শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 367

জনপ্রতি ফিতরার হার নির্ধারণ

এ বছর বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ হার ঠিক করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরিয়াহ মতে সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, খেজুর, গম, কিশমিশ, পনির ও যবের যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়। আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)।

খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়। এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা ঠিক করা হয়।

ইফা বলছে, ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যে তারতম্য রয়েছে। ফলে স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে।

ইসলাম ধর্মে ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সব সামর্থ্যবান মুসলিমের পক্ষে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। ফিতরা ঈদের নামাজের আগে বণ্টন করা ওয়াজিব।

কুরআনের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের জীবন

পৃথিবীর মহাবিস্ময়কর ও সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ আল-কুরআন। পথভ্রষ্ট মানুষদের আল্লাহর পথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহতায়ালা আল-কুরআন নাজিল করেছেন।

মানুষের বাস্তবিক জীবনের সব সমস্যার সমাধান রয়েছে আল-কুরআনে। যাতে মানব সন্তান আল-কুরআন পড়ে, বুঝে ও উপদেশ গ্রহণ করার মাধ্যমে বাস্তব জীবনকে সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত করতে পারবে। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে নাজিলকৃত প্রথম আয়াতেই আল্লাহতায়ালা পড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আলাক্ব-১)। এ জন্য মানবজীবনে সাফল্য অর্জন করার জন্য কুরআন পাঠের বিকল্প কোনো গ্রন্থ পৃথিবীতে নেই।

আল-কুরআন বেশি বেশি পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। আল্লাহতায়ালা কুরআনে নানা ধরনের মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। একজন মানুষ যদি নিয়মিত কুরআন পাঠ করে তাহলে জানতে পারবে আল্লাহতায়ালা কোন পথ এবং কাদের ভালোবাসেন।

ফলে ওই বান্দার সঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালার সুসম্পর্ক স্থাপন হবে এবং বান্দা সহজে আল্লাহর প্রিয় নৈকট্য অর্জন ও নেকি অর্জন করতে পারবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর তিলাওয়াত করবে, বিনিময়ে সে একটি নেকি পাবে, আর একটি নেকির বদলা হবে দশগুণ। এ কথা বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম, একটি অক্ষর বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মিম একটি অক্ষর।’ (তিরমিজি-২৯১)।

বর্তমান সময়ে গবেষণারত গ্রন্থের মধ্যে আল-কুরআনের স্থান সবার গ্রন্থের ঊর্ধ্বে। আল-কুরআন একটি বিজ্ঞানময় কিতাব। আজ প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিদিন নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার হচ্ছে। আজকের আধুনিক বিজ্ঞান যা নতুন আবিষ্কার করছে তা কুরআনে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে তা প্রমাণ করা হয়েছে।

এজন্য প্রিয় নবি (সা.) কে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট বৈজ্ঞানিক হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা মানুষদের আল-কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে বলেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি তোমার প্রতি এমন এক বরকতময় কিতাব নাজিল করেছি, যেন মানুষ তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, আর শুধু বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা তা থেকে (কুরআন) উপদেশ গ্রহণ করে।’ (সূরা সাদ : ২৯)।

বান্দা আল্লাহতায়ালার সঙ্গে কথোপকথনের একমাত্র মাধ্যম হলো কুরআন পাঠ। আল-কুরআন আল্লাহতায়ালা বাণী। যখন কোনো বান্দা কুরআন পাঠ করে তখন সে আল্লাহর সঙ্গে কথোপকথন করে। এ জন্য খুবই আদব ও শ্রদ্ধার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতে হয়। হজরত আলী (রা.) বলেন, ‘আমার যখন মন চাইত আল্লাহর সঙ্গে কথা বলব, তখন কুরআন তেলাওয়াত শুরু করে দিতাম।’

মানুষ কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় আল্লাহকে ভুলে যায়। ফলে তার হৃদয়ে মরীচিকা ধরে। যখন কুরআন পাঠ করে আল্লাহর রহমতে মানুষের হৃদয় পরিষ্কার হতে থাকে। মানুষের মনে সুপ্রবৃত্তি জাগ্রত হয়। আবু মূসা আল আশ’আরি (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত করে তার উদাহরণ হলো লেবুর মতো তার স্বাদও ভালো আবার ঘ্রাণও ভালো।

