শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 389

লাল রঙের পোশাকে কেন আকর্ষণীয় দেখায় মেয়েদের

শুধু শরীর ঢাকার জন্য নয়, পোশাক পরা হয় নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য। সবাই পোশাকের বিভিন্ন রং পছন্দ করে থাকেন। তবে লাল এমন একটি রং যা জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। আর লাল রঙের পোশাকের প্রতি নারীদের বিশেষ একটি ভালোলাগাও জড়ি্য়ে থাকে সবসময়।ভ্যালেন্টাইন, বৈশাখ, যেকোনো উৎসব, বিয়েই শুধু নয় ভালোবাসার প্রতীকও লাল রং

ভ্যালেন্টাইন, বৈশাখ, যেকোনো উৎসব, বিয়েই শুধু নয় ভালোবাসার প্রতীকও লাল রং। লাল রঙের মতো এত রকম অনুভূতি জাগানোর ক্ষমতা আর কোনো রঙে নেই। জীবনকে বর্ণিল করে তোলে লাল রং। অন্য যেকোনা রঙের পোশাকে মেয়েদের যতটা না আকর্ষণীয় ও সুন্দর লাগে, লাল রঙে তার চেয়ে বহু গুণ বেশি আকর্ষণীয় লাগে। তাই মেয়েদের পোশাক বাছাইয়ে পছন্দের র্শীষে থাকে লাল রং।

নিউইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, স্লোভাক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে লাল পোশাক পরা নারীদের প্রতি পুরুষরা তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হোন।

লাল পোশাক পরা নারীদের প্রতি পুরুষরা তুলনামূলক বেশি আকৃষ্ট হোন
রাগ ও অনুরাগের রং লালের আছে প্রকারভেদও। কোনটা কমলাঘেষা, কোনটা আবার টমেটোর মতো টুকটুকে আবার কোনটা স্ট্রবেরি বা আপেলের মতো লাল। অতি গাঢ় লাল রং যেমন ভালো লাগে, তেমনই মন্দ লাগে না ফ্যাকাশে লালও। বাংলার মেয়েদের ত্বকে লালের কাছাকাছি সব রঙই মোটামুটি মানিয়ে যায়। তাই শ্যামবর্ণা হলে লাল রং থেকে দূরে সরে থাকার কোনো কারণ নেই।

লাল আর সোনালী বা বেজ রঙের কম্বিনেশন খুব ভালো লাগে দেখতে। লাল-সাদা তো বাঙালির সনাতন ট্রেডমার্ক কম্বিনেশন, ট্রাই করে দেখতে পারেন লাল-হলুদও।
মেয়েদের পোশাক বাছাইয়ে পছন্দের র্শীষে থাকে লাল রং
লাল পোশাক এমনিতেই নজরকাড়া, তাই মেকআপ কিন্তু একটু মিউটেড হওয়া দরকার। ম্যাট লাল লিপস্টিক লাগাতে পারেন, চোখে দিন হালকা গ্রে বা ব্রাউন পেনসিলের ছোঁয়া। রাতের কোনো অনুষ্ঠানে যেতে হলে একটু গাঢ় আই মেকআপ ট্রাই করতে পারেন। কিন্তু চোখ ও ঠোঁট, দুটাকেই আলাদা করে তুলে ধরার তেমন একটা প্রয়োজন নেই।

তবে হেয়ারস্টাইল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই পারেন। বিচওয়েভ কার্ল দেখতে দারুণ লাগবে। তবে খুব পাতলা চুল যাদের, তারা আগে থেকে খানিকটা ভলিউম যোগ করে নিতে কিন্তু ভুলবেন না।

আবারও অভিনয়ে ফিরলেন নারগিস

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও অভিনয়ে ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী নারগিস ফাখরি। সম্প্রতি একটি তেলেগু সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।

সিনেমাটিতে নারগিস প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করবেন। এটি তেলেগু সিনেমায় তার প্রথম কাজ হতে যাচ্ছে। তাকে সর্বশেষ ২০২০ সালে নেটফ্লিক্স ফিল্ম তোরবাজ-এ একটি অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে সঞ্জয় দত্ত ও রাহুল দেবের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারে একাধিক সিনেমা মুক্তির সময় হটাত্ করেই অভিনয়ে বিরতি টেনে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে চলে যান নারগিস। তবে এবার নিয়মিত অভিনয় করতে চান তিনি। বিরতির কারণ প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমে নারগিস বলেন, ‘সে সময় আমার মনে হয়েছিল আমি অতিরিক্ত পরিশ্রম করছি এবং খুব চাপে আছি। আমি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের মিস করেছি। তাছাড়া আমি যে কাজগুলো করছি তাতে আমি নিজেকে খুশি করতে পারছি না।

