শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 378

শাহরুখের সঙ্গে নাচার সময়ে পড়ে গিয়ে কাজলের গর্ভপাত!

গানের শুটিংয়ে শাহরুখের সঙ্গে নাচছিলেন অভিনেত্রী কাজল। আর সেই শুটিং সেটে সকলের সামনেই কাজলকে চড় মারেন তার স্বামী অজয় দেবগন।

এ ঘটনার কথা সিনেপ্রেমীদের সামনে ফাঁস করলেন কাজল নিজেই। জানালেন সেই কষ্টময় দিনটির কথা।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালে। বলিউড নির্মাতা করণ জোহরের সুপারহিট সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর শুটিং সেটে।

শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘ইয়ে লড়কা হ্যায় আল্লাহ’ গানের দৃশ্যের শুটিং চলছিল৷ নাচের মহড়া দিতে গিয়ে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান কাজল। সেই মুহূর্তেই খবর পেয়ে সেটে চলে যান অজয়। সকলের সামনে কাজলকে চড় মারেন তিনি।

এটা সবার জানা, বলিউড অভিনেতা অজয় দেবগন বদমেজাজী। তাই বলে অসুস্থ স্ত্রীকে চড় মারবেন?

এর কারণ এক সাক্ষাৎকারে জানান কাজল।

কাজল বলেছিলেন, ‘করনের ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ হিট হয়। কিন্তু সে সময়ে ছবির সাফল্যে একটুও আনন্দ করতে পারিনি। কারণ প্রথম সন্তানকে হারিয়েছি ওই বছর। তার পরে আবারও গর্ভপাত হয়। অজয় এবং আমার জন্য সেই সময়টা খুবই কঠিন ছিল। কিন্তু এখন আমাদের পরিবার সম্পূর্ণ। নায়সা এবং যুগ এসেছে আমাদের জীবনে।’

বলিউড সূত্রে জানা যায়, গর্ভপাতের জন্য কাজলকেই দোষারোপ করেছিলেন অজয়। প্রথমবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরে অজয় কাজলকে অভিনয় করতে বারণ করেন। কিন্তু পর্দার ‘সিমরন’ স্বামীর কথা শোনেননি। এই অবস্থাতেই শুটিং চালিয়ে যান। যে কারণে শুটিংয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেলে ক্ষেপে যান অজয়। শুধু স্ত্রী কাজলই নয়; নির্মাতা করণ জোহরের উপরেও রেগে যান অজয়। তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে দিয়ে নাচ করানোয় ধমক দেন পরিচালককে।

করণ অবশ্য সব রকম সহায়তাই করেছিলেন তখন। কাজলকে দ্রুত মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করান।

তবে এ ঘটনায় অনেক দিন পর্যন্ত অজয়-করনের সম্পর্ক ভাল ছিল না। এর পরে দ্বিতীয় বার গর্ভপাত হয় কাজলের।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বাবরের টানা সেঞ্চুরি, ২০ বছর পর অস্ট্রেলিয়া জয় করল পাকিস্তান

অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন পাকিস্তান দলের অধিনায়ক বাবর আজম। রানের বন্য বইয়ে দিচ্ছেন ঘরের মাঠে।

টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজেও তার ব্যাট হাসছে। একের পর এক সেঞ্চুরি করে চলেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও সেঞ্চুরি করলেন বাবর।

বাবরের সেঞ্চুরির কারণে স্বাগতিকের কাছে পাত্তাই পায়নি অস্ট্রেলিয়া।

৭৩ বল হাতে রেখে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে পাকিস্তান।

এ জয়ের সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজের করে নিল পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচে ৮৮ রানে হেরেছিল পাকিস্তান। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচ জিতল পাকিস্তান। ফলে ২০ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল পাকিস্তান।

সেই সঙ্গে ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগে আরও ১০ পয়েন্ট পেল বাবর আজমের দল।

১২ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এলো তারা পয়েন্ট টেবিলে।

শনিবার লাহোরে তৃতীয় দিবারাত্রির ওডিআইতে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬ রানেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছিল তিন উইকেট।

শাহিন শাহ আফ্রিদির করা ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ড হন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ট্রাভিস হেড। দ্বিতীয় ওভারে আগের ম্যাচের মতো ডাক মেরে বিদায় নেন অসি অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চ। তাকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন হারিস রউফ।

