শুক্রবার ,৬ নভে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 390

চিকিৎসকদের দলবাজিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

চিকিৎসকদের মধ্যে দলবাজিতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি—সবক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের মেধাবী চিকিৎসকরা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে রোনাল্ড রিগ্যান গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তখন তার সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসকের কাছে রিগ্যান জানতে চেয়েছিলেন, আপনি ডেমোক্র্যাটিক নাকি রিপাবলিকান? অর্থাত্ বিশ্বের সব দেশেই দলবাজির এই প্রবণতা আছে। তবে উন্নত দেশগুলোতে দলবাজি হলেও মেধার ক্ষেত্রে তারা কখনো আপস করে না। চিকিৎসকদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলির ক্ষেত্রে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। এখানে সবক্ষেত্রে দলবাজিই প্রাধান্য পায়। শুধু বর্তমান সরকারের আমলে নয়, অতীতের সব সরকারের আমলেই চিকিৎসকদের মধ্যে দলবাজি চলে আসছে। দলবাজিতে জড়িত বেশির ভাগ চিকিৎসক সময়মতো হাসপাতালে আসেন না, আবার এলেও তারা অল্প সময় থেকে চলে যান। রাজধানী থেকে তাদের বেশির ভাগকে বাইরে বদলিও করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীতেই তারা অবস্থান করছেন।

বিএনপির আমলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্রাব) এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাধীনতা চিকিৎসক (স্বাচিপ) স্বাস্হ্য খাত নিয়ন্ত্রণ করে। বছরের পর বছর ধরে একশ্রেণির চিকিৎসক রাজনীতি, সংগঠন, দলাদলি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। রাতারাতি সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দাবাজিতে ব্যস্ত মহলটি চিকিৎসাসেবা দেওয়া তো দূরের কথা, বরং নানা কূট-কৌশলে স্বাস্হ্য সেক্টরকেই ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। এতে বিপুলসংখ্যক মেধাবী চিকিৎসকের কাছে দিন দিন পেশাদারিত্বটা গৌণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির আমলে ড্রাবের নেতাকর্মীরা সুযোগসুবিধা পেয়েছেন, এখন পাচ্ছে স্বাচিপের নেতাকর্মীরা। অর্থাত্ দলবাজরা সব সময়ই সুযোগসুবিধা পাচ্ছে। ১০ জন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো মহাসাগরের মতো। এ শিক্ষার কোনো শেষ নেই। তাই চিকিৎসকদের শুধু ডিগ্রি নিয়ে থাকলে হবে না। ওষুধ ও রোগ সময়ে সময়ে পরিবর্তন হচ্ছে। এসব বিষয়ে আপডেট থেকেই চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। কিন্তু সঠিকভাবে চিকিৎসাশিক্ষা দিতে হলে দলবাজি করব কখন?

দেশের হাসপাতালগুলোও দলবাজদের কাছে জিম্মি। রোগীদের চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রেও দলবাজি চলে। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনে প্রখ্যাত এক চিকিৎসককে রাখা হয়নি। কারণ তিনি কোনো দল করেন না। অথচ ঐ চিকিৎসকের যে অভিজ্ঞতা, বোর্ডে থাকা অন্যদের তার ধারের কাছেও নেই। ‘ঐ অধ্যাপককে কেন বোর্ডে রাখা হয়নি?’—বোর্ডের এক সদস্য অন্য সদস্যদের কাছে তা জানতে চাইলে উত্তরে তারা বলেন, তিনি আমাদের লোক নয়।

