শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 397

অ্যাপলের একাধিক সেবা বিঘ্নিত

ব্যাপক বিভ্রাটের কবলে পড়ে অ্যাপ স্টোর, আইক্লাউড, ম্যাপস, পডকাস্ট, অ্যাপলটিভিপ্লাস এবং আই মেসেজসহ অ্যাপলের ডজনখানেক অনলাইন সার্ভিস।

প্রায় তিন ঘণ্টা এ নেটওয়ার্কগুলো ডাউন অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে। অ্যাপলের একাধিক সেবা ব্যবহার করতে পারছেন না? আপনি একা না। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, অ্যাপলের সিস্টেম স্ট্যাটাস পেজে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেবা বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য প্রকাশ হয়েছে। সতর্কীকরণ নোটে বলা হয়েছে, কিছু ব্যবহারকারী সেবাটি পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার কারও কারও সেবা ধীরগতিতে কাজ করছে। ধীরে ধীরে সেবাগুলো স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে অ্যাপল। ব্লুমবার্গের গারমান অ্যাপলের সেবাগুলোর বিষয়ে খেয়াল রাখছিলেন। প্রথমে তিনি পডকাস্ট অ্যাপের পাশাপাশি অ্যাপল বিজনেস ম্যানেজার ও স্কুলওয়ার্কের মতো সেবাগুলো বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে সেগুলো স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান।

কঁচি ইচ্ছের বাগান

প্রকৃতি নাতিশীতোষ্ণ। অতি শীতলও নয়, অতি উষ্ণও নয়। যা বেশি গরম বা ঠাণ্ডা নয়, নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল। এই শহরের বাতাসে মিশে আছে দূষিত বায়ু। নদী-নালা আর লেকগুলো যেন ময়লার বাগার। কানে ভেসে শব্দ দূষণে মহাপ্রলয়। পত্রিকার পাতা খুললে দেখা মিলে খুন, ধর্ষণ, হত্যা আর বিভীষিকাময় ঘটনার মহড়া। পুরো শহরটা যেনো মানব চিড়িয়াখানা। মানুষের মুল্য নেই। দেহে মানব। মনে মানুষ হওয়ার কোন উপাদান নেই। যে যার মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে এই শহর আঙিনা।

তপু এ শহর গর্ভে সবুজের বিশালতার কোন চাপ অনুভব করেনি। সে শহীদ সাংবাদিক সেলিমা রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। সে মায়ের কাছ থেকে গ্রামের অনেক গল্প শুনেছে । কিন্তু বাস্তবে তা কখনও দর্শন করেনি। অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া হয়নি কখনো। কারণ আশির দশকে তার বড় বোনের জন্মের পর পারিবারিক বিবাদের জন্য যে চলে এসেছে ঢাকায়। তারপর থেকে আর গ্রামে যাওয়া হয়নি। তার বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ঢাকা শহরে স্থায়ী আবাস করে নিয়েছে। তবুও ফেলে আসা গ্রামের মানুষের প্রতি তার অসীম ভালবাসা। এ শহরে এসে অনেকে বিপদে পড়ে। কিন্তু তিনি তাদের সাহায্য করতে পিছু হটেননি। তবে অভিমানে-দুঃখে গ্রামে ক্ষণিকের জন্য ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়নি।

তপুর বড়বোন শ্যামলি ঢাকা কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী। তার সাথে গ্রামের বাড়ির ফারহানা লেখা-পড়া করছে। কিন্তু হোস্টেলে থেকে লেখা-পড়া খুবই কষ্ট কর। তাই শ্যামলি বন্ধুত্বের এক পর্যায় বাবা-মাকে রাজি করিয়ে বাসায় নিয়ে আসে। ফারহানা তাদের পরিবারে আগমনে তপুর বাবা-মার চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক শীতল হয়। স্কুল-কলেজে গুলো স্বাধীনতা দিবসের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। এই ছুটিতে ছাত্র-ছাত্রীরা যার যার মত করে পারিবারিক আনন্দে মেতে উঠে।

ফারহানা গ্রামে চলে যাওয়ার প্রহর গুনছে। তপু বায়না ধরেছে সেও গ্রামে যাবে। বাবা-মাকে তার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। কিন্তু দুজন-ই কিছু বলছেন না। এদিকে শ্যামলি গ্রামে ছুটি কাটানোর কথা বাবা-মাকে বলার সাহস পাচ্ছে না। তাদেরও গ্রামে বেড়ানোর ইচ্ছা আছে। তবুও দুঃখে যেতে ইচ্ছে করছেন না। সেই চিন্তাময় মুহুর্তে ঘরে ফারহানা এসেছে। সে প্রবেশ করে বললো- চাচা আগামীকাল বাড়ী চলে যাবো। তিনি বললেন-ঠিক আছে মা, যাও। তাড়াতাড়ি ফিরে এসো। কিন্তু চাচা! মাগো থামলে কেন? তোমার কোন অসুবিধা। তা নয়, তবে শ্যামলি ও তপুকে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চাইছি।

মা-মণি কিন্তু…। না, চাচা কিন্তু বলবেন না। আমার বাড়ি ছাড়া আর অন্য কোন বাড়িতে যেতে দেবো না। আচ্ছা ঠিক আছে নিয়ে যাও, তবে দুদিনের বেশি থাকা চলবেনা। ঠিক আছে। ফারহানা রুম থেকে চলে এসে পাশের কক্ষে অপেক্ষমান দুজনকে রাজি হওয়ার সংবাদ দেয়া মাত্র তপু হৈ-চৈ আরম্ভ করে দিয়েছে। তার খুশিতে যেন আকাশের প্রতিটি তাঁরা মাটিতে খসে পড়ছে।

পরদিন ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পারাবত ট্রেনটি যাত্রা করবে। ইতোমধ্যে টিকেট বুকিং দেয়া হয়েছে। পবিত্র ফজরের নামাজ আদায় করা হয়েছে। ভোর পাঁচটা বাজে, তিন জনই গ্রামে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়ে গেছে। শ্যামলির বাবা এসেছেন কমলাপুর রেলস্ট্শনে গাড়িতে নিরাপদে তুলে দেওয়ার জন্য।

নির্দিষ্ট সমেয় ট্রেনটি ছেড়ে দিলো। তপু জানালার পাশে বসে আছে। বাহিরের দৃর্শ্য গুলো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে। কিন্তু রেললাইনের পাশে দরিদ্র লোকের আবাসস্থল দেখে বুবুকে নানা প্রশ্ন করছে।

বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে মাহিন ট্রেনে উঠেছে। একটি কামরার মাঝে চারটি আসনের মধ্যে একটি তার সীট পড়েছে। সে অবশিষ্ট সীটে তুপরা বসে থাকতে দেখে তল্পি-তল্পা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে অন্য কামরায় চলে যায়। ক্যান্টিনে সকালের হালকা নাস্তা খেয়ে সীটে ঘুমাচ্ছে। কয়েকঘন্টা পর আখাউড়া রেলষ্টেশন ট্রেন অতিক্রম করে। তখন এক লোক তাকে জাগিয়ে তুললো। স্যারি ভাই-বিরক্ত করার জন্য,সিটটা আমার। নো, থ্যাঙ্কস্, আপনি বসুন। অন্য কামরায় সিট আছে আমার।

