শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 366

৩ হাফসেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে দক্ষিণ আফ্রিকা

সিরিজ হার এড়াতে জয়ের বিকল্প নেই – এমন সমীকরণে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেই টসে হার মুমিনুল হকের।

এরপর বল হাতেও দুর্দান্ত প্রতাপ দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ।

টানা চারটি অর্ধশত রানের জুটিতে ৫ উইকেট হারিয়ে পৌনে তিনশ’র বেশি রানের লিড পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রথম দিনেই হাফসেঞ্চুরি এসেছে ৩টি। তৃতীয় ব‍্যাটসম‍্যান হিসেবে পঞ্চাশ স্পর্শ করের টেম্বা বাভুমা।

স্পিনসহায়ক উইকেটে দলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠলেন তাইজুল। পাঁচ উইকেটের মধ্যে তিনটিই তার দখলে। দুটি পেয়েছেন পেসার খালেদ।

পোর্ট এলিজাবেথে ব্যাট হাতে নেমে অবশ্য শুরুতেই সাফল্য পেত বাংলাদেশ। মাত্র ৪ রানে ফিরে যেতে পারতেন ওপেনার এরউই।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে খালেদের পেসে পরাস্ত হলে বল এরউইয়ের প্যাডে লাগে। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করেন খালেদ। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া দেননি।

এ সময় রিভিউ নেওয়ার জন্য অধিনায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খালেদ। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে নিতেই সময় শেষ করে ফেলেন মুমিনুল।

এরপরই রিপ্লেতে দেখা গেছে – ব‍্যাটে বলের স্পর্শ ছিল না, আঘাত হানতো লেগ স্টাম্পের উপরের দিকে।

হাতছাড়া হয়ে যায় শুরুতেই উইকেট পাওয়ার সুযোগ। আক্ষেপ দিয়ে দিন শুরু হয় বাংলাদেশের।

সেই ভুলে এলগারের সঙ্গে ৫২ রানে জুটি গড়েন এরউই। সেই খালেদের বলেই ২৪ রানে আউট হয়ে ফেরেন এরউই।

কিন্তু দারুণ খেলে যান অধিনায়ক এলগার। প্রথম সেশন পার করে দেন কোনো বিপদ ছাড়াই। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর তাইজুল ইসলামের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু হয় বাংলাদেশের।

দ্বিতীয় সেশনে পঞ্চাশ ছোঁয়া দুই ব‍্যাটসম‍্যানকে বিদায় করে দেন তাইজুল। ডিন এলগারকে কট বিহাইন্ড করার পর এলবিডব্লিউ করেন কিগান পিটারসেনকে। ৩২তম ওভারে আউট হওয়ার আগে এলগার করেন ৮৯ বলে ১০ চারে ৭০ রান। পিটারসেনের সঙ্গে ভাঙে তার ১২৫ বল স্থায়ী ৮১ রানের জুটি।

পিটারসেন করেন ১২৪ বলে ৯ চারে ৬৪ রান। টেম্বা বাভুমার সঙ্গে পিটারসেন করেন ১০৬ বলে ৫১ রানের জুটি।

এরপর রায়ান রিকেলটনেকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যান টেম্বা বাভুমা।

এর মাঝে দিয়ে বৃষ্টির জন‍্য ২৪ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

চতুর্থ উইকেটে রায়া্ন রিকেলটনের সঙ্গে ১৮৬ বল স্থায়ী ৮৩ রানের জুটি গড়েন বাভুমা। এ জুটি ভাঙার নায়কও তাইজুল।

বাঁহাতি স্পিনারের বলে রিভার্স সুইপ করেছিলেন রায়ান রিকেলটন। বল তার প্রত‍্যাশার চেয়ে বেশি লাফিয়ে ওঠে গ্লাভসে লাগে। প্রথম স্লিপে ইয়াসির আলি চৌধুর ক‍্যাচ নেওয়ার পর জোরাল আবেদন করে বাংলাদেশ।

আম্পায়ার মারায়াস এরাসমাস সাড়া না দিলে রিভিউ নেন মুমিনুল হক। এবার সফল হন মুমিনুল।

রিকেলটন ৮২ বলে তিন চার ও এক ছক্কায় ৪২ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন।