এদিকে দলবাজিতে জড়িত অনেক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর একটি হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ সম্পর্কে স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও অবহিত। শোনা যায়, সন্ধ্যায় হাসপাতালের অফিসেই মদের আসরে বসেন ঐ পরিচালক। দুদকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে মামলা হয়েছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কিছুই করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, এই হাসপাতাল পরিচালকের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার হয়নি। উলটো তিনি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। রাজধানীর আটটি সরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ বলেন, চিকিৎসকদের দলবাজি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। কারণ দলবাজির কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের দুই কর্মকর্তা বলেন, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও বদলি হওয়া উচিত। কিন্তু দলবাজির কারণে তা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। দলবাজির কারণে রোগীরা সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অপরদিকে মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীরা সুশিক্ষা থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত। একই সঙ্গে উপযুক্ত পদায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের মধ্যে দলবাজির কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা হতাশ। তারা এক বাক্যে বলেন, চিকিৎসা পেশা নিয়ে দলবাজি করা উচিত নয়। দলবাজির কারণে স্থানীয় স্বাস্হ্য প্রশাসনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা সমস্যা দিন দিনই বাড়ছে। তাদের মতে, বিএমএ বা স্বাচিপ-এর মতো সংগঠনগুলোর কাজ হবে শুধু চিকিৎসা পেশার মান উন্নয়ন এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে পদায়নে প্রশাসনকে পরামর্শ প্রদান।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, চিকিৎসাসেবা নিয়ে দলবাজিকে বিএমএ’র পক্ষ থেকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। চিকিৎসকদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে হবে। আর এটা বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, চিকিৎসকরা যে দলই করুক তাদের পরিচয় চিকিৎসক। আর চিকিৎসক হিসেবেই যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

বাম জোটের হরতাল চলছে

০

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অর্ধদিবস দিবস হরতাল শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল ৬টা থেকে পল্টন এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে এ হরতাল পালন শুরু করে বাম জোটগুলো।

সকাল ৬টার দিকে হরতালে সমর্থনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল সিপিবি, বাসদ, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির নেতাকর্মীরা পল্টন মোড় মিছিল বের করেন। মিছিলটি মতিঝিল, গুলিস্তান, বিজয়নগর ঘুরে আবার পল্টন মোড়ে অবস্থা নেয়। এছাড়া পল্টন মোড়ে ব্যারিকেড় দিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, বাম জোটের হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যদের পল্টন মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

ইতিহাস জানার মধ্য নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী

০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরও ছড়িয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, এতে করে তাঁরা যেমন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে তেমনি দেশও সামনে এগিয়ে যাবে।

রবিবার (২৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স’-এর কার্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস জানার মধ্যদিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভেতর একটা চেতনা জাগ্রত হবে, দেশপ্রেমে তারা উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানুষের কল্যাণে তারা আরও কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবে।’

তিনি বলেন, আজকে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কেননা ২১ বছর আমাদের বিজয়গাঁথা মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল, নতুন প্রজন্মের অনেকে সে ইতিহাস জানতেই পারেনি। আজকে তা আবার ফিরে এসেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সরকারে থাকার ফলে বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সমগ্র বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্বেও অনেক দেশ এখন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে। বিদেশি অতিথিরা দেশে এলে তাঁদের নিরাপত্তায় থাকা এসএসএফ সদস্যদেরও ভূয়সী প্রশংসা করে থাকেন বলে তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, এই যে কর্নারটা করা হয়েছে সেখানে ইতিহাসের অনেক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কাজেই যারা দায়িত্ব পালন করতে আসবে তারা একদিকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে, আর বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলার প্রেরণা পাবে। কারণ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমাদের জ্ঞান বিজ্ঞানে যেমন সমৃদ্ধশালী হতে হবে, তেমনি ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই আমরা আগামী দিনের ভবিষ্যতটা আরও উজ্জ্বল করবো, উন্নত করবো।

তিনি এসএসএফ সদস্যদের জন্য তার দোয়া ও আশীর্বাদ জানিয়ে বলেন, তিনি যখন দোয়া করেন শুধু নিজ পরিবারের জন্যই নয়, সহকর্মী এবং দেশবাসীর জন্যও দোয়া করেন। বিশেষ করে যারা তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তাদেরও মঙ্গল কামনা করেন তিনি।

