শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 377

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ: মির্জা ফখরুল

সরকারের ব্যর্থতার কারণে রমজানেও দেশের মানুষ স্বস্তিতে দিন কাটাতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার প্রথম রমজানে এতিম ও উলামা-মাশায়েখদের সম্মানে এক ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মাহে রমজানের মধ্যেও আমরা শান্তিতে স্বস্তিতে দিন কাটাতে পারছি না। আমাদের প্রত্যেকটি জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। এলপিজি গ্যাসের দামও টানা বাড়িয়ে চলেছে। তারা বাজার ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে হত্যা করে আজকে দেশে একটা ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছে সরকার।

ফেব্রুয়ারি, মার্চে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পর এপ্রিল মাসেও দাম বৃদ্ধির নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলে সরকার টানা তিন মাস এলপিজির দাম বাড়াল।

রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে (রোববার) এখানে অনেক মেহমান আসতে পারেননি, আলেম-উলামা, মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরা আসতে পারেননি। কারণটা কী? ট্রাফিক জ্যাম। এত ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম যে, কেউ এসে পৌঁছাতে পারেননি।

ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে বিএনপি ‘এতিম ও উলামা-মাশায়েখদের সম্মানে এই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইফতারের ঠিক ১৫ মিনিট আগে অর্ধেক অতিথি অনুষ্ঠানে এসে পৌঁছতে পেরেছেন। বিএনপি মহাসচিব প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকে পরে পথ থেকে মোটরসাইকেলে অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও ইফতার শুরুর সময়েই অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান। তিনি বলেন, প্রচণ্ড ট্রাফিক জ্যামে নিজের গাড়ি রাস্তায় রেখে পায়ে হেটে আসতে হয়েছে। তেজগাঁও মহিলা এতিম খানা, শান্তিনগর এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এবং ফার্মগেইট মাদ্রাসা এতিম শিক্ষার্থীদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ইফতার শুরুর প্রায় ৫ মিনিট পর অনুষ্ঠান স্থলে এসে পৌঁছায়। উলামা-মাশায়েখদের মধ্যে বাড্ডা জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোশাররফ হোসেন, স্পিচ অব ইসলামের প্রেসিডেন্ট মাওলানা রেজাওয়ানুর রহমান খাঁন, মোহাম্মদপুর রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মহিউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদপুর বায়তুল ফজল সিনিয়র মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা গোলাম মাওলা মূল মঞ্চে ছিলেন।

ইফতারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুল কাইয়ুম, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক ও সদস্য সচিব মাওলানা নজরুল ইসলাম তালুকদার উপস্থিত ছিলেন। ইফতার শুরুর আগে বিভিন্ন টেবিল ঘুরে আগতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব।

করোনার কারণে দুই বছর কোনো ইফতার অনুষ্ঠান করতে পারেনি তারা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রথম রোজার ইফতার এতিমদের সঙ্গে করতেন।

ইফতারের সময়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিবছর আমরা ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় মানুষ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইফতার করেছি। দুর্ভাগ্য আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তিনি আজকে অসুস্থ অবস্থায় গৃহবন্দি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের কাছে থেকে ৮ হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা এই মাহে রমজানে আশা করেছিলাম, সব জিনিসপত্রের দাম কমবে। না কমলে অন্তত বাড়বে না। দুর্ভাগ্যের কথা যে, প্রত্যেকটি জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেটা নিয়ে আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, আমরা দলের পক্ষ থেকে জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করেছি, বিক্ষোভ করেছি।

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান হেফাজত মহাসচিবের

পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাসে জুলুম, দুর্নীতি, পাপাচার ও ভোগবিলাস পরিহার করে কুরআন সুন্নাহর নির্দেশ পালনের প্রতি আত্মনিয়োগ করুন।

হেফাজত মহাসচিব বলেন, বরকতপূর্ণ এ মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের অতি মুনাফার জন্য সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের অপশক্তিকে আইনের আওতায় এনে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে তিনি রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে মালিকদের আহ্বান জানান।