তিনি বলেন, একের পর এক সিনেমার কাজ করতে গিয়ে নিজেকে ফাঁকি দিচ্ছি। তাই আমি আমার মন এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বিরতি দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছিলাম। যে কারণে কিছুদিন বিরতিতে ছিলাম। তবে এখন থেকে নিয়মিত অভিনয় করার ইচ্ছে থেকেই কাজে ফিরছি। আশা করছি সামনের দিনগুলো আরও সুন্দর হবে এবং সবাই পাশে থাকবেন।

‘সবার চেষ্টা ছিল এই সিজনটিও ভালো করার, যেন দর্শকরা পছন্দ করেন’

ছোটপর্দার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজ-সিনেমাতেও অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। প্রচার শুরু হচ্ছে তার ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস রিলোডেড’ নাটকটি। এছাড়া মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে একটি সিনেমা। পাশাপাশি একাধিক ঈদের নাটকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। নিজের অভিনয় ভাবনাসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল।

‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস রিলোডেড’ প্রচার শুরু হচ্ছে। প্রথম সিজনের জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় সিজনের কাজে আপনাদের কতটা চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে এবং ভিন্নতা কী থাকছে?

এখানে ‘চ্যালেঞ্জ’ বা ‘ভিন্নতা’ শব্দগুলো আমি বলতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, সিরিজটির কাজ করতে গিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক থেকে শুরু করে ইউনিটের সবাই একটা পরিবারের মতো হয়ে গেছি। আমরা আমাদের দিক থেকে অনেক আনন্দের সঙ্গে কাজটি করেছি। তাছাড়া প্রথম সিজন জনপ্রিয় হওয়ার কারণেই কিন্তু দ্বিতীয় সিজন আসছে। সেই জায়গায় সবার চেষ্টা ছিল এই সিজনটিও ভালো করার, যেন দর্শকরা পছন্দ করেন। কাজটি আগের চেয়ে ভালো হতে হবে এমন চিন্তা ছিল না।

এর বাইরে অন্য কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

ফ্যামিলি ক্রাইসিসের বাইরে আসছে ঈদের বেশ কয়েকটি একক নাটকের কাজ করছি। এছাড়া কিছুদিন আগে পঙ্কজ পালিত ‘একটি না বলা কথা’ শিরোনামের একটি সরকারি অনুদানের সিনেমার কাজ শেষ করেছি। সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে।

সম্প্রতি আপনার ‘সাবরিনা’ নামের একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেয়েছে। কাজটি প্রসঙ্গে জানতে চাই। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পাচ্ছেন?

এর আগেও আশফাক নিপুনের ‘কষ্টনীড়’ শিরোনামের একটি ওয়েব ফিল্মে অভিনয় করেছি। এটা তার সঙ্গে দ্বিতীয় কাজ। কষ্টনীড় দিয়ে দারুণ দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম। আর সাবরিনা আমি গতকালই দেখলাম। এতে একই নামে দুটি মেয়ে, নামে নাজিয়া হক অর্ষা এবং মেহজাবীন অভিনয় করেছেন। তারা দু’জনই ভালো অভিনয় করেছেন। দিনার ভাইও ভালো দারুণ অভিনয় করেছেন। এছাড়া বাকি চরিত্রগুলোকে আমি অতিথি চরিত্র বলতে পারি। তবে সবাই ভালো কাজ করেছেন এবং দর্শকরাও বেশ প্রশংসা করছেন।

গল্পনির্ভর কাজ বেশি হওয়ায় আপনারা যারা হিরো-হিরোইন চরিত্রের বাইরে অভিনয় করেন তাদের কাজের ক্ষেত্রটি প্রসারিত হচ্ছে কি-না?

