বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 292

জট খুলতে আসছে নতুন প্রস্তাব

বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণে সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে আজ ঢাকায় আসছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভারান। তার নতুন প্রস্তাবে কী আছে, তা নিয়ে ঢাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে জট খোলার আশা করা হচ্ছে।

ইতঃপূর্বে অনিয়মের অভিযোগে মাহাথিরের সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই সময়ে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী প্রেরণ করা হচ্ছিল। অনেক বছর শ্রমবাজারটি বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক মোতাবেক, কর্মীদের বিমান ভাড়াসহ যাবতীয় ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীরা বহন করবে।

এই শর্তে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হলেও আবারও সিন্ডিকেট বিতর্কে নিয়োগ আটকে যায়। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সারাভারান এক চিঠি দিয়ে তাদের পছন্দমতো ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করবে বলে জানায়। বাংলাদেশ সরকার এই শর্তে একমত হয়নি। বাংলাদেশের তরফে নিবন্ধিত এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশের যুক্তি হলো, মালয়েশিয়া কর্মী নিয়োগে দেশটি অপরাপর সোর্স কান্ট্রিগুলোর জন্য সিন্ডিকেট বেঁধে দেয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন নিয়ম যৌক্তিক নয়। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেট এবং সিন্ডিকেটবিরোধী দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সরকার সব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিলেও মালয়েশিয়ার সরকার এ ব্যাপারে সাড়া দেয়নি। ফলে কর্মী প্রেরণে স্থবিরতা দেখা দেয়।

জানতে চাইলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রীর সফরের বিষয় নিশ্চিত করলেও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকার করেন। তবে ঢাকার এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কর্মী প্রেরণ বিষয়ে দুদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে মন্ত্রীর উপস্থিতির কারণ কী জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অবস্থান মালয়েশিয়ার কাছে স্পষ্ট। আমরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চাই না। আমরা চাই উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কর্মী পাঠাতে, যেভাবে অন্য দেশগুলো মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়। এ বিষয়টি অনুধাবন করে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সম্ভবত ছাড় দিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আসছেন। এখন দেখা যাক তিনি কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিষয়টি এমনই জটিল আকার ধারণ করেছে যে কর্মকর্তা পর্যায়ে এর সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ কারণে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের ফলাফল ইতিবাচক হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সারাভারানের সাক্ষাৎ হতে পারে।’

রিক্রুটিং এজেন্টরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দাতো আমীন এবং বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্টদের সংগঠন বায়রার সাবেক সাধারন সম্পাদক রুহুল আমিন স্বপন সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে আছেন। অপরদিকে বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাশারসহ রিক্রুটিং এজেন্টদের বড় অংশ সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। সিন্ডিকেটবিরোধীরা মঙ্গলবারও রাজধানী ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবি উত্থাপন করেন। অপরদিকে সিন্ডিকেটের পক্ষের লোকরাও প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তাদের লবিং-তদবির অব্যাহত রাখছেন।

ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় একটি বড় সমস্যা। একশ্রেণির মুনাফাখোর রিক্রুটিং এজেন্সি এবং দালাল বিদেশ গমনে আগ্রহীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। যদিও এবার বিমান ভাড়াসহ অভিবাসন ব্যয় মালয়েশিয়ার নিয়োগকারীদের বহন করার কথা; কিন্তু এখনই অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল কর্মীদের কাছ থেকে অনেক বেশি অর্থ আদায় শুরু করে দিয়েছেন। এসব মুনাফাখোর রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালরা মনে করেন, বাংলাদেশ সরকার শেষ পর্যন্ত অভিবাসন ব্যয় সীমিত রাখতে সমর্থ হবে না।

রাজনীতির সাতকাহনে যা বললেন বক্তারা

দেশের প্রথম স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৩০ মে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছে ‘রাজনীতির সাতকাহন’ অনুষ্ঠানের বক্তারা।

আইয়ুব খানের মত করেই জোর করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেছেন বলে মন্তব্য করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামস রহমান।