ষষ্ঠ ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান হারিসই। ৭ রানে ব্যাট করতে থাকা লাবুশেন ইফতিখার আহমেদের ক্যাচে পরিণত হন।

এমন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন বেন ম্যাকডারমট ও অ্যালেক্স ক্যারি। বেন ৩৬ রানে ফিরে গেলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ক্যারি। তার ৬১ বলে ৫৬ রানের ইনিংসই দলের সর্বোচ্চ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে শন অ্যাবটের ব্যাট থেকে। মাত্র ১ রানের জন্য তাকে হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত করেন হারিস।

এ ছাড়া ক্যামেরন গ্রিন ৩৪ রান করলে ৪১.৫ ওভারে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার ২ উইকেট।

বাবর আজম ও ইমাম-উল-হকের ১৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি সিরিজ জয়ে সহায়তা করে পাকিস্তানকে।

২১১ রানের ছোট লক্ষ্যের তাড়ায় ব্যাট হাতে নেমে ১২ বলে ১৭ রান করে আউট হন পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামান।

এরপর বাবর-ইমামের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১২ ওভারের বেশি হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

১১৫ বলে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন বাবর। ১২টি বাউন্ডারির মার ছিল তার এই ইনিংসে।

ইমামের ব্যাট থেকে আসে ১০০ বলে অপরাজিত ৮৯ রান। ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা হয়েছেন বাবর আজম।

বিশ্বকাপ ফাইনালে রানের পাহাড় গড়ল অস্ট্রেলিয়া

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে চলছে নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ।

শিরোপার লড়াইয়ে আগে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ইংল্যান্ডের বোলারদের তুলোধোনা করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫৬ রান করেছে অসি মেয়েরা।

এতো বড় সংগ্রহে অন্যতম অবদান অসি ওপেনার ও উইকেটরক্ষক অ্যালিশা হ্যালির। ১৩৮ বলে ২৬ বাউন্ডারিতে ১৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।

ওপর ওপেনার র্যাচেল হাইনেস ও ওয়ানডাউনে নামা বেথ মনিও কম যাননি। র্যাচেল করেন ৯৩ বলে ৬৮ রান। ৪৭ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন বেথ মনি।

এ তিন ব্যাটার সাজঘরে ফিরে গেলে অবশ্য বাকি ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। তারা শুধু আসছেন আর গেছেন। তবে যা করে দিয়ে গেছেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার।

এ তিনজনের ব্যাট থেকেই এসেছে ৩১৮ রান। পরের ৩৮ রান করতেই ২ উইকেটে পড়ে যায়।

ইংল্যান্ডের হয়ে ১০ ওভারে ৪৬ রানের খরচায় ৩ উইকেট শিকার করেছেন অ্যানিয়া শ্রুবসোল। ১০ ওভারে ৭১ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছে সোফি একলেস্টন।

৩৫৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট হাতে নেমেছে ইংল্যান্ড।

সিদ্ধিরগঞ্জে শিল্প পুলিশের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শিল্প পুলিশ-৪ এর পুলিশ সুপারের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেড এলাকায় শনিবার এ নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাহাবুবর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। পরে অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাহবুবুর রহমান নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিক, মালিকের প্রতিনিধি, শ্রমিক প্রতিনিধির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আহসান কবির, বিকেএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ’র নেতৃবৃন্দরা।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন র্যাব ১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা, নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, শিল্প পুলিশ-৪, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদ নাসের জনিসহ সহকারী পুলিশ সুপার, পুলিশ পরিদর্শক ও অন্য কর্মকর্তারা।

বলেশ্বর নদে নবজাতকের লাশ

বলেশ্বর নদের বিহঙ্গ দ্বীপসংলগ্ন রুহিতা এলাকায় এক নবজাতকের লাশ দেখতে পান জেলেরা। পরে জেলেরা ওই নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে।