মাহিন চল আসলো তার নির্দিষ্ট সিটে। তখন এসে দেখলো তার সিটে তপুরা দখল করে বসে আছে। শ্যামলি তাকে দেখতেই সিটটা ছেড়ে দিয়ে বসুন বলে পাশের বসে পড়লো। তপু, ফারহানার কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে।

মাহিন সংকোচবোধ নিয়ে সিটে বসলো। সে ব্যাগ থেকে মোস্তফা সেলিম সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা‘ ইতিহাস গ্রন্থটি বের করে পড়ছে। ফারহানা সামনের সিট থেকে মাহিনকে লক্ষ করে বললো-আপনার সাথে পরিচিত হতে পারি কি? জ্বি, আমাকে বলছেন, হ্যাঁ, আপনাকে বলছি। অবশ্যই, আমার নাম মাহিন রহমান আর ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় অধ্যায়ন করছি। আপনি কি করছেন?

আমি ফারহানা, ঢাকা কলেজে আমরা দুজনই অনার্সে পড়ছি। মাহিন ভাই আপনার হাতের বইটা কোথায় পেয়েছেন? কেন? না,এই লেখকের বাড়ি আমাদের এলাকায়। এজন্য প্রশ্ন করছি।

ও, তাই। আমি গত বছর তিন বন্ধু মাধবকুন্ডে বেড়াতে গিয়েছিলাম আর তখন সেই এলাকার শহরের বঙ্গবীর লাইব্রেরী থেকে স্থানীয় লেখকদের নানা বই সংগ্রহ করেছি। এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমৃদ্ধ প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে এটা এনেছি। তখন তপুর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সে জেগে উঠেই বলে-ভাইয়া বইগুলো আমি কিভাবে সংগ্রহ করতে পারি? মাহিন বইগুলো সংগ্রহ করার তথ্য দিয়ে দিলো। এতোক্ষণ পাশে বসা শ্যামলি চুপ করে বসেছিল। এই মাত্র কথা বললো, কিন্তু আপনার ব্যাপারে সবজানা হল,তবে বাড়িটা জানা হলো না। মাহিন প্রশ্ন করলো, আপনি কথা বলছেন? কেন ? অবাক হলেন। না সংশয়ে ছিলাম। আর বাড়িটা প্রকৃতির লীলা নিকেতন শ্রীমঙ্গলে। কিন্তু আপনার নামটা জানা হলো না । কেন-এতো কি জানা প্রয়োজন? যতোটা ভাবছেন ততোটা নয়। যাক, নামটা শ্যামলি আর বাড়িটা সিলেটে হলেও এই প্রথম এখানে আগমন। তবে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করছি। তপু জানালা দিয়ে পাহাড়ি দর্শনের সময় বার বার প্রশ্ন করছে।

শ্যামলি অনেক গুলো প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে ধারণা নেই। মাহিনের সাহায্য চাইলো। মাহিন তাকে পাশে বসিয়ে বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে ধারণা দিয়ে চলছে। তখন মাহিনের ফোন বেজে উঠলো। সে ফোনটা রিসিভ করতেই দুঃসংবাদ। মাহিন তুই কোথায়? আমি-তো ট্রেনে আসছি। তুই ট্রেন থেকে থানায় আসিস। কেনো কি হয়েছে? আর বলিস নারে, কি বলবো? তোর বাবার লাশ পাওয়া গেছে। চাচাকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। মাহিন, চাচা আর বেঁচে নেই। কি বলিস? হ্যাঁ, সত্যিই বলছি।

মাহিনের চোখ দিয়ে অবিরাম ধারায় জল ঝরছে। এতো সুন্দর হাঁসিমাখা মুখটা লাল হয়ে গেল। সে সেখান থেকে অন্যত্র চল গেলো। তপু তার কান্না দেখে নীরব দর্শক হয়ে গেল। শ্যামলি তার অবস্থা দেখে প্রশ্ন করার ইচ্ছা তাকলেও আর করেনি। মাহিন, ক্যান্টিনে ফিরে গিয়ে আনমনা ভাবে পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে এক কাপ রং চা পান করলো। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ট্রেনটি শ্রীমঙ্গল স্টেশনে পৌছবে বলে মাইকে ঘোষণা করা হলো। মাহিন চলে আসলো সিটে। ব্যাগগুলো গুছিয়ে নিলো। বিদায় ক্ষণে,তপুকে সাংবাদিক সৈয়দ ফারুক আহমদ রচিত “মানবতায় সাংবাদিক’’বইটি উপহার হিসেবে দিয়ে বললো এই বইটির লেখক আমার বাবা। শ্যামলি আনমনা হয়ে গেল। কৌতুহল রয়ে গেল । জানা হলো না অশ্র সিক্ত নয়নের অদৃশ্য রচনা। মাহিন উভয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গন্তব্যে চলে গেল। ফারহানা বুঝতে পারলো শ্যামলি অন্তরের আবেদন। তবুও অবুঝের মতো পাশ কাটিয়ে গেল।

শ্যামলিরা কুলাউড়া রেলস্টেশনে নেমে একটি সিএনজি ভাড়া করে বড়লেখার লঘাটি গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছলো। পরদিন তপু গ্রামে ঘুরতে বেরিয়েছে। শত শত বছরের পুরাতন খোঁজার মসজিদটি তাকে মুগ্ধ করেছে এবং এর পাশে বাগান গুলো সৌন্দর্য্য আরো আকর্ষণ করেছে। তপু তার বুবুকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন করলো। এই রাস্তা, সেই রাস্তা কেন শহীদরে নামে নামকরণে করা হলো না। কেন ? এরা কি এটার সমতুল্য? কোন প্রতিষ্ঠানের নামে অন্তর্ভুক্ত হলো না ইত্যাদি- ইত্যাদি।

তপুরা নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করে আনন্দ উপভোগ করে ফিরে আসলো। সে ঢাকায় ফিরে তার আম্মুকে জানালো একটা ফুলের বাগান করবে। আর এ বাগানের নাম একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে নামকরণ করা হবে। তবে এ বাগান অন্য দিয়ে নয়, সে নিজের হাতে করবে। তার আম্মু বলেছেন-বাবা তুমি এখনো ছোট, তুমি কিভাবে বাগান করবে? আরেকটু বড় হও, তখন না হয় করো। তপু রবীঠাকুরের ছুটি গল্পের নায়কের মত বেপরোয়া। সে বাগান করবেই। কি আর করা। তপুর আম্মু বাসার ছোট্ট একটা জায়গা নির্ধারণ করে দিলেন বাগান করার জন্য। তারপর তপু তার আব্বুসহ বুবুদের সহযোগিতায় ছোট্ট জায়গাটিকে গাছ রোপণের উপযোগি করলো। এরপর বিভিন্ন জাতের পাঁচটি ফুলের চারা লাগালো ও সে আব্বুর সহযোগিতায় আরো গাছ লাগালো। সেই থেকে প্রতিদিন সকালে ও বিকালে তপু বাগানে পানি দেয় এবং সপ্তাহে একবার গাছের আগাছা পরিষ্কার করে। কয়েক মাস পর দেখা গেলো প্রায় প্রতিটি গাছে দু-তিনটা করে ফুল ফুটেছে। তপু এখন মহাখুশি।

