শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 337

সুইফট নিষেধাজ্ঞায় অর্থ পরিশোধে জটিলতা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অর্থ পরিশোধে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ প্রকল্পের রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি এটমস্টয়এক্সপোর্ট’-এর নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ভিইবিআরএফ’-এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারছে না। ফলে নির্মাণ চুক্তির অগ্রিম অর্থ চাইলেও বাংলাদেশ ওই প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করতে পারছে না।

রাশিয়ার কিছু ব্যাংককে সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) বাদ দেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে অর্থ পেতে বিকল্প পথে বাংলাদেশের ভেতর এফসি (বৈদেশিক মুদ্রায়) অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেনের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দেশের অভ্যন্তরণে এ ধরনের বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অ্যাকাউন্ট খোলার আইনি বিধান আছে কিনা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

সোনালী ব্যাংকের সূত্র জানায়, রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রাপ্য অর্থ নেওয়ার জন্য দেশের অভ্যন্তরণে সোনালী ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) অ্যাকাউন্ট খুলতে চায়। কিন্তু এফসি অ্যাকাউন্ট সাধারণত বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আনার জন্য খোলা হয়। এ ছাড়া এ ধরনের হিসাব খোলার পর তাদের অ্যাকাউন্টে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বৈদেশিক মুদ্রা জমা হবে। অঙ্কের হিসাবে এর ব্যাপ্তি অনেক বেশি। সুইফট ব্যবহার না করে দেশের অভ্যন্তরে এ বিশাল অঙ্কের মার্কিন ডলারের ব্যবস্থা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে সোনালী ব্যাংকের। পাশাপাশি এফসি অ্যাকাউন্টে মার্কিন ডলার জমা হওয়ার পর এ মুদ্রা রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোথায় কিভাবে ব্যবহার করবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জানা গেছে, অর্থ পরিশোধের বিকল্প পথ খুঁজতে সম্প্রতি একটি বৈঠক করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান। সেখানে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এর বাস্তবায়নে রাশিয়ান পক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। সুতরাং বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি এটমস্টয়এক্সপোর্ট’কে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশের কাছে নির্মাণ চুক্তির প্রাপ্য অর্থ পেতে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলতে না পারায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে ওই বৈঠকে তুলে ধরেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা থাকবে। তবে অপারেশন কর্তৃপক্ষ হিসাবে সোনালী ব্যাংককে ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যাংক একাধিক বৈঠক করে রাশিয়ান ঠিকাদারের ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা করতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঢাকাস্থ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত, সোনালী ব্যাংকের এমডি ও প্রকল্প পরিচালকের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ে সভা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, বিকল্প পথ খুঁজতে বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরে এফসি (বৈদেশিক মুদ্রায় হিসা) খুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে সোনালী ব্যাংক। আর এফসি ব্যাংক হিসাব খোলা, অপারেশন এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অন্যান্য সহায়তা করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা গেছে, বাংলাদেশ একক প্রকল্প হিসাবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। এর ৯০ শতাংশ অর্থেরই জোগান দিচ্ছে রাশিয়া ঋণ সহায়তা হিসাবে। এখন ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ভিবি ব্যাংকসহ দেশটির কিছু ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে।

সূত্র আরও জানায়, রাশিয়ান ঠিকাদার যে টাকা পাবে তা হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তির অগ্রিম ১০ শতাংশ অর্থ। বাংলাদেশ সরকার এবং রুশ ফেডারেশনের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণ চুক্তি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রাশিয়ান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি এটমস্টয়এক্সপোর্ট’ ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাক (নির্মাণ চুক্তি) আলোকে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ঋণ চুক্তি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শর্ত অনুযায়ী নির্মাণ চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম মূল্য বছরে চার কিস্তিতে পরিশোধ করা হচ্ছে। স্বাক্ষরিত জেনারেল কন্ট্রাকের ধারা ৪৬ অনুযায়ী বাংলাদেশের পক্ষে সোনালী ব্যাংক এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ব্যাংক স্টেট ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ‘ভিইবিআরএফ’ নির্ধারিত করা হয়। এই দুটি ব্যাংকের মধ্যে আন্তঃব্যাংক সমঝোতা চুক্তির আওতায় চুক্তিমূল্যের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধের কার্যক্রম চলমান আছে। কিন্তু নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। কারণ পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়াকে ‘একঘরে’ করার জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনে বাধা সৃষ্টি হয়।

