বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 285

২৮ ঘণ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার ২৮ ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দমকল বাহিনী কর্মীদের। আগুন নেভাতে গিয়ে কনটেইনার বিস্ফোরণে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৯ কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন।

রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নেভাতে চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের টিম।পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কনটেইনার ডিপোটিতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজেন পার অক্সাইড’ ছিল। হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রে জানা যায়, কেমিক্যাল কনটেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন লাগার পর পর কন্টেইনারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে কন্টেইনার ডিপোর আশে পাশের ৪-৫ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক কম্পনের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় শতাধিক বিভিন্ন বাড়ি-ঘর ও মসজিদের দরজা এ জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় জনমনে আতংকের সৃষ্টি হয়।

বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় রাসায়নিকের বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উদ্ধারকর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের নিরাপদে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আরও ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। তবে ডিপোতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

রোববার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি যদি উত্তপ্ত করা হয়, তাহলে তাপীয় বিয়োজনে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ভয়ংকর বিস্ফোরক রূপ নেয়। কর্তৃপক্ষ লোকালয়বেষ্টিত ডিপোর ভেতরে কোনো ধরনের অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুত করে রেখেছিল, যার ফলে বিস্ফোরণে ঘটেছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার সোনাইছড়ী ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আমদানিকৃত একটি কন্টেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রোববার দিবাগত রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় সাড়ে ৪ শতাধিক মানুষ দগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়াও গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। তাদের মধ্যে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মী গাউসুল আজম ও সীতাকুণ্ডু স্টেশনের রবিউলকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। গাউসুলের শরীরের ৮০ শতাংশ এবং রবিউলের ৫০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

জামিন বাতিল বিষয়ে ‘ক্যাসিনো সম্রাটের’ আপিল শুনানি আজ

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ও ঢাকায় ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা হিসেবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের জামিন বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি আজ।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ৩০ মে সম্রাটের আপিল শুনানির জন্য ৬ জুন দিন ঠিক করেছিলেন আপিল বিভাগ। আদালতে সেদিন সম্রাটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান।

এর আগে গত ১৮ মে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় সম্রাটের জামিন বাতিল করেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে সাতদিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত ২৩ মে হাইকোর্টের দেওয়া সেই আদেশ বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।

গত ১১ মে সম্রাটকে জামিন দিয়েছিলেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক আল আসাদ মো. আসিফুজ্জামানের আদালত। এরপর জামিন বাতিল চেয়ে গত ১৬ মে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

এ মামলায় জামিন পাওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে করা আরও তিনটি মামলায় জামিন পান তিনি। চারটি মামলার সব কটিতেই জামিন পাওয়ায় গত ১১ মে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে কারামুক্তি পান সম্রাট।

রমনা থানায় দায়ের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গত ১১ এপ্রিল জামিন পান সম্রাট। এর একদিন আগেই ১০ এপ্রিল অর্থপাচার ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের পৃথক দুটি মামলায় ঢাকার পৃথক আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

সারাদেশে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সম্রাট ও তার সহযোগী তৎকালীন যুবলীগ নেতা এনামুল হক ওরফে আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

ওই বছরের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। পরের বছর, ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। অভিযোগপত্রে সম্রাটের বিরুদ্ধে ২২২ কোটি ৮৮ লাখ ৬২ হাজার ৪৯৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।

হজ ফ্লাইট শুরু আজ

হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট শুরু করার জন্য প্রস্তুত রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্প। শুক্রবার থেকে হজক্যাম্পে আসতে শুরু করেছেন হজযাত্রীরা। আজ সকাল ৯টায় ৪১৫ জন যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এবার হজক্যাম্পে তেমন চাপ নেই। এরই মধ্যে কয়েকশ’ হজযাত্রী ক্যাম্পে এসেছেন । সুন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন হজযাত্রীরা।

রাজধানীর আশকোনার হজক্যাম্পের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জানান, সাধারণত প্রথম ফ্লাইটে যেসব হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন তারাই প্রথমে হজক্যাম্পে আসেন। হজযাত্রীরা হজক্যাম্পে অবস্থান নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এবারের হজযাত্রীর সংখ্যা অন্যবারের চেয়ে অর্ধেকের কম। আশা করি সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সবাই সৌদি আরব পৌঁছতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে এবার হজে যেতে ১২৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। বাংলাদেশ বিমান ৬৫টি, সাউদিয়া ৫১টি, ফ্লাইনাস ১২টি ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহণ করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৮ জুলাই (৯ জিলহজ) সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা জোন। এ ছাড়া সার্বিক শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন রোভার স্কাউট সদস্যরা। হজক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ১৭টি পোস্টে প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত আছেন। হজক্যাম্পের দোতলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল সেন্টার ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের হজ বুথ।

