শুক্রবার ,৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 275

মালয়েশিয়ায় ভিসা জালিয়াতিতে বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার ৬

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার নামে ভিসা জালিয়াতি ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনে বাংলাদেশিসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

৮ জুন রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৃথক দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ১০ জুন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি খায়রুল দাজাইমি দাউদ।

মালয়েশিয়ায় চলমান রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম (আরটিকে) থেকে এ সিন্ডিকে অর্থ উপার্জন করেছে। মালয়েশিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা (মাইপিআর) মর্যাদা ধারী ৪২ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশির মূল পরিকল্পনাকারী এই সিন্ডিকেটটি তার শুরু করা অবৈধ কার্যকলাপ থেকে দুই মিলিয়নের বেশি অর্থ আয় করেছে বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ।

অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি খাইরুল দাজাইমি দাউদ বলেছেন, ৮ জুন কুয়ালালামপুরের জালান লুমুত এবং আমপাংয়ের পান্ডান জায়াতে অপ খাসের অধীনে গোয়েন্দা ও বিশেষ শাখার মাধ্যমে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।

দুই মাসের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্মাণ সংস্থাটি ২০১৪ সাল থেকে কাজ করছে এবং রিক্যালিব্রেসি প্রেগ্রামের অধীনে বিদেশি কর্মীদের প্রতি আবেদনের জন্য ৩,৫০০ থেকে ৪,২০০ এর মধ্যে চার্জ করে এজেন্ট হিসাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দ্বিতীয় অভিযানে (পান্ডান জায়াতে) একজন ৩৬ বছর বয়সী স্থানীয় মহিলা এবং তার স্বামী একজন বাংলাদেশিকে (ভিজিট পাসধারী) গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আরোও দুজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের কোম্পানি এবং গ্রাহকদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছিল।

দুটি অভিযানে, বাংলাদেশের ৪৫৭, ইন্দোনেশিয়ার ৮, ভারতের ৮, পাকিস্তানের ৮, মিয়ানমারে ৬ এবং নেপালের ১টি পাসপোর্টসহ মোট ৪৮৮টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে ১২টি কোম্পানির সিল, দুটি কম্পিউটারের সেট এবং নগদ ৩৮,৩০৮ রিঙ্গিত। আরোপকৃত ফি এবং জব্দ করা পাসপোর্টের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে এই সিন্ডিকেটটি ২ মিলিয়নেরও বেশি উপার্জন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গ্রেফতারকৃতদের ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৫ এর পাশাপাশি পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬ এর ধারা ১২(১)(এফ) এর অধীনে আরও তদন্ত করা হবে। এমনটিই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক।

সিরিয়া বিমানবন্দরে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বিমানবন্দর ও দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ইসরাইল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ইসরাইল এ হামলা চালায়। তবে সিরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে দেশটির সেনাবাহিনী। খবর আলজাজিরা ও সানার।

ইসরাইলি হামলায় সিরিয়ার এক বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং কিছু স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে ইসরাইল দামেস্ক লক্ষ্য করে দুই দফা হামলা চালাল।

এ সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিরিয়ার বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইসরাইলি হামলা শুধু সিরিয়ার সর্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতারই লঙ্ঘন নয়; সেই সঙ্গে সব আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতিরও লঙ্ঘন।

এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের নীরবতাকে তিনি দুঃখজনক ও লজ্জাকর বলে বর্ণনা করেন।

ফোনালাপে সিরিয়ার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল মিক্দাদ।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তার দেশে ইসরাইলি হামলা প্রমাণ করে ইহুদিবাদীরা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা এখন নিজেদের দুর্বলতা ঢেকে রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল সৃষ্টি করছে।

সর্বনিম্ন কত আয় হলে আয়করের আওতায় আসবে

সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও মতামত ভাল করে দেখার সুযোগ হয়নি। তবে একটি বিষয় চোখে পড়ায় তা নিয়ে ভাবছিলাম। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম এত বাড়লেও করমুক্ত সর্বনিম্ন আয় বার্ষিক তিন লাখ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমার ড্রাইভার, যে বাচ্চা বয়স থেকেই আমার বাসায় থেকে পড়ালেখা করেছে, সে এখন স্ত্রী এবং একটি নবজাতক সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় সংসার চালাচ্ছে। জিনিষপত্রের দাম বাড়ছে দেখে গতকালই তার সংসার খরচের হিসাব নিলাম। দেখলাম যে বাসা ভাড়া, স্ত্রী ও বাচ্চার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচ বাদ দিলে তার বেতন দিয়ে ন্যূনতম খাবার খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব। সেই হিসাব অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তার বেতন বাড়িয়ে দিলাম। মুশকিল হল এখন যে সে আয় করের আওতায় এসে গেছে, তা তার মাথায় ঢুকছে না। আমার আয়করের রিটার্ন উকিলের অফিসে পৌঁছে দেবার বাইরে বেচারার আয়কর সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নাই।