সূত্র মতে, সুইফটের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে লেনদেন কার্যক্রম ‘ভিইবিআরএফ’-এর পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেয় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য বাংলাদেশ পরমাণু কমিশনকে জেনারেল কন্ট্রাকের অনুচ্ছেদ (সাধারণ চুক্তি) সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে একটি বৈঠক করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দেশীয় মুদ্রা একটি হিসাব খোলার জন্য সোনালী ব্যাংকে যোগাযোগ করে রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এ ধরনের হিসাব খুলতে হলে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ সংশোধসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট প্রয়োজন বলে সোনালী ব্যাংক থেকে জানানো হয়।

যে কারণে আর ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছে না রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে, অর্থ পরিশোধের বিকল্প পথ খুঁজতে সম্প্রতি আরও একটি বৈঠক করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান। সেখানে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক ভুক্ত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এর বাস্তবায়নে রাশিয়ার পক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। সুতারং বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জেএসসি এটমস্টয়এক্সপোর্ট’কে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার এখনো তা মনে করছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট আগামী বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিটে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।

ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট

ঈদের কেনাকাটাকে সামনে রেখে আগের তুলনায় হঠাৎ নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ঈদের কেনাকাটা করছেন।

এতে ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে উচ্চ সুদে ধার করছে ব্যাংকগুলো। নগদ টাকার সরবরাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ধারের মাধ্যমে নগদ টাকার ঘাটতি মেটানোর সুযোগ দিতে আন্তঃব্যাংক মানি মার্কেট প্ল্যাটফরমগুলো ২৯ ও ৩০ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার কলমানি বাজারে ব্যাংকগুলোর মধ্যে লেনদেনের গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে মঙ্গলবার কলমানি বাজারে একদিনে লেনদেন হয়েছে ৭ হাজার ১২২ কোটি টাকা। আর গত সপ্তাহের শেষদিনে সুদের গড় হার ছিল ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদহার ছিল ৩ দশমিক শূন্য শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সপ্তাহের শেষদিনে লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ৩০ মার্চ কলমানি বাজারে গড় সুদের হার ছিল ২ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সুদের হার ছিল ১ দশমিক শূন্য শতাংশ। সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর ওইদিন মোট লেনদেন হয়েছে ৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ মানি মার্কেট ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বামডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মুদ্রাবাজারে ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি, উত্তরা ও পূবালী ব্যাংক ধারদাতা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে। আর বেসরকারি খাতের এ ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক ধার করছে। আর এবি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, ঢাকা, এনআরবিসি, মেঘনা, সাউথ বাংলা, মিডল্যান্ডসহ নতুন-পুরোনো কয়েকটি ব্যাংকের তারল্য চাহিদা মেটাতে বেশি ধার করছে।

জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরফান আলী যুগান্তরকে বলেন, করোনার শুরু থেকে সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। পর্যাপ্ত তারল্য আছে। সে কারণে ধার দিতে পারছি। তবে সার্বিকভাবে কিছুটা তারল্য সংকট আছে। কারণ করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তি এবং ডলারের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে নগদ টাকার চাহিদা অনেক বেশি। সে সঙ্গে সুদের হারও বেড়েছে।

এদিকে মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো ও অ্যাসিউরড লিকুইডিটি সাপোর্ট (এএলএস) হিসাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ধার দিচ্ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এএলএস হিসাবে মোট ১৬টি ব্যাংককে ৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা ধার দিয়েছে। এর মধ্যে রেপোর সুদহার ছিল ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আর ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এএলএস ধার দেওয়া হয়েছে। আর ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ায় ভালো অবস্থানে থাকা ধারদাতা ব্যাংকগুলো এখন কলমানির পরিবর্তে শর্ট নোটিশে দুই থেকে ১৪ দিন মেয়াদি ধার দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সুদহার ৯ শতাংশের বেশিও হতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে তারল্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জুনে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সেই হিসাবে আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতে তারল্য কমেছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ধার করছি। একই সঙ্গে ধার দিচ্ছিও। এটাই ব্যবসা। তিনি বলেন, উচ্চদরে ডলার কিনতে হচ্ছে। আমানতের সুদহার কমানোর পর অনেক ব্যাংকের আমানত চলে গেছে। রেমিট্যান্সও কমে এসেছে। আবার সামনে ঈদ। সার্বিকভাবে নগদ টাকার ওপর চাপ পড়েছে। এতে সুদের হারও গত কয়েক মাসের তুলনায় বেড়েছে। আশা করি দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে উঠবে মার্কেটটি।