চলতি বছরের হজ কার্যক্রম শুক্রবার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন হজক্যাম্পে আগত হাজীদের ভিসা, পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়। করোনা মহামারির কারণে গত দুুই বছর বাংলাদেশে থেকে কেউ হজে অংশ নিতে পারেননি। এবার হজে সারা বিশ্বের ১০ লাখ মুসল্লি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জনসহ সর্বমোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন।

নাকের হাড় বাঁকা এবং নাক বন্ধ থাকলে করণীয়

‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। এইমানুষ যে এত সুন্দরভাবে নিঃশ্বাস নেয় তা জানতাম না।’ এক সকালে মোবাইলে মেসেজটা এলো। পাঠিয়েছেন সিলেটের কানাইঘাটের ২৭ বছরের এক স্মার্ট যুবক, যার ৭ দিন আগে নাকের হাড় বাঁকার অপারেশন হয়েছিল। দীর্ঘদিন মাথা ও নাকের পাশে ব্যথা, নাক বন্ধজনিত কারণে শ্বাস নিতে সমস্যায় ভুগে অবশেষে আশ্বস্ত হয়ে অপারেশন করিয়েছেন।

নাকের হাড় বাঁকা খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রায় আশি শতাংশ মানুষেরই নাকের হাড় অল্প-স্বল্প বাঁকা থাকে। যদি এর ফলে কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে এটি তেমন কোনো সমস্যাই নয় যা নিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন সম্ভব। অর্থাৎ হাড় বাঁকা থাকলেই যে অপারেশনের দরকার, তা নয়। তবে আপনার নাকের মাঝখানের হাড় যদি অতিরিক্ত বাঁকা হয় এবং তার ফলে সৃষ্ট নিচের উল্লিখিত সমস্যাগুলোর সম্মুখীন নিয়মিতই হতে হয় তাহলে একজন নাক, কান, গলা রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী নাকের হাড় বাঁকার অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

* নাকের হাড় বাঁকা থাকলে কী কী সমস্যা হতে পারে

নাকের হাড়টা যেদিকে বাঁকা, সেই পাশে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। নাক বন্ধ মনে হতে পারে কারণ বাঁকা অংশে বাতাস চলাচলের পথ সরু থাকে। মাথাব্যথা, মাথায় চাপচাপ অনুভূতি, সবসময় সর্দি, এমনকি কানেও তালা লাগার মতো সমস্যা হতে পারে। হাড় বাঁকার কারণে নাক দিয়ে রক্তপাত এবং নাকের ভেতরে ইনফেকশন হতে পারে। হাড় বাঁকার কারণে সাইনাস ইনফেকশনের সময় নিঃসৃত হওয়া শ্লেষ্মা (পোস্ট ন্যাসাল ড্রিপ) রোগীর নাকের পিছনে অথবা গলায় জমা হতে পারে। এই পোস্ট ন্যাসাল ড্রিপের শ্লেষ্মা জমা হওয়ার ফলে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, গলায় অস্বস্তি, গলাব্যথা, ঘ্রাণানুভূতি হারানো অথবা প্রায়সময় গলা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হতে পারে। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে না পারার কারণে রোগী নাক ডাকে, ঘুমের মধ্যে মুখ শুকিয়ে যায়।

* চিকিৎসা

নাকের হাড় বাঁকা থাকলে এবং এ হাড় বাঁকার কারণে সৃষ্ট সমস্যা প্রাথমিকভাবে ওষুধ দ্বারাও সমাধান না হলে এবং সবসময় ড্রপ ব্যবহারের দরকার হলে অপারেশনের মাধ্যমে একে ঠিক করে নিতে হয়। এক্ষেত্রে সার্জারির বিকল্প নেই। আমাদের নাকের মাঝখানের পার্টিশন কয়েকটি হাড় এবং কার্টিলেজের সমন্বয়ে গঠিত। বেঁকে যাওয়া সেপটাম অর্থাৎ নাকের পার্টিশন সোজা করতে এবং নাকের মধ্যকার বাতাস চলাচল সহজ করতে যে সার্জারি করা হয় তাকে সেপ্টোপ্লাস্টি বলা হয়। তবে বয়সভেদে অপারেশনের ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা। অপারেশনের পর ২৪ ঘণ্টার জন্য রোগীর নাকের ভেতরে প্যাক দেওয়া হয়, এ সময়ে রোগীকে আগে থেকে কাউন্সিলিং করা হয় মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার জন্য।