আমাদের দেশ অনেক রক্তপাত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তা যেন বৃথা না যায় সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী আহবান জানান।

সহজকে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের দায়িত্ব দিয়ে প্রথম দিনই বিপাকে রেলওয়ে

০

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই টিকিটিং ব্যবস্থা সচল করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন টিকিটিং অপারেটর সহজ। পুরাতন টিকিটিং অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির সমাপ্তি ও নতুন অপারেটরের কাজ শুরু কারণে প্রথমবারের মতো আন্তনগর ট্রেনের টিকিট ৫ দিনের জন্য হাতে ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে। এরপরও চুক্তি শুরু প্রথম দিন হোঁচট খেতে হয়েছে তাদের।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে কম্পিউটারাইজ হয়েছে প্রায় ২০ বছর হলো। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নতুন টিকিটিং অপারেটর প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহজ-সিনেসিস-ভিনসেস জেবি টিকিটিং পরিচালনার কাজ পায়। আর বিদায়ী অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে গত ২০ মার্চ। নতুন অপারেটের কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে বলে ২১ থেকে ২৫ মার্চ এই ৫ দিন হাতে টিকিট দিয়েছে রেলওয়ে। কিন্তু কাউন্টারে ২৫ মার্চ ও অনলাইনে ২৬ মার্চ থেকে চালু করার কথা থাকলেও ৭৭টি স্টেশনের অর্ধেকের বেশি স্টেশনে চালু করতে পারেনি সহজ। অনলাইনে ২৬ তারিখ সকাল ৮টায় চালুর কথা থাকলেও সারাদিন চেষ্টা করেও সাইটে ঢোকা যায়নি।

লাল রঙের পোশাকে কেন আকর্ষণীয় দেখায় মেয়েদের লাল রঙের পোশাকে কেন আকর্ষণীয় দেখায় মেয়েদের
এ বিষয়ে সহজের গণযোগাযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ফরহাত আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার প্রতি মিনিটে সাইটে ২২ লাখ মানুষ টিকিট সংগ্রহের জন্য আসে, যাদের বেশিরভাগই দেশের বাইরের। আমাদের ধারণা, এটি একটি সাইবার হামলা। কারণ বিদেশ থেকে এতো মানুষ দেশে ভ্রমণের জন্য একসঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করতে সাইটে আসার কথা না।

তবে এ সমস্যা শুধুমাত্র অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রে হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন স্টেশনে কম্পিউটার প্রোগ্রামের কোনো সমস্যা নেই। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে, আমরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ৭৭টি স্টেশনে প্রায় ৪১ হাজার টিকিট বিক্রি করেছি। আমাদের প্রকৌশলীরা এটা নিয়ে কাজ করছেন। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ই-টিকিট সিস্টেম পুনরুদ্ধারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।

সাইবার হামলা সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সরদার শাহাদাত আলী জানান, ওইদিন কোনো সাইবার হামলার কথা জানানো হয়নি তাদের। বরং বিপুল সংখ্যক যাত্রী অনলাইনে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে চাইলে এ সমস্যা দেখা দেয়। আমরা তাদের বলেছি। তারা এটা নিয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-পরিচালক নাহিদ হাসান খান বলেন, একেবারেই যে ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছিলো না, তা না। হ্যা, অনেকেই টিকিট পেতে পারেননি। আগের সিস্টেমে চার মিলিয়নেরও বেশি নিবন্ধনের ব্যাকলগ ছিল। এখন তাদেরও আবার নিবন্ধন করতে হবে, যেন তাদের সার্ভার আরও বেশি লোড নিতে পারে।

সহজ পরিচালিত বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন ই-টিকিট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইতিমধ্যে টিকিট কেটে অনেকেই পড়েছেন বিপাকে। মূল্য পরিশোধ করে গত ২২ মার্চ অনেকে টিকিট পেলেও সেটির বৈধতা নিয়ে দেখা গেছে নানান প্রশ্ন। কারণ বাংলাদশ রেলওয়ের পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ২১-২৫ মার্চ পর্যন্ত স্টেশনের কাউন্টার থেকে হাতে ইস্যু করা হয়েছে শতভাগ টিকিট। এ নিয়েও অনেকে সোচ্চার হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চান শি জিনপিং

