রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 247

চোরাচালান বন্ধে কঠোর অবস্থানে বিএসএফ

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিএসএফ।

কয়েকদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু চোরাচালানের বিষয়টি সর্বাত্মক নজরদারিতে রেখেছেন ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা। গরুসহ যেকোনো চোরাচালান রোধে বিএসএফ, বিজিবি সীমান্তে সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

সোমবার (২৭ জুন) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ এর আমন্ত্রণে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএসএফ পশ্চিমবঙ্গ সাউথ বেঙ্গল ফন্টায়ারের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এস এস গুলেরিয়া এ তথ্য জানান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শুধু গরু নয়, যেকোনো চোরাচালান রোধে আমরা সতর্ক রয়েছি। বর্তমানে এ বিষয়টি আমাদের কন্ট্রোলের মধ্যে রয়েছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে।

তিনি আরও বলেন,স্বর্ণ চোরাচালান মানব পাচার মাদক পাচার এবং গরু চোরাচালানকারীদের অপ-তৎপরতার কারণেই বিভিন্ন জায়গায় সীমান্তে হত্যার ঘটনা ঘটে। যারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় তারা নানা অপরাধমূলক অপ-তৎপরতার কারণে ই এ ধরনের ঘটনায় সম্মুখীন হন। এসব ঘটনায় ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরাও বিভিন্ন সময় চোরাকারবারীদের হাতে গুরুত্বর আহত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি সঙ্গে সমন্বয় করে বিএসএফ সীমান্তে নানা ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিবির সঙ্গে বিএসএফের মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক, পাক্ষিক বৈঠক হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দু’দেশের দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান বিএসএফের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

এদিকে সোমবার রাত সাড়ে ১০ টা থেকে প্রায় ২ ঘণ্টা কলকাতার টাকী শহর থেকে সীমান্ত পযর্ন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত ঘুরে দেখানো হয় সাংবাদিকদের। দেখা যায় রাতে নদী ও স্থলপথে একই সঙ্গে টহল দেওয়া হচ্ছে।

বিএসএফ ও স্থানীয় লোকজন জানান, এক সময় টাকী নদী হয়ে প্রতিদিন শত শত গরু ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার হতো। গরুগুলো এমন পদ্ধতিতে বিশেষ কৌশলে নদী দিয়ে পাচার করা হতো, যা প্রতিরোধকারী সংস্থার নজরে যথাযথ আসতো না। গরুকে বিশেষ ইনজেকশন দিয়ে মুখ বেঁধে ( যাতে গরু শব্দ না করতে পার) নদী পার করা হতো। একই সঙ্গে চোরাকারবারীরাও টাইয়ার, হাওয়া বালিশ শরীরে বেঁধে নদী পার হতো। বর্তমানে ৯৫ শতাংশ গরু চোরাচাল কমেছে জানিয়ে এক বিএসএফ কর্মকর্তা বলেন, চোরাকারবারীদের কৌশলগুলো জেনে যাওয়ায় তা রোধ করতে সম্ভব হচ্ছে।

জানা গেছে, টাকী শহর হয়ে ইছামতী নদীর দুপাশে যেসব গ্রাম রয়েছে, এসব গ্রামের কিছু মানুষ এ চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত। নদীর দুপাশে ১০টি গ্রাম রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার কিংবা বেড়া রয়েছে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় পুরো সীমান্ত তার ঘেঁষে বৈদ্যুতিক লাইট রয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তে লাইট চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ সাইটে রাতের বেলায় লাইট লাগানো নিশ্চিত করা হলে চোরাচালান আরও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

তরুণ আলেমদের ক্যারিয়ার ভাবনা

হালাল উপার্জন ফরজ ইবাদাত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে সুন্দর জীবন গঠনে উন্নত ও সম্মানী পেশার দিকে ছুটছে মানুষ। বিশ্বায়নের এ যুগে নিজেকে মেলে ধরতে পিছিয়ে নেই তরুণ আলেমরাও।

এক সময় শুধু মসজিদ মাদ্রাসামুখী আলেম সমাজ বর্তমানে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। মাদ্রাসাগুলো থেকে যে হারে মাওলানা হয়ে বের হচ্ছেন সে তুলনায় মসজিদ মাদ্রাসা যথেষ্ট কম।

চলতি বছর সদ্য মাস্টার্স স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (ইসলামিক স্টাডিজ ও অ্যারাবিকে) কওমি মাদ্রাসার সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ থেকে তাকমিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ২৪ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থী। ছাত্র রয়েছেন ১৫ হাজার ৩৬ জন আর ৯ হাজার ৮৯৩ জন ছাত্রী। এ ছাড়া কামিল পরীক্ষা দিয়েও মাওলানা হচ্ছেন হাজারো তরুণ আলেম। তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিস্তারিত লিখেছেন-আহমদ ইসলামাবাদী