না, আমার মনে হয় এখনও সে রকম পরিস্হিতি তৈরি হয়নি। ভারতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন সেখানে বিগ বাজেটের সিনেমা হলে আলিয়া-দীপিকার মতো তারকার কাছে যাচ্ছে। তারা কিন্তু ওটিটির কাজ করছেন না। ওটিটির কাজ করছেন বিদ্যা বালানের মতো অভিনেত্রীরা। ওদের দুটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রটি ছোট হওয়ায় টিভি নাটকে যারা শীর্ষে আছেন তাদের কাছেই কাজগুলো যাচ্ছে। তাছাড়া দুঃখজনক হলেও সত্য, এক সময় যারা শীর্ষে ছিলেন এবং অনেক ভালো অভিনেত্রী তাদের নিয়ে কাজ করার মতো প্রযোজক-নির্মাতা আমাদের দেশে নেই। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন নায়িকার সময়কাল থাকে সর্বোচ্চ ১০ বছর!

ওটিটির কাজগুলো নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতিও চোখে পড়ছে। এই চর্চা টিভি নাটকের ওপর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন না?

এই বিষয়টি নিয়ে আমি বলতে পারব না। তবে এটুকু বলতে পারি, একটি টিভি নাটকের যে বাজেট থাকে তার দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি বাজেট থাকে ওটিটির কাজে। এতে অনেক সময় এবং যত্ন নিয়ে কাজগুলো করা যায়। আর বাজেট, সময় বেশি পেলে কাজটি ভালো হবে এটাই স্বাভাবিক।

অনেকেই বলে থাকেন সিনিয়রদের সঙ্গে জুনিয়রদের যোগাযোগে একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

দেখুন, সবাই জানে আমি অভিনয় করি। আমি তো জুনিয়রদের কাছে গিয়ে বলতে পারি না যে, আমি অভিনয় করি! তারা যদি মনে করে আমাকে প্রয়োজন তাহলে তারা স্ক্রিপ্ট নিয়ে আমার কাছে আসবে। আমার যদি কাজটি পছন্দ হয় তাহলে অবশ্যই করব।

ক্যারিয়ারের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে কী বলবেন?

আমি পেশাদার অভিনেত্রী। আমার কাজই হলো অভিনয় করা। যতদিন বেঁচে আছি পছন্দমতো গল্প-চরিত্র পেলে কাজ করে যাবো।

সাকিবকে পেতে বিসিবিকে মোহামেডানের চিঠি

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিব আল হাসানের যাওয়া, না যাওয়া নিয়ে একপ্রস্হ নাটকই হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গিয়েছিলেন সাকিব নিজের আগ্রহেই। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিতে পরিবারের অসুস্হ সদস্যদের পাশে থাকতে দেশে ফিরে এসেছেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার।

বর্তমানে ঢাকায় থাকা সাকিবকে পেতে চেষ্টা করছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তাকে পেতে বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ক্লাবটি। গতকাল ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রিমিয়ার লিগে সাকিবের খেলার বিষয়ে গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমরা যোগাযোগ করেছি বিসিবির সঙ্গে। এটা আসলে বিসিবি ও সাকিব ঠিক করবে। ওর পরিবারের সবাই অসুস্হ। এখন কেমন আছে সবাই, ওর মন মানসিকতা কী অবস্হায় আছে? এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

সাকিবকে না পেলেও আজ মোহামেডানের হয়ে খেলতে নামবেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বিকেএসপিতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে খেলবে মোহামেডান। ব্রাদার্স খেলবে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিরুদ্ধে। আর ইউল্যাব মাঠে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের মুখোমুখি হবে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব।

একুশ বছর পর বাংলাদেশের সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার দেখা

আজ থেকে একুশ বছর আগে ফুটবল মাঠে মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দেখা হয়েছিল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দুই ম্যাচের প্রথমটিতে বাংলাদেশ ৩-০ গোল জিতেছিল আর ফিরতি ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়েছিল। আগামীকাল মঙ্গলবার এই দলের দেখা হতে যাচ্ছে সিলেটে। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে বাংলাদেশের সিলেট শহর। মাঝের একুশ বছরে ফুটবলের গ্রাফটা দেখলে দুই দেশের কারোরই উন্নতি হয়নি। ফিফার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্হান ১৮৬ আর মঙ্গোলিয়ার অবস্হান ১৮৪।

বাংলাদেশ ফিফার সদস্য হয়েছে ১৯৭৬ সালে। মঙ্গোলিয়া ফিফার সদস্য হয়েছে ১৯৯৮ সালে। ১৯৬০ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত মঙ্গোলিয়া কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচও খেলেনি। ১৯৯৮ সালে ফিফার সদস্য লাভের পর এশিয়ান গেমস ফুটবলের বাছাইয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে (কুয়েত ১১-০) এবং (উজবেকিস্তান ১৫-০) দুই ম্যাচে ২৬ গোল হজম করে।