মজার ব্যাপার হলো, বাজেট প্রস্তাবের আরেক জায়গায় বলা হয়েছে বেতনভোগী কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বেতনের অতিরিক্ত যাতায়াত, চিকিৎসা, বিনোদন ইত্যাদি বাবদ মোট ভাতার করমুক্ত পরিমাণ সাড়ে ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভাবছি আমার ড্রাইভারকে বলব একজন আয়কর উকিলের পরামর্শ নিতে কী করে আমার কাছ থেকে একটা নিয়োগপত্র নিতে পারে যাতে ওই সব করমুক্ত ভাতা দেখিয়ে সে আয়করের আওতার বাইরে থাকতে পারে।

লাখ লাখ উচ্চ মধ্যবিত্তে ও উচ্চবিত্তের মানুষের কর ফাঁকি রোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সমাজের এই নিচের তলার মানুষদেরকে কাগজে কলমে করের আওতায় রাখা কিছুটা হাস্যকরও বটে। আয়করের হার নির্ধারণ করতে প্রথম কত টাকা পর্যন্ত করের হার শূন্য ধরা হবে, আর সর্বনিম্ন কত আয় হলে আয়করের আওতায় আসবে এ দুটি বিষয়কে পৃথক করা দরকার।

প্রফেসর ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। সেনাসমর্থিত এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (২০০৭ সালের ১৬ জুলাই) গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। গ্রেফতারের পর প্রথমে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।

দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারাগারের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন চিকিৎসকরা তাকে বিদেশে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। এর পরই চিকিৎসার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার মুক্তির জোরালো দাবি ওঠে।

আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও দেশবাসীর আন্দোলন, আপসহীন মনোভাব এবং আওয়ামী লীগ বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের পথ বেছে নেয়। শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেওয়া না হলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে না বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তি পেয়েই শেখ হাসিনা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অস্থায়ী জামিনের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়।

এরপর ২০০৮ সালের ৬ নভেম্বর দেশে ফিরলে স্থায়ী জামিন দেওয়া হয় তাকে। একই বছর ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন হয়। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পরে টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে আজ বেলা ১১টায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণভবনে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাবেন।

ফের হাসপাতালে খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুন) দিবাগত রাত সোয়া ৩টায় হাসপাতালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর আগে খালেদা জিয়া বাসা থেকে রাত ২টা ৫৫ মিনিটে বের হন।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য সাইরুল কবীর খান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে রাত ৩টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কামরুজ্জামান রতন, এ বি এম আব্দুস সাত্তার, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

মাথাপিছু ঋণ ৯৬ হাজার টাকা

দেশের মানুষের কাঁধে ঋণের বোঝা বাড়ছে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৯৫ হাজার ৬শ টাকা। আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায়ও সমপরিমাণ ঋণের দায় চাপবে। গত এক বছরে মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮৩০ টাকা। আগামী এক বছরে এটা আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাড়বে। ফলে ওই সময়ে মাথাপিছু ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা।

এ কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও প্রস্তাবিত বাজেটেও ঋণের সুদ পরিশোধ চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে মানুষের মাথাপিছু বরাদ্দ ৪১ হাজার ৯৩৩ টাকা। এ হিসাবে ঋণ মাথাপিছু বরাদ্দের দ্বিগুণেরও বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর আদায় করতে না পারায় সরকারকে বেশি ঋণের আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সরকার প্রতিবছর দেশীয় উৎস থেকে যে হারে ঋণ নিচ্ছে, তা অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার জন্য ইতিবাচক নয়। কারণ সুদের হার বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে কর আদায়ের হার অত্যন্ত কম। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় কর আদায় ১০ শতাংশের কম। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে হলে জিডিপির অনুপাতে কর আহরণ অন্তত ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ থাকা উচিত। তিনি বলেন, করের হার বাড়াতে পারলে ঋণ কমবে। আর উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটানো ভালো পদক্ষেপ নয়। এতে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট নয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ ১২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৫৫ কোটি এবং সরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত মিলিয়ে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও এই পরিমাণ ঋণ জিডিপির প্রায় ৩৫ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৭ লাখের কিছু বেশি। এ হিসাবে প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ ৯৫ হাজার ৬শ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৪ হাজার ৭৭০ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে বেড়েছে ১০ হাজার ৮৩০ টাকা।