রোববার সকালে বলেশ্বর নদের বরগুনা পাথরঘাটা এলাকা পাড়ে দেখতে পেয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহিম সাওজাল, ইউসুফ মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে মাছ ধরার জন্য বলেশ্বর নদের দিকে যাওয়ার সময় শিশুর মতো ভাসতে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর ভাটায় পাড়ে আটকে গেলে কাছাকাছি গিয়ে এক মেয়ে নবজাতকের মরদেহ বলে নিশ্চিত হয়।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ওসি মো.আবুল বাশার বলেন, এ রকমের খবর শুনেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে কাছাকাছি অথবা দূর থেকে ট্রলারে করে নিয়ে এখানে কেউ ফেলে রেখে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে সেই ‘সুবিধা’ নিতে চান ইমরান খান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোট হবে আজ। এ নিয়ে দেশটিতে প্রবল উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার এক বক্তৃতায় ইমরান খান তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টাকে ‘রিজিম চেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইমরান। এই ভাষণে চিঠির বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি ‘মুখ ফসকে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাম বলে দেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তা তিনি শুধরে নেন। পরে বলেন, একটি বিদেশি রাষ্ট্র হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, যা পাকিস্তানবিরোধী।

ভাষণে ইমরান আরও বলেন, তিনি কোনোভাবেই পদত্যাগ করবেন না। চলমান ষড়যন্ত্রকে কখনও সফল হতে দেবেন না।

এছাড়া ইসলামাবাদের মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানানোর আগে চিঠির বিষয়টি পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব ও মন্ত্রিপরিষদকে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমকে অভিযুক্ত করে ইমরান খান জনগণকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিয়ে যেতে চাইছেন৷
ভারতে পাকিস্তানের হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, পররাষ্ট্রনীতিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা বিপজ্জনক হতে পারে৷ এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, অনাস্থা ভোটের ফল যাই হোক না কেন পাকিস্তান আগাম নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে এবং ইমরান খান মনে করছেন মার্কিনবিরোধী বক্তব্য দিলে আগাম নির্বাচন হলেও সেখানে জিতে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোশাররফ জায়দি বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই পরবর্তী নির্বাচনের জন্য পশ্চিমাবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়া হামলা শুরু করে। এ হামলার মধ্যেই মস্কো সফর করেছিলেন ইমরান। এ প্রসঙ্গে ভাষণে ইমরান বলেন, ‘…তারা কেন হুমকি দিচ্ছে, তার কোনো কারণ দেখাচ্ছে না। তারা শুধু বলছে, ইমরান খান রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তারা এই একটা বিষয়কে ইস্যু করে হুমকি দিচ্ছে। অথচ এই সিদ্ধান্ত আমি একা নিইনি। এ বিষয়ে তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল।’

রাশিয়া যেদিন ইউক্রেনে হামলা চালায় সেদিন মস্কো সফর করেন ইমরান খান৷ এরপর থেকে তিনি তার সমর্থকদের সামনে নিজেকে ‘পশ্চিম-বিরোধী’ নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

ওয়াশিংটনের উড্রো উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, খান সম্ভবত সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম-বিরোধী কঠোর সমালোচনা করে বেশ কিছু দেশকে অসন্তুষ্ট করেছেন৷ আমার মনে হয় এমন বার্তা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকেও অসন্তুষ্ট করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেসামরিক নেতৃত্বের চেয়ে জেনারেলদের বেশি ইতিবাচক মনে হয়েছে।

কুগেলম্যান মনে করছেন, ইমরান খান বর্তমানে যে সংকটে পড়েছেন তা থেকে উতরে যেতে সামরিক বাহিনীর সহায়তা আশা করতে পারেন না। কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক ঠিক হবার নয়৷ সামরিক বাহিনীর অন্যরাও ইমরানকে নিয়ে খুশি নয় বলেও জানান কুগেলম্যান।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন। বিরোধী জোটের হাতে রয়েছে ১৯৯টি ভোট। অন্যদিকে ইমরানের পক্ষে আছে ১৪২টি ভোট।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে কোনো সরকার তার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরানের ভাগ্যেও তেমনটা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

তিন গাড়ির সংঘর্ষ, আহত হয়ে হাসপাতালে অভিনেত্রী

গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলিউড আইটেম গার্ল মালাইকা অরোরা।

মুম্বাইয়ের খোপোলির কাছে মহাসড়কে তিনটি গাড়ির সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছেন এ অভিনেত্রী।

ঘটনার পর পর দ্রুত এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অর্জুন কাপুরের প্রেমিকাকে।

খোপোলি পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার সন্ধ্যায় একটি ফ্যাশন ইভেন্ট শেষে মুম্বাই-পুণে মহাসড়ক দিয়ে ফিরছিলেন মালাইকা। ৩৮ কিমি পয়েন্টে তার গাড়ির সঙ্গে আরও দুটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়।