২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান যৌথভাবে এশিয়ায় বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করে। এই বিশ্বকাপের বাছাইয়ের খেলা হয় ২০২১ সালে। ৫ ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ড্র করে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিল মঙ্গোলিয়া। প্রথম ম্যাচে তিন গোলের মধ্যে দুটি আলফাজের এবং একটি রোকনুজ্জামান কাঞ্চনের। ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচের দুই গোলই ডিফেন্ডার সুজনের।

মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে যখন বাংলাদেশ ম্যাচ খেলে তখন ফিফার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ছিল ১৪৬ নম্বরে। এখন ৪০ নিচে। আলফাজ, কাঞ্চন, সুজন ছাড়াও সেই ম্যাচ দুটি খেলেছিলেন গোলকিপার আমিনুল, রজনী, হাসান আল মামুন, নজরুল, ফিরোজ মাহমুদ টিটু, মনোয়ার, সাইফুর রহমান মনি, ইকবাল, মতিউর মুন্না, গোলকিপার আপেল প্রমুখ। কোচ ছিলেন অস্ট্রিয়ান জর্জ কোটান। সেই দলের মিডফিল্ডার ইকবাল বর্তমান জাতীয় দলের ম্যানেজার এবং উইংব্যাক হাসান আল মামুন সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করছেন স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে।

জুনে এশিয়ান কাপের বাছাই রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ বাহারাইন, মালয়েশিয়া এবং তুর্কমিনিস্তান। সেই টার্গেট করে জাতীয় দল গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তারই অংশ হিসেবে ফিফার প্রীতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ মালদ্বীপের বিপক্ষে খেলে ২-০ গোলে হেরে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। এখন ফিফার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে খেলতে সিলেটে অবস্হান করছে। একুশ বছর পর দেখা হতে যাচ্ছে ফুটবলের দুই দেশের মধ্যে। জুনে মঙ্গোলিয়াও এশিয়ান কাপের বাছাই খেলবে। তবে মঙ্গোলিয়া গত বছর কিরগিজস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল। জাপানের কাছে ১৪-০ গোলে হারের পর মঙ্গোলিয়া স্লোভাকিয়ান কোচকে বাদ দিয়ে জাপান থেকে কোচ নিয়োগ দেয়। জাপানি কোচের তালিমে কাতার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ব্রুনাইকে হারায় মঙ্গোলিয়া। সেই কোচের তালিমেই বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে কাল। বাংলাদেশ ফিফার সদস্য হওয়ার ২২ বছর পর ফিফার সদস্য পাওয়ায় মঙ্গোলিয়ান এখন ফিফার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে। ব্যবধান দুই ধাপ হলেও সিলেটের ভিন্ন পরিবেশে বাংলাদেশ ফেভারিট।

ইউক্রেন যুদ্ধ আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে পশ্চিমা দেশগুলোকে

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন এক মাস পেরিয়েছে। এই সময়ে রুশ সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ফেলেছে ইউক্রেনীয় সেনারা। রাশিয়া আপাতদৃষ্টিতে ইউক্রেন যুদ্ধে এখনো বড় ধরনের কোনো সাফল্য পায়নি। কিন্তু মানবিক সংকট বেড়ে চলেছে। ৩৭ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট।

রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক মস্কোর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ অবস্হায় ইউক্রেনকে আরো সমন্বিতভাবে সহায়তা ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিরাপত্তা ইস্যুতে গত বৃহস্পতিবার ইইউ, জি-সেভেন ও ন্যাটোর জরুরি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবারের সম্মেলনগুলোতে আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আরো কড়া শাস্তি, ইউক্রেনের জন্য আরও সহায়তা এবং ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা আরো জোরালো করার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর স্হায়ী সামরিক তত্পরতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত রাশিয়ার আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়ায় চারটি নতুন ‘ব্যাটল গ্রুপ’ মোতায়েনের ঘোষণা করেছেন।

তবে ইউক্রেনের দাবি মেনে সে দেশের উপর ‘নো ফ্লাই জোন’ কার্যকর করতে এখনো রাজি নয় ন্যাটো। কারণ সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘাত এখনো এড়িয়ে চলতে চায় ন্যাটো। তবে বাইডেনের আশঙ্কা, রাশিয়া রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারে। এমনকি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না মস্কো। ফলে ন্যাটোকে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।