মুমিনের উদাহরণ হলো খেজুরের মতো, তার স্বাদ ভালো কিন্তু কোনো ঘ্রাণ নেই, আর কুরআন তেলাওয়াতকারী পাপী ব্যক্তির উদাহরণ হলো ফুলের মতো ঘ্রাণ ভালো কিন্তু স্বাদ তিক্ত, আর যে কুরআন তেলাওয়াত করে না এমন হাফেজের উদাহরণ হলো মাকাল ফলের মতো যার স্বাদ তিক্ত এবং সুগন্ধ নেই।’ (বুখারি : ৭৫৬০)।

আল-কুরআন সর্বযুগের সর্বোত্তম কিতাব। হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) কুরআন পাঠকারী ও শিক্ষা প্রদানকারীকে সর্বোত্তম মানুষ হিসাবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অপরকে শেখায়।’ (বুখারি)। আল-কুরআন এসেছে জীবন্ত মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচিত করতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ আমরা আল-কুরআনকে শুধু মৃত মানুষের কাছে নেকি পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়ে ফেলেছি।

মৃত ব্যক্তির চার দিন, দশ দিন কিংবা চল্লিশ দিনের দিন টাকা দিয়ে ভাড়া করে আল-কুরআন খতম করানো হয়। তাদের ধারণা আল-কুরআন শুধু মানুষ মারা গেলে পড়া লাগবে। অথচ মহান আল্লাহতায়ালা আল-কুরআনকে মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসাবে নাজিল করেছেন।

আল-কুরআন দুনিয়া ও আখিরাত জীবনের সফলতার পথ দেখায়। তাই আমরা নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করব। কুরআনের অর্থ ও ভাব অনুধাবন করব এবং কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করব। যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে অথচ সে অনুযায়ী আমল করে না, তাদের জন্য কুরআন আল্লাহতায়ালার দরবারে শত্রু হয়ে দাঁড়াবে।

কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা রয়েছে, তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করব। পবিত্র কুরআন পাঠকারী ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালা দুনিয়ায় সম্মান বৃদ্ধি করে দেন এবং আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন পড়া, বোঝা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নিজেকে বদলে নেওয়ার মাস রমজান

আল্লাহতায়ালার অপার কৃপায় বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ সিয়াম সাধনা আর বিশেষ ইবাদতের মধ্য দিয়ে পবিত্র মাহে রমজানের দিনগুলো অতিবাহিত করছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢাল স্বরূপ এবং আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার একটি নিরাপদ দুর্গ’ (মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল)।

আমরা অনেকেই আছি যারা এ ঢালকে কাজে লাগাচ্ছি না আর ইবাদতে মগ্ন না হয়ে বৃথা সময় অতিবাহিত করছি। আমাদের উচিত এ দিনগুলোতে বৃথা সময় নষ্ট না করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইবাদত-বন্দেগিতে রত হওয়া।

কেননা বিশ্বের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। একদিকে গত দুবছর ধরে চলছে বিশ্বময় করোনা মহামারি। অপরদিকে রাশিয়া-ইউক্রেনে চলছে যুদ্ধ। আল্লাহপাকই ভালো জানেন কখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ লেগে যায়।

পৃথিবীর সব চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও আল্লাহতায়ালা ইচ্ছা করলে এক মুহূর্তেই পারেন বিশ্বের সব বালা-মুসিবত দূর করতে। কিন্তু এর আগে আমাদের সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। পবিত্র রমজানে আমাদের রাতগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখতে হবে, সেজদার স্থানগুলোকে অশ্রুজলে সিক্ত করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের আত্মবিশ্লেষণ করা উচিত, আমরা কি আল্লাহর অধিকার এবং বান্দার অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছি?

পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন-‘তুমি বল, আকাশসমূহের ও পৃথিবীর আদিদ্রষ্টা আল্লাহ ছাড়া আমি কি অন্য কোনো সাহায্যকারী গ্রহণ করতে পারি? অথচ তিনি রিজিক দান করেন কিন্তু কারও রিজিক গ্রহণ করেন না’ (সূরা আন আম : আয়াত ১৪)। পবিত্র কুরআনের এ আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আমাদের সবার প্রকৃত সাহায্যকারী হচ্ছেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। তিনিই পারেন আমাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

রমজান মাসে আমরা অধিক সময় বাসায় অবস্থান করার সুযোগ পাই আর এ সুবাদে হাতে প্রচুর সময়ও পাই তাই এখন সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে।