অনুবাদ, সম্পাদনা ও লেখালেখি : ক. মাদ্রাসাপড়ুয়া তরুণ আলেমরা অনুবাদক ও সম্পাদক পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন। আরবি, বাংলা, উর্দু, ইংরেজি ভাষায় অনেক তরুণ আলেমদের ভাষা দক্ষতা রয়েছে। ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে আরব বিশ্বসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন লেখকদের বই অনুবাদ করে নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন এক অনন্য উচ্চতায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বইয়ের সম্পাদনায়ও নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে ঢাকার বাংলাবাজারসহ দেশের বিখ্যাত প্রকাশনীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ যোগ্যতায় কাজ করতে পারেন।

খ. সৃজনশীল লেখালেখি : তরুণ আলেমরা সৃজনশীল লেখালেখি করে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করতে পারেন। বর্তমানে বইমেলায় ইসলামি বইয়ের চাহিদা অনেক। যুক্তির কষ্টিপাথরে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়াবলিকে সামনে রেখে লেখা বইগুলো বাজারে বেস্টসেলার হচ্ছে। কোনো কোনো বই লাখ লাখ কপিও বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিকে ‘ইসলাম ও জীবন’ পাতা রয়েছে। সেখানে বিষয়ভিত্তিক লেখা চান সম্পাদক ও প্রকাশকরা। এখানে লেখালেখি করেও একটা ভালো সম্মানী পেতে পারেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন : বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন একটি প্রফেশনাল পেশায় পরিণত হয়েছে। বই, খাতা, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যাশমেমো, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ম্যাগাজিনসহ যাবতীয় সেবায় গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। যে কোনো তরুণ আলেম মাত্র ৬ থেকে ৮ মাস কোর্স করে ভালো গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে পারেন। এ থেকে ভালো উপার্জন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন তরুণ আলেমরা।

অনলাইন বিজনেস ও ক্ষুদ্র ব্যবসা : বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে মুহূর্তেই যোগাযোগ সম্ভব। তাই অনলাইন বিজনেস হতে পারে ব্যবসা ও উপার্জনের একটি সুন্দর মাধ্যম। অল্প পুঁজি নিয়ে পাইকারি মার্কেট থেকে পণ্য ক্রয় করে তা অনলাইনে শেয়ার করে ব্যবসা করতে পারেন যে কোনো তরুণ আলেম। নিজের বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, নিজ পরিচিতজনের মাঝে এসব প্রোডাক্ট সেল করতে পারেন। ধীরে ধীরে একজন তরুণ আলেম একজন সফল ব্যবসায়ী হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারেন।

উপস্থাপনা ও সাংবাদিকতা : ক. উপস্থাপনা একটি নন্দিত শিল্প। রাসূল (সা.)-এর বাণী, ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও পৌঁছিয়ে দাও।’ (মিশকাত শরিফ, কিতাবুল ইলম, হাদিস নং : ১৯৮) ইউটিউবে কুরআন, হাদিস, ফিকহ, তাফসির, ইতিহাস এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়াবলি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে খ্যাতির পাশাপাশি ভালো উপার্জনও করতে পারেন একজন তরুণ আলেম। তবে এক্ষেত্রে ভাষা সুন্দর, সাবলীল, আকর্ষণীয় ও গোছালো হওয়া অপরিহার্য। কথা বলার স্টাইল যত সুন্দর, মনোরম, গোছালো ও আকর্ষণীয় হবে ততই তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

বর্তমানে অনেক ওয়ায়েজ, খতিব, মোটিভেশনাল স্পিকার তাদের নিজস্ব বক্তৃতা ইউটিউবে আপলোড করে থাকেন। অনেক কণ্ঠশিল্পী হামদ, নাত, গজল পরিবেশন করে থাকেন। দেশ-বিদেশি কুরআনের প্রখ্যাত কারিরা ও বিশ্বজয়ী হাফেজরা তাদের সুন্দর তেলাওয়াত ফেসবুক, ইউটিউবে আপলোড করে কর্তৃপক্ষ থেকে প্লে বাটনও পেয়েছেন। প্রত্যেক পেশাজীবী মানুষও তাদের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ইউটিউবে আপলোডের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মাঝে নিজেদের কার্যক্রমকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন নন্দিতভাবে।

খ. এ ছাড়া সাংবাদিকতা পেশায় যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে তরুণ আলেমদের। বর্তমানে অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে সেখানে গ্রহণযোগ্য, বস্তুনিষ্ঠ খবরাখবর প্রচার করছেন আলেম সমাজ। দেশ, বিদেশ, আন্তর্জাতিক খবরের পাশাপাশি প্রবন্ধ, নিবন্ধও আগ্রহের সঙ্গে পড়ছেন মানুষ।

ফ্রিল্যান্সিং : ফ্রিল্যান্সিং মূলত এমন একটি পেশা যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জন করা যায়। ফ্রিল্যান্সিং করতে প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য। এক্ষেত্রে কাজ চালানোর মতো ইংরেজি জানা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য গুগল, ইউটিউবের বিভিন্ন সোর্স থেকে বের করার দক্ষতা থাকতে হবে। ফ্রিল্যান্সাররা কেউ গ্রাফিক্স ডিজাইনার, কেউ ওয়েব ডিজাইনার, কেউ ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে কাজ করে থাকেন। এখানে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে ফ্রিল্যান্সররা চুক্তিভিত্তিক কাজ করেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।