তিনি বলেন, ‘১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান যেভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন, ঠিক তেমনিভাবে জিয়াও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেই এসেছেন। উনি যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন তিনি সেনাবাহিনীর প্রধান এবং জরুরি অবস্থায় সামরিক সরকারেরও প্রধান। আপনারা যদি দেখেন একইভাবে ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান ছিলেন সেনা বাহিনীর প্রধান এবং সামরিক সরকারের প্রধান। দুইজনই ‘হ্যাঁ’/’না’ ভোটের আয়োজন করেন এবং সেখানে ভোটের ব্যালট পেপারে নিজেদের ‘গ্লোরিফাই’ করেছেন। পার্থক্য ছিলো একটাই, আইয়ুব খান ইংরেজিতে ব্যালট পেপারে নিজের পক্ষে লিখেছিলেন আর জিয়া লিখেছিলেন বাংলায়।’

লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত বলেন, ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ সালে বিচারপতি আবু সায়েমের কাছ থেকে জিয়া জোর করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সামরিক ও প্রশাসন বিভাগের প্রধানের পদটি কেড়ে নেন আবু সায়েমের কাছ থেকে।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় তখন বঙ্গবন্ধুর গায়েবি জানাজা আমরা পড়েছি। সেই সংবাদও কোন পত্র-পত্রিকায় ছাপাতে দেয়া হয় নাই। আর জিয়া ক্ষমতা গ্রহণের পর পত্রপত্রিকা-রাস্তাঘাট সবখানে শূন্যতা, শুধু জেলখানাগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীতে পূর্ণ। এর পর প্রহসনের গণভোট এবং এই স্বৈরশাসনের ধারাবাহিকতা আমরা এরশাদের আমলেও দেখেছি।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ৭৫ সালের পর সকল রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিলো। শুধুমাত্র যারা জিয়াকে তোষামোদ করে চলতো, ফুলের তোরা নিয়ে যেতো, তাদের খবরই বেশি দেখা যেতো। আমরা একটা পর্যায়ে আটক হই এবং জেলে থাকি। জনাব সায়েদা চৌধুরী, তিনিও জেলে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আমাকেও গ্রেফতার করে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আমি রাস্তায় ছিলাম, সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিয়ার ভোট কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল অল্প কিছুদিনের জন্য রাজনৈতিক কার্যক্রম উন্মুক্ত করা হয়। এই অল্প সময় নেতাকর্মীরা প্রচণ্ডভাবে চেষ্টা করেন জেনারেল ওসমানীর জন্য। কিন্তু ভোটের ফলে জেনারেল ওসমানী পান শূন্য ভোট। তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিলো যে, জেনারেল ওসমানীর পোলিং এজেন্টরাও তাকে ভোট দেয়নি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোন পোলিং এজেন্টকে ঢুকতেই দেয়া হয়নি ভোট কেন্দ্রে। তাদের মত করে সিল মেরে ভোটের বাক্স নিয়ে যায় তারা। তখনতো এখনকার সময়ের মতো এত ভিডিও ছিলো না। থাকলে বিষয়টি আরো ভালো করে দেখানো যেতো।’

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ আরো জানান, ৩০ মে যেই ভোটটি হয়েছে, সেটি নিয়ে আসলে কারো কিছুই বলার সুযোগ ছিলো না। পত্রিকাগুলো দেখেন, তাদেরও কিছু লেখার সুযোগ ছিলো। দেশের নাগরিকদেরও কিছু বলার সুযোগ ছিলো না। তাদের ভোট ডাকাতি দেখেও কোন কিছু করার সুযোগ ছিলো না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েব টিমের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে সোমবার দলীয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এই ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলের সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক অজয় দাসগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামস রহমান।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক আজ

তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর প্রথমবারের মতো উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বসছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সম্মিলিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ থাকলেও এককভাবেই এটিই তাদের নিয়ে প্রথম সভা। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও দ্বাদশ নির্বাচনের আগে ডাকা এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বুধবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডার কথা উপদেষ্টাদের বলা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের আসন্ন সম্মেলন ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ইস্যু এতে প্রাধান্য পাবে। উপদেষ্টাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে পরামর্শ চাইবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ ছাড়া সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়াবলীয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কও এই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু যুগান্তরকে বলেন, ১ জুন বিকাল ৪টায় গণভবনে এই সভা ডাকা হয়েছে। সভায় কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা পাইনি। তবে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের পর এটাই এককভাবে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভা। এর আগে ২০২০ সালে ৩ ও ৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর মহামারি করোনার কারণে প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও উপদেষ্টা পরিষদের আলাদা কোনো সভা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ৪১ থেকে বাড়িয়ে ৫১ করা হয়। জাতীয় সম্মেলনের পর একেএম রহমত উল্লাহ এমপি, হাজি আবুল হাসনাত, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জয়নাল হাজারীসহ বেশ কয়েকজনকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যে হাজি আবুল হাসনাত ও জয়নাল হাজারী মারা গেছেন। এ ছাড়া এই সময়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচটি ইমামসহ আরও কয়েকজন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মারা গেছেন। ফলে উপদেষ্টা পরিষদের বেশ কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এদিকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

সরকারের ৭২৭ কোটি টাকা অপচয়ের শঙ্কা

গরিব ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য প্রতিবছর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে মোটা অঙ্কের অর্থব্যয় করে সরকার। বরাবরই অভিযোগ উঠে এর সুবিধাভোগী (প্রকৃত গরিব) নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের দরিদ্র মানুষের তালিকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এজন্য ‘ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজ (এনএইচডি)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। কিন্তু এ প্রকল্পটিতেও রয়েছে নানা অনিয়ম এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা। ত্রুটিপূর্ণ তথ্যে তৈরি করা হয়েছে ডেটাবেজ। যেটি কোনো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ কারণে ৭২৭ কোটি টাকা অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া যোগ্য প্রকল্প পরিচালকসহ দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বসে বসে বেতনভাতা নিচ্ছেন ২৮৭ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। পরামর্শকসহ অন্যরাও দায়িত্ব পালন করেননি। চার বছরের এ প্রকল্পটিতে সাড়ে ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি কাজ। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের থার্ড পার্টি (তৃতীয় পক্ষ) মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘দ্বিতীয় খসড়া’ প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করার কাজ করছে সংস্থাটি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, থার্ড পার্টির মাধ্যমে আইএমইডির যে মূল্যায়ন, এগুলো অবশ্যই অনিয়ম এবং দুর্নীতির মধ্যেই পড়ে। সেই সঙ্গে প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব তথ্য তুলে আনা হয়েছে, সেগুলো যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং ব্যবহার করা না যায়, তাহলে পুরো অর্থই অপচয় হওয়ার শামিল। এ প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এরকম কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া এটি কোনো সাধারণ প্রকল্প ছিল না। সরকারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে অবহেলা কেন হবে। শুরু থেকে যারা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুধু প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্প দীর্ঘায়িত করে একটি মহল সুবিধা অর্জন করে। এটা প্রকল্পের সংস্কৃতি হিসাবেই দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক কাজী তোফায়েল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এই প্রতিবেদনে অনেক ভুল আছে। আইএমইডি সচিব ও আমাদের সচিব (পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ) মিলে বসে ঠিক করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। ‘নো কমেন্টস’। যদি কথা বলার প্রয়োজনই হয়, তাহলে ফোনে বলতে পারব না। অফিসে আসেন।

আইএমইডির খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি গ্রহণের যেসব উদ্দেশ্য ছিল, তা সার্বিক বিবেচনায় অর্জন করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পের আওতায় গৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা অসম্পূর্ণ ডেটাবেজ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের কোনো উদ্দেশ্য অর্জিত হচ্ছে না। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় এটির আউটপুট ব্যবহারযোগ্য নয়। আরও বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ এনএইচডি ডেটাবেজ ব্যবহার করে সঠিকভাবে দরিদ্র জনেগোষ্ঠীকে লক্ষ্যভুক্ত করা সম্ভব নয়।