মুহাম্মদ বিন কাশেম সিন্ধু জয় করে যতটুকু কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ও বখতিয়ার খলজি বঙ্গ বিজয় করে যতটুকু সাফল্যের হাসি হেসে ছিলেন । তেমনি তপুর বাগানে ফুল ফোটায় সে তাদের চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে। তপুর বাবা-মাও খুব খুশি তার সাফল্য দেখে।

পলিটিক্যালি আসিলাম

(১)
গত পরশু ছিল আমাদের ১০ম বিবাহবার্ষিকী। এই একটি বিষয় স্ত্রীরা কখনই ভোলেন না এবং কাউকে ভুলতেও দেননা। আর স্বামীরা যতটা পারেন কম মনে রাখতে চেষ্টা করেন। প্রেম পর্যায়ে দেখা যায় প্রেম মাঝে মাঝে নীরবে একবার আসে আবার নীরবে চলে যায়, কিন্তু বিবাহের পর বিবাহবার্ষিকীর দিনটি দামামা বাজিয়ে ঝড়ের বেগে বারবার ফিরে আসে। সেই ঝড়ের সাথে পকেট ফাঁকা করে দিয়ে চলে যায়।

আমার স্ত্রী শিলা বিবাহের সেই কঠিন দিনটিকে দুই-তিন মাস আগে থেকেই আকারে ইংগিতে আমাকে মনে করিয়ে দিতে থাকেন। আমিও বুকে ও মুখে যথাক্রমে পাথর ও হাসি চেপে মনে পড়ার ভঙ্গী করি। মনে করানোর আবার নানা রকম তরিকা রয়েছে। এই যেমন, সেদিন সকালে নাস্তার টেবিলে আদুরে গলায় বলে বসল, “অ্যাই এইবার আমাকে কী দিবা?”

আমি বুঝেও না বোঝার মতো করে বলি, “কী দিব মানে? বাসায় বাজার আছে তো। শনিবারের আগে বাজার করব না। একটু চালিয়ে নাও লক্ষীটি।”

শিলা প্রায় হোঁচট খেতে খেতে সামলিয়ে নিল। ও নিশ্চয় ধরতে পেরেছে আমার চালাকি। তারপরও মুখটা হাসি হাসি করে বলল, “আমাদের তো ১০ বছর হতে চলল। আমায় এবার কী উপহার দিবা? আমি কিন্তু ঠিক করে ফেলেছি তোমাকে একটা সারপ্রাইজ গিফট দেব।”
এই এক সমস্যা। আমার কাছে জানতে চাচ্ছে যে, আমি কী গিফট দিব। কিন্তু নিজেরটা রয়েছে সারপ্রাইজ গিফট। এটা কী একটা পলিটিক্যালি ট্রিকস নাকি বাবা! আমি ভেবে কূলকিনারা করতে পারিনা।
আমিও সুযোগ বুঝে বললাম, “সারপ্রাইজ গিফট হবে আমারটাও। এখন বলা যাবেনা।” সেদিনের মতো আর কথা আগালো না। অফিসে চলে আসলাম।
অফিসে এসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ভাবতে লাগলাম, কী গিফট করা যায়! আমি সবসময় সারপ্রাইজ গিফট দিতে গিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকি। আমার গিফট যদি ওর পছন্দ না হয়। আর পকেটের বিষয়টি তো শুধু মাথায় নয়, সমগ্র পকেটিই খামচে ধরে রাখতে হয়। একটু মওকা পেলেই মূহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যাবে। অফিসে দুপুরের লাঞ্চের পর মিনিট তিরিশেক একটু চোখ বন্ধ করে ঝিমানো আমার অভ্যাস। মাঝেমধ্যে এই ঝিমানো সশব্দে হয়ে থাকে। এই কয়েকদিন সেই দিবানিদ্রা আমি দিতে পারিনি। স্বপ্নে গিফটের কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
যাই হোক এই কয়েকদিনের দিবানিদ্রার মায়া ত্যাগ করে বহু পরিশ্রম করে একটা আইডিয়া বের করে ফেললাম। আমার পরিচিত চারুকলার এক ছোট ভাইকে ফোন দিলাম।
ফোন ধরে ওপাশ থেকে বলল, “সালাম বড় ভাই। কেমন আছেন? ভাই-বেরাদর গো কথা তো ভুইলাই গেছেন।”
আমি বললাম, “আরে না না, তোমাদের কথা ঠিকই মনে পড়ে। তা তুমি আছো কেমন মিয়া?”
“ঔ আছি একরকম। হাতে তেমন কাম কাইজ নাই। চইল্যা যাইতাছে।”
“শোন তোমারে একটা ব্যপারে ফোন করছি।”
“কইয়া ফেলান ভাই। কী ব্যপার।”
“শোন আমার ১০ম বিবাহ বার্ষিকী। তোমার ভাবীরে একখান গিফট দিব। তুমি তোমার ভাবীর একটা পোর্ট্রেট করে দিবা। পারবা না?”
“আরে ভাই, ভাবীর চেহারা তো মনে নাই। ক্যামনে কী আঁকুম।”
“ও, এই কথা! এইটা তো কোন ব্যাপার না। আমি তোমার ভাবীর একটা ফটো পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওইটা দেখে দেখে আঁকবা। ঠিক আছে?”
“হ। বুঝছি। তয় কিছু খরচাপাতি লাগব।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কত?”
ছোটভাই বলল, “দিয়েন হাজার বিশেক। ওহন কিছু টাকা এডভান্স দেন।”
কথা শুনে আমার তো আত্মা খাঁচা ছাড়া হয়ে যাবার উপক্রম। আমি বললাম, “আরে শোন শোন। ব্যবসা করবা অন্য লোকের সাথে। বড়ভাইদের সাথেও করবা নাকি ব্যবসা। আমি হাজার পাঁচেক টাকা দিব। তোমারে হোয়াটসঅ্যাপে ছবি দিছি। দেখো।”
ও সব শুনে বলল, “ঠিক আছে। দেখি।”
আমি এবার নিশ্চিন্ত। বললাম, “আচ্ছা ফোন রাখছি এখন। আমি মাস খানেক পর গিয়ে টাকা দিয়ে ছবি নিয়ে আসব।”
মনে মনে ভাবি কম টাকার মধ্যে আনকমন গিফট। শাড়ি বা গয়না কিনতে গেলে অন্তত হাজার তিরিশ থেকে পঞ্চাশ লাগত। সেখানে পাঁচ হাজারে পার হয়ে যাব। এসব কথা কাউকে জানানো যায়না। তাই নিজের পলিটিক্যাল বুদ্ধির তারিফ নিজেই করতে থাকি।