* অপারেশন নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা

আমাদের মন এখনো কুসংস্কারে ভরা, তাই আধুনিক যুগে এসেও নাকের হাড় বাঁকায় কবিরাজি চিকিৎসা গ্রহণ করে অজান্তে নিজের ক্ষতি করে থাকেন। অনেকের মধ্যে একটি ধারণা কাজ করে, নাকের হাড় বাঁকার অপারেশন করলেও রোগটি আবার হতে পারে। তবে ধারণাটি একদম সঠিক নয়। ভালোভাবে দক্ষ সার্জনের মাধ্যমে অপারেশন করা হলে রোগী অবশ্যই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। তবে এখানে মনে রাখতে হবে অ্যালার্জিজনিত কারণে নাকের মাংস বৃদ্ধি হলে অপারেশনের পর আবার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু নাকের অ্যালার্জি না থাকলে হাড় বাঁকার অপারেশন করার পর আবার কোনো সমস্যা সাধারণত দেখা দেয় না।

লেখক : নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ এবং হেড-নেক সার্জন, রেজিস্ট্রার, নাক-কান-গলা বিভাগ; সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষক বরখাস্ত

অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জসিম উদ্দীন আহম্মেদসহ ৩ শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে টানা ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য দু’জন শিক্ষক হলেন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক তৌফিক আজিজ চৌধুরী, বাংলা বিভাগের শিক্ষক তরুণ কুমার গাঙ্গুলী। তাদেরকে ৩ মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে

এর আগে শুক্রবার প্রেসক্লাবে অধ্যক্ষসহ আরও তিনজন শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন আইডিয়াল কলেজের সাধারণ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শনিবার সকালে তারা একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে যোগ দেন শিক্ষার্থীরাও।

কলেজে সৃষ্ট এই অচলবস্থা নিরসনে শনিবার বিকাল ৪টায় জরুরি বৈঠকে বসে গভর্নিং বডি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সৈয়দ রেজাউর রহমান, অধ্যক্ষ জসিম উদ্দীন আহম্মেদ, অভিভাবক সদস্য কবির আহমদ ভূইয়া, মেজবাউর রহমান রতন, জসীম উদ্দিন আহমদ, আব্দুস সত্তার খন্দকার, শিক্ষক প্রতিনিধি সেগুপ্তা ইসলাম, বজলুর রহমান সাইফুল, মোয়াজ্জেম হোসেন।

এ দিকে অধ্যক্ষকে বরখাস্তের পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বর্তমান উপাধ্যক্ষ মুজিবুর রহমানকে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অবশেষে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন পিকে-শাকিরা

কলম্বিয়ান সুপারস্টার শাকিরা ও বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে শনিবার তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে সদ্য বিচ্ছেদের পথে হাঁটা এই তারকা জুটি জানান, আমরা দুঃখিত যে আমরা আমাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করছি। আমাদের সর্বাধিক অগ্রাধিকার, আমাদের সন্তান। তাদের ভালোর জন্য আমরা আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি।

অবশ্য যতটা সোজাসাপ্টা ভাবে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন, বিষয়টা মোটেও ততটা সহজ নয়। শোনা যাচ্ছে পিকের পরকীয়াই বিচ্ছেদের পর্দা টেনে দিয়েছে এই যুগলের মাঝে।

এমনকি বিচ্ছেদের কারণে শাকিরাকে ‘অ্যাংজাইটি অ্যাটাক’ কারণে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সে উঠার সময়ও নাকি জনপ্রিয় এই তারকা কাঁদছিলেন!