মহানবি (সা.) পিতা-মাতাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোনো পিতা তার পুত্রকে উত্তম শিষ্টাচার অপেক্ষা অধিক শ্রেয় আর কোনো বস্তু দান করতে পারে না।’ (তিরমিজি)। তাই পিতা-মাতার উচিত হবে পুরো রমজানে সন্তানদের উত্তম শিক্ষা দেওয়ার বিষয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আবার পিতা-মাতার প্রতিও সন্তানের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। পিতা-মাতার প্রতি আমাদের যা করণীয় এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আর তোমার প্রভু-প্রতিপালক একমাত্র তারই ইবাদত করার এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার তাগিদপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন।

তোমার জীবদ্দশায় তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের উদ্দেশে বিরক্তিসূচক উহ্-ও বল না এবং তাদের বকাঝকা কর না, বরং তাদের সঙ্গে সদা বিনম্র ও সম্মানসূচক কথা বল। আর তুমি মমতাভরে তাদের উভয়ের ওপর বিনয়ের ডানা মেলে ধর। আর দোয়ার সময় বলবে, হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি সেভাবে দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমায় লালনপালন করেছিল।’ (সূরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩-২৪)

আল্লাহতায়ালা এ পৃথিবীতে ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য। অনেককে আল্লাহতায়ালা প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেন ঠিকই কিন্তু সেই ধন-সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করার ফলে দেখা যায় সে ধ্বংস হয়ে যায় আবার কাউকে সন্তানসন্ততি দেন ঠিকই কিন্তু তাদের সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত না করার ফলে এ সন্তান তার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানসন্ততি যদি প্রকৃত নৈতিকগুণ সম্পন্ন না হয় তাহলে মাতা-পিতার জন্য তা একটি আজাব বই কিছুই নয়। জীবন-বিধান আল কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি দুনিয়ার সৌন্দর্য। এ সন্তানসন্ততি যদি আদর্শ চরিত্রের না হয় তাহলে তা হয় মা-বাবার জন্য পরীক্ষার কারণ-দুঃখের বোঝা।’ (সূরা কাহাফ : আয়াত ৪৬)।

আর এ জন্যই আল্লাহতায়ালা মুমিনদেরকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পরীক্ষার কারণ।’ (সূরা আনফাল : আয়াত ২৭)। একজন পিতা-মাতা হিসাবে সন্তানের সুশিক্ষায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

পবিত্র মাহে রমজানের এদিনগুলোকে বৃথা নষ্ট না করে সন্তানদের তরবিয়তের দিকে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। সন্তানদের নিয়ে বসতে হবে, তাদেরকে সময় দিতে হবে, সন্তানরা কুরআন পড়তে না পারলে তাদের শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রমজানের এ দিনগুলোতে আমরা যদি ঘরগুলোতে ধর্মীয় আলোচনা করি আর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মসজিদে গিয়ে জামাত আদায় করি তাহলে সন্তানদের মাঝে যেমন নামাজ পড়ার অভ্যাস সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি পরিবারে প্রবাহিত হবে শান্তির সুবাতাস।

আল্লাহপাকের কাছে রমজানের ইবাদতের গুরুত্ব অনেক। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একটি রোজা রাখে, তার এ একটি দিনের বিনিময়ে আল্লাহতায়ালা তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে রাখবেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

পবিত্র মাহে রমজানের এ দিনগুলো কাটাতে হবে আধ্যাত্মিকতা চর্চায়। আমরা আমাদের সন্তানদের নামাজের দোয়াগুলো অর্থসহ শেখাতে পারি এবং কুরআন-হাদিসের বিভিন্ন দোয়া মুখস্থ করাতে পারি। পবিত্র কুরআন থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। বিভিন্ন ইসলামি বই পাঠচক্রের আকারে পড়ার আয়োজন করতে পারি। সেহরির আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে পারি।

তাই আসুন না মাহে রমজানের এ দিনগুলোতে পুরো পরিবারকে নিয়ে দোয়া, ইস্তেগফারে রত হই এবং পরিবারে এক আধ্যাত্মিক প্রশান্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি করি আর দোয়া করি পবিত্র রমজানের বরকতে যেন তিনি আমাদের ক্ষমা করেন আর পরিবারকে করেন জান্নাতি পরিবার, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