এর মধ্যে আমি অফিসের কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম। পোর্ট্রেটের কথা বেমালুম ভুলে গেছি। শিলা গিফটের কথা মনে করিয়ে দিতে খেয়াল হলো। ইতিমধ্যে মাস খানেক পার হয়ে গেছে। পোর্ট্রেটের খবর জানার জন্য সেই ছোট ভাইকে একটা ফোন দিলাম।
“সালাম বড় ভাই। আছেন কেমন?”
আমি বললাম, “এই তো ভাল আছি। তোমার ভাবীর পোর্ট্রেটের খবর কী? কবে নিতে আসব?”
সে বলল, “আপনে তো এডভান্স পাঠাইলেন না। আর আমিও অন্য কামে বিজি হয়ে গেছিলাম। আপনার কামটা তো করবার পারিনি। ফ্রী কাম তো!”
“ফ্রী, কিসের! পাঁচ হাজার টাকা দেব বলেছি তো।”
“শোনেন বস! পাঁচ হাজারে রং, তুলি, ক্যানভাসের টাকায় উঠেনা। ভাবীরে অন্য গিফট দেন বস।” বলে ফোনটা কেটে দিল।
এ কথা শুনে আমি ঠান্ডা এসির মধ্যেও ঘেমে উঠতে লাগলাম। এখন উপায়? কাল বাদে পরশু বিবাহবার্ষিকী। আর এখনও আমি গিফট কিনি নাই। এখন অন্য কিছু কিনতে গেলে প্রচুর টাকা খরচ হবে। আমার এখন নিজের মাথার চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। চুলে হাত দিতেই কেমন যেন মায়া হলো। এই ১০ বছরে কয়টাই বা চুল আছে মাথায়। সেগুলোও চলে গেলে আর নিজের বলতে কীইবা থাকে! তাই ওসব চুল ছিড়া ছিড়ি বাদ দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে পরিস্থিতি সামাল কিভাবে দেওয়া যায় তাই ভাবতে বসলাম। হঠাৎ মনে হলো আমি নিজে প্রকৌশলী। ফলে ড্রয়িং করার অভ্যাস আছে ও সেই সাথে ট্রেনিংও আছে। পোর্ট্রেট আমি আঁকব। অফিসের পিয়নকে পাঠিয়ে রং, তুলি, ক্যানভাস ও পেন্সিল কিনে আনলাম। বাসায় একটা ফোন দিয়ে বললাম, “ অ্যাই শোন! অফিসে কাজের খুব চাপ। রাত হবে ফিরতে।”
শিলা কিছু বলল না। শুনে ফোন রেখে দিল।
যাক বাব্বাহ! শান্তিমত ছবি আঁকব। যে কারোর পোর্ট্রেট আঁকা হলো বাড়ি ঘরের ড্রয়িং করার মতোই সোজা। শুধু বুদ্ধি খরচ করে আঁকতে জানতে হয়। সুতরাং কোমড় বেঁধে, কম্পিউটারে রোমান্টিক গান চালিয়ে শুরু করলাম আঁকা। ড্রয়িঙের ক্যানভাসটি ড্রয়িং বোর্ডে সেটে দেওয়া হয়েছে। এরপর প্রকৌশলীদের টি-স্কয়ার, সেট স্কয়ার, চাঁদা, কাঁটা কম্পাস, ট্রায়াংগল স্কেল, রুলার ও পেন্সিল-রাবার সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে কাজে লেগে পড়লাম। আমি কাজের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ গোছানো ও খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যায়ী স্বভাবের মানুষ। শিলার যে ছবিটি আমি চারুকলার সেই ছোট ভাইকে পাঠিয়েছিলাম, সেই ছবিটি একটি ফুল স্কেপ কাগজে প্রিন্ট করে ফেললাম। তারপর স্কেলিং করে নিলাম। এইবার এই ছবিখানায় বড় স্কেলে আঁকতে শুরু করলাম। আঁকতে আঁকতে সিদ্ধান্ত নিলাম, একটু কমিক্যাল স্টাইল হলে মন্দ হয়না। অনেকটা আচারি গরুর মাংসের মতো স্বাদ হবে। টক, ঝাল, মিষ্টি। উফ ভাবতেই জিভে জল চলে আসছে। ঝাড়া তিন ঘন্টার পরিশ্রমে স্কেচ করে ফেললাম। দূরে দাড়িয়ে দেখলে, একবার শিলার মুখের মতো আবার অন্য কিছুর মতো মনে হচ্ছে। একটু কেমন যেন জ্যামিতিক অবয়ব বলে মনে হচ্ছেনা ? না না না আর এসব অলক্ষুণে কথা ভাববনা। যাক সেসব। এবার রং তুলি দিয়ে ছবিতে রং দেবার পালা। কিন্তু সেকি পিয়ন ব্যাটা এই কিসব রং কিনে এনেছে! এই রং দিয়ে আমি মুখাবয়বের কালার আনব কী করে? এতো সব ডার্ক রেঞ্জের কালার। মনে মনে বেশ রাগ হলো পিয়নের উপর। ওর মাথায় কোন বুদ্ধিই নেই। কী আর করা! অগত্যা এই সব রং দিয়ে কাজ চালাতে হবে। শুনেছি বড় বড় চিত্রশিল্পি যেমন ভ্যানগগ, ভিঞ্চি বা পিকাসো রঙের সাথে রঙ মিশিয়ে নতুন রং বানাতে পারতেন। আমিও সেই চেষ্টা করতে লাগলাম। প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা ধরে স্কেচের উপর রং লাগিয়ে ছবিটিকে একটা মানানসই রকম ব্যবস্থা করে ফেললাম। আর যেটুকু ত্রুটি বিচ্যুতি আছে তা ঐ কমিক্যাল স্টাইলের উপর পলিটিক্যালি চালিয়ে দেব।
নিজের প্রতিভাতে আমি সত্যিই মুগ্ধ। শিলাই শুধু আমার প্রতিভার দাম দিলনা। এইবার দেখবে আমার প্রতিভা। প্রকৌশল শাস্ত্র না পড়ে চারুকলায় পড়লে বাংলাদেশে জয়নুল আবেদিন বা পটুয়া কামরুল হাসানদের মত চিত্রশিল্পি হওয়া আমার জন্য বিচিত্র কোনকালেই ছিলনা।

(২)