পিকে আর শাকিরার গল্পের শুরুটা ২০১০ সালে। সে বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের থিম সং গেয়েছিলেন এই পপ তারকা। বিশ্ব আক্রান্ত হয়েছিল শাকিরা জ্বরে। সেই আঁচ লেগেছিল স্প্যানিয়ার্ড ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকেরও। ১০ বছরের বড় শাকিরার সঙ্গে প্রণয়ে জড়ান তিনি। এরপর একই ছাদের নিচে কেটে গেছে ১২টি বছর। দুই সন্তানও রয়েছে এই দম্পতির। তবে টান কমে যাবে ভেবে বিয়ের পিঁড়িতে না বসলেও বন্ধনটা শেষমেস টুটেই গেল।

সম্প্রতি শাকিরার একটি গানে তাদের বিচ্ছেদের ইঙ্গিত ছিল। শাকিরা গানের নতুন অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। একটি নাচের অনুষ্ঠানের বিচারকও তিনি। পিকে বার্সেলোনার হয়ে খেলছেন ২০০৮ সাল থেকে। তিনি রক্ষণভাগের ফুটবলার হলেও বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় ২৯টি গোল করেছেন। স্পেনের হয়েও ১০২টি ম্যাচ খেলছেন পিকে।

প্রকাশ্যে এলো কেকে’র শেষ ছবি

মঞ্চে উঠেছিলেন গান গাইতে। শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে, আনন্দ দিতে। কিন্তু নজরুল মঞ্চের শ্রোতাদেরসহ ভারতের সংগীতপ্রেমীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন কেকে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে গুরুদাস কলেজের ফেস্টে দু-ঘন্টা ধরে পারফর্ম করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৃথিবীকে বিদায় জানান কেকে।

জনপ্রিয় শিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নাথের মৃত্যুতে যখন শোকের মাতম বইছে ভারতজুড়ে, তখনই প্রকাশ্যে এলো তার জীবিত সময়ের শেষ ছবি।

মঙ্গলবার তিনি অনুষ্ঠান শেষে নজরুল মঞ্চ থেকে বের হওয়ার পর শেষ ছবিটি তোলা হয়। গাড়িতে বসে হাসি মুখে ক্যামেরার সামনে পোজ দেন কেকে।

‘হাম রাহে ইয়া না রাহে পাল’ খ্যাত গায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্দ ভারতের শোবিজ অঙ্গন। অভিজিত, অরিজিত, কুমার শানু থেকে শুরু করে কেউই এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না দুঃসংবাদটি।

কেকের পুরো নাম কৃষ্ণ কুমার কুন্নাথ। যদিও এ নামে খুব কম মানুষই তাকে চেনে। তার অনেক গান মানুষের মুখে মুখে ফিরলেও ব্যক্তি কেকে বেশির ভাগ সময়ই থেকেছেন প্রচারের আড়ালে।

অনেকেই জানেন না, ছোটবেলা থেকেই গায়ক হওয়ার স্বপ্ন বুনতেন কেকে। ছোটবেলায় কিশোর কুমার বলতে পাগল ছিলেন কেকে। কিশোর ছিলেন তার প্রথম প্রেরণা। কিন্তু তার ক্যারিয়ারের শুরুটা ভিন্নভাবে। হোটেলের কাজে যুক্ত ছিলেন কেকে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে প্রথাগত কোনো শিক্ষা ছিল না তার। কয়েকবার গানের স্কুলে ভর্তি হলেও পরে যাওয়া বন্ধ করে দেন। গানের স্বপ্ন সত্যি করতেই ১৯৯৪ সালে মুম্বাইতে যান তিনি।

একটা সময় চাকরি নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন কেকে। একটি কোম্পানির বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ে করবেন বলেই চাকরিটা করতেন কেকে। বিয়ের কয়েক মাস পর বুঝতে পারেন এ কাজ তার জন্য নয়। তার লক্ষ্য বলিউডে প্লেব্যাক। কিন্তু চাকরি ছাড়লে খাবেন কি? তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে ভুগছিলেন হতাশায়। পরে বাবার পরামর্শে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে আসেন।

সংগীতভূবনের বিস্ময় কেকে। কোনো শিক্ষকের কাছে গানের তালিম না নিয়েও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী হয়ে ওঠেন কেকে।

গান না শিখে কি করে এতো আত্মবিশ্বাস জন্মেছিল তার মধ্যে?