মিশিগানে বাংলাদেশি ফুটবলার তারেক

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ম্যাডোনা ইউনিভার্সিটি টিমে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী ফুটবলার তারেক মিয়া। মিশিগানের অন্যতম এই ভার্সিটি টিমে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার। সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে ম্যাডোনা ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

এই টিমে ডাক পাওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রীড়াঙ্গনে বইছে আনন্দের বন্যা। এছাড়া তারেকের পরিবার, আত্মীয়স্বজনসহ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও দারুণ খুশি।

তারেক ২০০৯ সালে ৬ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে আমেরিকা আসেন। বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। বর্তমানে বাস করেন মিশিগানের ডেট্রুয়েট শহরে। তার বাবার নাম নূর মিয়া এবং মায়ের নাম মিরা বেগম। তারেক ওয়ারেন শহরের ফিরজারল্যান্ড হাইস্কুলে টুয়েলভ (১২) গ্রেডে পড়েন। এ বছরের জুন মাসে তার হাইস্কুল গ্রেজুয়েশন শেষ হবে।

তারেক যুগান্তরকে বলেন, প্রথমে বাঙ্গালি কমিউনিটির বিভিন্ন টিমের হয়ে খেলতেন। এরপর কয়েক বছর খেলেছেন অ্যারাবিক কমিউনিটির ‘কেআসএফসি’ ক্লাবে। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে খেলছেন ফিরজারল্যান্ড হাইস্কুল টিমে। স্কুল টিমে খেলে ম্যাডোনা ইউনিভার্সিটি টিমের নজর কাড়েন।

কৃতী ফুটবলার তারেক বলেন, আমার খেলার ব্যাপারে সবসময় সাহায্যে করেছেন আমার বাবা নূর মিয়া। কোচ ডেভিড হোয়াইটও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তারা অপেক্ষা করছিলেন আমার উন্নতি দেখার জন্য। তাদের প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা। সমগ্র আমেরিকায় ফুটবলে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।

তারেকের বাবা নুর মিয়া বলেন, ফুটবলের প্রতি তারেকের মারাত্নক টান। তারেক ইউনিভার্সিটি টিমে সুযোগ পেয়েছে। আমি অনেক অনেক খুশি। ইউনিভার্সিটি তারেকের পড়াশুনা এবং খেলাধুলার যাবতীয় খরচ বহন করার স্কলারশিপ দিয়েছে। তারেকের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অনেকিই আমাকে এবং তারেকের মাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

স্কুলের এক অনুষ্ঠানে কোচ ডেভিড হোয়াইট বলেছেন, তারেক আমার ছাত্র। তারেক ট্যালেন্টেড খেলোয়ার। ম্যাডোনা ভার্সিটি টিমে সুযোগ পাওয়ায় আমার মনে দারুণ আনন্দ। সাকারে তারেকের যে প্রতিভা এই সুযোগ তাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মিশিগান টাইগার ইউথ স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার আনসার বলেন, এই দেশে ভার্সিটি টিম থেকেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ মিলে। তারেকের খেলা দেখে মনে হয়, ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। তারেক আরো এগিয়ে গিয়ে আমাদের বাংলাদেশি কমিউনিটির সুনাম বয়ে আনবে। আমি কমিউনিটির ক্রীড়াঙ্গনের পক্ষ থেকে তাকে শুভকামনা জানাই।

আবারও বাংলাদেশি কর্মী নিচ্ছে কোরিয়া

এশিয়ান ড্রাগণ বলে খ্যাত দক্ষিণ কোরিয়াতে আবারও বাংলাদেশের ইপিএস কর্মী নেওয়া শুরু করেছে।

কোরিয়ান এয়ারের নয় নাম্বার চাটার্ড ফ্লাইট আজ বুধবার ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক ১০টা ৫৫ মিনিটে ১৩৭ জন রেগুলার ও কমিটেড কর্মী নিয়ে বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীদের অষ্টম ফ্লাইট ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে এবং আগামীকাল কোরিয়া সময় ভোর ৬ টায় আন্তর্জাতিক ইনছন বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছাবে।
এ ব্যাপারে আজকের ফ্লাইটের নতুন ইপিএস কর্মী মোঃ পারভেজ হাওলাদার বলেন, সকল বিপদ-আপদ মুক্ত হয়ে সহি-সালামতে আমরা যাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারি সেজন্য সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী শুরুর প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালের মার্চে বিদেশী কর্মী নেওয়া স্থগিত করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এরপর প্রায় ২১ মাস পর গত ডিসেম্বর থেকে আবারো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া শুরু হয়। গত ৫ জানুয়ারি মোট ৯২ জন রেগুলার ও কমিটেড কর্মী কোরিয়া গেছেন।এরই মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫৩ জন বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন। গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান প্রায় ১৫০ জন বাংলাদেশী কর্মী।
নতুন বছরে যে ৯২ জন কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৪ জন কর্মী নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বাকিরা পুরনো কর্মী।
বাংলাদেশসহ ১৬ টি দেশ থেকে ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাঝারি ও নিম্ন-দক্ষ বিদেশী কর্মী নিয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।
কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ইপিএস কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে দেয়।ওই ১৬ টি দেশের ব্যাপক আহ্বান ও অনুরোধে সাড়া দিয়ে আবারো সীমিত পরিসরে কর্মী নেওয়া শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং-গুণ বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীরা
কোরিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নয় কোরিয়ান শিল্পেও শ্রমশক্তি সরবরাহে অবদান রেখেছে বাংলাদেশি কর্মীরা।

তিনি বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ইপিএস কর্মী নেবে বলেও আশার কথা জানান।
উল্লেখ্য যে,ইপিএস পদ্ধতিতে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি রেমিটেন্স যোদ্ধা দক্ষিণ কোরিয়াতে পাড়ি জমিয়েছেন।

রোজায় হৃদরোগীর রক্তচাপ কমে গেলে কী করবেন?

রমজান মাসে রোগীদের খাদ্যব্যবস্থাপনা, ব্যায়াম, জীবনাচরণে পরিবর্তন আনতে হয়। হঠাৎ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিয়মমাফিক চললে এসব জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

হৃদরোগে যারা আক্রান্ত তাদের হঠাৎ রোজায় রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমতাবস্থায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ উল্লাহ ফিরোজ।

যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে ভুগছেন তারাও পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখতে চান এবং সাধারণত জানতে চান-রোজা রাখতে পারবেন কি না, ওষুধগুলো কীভাবে খাবেন, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রম কেমন হবে।

যেসব রোগীর রক্তচাপ এবং হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে আছে তাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় রোজা রাখার জন্য কোনো রকম জটিলতা হয় না। যাদের হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে নেই বিশেষ করে হার্ট ফেইলিউরের জন্য শ্বাসকষ্ট হয় অথবা গত তিন মাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তাদের জন্য রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধগুলো দিনে একবার, দু’বার বা তিনবার খেতে হয়। রোজার সময় চেষ্টা করতে হবে যেসব ওষুধ দিনে একবার বা দু’বার খাওয়া যায় সেগুলো দিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দিনে দু’বার খাওয়া ওষুধগুলো ইফতার এবং সেহরির সময় খাবেন। দিনে একবার খাওয়া ওষুধগুলো রাতের যে কোনো সময় খেতে পারেন।

ডাইউরেটিক বা শরীরের পানি কমার ওষুধ ইফতারের সময় খাবেন। এ ধরনের ওষুধের পরিমাণ কমাতেও হতে পারে। চর্বি জাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত লবণ দেওয়া খাবারগুলো পরিহার করবেন। একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে অল্প করে বারবার খাবেন। রাতের বেলা প্রয়োজনমতো পানি এবং তরল জাতীয় খাবার খাবেন।

শারীরিক ব্যায়াম দিনের বেলায় না করে রাতে করার চেষ্টা করুন। খাবার পরপরই ব্যায়াম করবেন না। এ মাসের জন্য ত্রিশ মিনিট হাঁটাই ভালো ব্যায়াম।

রোজার সময়ে দিনের বেলা রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে এবং শরীরে লবণের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অবশ্যই পানি বা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আপনার ওষুধ বা ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করতে হতে পারে। রোজার সময় কোনোরকম জটিলতা দেখা দিলে, যেমন-শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হলে বা রক্তচাপ কমে গেলে, বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করবেন।

মনে রাখবেন-সময়মতো চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যাবে। যেসব রোগীর পেসমেকার বা ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা আছে অথবা বাইপাস অপারেশন বা এনজিওপ্লাস্টি করা আছে তারাও রোজা রাখতে পারবেন। তবে বাইপাস অপারেশন বা এনজিওপ্লাস্টি করার পর প্রথম তিন মাস রোজা রাখা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ।

রোজায় ডায়াবেটিক রোগী কীভাবে খাবেন?

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়। খাবার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে হয়। নতুন সুগার ফল করে বিপদ হতে পারে।

রোজার সময় একজন মানুষকে ভোররাত থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও মৌসুম ভেদে এ সময়কাল ১৪ ঘণ্টা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। আমাদের দেশে সেহরি ও ইফতারের মধ্যবর্তী সময় সর্বোচ্চ ১৮ ঘণ্টা হতে পারে। এ দীর্ঘ সময় একজন ডায়াবেটিক রোগীর না খেয়ে থাকা উচিত হবে কী না তা নিয়ে অনেক বছর ধরে বহু বিতর্ক হয়েছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাদা সেলিম।

রোজা রাখার সময় ডায়াবেটিক রোগীর ঝুঁকিসমূহ

* রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)

* রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)

* ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস

* পানিশূন্যতা ও থ্রম্বোএম্বোলিজম

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখার সময় সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে খাদ্য ব্যবস্থাপনায়।

* সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাওয়া।

* ইফতারের সময় অধিক পরিমাণে মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ না করা।

* ডায়াবেটিস রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যেন তারা পানিশূন্যতায় না ভোগেন। খেজুর খেলে একটা খেজুর খেতে পারেন। ফলমূল, শাকসবজি, ডাল ও টকদই তালিকাভুক্ত করতে পারেন। ডাবের পানি পান করতে পারেন।

* খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রেখে খাওয়ার পরিমাণ এবং ধরন ঠিক করতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাওয়া প্রয়োজন।

* রমজানের আগে যে পরিমাণ ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতেন রমজানে ক্যালরির পরিমাণ ঠিক রেখে খাবার সময় এবং ধরন বদলাতে হবে। প্রয়োজন হলে নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে খাবার তালিকা ঠিক করে নিতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে ওষুধের সঙ্গে খাবারের যেন সামঞ্জস্য থাকে। ইফতারের সময় অতি ভোজন এবং শেষ রাতে অল্প আহার পরিহার করতে হবে।

এক্ষেত্রে করণীয় হলো

* প্রত্যেক রোজাদার ডায়াবেটিক রোগীর অবস্থা তার স্বাতন্ত্রসহ বিবেচনা করতে হবে।

* ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। প্রতিদিন বেশ ক’বার (কমপক্ষে তিনবার) রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেখতে হবে। শেষ ভাগে অবশ্যই রক্তের গ্লুকোজ দেখার ব্যবস্থা থাকতে হবে। আর টাইপ ১ ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্য রাখতে হবে।

* প্রতিদিনের খাদ্যের পুষ্টিমান অন্যান্য সময়ের মতোই রাখার চেষ্টা করতে হবে। স্বাভাবিক দৈহিক ওজন ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখতে হবে। গবেষণায় দেখা যায় ২০-২৫ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগীর দৈহিক ওজন কমে বা বাড়ে। ইফতারে চর্বি সমৃদ্ধ খাদ্য এবং তেলে ভাজা খাবার গ্রহণ করা হতে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। কেননা এসব হজম হতে সময় লাগবে। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীর ইফতারের পরপরই যত দ্রুত সম্ভব রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ করা ব্যবস্থা করতে হবে। সেজন্য জটিল শর্করা জাতীয় খাবার সেহরির সময় খেতে হবে। ইফতারিতে সহজ পাচ্য খাবার খেতে হবে। প্রচুর পানি ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। সেহরির খাবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে খেতে হবে এবং তারপর প্রচুর পানি পান করা বাঞ্ছনীয়।

* শারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে এ সময়। খুব বেশি কঠোর শ্রম বা ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে করে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। কঠোর শ্রম বিকাল বেলায় তো করা যাবেই না। তারাবি নামাজ পড়লে, তাকে শারীরিক শ্রম হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। কিছু কিছু ডায়াবেটিক রোগী (বিশেষত টাইপ-১) যাদের রক্তের গ্লুকোজ ঠিকমতো রাখা যাচ্ছে না তাদের ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঘটনা প্রায়শ মারাত্মক হয়।