অফিস থেকে বেরিয়ে পোর্ট্রেটটি একটা দোকান থেকে বাঁধিয়ে নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ড্রাইভারকে গাড়ি গ্যারেজে ঢুকাতে বলে পোর্ট্রেটটি বগলদাবা করে বাসায় ঢুকলাম। শিলা বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিল। দরজা খুলে দিল। আমার হাতে একটা বড়সড় জিনিষ দেখে শিলা জিজ্ঞেস করল, “কী এটা?”
আমি মুচকি হেসে বললাম, “তোমার জন্য সারপ্রাইজ গিফট।”
শিলার মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করলাম। ও বোধহয় ভেবেছিল যে, ছোট একটা ডায়ামন্ডের বক্স বের করব পকেট থেকে। তা না করে তার বদলে এই বিশাল ঢাউস সাইজের একটা চারকোনা জিনিস। আমি চারকোনা বাক্সটি খুলে আমার আঁকা সেই পোর্ট্রেটটি ওর সামনে মেলে ধরলাম। পোর্ট্রেটের দিকে তাকিয়ে শিলা একেবারে চুপ হয়ে গেছে। মুখ থমথমে। চোখ বারবার সরু হয়ে যাচ্ছে, আবার বড় বড় গোল গোল হয়ে যাচ্ছে। একবার ছবির দিকে তাকাচ্ছে, একবার আমার মুখের দিকে তাকাচ্ছে আবার একবার আয়নায় নিজের দিকে তাকাচ্ছে। আমি মনে মনে পুলকিত হচ্ছি। নিশ্চয় ছবিটি ওর পছন্দ হয়েছে। এ মনে হচ্ছে তারই নমূনা।
আমাদের পাঁচ বছরের কন্যা আমার ও শিলার কথাবার্তা শুনে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। ড্রয়িং রুমে এসে পোর্ট্রেটের দিকে ড্যাব ড্যাব করে টানা সাড়ে তিন মিনিট তাকিয়ে থেকে বলল, “হোয়াই ইজ দ্যাট এলিফ্যান্ট অয়ারিং মামস ড্রেস?”
কথা শেষ করেই কন্যা আর দাঁড়ালো না। ঘরে ঘুমাতে চলে গেল।
এবার আমি অতি উৎসাহে শিলার দিকে তাকিয়ে বললাম, “তোমার পোর্ট্রেট। আমি এঁকেছি।”
শিলা বলল, “তাতো দেখতেই পাচ্ছি, আর্টিষ্ট হিসাবে তোমার নাম।”
আমি গদগদ ভঙ্গীতে বললাম, “তোমার পছন্দ হয়নি?”
শিলা বলল, “খুব পছন্দ হয়েছে।মেয়ের কমেন্ট শোননি?” তারপর ঠান্ডা গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “এর পুরষ্কার হিসাবে, তুমি বাসা থেকে বেরিয়ে যাবে। তোমার মুখ আমি দেখতে চাইনা। তোমার চোখে আমি এইরকম দেখতে। ছি: ছি:। আগামীকাল সবাইকে এই গিফট আমি কিভাবে দেখাব!”
শিলার রুদ্রমূর্তি দেখে আমি ভয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। সেই থেকে রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি নিয়ে ঘুরছি। মনটা ভীষণ খারাপ। এই এত সুন্দর আমার প্রতিভা! এর কোন মূল্যই নেই শিলার কাছে। শিলাকে বারবার ফোন দিচ্ছি, কিন্তু ফোন ধরছেনা। ঘুরতে ঘুরতে বড়আপার বাসায় চলে আসলাম। রাত তখন তিনটা। দুলাভাই হাসতে হাসতে দরজা খুলে দিলেন। বললেন, “কী হে! গালাগালি ভাই!! দশ বছর বিবাহের গিফট শিলার পছন্দ হলোনা?”
দুলাভাই শ্যালক না বলে আমাকে গালাগালি বলেন। শ্যালক তো বাঙালীর প্রিয় গালাগালিই। আমি কিছু বুঝতে না পেরে বললাম, “মানে কী দুলাভাই? আপা কই?”
বললেন, “তোমার বউকে তোমার আপা টেলিফোনে শান্ত করছেন।”
“তারমানে কি? শিলার যদি পোর্ট্রেটটি পছন্দ না হয়, আমাকে বলে দিলেই পারত। আমি আবার চেষ্টা করতাম। তা বলে আমার প্রতিভাকে অপমান।”
দুলাভাই বললেন, “হুম! সে তো দেখলাম তোমার শিল্পচর্চার প্রতিভা। আচ্ছা বলোতো এইরকম কুলোর মত কান, বৃত্তচাপ মার্কা চোখ, পারফেক্ট বৃত্তের মতো মুখাবয়ব তুমি আঁকলে কী করে?”
আমি বললাম, “কাঁটা কম্পাস ও রুলার দিয়ে। কেন, কোন সমস্যা?”
দুলাভাই বললেন, “না তেমন কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হলো এই পোর্ট্রেটের জন্য তুমি আজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছো আর তোমার আপা তোমার বউকে এই রাতদুপুরে সান্তনা দিচ্ছে।”
আমি বললাম, “দুলাভাই, আজ রাতে আমাকে একটু থাকতে দেন।”
দুলাভাই আঁতকে উঠে বললেন, “ঐ দাবীটি একদম করোনা। তোমাকে থাকতে দিলে তোমার আপা আমাকেও বাসা থেকে বের করে দেবে বলেছে। আমি পারবনা ভাই।”
আমি অবাক হয়ে বললাম, “ নিজের বড়বোন আমাকে থাকতে দেবেনা? তাও কখনও হয়?”
দুলাভাই বললেন, “হয়, হয়। খুব হয়।”
আমি বড়আপার বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম। সকাল পর্যন্ত কয়েক বন্ধুর বাসায় হানা দিলাম। সব প্রচেষ্টাই ব্যার্থ হলো।
শেষপর্যন্ত আমি আমার শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। শাশুড়ি আম্মা আমাকে খুব ভালবাসেন। আমাকে কয়েকদিন থাকতে দিবেন আশাকরি।

