বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 298

ব্রাজিলে ভূমিধসে প্রাণ গেল ৩০ জনের

ব্রাজিলে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পেরনামবুকো রাজ্যেই মারা গেছেন ২৮ জন। খবর আলজাজিরার।

দেশটির সিভিল ডিফেন্স বিভাগ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরও ৭৬০ জনকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা লে. কর্নেল লিওনার্দো রদ্রিগেজ তার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বলেছেন, বন্যার কারণে ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাজ্যটির ৩২ হাজার পরিবার।

স্থানীয় স্কুলগুলো বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো নিয়ে পশ্চিমাদের আবারও রাশিয়ার হুশিয়ারি

রাশিয়ার মাটিতে আঘাত হানতে পারে— এমন সব অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে হুশিয়ার করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।

পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াতে এটি হবে মারাত্মক একটি পদক্ষেপ। খবর আলজাজিরার।

রাশিয়ার অভিযান ঘিরে এতদিন ইউক্রেনকে নানা ধরনের অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছিল পশ্চিমা দেশগুলো। এ নিয়ে প্রথম থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিল মস্কো।

রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর ‘বুদ্ধিমান লোকজন’ ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডার আরও বাড়ানোর বিপদ বুঝতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

সম্প্রতি কিয়েভকে ভারি অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা।

টুইটারে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, তাদের আরও শক্তিশালী কামান দরকার। এ একটি দিক দিয়েই তারা মস্কোর চেয়ে পিছিয়ে আছেন।

এদিকে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করতে গত কয়েক সপ্তাহে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে আমেরিকা ও তার মিত্রদেশগুলো। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে এম-৭৭৭ হোইতজার কামান।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউস কিয়েভকে এম-১৪২ রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থা দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা। এই ব্যবস্থায় ব্যবহার করা গোলা কয়েকশ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা সবসময় ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

টাকার অবমূল্যায়নে মূল্যস্ফীতি

বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, সরবরাহ কমছে। এতে ডলার সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডলার সংকটের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এর দাম বেড়েই চলেছে।

আজ রোববার থেকে ডলারের দাম আরও ১ টাকা ৯৫ পয়সা বাড়বে। ফলে আমদানির দায় মেটানোর জন্য প্রতি ডলার গ্রাহকদের কিনতে হবে ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সা দরে। সব ব্যাংক এই দরেই ডলার কেনাবেচা করবে। তবে নগদ ডলারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন দরে কেনাবেচা করতে পারবে।

এদিকে ডলারের দাম বাড়িয়ে টাকার লাগামহীন অবমূল্যায়নের ফলে আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বৃদ্ধিতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দাম বাড়ছে। টাকার মান কমানোর ফলে ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় বাফেদা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ডলারের অভিন্ন দর নির্ধারণ করবে। সেই দর বাংলাদেশ ব্যাংককে রোববার সকালে জানাবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও জানিয়ে দেবে। ওই দরেই সব ব্যাংক ডলার কেনাবেচা করবে। ওই সিন্ধান্তের আলোকে বাফেদা শনিবারই ডলারের নতুন দর নির্ধারণ করেছে।

এতে আন্তঃব্যাংকে আজ রোববার থেকে প্রতি ডলার বেচাকেনা হবে ৮৯ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। আমদানি বা অন্য প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের কাছে ডলার বিক্রি করবে আন্তঃব্যাংকের চেয়ে ১০ পয়সা বেশি দামে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা ৯৫ পয়সা দরে। বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে রেমিট্যান্স বাবদ ব্যাংকগুলো ডলার কিনবে আন্তঃব্যাংকের চেয়ে ১৫ পয়সা কম দামে। অর্থাৎ ৮৯ টাকা ৮০ পয়সা দরে। ব্যাংকগুলো রপ্তানি বিল কিনবে আন্তঃব্যাংকের চেয়ে এক টাকা কম দামে অর্থাৎ ৮৮ টাকা ৯৫ পয়সা দরে।

নতুন এই দর কার্যকর হলে প্রতি ডলারের দাম বাড়বে এক টাকা ৯৫ পয়সা। তবে নগদ ডলারের দাম আরও বেশি বাড়তে পারে। কেননা এ খাতে কোনো বিধিনিষেধ নেই। এদিকে নগদ ডলারের সংকটও প্রকট। গত বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার লেনদেন হয়েছে ৮৭ টাকা ৯০ পয়সা দরে। গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকগুলো বিক্রি করেছে ৮৮ টাকা দরে। অন্যান্য খাতে একেক ব্যাংক একেক দরে ডলার বিক্রি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বিপরীতে টাকার মান নিরূপণের জন্য বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সমন্বয়ে একটি ঝুড়ি তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন ডলার, যুক্তরাজ্যে পাউন্ড, ইউরোপীয় অঞ্চলের একক মুদ্রা ইউরো, ভারতের মুদ্রা রুপি, সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল, চীনা মুদ্রা ইউয়ান প্রভৃতি। ওইসব মুদ্রার মান বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকার মান নির্ধারণ করে দুইভাবে। একটি হচ্ছে নমিনাল এক্সচেঞ্জ রেট বা সাধারণ বিনিময় হার, অপরটি হচ্ছে রিয়াল এক্সচেঞ্জ রেট বা প্রকৃত বিনিময় হার। তবে এই দুটি হারই বর্তমানে বাজারের ওপর প্রয়োগ করা হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ডলার ছেড়ে বা কিনে টাকার মান নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে ওই দুই হিসাবেই ডলারের দাম আরও বেশি। ডলারের বাজারে নমিনাল বিনিময় হার ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯৫ টাকা ৬৩ পয়সা। গত মার্চে তা বেড়ে ৯৬ টাকা ৮৭ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এদিকে গত ফেরুয়ারিতে প্রকৃত বিনিময় হার ছিল ১১৪ টাকা ৬৪ পয়সা। গত মার্চে তা বেড়ে ১১৫ টাকা ৬৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ডলারের দাম আরও বেশি বাড়ার কথা এবং টাকার আরও বেশি অবমূল্যায়ন হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ওই দর নিজেদের গবেষণার জন্য বের করে। এর মাধ্যমে তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি প্রকৃতি সম্পর্কে একটি ধারণা নেয়। এর আলোকে নীতি প্রণয়ন করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন কমছে, তেমনি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা মুদ্রার মজুদও কমছে। গত অক্টোবরে রিজার্ভ চার হাজার ৭০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। এখন তা কমে চার হাজার ২৩০ কোটি ডলার হয়েছে। গত বছরের মার্চে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ছিল ৫২৯ কোটি ডলার। গত মার্চে তা ৪৯৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই মার্চ সময়ে আমদানি বেড়েছে ৪৪ শতাংশ এবং এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে এলসি খোলা আরও বাড়বে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। এপ্রিল জুনে এলসি খোলা হতে পারে এক হাজার ৭২৫ কোটি ডলারের। এর মধ্যে রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি হতে পারে ২৯০ কোটি ডলার।

বর্তমানে প্রতি মাসে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাত মিলিয়ে গড়ে ৯৫০ কোটি থেকে এক হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হয়। এর বিপরীতে রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ মিলিয়ে ৭৪০ থেকে ৭৫০ কোটি ডলার পাওয়া যায়। প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে ২১০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলার। মাসে গড় ঘাটতি দাঁড়ায় ২৩০ কোটি ডলার। এটা এখন রিজার্ভ থেকে মেটানো হয়।

চলতি বছরের পাঁচ মাসে এখন পর্যন্ত ছয় দফা টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে দুই টাকা ১০ পয়সা। আজ আরও এক টাকা ৯৫ পয়সা করা হচ্ছে।

এর আগে ব্যাংকে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ৯৬ টাকায় উঠেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে তা নেমে এসেছে। এদিকে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে ডলারের দাম ১০৪ টাকায় উঠেছিল। এটি এখন কমে ৯৬ থেকে ৯৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। নগদ ডলার ব্যাংকগুলোতে এখনো ৯৩ থেকে ৯৭ টাকা করে বেচাকেনা হচ্ছে।

বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ ৩৫০০ কোটি টাকা

বাংলাদেশ সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে যাচ্ছে। কর অবকাশ থেকে শুরু করে ব্যাংক ঋণ, প্রণোদনা, অবকাঠামোগত সুবিধার ছড়াছড়ি। তার পরও প্রত্যাশিত হারে সাম্প্রতিক সময়ে এফডিআই বাড়ছে না।

বিদেশ থেকে দেশে এফডিআই না বাড়লেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের হার বেড়েই চলেছে। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে বিদেশে দেশের উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ছয় কোটি ২৭ লাখ ডলার বেড়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে শুধু উপস্থান করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে দেশি উদ্যোক্তাদের বৈধভাবে নেওয়া বিনিয়োগের তথ্য। এর বাইরে অবৈধভাবে বা পাচারের মাধ্যমে আরও অনেক পুঁজি নেওয়া হয়েছে যেগুলো বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈধভাবে দেশ থেকে পুঁজি নেওয়ার চেয়ে পাচারের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা দেশে আনা হয়েছে খুবই কম। বরং নেওয়া হচ্ছে বেশি।

এদিকে গত ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি নীতিমালা জারি করে দেশের সচ্ছল রপ্তানিকারকদের বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেকে বিদেশে বিনিয়োগের আবেদনও করেছে। এগুলো এখন পর্যালোচনাধীন রয়েছে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হু হু করে বাড়ছিল।

গত অক্টোবরে তা বেড়ে চার হাজার ৭০০ কোটি ডলারে উঠেছিল। যা দিয়ে ওই সময়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব ছিল। অথচ তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। রিজার্ভকে অনেক বেশি উদ্বৃত্ত মনে করে দেশ থেকে পুঁজি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ওই নীতিমালার আওতায় এখনো বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ শুর্নু হয়নি।

তারপর্ ির্থাৎ নীতিমালা জারির এক মাস পরই গত মার্চ থেকে বাজারে ডলার সংকট বাড়তে থাকে। এ মাসের শুরুতে সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এখন রিজার্ভ রক্ষায় বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসী পণ্য আমদানি, অন্য পণ্য আমদানিতে লাগাম টানা হয়েছে। দেশ থেকে বিদেশে ডলার নিয়ে বিনিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, রিজার্ভ হচ্ছে বিপদে ব্যবহারের জন্য। সুসময়ে ব্যবহারের জন্য নয়। কিন্তু রিজার্ভকে সুসময়ে ব্যবহার করেই যত বিপত্তি লেগেছে। রিজার্ভ থেকে ডলার নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক একটু ধকল এখন সহ্য করা যাচ্ছে না। অর্থনীতিকে প্রচণ্ড চাপে ফেলেছে।

মূল্যস্ফীতির হার বাড়ছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশের স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে এফডিআই বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এর বিপরীতে একই সময়ে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের স্থিতি বেড়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ার চেয়ে বিদেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ ৬ দশমকি ২ শতাংশ বেশি বেড়েছে।

বিনিয়োগের এই চিত্রকে অর্থনীতিবিদরা মোটেই স্বস্তিদায়ক মনে করেন না। তাদের মতে, দেশের চেয়ে বিদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এখনো পৌঁছেনি। এখন দেশেই বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রায় স্থানীয় উদ্যোক্তারাও দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দরিদ্রতা কমবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও প্রসারিত হবে। দেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের বিষয়ে বিদেশমুখী না করে দেশমুখী করাটা জরুরি। এ জন্য সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে ভুলের মাশুল দিতে হবে দেশের মানুষকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দেশে এফডিআইয়ের স্থিতি ছিল ৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার বা দুই হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালে এ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ডলার। যা স্থানীয় মুদ্রায় তিন হাজার ৪৩২ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বিদেশে বিনিয়োগ বেড়েছে ছয় কোটি ২৭ লাখ ডলার বা ৫৫২ কোটি টাকা। আলোচ্য বিনিয়োগ থেকে ২০২০ সালে দেশে মুনাফা হিসাবে এসেছে এক কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২১ সালে এসেছে ২৯ লাখ ১৭ হাজার ডলার। করোনার কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নেতিবাচক হওয়ায় মুনাফা আসার হার বেশ কমেছে। ২০২০ সালে দেশি উদ্যোক্তারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছিলেন তিন কোটি ১১ লাখ ডলার। ২০২১ সালে করেছেন ৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। ওই সময়ে বিনিয়োগ বেড়েছে ছয় কোটি ৩৬ লাখ ডলার। মোট বিনিয়োগের স্থিতির মধ্যে গত বছর মূলধন হিসাবে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ডলার, আয় থেকে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে দুই কোটি ৩৩ লাখ ডলার এবং এক কোম্পানি অন্য কোম্পানি থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছে ছয় কোটি ২৬ লাখ ডলার।

২০২১ সালে দেশ থেকে বিদেশে যাওয়া মোট বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্যে চার কোটি ৮৩ লাখ ডলার। এর পরেই গেছে হংকংয়ে দুই কোটি ডলার, নেপালে এক কোটি ১৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া ভারতে ৬৬ লাখ ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৪ লাখ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ২১ লাখ ডলার, ইতালিতে ১১ লাখ ডলার, সিঙ্গাপুরে ৯ লাখ ডলার, দক্ষিণ আফ্রিকায় সাত লাখ ডলার, কেনিয়া ও শ্রীলংকায় পাঁচ লাখ ডলার করে বিনিয়োগ গেছে। এ ছাড়া ওমান, মালয়েশিয়া, চীন, গ্রিস ও পাকিস্তানেও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ রয়েছে।

দেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে ২০০০ সাল থেকে। ওই বছরে স্থিতি ছিল ছয় কোটি ৭৯ লাখ ডলার, ২০০১ সালে আট কোটি ৫২ লাখ, ২০০২ সালে আট কোটি ৮২ লাখ, ২০০৩ সালে ৯ কোটি ৫১ লাখ, ২০০৪ সালে ৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার স্থিতি ছিল। ২০০৬ সালে তা বেড়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।

২০১১ সাল থেকে টানা বাড়তে থাকে। মধ্যে শুধু ২০১৮ সালে ২০১৭ সালের চেয়ে সামান্য কমেছিল। ২০১০ সালে স্থিতি ৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, ২০১১ সালে ১০ কোটি ৬২ লাখ, ২০১২ সালে ১০ কোটি ৭২ লাখ, ২০১৩ সালে ১৪ কোটি ২৫ লাখ ও ২০১৪ সালে ১৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০১৫ সালে তা আরও বেড়ে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ডলার, ২০১৬ সালে ২১ কোটি ২৯ লাখ, ২০১৭ সালে ৩৩ কোটি ১০ লাখ, ২০১৮ সালে ৩১ কোটি পাঁচ লাখ ও ২০১৯ সালে ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার স্থিতি ছিল।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগ করলে দেশের ব্র্যান্ডিং হবে। কিন্তু দেখতে হবে বিদেশে বিনিয়োগের সক্ষমতা আছে কিনা? বর্তমানে ডলারের বাজারে যে সংকট, তা তো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের সক্ষমতা দেশের নেই। আগে অর্জন করতে হবে। ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য রিজার্ভ থাকতে হবে। তা না করে বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়াটাও যুক্তিযুক্ত নয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে কোনো পুঁজি নেওয়ার সুযোগ নেই। বৈধভাবে যারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে করেছেন। রিজার্ভ বাড়ায় বিদেশে বিনিয়োগের সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া প্রবাসীরাও বিদেশে বিনিয়োগ করেছে।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রিজার্ভ বেড়েছে। বৈশ্বিক কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ায় ও রেমিট্যান্স কমায় এখন আবার কমছে। রিজার্ভ বাড়ার কারণে সরকার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে কেন্দ ীয় ব্যাংক থেকেও বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য ২০১৫ সাল থেকে অনুমোদন দেওয়া শুরু হয়। এর আগে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা, এক্সচেঞ্জ ও সীমিত কিছু বেসরকারি উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষক আউয়াল সরকারের এক গবেষণায় বলা হয়, দেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১১০ থেকে ২২০ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি ডলার পাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তদন্তে আর্থিক খাতের বহুল আলোচিত জালিয়াত পিকে হালদারের ভারত ও কানাডায় বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিসমিল্লাহ গ্রুপ দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছে। তারা অর্থ পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করেছে।

৩০ মিশনে সশস্ত্র ও ২২টিতে পুলিশ বাহিনীর অংশগ্রহণ

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ প্রথম কাজ শুরু করে ১৯৮৮ সালে। ওই সময় ইরাক ও নামিবিয়ায় দুটি অপারেশনে অংশ নেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েত ও সৌদি আরবে ২ হাজার ১৯৩ জন সেনা সদস্য পাঠানো হয়েছিল। এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ২৫টি দেশে ত্রিশটির বেশি মিশনে অংশ নেয়। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণ ১৯৮৯ সালে। এ পর্যন্ত ২১টি দেশের ২২টি মিশনে ২০ হাজার ৭৯৪ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ১৬০ জন সদস্য মারা গেছেন। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. ফয়জুল করিমের মৃত্যু হয়। তিনি হলেন শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী প্রথম বাংলাদেশি অফিসার, যিনি বিদেশে মিশনে মারা যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭৮ জন সদস্য বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত হয়েছেন। আর এ কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৯ জন সদস্য। ২০০৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর ১৫ জন বাংলাদেশি সেনা নিহত হন। ২০০৫ সালে কঙ্গোতে ৯ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর ২৪০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ৬ হাজার ৩২৪ জন সদস্য মিশনে কর্মরত আছেন। এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর ৩৭১ জন নারী সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর ৪৩ জন নারী সদস্য মিশনে অবস্থান করছেন। নয়টি মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী নিয়োজিত আছেন। জাতিসংঘের মিশনে আরও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাঠাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

সূত্রমতে, যেসব দেশের মিশনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে, সেগুলোর মধ্যে আছে নামিবিয়া, কাম্বোডিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, মোজাম্বিক, সাবেক জুগোস্লাভিয়া, লাইবেরিয়া, হাইতি, তাজিকিস্তান, পশ্চিম সাহারা, সিয়রোলিয়ন, কসোভো, জর্জিয়া, পূর্ব তিমুর, কঙ্গো, ইথিওপিয়া প্রভৃতি।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন নারী কর্মকর্তা সিভিলিয়ান পুলিশ অফিসার হিসাবে প্রথম ২০০০ সালের পূর্ব তিমুর মিশনে যোগ দেন। আমেরিকার দেশ হাইতি মিশনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি) রখফার সুলতানা খানমের নেতৃত্বে পুলিশের প্রথম নারী ইউনিট জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়। ওই দলটি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ সালে দেশে প্রত্যাবর্তন করে। দারফুর মিশনে ২০০৮ থেকে ২০২১ সালে মিশন শেষ হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একটি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট কঙ্গোতে কাজ করছে। ২০১১ সাল থেকে ওই দলটি নিয়োজিত আছে। বিভিন্ন মিশনে পুলিশের ৫০১ জন সদস্য নিয়োজিত আছেন। এর মধ্যে নারী পুলিশ সদস্য ১৪৮ জন। বিশ্ব শান্তিরক্ষার এ কার্যক্রমে পুলিশের ২১ জন সদস্য নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। ২০১৯ সালে কঙ্গো মিশন পরিদর্শনকালে তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি রওশন আরা বেগম মারা যান।

আইএসপিআর জানায়, আজ সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহিদ শান্তিরক্ষীদের নিকটাত্মীয় ও আহত শান্তিরক্ষীদের জন্য সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হবে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এছাড়া সকালে ‘শান্তিরক্ষী দৌড়-২০২২’ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপির ওপর ‘ক্ষোভ’ ঝাড়লেন নুর

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সমাবেশের কারণে অবস্থান করতে পারেনি গণ অধিকার পরিষদ। এ ঘটনায় বিএনপির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে প্রেসক্লাবের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে যুবদলের একটি কর্মসূচি চলায় মিছিলটি আবার ফিরে আসতে হয়। পরে সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গণ অধিকার পরিষদের মিছিলটি আবার পল্টন জিরো পয়েন্টে ফিরে এসে সমাবেশ করে।

এ ঘটনায় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বক্তব্যে নুরুল হক বলেন, আপনারা অতীতে ক্ষমতায় ছিলেন; ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার পতন হলে একটি সম্মিলিত সরকার গঠিত হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সেখানে থাকবে। কিন্তু আপনাদের আচরণ যদি এখনো অসহিষ্ণু হয়, আপনাদের দ্বারা মানুষ কীভাবে সহনশীল রাষ্ট্র আশা করবে? আমরা প্রেসক্লাবের এখান থেকে শান্তিপূর্ণ একটি মিছিল নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা দেখেছি, একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি চলছে। তাদের সর্বোচ্চ নেতৃবৃন্দ আমাদের জায়গা করে দেওয়ার কথা বললেও নেতা–কর্মীরা আমাদের জায়গা দেয়নি। আপনাদের এই অসহিষ্ণু আচরণ প্রমাণ করে, আপনাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সহনশীলতা তৈরি হয়নি।

সারাদেশের বিরোধী ও ভিন্নমত মানুষের দমন, নিপীড়ন, হুমকি, মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে এই মৌন মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ।

বিক্ষোভ সমাবেশে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি রেজা কিবরিয়া বলেন, দেশে নৈরাজ্য চলছে। ছাত্রলীগ রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে আক্রমণ করছে। তারা আদালতে গিয়েও আক্রমণ করেছে।

নুরুল হক নুর বলেন, সরকারের দোসররা প্রত্যেকে টাকা-পয়সা বাইরে পাচার করেছে। তারা না হয় বিমানে উড়াল দিয়ে রেহাই পেতে পারেন। কিন্তু আপনারা যারা তৃণমূলে রাজনীতি করছেন আপনাদেরকে তো দেশে থাকতে হবে। সুতরাং আপনাদের সতর্ক করে বলে দিতে চাই আপনারা আশপাশের পরিস্থিতির দিকে তাকান, মানুষের মুখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করুন। যেদিন মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে সেদিন পালানোর রাস্তা খুঁজে পাবেন না।

এ সময় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ড. মালেক হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হাবিবুর রহমান হাবিব, শাকিল উজ্জামান, আমিন আহমেদ আফসারি, রাসেদ খান, ফারুক হাসান, আবু হানিফ প্রমুখ।

তারেক-জোবাইদার রিট শুনানি আজ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের ১৫ বছর আগের পৃথক রিটের রুল শুনানির আবেদন করেছে দুদক। আজ শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চের তালিকায় রয়েছে রিট মামলাগুলো।

২০০৭ সালে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও হিসাব বিবরণীতে সম্পদ গোপন করার অভিযোগে মামলা ও এর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের পক্ষে পৃথক রিট করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের নভেম্বরে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ফলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। রিট মামলার রুল শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চে রুল শুনানি হবে।

জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলা বাতিলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানের করা আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে তারেকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের এ মামলা সচল হয়। ১৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

এছাড়া জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহযোগিতার অভিযোগে দুদকের মামলা বাতিলে ডা. জোবায়দা রহমানের করা লিভ টু আপিল সম্প্রতি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে তারেকের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের এ মামলা সচল হয়।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ ও এমপিওভুক্তিতে মৌলিক পরিবর্তন আসছে। শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বর্তমানে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে ফিটলিস্ট তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের চাহিদা নিয়ে এ তালিকা থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করে দেয়। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিয়োগ দেয়। কিন্তু এতে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এ কারণে এর পরিবর্তে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতো কেবল শূন্যপদের আগাম চাহিদা নিয়ে প্রার্থী নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করবে এই সংস্থাটি। অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব প্রার্থী সরাসরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) এমপিওভুক্ত হবে। বর্তমানে তাদেরকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে আবেদনের পর চারটি স্তর পার করে এমপিওভুক্ত হতে হয়। আর এটা করতে গিয়ে ঘাটে ঘাটে ঘুস ঢালতে হয় বলে অভিযোগ আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উল্লিখিত নয়া বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে এনটিআরসিএ-এর আইনে সংশোধন আনা হচ্ছে। এতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা বাতিল ও নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে শূন্যপদে নিয়োগের চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংস্থাটির নামেও পরিবর্তন আসবে। নতুন নাম চিন্তা করা হয়েছে ‘বেসরকারি শিক্ষক নির্বাচন কমিশন’ (এনটিএসসি)।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (২৬ মে অবসরে গেছেন) ফৌজিয়া জাফরীন বলেন, এনটিএসসির জন্য একটি খসড়া আইন তৈরি করতে এনটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটি এ মাসের মধ্যে পাঠানোর কথা আছে। এটি করা গেলে সরাসরি শিক্ষক ও এমপিওভুক্তির প্রথা প্রবর্তন করা যাবে। তবে নতুন পদ্ধতি চালুর আগে অংশীজনের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এনটিআরসিএ-এর আইন সংশোধনে কাজ অনেকদূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটির একাধিক সভা হয়েছে। এরই ভিত্তিতে আইন সংশোধন করে একটি খসড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবে পিএসসির আদলে এনটিএসসি তৈরির কথা আছে। বর্তমান কাঠামোর আদলেই জনপ্রশাসনের একজন অতিরিক্ত সচিব এর চেয়ারম্যান হবেন। এছাড়া পাঁচজন যুগ্মসচিবকে সদস্য করার কথা আছে। যদিও পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের মতো বিশেষায়িত কাজ থাকায় চেয়ারম্যান ও সদস্যপদে শিক্ষকদের বসানোর পথও খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকনেতারা। কেননা পরীক্ষা নেওয়া আর ফলাফল তৈরিতে শিক্ষকরাই অভ্যস্ত।

মাউশি সূত্র জানায়, শিক্ষক নিয়োগের সঙ্গে তাদের এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াও বদলাবে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫ স্তরের সংশ্লিষ্টতায় এমপিওভুক্ত হন একজন শিক্ষক। এর পরিবর্তে এনটিএসসি প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ করার পর সংশ্লিষ্টরা মাউশিতে যোগদানপত্র দাখিল করবেন। এরপর তাদের এমপিওভুক্তির নির্দেশনা জারি করা হবে। কোনো ঘাটে যেতে হবে না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে ঘাটে ঘাটে যাওয়া এমনকি ঘুস লেনদেনের অভিযোগও আমরা পেয়ে থাকি। অনেক সময় ঘুসদাতাও প্রমাণ দিতে চান না। ফলে অসাধু ব্যক্তিরা শাস্তির বাইরে থাকে। এখন ঘুসমুক্ত এমপিওভুক্তি নিশ্চিতে সরাসরি কাজ করার চিন্তা করছি। এর অংশ হিসাবে এনটিআরসিএতে (প্রস্তাবিত এনটিএসসি) মৌখিক পরীক্ষাকালেই শিক্ষকের সনদপত্র যাচাই করা হবে। আর নিয়োগ তো এনটিআরসিএ সরাসরি দিয়ে দিচ্ছে। ফলে সনদপত্র যাচাইয়ের কাজ যেহেতু থাকছে না, তাই সরাসরি মাউশি থেকে এমপিও দিতে আর সমস্যা নেই।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষক নিয়োগের ফিটলিস্ট তৈরিতে এনটিআরসিএ শুরুর দিকে শুধু লিখিত পরীক্ষা নিত। পরে মৌখিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়। এ পর্যন্ত নেওয়া সব নিবন্ধন পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রার্থীদের একটি জাতীয় মেধাতালিকা আছে। বিধান অনুযায়ী, গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান শিক্ষকের শূন্যপদের চাহিদা দিচ্ছে সংস্থাটিকে। জাতীয় তালিকা থেকে প্রার্থীর পছন্দ আর শূন্যপদের বিপরীতে মেধাক্রম থেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রার্থী নির্বাচন করে পদায়নের সুপারিশ করে আসছে। কিন্তু রাজধানীর আইডিয়াল, আর ভিকারুননিসার মতো কিছু প্রতিষ্ঠান সৃষ্টপদে নিয়োগসহ নানান ফাঁকফোকর বের করে এনটিআরসিএকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করে আসছে। নিয়োগে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে প্রস্তাবিত আইনে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধের দিক অন্তর্ভুক্ত করার মতামত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ কমিশনের আইনের খসড়া দ্রুত পাঠাতে এনটিআরসিএকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আইনটি পাওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সচিব কমিটিতে পাঠাতে হবে। এরপর মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন হলে তা জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হবে। এনটিএসসির জন্য জনবল নিয়োগে পদ সৃজন ও নিয়োগসংক্রান্ত দিক থাকায় এসব প্রক্রিয়া লাগবে।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান এনামুল কাদের খানের সঙ্গে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) এএসএম জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।

আল্লাহ ক্ষমাকারীকে পছন্দ করেন

এক মাওলানা সাহেব এক মুসলিম উকিলের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথায় কথায় উকিল এমন কিছু বলে ফেলেছিলেন যেখান থেকে বোঝা যায় মাওলানা সাহেবের ধর্মীয় চিন্তার সঙ্গে তার চিন্তায় অনেক তফাৎ।

মাওলানা সাহেব খেপে গিয়ে উকিলকে বেয়াদব, ভণ্ড ইত্যাদি বলে ফেললেন। উকিল সাহেব একদম চুপচাপ সব শুনলেন। মাওলানা সাহেব সব বলে যখন নিস্তার হলেন, উকিল সাহেব হেসে বললেন, আর কিছু বলার আছে?

উকিলের মুখ থেকে একথা শুনে মাওলানা সাহেব একদম নরম হয়ে গেলেন। তার ক্রোধ থেমে গেল। উকিলের একটা ঠাণ্ডা বাক্য মাওলানার রাগের আগুন নিভিয়ে দিল। এরপর যে আলাপ-আলোচনা হলো, তা সম্পূর্ণ ভিন্নরকম ছিল। আলাপের শুরু যেমন খুশি খুশি মুখে ছিল, আলাপের শেষটাও তা-ই হলো।

আমাদের সামাজিক জীবনে অধিকাংশ ঝগড়াই ছোটখাটো কথা থেকে শুরু হয়। কারও একটি কথা শুনে আমাদের দিলে ধাক্কা লাগে, ভেতরে প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে, এবং আমরা ওই লোকের মোকাবেলায় নেমে পড়ি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষমা করে দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। কারও অনর্থক কথা শুনেও কেউ যদি চুপ থাকে, তাহলে তার এমন এক কিসিমের খুশি মিলে, যেই খুশি সবরকমের আনন্দ ছাপিয়ে যায়। অন্যদিক থেকে সেই শত্রুকেও একধরনের চিন্তায় ফেলে দেওয়া হয়, সে সারাক্ষণ মনের ভেতর খচখচানি নিয়ে কাটায়। ‘কাজটা আসলেই ঠিক করলাম কিনা’— এই ভাবনা তাকে ঘিরে রাখে।

বেশিরভাগ মানুষই মনে করে— ‘ইট মারলে তার জবাবে পাথর মারতে হয়’। যদি তুমি এমনটি না করো, তাহলে সে বড্ড বাড়া বেড়ে যাবে, ভবিষ্যতে এরচেয়ে বেশি খারাবি করবে। কিন্তু এই ধারণা একদম ভিত্তিহীন।

ইটের জবাবে পাথর না মারলে যদি শত্রুর বাড়াবাড়ির মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে পাথর মারলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাড়বে। তখন তার মধ্যে একধরনের প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে উঠবে। সে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে আগের থেকে অনেক অনেক বেশি খারাবি করতে শুরু করবে।

প্রকৃত সত্য হলো মাফ করে দেওয়া বা দেখেও না দেখার ভাণ করা খুবই ভালো গুণ। ক্ষমাকারী ব্যক্তি নিজে প্রতিশোধ না নিয়ে বিচারের দায়িত্ব আল্লাহর কাছে হাওয়ালা করে দেন। তিনি প্রবৃত্তির অনুসরণের বদলে বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেন। নিঃসন্দেহে এই ধরনের আচরণ মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে।

হজের খরচ বাড়ল ৫৯ হাজার টাকা

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের খরচ আরও ৫৯ হাজার টাকা বেড়েছে। সৌদি আরবে খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য এ খরচ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর ফলে সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজ দাঁড়ালো ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা। আর সর্বনিম্ন বেসরকারি প্যাকেজ বেড়ে দাঁড়ালো ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা।

গত ১১ মে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক জানিয়েছিলেন, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সর্বনিম্ন প্যাকেজ চার লাখ ৬২ হাজার টাকা (প্যাকেজ-২) নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রীরা মক্কার মসজিদুল হারামের এক হাজার ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন।

তিনি বলেন, এ বছর সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হলো। প্যাকেজ-১ এ হজে যেতে পাঁচ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা খরচ হবে। এই প্যাকেজের যাত্রীরা মসজিদুল হারামের এক হাজার মিটার দূরত্বের মধ্যে থাকবেন। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে একটি প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।

এর সঙ্গে প্রত্যেককে ৫৯ টাকা বেশি দিতে হবে।

এ টাকা গ্রহণের জন্য ২৮, ২৯ এবং ৩০ মে সময় নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে আগামী শনিবার দেশব্যাপী তফসিলি ব্যাংকগুলো খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।