ঈদের আগে সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মসনদ নয়তো পাসপোর্টের ফটোকপি লাগবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট দেখাতে হবে। টিকিট কালোবাজারি রোধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২৩ এপ্রিল থেকে রেলে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু। এদিন থেকে পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ টিকিট কাটতে পারবেন না। ২ বছর আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও এখন থেকে কার্যকর হচ্ছে। কিন্তু এতসব কাগজপত্র দেখে অল্প সময়ে টিকিট দেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এনআইডি, জন্মসনদ কিংবা পাসপোর্টের ফটোকপি সঠিক না জাল তা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো সরঞ্জামই নেই কাউন্টারে। খালি চোখে পরীক্ষা করে টিকিট দিতে অনেক সময় লাগবে। এতে ঈদের আগে যাত্রীদের দুর্ভোগ বৃদ্ধির শঙ্কা আছে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে রেলপথ সচিব ড. হুমায়ুর কবীরের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল থেকে সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মসনদ কিংবা পাসপোর্টের ফটোকপি দেখে বিতরণ করা হবে। অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা খুবই চ্যালেঞ্জ স্বীকার করে ড. কবীর বলেন, আমরা শুরু করছি। এটাও জানি আমাদের লোকবল স্বল্পতা আছে। পরিচয়পত্র যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সরঞ্জামও নেই। তবু, এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো কাউন্টার থেকেই পরিচয়পত্রবিহীন টিকিট দেওয়া হবে না।
কমলাপুর রেলওয়ে এক বুকিং সহকারী মাস্টার নাম গোপন রেখে যুগান্তরকে বলেন, সহজ ডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিকিট বিক্রয় করছে। এদের সার্ভার সমস্যা এখনও রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে টিকিট বিক্রি করতে হলে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেবে। ২ বছর আগে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত তখনও কার্যকরের নির্দেশ ছিল। সে সময় সিএনএন নামের একটি প্রতিষ্ঠান টিকিট বিক্রিয়ের দায়িত্বে ছিল।
নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েক দিন টিকিট বিক্রির পর পুরো প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখায় নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট বিক্রির দায়িত্বে নিয়োজিত সহজ ডটকমের কর্মকর্তা ফারহাদ আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার পর্যন্ত নির্দেশনা অনুযায়ী টিকিটের গায়ে নতুন করে কোনো কিছু লিখতে হবে কিনা, তা সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। আমরা নির্দেশনা পেলে টিকিটের গায়ে প্রয়োজনীয় লেখা সংযুক্ত করব।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের সিদ্ধান্তে টিকিট কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে একটি টিকিট বিক্রয়ে সময় লাগছে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী টিকিট বিক্রি করতে হলে ন্যূনতম সময় লাগবে ৩ থেকে ৫ মিনিট। তারা বলেন, টিকিট নিতে এসে মানুষ কাউন্টারে টাকা দিয়ে ১ মিনিট দেরি করতে চান না। সেখানে ৫ মিনিট দাঁড়াতে হলে পরিস্থিতি কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। সবমিলে এ সিদ্ধান্তে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার সঙ্গে টিকিট কালোবাজারির আশঙ্কাও বাড়বে।
ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শফিকুর রহমান জানান, কমলাপুর স্টেশন থেকে ঈদযাত্রায় প্রতিদিন প্রায় ২৯ হাজার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এর বিপরীতে প্রায় ১০ গুণ বেশি টিকিট প্রত্যাশী মানুষ লাইনে, স্টেশন চত্বরে অপেক্ষা করেন। নতুন নিয়মে টিকিট বিক্রয় নিশ্চয় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে, নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সরওয়ার যুগান্তরকে জানান, বুকিং সহকারীদের প্রশিক্ষণ রয়েছে। তবে নতুন এ নিয়ম বাস্তবায়নে হিমশিম খেতে হবে। তবে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা টিকিট বিক্রি করব।
এদিকে মঙ্গলবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অগ্রিম টিকিট বিক্রির সব ধরনের ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। টিকিট কালোবাজারি রোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে র্যাবের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হচ্ছে। ২৭টি কাউন্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন করেও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন রং লাগছে। অপরদিকে নতুন নিয়মে টিকিট বিক্রয় ঘোষণায় রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন। সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।