এরপর আগামী অর্থবছরে আরও ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা ঋণ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ৯৫ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। ফলে মাথাপিছু ঋণের স্থিতি আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাড়বে।

এই ঋণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। কারণ সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে যে ঋণ নেওয়া হয়, তার বিপরীতে সরকারকে বছরে ১০ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। এ কারণে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণের সুদ পরিশোধে ৮০ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার, যা তিনটি পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের প্রায় সমান। এক্ষেত্রে ঋণ না কমলে এই টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা যেত।

এ ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজ আরও বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ ঋণ অনেক ব্যয়বহুল। সেই ঋণের একটা মোটা অংশ যদি হয় সঞ্চয়পত্র, তাহলে তা আরও ব্যয়বহুল। সরকার ব্যয়বহুল ঋণ বেশি নিচ্ছে, এর অর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো অগ্রাধিকার খাতগুলোয় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ রাখতে পারছে না।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট মেটাতে অর্থায়নের বড় অংশই দেশীয় ঋণ। বিদেশি সহায়তা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, ঋণ নির্ভরতা কমানোর জন্য রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব খাতে বিভিন্ন সংস্কার জরুরি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরের মতে, সরকার ঠিকমতো ঋণ ব্যবস্থাপনা করতে পারছে না বলেই এর দায় নিতে হচ্ছে জনগণকে। তুলনামূলকভাবে বিদেশি ঋণ অনেক সাশ্রয়ী। কিন্তু সরকার সহজ পথ হিসাবে বেছে নেয় বেশি সুদের অভ্যন্তরীণ উৎসকে। এতে আর্থিক খাতে চাপ বেড়ে যায়।

বর্তমানে দেশে ব্যাপক মুদ্রার পরিমাণ ১৬ লাখ ২০ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত ১৪ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা এবং জনগণের হাতে নগদ টাকা ২ লাখ ১২ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। আবার আমানতের মধ্যে মেয়াদি আমানত ১২ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা এবং তলবি আমানত ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

তদারকির সুফল নেই চালের দামে

বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও সরকারের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের দাম নতুন করে লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তবে মূল্য বাড়িয়ে যে দর নির্ধারণ করা হয়েছে খুচরা বাজারে তার চেয়েও লিটারে ৫-১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি তদারকির পরও চালের দামে এর সুফল নেই। কিনতে হচ্ছে বাড়তি মূল্যে।

এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে আমদানি করা হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ ও চিনির দাম বেড়েছে। সঙ্গে এক দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

রাজধানীর কাওরান বাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ও মুদি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকার বিপরীতে ১৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু খুচরা বিক্রি হয়েছে ১৯০-১৯৫ টাকা। তবে প্রতিলিটার বোতল সয়াবিন সরকার নির্ধারিত ২০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা দাম বাড়ানোর আগে ১৯৮-২০০ টাকায় বিক্রি হতো।

রাজধানীর নয়াবাজারের নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. হেলাল বলেন, এইতো কিছুদিন আগেও বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন ভোজ্যতেলের দাম কমবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে দেশের বাজারেও কমানো হবে। কিন্তু যেদিন বাজেট ঘোষণা হলো ঠিক সেদিন চুপিচুপি মন্ত্রণালয় তেলের দাম বাড়িয়ে দিল। এটা কোনো কথা হতে পারে না। যেখানে তেলের দাম কমিয়ে ক্রেতা সাধারণকে স্বস্তি দেবে, সেখানে দাম বাড়িয়ে বাজারে আরেক দফা অস্থিরতা সৃষ্টি করল। তিনি বলেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করল তার চাইতেও বেশি দামে খুচরা বিক্রেতারা বিক্রি করছে। ফলে স্বস্তির জায়গায় অস্বস্তি বেড়েছে।