ক্রিজে টেম্বা বাভুমার সঙ্গী হন কাইল ভেরেইনা।

৮৪তম ওভারে সার খালেদের হাতে নতুন বল তুলে দেন অধিনায়ক মুমিনুল।

আর শুরুতেই সাফল্য। খালেদের বলে স্লিপে চমৎকার এক ক‍্যাচে টেম্বা বাভুমাকে বিদায় করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

বাভুমার ব‍্যাটের কানায় লেগে ক‍্যাচ উঠলে তা ছিল কিপার লিটন দাসের নাগালের বাইরে। তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েও ব্যর্থ হন। তবে বলে চোখ রেখে দুই হাতে দারুণ ক‍্যাচ নেন শান্ত।

১৬২ বলে ৭ চারে ৬৭ রান করেন বাভুমা।

দিন শেষে এটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ সাফল্য।

৯০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান জমা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামীকাল ব্যাট হাতে নামবেন ভেরেইনা ও মাল্ডার। ভেরাইন ১০ রানে অপরাজিত। মাল্ডার রানের খাতা খুলতে পারেননি আজ।

জমি নিয়ে সংঘর্ষ, আ.লীগ নেতাসহ আহত ৭

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৭ জন। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চাপালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি দাউদ হোসেন, আনোয়ারুল কবির, খন্দকার আব্দুর রশিদ, আবু বক্কর সিদ্দিক, খন্দকার মুমিনুর, হাফিজুর রহমান ও গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চাপালী গ্রামে জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। শনিবার সকালে ওই গ্রামের দাউদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা জমির দখল নেওয়ার জন্য সীমানা দেওয়ার জন্য পিলার স্থাপন করতে যায়।

এ সময় অপরপক্ষের আব্দুস সাত্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেয়। এরপর দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রহিম মোল্লা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডোবা থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

নেত্রকোনার মদনে ডোবা থেকে একদিল মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে ওই উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের কুটুরীকোনা গ্রামের একটি মাদ্রাসার পাশের ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত একদিল মিয়া মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের হাজরাগাতী গ্রামের মৃত গুমেজ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একদিল মিয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি প্রায় সময়েই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরাফেরা করতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা তাকে কুঠুরীকোনা এলাকায় ঘুরাফেরা করতে দেখেছেন। শনিবার সকালে মাদ্রাসার পাশের ডোবায় লাশটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মদন থানায় খবর দিয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

মদন থানার ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হবে। একদিল মিয়ার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানের কুদস বাহিনী সন্ত্রাসী সংগঠন: বাইডেন

ইরানের বিখ্যাত কুদস বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল-আরাবিয়ার।

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল মার্ক মিলি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীদের কালো তালিকা থেকে ইরানের রেভুলুশনারি গার্ডস করপকে (আইআরজিসি) বা কুদস বাহিনীর নাম কোনোভাবেই বাদ দেওয়ার পক্ষে নই আমি। কারণ এই বাহিনীকে আমি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করি।

ভিয়েনায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কুদস বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও কালো তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চাপ দেয় ইরান।

এ নিয়েই প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার করা মন্তব্যকেই সমর্থন করলেন বাইডেন। ইরানের দাবির বিষয়ে এখনও অনমনীয় মার্কিন প্রশাসন।

‘ভাগ্যনির্ধারণী’ পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু, নেই ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে দেশটির পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব আনার অধিবেশন স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়েছে।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্পিকারের আসনে বসেছেন আসাদ কায়সার। এ অধিবেশনের মধ্যেই নির্ধারণ হয়ে যেতে পারে ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বের ভাগ্য।

কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত ও ফাতেহা পাঠ করা হয়। খবর দ্য ডনের।

অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। তবে মুলতবির আগ পর্যন্ত অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না ইমরান খান।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়টি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির আজকের কর্মসূচির চার নম্বরে রয়েছে। অধিকাংশ আইনপ্রণেতাই উপস্থিত রয়েছেন পার্লামেন্টে।

এদিকে, পার্লামেন্টের বাইরে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৩৪২ আসনের পার্লামেন্টের মধ্যে ১৭২ জনের সমর্থনের প্রয়োজন ইমরান খানের বিরোধীদের।

৭ এপ্রিল ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল ও পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পার্লামেন্ট পুনর্বহালেরও নির্দেশ দেন বিচারপতিদের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ।