কয়েকজন ট্রেজারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার এলসি দায় পরিশোধ করার জন্য প্রতিদিনই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাজার থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘোষিত দরের চেয়েও বেশি দামে ডলার কিনে এলসি দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত সবকটি ব্যাংকেই নগদ তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মান্নান লাইফ সাপোর্টে

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে লাইফ সাপোর্ট নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান যুগান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

৭২ বছর বয়সি বিএনপির এ নেতা দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র থাকা সময়ে ২০১৫ সালে বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বিভিন্ন মামলায় তিন বছর জেল খাটেন তিনি। ২০১৭ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।

পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে এমএ মান্নানের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারির মাঝামাঝি তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। ওই সময় অধ্যাপক মান্নানের ছেলে মনজুরুল করিম রনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তার বাবার মস্তিষ্কে পানি জমে থাকায় এটি কোনো কাজ করছে না। ডায়াবেটিসের অবস্থাও ভালো না থাকায় অপারেশন করতে দেরি হচ্ছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলেই অপারেশন করা হবে।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মান্নান। খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় প্রথমে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও পরে বিজ্ঞান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে গাজীপুরের প্রথম সিটি মেয়র নির্বাচিত হন মান্নান।

অধ্যাপক এমএম মান্নান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব এবং গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংক খোলা রাখা নিয়ে নতুন নির্দেশনা

ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটি পড়ে যাওয়ায় শনিবার সারা দেশে ব্যাংক খোলা থাকছে। পাশাপাশি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতনভাতা দেওয়ার সুবিধার্থে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ব্যাংক খোলা থাকবে।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের এক নির্দেশনায় বলা হয়, ঈদ উপলক্ষ্যে ব্যবসাবাণিজ্যে বাড়তি লেনদেন হচ্ছে, ফলে ব্যাংকে নগদ টাকার জমা ও উত্তোলন বেড়েছে।

পরিপ্রেক্ষিতে সবার সুবিধার্থে ৩০ এপ্রিল শনিবার সীমিত লোকবল নিয়ে সারা দেশে ‘সীমিত পরিসরে’ব্যাংক খোলা থাকবে। লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত; তবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকবে।

এর আগে ২৯ এপ্রিল শুক্রবার এবং ৩০ এপ্রিল শনিবার পোশাকশিল্প এলাকায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার নতুন সার্কুলারে শনিবার সারা দেশে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।

তেঁতুলতলা মাঠে কোনো ভবন হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর কলাবাগানের তেঁতুলতলা মাঠে আর কোনো ভবন হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে আমরা ওই জায়গাটির জন্য এপ্লাই (আবেদন) করেছিলাম। তবে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই এলাকায় খেলার জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রীও পরামর্শ দিয়েছেন, যেহেতু খালি জায়গা নেই, বিনোদনের কিছু নেই সেজন্য তিনি বলেছেন পুলিশের জমি সেভাবে থাকুক। কোনো কনস্ট্রাকশন যেন না হয়। যেভাবে চলছে চলতে থাকুক।

তেঁতুলতলা মাঠটি স্কয়ার হাসপাতালের উল্টো দিকের একটি গলিতে। এটি মূলত একটি খালি জায়গা, যা পুলিশ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়ে কলাবাগান থানার ভবন নির্মাণ করছে।

মাঠটি রক্ষার দাবিতে বুধবার সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেন আন্দোলনকারী ব্যক্তিরা। তারা আধাঘণ্টার মতো মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

‘ইসলামি দলগুলোকে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে হবে’

সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানি। সাজ্জাদানশিন ও মোন্তাজেম, দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারি, মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম। এ ছাড়া পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফিজ প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি।

শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী মাইজভাণ্ডার দরবারের এ গদিনশিন সামাজিক ও জনবান্ধব কাজে বেশ জনপ্রিয়। পীর-মুরিদির প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কিছুটা নতুনত্ব লক্ষ্য করা যায় তার কর্মকাণ্ডে। জনসাধারণের অধিকার নিয়ে কথা ও কাজ করছেন দেশজুড়েই। প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছেন দীর্ঘদিন। পেয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা।

মাইজভাণ্ডার দরবারের ইতিহাস ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে যুগান্তরের পক্ষ থেকে তার মুখোমুখি হয়েছেন- তানজিল আমির

