শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 349

সালাহর জোড়া গোলে ম্যানইউকে হারিয়ে শীর্ষে লিভারপুল

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জালে গোলের হালি পূর্ণ করে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিল লিভারপুল। ম্যানসিটির চেয়ে দুই পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেল দলটি। এদিন গোল করে এক মাস ও ৬ ম্যাচ পরে গোল খরা কাটালেন লিভারপুলের মোহামেদ সালাহ। এদিন জোড়া গোলের দেখা পেয়েছেন লিভারপুলের এ মিসরীয় তারকা।

প্রিমিয়ার লিগে দুদলের সবশেষ ম্যাচটা ইউনাইটেড নিশ্চয়ই ভুলেই যেতে চাইবে। সে ম্যাচে সালাহ করেছিলেন হ্যাটট্রিক, রেড ডেভিলরা ডুবেছিল নিজেদের মাঠে ৫-০ গোলে হারের বিষাদে। অ্যানফিল্ডে আজ স্কোরলাইনটা সেদিনের চেয়ে একটু ‘ভদ্রস্থ’ দেখাচ্ছে বটে, তবে তাতে ইউনাইটেডের দুঃখ কম হবে না একটুও।

প্রিমিয়ার লিগের দুই লেগের লড়াই মিলিয়ে এর চেয়ে বড় সামগ্রিক ফল যে রেড ডার্বিই দেখেনি আর কখনও!

তবে ইউনাইটেডকে আগেই শোকের চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছিল রোনাল্ডোর সন্তান হারানোর দুঃসংবাদটা। যে কারণে রোনাল্ডোকে আজকের ম্যাচে পানওনি কোচ র‍্যালফ র‍্যাংনিক। পর্তুগিজ মহাতারকাকে না পেয়ে জার্মান কোচ দলকে নামিয়েছিলেন ৩-৪-২-১ ছকে, রোনাল্ডোর না থাকার ফলে সৃষ্ট শূন্যতা তিনি ঢাকতে চেয়েছিলেন আগের দিনই দুর্ঘটনার কবলে পড়া ব্রুনো ফার্নান্দেজকে আরেকটু বেশি আক্রমণের দায়িত্ব দিয়ে। তবে সে দায়িত্বে যে তিনি ডাহা ফেল, তা স্কোরলাইন দেখেই আঁচ করা যায় খানিকটা। প্রমাণ মিলছে পরিসংখ্যানেও, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরীক্ষায় কেবল একবারই ফেলতে পেরেছিল ইউনাইটেড।

ওদিকে লিভারপুল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলেছে। ৫ মিনিটে সাদিও মানের পাস থেকে ডান পাশে বিশাল ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে যান সালাহ। সেখান থেকে নিচু ক্রসে লুইস ডিয়াজ করেন গোল, মহারণে শুরুতেই এগিয়ে যায় লিভারপুল। এর আগে অবশ্য ইউনাইটেড কিছুটা তীব্রতা নিয়ে ম্যাচে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে সেই গোলটা যেন সেসব ইঙ্গিত মার্সি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জোগাড়যন্ত্র সেরে দিয়েছিল।

সেই যে লিভারপুল ম্যাচে আধিপত্য দেখানো শুরু করল, তা চলল ম্যাচের শেষতক। ২২ মিনিটে সালাহ পেলেন তার প্রথম গোলের দেখা৷ বক্সে অনেকটা স্কুপ করার মতো করে সালাহকে পাস দিয়েছিলেন মানে, দারুণ এক ফার্স্ট টাচে আয়ত্তে নিতে বলটা জালে পাঠালেন লিভারপুলের প্রাণভোমরা। বিরতির আগে আর গোলের দেখা পায়নি লিভারপুল। তাতে অবশ্য ইউনাইটেডের বড় হারের শঙ্কা উবে যায়নি। শুরুর ৪৫ মিনিটে যেভাবে ছড়ি ঘুরিয়েছে লিভারপুল, তাতে আরেকটা ৫-০ কে মনে হচ্ছিল সময়েরই ব্যাপার মাত্র।

৬৬ মিনিটে মানের গোলে ইউনাইটেডের সে শঙ্কাটা আরও বাড়ে বৈকি। ৮৫ মিনিটে সালাহ বল পেলেন বক্সের একটু আগে, বক্সে থাকা অ্যারন ওয়ান বিসাকাকে বোকা বানিয়ে করেন চতুর্থ গোলটা। যোগ করা সময়ে একটা সুযোগ নষ্ট করেন সালাহ, না হয় হ্যাটট্রিকটাও হয়ে যেত তার। তাতে কেবল স্কোরলাইনটাই আর বড় হয়নি, তবে তাই দলের লিগ জেতার আশা টিকিয়ে রাখার জন্য ছিল যথেষ্ট।

এই জয়ের পর ৩২ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সাময়িকভাবে লিগের শীর্ষেও চলে এসেছে দলটি। যদিও এক ম্যাচ কম খেলে সিটি নিজেদের পরের ম্যাচ জিতলে ক্লপের দল চলে যাবে দ্বিতীয় স্থানে।

ওদিকে ইউনাইটেড নেমে গেছে ছয়ে। ৩৩ ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট দলটির। এই অবস্থানে লিগ শেষ করলে ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নস লিগ তো বটেই, ইউরোপা লিগও খেলা হবে না দলটির। নতুন কোচ এরিক টেন হ্যাগ আসার আগে যে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাইবেন র‍্যাংনিক, তা বলাই বাহুল্য।

আমার নামেও লঞ্চঘাটে চাঁদাবাজি হয়: ব‌রিশা‌লের ডি‌সি

পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে ল‌ঞ্চে যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বরিশালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেখানে অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আক্ষেপ করে বলেন,আমার না‌মেও লঞ্চঘা‌টে চাঁদাবাজি হয়।

মঙ্গলবার দুপু‌রে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে লঞ্চমালিক ও আইন শৃংখলা রক্ষাকা‌রী বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর প্রতিনিধিদের সাথে ওই মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ব‌রিশা‌লের ডি‌সি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, আমার নামেও লঞ্চঘাটে মালামাল পরিবহনে চাঁদাবজি করা হয়। যা ভুক্তভোগীরা মোবাইলে ধারণ করায় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বরিশাল লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের পণ্য পরিবহনে যদি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় তবে দোষীদের বিরুদ্ধে জেল জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌ-দুর্ঘটনা এড়ানোসহ লঞ্চ ঘাটে যেকোন ধরনের অরাজকতা দমনে আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত কাজ করবেন। ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চের টিকিট কালোবাজারি রুখতেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক। তার এই পদক্ষেপে লঞ্চ মালিকরাও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অতিরিক্ত জেলা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুর রহমান খান এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) প্রশান্ত কুমার দাস, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার, মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ফজলুর রহমান, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর, বিআইডবিউটিএর উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী পরিচালক আরাফাত হোসেন, এনডিসি সুব্রত বিশ্বাস দাস ও কোষ্টগার্ডের প্রতিনিধিসহ ল মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ।

খুলনায় জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষ, আহত ৫

খুলনা জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে চেয়ারে বসা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এসময় দুবৃর্ত্তদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নাদিমুজ্জামান জনিসহ ৫ নেতা-কর্মী আহত
হয়েছেন। আহতরা খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা ক্লাবে জেলা বিএনপি ইফতারি মাহফিলের আয়োজন করে। এসময় মূল অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ইফতারির জন্য চেয়ারে বসা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র নগর ছাত্রদলের সাবেক নেতা কিমিয়া শাহাদাতের সাথে জেলা যুবদলের জনির বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তির নেতৃত্বে জনির ওপর হামলা করা হলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এসময় জনিসহ তেরখাদা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুর রহমান রাজু, দ্বারা, অলিদ এবং সোহাগ গুরুতর আহত হয়। এর আগে অবশ্যই ইস্তিকে মূল অনুষ্ঠানের স্থলে দেখা যায়।

আরও জানা যায়, সংঘর্ষের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আহতের দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এ বিষয়ে নগর ছাত্রদলের আহবায়ক ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তি যুগান্তরকে জানান, আমি খুলনা ক্লাবের ইফতারিতেই ছিলাম না। নতুন রাস্তার মোড়ের আলফালা জামে মসজিদে ছাত্রদলের একটি ইফতারির আয়োজনে ছিলাম। আমার কোন অনুসারীও এই হামলার সাথে
জড়িত নয়। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমার নামে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

জেলা যুবদলের সভাপতি এস এম শামীম কবির যুগান্তরকে বলেন, যুবদলের ৫জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে সেটা চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুনেছি শাহাদাতের সাথে জনির বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। তবে বিস্তারিত এখনও জানতে পারেনি।

জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান যুগান্তরকে জানান, যুবদল নেতা জনির অবস্থা আশংকাজনক। সে বর্তমানে খুলনা সিটি
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ইফতারির অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। জনির বুকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইফতারির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য
অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, নগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম জহির, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী প্রমুখ।

ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র দেবে মিত্ররা

রুশ বাহিনীর সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনকে জয়ী হতে সাহায্য করতে কিয়েভকে আরও অস্ত্র পাঠানোর অঙ্গীকার করেছে পূর্ব ইউরোপের এ দেশটির মিত্ররা।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মিত্র দেশগুলো ভিডিওকলে অনুষ্ঠিত ৯০ মিনিটের বৈঠকের সময় কিয়েভে আরও আর্টিলারি, অ্যান্টি-ট্যাংক এবং বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিন দুয়েক আগে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসে হামলা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে রাশিয়া। নতুন করে শুরু হওয়া রুশ এ হামলার মধ্যেই ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তার এ প্রতিশ্রুতি সামনে এলো।

ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া দেশটির পূর্বে একটি নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার কারণে আত্মরক্ষার জন্য তাদের অস্ত্রের প্রয়োজন। আর এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এ নতুন আক্রমণের মধ্যেই পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ভিডিওকলে বৈঠক করেন।

বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, ইউক্রেনের শক্তি বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক বিমান এবং বিমানের যন্ত্রাংশ দেশটিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মেরামতের জন্যও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দেশটিতে পাঠানো হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজে কিয়েভকে কোনো বিমান সরবরাহ করেনি। একই সঙ্গে কোন দেশগুলো ইউক্রেনকে বিমান সরবরাহ করেছে তার বিস্তারিত বিবরণও তারা দেয়নি। অবশ্য ইউক্রেনের ওপর নো-ফ্লাই জোনের বিকল্প হিসেবে সোভিয়েত-নির্মিত বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানগুলো হাতে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বরাবরই আবেদন জানিয়ে আসছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, গত সপ্তাহে ঘোষণা করা ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজের সমান আকারের আরও একটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ ইউক্রেনকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে আরও কামান ও স্থল যুদ্ধে মোতায়েন করার জন্য ভারি বন্দুক পাঠাবে।

অন্যদিকে বৈঠকে অন্য দেশগুলোও ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈঠকের পর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘ইউক্রেনের আরও আর্টিলারি সহায়তা প্রয়োজন, এটিই আমরা তাদের দেব।’

সেনাপ্রধানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের প্রথম বৈঠক

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে শাহবাজ শরিফের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইখতিকার জানিয়েছেন, অসুস্থ থাকায় ১১ এপ্রিল নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি সেনাপ্রধান।

এদিকে পাকিস্তানের ৩৪ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শপথ পড়াতে অপারগতা প্রকাশ করায় মঙ্গলবার সিনেটের চেয়ারম্যান সাদিক সানজারানি নতুন মন্ত্রিদের শপথ পড়ান।

এদিন ৩০ জন ফেডারেল মন্ত্রী, চারজন রাজ্যমন্ত্রী ও তিনজন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা শপথ নেন।

এদের মধ্যে ১৪ জন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পিপিপি ৯, জমিয়তে উলেমায়ে ইসলাম-ফজল (জেইউআই-এফ) ৪ ও অন্য জোট শরিক দলের সাতজন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

দৈনিক হাজার কোটি টাকা খরচের চ্যালেঞ্জ

চলতি অর্থবছরের বাকি আছে তিন মাস (এপ্রিল, মে এবং জুন)। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে এরই মধ্যে করতে হবে বড় অঙ্কের ব্যয়। এ সময়ে ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

ফলে দৈনিক ১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা খরচের চ্যালেঞ্জে রয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। এদিকে গত নয় মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৯৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। জুলাই থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ। তুলনামূলক বাস্তবায়ন হার বাড়ায় তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানসম্মত ব্যয় নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কেননা প্রতিযোগিতামূলকভাবে অর্থব্যয় করতে গিয়ে এডিপির সঠিক বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বকেয়া বিল পরিশোধের একটা বিষয় থাকে। সেটি বাদ দিলে তাড়াহুড়ো করে যে কাজ করা হবে সেগুলোতে অবশ্যই মান নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কেননা এমন ক্ষেত্রে টাকা খরচের জন্যই খরচ করা হয়, মান নিয়ে ভাবা হয় না। কিন্তু প্রশ্ন হলো বছরের পর বছর একই চিত্র চলে এলেও সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। অর্থবছরের শেষদিকে এসে যে অবস্থা চলছে সেটি তো কেউই গ্রহণযোগ্য মনে করে না। তাহলে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে কেন এই অবস্থা থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। সমস্যা সবই চিহ্নিত। কিন্তু সমাধান করাটা জরুরি।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আইএমইডির প্রতিবেদনের আর্থিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। কিন্তু আমাদের বাস্তব অগ্রগতি আরও বেশি আছে। কেননা এডিপিতে প্রকল্পগুলোর মধ্যে নির্মাণধর্মী প্রকল্প বেশি। এগুলোর ক্ষেত্রে কাজ শেষ না হলে সাধারণত বিল পরিশোধ করা হয় না। অর্থবছরের শেষদিকে যখন ঠিকাদাররা ফিনিসিং টাস্ক দেবেন তখন বিল ছাড় করা হবে। এজন্য শেষদিকে অনেক বেশি আর্থিক অগ্রগতি হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমইডিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যদি তদারকি ঠিকমতো করে তাহলে মানহীন প্রকল্প বাস্তবায়নের শঙ্কা থাকে না। তবে গত অর্থবছরের চেয়ে যেহেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের অবস্থা ভালো সেহেতু এটা বলা যায় অগ্রগতি ভালো হবে।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের আরএডিপির আকার হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ রয়েছে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৯ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা। গত নয় মাসে মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। ফলে আগামী ৩ মাসে খরচ করতে হবে ১ লাখ ১৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭৯ হাজার ৯১৬ কোটি, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩৩ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার তহবিল থেকে খরচ করতে হবে ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের নয় মাসে আরএডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে-পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ১৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন বাস্তবায়ন করেছে ২০ দশমিক ০৯ শতাংশ। আইন ও বিচার বিভাগ ২১ দশমিক ৭১ শতাংশ। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

তবে আরএডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে রয়েছে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলো হলো-জাতীয় সংসদ সচিবালয় শতভাগ আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে। এছাড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ৯৮ শতাংশ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ৭৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। শিল্প মন্ত্রণালয় ৭৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৬৮ শতাংশ। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। অর্থবিভাগ ৫৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৪৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। খাদ্য মন্ত্রণালয় ৫৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৪৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ আরএডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

সরকারের ব্যাংক ঋণের নির্ভরতা আরও বাড়ছে

আগামী বাজেটে সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা আরও বাড়ছে। ঘাটতি বাজেট পূরণে ব্যাংক থেকে প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। এটি চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

পাশাপাশি এ বছর যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তার চেয়ে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বাজেট ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ কমিটির বৈঠকে আগামী বছরের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়। ওই কমিটিতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ঋণের আকারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকলে বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকার বেশি ঋণ নিয়ে গেলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের শিল্প বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

সূত্রমতে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি বাজেটের আকার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশি ও বিদেশি ঋণ নিয়ে এ ঘাটতি পূরণ করা হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ঘাটতি পূরণে আগামী অর্থবছরে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যায় থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২৮ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেওয়ার অংক ৯৩ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের জন্য অর্থ বিভাগ প্রাধান্য দিচ্ছে স্বল্প সুদ ও মুনাফার নতুন নতুন ক্ষেত্র যুক্ত করা। পাশাপাশি আর্থিক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের ফলে অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে সরকারের অন্যান্য কার্মকাণ্ডে অর্থায়ন করা।

জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে এটি ভালো উদ্যোগ। কারণ এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঋণ। এর সুদের হার সব ঋণের চেয়ে বেশি। সে কারণেই ব্যাংক ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। তবে বাজেটে যে অর্থ ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় বছর শেষে তা পুরোপুরি খরচ হয় না। ফলে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পুরো ঋণ ব্যবহার হয় না। কিন্তু এরপরও ব্যাংক ঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সেটি পুরোপুরি নেওয়া হলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমবে। সেটি হলে বেসরকারি বিনিয়োগ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণের প্রয়োজন আছে। তবে ঋণ গ্রহণের সময় কম সুদে যেখানে পাওয়া যায় সেটি দেখতে হবে। পাশাপাশি কোন প্রকল্পের জন্য, কেন ঋণ নিচ্ছি এগুলো এখন বুঝতে হবে। যেন সমস্যায় পড়তে না হয়।’

সূত্র আরও জানায়, আগামী বছর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে বিনিয়োগ। প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে ১৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য ১০ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এছাড়া সরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন। কিন্তু সরকার নিজেই ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ গ্রহণ করলে নির্ঘাত বেসরকারি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে বাধ্য। বিনিয়োগের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা নিয়েও সংশয় থাকবে।

এদিকে ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা আগামী বছরে বাড়ছে শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেও লক্ষ্যমাত্রার বেশি ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থবছরের শেষ দিকে এসে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বেশি নেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, শ্রীলংকার অর্থনীতি বিপর্যস্ত হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বড় অংকের বিদেশি ঋণ গ্রহণ। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ঋণ গ্রহণ প্রসঙ্গে সতর্ক অবস্থানে আছে। তার মতে, চলতি অর্থবছরে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ঋণ নেওয়া হচ্ছে। বছরের শুরুতে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। এটি কমিয়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ হাজার ২১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা কমছে ৩২ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। তিনি আরও বলেন, আগামী বছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কম নেওয়া হবে। কারণ সঞ্চয়পত্রের ঋণের বিপরীতে সরকারকে বেশি মাত্রা সুদ পরিশোধ করতে হয়। একই ঋণ ব্যাংক থেকে নেওয়া হলে সুদ কম গুনতে হবে। যে কারণে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।

গাজীপুর বিএনপির সভাপতি মিলন, সম্পাদক রিয়াজুল

গাজীপুর জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন মঙ্গলবার গাজীপুর মহানগরীর নগপাড়া এলাকায় একটি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক একেএম ফজলুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুলের সঞ্চালনায় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে ব্যালটের মাধ্যমে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে গণতান্ত্রিক উপায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে একেএম ফজলুল হক মিলন ৭০৬ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপি নেতা মোতালেব হোসেন পেয়েছেন ৬২ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য প্রয়াত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসম হান্নান শাহের ছেলে বিএনপি নেতা শাহ রিয়াজুল হান্নান ৬৫৯ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য সচিব কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল পেয়েছেন ২০০ ভোট ও অপর প্রার্থী সাখাওয়াৎ হোসেন সবুজ পেয়েছেন ৪ ভোট।

নির্বাচনে মোট ৭৮০ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

জেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

‘শুধু ভোটের সময় যারা কড়া মুসলমান হয়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে’

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ভোটের সময় কড়া মুসলমান হয়ে যায়, ভোট চলে গেলে ইসলামের জন্য, আলেম-ওলামাদের জন্য কাজের কথা ভুলে যায়।

এরশাদ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করেছেন, বেগম খালেদা জিয়া আলেম-ওলামাদের মাথায় হাত বুলিয়ে ভোট নিয়েছেন, কিন্তু ইসলামের খেদমতে তারা কাজ করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ভোটের সময় যারা কড়া মুসলমান হয়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির ইফতার ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

গত সাড়ে ১৩ বছর আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার আগে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু ইসলামের খেদমতে অন্য কেউ এত কাজ করেনি উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল শতবর্ষ পুরনো। বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে, এরশাদ সাহেব মাওলানা মান্নানকে নিয়ে ক্ষমতায় ছিলেন। ভোটের সময় তারা ইসলামের কথা খুব বক্তৃতা করেছেন, কিন্তু কেউ সেই দাবি পূরণ করেনি। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাই ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন।

‘একইভাবে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এটি কেউ কল্পনা করতে পারেনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বীকৃতি দিয়েছেন; এবং স্বীকৃতি দিলেও চাকরি হবে না এমন মন্তব্যকারীদের বিস্মিত করে শুধু চাকরিই নয়, সরকারি চাকরি দিয়েছেন’, উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

দেশে প্রায় এক লাখ মসজিদভিত্তিক মক্তব প্রতিষ্ঠা, মক্তবপ্রতি শিক্ষককে মাসে পাঁচ হাজার ২০০ টাকা ভাতা দেওয়া, সেই সঙ্গে ২০ হাজার দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে ১২ হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে চালু করেছেন, জানান তিনি।

সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বহু ইসলামি রাষ্ট্র আছে, কিন্তু একমাত্র বাংলাদেশেই বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সারা দেশে একসঙ্গে প্রতি জেলা ও উপজেলায় ৬০০ মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এ মসজিদগুলো বাইরে থেকে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়, ভেতরে ঢুকলে মন জুড়িয়ে যায়। ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদে কোনো গম্বুজ ছিল না। জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন এবং মাঝখানে বিএনপি ও তত্ত্বাবধায়ক কোনো সরকারই এই কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি, আবার ক্ষমতায় এসে পরম করুণাময়ের ইচ্ছায় শেখ হাসিনাই এটি সমাপ্ত করলেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, দুনিয়াতে হিসাব-নিকাশ করে জীবন পরিচালনার মধ্যেই পরলোকের জীবনের শান্তি নিহিত।

বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক জিলানী, সাবেক এমপি মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মো. মামুনুর রশীদ, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদ সদস্য ড. মুফতি মাওলানা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহী, ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির মহাসচিব শাইখুল হাদিস মাওলানা মুফতি শাহাদাত হোসাইন প্রমুখ সভায় বক্তব্য রাখেন।

ট্রেনযাত্রীর দুর্ভোগ বৃদ্ধির শঙ্কা

ঈদের আগে সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মসনদ নয়তো পাসপোর্টের ফটোকপি লাগবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট দেখাতে হবে। টিকিট কালোবাজারি রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২৩ এপ্রিল থেকে রেলে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু। এদিন থেকে পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ টিকিট কাটতে পারবেন না। ২ বছর আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু এতসব কাগজপত্র দেখে অল্প সময়ে টিকিট দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এনআইডি, জন্মসনদ কিংবা পাসপোর্টের ফটোকপি সঠিক না জাল তা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সরঞ্জামই নেই কাউন্টারে। খালি চোখে পরীক্ষা করে টিকিট দিতে অনেক সময় লাগবে। এতে ঈদের আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধির শঙ্কা আছে।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুর কবীরের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল থেকে সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ কিংবা পাসপোর্টের ফটোকপি দেখে বিতরণ করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা খুবই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে ড. কবীর বলেন, আমরা শুরু করছি। এটাও জানি আমাদের লোকবল স্বল্পতা আছে। পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সরঞ্জামও নেই। তবু, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কাউন্টার থেকেই পরিচয়পত্রবিহীন টিকিট দেওয়া হবে না।

কমলাপুর রেলওয়ে এক বুকিং সহকারী মাস্টার নাম গোপন রেখে যুগান্তরকে বলেন, সহজ ডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিকিট বিক্রয় করছে। এদের সার্ভার সমস্যা এখনও রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে টিকিট বিক্রি করতে হলে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। ২ বছর আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত তখনও কার্যকরের নির্দেশ ছিল। সে সময় সিএনএন নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিকিট বিক্রিয়ের দায়িত্বে ছিল।

নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েক দিন টিকিট বিক্রির পর পুরো প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখায় নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত সহজ ডটকমের কর্মকর্তা ফারহাদ আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্দেশনা অনুযায়ী টিকিটের গায়ে নতুন করে কোনো কিছু লিখতে হবে কিনা, তা সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। আমরা নির্দেশনা পেলে টিকিটের গায়ে প্রয়োজনীয় লেখা সংযুক্ত করব।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্তে টিকিট কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে একটি টিকিট বিক্রয়ে সময় লাগছে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী টিকিট বিক্রি করতে হলে ন্যূনতম সময় লাগবে ৩ থেকে ৫ মিনিট। তারা বলেন, টিকিট নিতে এসে মানুষ কাউন্টারে টাকা দিয়ে ১ মিনিট দেরি করতে চান না। সেখানে ৫ মিনিট দাঁড়াতে হলে পরিস্থিতি কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। সবমিলে এ সিদ্ধান্তে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার সঙ্গে টিকিট কালোবাজারির আশঙ্কাও বাড়বে।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শফিকুর রহমান জানান, কমলাপুর স্টেশন থেকে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন প্রায় ২৯ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এর বিপরীতে প্রায় ১০ গুণ বেশি টিকিট প্রত্যাশী মানুষ লাইনে, স্টেশন চত্বরে অপেক্ষা করেন। নতুন নিয়মে টিকিট বিক্রয় নিশ্চয় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সরওয়ার যুগান্তরকে জানান, বুকিং সহকারীদের প্রশিক্ষণ রয়েছে। তবে নতুন এ নিয়ম বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হবে। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা টিকিট বিক্রি করব।

এদিকে মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অগ্রিম টিকিট বিক্রির সব ধরনের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে র‌্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। ২৭টি কাউন্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন করেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন রং লাগছে। অপরদিকে নতুন নিয়মে টিকিট বিক্রয় ঘোষণায় রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।