গত রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের তরফে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটির কথা থাকলেও ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি তা খারিজ করে দেন।

তিনি জানান, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব সংবিধানবিরোধী এবং তা দেশের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পাকিস্তানের সংবিধানের ৫ নম্বর ধারা মেনে এ নিয়ে কোনো ভোট করাতে পারবেন না তিনি।

এর পরেই ইমরান খানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সেদিন রাতেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেন বিরোধীরা।

ঢাকায় জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা

রাজধানীতে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদের কেনাকাটা। শুক্রবার ছুটির দিনে শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে করোনাভাইরাস পূর্ববর্তী সময়ের মতো এখনো সেভাবে জমেনি ঈদের বাজার।

বিক্রেতারা বলছেন, এখন যারা মার্কেটে আসছেন তাদের অধিকাংশই ভিড় এড়াতে আগাম কেনাকাটা করছেন। ক্রেতা টানতে নানা রকম আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কেনাকাটা করছেন ফুটপাত থেকে। এছাড়া নগরীর বেশকিছু বিপণিবিতানে সব ধরনের মানুষের জন্যই রয়েছে পণ্যের বিশাল সমারোহ। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক রয়েছে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মহামারি করোনার জন্য গত দুই বছর সেভাবে বেচাবিক্রি করতে পারেননি তারা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্রেতা আকর্ষণে সব ধরনের চেষ্টাই তারা করছেন। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলছে পণ্যের প্রচারণা। শপিংমলগুলোতে বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। তবে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিকে এ অবস্থার জন্য দায়ী করছেন তারা। কিন্তু তারা হাল ছাড়তে রাজি নন। কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোদমে বাজার জমবে বলে আশাবাদ বিক্রেতাদের। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন-ভাতা পরিশোধ শুরু করলেই মানুষ শপিংয়ে আসা শুরু করবে বলে মনে করছেন তারা।

জানতে চাইলে যমুনা ফিউচার পার্কের ইনফিনিটি মেগা মলের প্রডাক্ট ম্যানেজার মাসুদ কায়সার নাবিল যুগান্তরকে বলেন, করোনার ধাক্কার পরে এই ঈদে মার্কেট ফের জমবে এমন আশা করছি। কিন্তু এখনো সেভাবে বাজার জমে ওঠেনি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেচাবিক্রি বেড়েছে। সেটা করোনা পূর্ববর্তী সময়ের বাজারের মতো হয়নি। তবে কয়েকদিনের মধ্যে ক্রেতা বাড়বে বলে আশা করা যায়।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতেই নতুন নতুন বাহারি ডিজাইনের পোশাক, জুতা, কসমেটিকসামগ্রী বিক্রির সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা। তবে রোজার শুরু, প্রচণ্ড গরম ও তীব্র যানজটের কারণে লোকসমাগম অনেকটা কম। ছুটির দিন শুক্রবারে বেড়েছে উপস্থিতি। কেউ পণ্য কিনছেন। কেউ আবার ঘুরে দেখে পছন্দ করে রাখছেন। গরম বিবেচনায় রেখে সুতি পোশাকে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। চাঁদরাত পর্যন্ত শপিংমলগুলোতে চলবে কেনাকাটার উৎসব।

রামপুরা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে আসা সাদিয়া জান্নাত বলেন, গত দুই ঈদ সেভাবে উদযাপন করতে পারিনি। সেজন্য এবারের ঈদকে পানসে করতে চাই না। সেজন্যই রজমানের শুরুতে শপিং করতে এসেছি। প্রথম দিকেই নিজের ও আত্মীয়স্বজনের জন্য শপিং শেষ করতে চাই। কারণ শেষদিকে গিয়ে অনেক ভিড় হয়।

ছেলেরা বেশি কিনছেন শার্ট, প্যান্ট, টিশার্ট ও পাঞ্জাবি। আর তরুণী ও নারীরা কিনছেন শাড়ি, থ্রিপিস ও ফ্রক। এছাড়া জুতার দোকানেও বিক্রি বেড়েছে অনেক।

রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় কথা হয় ‘বাটা’র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার প্রশান্ত সাহার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, করোনার কারণে দুই বছর ঈদে জুতা কেনাবেচা পূর্বের মতো হয়নি। কিন্তু এবার রমজানের এক মাস আগে থেকেই বিক্রি অনেক বেড়েছে। রমজান শুরুর পর ক্রমশ তা বাড়ছে। আশা করছি, এই ঈদে বেচাবিক্রি অনেক ভালো হবে।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদ উপলক্ষ্যে রয়েছে নানা আয়োজন। শুক্রবার সারা দিনই ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। সন্ধ্যা নাগাদ লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে শপিংমল। কেনাকাটায় দরদাম করতে হয় না বলে উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত বিড়ম্বনাহীন কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন।

এদিন বেশিরভাগ ক্রেতা ভিড় করেন দেশি পোশাক হাউজের শোরুমগুলোতে। বিভিন্ন শোরুমে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট সুবিধা রয়েছে। এছাড়া বিকাশ ও বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ডে রয়েছে ক্যাশ ব্যাক অফার।

যমুনা ফিউচার পার্কে আসা ক্রেতারা বলছেন, অনেক বড় পরিসরে মার্কেট হওয়ায় এখানে কেনাকাটায় তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শোরুমগুলো বড় পরিসরে হওয়ায় নির্বিঘ্নে পণ্য দেখে কেনা যায়। ধাক্কাধাক্কি হুড়াহুড়ি করতে হয় না। একই ছাতার নিচে দেশি-বিদেশি সব নামি-দামি ব্র্যান্ডের শোরুম রয়েছে। আর বাইরে অনেক গরম, সেক্ষেত্রে মার্কেটেরে ঠাণ্ডা পরিবেশে কেনাকাটায় তাদের পছন্দের কেন্দ্রে রয়েছে যমুনা ফিউচার পার্ক।

সম্পদ থেকে আয় কমেছে ব্যাংকের

গত প্রায় দুই বছরে করোনার নেতিবাচক প্রভাব ব্যাংক খাতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সার্বিকভাবে ব্যাংকগুলোর আয় কমে গেছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালেও আয় কমেছে বেশি। এর মধ্যে সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো রয়েছে লোকসানে।

সরকারিতে লোকসান কিছুটা কমলেও বিশেষায়িত ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর আয়ের হার আগের চেয়ে কমেছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং ২০২১ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ব্যবসা বাণিজ্য ছিল স্থবির। এরপর সব কিছু সচল হলেও এখনো আগের ধারায় ফেরেনি। গত দুই বছরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় কার্যক্রম ছিল স্থগিত। ফলে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে কোনো গ্রাহককে খেলাপি করেনি। ওই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূল ঋণ যেমন আদায় হয়নি, তেমনি সুদ থেকেও অর্থ আদায় অনেক কম হয়েছে।

তবে গ্রাহকরা গত ২০ জানুয়ারি মধ্যে বকেয়া কিস্তির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলে তাকে আর খেলাপি করা হয়নি। অন্যথায় খেলাপি করা হচ্ছে। এভাবে নবায়ন করা ঋণের সুদ আদায় না হলেও তা আয় খাতে নিয়ে মুনাফা বাড়িয়েছে। এই কাগুজে মুনাফাও ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে কম হয়েছে। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকগুলোর পুঁজি থেকেও আয় কমেছে। ফলে সার্বিকভাবে এ খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুদ আদায় না করে তা আয় খাতে নিয়ে যাওয়া গুরুতর অপরাধ। এতে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়। মুনাফা স্ফীতভাবে দেখানো যায়। একটি পর্যায়ে গিয়ে আসল চিত্র বেরিয়ে আসে। তখন আর কিছু করার থাকে না। অতীতে দেশের কয়েকটি ব্যাংকে এমন ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখনই কঠোর হওয়া উচিত। তা না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, আয় না করেই মুনাফা ঘোষণা করে পরিচালকরা টাকা নিয়ে যাবেন। এদিকে আয় না হওয়ার কারণে টাকা যাবে আমানতকারীদের। ফলে আমানতকারীরা সংকটে পড়বে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে কোনো সুদ আদায় না করে তা আয় খাতে নেওয়া যাবে না-মর্মে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে আয় ছিল ৪২ পয়সা। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ পয়সায়। সেপ্টেম্বরে তা আবার কমে দাঁড়ায় ৪৪ পয়সায়। ডিসেম্বরে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২৫ পয়সায়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সম্পদ থেকে আয় ছিল ২৫ পয়সা। দুই বছরে আয়ের হার একই হলেও গড় মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে আয় ২০২০ সালের চেয়ে কমে যাচ্ছে।