প্রশ্ন: মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠা, উদ্দেশ্য ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাই। মাইজভাণ্ডার দরবারের যাত্রা শুরু হলো কীভাবে?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: আমি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের একজন আওলাদ ও বর্তমানে দরবারের প্রতিনিধিত্ব করছি। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানায় একটি আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার নাম মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ।

মূলত মাইজভাণ্ডার একটি প্রাচীন গ্রামের নাম। মাইজভাণ্ডার গ্রামে মগ, চাকমারা নিজেদের ধনভাণ্ডার, খাদ্যশস্য ও রসদের একটি ভাণ্ডার তৈরি করে এবং সেখানে তারা তা জমিয়ে রাখত অনেক প্রাচীনকাল থেকেই। তো সেখান থেকেই মাইজভাণ্ডার নামকরণ। এ এলাকায় কয়েকজন আল্লাহর ওলির আগমন ঘটে। যাদের পূর্বপুরুষ বাগদাদ থেকে এসেছেন।

১৫৭১ সালে আব্দুল কাদের জিলানির বংশধর সৈয়দ হামিদুদ্দিন আল কাদেরি গৌরী তিনি সে সময় বাগদাদে বিচারক ছিলেন। বাংলাদেশের তখনকার সুলতান তাকে গৌরে নিয়ে আসেন বিচারের কাজ করার জন্য। সে থেকেই তারা এ দেশেই রয়ে গেছেন। এর পর তিনি চট্টগ্রামে চলে যান। আমাদের পূর্বপুরুষরা চট্টগ্রামে ইসলামের অনেক খেদমত করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে আমাদের পূর্বপুরুষরা অবস্থান করেন।

সৈয়দ আহমাদুল্লাহ মাইজভাণ্ডারি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা সমাপন করে সে সময় ওকালতির পড়াশোনা করে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি চট্টগ্রামের বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও মুহাদ্দিস হিসাবে আত্মনিয়োগ করেন এবং যশোরে তাকে সরকার কর্তৃক বিচারবিভাগীয় কাজে নিযুক্ত করা হয়। অতঃপর তিনি সেখানে পাঁচ বছর সম্মানের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আবারও চট্টগ্রামে ফিরে আসেন ও আধ্যাত্মিকতার এক নতুন ধারার সূচনা করেন।

প্রশ্ন: মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের মাধ্যমে ২০০ বছরের মতো এ দেশে ইসলামের কাজ চলছে, তো এই দীর্ঘ সময়ে মাইজভাণ্ডার দরবারের উল্লেখযোগ্য অবদান কী কী?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: সৈয়দ আহমাদুল্লাহ মাইজভাণ্ডারি চট্টগ্রামের মানুষের মাঝে ইসলামের বাণী পৌঁছাতে শুরু করেন। বাংলার মাটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রয়োগের সুষম বণ্টনে তার অনেক অবদান রয়েছে। তখন থেকেই এই জায়গাটি একটি আধ্যাত্মিক জায়গা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ এখানে আসত। নিজেদের আত্মার শান্তি ও তৃপ্ত হৃদয় নিয়েই তারা আসা যাওয়া করত।

আল্লাহ বলেছেন, যারা আল্লাহর অনুগ্রহশীল বান্দা তাদের কাছেই আল্লাহর রহমত রয়েছে। আউলিয়া কেরামের দরবারই হচ্ছে আল্লাহর কাছে আসার উৎস। এই দরবারে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এসে নিজেদের আত্মার প্রশান্তি পেত। পাশাপাশি তারা ইসলামের আলো ও কালেমার দাওয়াতে আলোকিত হয়েছেন।

মূল কথা হচ্ছে খারাপ মানুষদের ভালো করাই আল্লাহ ওয়ালাদের কাজ। সেই চর্চাই মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে অব্যাহত রয়েছে। আমার পিতা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ এ দরবারের কার্যক্রমকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও চালু করেছেন। জাতিসংঘ থেকে ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিকভাবে যেসব সংস্থা আছে সেখানে দেশ ও ইসলামের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি সেখানে ইসলামের পক্ষে ও মদিনার সনদের আলোকে কথা বলেছেন।

২০০০ সালে ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়াস পিস পোগ্রাম যা জাতিসংঘের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেখানে তিনি গিয়েছেন। সর্বদা তিনি ইসলামের পক্ষে ও মানবতার পক্ষে কাজ করে গেছেন। আমিও সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা চেষ্টা করি মানুষকে আলোকিত করার। কারণ একজনকে আলোকিত করলে তার মাধ্যমে ১০০ মানুষ আলোকিত হবে। এ ১০০ মানুষের সঙ্গে যারা সম্পর্ক রাখবে তারাও আলোকিত হবে। এভাবে হাজার হাজার মানুষ আলোকিত হবে।