এছাড়া দরিদ্রদের লক্ষ্যভুক্তির কৌশল সহজতর করাও সম্ভব নয়। ফলে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচন ও দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব হবে না। প্রকল্পে নিয়োগ করা ৫৪৫ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়মিতভাবে ২০১৬ সাল থেকে বেতনভাতা প্রকল্প থেকে নিয়ে আসছেন। তাদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত ২৮৭ জন। কিন্তু তারা প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়মিত কাজকর্ম বা দায়দায়িত্ব পালন করছেন না। ফলে এক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অর্থব্যয় বলে প্রতীয়মান হয়। কিছু ক্ষেত্রে সংগৃহীত তথ্য আইসিআর ফার্ম স্ক্যানিং করার সময় যথাযথভাবে কোয়ালিটি কন্ট্রোল করেনি। ফলে নাম, বয়স প্রভৃতি ফিল্ডে ভুলের কারণে ত্রুটিপূর্ণ ডেটাবেজ তৈরি হয়।

এ পরিপ্রেক্ষিতে স্ক্যানিং করা তথ্য ফার্মকে পুনরায় কারেকশন করতে হচ্ছে। আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ করা হলেও ডেটাবেজে অসংগতি পাওয়া গেছে। ফলে পরামর্শকরা তাদের কার্যপরিধি অনুযায়ী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। এজন্য প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। প্রকল্পের আওতায় সংগৃহীত তথ্য যথাযথ এডিটিং না করে সরাসরি স্ক্যান করা হয়। এতে পরিসংখ্যানের নিয়মাবলি বিচ্যুতি হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক হিসাবে পরিসংখ্যান ব্যুরোর কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে প্রকল্পটি ব্যুরোর অধীনস্থ কোনো উইংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকায় বিবিএস সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকল্পে একাধিক আইটি কনসালটেন্ট এবং বিবিএস-এর একাধিক সিনিয়র প্রোগ্রামার নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবে তারা উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেননি। ফলে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ডিডিএম (ডিরেক্টরেট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট)-এর মাধ্যমে এনএইচডি এমআইএস এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, অর্থ অপচয়ের বিষয়টি ঠিক নয়। কেননা কাজ তো হয়েছে। ভুলত্রুটি যেগেুলো হয়েছে, সেগুলো ওই ফার্মের মাধ্যমেই সংশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হবে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বব্যাংক এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। ফলে সার্বিক প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, আরমেনিয়ার পরামর্শক দিয়ে এই এমআইএস করার কথা। কিন্তু করোনাসহ নানা কারণে তারা কাজ করতে আসতে পারেননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।

সূত্র জানায়, ‘ন্যাশনাল হাউজহোল্ড ডেটাবেজ (এনএইচডি)’ প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের অর্থও রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৬৯৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও বৃদ্ধি পেয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৭২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া মূল অনুমোদনের সময় ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। এতে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম সংশোধনীর সময় ২০১৮ সালে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর দ্বিতীয় সংশোধনীতে ছয় মাস বাড়িয়ে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এতেও শেষ হয়নি কাজ। এবার ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে দুই বছর বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ দেড় বছর মেয়াদ বাড়িয়ে চতুর্থ সংশোধনীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির ক্রমপুঞ্জিত বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯২ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৬৩৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৮৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ৩ কোটি পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার চিত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার তিন দিন পর সেই বাস ব্যবহার হয় ছিনতাইয়ে

চট্টগ্রামে একটি বাস অপরাধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে গেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে বাসটিতে তরুণী ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ ঘটেছে।

ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্যকে সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে বাসটি ব্যবহার করা হয়েছে। এজন্য বাসটির পেছনে নম্বরপ্লেট লাগায়নি অপরাধচক্রটি। সামনের নম্বরপ্লেটটি বাম্পার দিয়ে কৌশলে ঢাকা, দেখা যায় না কিছুই।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আবদুল ওয়ারীশ গণমাধ্যমকে বলেন, নম্বরপ্লেট আড়ালে রেখে একই বাস দিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তরে দুটি ঘটনায় ওই বাসে আলাদা চালক ছিলেন। বাসটিকে আরও অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তদন্ত করা হচ্ছে।

এমন অপরাধ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হয়ে ওঠা বাসের সত্ত্বাধিকারীকে কে প্রশ্নে আবদুল ওয়ারীশ বলেন, আমরা খোঁজ নিয়েছি। বাসটির মালিক প্রবাসী। এটি দেখাশোনার জন্য এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাকে খুঁজছি আমরা। তাকে পেলেই জানতে পারব যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাসটি অপরাধের কাজে ভাড়া দিচ্ছেন, নাকি এর চালক, হেলপাররা অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে নগরের বাকলিয়া রাহাত্তারপুল এলাকায় চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা করায় চালককে ঘুষি মেরে লাফ দেন ১৯ বছর বয়সি এক পোশাককর্মী। বাস থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন ওই পোশাককর্মী। ছয় দিন পর জ্ঞান ফিরলে পুলিশকে ঘটনার বিস্তারিত জানান।

পরে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজে ওই তরুণীর লাফ দেওয়ার সত্যতা পায় পুলিশ। এ ঘটনায় ২৫ মে রাতে হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকা থেকে বাসচালক আনোয়ার হোসেন এবং তার সহকারী জনি দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় ঘটনায় ব্যবহার করা বাসটি।

তবে ওই ঘটনার তিনদিন পরই ওই বাস ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা হয় বলে জানান পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ২২ মে রাতে অলংকার মোড় থেকে মো. পারভেজ নামের এক ব্যক্তি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি যাওয়ার জন্য ওই বাসে ওঠেন। এটি কিছু দূর যাওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা তিন ছিনতাইকারী তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তার হাত-পা বেঁধে নগরের খুলশী সেগুনবাগান এলাকায় ফেলে যান তারা। পারভেজ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পাহাড়তলী থানায় গত শুক্রবার মামলা করেন। বাকলিয়া থানা-পুলিশের হাতে জব্দ হওয়ার পরই জানা যায় দুটো ঘটনায় এই বাসই ব্যবহৃত হয়েছে। গ্রেফতার ছিনতাইকারীরা বাসটি ছিনতাইসহ নানা কাজে ব্যবহারের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন – আশরাফুল ইসলাম (২৮), মো. মিন্টু (২৫) ও নঈম উদ্দিন (২১)। তাদেরকে রিমান্ডে নিলে হাবিবুর রহমান নামে আরেকজনের কথা জানায় তারা। সোমবার রাতে চান্দগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হাবিবকে।

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড এর ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় নগদ ১০% লভ্যাংশ অনুমোদন

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড এর ২৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ৩১ মে, ২০২২ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ এ. মঈন সভাটির সভাপতিত্ব করেন এবং সম্মানিত শেয়ারহোল্ডারদের বার্ষিক সাধারণ সভাতে যোগদানের জন্য স্বাগত জানান।

সম্মানিত শেয়ারহোল্ডাররা ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ সমাপ্ত অর্থ বছরে প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং নগদ ১০% লভ্যাংশ অনুমোদন করে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জনাব খাজা শাহরিয়ার প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক অবস্থা, কর্মপরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অবহিত করেন।

সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করল আলমগীর র‌্যাঞ্চ ও মোনার্ক মার্ট