২০২১ সালে গড়ে মূল্যস্ফীতির হার ছিল প্রায় ৬ শতাংশ। এ হার বাদ দিলে আয় ০.০২ শতাংশ কমে যাচ্ছে। ফলে ১০০ টাকায় আয় কমে দাঁড়াচ্ছে ২৩ পয়সায়। এর আগে ব্যাংকগুলোর সম্পদ থেকে আয় অনেক বেশি ছিল। ২০১৭ সালে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে আয় হয়েছিল ৭০ পয়সা। ২০১৮ সালে ৩০ পয়সা এবং ২০১৯ সালে ছিল ৪০ পয়সা। করোনার কারণে গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারের আয় সর্বনিম্নে।

সূত্র জানায়, গত বছর ব্যাংকগুলো আয়ের যে চিত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকে উপস্থাপন করেছে তাতে কাগুজে মুনাফাও রয়েছে। অর্থাৎ সুদ আদায় না করেই তা আয় খাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী এখন থেকে আদায় না করে কোনো সুদ আয় খাতে নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কাগুজে আয় মুনাফা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশনার ফলে আয় আরও কমে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে সরকারি ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে কোনো মুনাফা করতে পারেনি। বরং লোকসান হয়েছে ৬৮ পয়সা। ২০২০ সালে লোকসান ছিল এক টাকা ০৭ পয়সা। এক বছরে লোকসান কমেছে ৩৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো গত বছরে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে লোকসান দিয়েছে তিন টাকা ৩ পয়সা। ২০২০ সালে লোকসান ছিল তিন টাকা ০১ পয়সা। আলোচ্য সময়ে লোকসান বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে লোকসান হচ্ছে না, আয় হচ্ছে।

তবে আয় ২০২০ সালের চেয়ে ২০২১ সালে কমেছে। ২০২১ সালে বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা করেছে ৬২ পয়সা, ২০২০ সালে মুনাফা ছিল ৭০ পয়সা। ওই সময়ে মুনাফা কমেছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ৪৫ শতাংশের বেশি। ২০২১ সালে তারা ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে মুনাফা করেছে এক টাকা ১৭ পয়সা, ২০২০ সালে ছিল দুই টাকা ১৩ পয়সা। করোনার কারণে ঋণ থেকে সুদ আদায় কম হওয়ার কারণেই ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমেছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশে যতগুলো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমস্যায় পড়েছে তার সবগুলোর নেপথ্যে ছিল প্রকৃত তথ্য আড়াল করে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে স্বাস্থ্য বেশি করে দেখানো। ব্যাংক এমনই একটি ব্যবসা যেখানে তথ্য বেশি দিন আড়াল করা রাখা যায় না। কোনো না কোনো ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কঠোর হওয়া উচিত।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, মূলধন থেকে ব্যাংকগুলোর আয়ও কমেছে। গত বছরের মার্চে ১০০ টাকার মূলধন বিনিয়োগ করে আয় হয়েছিল ছয় টাকা ৭০ পয়সা, জুনে তা বেড়ে আট টাকা ২৬ পয়সা হয়, সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে সাত টাকা ৪২ পয়সায় দাঁড়ায়। ডিসেম্বরে আরও কমে চার টাকা ৪৪ পয়সা হয়। তবে ২০২০ সালের তুলনায় এ খাতে আয় বেড়েছে।

মূলধন থেকে মূলত বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো মুনাফা করেছে। সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো লোকসান দিয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো গত বছর ১০০ টাকার মূলধন থেকে মুনাফা করেছে ৯ টাকা ৩৪ পয়সা, ২০২০ সালে ছিল ১০ টাকা ২২ পয়সা। বিদেশে ব্যাংকগুলোর মূলধন থেকে গত বছরে মুনাফা হয়েছে সাত টাকা ৫৯ পয়সা, ২০২০ সালে ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা।