সব ধরনের অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড, জুলুম ও অপসংস্কৃতি পরিহার করে ইবাদতের প্রতি অগ্রসর হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান সাজিদুর রহমান।

হেফাজত মহাসচিব আরও বলেন, রমজান মাস প্রতিটি মুসলিমের জন্য নিজের পরকালের মুক্তি এবং দুনিয়ার জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। তাই বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার পাঠ করে নিজেকে মুমিন হিসেবে গড়ে তুলুন।

গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের জরুরি মেরামতের কারণে কিছু কিছু কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। এজন্য কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

রোববার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহে ঘাটতিজনিত কারণে কিছু কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

এ অসুবিধার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

জানা গেছে, বিবিয়ানার ছয়টি কূপ থেকে শনিবার রাতে গ্যাস উত্তোলনের সময় বালি উঠতে শুরু করে। এ কারণে বন্ধ করে দিতে হয় উৎপাদন। এতে রাতে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।

এদিকে রমজানের প্রথম দিনই রাজধানীর মোহম্মদপুর, শেখেরটেক, রায়েরবাজার, ধানমন্ডি, শংকর, কাঁঠালবাগান, মুধুবাজার, কলাবাগান, রামপুরা, ওয়ারী, মগবাজার, আরামবাগ, ফকিরাপুল, বনশ্রী, গোপীবাগ, মিরপুর, ইস্কাটন, মানিকদি, গোড়ান, পুরান ঢাকাসহ আরও কিছু এলাকায় গ্যাস ছিল না। কোথাও গ্যাসের চাপ এত কম ছিল যে, পানিও গরম করা যাচ্ছিল না।

দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বিবিয়ানার ছয়টি কূপ বন্ধ। যার প্রভাব পড়েছে ঢাকায়। সংকট কাটতে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় লাগবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান বলেন, ‘হঠাৎ বিবিয়ানায় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। এ কারণে রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় গ্যাসের সমস্যা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিকাল (রোববার) নাগাদ একটি কূপ মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। আজকের মধ্যে আরও তিনটি কূপ উৎপাদনে আসবে বলে আশা করছি। এরপর আরও একটি কূপ চালুর কথা। তবে একটি কূপ মেরামত করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে শেভরন। ফলে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো ঘাটতি থেকে যাবে। ৮ এপ্রিল আমাদের একটি এলএনজির কার্গো দেশে পৌঁছাবে। এরপর ১০ এপ্রিল নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।

ইয়াবা-হেরোইনসহ ২০ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও কেনাবেচায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

রোববার ভোর ৬টা থেকে সোমবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮৬৩ পিস ইয়াবা বড়ি, ১১০ পুরিয়া হেরোইন ও ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৬টি মামলা করা হয়েছে।

টেলিভিশনে রমজানের বিশেষ অনুষ্ঠান

৩ এপ্রিল শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম সাধনার এই মাসজুড়ে টিভির পর্দায় বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার হবে। বাংলাভিশনে ১৪তম বারের মতো শুরু হয়েছে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘পবিত্র কুরআনের আলো’। ১ রমজান থেকে মাসব্যাপী প্রতিদিন বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন প্রফেসর মো. মোখতার আহমাদ।

সারা দেশ থেকে হাফেজদের বাছাই করে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সেরা ৩ জন নির্বাচিত হবেন। এছাড়া একই চ্যানেলে ইসলামি বিভিন্ন বিষয়, প্রশ্ন-উত্তর ও পরামর্শ বিষয়ক সরাসরি অনুষ্ঠান ‘রমজান ও আমাদের জীবন’মাসব্যাপী প্রতিদিন প্রচার করা হবে বাংলাভিশনে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুর রশীদের উপস্থাপনায় প্রতিদিন বিকাল ৪টা ৫ মিনিটে প্রচার হবে। এটি প্রযোজনা করেছেন সালাম পাঠান রাসেল। চ্যানেল আইতেও রয়েছে বিশেষ আয়োজন। এই টিভিতে প্রতিদিন বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে প্রচার হবে ‘রমজানুল মোবারক’ ও কাফেলা’ নামের অনুষ্ঠান