মালাইকার গাড়িটি ছিল দুটি গাড়ির মাঝখানে। তিনটি গাড়িই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আহত হন এ অভিনেত্রী।

হরেশ কলসেকর নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাকি দুটি গাড়ির চালকরা ঘটনার পর পর পালিয়ে গেছেন। গাড়ির নম্বরের ক্লু ধরে তাদের খুঁজছে পুলিশ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মালাইকার আঘাত অতোটা গুরুতর নয়। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

পাঞ্জাবের গভর্নরকে সরিয়ে দিলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের গভর্নর চৌধুরী মোহাম্মদ সারওয়ারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে ইমরান খানের ক্ষমতাসীন সরকার।

তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এ ঘোষণা এল।

ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, ‘পাঞ্জাবের নতুন গভর্নরের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। তার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী পাঞ্জাব অ্যাসেমব্লির ডেপুটি স্পিকার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’

সারওয়ার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন প্রাক্তন সদস্য। তিনি ব্রিটেনে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করে ২০১৩ সালে পাকিস্তানে আসেন। এর পর পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন)-এ যোগ দেন এবং ২০১৩ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। পরে তাকে পাঞ্জাবের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর পর ২০১৫ সালে তিনি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দলে যোগ দেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের সরকার তাকে আবার পাঞ্জাবের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। সেই পদ থেকে অবশেষে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

ব্যাংক খাতে মূল সমস্যা খেলাপি

চতুর্থ প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ছিল শনিবার। এ উপলক্ষ্যে ব্যাংকটির বিভিন্ন অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম আউলিয়া। এ সময় তিনি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়েও আলোকপাত করেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-হামিদ বিশ্বাস

এক দশকে পা দিয়েছে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। এত দিনের অর্জন ও আগামীর লক্ষ্য কি?

গোলাম আউলিয়া : একটি স্বপ্ন নিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক যাত্রা শুরু করে। নয় বছরের পথচলায় অনেক দূর এগিয়েছে। গত চার বছরে ব্যাংকটি প্রান্তিক মানুষের ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। আর্থিক সূচকের পাশাপাশি মানুষের সেবায় সম্পৃক্ত হতে পেরেছি। ২০১৭ সালে আমানত ছিল সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। ঋণ ৪৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এই ব্যাংকে কর্মী সংখ্যা ৬১৭ জন থেকে ১০ গুণ বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার জন। প্রান্তিক মানুষকে সেবা দেওয়া, ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ব্যাংকটি অনেকটাই সফল। আরও বহুদূর যেতে চাই। হতে চাই নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসার স্থল। গ্রামের উন্নয়নে হতে চাই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামীতে গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নই মূল লক্ষ্য।

ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলুন।

গোলাম আউলিয়া : করোনা মহামারির মারাত্মক ছোবল এখনো শেষ হয়নি।

তবে সংক্রমণের হার কমে আসায় সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে। গত দুই বছর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই স্থবির ছিল। তবে সংকটকালে কিছু কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এনআরবিসি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর ফলে ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। ভালো অবস্থানে আছে ব্যাংকের আর্থিক সূচকগুলো। ২০২১ সালের শেষ দিনে ব্যালান্স শিটের আকার দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ব্যাংকের বর্তমানে আমানত ১২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা, ঋণ ১০ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। ব্যাংকের এডি রেশিও ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আশা করছি চূড়ান্ত হিসাবে ভালো মুনাফাও আসবে। বর্তমানে শাখা ও উপশাখা মিলে ব্যাংকের সেবাকেন্দ্র ৭৫০টি। এরমধ্যে পূর্ণাঙ্গ শাখা ৯৩টি। প্রথম ব্যাংক হিসাবে শুরু করা উপশাখাভিত্তিক ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়িয়েছে এনআরবিসি। দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলায় উপশাখা খুলেছে এনআরবিসি ব্যাংক। এছাড়া সরকারের রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এনআরবিসি ব্যাংক বিআরটিএর ফি আদায়ের পাশাপাশি জমি রেজিস্ট্রেশনের ফিও আদায় করছে। বর্তমানে ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিসে উপশাখার ১০৯টি, রেজিস্ট্রেশন অফিসের ফিস কালেকশন বুথ ৩১২টি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক (ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন) কার্যক্রমের সাফল্য দেখিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক। ৫৭৬টি এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। কার্ডধারীদের সেবায় সারা দেশে রয়েছে ৮০টি এটিএম বুথ ও সিআরএম।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?