ঘর গোছানোর মধ্যেও অন্তঃকোন্দল চাঙ্গা

তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত ভিত নেই। তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছে। এমনি নানা সমস্যায় ঘুরপাক খাচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। এ অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে দল পুনর্গঠন কাজ শুরু হয়েছে।

আর এ কাজ করতে গিয়ে দলীয় অন্তঃকোন্দল চাঙা হয়ে উঠেছে। নেতৃত্ব নিয়ে নতুন মেরুকরণ দেখা দিয়েছে। আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের বলয় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ বলয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পরিবর্তন আনতে মরিয়া।

শাহাদাত-বক্করের অনুসারীদের অভিযোগ-এতদিন যাদের দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি, তারাই এখন পদ পেতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। এতে হতাশ ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

গত মাসে ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বাধীন ৩৮ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ক্ষমতা খর্ব করে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। এ টিমের অধীনে জোরেসোরে চলছে ঘর গোছানোর তৎপরতা।

বেঁধে দেওয়া তিন মাস সময়ের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মাঠে নেমেছেন। এরই মধ্যে তারা একাধিক বৈঠকে বসেছেন। এখন চলছে ইউনিটের সীমানা নির্ধারণের কাজ। এরপর শুরু হবে সদস্য ফরম বিতরণ এবং সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীর মোট ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের আওতায় ১২৯টি ইউনিটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তিনটি পদে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এসব কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটি গঠন করা হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শুরু হচ্ছে সদস্য ফরম পূরণের কাজ।

বড় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিট পর্যায়ে সদস্য ফরম বিক্রি করতে কেন্দ্রের নির্দেশ রয়েছে। প্রতি ইউনিটে ১০০টি করে সদস্য ফরম দেওয়া হবে। এ হিসাবে নগর বিএনপির সদস্য হবেন প্রায় ১৩ হাজার মানুষ। সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ ইউনিটে সদস্য ফরম পূরণ করে প্রাথমিক সদস্য হতে বলা হয়েছে। কোনো অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বিএনপির সদস্য ফরম পূরণ করতে পারবে না।

২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে ৩৯ সদস্যের নগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত সময়ে এ আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অসন্তুষ্ট হয় হাইকমান্ড। গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ৩১ নেতাকর্মীকে তলব করা হয়। তাদের সঙ্গে স্কাইপে যুক্ত হন লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে আহ্বায়ক কমিটির সাংগঠনিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তাদের শুধু দলীয় কর্মসূচি পালন করে যেতে বলা হয়।

এছাড়া বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা ও নগরীর নতুন কমিটি গঠনের জন্য পাঁচটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। তাদের তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। টিমগুলোর কাজ তদারক করতে ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে আট সদস্যের আরেকটি টিম।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক টিমের সদস্য এমএ আজিজ যুগান্তরকে বলেন, এরইমধ্যে তদারকি টিমের প্রধান আহমেদ আজম খান চট্টগ্রামে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পাঁচটি সাংগঠনিক টিম নিজ নিজ এলাকায় কাজ শুরু করেছে। আগে ইউনিট কমিটি ছিল না। তাই ইউনিটের সীমানা নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

এদিকে নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় অন্তঃকোন্দল বাড়ছে বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বর্তমান আহ্বায়ক ডা. শহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর এবং তাদের অনুসারীদের কোণঠাসা করতে তৎপর শক্তিশালী একটি বলয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন সদস্য এ বলয়ের নেপথ্যে রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বলয়টি আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য এরশাদ উল্লাহকে সভাপতি ও যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দেখতে চায়। আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম সাইফুল আলমকে সাধারণ সম্পাদক করার তৎপরতাও রয়েছে। এদিকে সিনিয়র এক নেতার আস্থাভাজন যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজকে সভাপতি হিসাবে চায় আরেকটি গ্রুপ।

নগর বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেওয়ার পর ডা. শাহাদাত ও আবুল হাশেম বক্কর কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কমিটি গঠনে তাদের ক্ষমতা না থাকায় এখন সাংগঠনিক টিমের নেতাদের পেছনে বেশি ঘুর ঘুর করছেন পদপ্রত্যাশীরা।