০

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় এগিয়ে নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বাংলাদেশের ৫১তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে লেখা এক চিঠিতে তিনি একথা বলেছেন।

শি জিনপিং বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী, বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করেছেন বলে ঢাকায় চীনা দূতাবাসের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্প্রতি বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যা পারস্পরিক সম্পর্ককে গতিশীল করছে, দুই দেশের জনগণের মঙ্গল হচ্ছে। কোভিড পরিস্হিতি মোকাবিলা করে ‘সোনার বাংলা’ অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের এই অর্জনে চীন অত্যন্ত খুশি বলে জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। এক চিঠিতে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ কার্যকরভাবে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সমৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমানের উন্নতির জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা দৃঢ় হয়েছে এবং গতি বেড়েছে|

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সি প্রশংসা করেছেন।

বিকালে বসছে সংসদ অধিবেশন

০

একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ সোমবার বিকাল ৫টায়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ১০ মার্চ এ অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনের আজ প্রথমদিনেই চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত গণমাধ্যমকর্মী বিল উপস্থাপনের সূচি রয়েছে।

গণমাধ্যমমালিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যকার বিরোধ উপস্থাপন ও নিষ্পত্তি, নিম্নতম বেতন হার নির্ধারণ, গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণ ও চাকরির শর্ত এবং কর্মপরিবেশসহ গণমাধ্যম কর্মীদের আইনি সুরক্ষা প্রদানে আনা চাকরির শর্তাবলীর আইনি কাঠামো দিতেই বিলটি সংসদে তোলা হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে পাশ ও উত্থাপনের জন্য এখন পর্যন্ত সংসদ সচিবালয়ের আইন শাখায় ১৫টি বিল জমা পড়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিল কমিটিতে পরীক্ষাধীন, ছয়টি পাশের অপেক্ষায় এবং চারটি উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশের অপেক্ষায় থাকা বিলগুলো হলো—মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পেটেন্ট বিল-২০২১, সরকারি ঋণ বিল ২০২১, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল-২০২১ ও বয়লার বিল- ২০২১।

সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষাধীন বিলগুলো হলো—বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বিল ২০২১, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (সংশোধন) বিল-২০২২, বাণিজ্য সংগঠন বিল-২০২২, জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২ ও স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল-২০২২। আর সংসদে উত্থাপনের জন্য যে বিলগুলো জমা পড়েছে সেগুলো হলো—বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল-২০২২, পেমেন্ট অ্যান্ড সেলেটমেন্ট সিস্টেমস বিল-২০২২, বৈষম্য বিরোধী আইন-২০২২ ও গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলি) বিল- ২০২২।

সংসদের আজকের বৈঠকে বিদু্যত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব ও আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থাপন করবেন বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০-২১, বাজেট ২০২১-২১: দ্বিতীয় প্রান্িতক (জুলাই-ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন।

করোনার সংক্রমণ কমলেও মহামারিকালের অন্যান্য অধিবেশনের মতো এবারের অধিবেশনটিও স্বাস্হ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হবে। যেসব সংসদ সদস্য অধিবেশনে অংশ নেবেন তাদেরকে ইতিমধ্যে করোনা পরীক্ষা করাতে হয়েছে। যাদের ফলাফল নেগেটিভ কেবল তারাই অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন। অধিবেশন চলাকালে সংসদ সচিবালয়ের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করবেন তাদেরকেও করোনা পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এছাড়া মহামারিকালের অন্য অধিবেশনগুলোতে সাংবাদিকরা সংসদ ভবনে গিয়ে সরাসরি অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ না পেলেও এবার পাচ্ছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদেরও করোনা পরীক্ষা করাতে হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস’ পালন