পবিত্র ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে দেশীয় ই-কমার্স প্লাটফর্ম মোনার্ক মার্ট-এর সঙ্গে যুক্ত হল আলমগীর র‌্যাঞ্চ। গেল সোমবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার গুলশানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৃষি খামার আলমগীর র‌্যাঞ্চ লিমিটেড এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ই- কমার্স প্লাটফর্ম মোনার্ক মার্ট ডট কম-এর মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। উক্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর র‌্যাঞ্চ লিমিটেড-এর সম্মানিত পরিচালক ও লাবিব গ্রæপের সম্মানিত ভাইস-চেয়ারম্যান মিসেস সুলতানা জাহান, সিআইপি এবং মোনার্ক মার্ট ডট কম-এর সম্মানিত চিফ অপারেটিং অফিসার জনাব জাহিদ কামাল।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর র‌্যাঞ্চের জেনারেল ম্যানেজার মিসেস সাদিয়া তাসনিম সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মোনার্ক মার্ট-এর হেড অব কমার্শিয়াল জনাব আহমেদ মোস্তফাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

আলমগীর র‌্যাঞ্চ লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান গ্রæপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লাবিব গ্রæপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যেই গবাদিপশুর বিশ^স্ত খামার আলমগীর র‌্যাঞ্চ সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাথে সঠিক যতœ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের ক্রেতাদের নিকট সুস্থ, সুন্দর ও সবল গরু সরবরাহের জন্য দেশ জুড়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। আলমগীর র‌্যাঞ্চ তাদের গরুগুলোকে ভেজালমুক্ত, পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার খাওয়ানোর

মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করে থাকে। এছাড়াও তারা গরুকে সুস্থ কিংবা সবল দেখানোর জন্য সব ধরণের কৃত্রিম খাবার, অনিরাপদ ঔষধ, স্টেরয়েড কিংবা হরমোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। গরুর সার্বক্ষণিক যতেœর জন্য তারা দক্ষ খামারী ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্বাবধানে অত্যন্ত পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পালিত সুস্থ, সুন্দর ও সবল গরু সরবরাহ করে যা ক্রেতা ও ভোক্তার জন্য হালাল ও স্বাস্থ্যকর মাংস নিশ্চিত করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোনার্ক মার্ট ডট কম-এ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও-এর মাধ্যমে গ্রাহক তার গরু ক্রয়ের পূর্বে গরুর জাত, ওজন, বয়স ও রং সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পাবেন। এছাড়াও আলমগীর র‌্যাঞ্চ কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সুবিধার্থে তাদের বিক্রিত গরু নিজস্ব খরচে গ্রাহকের নিকট পৌঁছে দেবেন।

ভার্জিনিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘স্বেচ্ছাসেবক সেবা’ সম্মাননা পেলেন ১২ বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের উদীয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘স্বেচ্ছাসেবক সেবা’ সম্মাননা পেলেন ১২ জন বাংলাদেশি। সাম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন সেন্ট্রাল লাইব্রেরির অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সামাজিক সংগঠন উদীয়ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান।

এ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রেটার ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীদের এবং জাতীয় পর্যায়ে গণমাধ্যমে অবদান রক্ষাকারী ব্যক্তিত্বদের তাদের অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানিত করা। উদীয়নের পক্ষ থেকে এটি ছিল একটি মহতী উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আগত অতিথিদের স্বাগতম জানিয়ে সবাইকে উদীয়নের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান এন্থনি পিউস গোমেজ। এরপর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মূলধারার নেতৃবৃন্দকে মঞ্চে আহবান জানান অনিকা রহমান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির চেয়ার জেফ্রি ম্যাকে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি স্কুল বোর্ডের ভাইস-চেয়ার রচনা সিজমোর হেইজার এবং ডেমোক্রেটিক এশিয়ান আমেরিকানস অব ভার্জিনিয়ার সাবেক চেয়ার ডুয়িটা সোহারজোনো। এরপর উদীয়ন এবং উদীয়নের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন উদীয়নের প্রতিষ্ঠাতা রেদোয়ান চৌধুরী।