একই বাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে দাম বাড়ানোর জন্য পরিবেশক পর্যায় থেকে দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। আর পাইকারি থেকে বেশি দাম দিয়ে এনে আমাদেরও বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত।

পাশাপাশি সরকারের একাধিক বাজার তদারকি সংস্থার অভিযানের পরও চালের দামে এর সুফল ফিরেনি। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাড়তি দরে ক্রেতার চাল কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি মিনিকেট মানভেদে ৬৬-৬৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিআর ২৮ চাল প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৫৪-৫৫ টাকা। নাজিরশাইল মানভেদে প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮৬ টাকা।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, সরকারের অভিযান চলছে। তারপরও মিলাররা চাল বাড়তি দরেই বিক্রি করছে। তাই বেশি দামে চাল কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে।

মিলারদের কাছে কারণ জনতে চাইলে তারা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দিকে অভিযোগের তির ছুড়ছেন। আসলে সব তাদের কারসাজি।

এছাড়া বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ ও চিনির দাম বেড়েছে। সঙ্গে এক দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে-এ দিন প্রতিকেজি আমদানি করা হলুদ বিক্রি হয়েছে ২৪০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আমদানি করা শুকনা মরিচ প্রতিকেজি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা আগে ৩৫০ টাকা ছিল। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ২-৪ টাকা বেড়ে চিনি বিক্রি হয়েছে ৮৪ টাকা। আর এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুচরা ও পাইকারি বাজারের পর এবার বড় মিল ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আশা করি দাম কমবে। ইতোমধ্যে পাইকারিতে কমতে শুরু করেছে। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করেছে। কেউ যাতে নির্ধারিত দামের চাইতে বেশি দরে বিক্রি না করতে পারে সে জন্য মনিটরিং করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ভোজ্যতেল সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত দাম। নগরী ও উপজেলা পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেলে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও আরও দাম বাড়ার আশঙ্কায় ভোজ্যতেল বিক্রিও করছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে খুচরা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন ২০৫ টাকা বিক্রি হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২১৫ টাকায়। তবে পাইকারি পর্যায়ে ভোজ্যতেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

ভোজ্যতেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা মুনাফা তুলে নিচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। অথচ এসব ভোজ্যতেল কম দামে কেনা।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার হঠাৎ করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়েনি। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে কখন আবার তেলের দাম কমিয়ে দেয় সরকার। ফলে অনেকে এখন তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। আবার তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এমন শঙ্কা থেকে অনেকে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

বন্ধ হয়ে গেল ‘অ্যালেক্সা ডটকম’

পূর্বনির্ধারিত ঘোষিত দিনেই বন্ধ হয়ে গেলে ওয়েবসাইট অ্যানালাইসিসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যালেক্সা ডটকম।

২০২২ সালের পহেলা মে বন্ধ হওয়া কথা ছিল ওয়েবসাইটির।

অ্যালেক্সা ডটকম এক নোটিশে জানিয়েছে, গত ১ মে থেকে তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এরই সঙ্গে দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিষেবা শেষে বন্ধ করল অ্যামাজনের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠান।

অ্যালেক্সা তাদের নোটিশে লিখেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আপনার ডিজিটাল শ্রোতাদের খুঁজে পেতে, পৌঁছাতে এবং রূপান্তর করতে সাহায্য করার পর আমরা ২০২২ সালের ১ মে -তে Alexa.com-কে অবসর নিয়েছি। বিষয়বস্তু গবেষণা, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্লেষণ, কীওয়ার্ড রিসার্চ এবং আরও অনেক কিছুর জন্য আমাদেরকে আপনার কাছে যাওয়ার সংস্থান করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বন্ধ করে দেওয়ার কারণ হিসেবে এর আগে অ্যালেক্সা থেকে জানানো হয়েছিল, কৌশলগত ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কারণেই দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অ্যালেক্সা তাদের গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার পরও অ্যামাজন এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