০

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশের দূতাবাস ‘গণহত্যা দিবস’ পালন করেছে। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস গণহত্যা হিসেবে দিনটিকে স্মরণ করা হয়, যা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল।

দূতাবাস সেই বছরের ২৫ মার্চ কালো রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকিস্তান সামরিক জান্তার অপারেশন কোড দ্বারা নির্দয়ভাবে নিহত শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে গত শুক্রবার (২৫ মার্চ) বিস্তৃত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপরে ১৯৭১ বাংলাদেশ গণহত্যার স্বীকৃতি : ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য একটি আপিল শিরোনামের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তার বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

ফেরদৌসী শাহরিয়ার বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্ভীক নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণে ‘মোমবাতি প্রজ্বালন’ মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে দূতাবাসের কর্মসূচি শেষ হয়।

সৃষ্টিকর্তার অপার নিয়ামত স্বাধীনতা

০

২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। এ স্বাধীনতা মহান সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত।

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাকে স্বাধীন করার জন্য ত্যাগ করতে হয়েছে অনেক কিছু, দিতে হয়েছে লাখো প্রাণের তাজা রক্ত। আল্লাহর জমিনে তিনি পরাধীনতা পছন্দ করেন না। যেখানে স্বাধীন ভূখণ্ড নেই সেখানে ধর্ম নেই আর যেখানে ধর্ম নেই সেখানে কিছুই নেই। তাই ইসলামে দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার গুরুত্ব অতি ব্যাপক।

সৃষ্টির প্রতিটি জীব স্বাধীনতা পছন্দ করে। পৃথিবীতে এমন কোনো জাতি বা জীব পাওয়া যাবে না, যারা পরাধীন থাকতে চায়। তাই স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সবাই কতই না চেষ্টা-প্রচেষ্টা করে থাকে। আর এই স্বাধীনতার জন্যই মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে মক্কাকে করেছিলেন স্বাধীন।

ইসলামের ইতিহাস পাঠে জানা যায়, পৃথিবীতে এ পর্যন্ত যত নবীর আগমন হয়েছে তারা সবাই সমাজ, দেশ ও জাতির স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। আর এই স্বাধীনতা অত্যাচারী শাসকের দাসত্ব থেকে জাতিকে স্বাধীন করার ক্ষেত্রেই হোক বা ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে হোক- এক কথায় বলা যায়, সব ধরনের দাসত্ব ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত করাই হচ্ছে আল্লাহতায়ালার প্রেরিত নবীদের কাজ।

আমরা জানি, গোলাম মুক্ত করে এবং সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতার জন্য যিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন এবং শতভাগ সফল হয়েছেন, তিনি হলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি হচ্ছেন স্বাধীনতার উজ্জ্বল সূর্য। যার কিরণ দূর-দূরান্তে বিস্তার লাভ করেছে, যিনি নিজের মাঝে সব ধরনের স্বাধীনতাকে ধারণ করেছিলেন। যিনি মানুষকে শুধু বাহ্যিক দাসত্ব থেকেই স্বাধীনতা দেননি, বরং সমাজ ও দেশ থেকে সব ধরনের নৈরাজ্য দূর করে সবাইকে করেছিলেন স্বাধীন।

বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠী অবলোকন করেছে, কীভাবে বিশ্বনবী (সা.) সমাজ, দেশ তথা সর্বত্রে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরাধীনতার অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য তিনি যেমন লড়েছেন, তেমনি তিনি সবাইকে করেছিলেনও স্বাধীন।

কিন্তু এটি বড়ই পরিতাপের বিষয়, অনেক জাতি স্বাধীনতার প্রকৃত পতাকাবাহীদের অস্বীকার করে এবং সর্বোত্তম শাসকের (আল্লাহর) শাসনের ওপর জাগতিক শাসকের দাসত্বকে অগ্রাধিকার প্রদান করার ফলে তারা কেবল নিজেরাই প্রকৃত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হয়নি বরং বহু জাতি আল্লাহর আজাবগ্রস্ত হয়ে ধ্বংসও হয়ে গেছে।