রাশিয়ার উপর আরো নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের কিছুটা অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গ্যাস ও পেট্রোলিয়ামের মতো জ্বালানি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করার প্রশ্নে জার্মানির মতো দেশ এখনো এমন চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্ত্তত নয়। রাতারাতি এমন সিদ্ধান্ত নিলে জার্মানি তথা ইউরোপের অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা ওলাফ শলত্সের সরকারের। ধাপে ধাপে সেই দিশায় অগ্রসর হতে চায় জার্মানি।

যদিও ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো পুতিনের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই উত্স বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। একমাত্র এভাবেই রাশিয়ার অর্থনীতিকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে পুতিনের ক্ষমতা খর্ব করা সম্ভব বলে তারা মনে করে। স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও গ্রিস জ্বালানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপীয় স্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে।

এ অবস্হায় ইউরোপকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উপস্হিতিতে ব্রাসেলসে হওয়া এক চুক্তির আওতায় এ বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘন মিটার এলএনজি বা তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহ করবে। বোঝাপড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাইডেন বলেন, এ বছর ইউরোপে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র সব রকম পদক্ষেপ নেবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করেছে ইউরোপ। এ বছরের মধ্যে রুশ গ্যাসের ওপর নির্ভরতা দুই-তৃতীয়াংশ কমানোর টার্গেট নিয়েছে ইইউ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি-সেভেন ও ন্যাটোর মতো রাষ্ট্রজোটের প্রাসঙ্গিকতা ও ঐক্যের অভাব নিয়ে কিছুদিন আগে পর্যন্তও নানা সংশয় দেখা যেত, কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর নিন্দুকেরা পিছু হঠতে বাধ্য হচ্ছে। তিন রাষ্ট্রজোটই অভূতপূর্ব ঐক্য দেখিয়ে দ্রুত একের পর এক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং আরো খারাপ পরিস্হিতির আশঙ্কায় প্রস্ত্ততি নিতে শুরু করেছে। অ্যটলান্টিকের দুই প্রান্তের মধ্যে এই ঐক্য সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের অনিশ্চয়তা দূর করতে পেরেছে। ন্যাটোর সম্মেলনের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ন্যাটো ও ইউরোপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

রাসমুসেন গ্লোবালের পলিসি ডিরেক্টর হ্যারি নেডেলকু জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, তিন শীর্ষ সম্মেলনের পর নতুন এসব প্রস্তাব বলছে, পশ্চিমা ঐক্য কাজ করছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে তেল-গ্যাস দিতে সম্মত হয়েছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক ধরে রাখার রাজনৈতিক ইঙ্গিত।

নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি ইউক্রেন: জেলেনস্কি

রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেন একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গ্রহণের আলোচনার জন্য প্রস্তত বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, তবে এটি তৃতীয় পক্ষের দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি গণভোটের আয়োজন করতে হবে। খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন রাশিয়ান মিডিয়া নাওকে দীর্ঘ ৯০ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, নিরাপত্তা এবং নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তা, আমাদের রাষ্ট্রের অ-পরমাণু অবস্থা। তাহলেই আমরা এটার জন্য যেতে রাজি আছি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রধান লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করা। একই সঙ্গে রাশিয়ান বাহিনীকে তাদের অবস্থান থেকে সরে যেতে হবে।

এদিকে, তুরস্কে চলমান শান্তি আলোচনায় তিনি আরও বলেছেন, ইউক্রেন ন্যাটোতে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকেও বিরত থাকবে। যদি রাশিয়া তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেং এবং কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাহলেই এটা সম্ভব।

রাজনৈতিক আশ্রয়ে চলছে খালবিল ও খাসজমি ভরাট

বিদেশে অর্থ পাচার আর অন্যের জমি দখলের রেকর্ড করে দেশ জুড়ে আলোচিত হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। তবে এরকম ‘বরকত-রুবেল’ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও রয়েছেন। যেমন আছে রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জেও। ‘ফরিদপুর স্টাইলে’ কেরানগীগঞ্জের দুই সহোদর ছলিমউল্যাহ ও হাবিবউল্যাহ কৃষিজমি, জলাশয় আর খাল-বিল-নালা দখল করেই চলেছেন। শুধু রাতারাতি খাল আর জলাশয় দখলেই তারা দক্ষ নন, এই দুই ভাইয়ের চোখ থাকে অন্যের জমিতেও।

ছলিমউল্যাহ ও হাবিবউল্যাহর মালিকানাধীন ‘মধু সিটি’র বিরুদ্ধে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী, খাল ও সরকারি খাস জমি বেদখলেরও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) লেখা এক চিঠিতে বলা হয়, ‘মধুসিটি রিভারভিউ হাউজিংয়ের দখলকৃত বুড়িগঙ্গা শাখা নদীর, তিনটি খাল ও চলাচলের তিনটি রাস্তাসহ মোট ১৮ একর জমি উদ্ধার ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।’ এ ব্যাপারে মধুসিটির অন্যতম মালিক সলিমউল্যাহ ইত্তেফাককে বলেছিলেন, ‘স্থানীয় একটি চক্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছিল। পরে ডিসির কার্যালয় সবকিছু মেপে কোনো অনিয়ম পায়নি।’ ছলিমউল্যাহ ও হাবিবউল্যাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মধুসিটি কেরানীগঞ্জে পাঁচটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তুলেছে। এসব প্রকল্প করতে গিয়ে শুধু জলাশয়, খাল-বিল-নালা ও সরকারি খাস জমিই দখল করেননি, মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি এমনকি বসতবাড়িও জোর করে দখল করছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়ারি (জিডি) করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগীরা বহুবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। বরং যারাই প্রতিবাদ করেছেন তারা উলটো মারধর ও মামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মধুসিটি সব অপকর্মই নির্বিঘ্নে করছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের আশ্রয়-প্রশয়ে।

মধুসিটির হাত থেকে পৈতৃক বাড়ি ও জমিজমা রক্ষা করতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় শত শত পরিবার। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে উলটো চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির মামলার আসামি হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা, কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুক এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা।

একসময় খামারবাড়িতে পরিচালক হিসেবে চাকরি করা কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা মধুসিটির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম, রায় আমাদের পক্ষে আসে। মধুসিটি কৃষিজমি, তিন ফসলি ও চার ফসলি জমি দখল করে রাতের অন্ধকারে বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলছে। আমাদের রাজনৈতিক শক্তি নেই। পৈতৃক জমি ছেড়ে না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির মিথ্যা অভিযোগে তিন/চারটি মামলা দেওয়া হয়েছে। আট জন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারও ভুক্তভোগী। মধুসিটি জোর করে সম্পত্তি নিয়ে যেতে চায়। থানায় অভিযোগ করতে গেলেও মামলা নেয় না। স্থানীয় প্রশাসনও নীরব থাকে।’

জানা গেছে, স্থানীয়দের জমি দখল, বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ, মাদকের ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে গড়ে তোলা হয়েছে ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’। ‘কাঁঠালতলী গ্রীন সিটি’র অফিস ভেঙে কোম্পানির জমি বেদখল করার চেষ্টাও করে কথিত এই মোটরসাইকেল বাহিনীর সদস্যরা।

কাঁঠালতলী গ্রীন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। একটি জমিতে ভাড়া দিয়ে সাইনোবোর্ড লাগিয়ে পরে আশপাশের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল বাহিনীর পাহারায় অন্যের জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। প্রশাসনেরও সহযোগিতা পাই না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’ চক্রের সদস্যরা প্রভাবশালীদের কাছ থেকেই পেয়েছেন এসব মোটরসাইকেল। ‘কাজ তুলে দেওয়া’র যোগ্যতা অনুযায়ী চক্রের দুই শতাধিক সদস্য মাসে ‘সম্মানি’ পান সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই চক্রের ভয়ে নিজেদের জমিজমা ছেড়ে স্থানীয়দের অনেকে এলাকা ত্যাগ করে মাসের পর মাস ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের ‘অনুমতি’ ছাড়া এই এলাকায় কেউ নিজেদের জমিতেও স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন না। ‘অনুমতি’ কিংবা ‘বোঝাপড়া’ ছাড়া কেউ এলাকায় কোনো প্রকল্প বা স্থাপনা করতে গেলে ১০ মিনিটের মধ্যেই জড়ো হয়ে যায় ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’। শুরু করে মারধর, ভাঙচুর ও উচ্ছেদ। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সিদ্দিকের অভিযোগ, এই মোটরসাইকেল বাহিনীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণে তিনি বারবার হামলার শিকার হয়েছেন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর, কলাটিয়া, রোহিতপুর ও শাক্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি দখল করে আবাসন প্রকল্প করছে মধুসিটি। কোম্পানিটি বিগত ১০-১৫ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকদের কৃষিজমি, পৈতৃক সম্পত্তি ও জলাশয় ভরাট করে প্রকল্প করছে। বালুরচর ও মধ্যেরচর মিলিয়ে বানানো হয়েছে মধুসিটি রিভারভিউ। এমনটি হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও জমির প্রকৃতি বদলে ফেলা হচ্ছে। এতে এলাকার দশ শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিজমি ধ্বংস হলেও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে দুই ভাই ছলিমউল্যা ও হাবিবউল্যাহর। দুই ভাই এলাকায় নিজেদের বসবাসের জন্য গড়ে তুলেছেন দুটি দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ।

জানা গেছে, মধুসিটির এসব কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রশ্রয় রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতা। কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম এবং দুই যুগ্ম-আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন বিপ্লব ও শফিউল আজম বারকুর সখ্য রয়েছে এই কোম্পানির সঙ্গে। বারকু ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘মধুসিটি একবার ঈদের আগে তাদেরকে ২০/২২ লাখ টাকা দিয়েছে। সেই টাকা তারা পার্টি অফিস নির্মাণে ব্যয় না করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ গরিব অনেককে অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। ’

বারকু ইত্তেফাককে আরও বলেছেন, ‘মধুসিটি আগে অনেকের জায়গা দখল করেছে। এখন তাদেরকে আমরা বলে দিয়েছি—নিজেদের জায়গা ছাড়া অন্য কারও জায়গা তোমরা ভরাট করবে না’। এক প্রশ্নের জবাবে বারকু বলেন, ‘মধুসিটিসহ অনেকেই মাটি ভরাট করে। যারাই বালু দিয়ে মাটি ভরাট করে তাদের সঙ্গে কমবেশি ইয়ে… থাকে, পার্টি চালাতে তো খরচ লাগে…।’ আর থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সেলিম বলেন, ‘বালু ভরাট থেকে কমিশন নেওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে, এটা নতুন কিছু নয়’।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, ‘মধুসিটি তিন ফসলি ও চার ফসলি কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করে ফসল ধ্বংস করে দিচ্ছে। হাইকোর্টে রিট করলেও সেটিও তারা মানছে না। প্রতিবাদ করলে রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী বাহিনী এসে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। আমরা অসহায়।’

এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মধুসিটির মালিক ছলিমউল্যাহকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইলে পরিচয় দিয়ে বার্তা পাঠানোর পর তিনি তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সাব্বিরকে দিয়ে ফোন করান। সাব্বির ইত্তেফাককে বলেন, ‘সব অভিযোগ সত্য নয়। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলা হচ্ছে, আমরা কোনো মামলা করিনি।’

শিবচরে কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় কুতুবপুরের সাহেব বাজারের একটি দোকান থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমন চৌকিদারের (১৬) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তি কুতুবপুর এলাকার আলেক চৌকিদারের ছেলে সুমন চৌকিদার (১৬)। তিনি সাহেববাজারের দুলাল বেপারীর ইলেকট্রনিক্সের দোকানের কর্মচারি ছিল।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ছেলেটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি নিহত সুমনের সঙ্গে একটি মেয়ের সম্পর্ক ছিল। যা নিয়ে বাবা একটু শাসন করেছিল। এরই জেরে বাবার ওপর অভিমান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছি এবং সোমবার সকালে নিহতের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ।’

বিএনপির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মানুষ হরতাল, জ্বালাও পোড়াও, বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। জনগণ শান্তিতে আছে, শান্তিতে থাকতে চায়। বিএনপির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা প্রতিহত করা হবে। দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সচেষ্ট রয়েছে।

রবিবার (২৭ মার্চ) রাতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলন মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যতদিন শেখ হাসিনা থাকবেন, ততদিন বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে ভূমিকা রাখছে।

ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে আসুন : বিএনপির প্রতি ওবায়দুল কাদেরষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতন্ত্রের পথে আসুন : বিএনপির প্রতি ওবায়দুল কাদের
মিলন মেলার উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। প্রধান বক্তা ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. জামাল হোসেন, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামসুল হক প্রমুখ।