এছাড়া সেহরিপূর্ব অনৃষ্ঠান ‘খতমে কুরআন’ প্রচার হবে প্রতিদিন। এদিকে রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসীর উপস্থাপনা ও পরিচালনায় প্রতিদিন প্রচার হবে ইফতারপূর্ব অনুষ্ঠান ‘মনোহর ইফতার’।

বাংলাদেশে এই প্রথম পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বৈশাখী টেলিভিশনে পহেলা রমজান থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ইসলামিক মেগা রিয়েলিটি শো ‘সেরাদের সেরা’ অদম্য প্রতিভার সন্ধানে-২০২২। বৈশাখী টেলিভিশনে প্রচার হবে রমজান মাসজুড়ে বিকাল ৫টা ১০ মিনিট থেকে ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত। অনুষ্ঠানটি পরিচালানা ও প্রযোজনা করছেন ন্যাশনাল মিডিয়া সেন্টারের চেয়ারম্যান এইচএম বরকতুল্লাহ, উপস্থাপনায় থাকবেন মুফতি মুহাম্মদ হেদায়েতুল্লাহ।

রমজান মাসে কী করা যাবে, কী যাবে না

রমজান সংযমের মাস। মহান আল্লাহতায়ালা এ মাসে অশেষ ক্ষমা ও পুরস্কারপ্রাপ্তির মহিমান্বিত মুহূর্তগুলো রেখেছেন।

মুসলিম জাতির জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ হতে এ মাসে রয়েছে অত্যন্ত কল্যাণ ও বরকত। আমি,আপনি ভাগ্যবান জীবনে আরও একটি রমজান পেয়েছি। তাই রমজানকে স্মরণীয় করে রাখতে কুরআন ও হাদিসের আলোকে এ মাসের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

রমজান মাসে যা করব

১.সাওম পালন: ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে অন্যতম একটি ভিত্তি হলো সাত্তম। প্রতিবছর রমজান মাসে একজন সুস্থ সক্ষম মানুষের জন্য সাওম পালন করা ফরজ।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকী হতে পারো।’(সুরা বাকারা: ১৮৩)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা রমজানের চাঁদ দেখবে তখন রোজা রাখবে। যখন শাওয়ালের চাঁদ দেখবে তখন থেকে রোজা বন্ধ করবে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে ত্রিশ দিন রোজা রাখবে।’ (বুখারি: ১৯০৯)

২.তারাবির নামাজ আদায়: রমজান মাস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ একটি মাস। এজন্য এ মাসে দিন-রাত উভয়ই ইবাদতে মগ্ন থাকতে হবে। শরীয়ত মতে, দিনে সাত্তম পালন করা ফরজ আর রাতে তারাবির সালাত আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাসের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে তারাবি আদায় করে তার পূর্ববর্তী গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি: ২০০৯)

৩. সেহরি খাওয়া: সুবহে সাদেকের কাছাকাছি সময়ে রোজ পালনের প্রস্তুতি হিসেবে সেহরি খাওয়া মুস্তাহাব। সেহরিতে রয়েছে অনেক বরকত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেহরি খাও। কেননা সেহরিতে রয়েছে বরকত। (মুসলিম: ১০৯৫)

৪. ইফতার করা: সারাদিন মহান আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে সাওম পালনের পর সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা সুন্নত। ইফতার খেজুর দ্বারা করা মুস্তাহাব। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে।

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মাগরিবের নামাজ পড়ার আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর তাও না পেলে এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।’ (সুনামে তিরমিজি: ৬৯২)

৫. কুরআন পড়া ও বুঝা: রমজান মাসে আল্লাহতায়ালা মহাগ্রন্থ আল-কুরআন মানবজাতির হেদায়াতের জন্য নাজিল করেছেন। এ কিতাবে রয়েছে হেদায়েতের বাণী।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে রব, আমি তাকে খাদ্য এবং যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছি, অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের ঘুম থেকে বিরত রেখেছি (অর্থাৎ না ঘুমিয়ে সে তেলাওয়াত করেছে) অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাদের উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।’ (মুসনাদে আহমাদ : ৬৬২৬)