একান্তই সত্য যে, বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতা সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যাওয়ার কারণে স্বাধীনতা কেবল তাদের হাতছাড়া হয়নি বরং সে জাতির ইহ ও পরকাল উভয়ই ধ্বংস হয়ে গেছে।

প্রকৃতিগতভাবে আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীন হয়ে জন্মগ্রহণ করে। আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য এটাই স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। আল্লাহতায়ালা সবাইকে বিবেক ও বিশ্বাসেরও স্বাধীনতা দিয়েছেন। কাউকে পরাধীন করেননি।

যেভাবে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমার প্রভু-প্রতিপালক ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই অবশ্যই একসঙ্গে ইমান নিয়ে আসত। তবে কি তুমি মোমেন হওয়ার জন্য মানুষের ওপর বল প্রয়োগ করবে?’ (সূরা ইউনুস, আয়াত : ৯৯)।

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে যে, আল্লাহ সবার স্বাধীনতা চান। তিনি চাইলে সবাইকে একসঙ্গে মোমেন বানাতে পারেন; কিন্তু তা তিনি করেননি। তিনি চেয়েছেন মানুষ যেন স্বাধীনভাবে বুঝেশুনে ইমান আনে।

স্বাধীনতাকে ইসলাম যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধকেও অতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একে ইমানের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

মহানবীর (সা.) হৃদয়ে স্বদেশপ্রেম যেমন ছিল, তেমনি তার সাহাবায়ে কেরামদের মাঝেও বিদ্যমান ছিল। তিনি (সা.) মক্কা থেকে মদিনার পথে হিজরতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পূর্বে তার মুখ ফেরালেন জন্মভূমি মক্কার দিকে, যেখানে তিনি নবুয়ত লাভ করেছেন এবং তার পূর্বপুরুষরা বসবাস করে আসছেন।

তিনি বারবার ফিরে তাকাচ্ছেন মক্কার দিকে, চোখ থেকে অশ্রু ঝরছে। মক্কার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে কেঁদে কেঁদে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন- ‘হে মক্কা, তুমি আমার কাছে সমস্ত স্থান থেকে অধিক প্রিয়, আমি মক্কাকেই ভালোবাসি। আমার মন মানছে না। কিন্তু তোমার লোকেরা আমাকে এখানে থাকতে দিল না, সবকিছুর মালিক তুমি। মক্কার মানুষদের ইমানের আলোয় উজ্জ্বল কর। ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত কর’ (মুসনাদ আহমদ ও তিরমিযি)।

একটু ভেবে দেখুন! স্বদেশের প্রতি কতই না গভীর প্রেম ছিল তার। যে দেশের লোকেরা তার ওপর এত জুলুম-অত্যাচার করেছে তার পরও মাতৃভূমির প্রতি কত অগাধ ভালোবাসা। একেই না বলে স্বদেশপ্রেম। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষায় হজরত রাসূল করিম (সা.) যখনই আহ্বান করেছেন, তখনই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সর্বতোভাবে এ ডাকে সাড়া দিয়েছেন।

তারা জানতেন, নিজেদের বিশ্বাস, আদর্শ ও দ্বীন-ধর্মমত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের প্রয়োজন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যেমন আন্তরিক ছিলেন, তেমনি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন দেশপ্রেম ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায়।
মাতৃভূমির প্রতি রাসূলের (সা.) ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখুন- হজরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি খায়বর অভিযানে খাদেম হিসেবে রাসূলের (সা.) সঙ্গে গেলাম। অভিযান শেষে রাসূল (সা.) যখন ফিরে এলেন, উহুদ পাহাড় তার দৃষ্টিগোচর হলো। তখন মহানবী (সা.) বললেন, এই পাহাড় আমাদের ভালোবাসে, আমরাও একে ভালোবাসি’ (বোখারি)।

প্রিয় নবী (সা.) মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এমনকি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করে, তাদেরকে মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয়, সম্মান, আত্মমর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠা করে দুনিয়ার ইতিহাসে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

তিনি যেমন অসংখ্য দাসকে নিজ খরচে মুক্ত করেছেন, তেমনি সমগ্র বিশ্বকে দিয়েছিলেন স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ।
আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে দেশ ও জাতির কল্যাণে সদা নিবেদিত থাকার এবং স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষার তৌফিক দিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

চলে গেলেন স্টিফেন উইলহাইট

০

চলে গেলেন জিআইএফ ইমেজ ফরম্যাটের আবিষ্কারক স্টিফেন উইলহাইট। কোভিড পরবর্তী জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেছেন এ প্রযুক্তি আবিষ্কারক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

কম্পিউসার্ভে কাজ করার সময় ১৯৮৭ সালে তিনি জিআইএফ ইমেজ ফরম্যাট আবিষ্কার করেছেন। তখন আজকের মতো ইন্টারনেটের গতি এতটা উচ্চগতির ছিল না। ধীরগতির ইন্টারনেটে গ্রাফিক ইমেজকে পরিবর্তন ও প্রদর্শনের জন্য তিনি এই ইমেজ ফরম্যাটটির ডিজাইন করেন। বাড়িতে বসেই উইলহাইট এটি তৈরি করেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পর সেটি কর্মস্থলে নিয়ে যান। তার স্ত্রী কাথালিন বলেন, উইলহাইট সবকিছু প্রথমে তার মাথায় পরিকল্পনা করে থাকেন ও এরপর সেটি কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং করতেন। প্রথমদিকে শর্ট মিম ভিডিও হিসাবে জিআইএফ প্রচলিত ছিল। এটির উচ্চারণ কি হবে সেটি নিয়েও এখন পর্যন্ত বিতর্ক চলে আসছে।

বিশ্বব্যাপী বাড়ছে ফিচার ফোনের ব্যবহার

০

বর্তমান সময়ের স্মার্টফোনের মতো অত্যাধুনিক ফিচার নেই পুরোনো সেই ফিচার ফোনগুলোতে আর তাই রসিকতা করে এককালের জনপ্রিয় ফিচার ফোনগুলোকে ‘ডাম্বফোন’ বা ‘বোকাফোন’ বলে ডাকেন অনেকেই।

ডাম্পফোনগুলো মূলত মৌলিক হ্যান্ডসেট অথবা ফিচার ফোন। আইফোনের তুলনায় এসব মোবাইল খুবই সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। যেমন কাউকে কল করা, কল রিসিভ করা এবং এসএমএস টেক্সট পাঠাতে পারে। আর আপনি যদি সৌভাগ্যবান হন তাহলে বড় জোর এই ফোনে রেডিও শুনতে পারবেন এবং খুবই প্রয়োজনীয় কিছু ছবি তুলতে পারবেন। তবে আপনি অবশ্যই এ ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ অথবা অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ডিভাইসগুলো মূলত নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে বাজারে আসা প্রথম হ্যান্ডসেটগুলোর মতো। হিসাবরক্ষণ বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ডেলয়েট ২০২১ সালের এক গবেষণায় জানিয়েছে যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে একজনের হাতে ডাম্পফোন রয়েছে। ইউএসউইচ ডটকমের মোবাইল বিশেষজ্ঞ আর্নস্ট ডকো জানিয়েছেন, ‘প্রথম মোবাইল ফোন হিসাবে আমাদের অনেকের কাছেই একটি ডাম্পফোন রয়েছে। ফলে এ ক্লাসিক হ্যান্ডসেটগুলো নিয়ে আমরা নস্টালজিক হয়ে পড়ব এটি খুবই স্বাভাবিক।’ তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালে নোকিয়ার ৩৩১০ হ্যান্ডসেটটি আবার বাজারে নিয়ে আসা হয়, ২০০০ সালে ফোনটি প্রথম বাজারে এসেছিল। এ ফোনটি সব সময়ই সর্বোচ্চ বিক্রির তালিকায় ছিল। কথিত ‘ডাম্বফোন’-এর এ পুনরুত্থানের পেছনে চোখে পড়ার মতো ভূমিকা রাখছে তরুণ প্রজন্ম।