সুফিবাদের মাধ্যমে ইসলামকে ছড়িয়ে দেওয়াই মাইজভাণ্ডার শরিফের মূল উদ্দেশ্য। সুফিজমই হচ্ছে আসল ইসলাম যারা মানুষের ক্ষতি করে না। সবসময়ই কল্যাণ চিন্তা করে। কারণ ইসলাম হচ্ছে শান্তি, কল্যাণ ও সম্প্রীতির ধর্ম। সে ধারাতেই মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে যুগ যুগ ধরে পরিচালিত হচ্ছে।

এ দরবার সবসময়ই মজলুমের পক্ষে ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এ বাংলার মানুষের পাশেই ছিল মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ। বাংলার মানুষের গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে দরবারের অনুষ্ঠানের যে সূচি আছে তা বাংলা তারিখ প্রাধান্য দিয়ে বানান হয়েছে। এর মাধ্যমেই বাংলাভাষার স্বীকৃতিকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশ্ন: প্রায় ১১টি ইসলামিক দল ও আপনাদের তরিকতের দুটি দল থাকা সত্ত্বেও আপনি সম্প্রতি একটি দল গঠন করেছেন, এই দল নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: আসলে ইসলামকে ব্যবহার করে কোনো দল গঠন বা রাজনীতি করা আমার উদ্দেশ্য নয়। দেশের জন্য কিছু করা ও জনগণের জন্য কিছু করাই মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ধর্ম ও মানবতার জন্য এটি করা। আমি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি গঠন করেছি এবং এটি নিয়ে কাজ করেছি। দেশের মানুষের চাওয়া পাওয়া, মানুষের ভালোমন্দ ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাই হচ্ছে সুপ্রিম পার্টির মূল লক্ষ্য। আমরা ইনশাআল্লাহ এ দল নিয়েই সামনে এগিয়ে যাব।

আমরা চাই নতুন প্রজন্ম, যুবসমাজকে আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে। সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে। সব দলের সঙ্গেই একটি সুন্দর পরিবেশ ও দেশের মধ্যে ঐক্য সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রশ্ন: সম্প্রতি আপনার একটি মন্তব্য বেশ আলোচিত হয়েছে, ইসলামিক দলগুলো জনগণের কাছে যেতে পারেনি, অনেকটা অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এর ব্যাখ্যা কী?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক মানে অনুসারী ভিত্তিক। জনগণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি জনগণের কথা যতক্ষণ পর্যন্ত বলতে পারবেন না, সাধারণ জনগণের দুঃখ দুর্দশার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না, ততদিন পর্যন্ত আপনি যে রাজনৈতিক দলই করেন কোনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না। আমি সেটিই বুঝিয়েছি যে আমাদেরকে নিজেদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনুসারী ভিত্তিক পরিবেশের বাহিরে এসে আমাদের কাজ করতে হবে। যদি রাজনীতি করতে চান তাহলে রাজনীতির মতোই করতে হবে। যাদের জন্য বলবেন তাদের জন্যই এ কাজ করতে হবে। আমরা রাজনীতি জনগণের জন্য করি। তা যেন জনগণের জন্যই হয়। তাই নিজেদের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদেরকে সবার সামনে আসতে হবে।

প্রশ্ন: আপনার কথায় জনগণের বিষয়টি বেশি উঠে আসছে। আর আপনি মনে করছেন যে ইসলামি দলগুলো জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেনি। তো তারা কেন পারেনি এবং কী কৌশলে এগুলে এটি সম্ভব হবে বলে মনে করেন?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: মূলত জনগণের দাবিদাওয়া, মূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কিন্তু ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো কথা বলা তো দূরের কথা তারা এগুলা নিয়ে চিন্তাই করে না। পাশাপাশি দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোও এসব বিষয় নিয়ে নিশ্চুপ।

আমরা দেখেছি কিছুদিন আগে তাজিকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়াতে সেখানে কি ভয়াবহ বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানের মানুষ এত সচেতন যে সরকারও পালটে ফেলেছে আন্দোলন করে। এজন্য আমাদেরকে মানুষের কথা ও মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণের পারিবারিক দুরবস্থা, অর্থনৈতিক সমস্যা হচ্ছে তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলা উচিত।

আমি অব দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল বলব অথচ তাদের কোনো কথাই যদি আমি না বলি বা তাদের কষ্ট অনুধাবন না করি তাহলে রাজনীতির নাম ব্যবহার করাটা যুক্তিযুক্ত হবে না।

প্রশ্ন : বাংলাদেশে পির-মুরিদিকেন্দ্রিক যেসব রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে তাদেরকে মুরিদরা পির হিসাবে যতটা গ্রহণ করে নেতা হিসাবে ততটা নয়, ভোটের ক্ষেত্রেও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। আপনিও কি তাই মনে করেন?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: বিএনপিসহ কয়েকটি দল নির্বাচন বর্জন করার কারণে ভোটের আসল চিত্রটি এখন সেভাবে ফুটে ওঠে না। কিন্তু সব দল যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তখন আসলে ভোটের চিত্র অন্যরকম হবে। সে হিসাবে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি।

এর কারণ একটিই, জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভাব। ওয়াজ নসিহত ভিত্তিক বা পিরমুরিদি ভিত্তিক, মাদ্রাসাকেন্দ্রিক যেসব কার্যক্রম তারা ধরে রেখেছে সে হিসাবে জনগণের সুখ-দুঃখে তাদেরকে খুব একটা বেশি দেখা যায়নি। আমরা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির পক্ষ থেকে সেই পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি।

আমরা চাই সবাই যেন এভাবেই নিজেদেরকে পরিবর্তন করে মানুষের জন্য কাজ করতে পারি, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হবে মানুষের সেবা। রাজনীতি করলে যেন মানুষের জন্য করা হয় নিজের জন্য না করা হয়।

প্রশ্ন: সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন র্যা বের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, বিষয়টি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসাবে আপনি কিভাবে দেখেন?

সাইফুদ্দীন আহমেদ আল হাসানি: দেখুন, এ দেশে উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে র্যা বের অনেক ভূমিকা আছে তা অনস্বীকার্য। দোষ-গুণ সবারই আছে। ভালোমন্দ মিলিয়েই সবকিছু। দেশে এখন যে সার্বিক উন্নতি হচ্ছে অনেকের কাছেই এগুলো চক্ষুশূল। অনেক দেশ তা মানতে পারছে না। অনেক দেশ তাদের প্রবৃদ্ধিও ধরে রাখতে পারছে না করোনার জন্য। অনেকের অর্থনৈতিক ধস পড়েছে। সেখানে বাংলাদেশের এমন উন্নতি বা মানুষের যেই অর্থনৈতিক সচ্ছলতা তা অনেকের কাছে হিংসার কারণ হয়েছে। যেমন শ্রীলঙ্কায় একটি বিরাট অর্থনৈতিক ধস চলছে। সে তুলনায় বাংলাদেশে উপর আল্লাহর রহমত আছে। এ দেশের মাটিতে অনেক আউলিয়া কেরাম শায়িত আছেন।

উলামায়ে কেরাম অনেকেই দুনিয়াতে না থাকলেও তাদের দোয়া কিন্তু আছে আমাদের উপর। পাশাপাশি খুব অল্প সময় আউলিয়া কেরামের দোয়ার ফসলে এ দেশ মাত্র নয় মাসে স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তানের এক লাখ সৈন্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে তারা পারেনি। অথচ সেই সৈন্য দিয়ে দশ বছর যুদ্ধ করা যায়। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা বিজয় লাভ করেছি। তো এগুলো আমাদের বুঝতে হবে। আধ্যাত্মিক বিষয় আসলে এগুলো। এসব নিষেধাজ্ঞা দিলেও আল্লাহ যদি আমাদের উপর মেহেরবানি করেন তাহলে কোনো নিষেধাজ্ঞাই আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।

তবে আমাদের দেশের বিশ্বাসঘাতক শ্রেণির কিছু মানুষের কারণে ভুল তথ্য যাচ্ছে বিদেশে। যা সামগ্রিকভাবে কিন্তু দেশেরই ক্ষতি। এগুলো করে দেশের কল্যাণ হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের কাজ করছে। কারও বিষয় নিয়েই কারও মাথা ঘামানো উচিত না। আমেরিকা এখন মানবতার কথা বলছে অথচ তাদের বিষয়গুলো যদি আমরা তুলে ধরি যে সিরিয়া ইরাকে তারা কি করেছে? পারমাণবিক বোমার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুরো ইরাক তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।