৬. তওবা-ইস্তিগফার করা: আল্লাহতায়ালা রমজান মাসে অসংখ্যক জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ এ মাসের প্রতিরাতে অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দান করেন।’ (মুসনাদে আহমাদ : ১৮৭৯৪)

৭. ইতেকাফ করা: রমজানের শেষ দশকে আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য হাজার বছরের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত্রি লাইলাতুল কদর রেখেছেন। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত তিনি এই নিয়ম পালন করেন। ’(বুখারি)

৮. নফল ইবাদত করা: রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব অন্য মাসের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। এজন্য এ মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদত করা উচিত। এ মাসে রোজাদারকে ইফতার করা, দান-সদকা করা, বিশ্ব মুসলিম জাতির দোয়া করা উচিত।

রমজান মাসে যা করব না

১. অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা না বলা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কত রোজা পালনকারী এমন আছে, (রোজা অবস্থায় অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত না থাকার ফলে) ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া রোজা থেকে সে আর কিছু লাভ করতে পারে না। অনুরূপ অনেক রাত জাগরণকারী এমন আছে যে তার রাত্রিজাগরণ থেকে জেগে থাকার কষ্ট ছাড়া আর কিছু পায় না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৯০)

২. মিথ্যা কথা না বলা: মিথ্যাকে সব পাপের জননী বলা হয়। একটি মিথ্যা থেকে শতশত পাপের সূত্রপাত হয়। তাই আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে রোজা রেখেছে অথচ মিথ্যাচার পরিহার করেনি, তার এই কৃত্রিম পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই। (বুখারি: ১৯০৩)

৩. গীবত থেকে বিরত থাকা: গীবত আমল ধ্বংসের নিরব ঘাতক। গীবতের কারণে কখন যে আপনার আমল ধ্বংস হয়ে যাবে তা বুঝতেই পারবেন না। গীবত জিনার চেয়েও জঘন্যতম গুনাহ। তাই গীবত পরিহার উচিত।

মহান আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে মাহে রমজানের অশেষ রহমত, বরকত হাসিল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: ইসলামি লেখক ও শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক সীমানা

বিদেশি পর্যটকদের জন্য উম্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক সীমানা। ১ এপ্রিল শুক্রবার মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (কেএলআইএ) ২২০ জন পর্যটককে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে উন্মুক্ত করলেন দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি।

এ সময় ন্যান্সি বলেন, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পার করার পর আমরা এই মুহূর্তটির জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এটি আমাদের ঈদ উৎসবের মতো।
শুক্রবার আবুধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ইওয়াই ৪১৮ ফ্লাইটি স্থানিয় সময় সকাল সোয় ১০টায় অবতরণ করলে জল কামানের স্যালুট দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং আগত ২২০ জন যাত্রীকে উপহার সামগ্রী দিয়ে স্বাগত জানান পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতুক সেরি ন্যান্সি শুকরি।

এ সময় ন্যান্সি সাংবাদিকদের বলেন, মালয়েশিয়ার সংস্কৃতি ও রীতিনীতি, পর্যটন পণ্য যেমন বিনোদন ও কেনাকাটার স্থানের পাশাপাশি দ্বীপের ছুটির দিনগুলোকে তুলে ধরতে ইফতার (রোজা বিরতি) অনুষ্ঠানের মতো এ বছর বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (ব্যবস্থাপনা) দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেছেন, দেশের ১৮৩টি গেটওয়ের সুবিধাগুলো অটো গেট এবং ম্যানুয়াল কাউন্টারগুলো সক্রিয় করার সাথে ভ্রমণকারীদের আগমনের জন্য প্রস্তুত ছিল।

তিনি বলেন, এমএএইচবির স্বেচ্ছাসেবক এবং টাস্কফোর্স যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে একত্রিত করা হয়েছে, বিশেষ করে দুই সপ্তাহের জন্য মাইসেজাহতেরা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে সহায়তা করার জন্য।

ফ্রান্স-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে দূতাবাসের নান্দনিক আয়োজন