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে কথা জানিয়েছিলেন কেকে। বলেছিলেন, তিনি শিখেছেন মূলত গান শুনে শুনে। পরে যখন জানতে পারেন তার আদর্শ কিশোর কুমারেরও গানে প্রথাগত শিক্ষা নেই, তখন নিজেও চোখ বুজে নেমে পড়েন প্রতিযোগিতায়।

শুরুতেই বলিউডে তোলপাড় ফেলে দিতে পারেননি কেকে। সে সুযোগও হয়নি তার।

শুরে জিঙ্গেল শিল্পী হিসেবেই যথেষ্ট নাম করেন। প্রথম অ্যালবাম মুক্তির আগেই তার সাড়ে তিন হাজার গানে কণ্ঠ দেওয়া হয়ে যায়। ‘পাল’ অ্যালবাম দিয়ে নজর কাড়েন কেকে। তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

প্রশিক্ষণ নিতে পর্তুগালে যাচ্ছেন ফুটবলকন্যা কাকলী

দুচোখে স্বপ্ন দেশসেরা ফুটবলার হওয়ার। পড়ালেখার পাশাপাশি ধ্যান-জ্ঞান ফুটবল। অনূর্ধ্ব-১৭ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফুটবল টুর্নামেন্টে ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈল উপজেলা দলের হয়ে অংশগ্রহণ করেন দুর্দান্ত খেলোয়াড় কাকলী।

ফুটবলে দক্ষতা ও কলাকৌশলে জয় করেছেন কোচদের। পরিশ্রমের ফসল হিসেবে এবার উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের দেশ পর্তুগালে।

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার পৌর শহরের আবুল কাশেম ও বানেসা বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে তিনি একজন।

দোরু নদীর মোহনায় অবস্থিত পর্তুগালে এ প্রথম ঠাকুরগাঁও থেকে প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন কাকলী। আর রংপুরের পালিচড়া গ্রামের নাসরিন, মৌরাশি, রেখা আক্তার ও শাম্মি আক্তার, খাগড়াছড়ির সেনারি চাকমা, চুয়াডাঙ্গার বিদিশা, ময়মনসিংহের স্বপ্না, তানিশা ও শিখাসহ ১১ ফুটবলকন্যা যাচ্ছেন পর্তুগালে।

কাকলী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অতিদরিদ্র ঘরে তার জন্ম।রানীশংকৈল উপজেলার রাঙাটুঙ্গী ইউনাইটেড মহিলা ফুটবল একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী কাকলী। স্কুলপর্যায়ে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে কাকলীর খেলাটা শুরু।

স্থানীয় ফুটবল একাডেমির পৃষ্ঠপোষক অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম বলেন, অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১১ জন ছেলে ব্রাজিলে এবং ১১ জন মেয়ে পর্তুগালে ফুটবল প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন। সেরা এগারোর মধ্যে কাকলীও নির্বাচিত হয়েছেন।

তামিমকে চারে চান সিডন্স, যা বললেন ওয়ানডে অধিনায়ক

২০০৯ সালে জেমি সিডন্সের কোচিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় করেছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের এক যুগেরও বেশি সময় পর এবার সিডন্স বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাচ্ছেন।

আর এবার সিডন্স চাচ্ছেন, তামিমকে মিডল অর্ডারে তথা চার নম্বরে ব্যাটিং করাতে।

সিডন্স বলেন, ‘তামিম চার কিংবা পাঁচে ব্যাট করলে ভালো হয়। তার আগে আরেকজন ওপেনার খুঁজে বের করতে হবে। তামিম চারে নামলে দারুণ হবে। লিটন ছয়ে ঠিক আছে। মুশফিককে ছাড়া অবশ্যই কাজটা আরও কঠিন হবে। তার জায়গায় ইয়াসির আলী খেলবে। নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ অফ্রিকায় সে ভালো করেছে। সে সুযোগ কীভাবে কাজে লাগায় সেটিই দেখার।’

সিডন্সের এমন বক্তব্য অনেকের কাছে অদ্ভুত বা হাস্যকর মনে হলেও মূলত ওপেনিংয়ে অন্য কাউকে ফিট করতেই ব্যাটিং কোচ এমনটি চাইছেন।

জেমি সিডন্সের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর যারপরনাই অবাক তামিম।

বাংলাদেশের একটি জাতীয় পত্রিকাকে সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল জানিয়েছেন, মিডল অর্ডারে ব্যাট করার কোনো ইচ্ছাই তার মধ্যে নেই। দূরতম ভবিষ্যতেও এমন কোনো ভাবনা তার মধ্যে কাজ করছে না।

তামিম বলেন, ‘মিডল অর্ডারে ব্যাট করা নিয়ে কখনো ভাবিনি, এখনো ভাবছি না। আমার সে রকম কোনো ইচ্ছাও নেই। জীবনে একবারই মিডল অর্ডারে খেলেছিলাম। সেবার পাঁচ নম্বরে নামতে হয়েছিল চোটের কারণে। ৩৯ রান করেছিলাম সম্ভবত।’

বিষয়টি নিয়ে কোচ সিডন্সের সঙ্গে আলাপ হয়েছি কিনা প্রশ্নে এ ড্যাশিং ওপেনার বলেন, ‘এটা নিয়ে কারও সঙ্গে-ই আলোচনা হয়নি। ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন নিয়ে যদি কিছু বলেও থাকেন, সেটি ড্রেসিংরুমের আড্ডায় হয়তো বলে থাকতে পারেন। ড্রেসিংরুমে আমরা অনেক রকম মজা করি। লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ের পর ওপেনারদের নামতে হয়। তখন হয়তো মজা করে কাউকে বলে থাকতে পারি যে, ইস! যদি পরে ব্যাট করতাম, তা হলে রেস্ট পাওয়া যেত। এটা স্রেফ মজা করে বলা, সিরিয়াস কিছু না।’

‘বাবা আমার পা উড়ে গেছে, বাঁচাও’

চারপাশে কান ফাটানো আওয়াজ। বিকট শব্দে ক্ষণে ক্ষণে বিস্ফোরণ হচ্ছিল। এর পরই দাউ দাউ করে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা।

এর পরই হঠাৎই আরও জোরালো একটি বিস্ফোরণ হলো। তার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, আশপাশের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। যেন ভূমিকম্প হয়েছে। সেই বিস্ফোরণের শব্দে অনেক বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়।

এমন ভয়াবহ সময়ে আহত হন চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ির বিএম কনটেইনার ডিপোতে সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া মমিনুল। ওই বিস্ফোরণে তা পা উড়ে যায়।

সেই ক্ষতের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে পকেট থেকে কোনো রকমে মোবাইল ফোন বের করেন মমিনুল।

বাবাকে তিনি বলেছিলেন, বাবা কিছুক্ষণ পর পর এখানে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আমার পা উড়ে গেছে।

তার পরই ফোনটা কেটে যায়। ফোনে হঠাৎ ছেলের আর্তনাদ শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ফরিদুল হক।

এর পরও ছেলের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় ফোন কানে ধরে রাখেন অনেকক্ষণ। কিন্তু না, লাইন কেটে যাওয়ার পর আর ছেলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হয়নি ছেলে ফরিদুলের।

এর কিছুক্ষণ পরেই টিভিতে দেখতে পান ছেলে মমিনুল যেখানে আছেন, সেখানকার বিভীষিকাময় পরিস্থিতি।

শঙ্কায় পড়েন— পা উড়ে যাওয়া ছেলের জীবনটা আছে তো?

তখনো ফরিদুল জানতেন না, পা হারানোর পর প্রাণটাও হারিয়েছেন মুমিনুল।

এক গণমাধ্যমকে ফরিদুল হক বলেন, ফোনেই ছেলের আর্তচিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম। ও চিৎকার করে বলছিল— ‘বাবা এখানে কিছুক্ষণ পর পর ব্লাস্ট হচ্ছে।’ তার পর আরও একবার ফোন করে ছেলে। তখন জানায়, ওর পা উড়ে গেছে বিস্ফোরণে।

মমিনুলের কাকা খোরশেদ আলম বলেন, ‘এ খবর শুনেই আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে যাই। গিয়ে ভাতিজার মরদেহ দেখতে পেলাম। ’

শনিবার রাত ১০টার দিকের সেই কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪১ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। তাদের মধ্যে একজন মমিনুল হক।

জানা গেছে, অর্থনীতিতে স্নাতক করে সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের ওই কনটেইনার ডিপোতে কাজে যোগ দিয়েছিলেন মমিনুল। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মমিনুল মেজো। পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে এ চাকরিটি নিয়েছিলেন তিনি।

পরিবারে সচ্ছল অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা আর হলো কই।

মমিনুলের খালাতো ভাই তায়েব জানিয়েছেন, ‘চাকরি করে স্নাতকোত্তর করবেন বলে আশা ছিল মমিনুলের। কিন্তু তার জীবনটাই চলে গেল। মমিনুল শনিবার রাত ৮টায় ডিপোতে যায়। রাত ৯টার সময় ফোন করে বলে, ভাই আমাকে বাঁচা। তার পরই হাসপাতালে এসে দেখি ভাই আর বেঁচে নেই।’