এর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে যাদের দীর্ঘমেয়াদি সাবস্ক্রিপশন নেওয়া ছিল কেবল তারাই চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত সাবস্ক্রিপশনের সুবিধা পেয়েছেন। বন্ধ হওয়ার পূর্বেই ওয়েবসাইট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ডাউনলোড করে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল এই সময়ে অ্যালেক্সা ডটকম এখন সবার কাছেই পরিচিত। ১৯৯৬ সালে যাত্রা শুরু করে অ্যালেক্সা। ১৯৯৯ সালে এটির অধিগ্রহণ করে অ্যামাজন।ওয়েবসাইটের ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতো অ্যালেক্সায়। এছাড়াও বিশ্বের ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে কোন সাইটের র‌্যাংক কত তাও দেখা যেতো অ্যালেক্সায়।

তবে অ্যালেক্সা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় আর সেই সুযোগ থাকছে না।

সূত্র: অ্যালেক্সা ডটকম

বিশ্বনবীর (সা.) অনুসরণেই মুক্তি

গোটা বিশ্বজগতে আল্লাহতায়ালা যাকে সবচেয়ে উন্নত ও মহান গুণাবলী ও অনন্য বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তিনি হলেন শ্রেষ্ঠনবী ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)।

যার প্রশংসায় স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদেরই মাঝ থেকে এক রাসুল তোমাদের কাছে এসেছে। তোমাদের কষ্ট ভোগ করা তার কাছে অসহনীয় এবং তিনি তোমাদের কল্যাণের পরম আকাঙ্ক্ষী। তিনি মুমিনদের প্রতি অতি মমতাশীল ও বার বার কৃপাকারী’ (সুরা আত তাওবা, আয়াত: ১২৭)।

এটি সেই গুণ এবং আদর্শ যার ভিত্তিতে তার মাঝে বিনয়, নম্রতা এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে মার্জনা এবং উপেক্ষা করার বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়েছে। এটিই সেই দারিদ্রতার মাঝেও গৌরবের পরিচয়, তিনি এক ব্যক্তিকে যে মহানবীর (সা.) প্রভাব ও শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে কাঁপছিল, সেসময় মহানবী (সা.) তাকে বলেন, এত ভয় পেও না, আমি তো এমন এক মায়ের সন্তান যিনি শুকনো মাংশের টুকরো খেতেন।

এটিই সেই সহানুভূতি আর দয়া যার ফলে তিনি (সা.) একজন শ্রমিকের ঘর্মাক্ত শরীর জড়িয়ে ধরেন আর দারিদ্র ও কষ্টের জীবন বেছে নেন আর দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তাকে দরিদ্র এবং অসহায়দের সাথে রাখেন আর তাদের মধ্য হতেই উত্থিত করেন।

আর এটি সেই মহান বৈশিষ্ট্য যার ভিত্তিতে তিনি (সা.) বলেছেন, আমাকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করো না আমার উপাধি ‘আবদ’। আর এভাবে এই পার্থিব জগতের আকর্ষণ ও আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। হে আমার আল্লাহ! শান্তি, আশিস ও কল্যাণ বর্ষণ কর মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদের প্রতি, নিশ্চয় তুমি মহা প্রশংসিত ও মর্যাদাবান।

শিশুকাল থেকেই তিনি (সা.) স্বল্পেতুষ্ট আর বিনয়ের উন্নত মানে অধিষ্ঠিত ছিলেন। হজরত উম্মে আইমন (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি কখনোই মহানবীকে (সা.) ক্ষুৎপিপাসার জন্য অভিযোগ করতে শুনিনি।’

ইতিহাস সাক্ষী, মহানবী (সা.) সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তিনি কোন বস্তুর ভালো গুণাগুণ বর্ণনার পাশাপাশি যদি তার মধ্যে কোন খুঁত থেকে থাকে তাহলে তাও বলে দিতেন। খোদার ইচ্ছানুসারে তিনি (সা.) আরবের পবিত্র এবং ধনী নারী হজরত খাদীজাহর (রা.) সাথে সর্বপ্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

হজরত খাদীজাকে (রা.) বিয়ে করার সুবাদে তিনি (সা.) অঢেল ধন-সম্পদের মালিকানা লাভ করেন, কিন্তু তিনি বলেন, তিনি তা গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে চান, তার পুণ্যবতী সহধর্মিণী একান্ত বিনয়ের সাথে তাতে সম্মতি প্রকাশ করেন আর বলেন, আপনি যেভাবে খুশী তা ব্যবহার করুন। এরপর তিনি (সা.) তা গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেন।