উদীয়ন যাদের সম্মানিত করেছেন তারা হলেন- ভয়েস আমেরিকার ইকবাল বাহার চৌধুরী, মাসুমা খাতুন, সরকার কবিরুদ্দিন, রোকেয়া হায়দার এবং আনিস আহমেদ। এছাড়াও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয়েছে ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার সবার পরিচিত ওয়াহেদ হোসেইনী, শারমিন আহমদ, শামীম চৌধুরী, এন্থনি পিউস গোমেজ, রোজমেরী মিতু রিবেরু, শম্পা বণিক এবং অনিকা রহমানকে। আরও যারা সম্মাননার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন কিন্তু দেশের বা শহরের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি তারা হলেন- আবু সোলাইমান, ড. মরিয়ম পারভীন, সুভি মেহ্দী, প্রয়াত মুকিত হোসেইনের পরিবার, ড. আজিজুল কাদের, শফিক চৌধুরী, জহিরুল কাদের এবং মৈত্রেয়ী নায়েক।

যারা এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তারা সবাই সমাজের সম্মানিত বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব। সমাজের জন্য, দেশের জন্য তাদের অবদান অপরিসীম এবং উদীয়নের পক্ষ থেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের এই সম্মাননা প্রদান ছিল উদীয়নের একটি ব্যতিক্রমধর্মী মহতী উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এমনি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য উদীয়নের পক্ষ থেকে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। সমাজের উন্নয়নের জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্রে থেকে স্বীয় ভূমিকা পালন করার জন্য উদীয়নের পক্ষ থেকে উদাত্ত আহবান জানানো হয়। অতঃপর সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন এন্থনি পিউস গোমেজ এবং অনিকা রহমান।

অপো এফ২১ প্রো ফাইভজি: উদ্ভাবন ও নান্দনিক ডিজাইনের অপূর্ব সমন্বয়

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, আইকনিক ডিজাইন ও উদ্ভাবনী ভাবনা – এ তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই শীর্ষস্থানীয় স্মার্ট ডিভাইস ব্র্যান্ড অপো প্রতিনিয়তই দেশের বাজারে নিয়ে আসছে নিত্য নতুন প্রযুক্তির স্মার্টফোন। ব্যবহারকারীদের ফোন ব্যবহারের অনন্য অভিজ্ঞতা দিতে প্রতিষ্ঠানটি এর এফ সিরিজের নতুন ডিভাইস এফ২১ প্রো ফাইভজি সংস্করণের ডিভাইসটি বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে। এফ২১ প্রো ফাইভজি ডিভাইসটি অপো’র নিজস্ব উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তৈরি করা হয়েছে; যেখানে উদ্ভাবনী অপো গ্লো ও ডুয়াল অরবিট লাইটস ডিজাইন নিয়ে আসা হয়েছে। উদ্ভাবন সমৃদ্ধ এ ডিভাইসটি নিশ্চিতভাবেই নতুন ট্রেন্ডসেটার হিসেবে ব্যবহারকারীদের মন জয় করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা যাচ্ছে।

রঙধনুর মতো প্রিজম্যাটিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট

অপো এফ ২১ প্রো ফাইভজি ডিভাইসে অত্যাধুনিক সিএমএফ (রঙ, ম্যাটেরিয়ালস, ফিনিশ) টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে। রেইনবো স্পেকট্রাম ও কসমিক ব্ল্যাক – ব্যবহারকারীদের জন্য এ দু’টি রঙে ডিভাইসটি বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে। রেইনবো স্পেকট্রাম রঙের ডিভাইসটি তৈরির প্রক্রিয়ায় ‘থ্রি-লেয়ার টেক্সচার ও টু-লেয়ার কোটিং’ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ফোনটি রঙধনু রঙের আবহ তৈরি করবে। থ্রি-লেয়ার টেক্সচারে ‘ইনারমোস্ট স্কেটারিং’ গ্রেইন, এসজি গ্রেইনে ইন্টারলেয়ার ও গ্লসি-অ্যান্ড-ম্যাট গ্রেইন দিয়ে তৈরি উজ্জ্বল অপো গ্লো ডিজাইন ও ডিভাইসটির ক্যামেরা সেকশনেও রয়েছে গ্লসি লেয়ার। এ সব কিছুর সমন্বয়ে, অপো ডিভাইসটির পেছনের দিকে একটি উন্নত টেক্সচার তৈরি করেছে। লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের সমন্বয়ে মাল্টি-কালার গ্রেডিয়েন্ট তৈরি হয়েছে; পাশাপাশি, ইন্ডিয়াম কোটিংয়ের একটি বেস লেয়ারের সঙ্গে রঙের পরিবর্তনের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে যথাক্রমে সবুজ, বেগুনি ও গোলাপী রঙ। এর ফলে, এফ২১ প্রো ফাইভজি’র রেইনবো স্পেকট্রাম ছয়টি প্রধান রঙে উজ্জ্বল, মনোমুগ্ধকর ও ‘হাইলি-রিফ্লেক্টিভ’ আকারে আবির্ভূত হয়। গ্লসি ও ম্যাট টেক্সারের সমন্বিত বিষয়টি গ্রেডিয়েন্ট ফিনিশ এ আলো ছায়ার এক অপূর্ব মিশ্রণ তৈরি করে। অপো গ্লো ম্যাট ক্যামেরার অংশটুকুকে আরো বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে।