গোলাম আউলিয়া : ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা প্রান্তিক অঞ্চলে ঘরে ঘরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে অর্থায়ন করছি। যাতে গ্রামে বসে মানুষ আয় নিশ্চিত করতে পারে। প্রান্তিক জনগণের জন্য বিশেষ ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। ক্ষুদ্র ঋণের প্রসারের লক্ষ্যে প্রান্তিক জনগণকে সর্বনিম্ন সুদে ঋণ দেওয়া। রাজশাহী, রংপুর বিভাগের শতভাগ জেলায় এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অন্য বিভাগের জেলাগুলোতেও এই বছরের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সিএসআর কার্যক্রম সম্পর্কে বলুন।

গোলাম আউলিয়া : এনআরবিসি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দেশের নানা দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে ‘মানবিক ব্যাংক’ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। করোনা মহামারিতে সম্মুখসারিতে থাকা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের মাঝে এবং প্রায় অর্ধশতাধিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি। সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যাংকিং সেবার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং কল সেন্টারের (১৬৪১৩) সমন্বয়ে এনআরবিসি হেলথ ডেস্ক গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে নগদ টাকা এবং ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে।

ব্যাংক খাতে কি ধরনের সংস্কার জরুরি?

গোলাম আউলিয়া : ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা খেলাপি ঋণ। কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় ইচ্ছা করেই অনেকে ব্যাংকের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ব্যাংকগুলো চেষ্টা করেও অর্থ আদায় করতে সক্ষম হচ্ছে না। খেলাপি ঋণ কমাতে হলে কঠোর আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করতে হবে। বিদ্যমান আইন সংস্কার করতে হবে। যেন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। বিশ্বের অনেক দেশেই ঋণখেলাপিদের জন্য কঠোর আইন রয়েছে। ব্যাংকের টাকা ফেরত না দিলে তাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের পাসপোর্ট এবং অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যায়, সামাজিকভাবে হেয় করা হয়। আবার পরিস্থিতির কারণে যারা টাকা ফেরত দিতে পারছেন না, তাদের জন্য সঠিক এক্সিট সুবিধা নেই। বিদ্যমান আইন সংস্কার করে এই ধরনের আইন জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করতে হবে। ব্যাংকের আরেক দিক হলো কমপ্লায়েন্স। কমপ্লায়েন্স না হলে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ থাকে। এটি বন্ধ করতে হলে ফিনটেকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যাংক একা প্রযুক্তিনির্ভর হলে হবে না। পুরো রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। এজন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন।

গোলাম আউলিয়া : নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। কয়েকটি ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে গভীর সংকটে পড়েছে। অনেক ব্যাংকের আমানত নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। ইতোমধ্যে চরম আস্থাহীনতায় পড়েছে। এর থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে। টাকা-পয়সা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

কলম্বো বন্দরে কনটেইনার জটের প্রভাব দেশের আমদানি-রপ্তানিতে

শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানির একটা বড় অংশ হয়ে থাকে কলম্বো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর ব্যবহার করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। কলম্বো বন্দরে কনটেইনার পরিবহণে ব্যবহৃত ভারী যানবাহন চলাচল কমে গেছে জ্বালানির অভাবে। এ কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বন্দরে দেখা দিয়েছে কনটেইনার ও জাহজ জট। সেই জটে পড়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য পাঠাতে বাড়তি সময় লাগছে ৪-৫ দিন। একইভাবে রপ্তানিতেও লাগছে বেশি সময়। এ জট দিনদিন বাড়ার কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশের নৌবাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, কলম্বো বন্দরের জট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি সংকটের মুখে পড়বে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আমদানি পণ্য আসতেও হবে বিলম্ব। সবকিছু মিলিয়ে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমদানি-রপ্তানিকারকদের অনেকে চট্টগ্রাম-কলম্বোর বিকল্প রুট খুঁজছেন। এক্ষেত্রে তারা ভারতের বন্দর হয়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পণ্য আনা-নেওয়া করা যায় কি না চিন্তাভাবনা করছেন।

নৌবাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি পণ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং রপ্তানির প্রায় ৪০ শতাংশ হয়ে থাকে কলম্বো বন্দর ব্যবহার করে। চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের বড় কনটেইনার জাহাজ ভিড়তে পারে না। এখান থেকে ফিডার (মাঝারি আকারের) জাহাজে করে কলম্বো, সিঙ্গাপুর, পোর্ট কেলাং ও তানজুম-পেলিপাস বন্দরে কনটেইনার নেওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত মাদার ভেসেলে (বড় আকারের জাহাজ) বোঝাই করে ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোয় পাঠানো হয়। আমদানিও হয় একইভাবে। সিঙ্গাপুর বন্দরের চেয়ে কলম্বো হয়ে পণ্য পরিবহণে সময় তিন-চার দিন কম লাগে। তাই এ রুটটিতে আমদানি-রপ্তানকারক ও শিপিং এজেন্টদের আগ্রহ বেশি। চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য কলম্বোয় পৌঁছাতে এবং খালাসের পর পুনরায় সেখানকার মাদার ভেসেলে লোড করতে সাধারণত ৮-৯ দিন সময় লাগে। কনটেইনার জট সৃষ্টি হওয়ায় বর্তমানে এ কাজে আরও ৪-৫ দিন সময় বেশি লাগছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটে শ্রীলংকার অবস্থা এখন টালমাটাল। দেখা দিয়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। কলম্বো বন্দরে কনটেইনার পরিহবণে ৪০০-৫০০টি লরি (ভারী যান) ব্যবহৃত হতো। এখন জ্বালানির অভাবে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ কারণে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার জমে গেছে। ফিডার ভেসেল থেকে খালাস করে কনটেইনার মাদার ভেসেলে বোঝাই করতে তাই লাগছে অতিরিক্ত সময়।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ যুগান্তরকে বলেন, শ্রীলংকার আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন খাত। করোনাসহ নানা কারণে দেশটি এখন অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে কলম্বো বন্দরে। জ্বালানি সংকটে ওই বন্দরের অর্ধেকসংখ্যক লরি চলছে না। কনটেইনার মুভমেন্ট হচ্ছে কম। এ কারণে বন্দরটিতে এখন দেখা দিয়েছে কনটেইনার জট। এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে যে ফিডার জাহাজগুলো ওই বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করে, সেগুলো লোডিং-আনলোডিংয়ে সময় বেশি লাগছে।

তিনি জানান, শুরুতে তা ২-১ দিনে থাকলেও এখন ৪-৫ দিনে ঠেকেছে। এই বাড়তি সময় জাহাজকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে ইউরোপ, আমেরিকার ক্রেতাদের কাছে যথাসময়ে পণ্য পৌঁছানো যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি একটি চেইনের মতো। এক জায়গায় সংকট দেখা দিলে এর প্রভাব অন্য জায়গায় পড়তে বাধ্য। শিগগিরই অবস্থার উন্নতি হবে-এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। বরং দিনদিন জট বাড়ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে বড় সংকট দেখা দিতে পারে।

সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ আরও জানান, এই মুহূর্তে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটের তেমন একটা বিকল্প নেই। কারণ সিঙ্গাপুর বন্দরেও প্রচুর জাহাজ ও কনটেইনার রয়েছে। বিকল্প হিসাবে আছে ভারতের বন্দর। তবে এখানকার বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা সচরাচর ব্যবহার করেন না। তাই কলম্বো বন্দরের সংকট কেটে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি চালু হওয়া নতুন রুট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই রুটে পর্যাপ্ত জাহাজ চালু হয়নি। তাছাড়া দেশের আমদানি-রপ্তানিকারকরা এখনো রুটটিতে অভ্যন্ত হয়ে উঠেননি। এই রুটের ভাড়া অনেক বেশি। করোনার কারণে জাহাজ ভাড়া প্রায় চার গুণ বেড়ে গেছে। সেই হিসাব করে কেউ কেউ এখন বাড়তি খরচেও রুটটি ব্যবহার করছেন। যদি ভাড়া কমে যায় বা আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তাহলে বেশি ভাড়ায় আমদানি-রপ্তানিকারকরা পণ্য পরিবহণে হয়তো রাজি হবেন না। তাই এই রুট কতটুকু সফল হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।