লিবিয়াকে কিভাবে তারা ধ্বংস করেছে। এই যে তারা অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে সেখানকার লাখ লাখ মানুষকে তারা শরণার্থী বানিয়ে দিয়েছে। মানবেতর জীবন যাপন করছে সেখানকার অসহায় মানুষগুলো। তো আমেরিকা এখন কিভাবে মানবিকতার ঢোল পিটায়। আরেকজনকে হেদায়াত দেয়ার আগে দেখতে হবে আমি হেদায়াতের উপর আছি কিনা। এখন তাদের মধ্যেই আমরা কোনো হিউম্যান রাইটসের লেশও দেখি না। অথচ তারা এখন আমাদের দেশের মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করে। একটা দেশের মধ্যে অনেক কিছুই হয়। আমরা তো তাদের মতো অন্য দেশ ধ্বংস করিনি।

আজ আমেরিকা লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানকে তারা নরক বানিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। তাদের চক্রান্তেই আজ লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী জীবন পার করছে। এরা সবাই মুসলমান। মুসলিম দেশগুলোকে এরা ধ্বংস করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তো বাংলাদেশ ৩য় মুসলিম প্রধান দেশ, বিশ্বে তো আমাদের ইমান মজবুত আছে।

ইনশাআল্লাহ আগামী ৫/১০ বছরের মধ্যে আমাদের যেই অর্থনৈতিক রোডম্যাপ আছে সে হিসাবে এগিয়ে চললে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। বাংলাদেশকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।

অনুলিখন করেছেন- কাজী আব্দুল্লাহ

হিট স্ট্রোক কেন হয়, কী করবেন

এই ঋতুতে হিট স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। প্রচন্ড গরমে অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। প্রতিকারের উপায় জানা থাকলে হিট স্ট্রোক থেকে বেচে থাকা যায়।

হিট স্ট্রোক কী, কেন হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. তানভীর আহমেদ।

হিট স্ট্রোক এক ধরনের হাইপারথার্মিয়া। হাইপার হচ্ছে অধিক মাত্রা, আর থার্মিয়া মানে তাপ। শরীরে অধিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেই বলা হয় হিট স্ট্রোক।

আমাদের শরীরের ভেতরে নানা রাসায়নিক ক্রিয়ার কারণে সব সময় তাপ সৃষ্টি হতে থাকে। ঘামের সাহায্যে সেই তাপ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু একটানা রোদে থাকলে গরমে ঘামের সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়।

শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে যাওয়ায় ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ঘামের সঙ্গে লবণ বেরিয়ে যাওয়াতে লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। যার ফলে শরীরকে করে তোলে অবসন্ন ও পরিশ্রান্ত।

এতে মাথাঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারেন অনেকেই। তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে মৃত্যুও হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাচ্চা, বয়স্ক ও যারা ওবেসিটিতে ভুগছে তারা হিট স্ট্রোকে সহজেই আক্রান্ত হয়।

প্রতিকারে কী করবেন

যতটুকু সম্ভব এই গরমে রোদে কম বের হতে হবে। একান্তই বের হতে হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখা দরকার ও মাঝে মাঝে পানি পান করা উচিত। তা না হলে শরীর অবসন্ন মনে হওয়া মাত্রই ছায়াযুক্ত বা শীতল কোনো স্থানে বিশ্রাম করতে হবে।

যদি অবস্থা খারাপ মনে হয় তাহলে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় শরীর মুছে দিতে হবে। খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে, যাতে শরীরের লবণ ও জলের শূন্যতা দূর করতে পারে। অজ্ঞান হয়ে গেলে বা মাথা ঘোরালে মাথায় পানি ঢালতে হবে। তাতেও যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ ছাত্রদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, খুঁজতে তদন্ত কমিটি

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না- তা খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ।

গতকাল (২৫ এপ্রিল) তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তাদের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গণিত বিভাগের অধ্যাপক অখিল চন্দ্র বিশ্বাসকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়।

১৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়, আহত হন দুপক্ষের লোকজন, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।

ঢাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এটিএম মইনুল হোসেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের ছাত্রদের সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খুঁজে দেখার জন্য কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।

এবার নেটফ্লিক্সে আলিয়ার ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি’

ওটিটি প্ল্যাটফরম নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে আলিয়া ভাট অভিনীত ‘গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি’। ষাটের দশকে মুম্বাইয়ে গাঙ্গুবাঈয়ের উত্থান কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এ ছবি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সঞ্জয় লীলা বানসালি।

বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফরমেও হাজির হয়েছে গাঙ্গুবাঈ। দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে।

সম্প্রতি সিনেমাটির নির্মাতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ ভিডিও শেয়ার করেন। ওটিটিতে মুক্তি উদযাপনের জন্য বিভিন্ন গানের শুটিংয়ের দৃশ্য সামনে আনা হয়।

ওটিটিতে দেখা যাচ্ছে আলিয়ার ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে সে খবর নিজেই দিলেন। গাঙ্গুবাঈকে চাঁদের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তাই অভিনেত্রীর পোস্টেও চাঁদের ইমোজি দেখা গেল।

গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি ছবির গল্প শুরু হয় ভারত স্বাধীনের কয়েক বছর পর। মুম্বাইকে তখন বম্বে বলা হতো। সিনেমার চুম্বকে এখনকার মতোই তখনও কত স্বপ্ন শুধুই বম্বেগামী।

কাথিয়াওয়াড়ির ব্যারিস্টারের মেয়ে গঙ্গা হরজীবনদাসও নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে। অভিনয় করবে দেবানন্দের সঙ্গে। গঙ্গার সেই স্বপ্নকে ইন্ধন দেয় তার প্রেমিক রমনিক লাল। সে গঙ্গাকে বোঝায়, স্বপ্ন সত্যি করতে হলে বম্বে যেতে হবে। বাড়িতে কাউকে না জানিয়েই যেতে হবে। কারণ বাড়ির কেউ এ পরিকল্পনার কথা জানলে স্বপ্ন পূরণের আর কোনো সম্ভাবনাই থাকবে না।

রমনিকের হাত ধরে গহনা, টাকা-পয়সা নিয়ে বাড়ি ছাড়ে গঙ্গা। ট্রেনে চেপে এসে পৌঁছায় মায়ানগরীতে। গন্তব্য রমনিকের মাসির বাড়ি। কিন্তু মাসির বাড়িতে ঢুকতে গিয়েই মনটা কেমন করে ওঠে গঙ্গার। বাড়ির এ কেমন চেহারা? এরা কেমন নারী? রমনিক গঙ্গাকে বসিয়ে রেখে কোথায় গেল?

গঙ্গা রমনিকের মাসির মুখোমুখি হয়। ছুটে যেতে চায় রমনিকের কাছে। কিন্তু কোথায় রমনিক? নিয়তি নিষ্ঠুর হাসি হাসে। রমনিক গঙ্গাকে হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে নিষিদ্ধপল্লী কামাথিপুরায়। এর পর গঙ্গার মৃত্যু হয়, জন্ম নেয় গাঙ্গুবাঈ।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ভিকির সাফল্যে গর্বিত ক্যাটরিনা

বলিউড তারকা ভিকি কৌশলের ছবি ‘সরদার উধাম’ ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাকাডেমি (আইফা) ২০২২ টেকনিক্যাল অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। স্বামীর এমন সাফল্যে যারপরনাই খুশি বলিউড সেনসেশন ক্যাটরিনা কাইফ।

মঙ্গলবার আইফা অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয় ভিকির ছবিটি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিকিকে মেনশন করে খবরটি শেয়ার করেন ক্যাটরিনা। কিছুক্ষণ পর আবার ভিকিও তার স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দেন।

এবারের আইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটি ২০ ও ২১ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও টেকনিক্যাল পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয় মঙ্গলবার। এতে পুরস্কার জিতে নেয় সুজিত সরকার পরিচালিত ভিকির ছবিটি। তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে। ক্যাটাগরিগুলো হচ্ছে— সেরা সিনেমাটোগ্রফি, এডিটিং ও স্পেশাল ইফেক্ট। আর এই ছবিটি অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি পুরস্কার জেতার তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে।

এ ছাড়া এই অ্যাওয়ার্ডে সারা আলি খান, ধানুশ এবং অক্ষয় কুমারের ‘আতরঙ্গি রে’ ছবিটি সেরা কোরিওগ্রাফি এবং সেরা পটভূমি স্কোরের জন্য দুটি পুরস্কার জিতেছে।
উল্লেখ্য, ২০ ও ২১ মে আবুধাবির ইয়াস দ্বীপে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে।

ভিকি কৌশল বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দিন দিন জায়গা করে নিচ্ছেন। তিনি সম্প্রতি লক্ষ্মণ উতেকারের ‘ইয়েট টু বি টাইটেড’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। ছবিটিতে ভিকির সঙ্গে প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে সারা আলি খানকে। আর পতৌদি রাজকুমারীর প্রথম সহযোগী অভিনয়ে দেখা যাবে।