ফ্রান্স বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূ্র্তি ও স্বাধীনতার ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিস। বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিসের পাঁচতারকা মানের প্যাভিলিয়ন রয়্যালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্বের অন্তত ২৫টি দেশের রাষ্ট্রদূত অংশ নেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোর স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম তালহা এবং ফ্রান্সের এশিয়া ডিভিশনের ডিরেক্টর বের্তরোঁ লরতোলারি।

রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, ফ্রান্সের সাথে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার পর শুরুতেই যে কটি দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ফ্রান্স তার অন্যতম।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো গতি পেয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সহায়তা সংস্থা এএফজি’র দ্বিতীয় বৃহত্তম সহোগিতার দেশ এখন বাংলাদেশ। ফ্রান্সের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবধরনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাড়ছে।

ফ্রান্সের এশিয়া ডিভিশনের ডিরেক্টর বের্তরোঁ লরতোলারি দুই দেশের বন্ধুত্বপূ্র্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বলেন- এ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ দিন দিন উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেয় ‘শিরোনামহীন’।

প্রথম সন্তানের হৃদরোগ হলে কি দ্বিতীয়টিরও হয়?

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু ছোটবেলা থেকেই নানান স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। তাদের বিশেষ যত্ন নিতে হয়।

অনেকেরই জানা নেই জন্মগত হৃদরোগ হলেও অনেক শিশু জন্মের সময় স্বাভাবিক থাকে। জন্মের ৩ মাস পর শিশুর গুরুতর হৃদরোগ ধরা পড়তে পারে।

প্রথম সন্তানের জন্মগত হৃদরোগ হলে দ্বিতীয় সন্তানের জন্য কখন পরিকল্পনা করা উচিত, আর দ্বিতীয় শিশুরও জন্মগত হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা কতটুকু এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সভাপতি বাংলাদেশ শিশু চিকিৎসক সমিতি এবং সভাপতি পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সোসাইটি অব বাংলাদেশ অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন।

স্বাভাবিক পদ্ধতিগত শরীরের রক্তচাপ প্রায় ১০০-১২০ mmHg (সিস্টোলিক) এবং ৬০-৮৯ mmHg (ডায়াস্টোলিক)। ফুসফুসের রক্তচাপ সিস্টেমিক চাপের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ। হৃৎপিণ্ডের ডান দিকে গড় SpO2 হলো ৬০-৬৫% এবং বাম দিকে SpO2 হল >৯৫%। সাধারণত, বাম হৃৎপিণ্ডে রক্ত প্রবেশের একটি মাত্র পথ থাকে, তা হলো পালমোনারি সঞ্চালনের মাধ্যমে।

মায়ের গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ফুসফুস অ্যামনিওটিক তরলের মধ্যে একটি ভাসমান বেলুনের মতো থাকে, তাই বিকল্প চ্যানেলগুলো, অর্থাৎ পেটেন্ট ফোরামেন ওভেল এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস পাওয়া যায়। এ চ্যানেলগুলো জন্মের পরে এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। যদি বন্ধ না হয়, তাহলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে কিছু জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে এগুলো খোলা থাকা অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে খোলা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেওয়া হয়।

জন্মগত হৃদরোগের লক্ষণ

বিভিন্ন উপসর্গ দেখে শিশুর মধ্যে হৃদরোগ শনাক্ত করা যায়। তবে, বয়স অনুসার লক্ষণগুলো পরিবর্তিত হয়। কিছু কিছু উপসর্গ থাকলে শিশুর হৃদরোগ আছে তা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। জন্মগত হলেও জন্মের পর বা কিছু সময়ের জন্য জন্মগত হৃদরোগের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। কখনও কখনও সাধারণ জন্মগত হৃদরোগ, যেমন ‘হোল-ইন-হার্ট’ জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে শনাক্ত করা যায় না। সবচেয়ে সাধারণ হৃদরোগ যেমন ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস প্রথম ১-৪ সপ্তাহে লক্ষণহীন থাকতে পারে। এটি ফুসফুসের চাপ এবং রক্তপ্রবাহ পরিপক্কতায় বিলম্বের কারণে ঘটে থাকে। ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ত্রুটি এবং পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস (ভিএসডি এবং পিডিএ) ধীরে ধীরে ফুসফুসের চাপ ও রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং হার্টের আকারও বাড়ায়।

হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র হলে ফুসফুস এবং শরীরের মধ্যে রক্ত প্রবাহের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। হৃৎপিণ্ডে একটি বড় ছিদ্র বর্ধিত শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রচেষ্টার জন্য হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরের বৃদ্ধি ধীর হয়, দুর্বল বা ওজন বৃদ্ধি পায় না। জন্মের ৪-৬ সপ্তাহ পরে লক্ষণগুলো শুরু হয়।

অ্যাট্রিয়াল সেপ্টাল ডিফেক্ট হলো আরেক ধরনের ছিদ্র, যা অনেক বছর ধরে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সুপ্ত থাকতে পারে। স্টেনোসিস বা ভালভের সংকীর্ণতা যে কোনো বয়সে এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরীক্ষা করানো উচিত।

যারা হৃদরোগের জন্য কিছু সূত্র খুঁজে বের করতে ক্লিনিকাল পরীক্ষা ছাড়াও বিশেষ কিছু পরীক্ষা যেমন বুকের এক্স-রে, ইকো এবং ইকোকার্ডিওগ্রাফি উপর ভিত্তি করে CHD-এর উপস্থিতি সনাক্ত করতে পারে। নিম্নলিখিত বিশেষ বিশেষ লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই জন্মগত হৃদরোগের ব্যপারে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

* দুধ খাওয়ার সমস্যা : শিশু যদি কিছু সময় দুধ চুষেই হাপিয়ে যায় এবং দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়, তারপর আবার চুষতে শুরু করে অথবা দুধ খেতে বেশি সময় নেয় (>২০ মিনিট), কিংবা খাওয়ার সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় এবং ঘাম হয়।

* ওজন বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে : শিশুর ওজন বৃদ্ধির হার বয়সের সাথে সামঞ্জস্যপুর্ণ না হলে।

* ঘনঘন ঠান্ডা লাগা বা কাশি হওয়া : শিশুর বারবার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তাহলে আংশকা থাকে তার হার্টের ত্রুটি আছে।

* জ্বর বা কাশি ছাড়া, ক্রমাগত দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস (এমনকি ঘুমের সময়) এবং বুকের পাজর বা খাঁচা দেবে যাওয়া।

* শিশুর হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত চলে (এমনকি ঘুমের সময়ও)। মা-ই এ বিষয়টি সহজে ধরতে পারবেন।

lPrecordial bulge : বুক একপাশে ফুলে যাওয়া। কোন কোন শিশু সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দ্রুত শ্বাস নিতে শুরু করে।

* নীল শিশু (Cyanotic Heart Disease) : শিশুর ঠোঁট, জিহ্বা এবং নখ নীলাভ হবে বা কান্নার সময় নীল হয়ে যায়। জন্মগত হৃদরোগের কারণে ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটের রঙ পরিবর্তন হতে পারে। এটি ঘটে যখন ভালো বা অক্সিজেন সমৃদ্ধ লাল রক্ত অক্সিজেন ক্ষয়প্রাপ্ত নীল রক্তের সাথে মিশে যায় এবং শরীরে সঞ্চালিত হয় যা ত্বক, নখ, জিহ্বা এবং ঠোঁটে সর্বদা বা কমপক্ষে যখন সে কাঁদে তখন স্পষ্ট হয়। এটি একটি গুরুতর জন্মগত হৃদরোগ, যার জন্য প্রাথমিকভাবে ওপেন হার্ট সার্জারির প্রয়োজন হয়। উপরের কয়েকটি লক্ষণ বা সমস্যা পরিলক্ষিত হলে ডাক্তারের পরামর্শে জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহে হার্ট সার্জারি করাতে হবে।

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশুর যত্ন

কিছু কিছু CHD-এর প্রাথমিক বা জরুরী হস্তক্ষেপ ও চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, অন্যথায় শিশুর বেঁচে থাকা ঝুঁকিতে পড়ে বা অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। CHD-এর লক্ষণ ও টাইপের উপর নির্ভর করে কিছু CHD নিয়মিত ফলো-আপের প্রয়োজন হয় এবং প্রথম দিকে প্রতি কয়েক সপ্তাহ পর পর প্রয়োজনীয় ফলো-আপ প্রয়োজন হতে পারে।

জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তবে কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তাই মাতা-পিতাই সঠিক ভাবে যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। যদি সময় মতো CHD নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় তবে বেশিরভাগ CHD নিরাময়যোগ্য। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি এবং কিছু ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তবে, CHD-এর বেশিরভাগই সাধারণ ত্রুটি এবং অনেক ক্ষেত্রে শুধু ওষুধেই নিরাময়যোগ্য।

যেসব শিশু সময়মতো চিকিৎসা পায়, তারা তাদের পূর্ণ সক্ষমতা অনুযায়ী জীবন ধারন করতে পারে। অন্যদিকে, CHD আক্রান্ত প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশু পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে না এবং তাদের একটি সীমাবদ্ধ ও পরিমিত জীবনধারা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসাক্ষেত্রেও তাদের একাধিক পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। নীল শিশুরা ডিহাইড্রেশন এবং রক্তস্বল্পতা সহ্য করতে পারে না, তাই এই নীল শিশুরা কান্না করলে তাদের সমস্যা গুরুতর হয়ে যায়, যাকে স্পেল বলা হয়। যখন তারা দ্রুত শ্বাস নেয় ও আরও নীল হয়ে যায় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। এই শিশুদের ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

CHD আক্রান্ত হলে সময়মতো চিকিৎসা সর্বোত্তম ফলাফল নিয়ে আসে। প্রথম সন্তান যদি CHD-তে আক্রান্ত হলে সেই মা যদি দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হন তাহলে অনাগত শিশুদের মধ্যে ২-৫% এর CHD-তে আক্রান্ত ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় প্রসূতি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো চলা উচিৎ। ১৬ থেকে ১৯ সপ্তাহের মধ্যে ইকোকার্ডিওগ্রাফি করে গর্ভের শিশুর CHD ধরা পড়লে গর্ভপাতের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিংয়েরও সুপারিশ করা হয়।

রাশমিকার সঙ্গে এবার জুটি বাঁধছেন রণবীর

ভারতীয় সিনেমার ক্রাশ এখন দক্ষিণী সিনেমায় ‘পুষ্পা’খ্যাত রাশমিকা মান্দানা। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই বেশ খ্যাতি পেয়েছেন এ অভিনেত্রী। ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার পর রাশমিকাকে নতুন সিনেমায় সই করাতে মরিয়া বলিউডের অনেক প্রযোজক-পরিচালক।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘মিশন মজনু’-এর পর এবার বলিউডের আরেক সিনেমায় অভিনয় করছেন রাশমিকা। বলিউড তারকা রণবীর কাপুরের নায়িকা হতে চলেছেন দক্ষিণী সুন্দরী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘কবির সিং’ খ্যাত পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘অ্যানিমেল’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর। তার সঙ্গেই পর্দায় দেখা যাবে রাশমিকাকে। শনিবার সন্দীপ রেড্ডি নিজেই তার টুইটার অ্যাকাউন্টে এ ঘোষণা দেন। পরে রাশমিকাও টুইটারে ওই পোস্ট শেয়ার করেন। এ ছাড়া নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে এ বিষয়ক পোস্ট দেন রাশমিকা।

২০২৩ সালের ১১ আগস্ট ‘অ্যানিমেল’ সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। রণবীর-রাশমিকা ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনিল কাপুর ও ববি দেওলকে। সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে টি-সিরিজ, ভদ্রাকালি পিকচার্স ও সিনেওয়ানস্টুডিওজ।

‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমায় আল্লু আর্জুনের সঙ্গে অভিনয় দিয়ে তুমুল দর্শকপ্রিয়তা পান তেলেগু অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা। তবে সিনেমা অঙ্গনে জোর গুঞ্জন, দক্ষিণী অভিনেতা বিজয় দেবারাকোন্ডার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন নায়িকা। বিজয়ও এর মধ্যে নাম লিখিয়েছেন বলিউডে। করণ জোহরের প্রযোজনায় ‘লাইগার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।