অনুরূপভাবে এই বিয়ের ফলে সদাপ্রস্তুত সারি সারি কৃতদাসের দল তিনি লাভ করেন কিন্তু এই মানবদরদী রাসুল স্বীয় স্ত্রীকে বলেন, আমারই মত মানুষকে কৃতদাস বানিয়ে রাখা আমার পছন্দ নয়। তখন মহানবীর (সা.) অনুগতা স্ত্রী এসব কৃতদাসকে স্বাধীন করে দেয়ার অধিকার তাকে প্রদান করেন। ফলে তিনি (সা.) সকল কৃতদাসকে মুক্ত করে দেন।

মানুষের হয় ধন-সম্পদের অহংকার থাকে অথবা বংশ মর্যাদার কিন্তু কতই না মহান আমাদের মহানবী (সা.), তিনি এত ধন-সম্পদ, অর্থ-কড়ি এবং চাকর-বাকর পাওয়া সত্তেও কখনো অহংকার বা গর্ব করেন নি বরং বিনয় ও নম্রতার একান্ত উন্নত এবং উত্তম আদর্শ স্বীয় অনুসারীদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, সুবহানাল্লাহ।

দৈনন্দিন লেন-দেনের বেলায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, একজন দায়িইলাল্লাহ হিসেবে, একজন স্বামীর কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে. একজন পিতার দায়িত্ব পালনের বেলায়, মহান ন্যায়বিচারক হিসেবে, মোটকথা যেকোন দিক থেকেই দেখা যাক না কেন তিনি কখনোই, ধৈর্য ও বিনয়ের আঁচল হাত ছাড়া হতে দেন নি আর কখনোই অহংকার ও আত্মশ্লাঘাকে কাছে ঘেষতে দেন নি।

মহানবী (সা.) শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিশ্ববাসীর মাঝে শান-শওকত, ঐশ্বর্য ও প্রতাপের সাথে তুলে ধরেছেন তা একান্ত বিনয় এবং নম্রতার বৈশিষ্ট্য নিজের মাঝে ধারণ করে, কোনোক্রমেই জোর-জবরদস্তি, উগ্রতা, অবজ্ঞা, ঘৃণা-বিদ্বেষের মাধ্যমে নয়।

আমরা যদি মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করে চলি তাহলে প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি শহর এবং প্রতিটি দেশ হতে পারে শান্তিময়। তাই বিশ্বময় শান্তির সুবাতাস প্রবাহিত করার জন্য চাই বিশ্বনবী (সা.)-এর আদর্শ মতাবেক জীবন পরিচালনা করা।

আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিশ্বনবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে চলার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
masumon83@yahoo.com

গরমে শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন?

গরমে শিশু-কিশোরদের ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। দিনে তিন বা এর চেয়ে বেশি বার পাতলা পায়খানা হতে শুরু করলে তার ডায়রিয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

শিশুর ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন।

পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এই সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস, কখনও কখনও নোরো ভাইরাস। পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে বা প্রবল জ্বর দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। শহরে ট্যাপের পানি অনেক সময় সেপটিক ট্যাংক বা সুয়ারেজ লাইনের সংস্পর্শে দূষিত হয়। অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, যেখানে-সেখানে ও পানির উৎসের কাছে মলত্যাগ, সঠিক উপায়ে হাত না ধোয়া, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে এ সময় দোকান, রেস্তোরাঁ বা বাসায় ফ্রিজের খাবারে পচন ধরা ইত্যাদি ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।

ডায়রিয়া হলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে যায় এবং রক্তে লবণের তারতম্য দেখা দেয়। এই দুটোকে রোধ করাই ডায়রিয়ার মূল চিকিৎসা। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত দুই গ্লাস খাবার স্যালাইন পান করুন। সঠিক পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে এই স্যালাইন তৈরি করতে হবে।

পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত, জ্বর, প্রচণ্ড পেটব্যথা বা কামড়ানো, পিচ্ছিল মল, মলত্যাগে ব্যথা ইত্যাদি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করুন। যথেষ্ট প্রস্রাব হচ্ছে কি না, লক্ষ্য করুন। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, চোখ গর্তে ঢুকে যাওয়া বা জিব ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া পানিশূন্যতার লক্ষণ। এ সব লক্ষণ দেখা দিলে বা বমির কারণে পর্যাপ্ত স্যালাইন না খেতে পারলে শিরায় স্যালাইন দেয়ার জন্য হাসপাতালে যান।