শ্বশুরবাড়িতে কলিং বেল চাপতেই শাশুড়ি আম্মা দরজা খুলে দিলেন। এই সাত সকালে আমাকে দেখে বললেন, “কী ব্যাপার বাবা! তুমি এত সকালে? শিলা কোথায়?”
আমি বললাম, “আম্মা, শিলা বাসায় আছে। আমার বড়বোনের সাথে ফোনে কথা বলছে। আর…”
“আর কি বাবা!”
“আর আমাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। তাই একটু আশ্রয়ের জন্য এই বাসায় এসেছি। মানে বলতে পারেন পলিটিক্যালি আসিলাম, থাকিবার জন্য।”
শাশুড়ি বললেন, “বুঝলাম না।”
একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমার ছোট শালি আমাদের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে। বলল, “মা, ভাইয়া রাজনৈতিক আশ্রয় বা পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম চাচ্ছে।”
আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, “আমার এই দুরাবস্থা দেখে হাসছ?”
ও বলল, “বারে! হাসবনা? নিশ্চয় কিছু করেছেন, ভাইয়া। না হলে কেন আপা আপনাকে বের করে দিবে?”
শাশুড়ি আম্মা আমার দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আমি বললাম, “আম্মা আগে কিছু খেতে দিন। একটু পানি দিন। তারপর সব বলছি।”
সকালে ভরপেট নাস্তা খেয়ে শ্বশুর, শাশুড়ি ও শালিকে সব ঘটনা খুলে বললাম। ভাল করে বোঝালাম যে, আমি যে কতবড় মাপের একজন চিত্রশিল্পি। শুধুমাত্র ভুল করে চিত্রশিল্পি না হয়ে প্রকৌশলী হয়ে পড়েছি। প্রতিভার কতবড় অপচয়!
সব শুনে শাশুড়ি ফোন দিলেন আমার স্ত্রী শিলাকে। বললেন, “জামাই আমাদের বাসায় আছে। তুই পোর্ট্রেটটা নিয়ে বাসায় আয়।” শিলা ওদিক থেকে কী বলল বুঝতে পারলাম না। দুপুরের দিকে শিলা, আমার বড় আপা ও দুলাভাই আমার শ্বশুরবাড়ী এসে হাজির। সাথে আমার আঁকা সেই অতুলনীয় পোর্ট্রেটটি।
সবার সামনে পোর্ট্রেটটি উম্মোচন করা হলো। পোর্ট্রেটটি দেখে প্রথমে আমার শালী সশব্দে হেসে উঠল এরপর আমার দুলাভাই। তারপর একে একে সবাই হাসতে লাগল। শুধু আমার স্ত্রী শিলা চোখ কটমট করে তাকিয়ে থাকল আমার দিকে। শাশুড়ি আম্মা মুখটিপে হেসে বললেন, “ভাল হয়েছে পোর্ট্রেটটি। কিন্তু মুখের রঙ ওরকম শ্রী কৃষ্ণের গায়ের কালারের মতো কালচে নীল কেন?”
আমি বললাম, “ এতে আমার কোন দোষ নেই আম্মা। ঔ পিয়ন ব্যাটা ঠিকঠাকমত রং কিনতে পারে নাই।”
“আর ঠোট দুটো অত মোটা মোটা কেন?”
“হঠাৎ করে রং বেশি পড়ে গিয়েছিল তাই একটু মোটা হয়ে গেছে। এরপরের বার ঠিক হবে।”
শাশুড়ি আম্মা এবার শিলার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আচ্ছা ঠিক আছে। জামাই আঁকার চেষ্টা করেছে তাই বড় কথা। তাই বলে বাসা থেকে বের করে দিবি?”
দুলাভাই এবার শিলার দিকে তাকিয়ে বললেন, “গায়ের কালার কৃষ্ণবর্ণ না হয়ে যদি একটু উজ্জল গোলাপী বর্ণ হতো, তাহলে বোধহয় শিলা অতটা অফেন্ডেড হতোনা।”
বড় আপা বললেন, “শোন। সব কিছু ম্যানেজ করে এনেছি। তুই আমাদের সবাই কে পাঁচতারা হোটেলে ডিনার করাবি আজ আর শিলাকে একটা ডায়ামন্ডের আংটি কিনে দিবি।”
আমি আমতা আমতা করে দুলাভায়ের দিকে তাকাতে উনি এক চোখ টিপে মাথা ঝাঁকালেন।

সংসার জীবনে একটু বুদ্ধি করে চলতে হয়। মানে একটু পলিটিকস করে চলতে হয়। কিন্তু বেশি বুদ্ধি খাঁটাতে গেলে বুদ্ধিবিড়ম্বনাও কম পোহাতে হয় না।
তাই বলছি বেশি পলিটিক্যালি ট্রিকস না করায় ভালো।

ইসলামে কথা বলার আদব

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তার উচিত কথা বললে ভালো কথা বলা, অন্যথায় চুপ থাকা।’

জঁ লা ব্রুয়ঘ (১৬৪৫-১৬৯৬)একজন ফরাসি লেখক। তিনি এই একই কথাকে এই শব্দযোগে বলেছেন, ‘বড় দুর্ভাগ্যের বিষয়, মানুষের ভেতর এতটুকু বোধশক্তিটুকু নেই যে সে ভালো কথা বলবে নাকি চুপ থাকবে।’

কথা বলার ক্ষমতা একটি আল্লাহপ্রদত্ত অবর্ণনীয় পর্যায়ের মহান ক্ষমতা। এই ক্ষমতাকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা আশীর্বাদ। আর যদি এই ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়, তাহলে তা বড় বিপদ হয়ে দাঁড়ায়।

কথা বলার ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহার হলো— ব্যক্তি তার কথা বলার আগে চিন্তা করবে, নিজে বলার আগে অন্যের কথা শুনবে এবং যে শব্দটিই সে উচ্চারণ করবে, এটা স্মরণে রেখে করবে যে, তার উচ্চারিত প্রতিটি শব্দের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। কথা বলার সুযোগ আছে, তবুও সে চুপ থাকতে পছন্দ করবে। দায়বদ্ধতার অনুভূতি নিয়ে কথা বলবে, আবেগের তাড়নায় নয়।

পক্ষান্তরে, কথা বলার ক্ষমতার অপব্যবহার হলো— ব্যক্তি চিন্তা না করেই কথা বলবে। সে কেবল শোনাতে আগ্রহী, শোনার আগ্রহ নেই। কোনো বিষয় গভীরভাবে না বুঝে তার উপর বক্তব্য বা মন্তব্য করতে দাঁড়িয়ে যাবে। তার বলা কথা হবে আত্মপ্রকাশের জন্য, সত্য প্রকাশের জন্য নয়।

কথা বলা সবচেয়ে বড় পুণ্য এবং কথা বলা সবচেয়ে বড় পাপের কাজও। যে ব্যক্তি এই বাস্তবতা উপলব্ধি করবে, তার কথা বলা যেমন অর্থময় হবে, তেমনই তার চুপ থাকাও হবে অর্থময়।

আল্লাহর সাহায্য কখন আসে?

এক হাদিসে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন—আমি দুই শরিকের (লেনদেনের চুক্তিকারী) মধ্যে তৃতীয়জন হিসেবে থাকি, যতক্ষণ না তাদের একজন খেয়ানত করে।

এই হাদিসের মর্ম হচ্ছে—মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর সাহায্য পায়, যতক্ষণ তারা একে অপরের উপকারী থাকে। যখনই তারা পারস্পরিক কল্যাণকামিতার পরিবর্তে অকল্যাণ কামনায় লিপ্ত হয়ে যায়, যখনই তাদের মধ্যে তৈরি হয় খেয়ানতের পরিবেশ, তখনই আল্লাহতায়ালা সাহায্য উঠিয়ে নেন।

এ হাদিস থেকে আরও একটি শিক্ষা আমরা পাই। সেটি হলো, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক নির্ভর করে অন্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর। অর্থাৎ আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক যদি খাঁটি থাকে, তাহলে তার অবশ্যম্ভাবী প্রভাব পড়বে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কেও। বান্দা তখন অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখবে। যে লোকের আর পাঁচজন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নেই, বুঝতে হবে আল্লাহর সঙ্গেও তার সম্পর্ক ভালো না। চাই সে দিনরাত আল্লাহ-বিল্লাহ করুক না কেন!

খেয়ানত শব্দের প্রকৃত অর্থ ভরসার জায়গায় খামতি করা। (মানে যেই কাজের জন্য একজন অপরজনের ওপর ভরসা করেছিল, সেই লোক কাজটা পূর্ণ করে নাই।)

যেমন আরবি বাগধারায় এই শব্দের এমন ব্যবহার আছে: খানাহু সাইফুহু। এই বাক্যের আক্ষরিক অর্থ হয় তার তলোয়ার তার সঙ্গে খেয়ানত করেছে, কিন্তু সঠিক অর্থ হয় তার তলোয়ার ফসকে গেছে। মানে লোকটি তলোয়ারের কাছে যা আশা করেছিল, তলোয়ার তা পূর্ণ করেনি। আরবদের মুখে খেয়ানত শব্দের এই ব্যবহার থেকে হাদিসে ব্যবহৃত খেয়ানত শব্দের বহুমাত্রিক ব্যবহার আমরা অনুধাবন করতে পারি।

যখন দু’জন মানুষ একত্র হয়, হোক তাদের মধ্যে মালিক-ভৃত্যের সম্পর্ক, কিংবা বাড়িওয়ালা-ভাড়াটের, অথবা ধরা যাক বন্ধুত্ব বা ব্যবসার সম্পর্ক—মোটকথা যে অবস্থান থেকেই তারা একত্র হোক না কেন, দুজনেই এক না-বলা অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়। প্রত্যেকের ওপর কিছু কর্তব্য ও দায়-দায়িত্ব এসে পড়ে।

এই অঙ্গীকার লিখিত হতে পারে আবার অলিখিতও হতে পারে । তবে সর্বাবস্থায় এইসব হক ও দায়িত্ব পালন করা তাদের কর্তব্য। এইসব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করাকেই বলা হয় আমানতদারিতা। আর তা না হলেই বলা হবে খেয়ানত।

সামাজিক জীবনে যখনই এ ধরনের খেয়ানতের ছড়াছড়ি হবে, তখন এর অবশ্যম্ভাবী ফল হবে ঘৃণা, অনাস্থা, ঝগড়া-ফাসাদ আর মারামারি কাটাকাটি। এমন পরিবেশে দশদিক থেকেই নেতিবাচক মানসিকতার আমদানি হবে। আর যেখানে নেতিবাচকতার ছড়াছড়ি হবে, সেখানে কেবল শয়তানেরই রাজত্ব চলে। আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের ছায়া এমন পরিবেশে কখনো থাকতে পারে না।

সুস্থ দাঁতের জন্য মেনে চলুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

আমাদের দেশ বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিন দিন উন্নত হচ্ছে। দন্ত চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক আধুনিক হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় এসেছে অগ্রগতি। কিন্তু সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ বিভাগের গ্রাম পর্যায়ের মানুষ এখনো জানেন না কিভাবে দাঁত মাজতে হয়? কী দিয়ে, কয়বার মাজতে হয়?

চিকিৎসা ব্যবস্থা যতই আধুনিক হোক না কেন, যে দেশের মানুষ ঠিক মতো দাঁত ব্রাশ করতে জানে না,তাদের মুখ ও দন্ত স্বাস্হ্য ব্যবস্থায় কোনো অবস্থাতেই উন্নতি সম্ভব নয়।

সিলেট বিভাগে শহর এবং গ্রামের স্কুলের বাচ্চাদের দাঁত ও মাড়ির অসামঞ্জস্যতা নিয়ে আমি গবেষণা করেছি। সেখানে অধিকাংশ বাচ্চাদের, শহর এবং গ্রামের উভয় স্থানেই এ সমস্যা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। শহরের বাচ্চাদের গ্রামের তুলনায় কিছুটা বেশি দাঁত উচু,নিচু,আঁকা বাঁকা।আর মেয়ে বাচ্চাদের দাঁতে বেশি সমস্যা।

সেখানে গবেষণা করতে গিয়ে তাদের কাছে আমি জিজ্ঞেস করে জানতে পারি ,তারা ঠিক মতো দাঁত ব্রাশ করতে জানে না, শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে চায় না,দাঁতে ক্ষয় হলে ডাক্তারের কাছে যায় না, বিশেষ করে মেয়ে বাচ্চাদের ধর্মীয় গোড়ামির কারণে ডাক্তার দেখাতে চায় না, বেশি বেশি ফাস্টফুড খায়। সবশেষে বিভিন্ন বিডিএস ডাক্তার নয় এমন লোকদের কাছে ভুল চিকিৎসা নিয়ে অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে।

ছোটবেলা থেকে যদি দুধ দাঁতের যত্ন না নেয়া হয়,ভবিষ্যতে দাঁত উঁচু নিচু আঁকা বাঁকা ছাড়াও মাড়ির নানা রকম সমস্যা নিয়ে, এই শিশুরা বড় হয়ে উঠবে।আমাদের এখনই উচিত শিশুদের দাঁতের যত্নে পথ শিশু থেকে শুরু করে, স্কুল, মাদ্রাসা, এতিমখানা সব জায়গায় সচেতনতার পাশাপাশি দাঁত ব্রাশের টুথ পেস্ট, টুথ ব্রাশ বিনামূল্যে, স্বল্পমূল্যে পৌঁছে দেয়া।

শিশুদের দাঁতের যত্ন মায়ের গর্ভ থেকে শুরু করতে হয়। গর্ভাবস্থায় মা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকলে বাচ্চার ঠোঁট ও তালু কাটা হওয়ার আশংকা তৈরি হয়। নোংরা পরিবেশের ফলে মায়ের শরীরে বিভিন্ন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ হয় যার ফলে বাচ্চার ঠোঁট ও তালু কাটা হয় বা হওয়ার আশংকা বেশি থাকে।

গর্ভবতী মায়ের বয়স বেশি হলে, ডায়াবেটিস, মাত্রাতিরিক্ত মেডিসিন নিলে বা হেভিডোজের ড্রাগ মাদকাসক্ত হলে, গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবারের অভাব হলে শিশুর ঠোঁট ও তালু কাটা হতে পারে। কিছু ওষুধ আছে যা খেলে বাচ্চার দাঁত হলুদ হতে পারে। তাই মাকে এবং শিশুর অভিভাবককে অবশ্যই শিশুর দাঁতের যত্ন সম্পর্কে সচেতন এবং জ্ঞানী হতে হবে।

এখনই সময় এই শিশুদের এবং তাদের অভিভাবকদের দাঁতের যত্নে ভীষণভাবে সচেতন হওয়া। দাঁতের আঁকা বাঁকা,উঁচু নিচু চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ এবং ব্যয় বহুল।

সারা বাংলাদেশের মানুষকে এই ব্যপারে সচেতন করতে হবে। অন্যথায় চিকিৎসার অভাবে বড় হয়ে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হবে আজকের এই শিশুরা। আজকের শিশুরা আগামীদিনের ভবিষ্যত। শিশুদের এবং অভিভাবকদের মাঝে দন্ত স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে,এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভবিষ্যতে ভীষণ ভাবে ঝুঁকিতে পড়বে।

‘মাশরাফি জুনিয়র’র নতুন মাইলফলক

দর্শকদের ভালোবাসার ‘মাশরাফি জুনিয়র’ ছোটপর্দায় পূরণ করতে চলেছে ৪০০তম পর্ব। ‘সব বাধা ডিঙিয়ে এক অসম্ভব স্বপ্নছোঁয়ার গল্প’ নিয়ে প্রচারিত হওয়া এ মেগাসিরিয়াল এখন সবার কাছে সমান জনপ্রিয়।