* প্রতিটি ডায়াবেটিস রোজাদারকে একথাটি খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে, যখনই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কোনো লক্ষণ শরীরে দেখা দেয় তার পর * তটা সম্ভব দ্রুততর সময়ের মধ্যে গ্লুকোজ/চিনি/মিষ্টি কোনো খাদ্য/শরবত ইত্যাদি যে কোনো একটি খেয়ে নিতে হবে।

এবার ৩২ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা

দেশের ৩২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে এ বছর নতুন করে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা।

তিনটি গুচ্ছে হবে এই পরীক্ষা। এর মধ্যে নতুন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবার প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির এক সভায় প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচির বিষয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছের বাইরে থাকা আটটি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি নিজেদের মতো ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করবে।

সভায় গুচ্ছের বাইরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি, ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ও ভর্তির সময় প্রকাশ করা, কেন্দ্রীয়ভাবে সাবজেক্টের প্লেসমেন্ট করা, বিভাগ পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ, ভর্তি ফি একবার দেওয়ার সুপারিশ করে ইউজিসি।

এছাড়া ইউজিসি’র পক্ষ থেকে ভর্তি পরীক্ষার ফি ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা কমানো পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া কোন সিলেবাসে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং ২য় বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহনের আহ্বান জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. দিল আফরোজা বেগমের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর, প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের, কমিশনের সচিব ড. ফেরেৌস জামান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৩৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপাচার্যদের মনোনীত প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া উপাচার্যরা গুচ্ছের বাইরে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-কে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং নেতৃত্ব দিয়ে এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রফেসর ড. দিল আফরোজা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বাইরে থাকা আট বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়ে আসার চেষ্ঠা করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

শাবির প্রক্টর অফিসে হটলাইন সেবা চালু

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রক্টর অফিসের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চালু করা হয়েছে হটলাইন সেবা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আবু হেনা পহিল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আবু হেনা পহিল যুগান্তরকে বলেন, অনেক সময় শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়লে প্রক্টরদের ব্যক্তিগত ফোনে কল দিয়ে নাও পেতে পারেন। এ ছাড়া কোনো কারণে সেই কল মিস হয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই হটলাইন সেবা চালু করা হলো।

সার্বক্ষণিক শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার সুবিধার্থে এই নাম্বারগুলো (০১৯১১২৪১৩৮২, ০১৯১১২৪১৩৮৮, ০১৯১১২৪১৩৯১) সবসময় চালু থাকবে। শিক্ষার্থীরা যে কোনো বিষয়ে যে কোনো প্রয়োজনে এবং যে কোনো সময় ওই নাম্বারগুলোতে কল দিয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং বন্ধে হটলাইন সেবা চালু করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে এ সংবলিত ব্যানার স্থাপন করা হয়।

শেখ রুনার বিশেষ দিন

শেখ রুনা, একাধারে একজন নাট্যপরিচালক এবং অভিনেত্রী। খুলনার মেয়ে শেখ রুনা যদিওবা নাটক নির্মাণেই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন শুরু থেকে, কিন্তু এখন তিনি অভিনয়েও নিজেকে ব্যস্ত করে তুলতে চাইছেন।

শেখ রুনা বাংলাদেশের নারী নির্মাতাদের মধ্যে বেশ আলোচিত এবং প্রশংসিত। ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা থেকে সুস্থ হয়েই তিনি নির্মাণ করেন ‘ভালোবাসার এপার ওপার’ নামের একটি নাটক। এতে অভিনয় করেছিলেন কল্যাণ কোরাইয়া, মৌসুমী হামিদসহ অনেকে।

৮ এপ্রিল এই মিডিয়া কর্মীর জন্মদিন। এ উপলক্ষে শেখ রুনা বলেন, মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছিলাম। আর তখন থেকেই জীবনের হিসাবনিকাশ বদলে ফেলেছি।

মানুষের জন্য নিজেকে নিবেদিত করে সারাটা জীবন কাজ করে যেতে চাই। চাই মানুষের ভালোবাসা। কেউ যেন কোন কারণে আমার উপর রাগ না করেন, অভিমান না করেন। আমার ব্যবহারে কষ্ট না পান সেভাবেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। নিয়মিত নাটক নির্মাণের পাশাপাশি অভিনয়টাও করে যেতে চাই।

শেখ রুনা জানান, জন্মদিন উপলক্ষে অনেকটা সময় কাটবে দেশের কিংবদন্তি আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ ও তার স্ত্রী রায়না মাহমুদের সঙ্গে।