জীবন এবং ভালোবাসা

কোথায় পাবো তারে?
> এই চিন্তা করে,
> শান্তির খোঁজে আমি আজীবন ভরে।
> পাপে তাপে পূর্ণ করেছি সারা জীবনটা,
> সবকিছু ছেড়ে এখন দুশ্চিন্তায় মনটা।

> ভাবছি বসে একা যখন মনটা বেশ ফাঁকা!
> পরিবর্তন হবার সুযোগটা যদি না পাই,
> তবে কেমন করে হবে জন্মের স্বার্থকথা!

> নতুন প্রিয়ার সনে হবে কী দেখা?
> কোথায় কখন শুধু জানতে মন চায়!
> ভালোবাসার সেতু যখন তৈরি হলো,
> পারাপারের সময় সে কোথায় গেলো?
> ধৈর্য ধরে আছি দেখি কি আছে কপালে লিখা।

> জন্ম হয়েছে আমার এই পৃথিবীতে,
> আলোর ফেরিওয়ালা হয়ে সাগরে এসেছি বেড়াতে।
> সাগরের পাশজুড়ে রয়েছে পাহাড়,
> কিভাবে পারি বলো তাকে এড়াতে?
> হাজার রকমের ফুল ফুটেছে সেখানে,
> অনেক ফুল ঝরে পড়েছে মাটিতে।
> তুলেছি ফুলগুলো দুহাত ভরে।
> জীবন ফুলশয্যা নয় শুনেছি আগে,
> তারপরও সেই ঝরা ফুলের উপর পরেছি শুয়ে।
> শুয়ে পরেই ঘুমিয়ে পরেছি,
> একটুও পাইনি টের।

> যাক না পুরনো ফুলের মালা ছিঁড়ে,
> কি আসে যায় তাতে!
> গলায় পরিয়ে দিব নতুন ফুলের মালা।
> রাজি যদি না হয় সে,
> চলে যাবো মালাখানি রেখে।

> আমার জীবনে যখন এসেছো তুমি এবার,
> থাকো না সাথে তুমি বলি বার বার।
> আমারে ছেড়ে যদি চলে যাও তুমি,
> কি হবে এ জীবন দিয়ে যদি একা হই আমি!
> তুমি এসে এ জীবন করিলে শুধু ধন্য,
> কিভাবে বোঝাব তা আমি যে নগন্য!

> হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দেখি,
> বসে আছে পাশে আমার সেই সঙ্গীনি।
> যাকে আমি আজীবন বেসেছি ভালো,
> নতুন ফুলের মালা আজ সে গলায় নিল।

> দুজনে মিলে হাতে হাত ধরে,
> নেমেছি সাগরে সাঁতার কাটিতে।
> হাসি আর খুশিতে সারাদিন ধরে,
> মনের আনন্দে কেটেছে দিনটি।
> আশাকরি এমন করে কেটে যাবে বাকি জীবনটি।