এই তরুণ প্রজন্মের ‘ডাম্বফোন’ ব্যবহারকারীদের একজন রবিন ওয়েস্ট। পুরোনো ডাম্বফোন ব্যবহার করেন বলে নিজের বন্ধু মহলেও ব্যতিক্রম তিনি; টিকটক বা ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করে পার হয় না তার দিন।

দুই বছর আগে ওয়েস্ট যখন তার পুরোনো স্মার্টফোন ছেড়ে কম দামে একটি ফোন কিনতে চাচ্ছিলেন তখন সেকেন্ডহ্যান্ডের দোকানে কমদামের ‘ব্রিক ফোনের’ দিকে তার নজর যায়। বর্তমানে তার হাতে থাকা হ্যান্ডসেটটি ফরাসি কোম্পানি মোবিওয়ারের তৈরি করা; যার মূল্য আট পাউন্ড। যেহেতু ফোনটি স্মার্টফোনের মতো কোনো কার্যক্রম নেই তাই মাসে বড় অঙ্কের বিল পরিশোধ করা নিয়েও তাকে চিন্তা করতে হয় না।

এ প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বলেন, ‘ব্রিক ফোন কেনার আগে আমি বোঝতে পারিনি যে স্মার্টফোন আমার জীবন থেকে কতমূল্যবান কিছু নিয়ে যাচ্ছিল। আমার স্মার্টফোনে অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ ছিল এবং এগুলোর কারণে আমি সব সময়ই ফোনে ব্যস্ত থাকতাম তেমন একটা কাজ করতে পারতাম না।

লন্ডনের এ নাগরিক জানিয়েছেন তিনি আরেকটি স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন না। ওয়েস্টের মতো আরও অনেকেই এখন ডাম্পফোনের দিকে ঝুঁকছেন। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এসইএমরাশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে গুগল সার্চে ডাম্পফোনের খোঁজ ৮৯ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এটি সত্যি যে পারফরমেন্সের দিক থেকে ডাম্পফোনগুলো কোনোভাবেই সাম্প্রতিক অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের মডেলগুলোর সমপর্যায়ের হবে না। তবে ব্যাটারির জীবনকাল ও টেকসইয়ের দিক থেকে এসব আধুনিক ফোনকে ছাড়িয়ে যাবে ডাম্পফোনগুলো।

নিউইয়র্কভিত্তিক ডাম্পফোন নির্মাতা লাইটফোন তাদের পণ্যগুলোকে কিছুটা স্মার্ট করার চেষ্টা করে। যেমন এর ব্যবহারকারীরা সংগীত শুনতে পারে এবং পডকাস্ট ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া ব্ল–টুথ থেকে হেডফোনে সংযোগ দেওয়া যায়। তবে কোম্পানিটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তাদের ফোনে ‘কখনোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ক্লিকবাইট নিউজ, ইমেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজার থাকবে না।

‘লাইটফোন জানিয়েছে তাদের হ্যান্ডসেটের বিক্রি অনেক বেড়েছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে তাদের ডাম্পফোনের বিক্রি ১৫০ শতাংশ বেড়েছে। ডাম্পফোন হিসাবে তাদের হ্যান্ডসেটগুলো ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও চাহিদা বাড়ছে। তাদের ডাম্পফোনের দাম ৯৯ ডলার থেকে শুরু হয়। লাইটফোনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা কাইওয়েই ট্যাং বলেছেন বিস্ময়কর হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল গ্রাহক হলো ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণরা।