বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 299

`অবৈধ মজুতদারদের ছাড় নয়’

বাজারে কোনো পণ্যে সরবরাহ কমামাত্রই কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে ব্যস্ত থাকে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুদ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফার লোভে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির সময়ে মৌসুমি ফল তরমুজ নিয়েও একই ঘটনা ঘটেছে। ক্যাব বলছে, ব্যবসায়ীরা শতকরা ৪০%-এরও বেশি লাভ করেন।

বাংলাদেশে এই মুনাফালোভীদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি বাড়ে রোজার মাসে। সরবরাহ ঠিক থাকার পরেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটকরে দাম বাড়িয়ে দিয়ে মুনাফা লুটে। আর এর জন্য তারা কখনো সরবরাহ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে আবার কখনো পণ্য মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। মুনাফালোভীরা শুধু রমজান মাস নয়, সবসময়ই অজুহাত খোঁজেন। যেমন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের খবর এলেই বাজারে পেয়াজের দাম কেজি প্রতি ১০ টাকা বেড়ে যায়। অথচ দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজের মজুত আছে। দেশে গমের মজুতে এখনো ঘাটতি না পড়লেও বাজারে দাম বাড়ছে। চালেরও একই অবস্থা।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্পেনে অবস্থান করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি। স্পেন সফরকালে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা সব সময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকে, সেক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা তাদের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে, জরিমানা করে, জেল দেয় তবে সরবরাহ ঠিক থাকলে এ সুযোগটা কেউ নিতে পারে না। সরবরাহ কম হলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়; তবে এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি, কেউ যদি অবৈধ মজুত করে তাদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে শাস্তি ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন দুইজন ব্যবসায়ী এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা। ব্যবসায়ীরা হলেন আক্তার গ্রুপের চেয়ারম্যান ডক্টর কেএম আক্তারুজ্জামান (সিআইপি) এবং এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন আহমেদ। সরকারি কর্মকর্তা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার।

‘পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে ১৯ শিক্ষার্থীসহ ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১০ দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে দুটি বন্দুক হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

ওবামা বলেন, দেশজুড়ে বাবা-মায়েরা সন্তানদের বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বিভিন্ন গল্প শোনান। ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনান। কিন্তু তাঁদের মনের মধ্যে অনিশ্চয়তা চলতে থাকে। কাল সন্তানদের স্কুলে দিয়ে আসার পর, মুদিদোকানে নিয়ে যাওয়ার পর কিংবা অন্য যেকোনো জনপরিসরে রেখে আসার পর কী ঘটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন তারা।

ওবামা বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। এ বন্দুক হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভও জানিয়েছেন তিনি।

বারাক ওবামা বলেন, স্যান্ডি হুকের ঘটনার প্রায় ১০ বছর এবং বাফেলোর ঘটনার ১০ দিন পর আমাদের দেশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে নয়, বরং আগ্নেয়াস্ত্রের পৃষ্ঠপোষক এবং একটি রাজনৈতিক দলের কারণে এমনটা হয়েছে। তারা এসব মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকাতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আগ্রহ দেখায়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক আগেই এ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হতো। যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

২০১৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিবিসিকে ওবামা বলেন, তাঁর প্রশাসন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে সংস্কার আনতে ব্যর্থ হয়েছে। একে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের মেয়াদকালের সবচেয়ে বড় হতাশা বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। বিবিসির জন সোপেলকে তিনি বলেছিলেন, এ ইস্যুর সমাধান না করতে পারাটা আমাদের জন্য কষ্টকর।

গত মঙ্গলবার সাউথ টেক্সাসের উভালদে শহরের যে স্কুলে হামলা চালানো হয়েছে, সেটির নাম রব এলিমেন্টারি স্কুল। এর আগে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট জানিয়েছিলেন, গুলিতে ১ শিক্ষক ও ১৪ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। সালভাদর রামোস নামের ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ ওই হামলা চালিয়েছেন।

এ হামলার ১০ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোর একটি সুপারমার্কেটে গুলি চালানো হয়। এতে ১০ জন নিহত হন। ওই সময় যিনি গুলি চালিয়েছিলেন, তার বয়সও ছিল ১৮। পুলিশ ধারণা করছে- সেটি ছিল বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে এর আগেও হামলা হয়েছে। তবে গত ১০ বছরে যেসব হামলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম টেক্সাসের এ হামলা। এর আগে ২০১২ সালে কানেকটিকাটে একটি স্কুলে হামলা চালানো হয়। ওই হামলা ২০ শিশুসহ ২৬ জন নিহত হন। নিহত ওই শিশুদের বয়স ছিল ১০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ২০১৮ সালে ফ্লোরিডার একটি স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন থাইরয়েড, কী করবেন?

থাইরয়েড হলো গলার দুই পাশে থাকা একটি বিশেষ গ্রন্থি। এই গ্রন্থির কাজ হল- আমাদের শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) উৎপাদন করা। শরীরের জন্য এ থাইরয়েড হরমোনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে কম বা বেশি হরমোন উৎপাদিত হলেই শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করে।

থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হলে বলা হয় হাইপারথাইরয়েডিসম। থাইরয়েড হলে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। আপনার শরীরে যদি এসব লক্ষণের কোনোটা দেখতে পান, তবে বুঝবেন থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন।

থাইরয়েড হরমোনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে স্নায়ুর পরিপক্বতা। এজন্য গর্ভাবস্থায় থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতায় গর্ভের বাচ্চা বুদ্ধিদীপ্ত হয় না। যেসব উদ্দীপনায় বিপাক ক্রিয়া বেড়ে যায় যেমন-যৌবনপ্রাপ্তি, গর্ভাবস্থা, শরীরবৃত্তীয় কোনো চাপ-ইত্যাদি কারণে থাইরয়েড গ্লান্ডের আকারগত বা কার্যকারিতায় পরিবর্তন হতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
ডা. শাহজাদা সেলিম।

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে মূলত দুধরনের সমস্যা দেখা যায়-গঠনগত ও কার্যগত। এটা বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশ পেতে পারে। গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার বা গলগণ্ড বলা হয়; এছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডে গোটা বা নডিউল এবং ক্যান্সার হতে পারে।

কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে, যা হলো থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা হাইপারথায়রয়েডিজম এবং কার্যকারিতা হ্রাস বা হাইপোথায়রয়েডিজম। এছাড়া থাইরয়েড গ্লান্ডের প্রদাহ বা থাইরয়ডাইটিস হতে পারে। হাইপারথাইরয়ডিজম রোগে থাইরয়েড গ্লান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে। থাইরয়েড গ্লান্ডের অতিরিক্ত কার্যকারিতার ফলে প্রচণ্ড গরম লাগা, হাত পা ঘামা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, খাওয়ার রুচি স্বাভাবিক বা বেড়ে যাওয়ার পরও ওজন কমে যাওয়া, ঘন ঘন পায়খানা হওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাইপোথায়রয়ডিজমের লক্ষণ : অবসাদগ্রস্ত হওয়া, ত্বক খসখসে হয়ে যায়, ক্ষুধা মন্দা, চুল পড়া। ওজন বেড়ে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, শীত শীত ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ বাড়া, মাসিকের সমস্যা ইত্যাদি। বন্ধ্যত্ব সমস্যা হতে পারে। গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না।

থাইরয়েড ক্যান্সার : থাইরয়েড গ্রন্থির কোনো অংশের কোষসংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে থায়রয়েড ক্যান্সার বলে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অংশবিশেষ ফুলে ওঠা মানেই ক্যান্সার নয়। থাইরয়েড ক্যান্সারে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে : গলার সম্মুখভাগে ফুলে ওঠা। ফোলা অংশটি বেশ শক্ত হয়। একটি বা একাধিক টিউমার হতে পারে। উভয় পাশে টিউমার হতে পারে, আশপাশের লিঙ্ক নোডগুলো ফুলে উঠতে পারে। ওজন কমে যায়।

খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে। গলার স্বর মোটা বা ফ্যাসফেসে হতে পারে। তবে থাইরয়েড নোডিউল বা ক্যান্সার ছাড়াও গলার সামনে ফুলে উঠতে পারে। শ্বাসনালির ওপর চাপ সৃষ্টির ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ক্যান্সার শনাক্ত হলে বা ক্যান্সার আছে এমন সন্দেহ হলে অতিদ্রুত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ বা থাইরয়েড অপারেশনে পারদর্শী কোনো সার্জনের কাছে যেতে হবে।

কী খাবেন

সবুজ শাকসবজি

সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিনের খাবার রেসিপিতে সবুজ শাকসবজি রাখুন। সবুজ শাকসবজিতে রয়েছে ভিটামিন ও ক্লোরোফিলের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই দুটি উপাদান শরীরের কার্যকারিতা বাড়ায় ও শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে থাইরয়েডের কার্যক্রম ধরে রাখে। এছাড়া থাইরয়েডের দুর্বলভাব দূরে করে শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

সামুদ্রিক সবজি

আয়োডিন সমৃদ্ধ সামুদ্রিক সবজিতে রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ উপাদান। এসব সবজি থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়ানো, শরীরে থাইরক্সিন অত্যাবশ্যক এবং এটা গঠনে আয়োডিন সাহায্য করে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

দেহ সুস্থ রাখতে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের জুড়ি নেই। থায়রয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়াতে দই খাওয়া যেতে পারে। দইয়ে আছে আয়োডিন এবং প্রোবায়োটিক যা থাইরয়েডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রাখে। এছাড়া ডিম, জিংক থাইরয়েডের কার্যকারিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

থায়রয়েড সুস্থ রাখতে যেসব খাবার খাবেন না

কিছু খাবার রয়েছে যা কখনোই খাবেন না। এসব খাবার এড়িয়ে চলছে ভালো থাকবে আপনার থায়রয়েড। গ্লুটেইন , শষ্য-জাতীয় খাবার যা আঁশ সমৃদ্ধ, চিনি ও কড়া ভাজা খাবার ও সয়া-ধর্মী খাবার একদমই খাবেন না।

কখন চিকিৎসা প্রয়োজন

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি যা সাধারণত আয়োডিনের অভাব থেকে হয়। থাইরয়েড হরমোনে অতিরিক্ত নিঃসরণের ফলে গ্রন্থির আকার বৃদ্ধি পায়। থাইরয়েড গ্রন্থির টিউমার ও ক্যান্সার।

গরমের রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার উপায়

গ্রীষ্মকালে কিছু রোগ দেখা দেয়। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও জীবনাচারে কিছু বদল আনলে এসব রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

অতিরিক্ত গরম সব সময়ই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত তাপ যে কোনো বয়সের বিশেষ করে শিশু ও যাদের বয়স ৬০-এর কাছাকাছি বা তার চেয়ে বেশি তাদের ঝুঁকি এ সময় সবচেয়ে বেশি থাকে।

গরমে শারীরিক অস্বস্তি ও নানা রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। একটু সচেতন হলেই আমরা এসব রোগবালাই থেকে দূরে থাকতে পারি। তবে সময়মতো সচেতন না হলে অনেক সময় তা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

গ্রীষ্মকালীন রোগ ও প্রতিকারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও মাদ্রাজের শ্রী বালাজী মেডিকেল ইউনিভর্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর ডা. এইচ, এন, সরকার।

প্রতিটি ঋতু তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে। প্রতিটির একটি কমনীয় এবং উপভোগ্য দিক রয়েছে, সেসঙ্গে একটি অস্বস্তিকর এবং ক্ষতিকারক দিকও রয়েছে। গ্রীষ্মকালও এর ব্যতিক্রম নয়। গ্রীষ্মের গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়া অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে আমরা এগুলো এড়াতে পারি।

পানিশূন্যতা (Dehydration)

গ্রীষ্মকালে শরীর অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে তাপ নির্গত করে মূল তাপমাত্রাকে স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করে। ফলে শরীরে তরলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যাকে আমরা পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন বলি। পানিস্বল্পতার লক্ষণগুলো হলো-

* সব সময় তৃষ্ণার্ত অনুভব করা

* অল্প এবং গাঢ় আভাযুক্ত প্রস্রাব

* মাথাব্যথা

* দিশেহারা ভাব

নিয়মিত বিরতিতে প্রচুর পানি পান করে আমরা এই লক্ষণগুলো প্রতিরোধ করতে পারি। কচি ডাবের পানি বা ‘লস্যি’ও পান করতে পারি। তরমুজ, আঙুর, পেঁপে বা আমের মতো অনেক পানিযুক্ত ফল খেতে পারি যা আমাদের শরীরের পানিকে পুনরায় পূরণ করতে পারে।

মাথাব্যথা (Headache)

ডিহাইড্রেশনের ফলে গ্রীষ্মকালে মাথাব্যথা একটি সাধারণ ব্যাপার, যা গ্রীষ্মকালীন মাথাব্যথা নামে পরিচিত। পানিস্বল্পতা পূরণ করে মাথাব্যাথা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

তাপজনিত রোগ (Heat-related diseases)

গরমে মৃদু থেকে তীব্র তাপজনিত রোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটি সূর্যালোক-সম্পাতের কাল এবং পরিশ্রমের মাত্রার ওপর নির্ভর করে। এগুলো হলো-

* তাপ ক্র্যাম্প (Heat cramp)

গরম তাপমাত্রায় অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে প্রচুর ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণ (সোডিয়াম) বেরিয়ে যাওয়ার ফলে বেদনাদায়ক পেশি সংকোচন ঘটে। লবণবিহীন শুধু পানি পান করলে এটি আরও বৃদ্ধি পায়। এ ক্ষেত্রে শরীরের মূল তাপমাত্রা (core temperature) বৃদ্ধি পায় না। লক্ষণগুলো দেখা দিলে খাবার স্যালাইন খেলে দ্রুত উপশম হয়।

* তাপ সিনকোপ (Heat syncope)

গরম আবহাওয়ায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে শরীরের বাইরের দিকের রক্তনালি প্রসারণের ফলে রক্তচাপ কমে যায়, ফলে মস্তিষ্কে কম রক্ত প্রবাহিত হয়, তখন কোনো ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। তখন ওই ব্যক্তিকে ছায়ার নিচে সরিয়ে নিতে হবে এবং ফ্যান চালিয়ে দিলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।

* তাপ নিঃশেষণ (Heat exhusion)

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ পরিশ্রম করলে তাপ নিঃসরণ ঘটে। প্রচুর ঘাম এবং অপর্যাপ্ত লবণ ও পানি প্রতিস্থাপনের ফলে কোর (মলদ্বার) তাপমাত্রা ৩৭০ থেকে ৪০০-এর মধ্যে বৃদ্ধি পায়, যার ফলে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা দেয়-

* ত্বক গরম এবং ঘাম হয়

* মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, বিরক্তিভাব

* ডিহাইড্রেশন, দ্রুত নাড়ির গতি

এ রকম পরিস্থিতিতে রোগীকে তাপ থেকে ছায়ায় নিয়ে যেতে হবে। কাপড়-চোপড় খুলে ঠান্ডা পানি স্প্রে করে ফ্যান ছেড়ে শীতল করতে হবে। পানিস্বল্পতা পূরণের জন্য খাবার স্যালাইন খেতে দিতে হবে বা শিরায় স্যালাইন দিতে হবে। চিকিৎসা না করা হলে, তাপ নিঃসরণ হিট স্ট্রোকে পরিণত হতে পারে।

হেই ফিভার (Hay fever)

হেই ফিভার এক ধরনের অ্যালার্জি। এটি বিশেষত গ্রীষ্মের শুরুতে দেখা যায়, যখন ফুল ফোটে এবং পরাগ আপনার শরীরের সংস্পর্শে আসে। এর লক্ষণগুলো হলো-

* নাক আটকে যাওয়া এবং চোখ দিয়ে পানি পড়া

* কাশি এবং হাঁচি

* নাক দিয়ে পাতলা পানি পড়া

* ক্লান্তি এবং জ্বর

বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করে পরাগের সংস্পর্শ এড়িয়ে এটি প্রতিরোধ করতে পারি। যদি এটি ঘটে, তবে ফেক্সোফেনাডিনের মতো অ্যান্টিহিস্টামিন দ্বারা উপসর্গগুলো হ্রাস করা যেতে পারে। আপনি যদি অ্যালার্জি প্রবণ হন, তবে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন, কিছু ওষুধ হাই ফিভার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

হাঁপানির আক্রমণ (Asthma attacks)

গ্রীষ্মের শুরুতে হাঁপানির আক্রমণ বেশি দেখা দেয় যখন ফুল ফোটে এবং ফুলের রেণু বাতাসে উড়ে বেড়ায়, বিশেষ করে অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে। আপনার যদি হাঁপানি থাকে আপনি বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করে পরাগের সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে পারেন।

ফ্লু (Flu)

ফ্লু গ্রীষ্মের দিনের একটি সাধারণ রোগ। দুইভাবে এটি হতে পারে। খাদ্য ও পানিবাহিত জীবাণুর মাধ্যমে।

খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food poisoning)

গ্রীষ্মকালে খাদ্যে বিষক্রিয়া বেশি হয় যখন সালমোনেলা এবং ক্লোস্ট্রিডিয়ামের মতো কিছু বিপজ্জনক অণুজীব খাদ্যে বৃদ্ধি পায়।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ হলো-

* পেট ব্যথা

* বমি বমি ভাব এবং বমি

* ডায়রিয়া

* জ্বর

কম রান্না করা মাংস, কাঁচা শাকসবজি, মাছ এবং ফাস্ট ফুড এড়িয়ে এটি প্রতিরোধ করা যেতে পারে। যদি এটি ঘটে খাবার স্যালাইন খাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা এবং টাইফয়েড

ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরা এবং টাইফয়েড হলো পানিবাহিত রোগ যা গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বেশি দেখা যায় এবং দূষিত খাবার বা পানি এড়িয়ে চলার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা যায়।

ত্বকের রোগ (Skin diseases)

* ঘামাচি : গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে সাধারণ চর্মরোগগুলোর মধ্যে একটি হলো ঘামাচি। ঘামাচি বাচ্চাদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের হয়। ত্বকে লাল ফুসকুড়ি হয় এবং এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে পারে এবং অতিরিক্ত চুলকানির কারণ হতে পারে। এ অবস্থার সৃষ্টি হয় যখন একজন ব্যক্তি প্রচুর পরিমাণে ঘামে এবং ঘামে। ভেজা কাপড় ত্বকে ঘষতে থাকে যার ফলে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি হয়। ঘামাচি থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে ত্বক শুষ্ক রাখতে হবে। ঘর্মাক্ত জামাকাপড় সময়মতো পরিবর্তন করুন এবং ত্বককে শুষ্ক রাখতে ভালো ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করুন।

* রোদে পোড়া (Sunburns)

যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য সূর্যালোতে কেউ থাকেন, তখন ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UVA, UVB) সূক্ষ্ম ত্বকে প্রবেশ করে সানবার্ন নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায় এবং চুলকায়। সঙ্গে বমি বমি ভাব, জ্বর বা ঠান্ডা থাকতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে পোড়া গুরুতর, সেখানে ফোস্কা পড়তে পারে এবং অবস্থার উন্নতি হলে ত্বকে খোসা উঠতে পারে। রোদে বেরোনোর প্রায় ২০ মিনিট আগে একটি শক্তিশালী (এসপিএফসহ) ভালো সানস্ক্রিন লোশন প্রয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া ত্বকের আর্দ্রতা সঠিকভাবে বজায় রাখুন।

ব্রণ (Acne)

গ্রীষ্মে ব্রণ হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। কারণ শরীর ঠান্ডা রাখতে শরীরে বেশি ঘাম তৈরি করে। ঘামের অতিরিক্ত উৎপাদন সেবেসিয়াস গ্রন্থিগুলোকে ত্বককে আর্দ্র রাখতে আরও তেল উৎপাদন করতে উদ্দীপিত করে, ফলে সেবেসিয়াস গ্রন্থিমুখ আটকে যায় এবং ব্রণ সৃষ্টি করে। দিনে বারবার মুখ ধোয়া ত্বককে তেলমুক্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে ব্রণ কম হবে।

সংক্রমণ (Infection)

হাম (Measles)

হাম একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি এবং গায়ে লাল লাল দানা। শিশুরা সাধারণত হামে আক্রান্ত হয়। হামের টিকা এবং আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা যায়।

মাম্পস (Mumps)

মাম্পস একটি ছোঁয়াচে এবং মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা গ্রীষ্মকালে ব্যাপক আকার ধারণ করে। এটি সংক্রমিত ব্যক্তি যখন হাঁচি বা কাশি দেয় তখন প্রতিবেশীদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। কানের সামনের প্যারোটিড গ্রন্থিকে আক্রান্ত করে, যার ফলে গ্রন্থি ফুলে যায়, ব্যথা এবং জ্বর হয়। মাম্পস ভ্যাকসিন এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানোর মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা যায়।

জলবসন্ত (Chicken Pox)

গ্রীষ্মের অন্যতম মারাত্মক রোগ হলো চিকেন পক্স। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। জলবসন্তে সারা শরীরে ছোট ছোট পানিভর্তি ফোস্কা দেখা দেয়। জলবসন্ত সাধারণত ছোট শিশুদের আক্রান্ত করে; কখনো কখনো প্রাপ্তবয়স্ক লোক, ডায়াবেটিসের রোগী, ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের হতে পারে। এ সংক্রামক রোগটি বায়ুবাহিত কণার মাধ্যমে ছড়ায় যা সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বা সরাসরি সংক্রমিত ব্যক্তির সহচার্যে এলে ছড়ায়। কখনো কখনো সংক্রমণ সুপ্ত থাকতে পারে যতক্ষণ না সংক্রমণ করার জন্য উপযুক্ত আবহাওয়া তৈরি হয়।

চিকেনপক্সের ভ্যাকসিন নিয়ে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির সহচার্য এড়িয়ে জলবসন্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মশার কামড়ে সংক্রমিত রোগ (Infections caused by mosquito bite)

মশার কামড়ে সংক্রমিত রোগ যেমন ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়াও গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা যায়, কারণ এটি মশার প্রজনন মৌসুম। মশা নিধন, তাদের প্রজনন স্থান অপসারণ এবং মশার কামড় এড়ানোর মাধ্যমে এ রোগগুলো প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

নেত্রদাহ (Sore Eyes)

চোখ ব্যথা বা কনজাক্টিভাইটিস হলো ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা অ্যালার্জির ফল, যা কনজাক্টিভার প্রদাহের সৃষ্টি করে এবং ৪-৭ দিন থাকে। চোখ ব্যথা করে এবং লাল হয়ে যায়। এগুলো সাধারণত ভাইরাস দিয়ে হয় এবং এটি একটি সংক্রামক রোগ। যদি পরিবারের এক ব্যক্তির এটি হয়, তবে সবারই হতে পারে। চোখ স্পর্শ করার আগে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ। দিনে কয়েকবার ঠান্ডা পানি দিয়ে আক্রান্ত চোখ ধুলে আরাম পাওয়া যায়।

গ্রীষ্মকালীন বিষণ্নতা (Summer depression)

জলবায়ুর পরিবর্তন এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু মানুষের মেজাজ পরিবর্তন হতে পারে। কিছু কিছু মানুষ গ্রীষ্মকালে বিচ্ছিন্নতায় ভোগে। তাপমাত্রা কমে গেলে বর্ষা এলে বিষণ্নতা কেটে যায়।

অতিরিক্ত গরম থেকে জন্ডিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি

জন্ডিস আরেকটি মারাত্মক রোগ যা গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বেশি দেখা যায়। দূষিত খাবার বা জল গ্রহণ করলে যে কারও জন্ডিস হতে পারে। হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস দূষিত খাবার বা জল-এর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির মল দ্বারা পানি বা খাবার দূষিত হয়। জন্ডিস গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং জীবনকে বিপন্ন করতে পারে। জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

* ত্বক এবং চোখের হলদে ভাব

* হলুদ রঙের প্রস্রাব

* চুলকানি ইত্যাদি।

এ সংক্রমণ এড়াতে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো এ ধরনের সংক্রমণের সংস্পর্শ এড়ানো অর্থাৎ দূষিত খাবার বা পানি এড়ানো। হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করুন।

গরমে হিট স্ট্রোক থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে

যখন শরীরের মূল তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে বেড়ে যায়, তখন হিটস্ট্রোক ঘটে এবং এটি একটি জীবন হুমকির অবস্থা। হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো হলো-

* রোগীর ত্বক খুব গরম অনুভূত হয় এবং ঘাম থাকে না

* মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি

* মাংসপেশি কাঁপুনি এবং বিভ্রান্তি

* উত্তেজিত বা জ্ঞান হারানো।

হিটস্ট্রোক একটি জরুরি অবস্থা এবং এর মৃত্যুর হার বেশি। তাই অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

প্রতিরোধ : যতটা সম্ভব, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ গরমের সময় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি বাইরে যেতে হয়, তবে হলকা কাপড় দিয়ে শরীর ঢেকে বের হবেন। প্রখর রোদে ঘোরাঘুরির পরিবর্তে ঠান্ডা জায়গায় থাকার চেষ্টা করুন।

এসব সমস্যা থেকে কীভাবে নিজেকে দূরে রাখবেন

যেহেতু গ্রীষ্মকাল চলছে, সতর্ক থাকুন এবং উষ্ণ ও গরম আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। নিরাপদ গ্রীষ্মের জন্য অতিরিক্ত তাপের বিরুদ্ধে নিম্নবর্ণিত উপায়গুলো অবলম্বন করুন।

* প্রচুর পানি পান করুন এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে বাড়িতে এবং ভ্রমণের সময় ডাবের জল এবং লেবুর শরবত পান করুন। সারা দিনে কমপক্ষে ১০-১২ গ্লাস তরল পান করুন।

* ঢিলেঢালা, হালকা রঙের পোশাক পরুন। কারণ গাঢ় রঙের পোশাক বেশি তাপ শোষণ করে এবং আঁটসাঁট পোশাক আপনার শরীরকে ঘামতে দেয় না। হালকা এবং শোষণকারী সূতার পোশাক ব্যবহার করুন।

* ভ্রমণের সময় বা বাহিরের কাজকর্মের সময় ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন; প্রয়োজনে ছায়াস্থানে বিশ্রাম করুন।

* শিশুকে কখনোই প্রখর সূর্যের সংস্পর্শে থাকা গাড়িতে বসে থাকতে দেবেন না এবং ছায়ার নিচে গাড়ি পার্ক করার চেষ্টা করুন।

* সূর্যের রশ্মির কারণে রোদে পোড়া হলে আরামের জন্য বরফের প্যাক এবং ব্যথা উপশমকারী মলম প্রয়োগ করুন।

* হাত সঠিকভাবে ধুয়ে নিন ও খাবার তৈরি এবং পরিবেশন করার সময় সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। খাদ্য ও পানিবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে কোনো খাদ্যদ্রব্য স্পর্শ বা রান্না করার আগে হাত ধুয়ে নিন। যখনই ওয়াশরুমে যাবেন তখন হাত ধুয়ে নিন।

* গ্রীষ্মের দিনে আধাসিদ্ধ খাবার এবং রাস্তার খাবার খাবেন না। তরমুজ, শসা, আখ এবং আমের মতো তাজা রসালো ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

* দুপুরের রোদের সময় বাড়ির জানালা বন্ধ রাখুন, যাতে তাপ বাড়ির ভেতরে আটকে না যায়।

* খাবার স্যালাইন (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন)-এর মজুত হাতে রাখুন। এগুলো সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। যদি না পাওয়া যায়, আপনি নিজে এগুলো বাড়িতে তৈরি করতে পারেন।

* চোখের ব্যথা এড়াতে এবং সংক্রমণের বিস্তার এড়াতে, হাত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখুন, ব্যথা কমাতে পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ বারবার ধুয়ে নিন।

* MMR (হাম, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দিয়ে এদের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আপনি বা আপনার সন্তানকে এ ৩টি সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকা দেয়া না থাকলে, দ্রুততম সময়ে টিকা নেওয়া উচিত।

* মশা তাড়ানোর ওষুধ প্রয়োগ করুন এবং মশার প্রজনন স্থান এড়িয়ে চলুন।

* কমপক্ষে ১৫ এসপিএফ (সান প্রোটেক্টর ফ্যাক্টর)সহ সানস্ক্রিন প্রয়োগ করে ত্বককে ঢেকে রাখুন এবং সুরক্ষিত রাখুন।

* খুব বেশি সময় সূর্যের তাপ-এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত, যখন সূর্যের রশ্মি সরাসরি লম্বাভাবে পড়ে।

* ভ্রমণের সময় বা বাহিরের কার্যকলাপের জন্য সানগ্লাসসহ ক্যাপ পরে সূর্যের তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। টুপি এবং সানগ্লাস ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মিকে মুখের সংবেদনশীল স্থানে আঘাত করা থেকে বাধা দেবে এবং মুখকে সতেজ ও বলিরেখামুক্ত রাখবে।

ফের ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে উত্তপ্ত ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও (বৃহস্পতিবার) ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুই ছাত্রসংগঠনের পালটাপালটি সংঘর্ষ, ধাওয়াপালটা-ধাওয়ার ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস উত্তপ্ত।

হেলমেট পরে চাপাতি, দা, লাঠি, রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। আর এতে প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি ছাত্রদলের।

এদিকে একপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য।

পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ করে ছাত্রদল। ছাত্রলীগের অভিযোগ, সেই সমাবেশে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন। এরপর থেকেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল ইউনিটের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ছাত্রদলকে প্রতিহতের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদকের সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় ছাত্রদল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন তারা। ওই দিন অর্ধশতাধিক কর্মী আহত হন বলে দাবি ছাত্রদলের। আর এই হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির পালনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

এদিকে ছাত্রদলের কর্মসূচি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিতে থাকেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন হল শাখার নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের হাতে রড, স্ট্যাম্প, লাঠি, লোহার পাইপ, হকিস্টিক, বাঁশ ইত্যাদি দেখা যায়। এদিন পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাত্রা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের মিছিলটি হাইকোর্ট এলাকায় এলে কার্জন হলের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের ধাওয়া করেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কার্জনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে মধুর ক্যান্টিন, টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা যোগ দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে তারা হাইকোর্টের ভেতরে অবস্থান নেন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাইকোর্টের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তাদের ওপর ফের হামলা চালান। এ সময় বাঁশ, লাঠি, রড ও লোহার পাইপ দিয়ে কয়েকজন ছাত্রদল কর্মীকে পেটানো হয়। ছাত্রলীগের কর্মীরা এ সময় কয়েকজন সাংবাদিককেও মারধর করেন।

হাইকোর্ট এলাকায় ছাত্রদলের ওপর হামলার সময় ছাত্রলীগ কর্মীরা অনলাইন পোর্টাল ডেইলি ক্যাম্পাসের সাংবাদিককে পিটিয়ে মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ সময় ওই সাংবাদিককে ছাত্রলীগের কর্মীরা বেধড়ক মারধর করে। আহত ওই সাংবাদিকের নাম আবির আহমেদ (২৭)।

এদিকে হামলায় আহত ছাত্রদল কর্মীদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের শাহবুদ্দীন শিহাব নামের এক কর্মীকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে।

ছাত্রদলের আহতরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম তারিক, জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি তারেক হাসান মামুন, বিজয় একাত্তর হলের সহসভাপতি তানভীর আজাদী, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রমুখ।

ছাত্রদলের দাবি, আহতদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের জুয়েল হোসেন, দক্ষিণের লিখন আহমেদ, ঢাবির বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের সহসভাপতি তানভীর আজাদি হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হটাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হেলমেট পরে চাপাতি, দা, লাঠি, রড, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দিক থেকে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার শব্দও শোনা যায়।

হামলার বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আক্তার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সশস্ত্র হামলা করে। ছাত্রদলের ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

ছাত্রদলকে প্রতিহতের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদল তার পুরনো ইতিহাসের মতো ফের ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করতে চাইছে। যেভাবে তারা অতীতে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, এখনো তারা সেটাই করছে। এরই অংশ হিসেবে মিছিলের নামে মহড়া দিচ্ছে। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে শান্তিপূর্ণ রাখতে রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করেছে। তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছি আমরা ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের মতো তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম, খুন ও হত্যা হতে দিতে পারি না আমরা। বিগত বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো মেধাবীর প্রাণ ঝরেনি, কেন না সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। আমরা চাই না, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতের মতো সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ ঝরুক মেধাবী শিক্ষার্থীদের। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চায় না। আর এ কারণেই এই প্রতিরোধ।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, অছাত্রদের নিয়ে গড়া ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুড়ুদের ছাত্রসংগঠন। চাচ্চুদের নিয়ে গড়া এই অছাত্রদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাঁশ হাতে নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চরাও হয়েছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো চাচ্চু এসে যদি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তাহলে শিক্ষার্থীরা ছাড় দেবে না এটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, স্বীকার করতে হবে বিগত বছরগুলোতে ক্যাম্পাসে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছে। হঠাৎ করে কী এমন হয়েছে যে তারা ক্যাম্পাসে এভাবে চড়াও হবে? এমন শান্তিপূর্ণ দেশ তারা কখনো চায়নি। আর তারা চাঁদাবাজিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। এখন ক্যাম্পাসে কিন্তু সেই টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি হয় না। এই যে শিক্ষার্থীরা ভালো আছে, এটাই তারা দেখতে পারছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে অতীতে যেভাবে ছাত্রলীগ ছিল, এখনো সেভাবেই আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বরদাস্ত করবে না। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে এক পক্ষ। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবহার করতে না পারে।

প্রেমের প্রতারণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ

প্রেমের সম্পর্কে প্রতারণা রোধে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রতারণার কোনো অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন আয়োজক শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী রবিউল মাসুদ বলেন, বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটাচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর পেছনে প্রেমের সম্পর্কে প্রতারণা প্রধান কারণ হিসেবে সামনে আসে। এছাড়া সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন সংশ্লিষ্টরা।

বক্তারা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আন্তরিক। কিন্তু বর্তমান সময়ে মহামারির মতো প্রেমে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসছে। এক্ষেত্রে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর ব্যাপারে এমন অভিযোগ উঠলে বিষয়টি অবশ্যই প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ আমরা আগামী রোববার এ ব্যাপারে ভিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলবো এবং আমাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি জমা দেব।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোত্তালেব হোসেন বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট পরিণত। তারা যখন প্রেম করে তখন বিভিন্ন প্রত্যাশা ও বিয়ে করার আশা নিয়েই সম্পর্কে জড়ায়। পরে যখন দেখে ছেলে ভালো চাকরি করতে পারে না কিংবা মেয়ের সঙ্গে বনিবনা হয় না তখন পরিবারের কথা বলে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায় এমনকি আত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। ইতোমধ্যে আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন খবর বহু পেয়েছি এবং আমাদের ক্যাম্পাসেও এমন ঘটনা ঘটেছে৷

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাদের শিক্ষকরা কাজ করছেন। এ ব্যাপারে ভিসি স্যারও যথেষ্ট আন্তরিক। তবে আজ মিছিল ও সমাবেশ করা শিক্ষার্থীরা আসলে কি ধরনের সহযোগিতা চায় তা তাদের স্মারকলিপি হাতে পাওয়ার পর বলা যাবে।

‘সুইসাইড নোটে’ যা লিখে গেছেন মডেল বিদিশা

কলকাতার মডেল বিদিশা দে মজুমদারের মৃত্যুরহস্য এখনও উন্মোচন হয়নি। শুধুই হতাশা নাকি সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে আত্মহত্যা? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও সবার অজানা।

ঠিক সেই সময়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বিদিশার সুইসাইড নোটের কথা প্রকাশ করেছে।

সুইসাইড নোটে তিনি লিখেছেন, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। কাজ কমে গিয়েছিল বলে চলে গেলাম। আমার প্রফেশনাল লাইফে কাজ কমে গিয়েছিল। তাই আমার ইএমআই, ব্যক্তিগত খরচ, বাড়িভাড়া চালাতে অসুবিধা হচ্ছিল। আমি নিজের বাড়িতেও ভালো ছিলাম না। আমার পাশের বাড়ির ফ্যামিলি খুব ডিস্টার্ব করত। প্রতি মাসে আমি তিন থেকে চারটা শুট করতাম। তা দিয়ে আমার কিছু হতো না। কাউকে না জানিয়ে আমি ইভেন্ট করতাম। তা থেকেও আমার কিছু হতো না। আমি আত্মহত্যা করছি আর আমি সুইসাইড করেই হ্যাপি…।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আলাদা পাতায় নয়, একটি খাতার শেষ পাতায় সুইসাইড নোট লেখেন বিদিশা। তার হাতের লেখাও ছিল অবিন্যস্ত। সেই সুইসাইড নোট সামনে আসতেই শুরু নতুন জল্পনা। মাত্র ২১ বছর বয়সি মডেল বিদিশার মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে তদন্ত করছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় নাগেরবাজার থানায় ফোন করেন বিদিশার এক বান্ধবী। এর পর ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে বিদিশার খাট থেকেই পাওয়া গিয়েছিল সুইসাইড নোটটি।

মিথিলার সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন জন কবির

গায়ক তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর রাফিয়াত রশিদ মিথিলার সম্পর্ক নিয়ে নানা কথা চাউর হয়।

মিথিলার প্রেমিক হিসেবে যাদের নাম আলোচনায় আসে এদের মধ্যে ‘ব্ল্যাক’খ্যাত তারকা জন কবির অন্যতম। মিথিলা ও জন কবিরের মধ্যে বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। দুজনের মধ্যে ভালো বোঝাপড়াও আছে।

বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এ দুই তারকার কিছু ছবি নিয়ে গুঞ্জনে মাতেন কেউ কেউ। তাদের নিয়ে অনেক মুখরোচক চর্চা হতে দেখা গেছে সামাজিকমাধ্যমে।

এমন গুঞ্জনও শোনা গেছে, তাহসানের সঙ্গে মিথিলার সংসার ভাঙার নেপথ্যে নাকি জন! যদিও এসব গুঞ্জনের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

জন-মিথিলা সবসময়ই বলে এসেছেন তারা একে অপরের ভালো বন্ধু। এ ছাড়া আর কিছুই নয়।

একাধিকবার নিজেদের সুসম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন তারা। কিন্তু তাতেও গুঞ্জনের আগুনে ছাইচাপা দেওয়া যায়নি।

এবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করলেন জন কবির।

এই ব্যান্ড তারকা বললেন, ‘মিথিলা আমার কি রকম বন্ধু, সেটি আমার আব্বু (এখন বেঁচে নেই), আম্মু সবাই জানে। সম্পর্কের গুঞ্জনের ব্যাপারটা শুনে আমার আম্মু সবচেয়ে অবাক হয়েছিলেন। তিনি বলতেন, মানুষের কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে! তখন আমি আম্মুকে বুঝিয়ে বলতাম— মানুষ তো আমাদের পারসোনালি চেনে না। তাই এ রকম গল্প ছড়ায়। আসলে মানুষ গল্প বানাতে খুব পছন্দ করে।’

এমন সব গুঞ্জনকে পাত্তা দেন না মন্তব্য করে জন কবির বলেন, ‘মিথিলার সঙ্গে বন্ধুত্বটা কিন্তু তাহসানের মাধ্যমেই। যারা মিথিলার সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা ভাবেন, তারা হয়তো এটা ভেবেই মজা পান। কিন্তু সেটিকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াটা সমস্যা। আমি তো জানি, আমার জীবনটা আমি যাপন করছি, মিথিলা তার জীবন। আপনাদের কথায় তো আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে না। আপনারা যদি এসব গুঞ্জন ছড়িয়ে মজা পান, সেটা আপনাদের জন্য ভালো। কিন্তু আমাদের এতে কিছুই আসে-যায় না। কারণ আমি, মিথিলা তাহসান ভালো করেই জানি, আমরা কেমন।’

এর পরও ঘুরেফিরেই সেই প্রশ্নটা আসে— কেন ব্ল্যাক ছেড়েছিলেন জন কবির?

জবাবে তাহসানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেন জন। সে কারণেই ব্ল্যাক ছাড়েন বলে জানান এ মিউজিশিয়ান।

ব্ল্যাক ছেড়ে অনেক দিন ধরে ইন্দালো নামের ব্যান্ড নিয়ে কাজ করছেন জন। যদিও এখনো সংগীতপ্রেমীরা তাকে ব্ল্যাকের জন বলেই জানে।

নতুন মাইলফলকে লিটন দাস

সাকিবের পর ফিফটি হাঁকালেন লিটন দাসও। তার আগেই নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন শ্রীলংকা টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এ ব্যাটার।

টেস্টের দুই হাজারি ক্লাবের সদস্য হলেন তিনি। এমন মুহূর্তে এ মাইলফলক ছুঁলেন লিটন, যখন ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ভুগছিল বাংলাদেশ।

গতকাল চতুর্থ দিন সাকিব-এবাদতে কুপোকাত হন লংকান ব্যাটাররা। কিন্তু তার আগেই ম্যাথুস-চান্দিমাল সর্বনাশ করে ফেলেন বাংলাদেশের। ১৪১ রানের লিড এনে দেন তারা।

এর পর বিকালে বাংলাদেশের সর্বনাশকে আরও গভীরতায় নিয়ে যান দুই লংকান পেসার রাজিথা ও আসিথা।

২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ।

যদিও ভরসা ছিল মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস। রাতভর আশার প্রদীপ হয়ে থেকে সকালে দ্রুতই নিভে গেলেন মুশফিক। যোগ করতে পারেন মাত্র ৯ রান।

৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ভুগতে থাকে বাংলাদেশ। তখন সাকিববে সঙ্গী করে ফের ত্রাতার ভূমিকায় লিটন দাস।

ষষ্ঠ উইকেটে লিটন-সাকিবের দারুণ এক জুটিতে ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

লংকানদের দুই মূল বোলার রাজিথা ও আসিথার আক্রমণকে দারুণভাবে প্রতিহত করেছেন সাকিব-লিটন। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন দুজনে।

অনেকটা ওয়ানডের গতিতে ফিফটি হাঁকিয়েছেন সাকিব। ৬১ বলে, ৭ বাউন্ডারি এ রান জমা করেন সাকিব।

তবে কিছুটা ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন লিটন। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে লিটন দাসের সংগ্রহ ১২৭ বলে ৪৮ রান।

এর আগে ৩৮ তম ওভারে ব্যক্তিগত ৪১ রানের মাথায় টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন লিটন।

প্রাভিন জয়াবিক্রমের ৫ম বল কাভারে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে ২ হাজার টেস্ট রানের ঠিকানায় পৌঁছে গেলেন এ উইকেটকিপার ব্যাটার।

বাংলাদেশের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২ হাজার টেস্ট রান হলো লিটনের। ৪৭ ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়ে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম মুমিনুল হক। তামিম ইকবালের লেগেছিল ৫৩ ইনিংস, লিটনের লাগল ৫৬ ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১৪১ করেছেন লিটন। মোট ১৮২ রান নিয়ে লিটনের ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট এটি। আগের সেরা ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে গত ডিসেম্বরে ১৭৩ (১১৪ ও ৫৯)।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় মধ্যাহ্নভোজ বিরতি শেষে ফের ব্যাট হাতে নেমেছেন সাকিব-লিটন। ৪৭ ওভার শেষে সাকিব খেলছেন ৬৪ বলে ৫৫ রান নিয়ে। সঙ্গী লিটন দাসের রান ১৩৪ বলে ৫২। 103 রানের জুটি গড়েছেন দুজনে। উইকেট বাকি আছে ৫টি।

লিটনের পর সাজঘরে সাকিবও

চতুর্থ দিন বিকালে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ডঙ্কা বাজছিল বাংলাদেশ শিবিরে।

যদিও মুশফিকুর রহিম আর লিটন দাস ছিলেন আশার প্রদীপ হয়ে। কিন্তু পঞ্চম ও শেষ দিনে শুরুতেই ২৩ রানে বিদায় নিয়ে সেই আশার প্রদীপের আলোকে প্রায় নিভিয়ে দেন মুশফিক।

৫৩ রানে ৫ উইকেট হাওয়া। না যেন ইনিংস পরাজয় দেখতে হয়! এমন বিপর্যয়ের মুখে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে দলের হাল ধরেন লিটন দাস।

ষষ্ঠ উইকেটে তাদের দারুণ এক জুটিতে ইনিংস পরাজয় এড়িয়ে লিড নেয় বাংলাদেশ।

কিন্তু হাফসেঞ্চুরির পরই যেন ফেরার তাড়ায় ছিলেন এ দুই ব্যাটার।

ফিফটি করেই বিদায় নেন লিটন, এরপর সাজঘরে ফিরলেন সাকিবও।

সকাল থেকেই লংকানদের দুই মূল বোলার রাজিথা ও আসিথার আক্রমণকে দারুণভাবে প্রতিহত করেন সাকিব-লিটন। অফস্টাম্পের বাইরের বল পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন দুজনে।

অনেকটা ওয়ানডের গতিতে ফিফটি হাঁকিয়েছেন সাকিব। ৬১ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫২ রান জমা করেন সাকিব। যদিও ব্যক্তিগত সংগ্রহ সেভাবে বাড়িয়ে নিতে পারেননি।

লাঞ্চবিরতির পর যোগ করতে পারেন মাত্র ৬ রান।

আসিথা ফার্নান্দোর শরীর তাক করা বাউন্সার পুল করার চেষ্টায় দেরি করে ফেলেন সাকিব। বল তার গ্লাভসে ছোবল দিয়ে সহজ ক্যাচ উঠে যায় কিপার নিরোশান ডিকভেলার কাছে।

এর আগে ৫২ রান করে ফিরে যান লিটন। নিজের বলে দুর্দান্ত ক্যাচে লিটন দাসকে বিদায় করে দিলেন আসিথা ফার্নান্দো।

অফ স্টাম্পে পিচ করা লেংথ বল হালকা মুভ করে ঢোকে ভেতরে। লিটন সোজা ব্যাটে ড্রাইভ করার চেষ্টায় ব্যাট হাঁকান। কিন্তু ব্যাটে বলে হয়নি। সোজা চলে যায় বোলারের কাছে। ডান দিক ঝাঁপিয় অসাধারণ ক্ষীপ্রতায় এক হাতে বল জমান ফার্নান্দো।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ১৬৮। লিড মোটে ২৭ রানের। ব্যাট হাতে লড়াই করছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাইজুল ইসলাম।