শাহাদাত-বক্করের ঘনিষ্ঠ এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলীয় কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন ডা. শাহাদাত ও বক্কর। তৃণমূলের সমর্থনও তাদের দিকে রয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারি, মামলা ও পুলিশি নির্যাতনসহ নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তারা উদ্যোগ নিয়েও তৃণমূলের কমিটি করতে পারেননি। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক সদস্য বিষয়টি নিয়ে দলীয় হাইকমান্ডকে ভুল বুঝিয়েছেন। তিনি কিছু নিষ্ক্রিয় নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে নিজের একটি বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন। তারা নেতৃত্বে এলে এতদিন যারা মাঠে ময়দানে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন তারা দূরে সরে যাবেন। ফলে দলের অবস্থান শক্তিশালী না হয়ে বরং উলটো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

সরকার নতুন খেলা শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

নির্বাচনি নির্বাচনি খেলা করে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে চায় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা নতুন খেলা শুরু করেছে।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

‘চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি, দেশব্যাপী সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত।

ইশরাক হোসেনের গ্রেফতারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, কারণ তারা প্রতিবাদ করেছে। আজকে এই মিথ্যা মামলা দিয়ে আবার তারা শুরু করেছে নতুন খেলা। সামনে নির্বাচনের ঢোল বাজচ্ছে, এই নির্বাচনে আবার সেই ঢোল…। নির্বাচনী নির্বাচনী খেলা করে তারা সেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়।

মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বিএনপির কারসাজি আছে- তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যা কিছু ঘটে তার পেছনে না কি বিএনপি। বিএনপি যদি সব কিছু ঘটাতে পারে তাহলে তোমরা ক্ষমতায় আছো কেনো? ক্ষমতা ছেড়ে দাও। বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে দাও। দেখো, আমরা দেশ চালাতে পারি কি না।

ফখরুল বলেন, আজকে ন্যূনতম মানুষের যেটা প্রয়োজন চাল, ডাল, তেল ও লবণ- এগুলো দাম আর আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নাই। কি দুর্ভাগ্য আমাদের, এই আওয়ামী লীগের সরকার আজকে শ্রমিক, কৃষক এবং জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কারণ তারা আজকে আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কেনার কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে দিতে পারছে না।

নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন আমাদের আর ঘরে বসে থাকার সময় নাই। পরিবর্তন আনতে হবে। এই পরিবর্তন আনতে হলে, এই ভয়াবহ দানবীর সরকারকে সরাতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

‘হৃদয় মণ্ডলকে মুক্তি দিন, না হলে আমাকে যেন গ্রেফতার করা হয়’

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের মুক্তির দাবি করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে সসম্মানে মুক্তি না দিলে তাকেও যেন গ্রেফতার করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভয়েস অব আমেরিকাকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে সসম্মানে মুক্তি দিতে হবে। নইলে আমাকেও যেন গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, হৃদয় মণ্ডলের সঙ্গে যা হয়েছে তা আমার জন্য অত্যন্ত দুঃখের। দুঃখের এই কারণে যে, আমি শিক্ষকতা জীবনে বিজ্ঞানই পড়িয়েছি ছাত্র-ছাত্রীদের। আরও বেশি দুঃখের কারণ এই জন্য যে, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বইটি সম্পাদনার সঙ্গে আমি জড়িত। আমার সম্পাদনা বা রচিত একটি বই পড়ান এমন একজন শিক্ষককে কারাগারে যেতে হয়েছে, এই দুঃখের কোনো শেষ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্রের শ্রেণিশিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ওই ক্লাসে পাঠানো হয়। তিনি বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্লাসে আলোচনা করেন। আলোচনার সময় গোপনে তার বক্তব্যের অডিও ধারণ করা হয়। সেই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়।

এতে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় কয়েকজন ছাত্রকে বারবার ধর্মের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করতে শোনা যায়। হৃদয় মণ্ডল ধর্মকে ‘বিশ্বাস’ এবং বিজ্ঞানকে ‘প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পরে কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেন।

এদিকে ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা শাস্তির দাবিতে স্কুলে মিছিল বের করলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সদর থানা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়।

পুলিশ হৃদয় মণ্ডলকে আটক করে। এরপর ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগে একই দিন হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ। ২৩ মার্চ তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করলে জেল হাজতে পাঠানো হয়। ১৭ দিন ধরে কারাগারে আছেন বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল।