ্জামান জায়েদের সঙ্গে ঘর বাঁধেন তিনি।সেই সংসারে জন্ম নেয় কন্যা নায়লা। গত বছরের এপ্রিলে জায়েদের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার।এর কয়েক মাস পর পারিবারিক আয়োজনে গীতিকার মহসিন মেহেদীকে বিয়ে করেন ন্যানসি।

পাঁচতলা থেকে পড়ে বলিউড পরিচালকের ছেলের মৃত্যু

পাঁচতলা একটি ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন বলিউড নির্মাতা ও অভিনেতা গিরিশ মালিকের ছেলে মান্নান (১৭) । ওই ভবনেই বসবাস করেন এ বলিউড পরিচালক।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে হোলি খেলতে বেরিয়েছিলেন মান্নান। সময়মতোই বাড়ি ফিরেও আসেন। তারপর ওই ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান তিনি।

খবর পেয়ে দৌড়ে এসে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মান্নানকে তুলে নিয়ে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন আম্বানি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই মৃত্যু হয় এ কিশোরের।

মান্নানের এ অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। মান্নানের বাবা নির্মাতা গিরিশ মালিকের বেশ ঘনিষ্ঠ তিনি।

গিরিশের পরিচালিত ‘তোরবাজ’ সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন সঞ্জয় দত্ত।

শোক প্রকাশ করেছেন ‘তোরবাজ’ সিনেমার প্রযোজক পুনীত সিং।

তিনি বলেন, আচমকাই এই ঘটনা ঘটে। গোটা বলিউড শোকাহত। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না আমরা।

বলিউডের একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন গিরিশ। পরে প্রযোজনা এবং পরিচালনার জগতে প্রবেশ করেছেন। তাঁর পরিচালিত ‘তোরবাজ’ সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন সঞ্জয় দত্ত।