টেলিভিশন কিংবা সামাজিকমাধ্যম- সবখানেই নাটকটির প্রতিটি পর্ব দেখতে অপেক্ষায় থাকেন সব বয়সের দর্শকরা। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া দীপ্ত টিভির প্রতিদিনের এ ধারাবাহিক নাটকটির ৪০০তম পর্ব প্রচার হবে ২৪ মার্চ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে। তাছাড়া ধারাবাহিকটি একই সময়ে প্রচার হচ্ছে।

চিরসবুজ গ্রামে মণি আর মন্ডা দুই ভাইবোনের ভালোবাসার গল্প দিয়ে নাটকটি শুরু হলেও পরে ঘটনাপ্রবাহে আসে শহরের গল্পও। মন্ডার ক্রিকেট খেলা দেখে অনুপ্রাণিত মণি এক সময় হারানো ভাইকে খুঁজতে শহরে আসে। এখানেও জীবনসংগ্রামে তার সঙ্গী হয় ক্রিকেট। শহরে সাদিক খানের বাড়িতে মণি পায় বন্ধু আয়ানের ভালোবাসা আর মমতাময়ী মা রুনার স্নেহ।

মেয়ে হয়েও ছেলের বেশে ‘মাশরাফি জুনিয়র’ নাম নিয়ে মণি ক্লাবে সুনাম কুড়ায়, জায়গা পায় ক্রিকেট একাডেমিতে। ভাইকে পেয়েও আবার হারিয়ে মণি আঁকড়ে থাকে ক্রিকেট নিয়ে। একদিন তার জাতীয় দলে খেলার স্বপ্নপূরণ কিংবা ভাইকে দেওয়া কথা সে রাখতে পারবে কিনা- এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে নাটকের সামনের পর্বগুলোতে।

আহমেদ খান হীরকের গল্পে ‘মাশরাফি জুনিয়র’র চিত্রনাট্য করেছেন আসফিদুল হক আর সংলাপ লিখেছেন মো. মারুফ হাসান। সাজ্জাদ সুমনের পরিচালনায় ধারাবাহিকটির লাইন প্রডিউসার হিসেবে আছেন কিশোর খন্দকার।

এরই মধ্যে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সাফানা নমনি। এছাড়া আরও অভিনয় করেছেন হামিম আজম, অনিন্দ্য, শতাব্দী ওয়াদুদ, গোলাম ফরিদা ছন্দা, চিত্রলেখা গুহ, নাজনীন হাসান চুমকী, ফজলুর রহমান বাবু, ডা. এজাজ, সমু চৌধুরী, মাইমুনা ফেরদৌস মম, তৌফিকুল ইমন, তিনু করিম, একে আজাদ সেতুসহ অনেকে।

বিরতি ভাঙলেন এ্যানী খান

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর ঘোষণা দিয়ে মিডিয়া থেকে বিদায় নেন মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা এ্যানী খান। এ কারণে তখন তুমুল আলোচনায় ছিলেন তিনি।

মিডিয়ার কাজ ছাড়ার পর এ্যানী খান অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমদিকে কিছু সমস্যা থাকলেও পরবর্তীতে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি সফলতার মুখ দেখে। বর্তমানে তিনি অনলাইন এ ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত আছেন।

তবে হঠাৎ করেই আবার মিডিয়ার কাজে ফিরেছেন এ্যানী খান। তবে কাজটি গতানুগতিক নয়। টেলিভিশনের একটি ইসলামি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছেন তিনি।

এটির নাম ‘ইসলামের মহীয়সী নারী’। মুফতি মাহমুদুল হাসান ও মুফতি শাঈখ মোহাম্মদ উসমান গনীর গ্রন্থনা এবং ইসমে আজমের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন এ্যানী খান। অনুষ্ঠানটি পুরো রোজার মাসে প্রতিদিন গ্লোবাল টিভিতে প্রচার হবে।

এ প্রসঙ্গে এ্যানী খান বলেন, ‘আমি মিডিয়ায় আর কখনই কাজ করব না। এটি একটি ইসলামিক অনুষ্ঠান। তাই কাজটি করছি। এ ধরনের কাজ করতেই এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এ রকম কাজের প্রস্তাব পেলে করতে পারি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি আমার পরিকল্পনা অনুয়ায়ী বাকি জীবনটা কাটাতে পারি।’

পঞ্চম উইকেট নিয়েই সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তাসকিন

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচ ও সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন পেস বোলার তাসকিন আহমেদ। দক্ষিণ আফ্রিকার অপরিচিত কন্ডিশনে বাউন্সি উইকেটে একজন বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার হিসেবে অনন্য অবদান রাখেন তাসকিন। এক এক করে পাঁচটি উইকেট তুলে নেন তিনি। পঞ্চম উইকেট রাবাদাকে সাজঘরে ফিরিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাস করে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তাসকিন। অনেক্ষণ সিজদারত অবস্থায় ছিলেন তিনি।

বুধবার ‘অঘোষিত ফাইনালে’ ৯ ওভারে মাত্র ৩৫ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করেন তাসকিন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণেই চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারেনি স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা।

তাসকিনের গতির মুখে পড়ে সময়ের ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ৩৭ ওভারে ১৫৪ রানেই অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

এর মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছর পর নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তাসকিন দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে ৫টি উইকেট পেয়েছেন।

পরে নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে ডানহাতি পেসার বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র নিজের প্রক্রিয়ায় স্থির থেকেছি এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছি। উইকেট থেকে বাউন্স পেয়েছি। এজন্য নিজের লাইন ও লেন্থ ঠিক রেখেছি। নিজের প্রক্রিয়ায় এখন আমার অনেক বিশ্বাস। শেষ এক, দেড় কিংবা দুই বছর এভাবেই পরিশ্রম করে আসছি। এটাই আমার সাফল্যের রহস্য।’

উল্লেখ্য, তাসকিন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছিলেন ২০১৪ সালের জুন মাসে। সে বছর ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। আর অভিষেক ম্যাচেই ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে চমক দেখান তিনি।

কিন্তু এর মাঝে আরও ৪৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেললেও একটিতে ৫ উইকেটের দেখা পাননি।

টাইগারদের সিরিজ জয়ে গৌরীপুরে আনন্দ মিছিল

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আনন্দ মিছিল হয়েছে।

বুধবার রাতে ২৬তম ওভারে জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টাইগার ভক্তরা জাতীয় পতাকা, ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প নিয়ে পৌর শহরে আনন্দ মিছিল বের করেন।

মিছিল শেষে তামিম ইকবালদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ এমদাদুল হক, গৌরীপুর শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক, সহর বানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জরুল হক, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পলাশ মাজহার, গৌরীপুর যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান, ঠিকাদার নজরুল ইসলাম খান মিন্টু, সুমন এষ, চা দোকানি হারুন মিয়া।

প্রসঙ্গত দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ২০ বছরের চেষ্টার পর চলতি সফরেই প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ সিরিজ জয়েরও ইতিহাস গড়েছে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম খেলায় ৩১৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে ৩৮ রানে জয় পায় তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দলটি।

বুধবার শেষ ম্যাচে ‘অঘোষিত ফাইনালে’ স্বাগতিকদের ১৫৪ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ১৪১ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ে টাইগাররা।