সরকারের আইসিটি বিভাগ বলছে, দেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৬ লাখ, যারা অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। তরুণ আলেমরা চাইলে ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং করে স্বাধীনভাবে আয় করতে পারেন।

অনলাইন টিচিং বা শিক্ষকতা : অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও তরুণ আলেমরা শিক্ষকতা করতে পারেন। জেনারেল শিক্ষিত অনেক ভাইদের এবং অনেক চাকরিজীবী কিংবা বয়স্কদের পবিত্র কুরআন শরিফ সহিহ শুদ্ধভাবে পড়ার আগ্রহ জাগ্রত রয়েছে। পাশাপাশি কুরআনের অর্থ, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও শেখার আগ্রহ অসংখ্য জেনারেল শিক্ষিত ভাইদের। এক্ষেত্রে দেশে কিংবা বিদেশে বসেও জুম অ্যাপসে, ইমুতে, ভিডিও কলে অনলাইন পাঠদান করানো সম্ভব।

দোভাষী : যেহেতু আলেমদের বিভিন্ন ভাষায় পারদর্শিতা রয়েছে তাই দোভাষী হিসাবে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি করতে পারেন। এক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করার সুযোগ যেমন হবে তেমনি যোগ্যতা ও নিত্যনতুন অভিজ্ঞতাও অর্জিত হবে।

ভূমি সার্ভেয়ার বা দলিল লেখক : একজন সার্ভেয়ার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পগুলোর জন্য সম্পত্তির সীমানা নির্ধারণ সম্পর্কিত পরিমাপের কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া কোনো স্থানের মানচিত্র তৈরি, খনন এবং আইনি উদ্দেশ্যের জন্য দরকারি ডাটা সরবরাহ করে থাকেন। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে দুই বা একাধিক পরিবারের মাঝে জমিসংক্রান্ত সৃষ্ট ঝামেলায় একজন ভূমি সার্ভেয়ার খতিয়ান দেখে যাচাইপূর্বক সমাধান দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসাগুলোতে মুসলিম ফরায়েজি আইন ও এ সংক্রান্ত কিতাব ‘সিরাজি’ পাঠদান করানো হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে ৬ মাস থেকে ১ বছরের ভূমি জরিপের কোর্স সম্পন্ন করে এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। এ ছাড়া জমির খতিয়ান লেখার জন্য দলিল লেখারও চাহিদা রয়েছে সমাজে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার চালনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে একজন তরুণ আলেম এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

হজ ও ট্রাভেলস এজেন্সি : ক. প্রত্যেক মুসলমানদের হৃদয়ের বাসনা থাকে জীবনে একবার হলেও হজ ও ওমরাহ করার। মক্কা মদিনার জেয়ারত করা। হজ ও ওমরাহে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। অর্থের বিনিময়ে যেসব প্রতিষ্ঠান হজ, ওমরাহর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন এসব প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে হজ এজেন্সি গ্রুপ। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে সরকারি লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। একজন তরুণ আলেম চাইলে হজ এজেন্সির ব্যবসা করে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারেন। সাধারণ মানুষের হজ ওমরাহে সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘মুয়াল্লিম’ তথা যিনি হজ ওমরাহে হাজিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন এমন আলেমদের চাহিদা রয়েছে। এ পেশায় আলেমরা সম্পৃক্ত হতে পারেন।

খ. ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস : মানুষের যতগুলো শখ রয়েছে তার মধ্যে ট্রাভেল অন্যতম। নতুন নতুন জায়গা, প্রাচীন স্থাপনা, সাগর, নদী, পাহাড় ঘুরে বেড়ানো অন্যতম। এ ছাড়াও মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্র সফর করে থাকেন। ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের জন্য বা অর্থের জন্য বিদেশগামী মানুষদের সেবা প্রদানের জন্য ভিসা, টিকিট, পাসপোর্ট ইত্যাদি সেবা করে থাকে এজেন্সিগুলো। তরুণ আলেমরা এ পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন অনায়াসেই।

এ ছাড়া অসংখ্য পথ খোলা রয়েছে তরুণ আলেমদের জন্য। সব কাজে প্রয়োজন দক্ষতা, একনিষ্ঠতা, পরিশ্রম ও ধৈর্য। এসব গুণাবলি মানুষকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। হতাশ না হয়ে তরুণ আলেমরা সম্মানী পেশায় নিজেদের মেলে ধরে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারেন।

লেখক : শিক্ষক- জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নতুনবাগ, খিলগাঁও, ঢাকা।

সৌর গাড়ি বানিয়ে তাক লাগালেন অংক শিক্ষক

বৈদ্যুতিক সৌর গাড়ি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এক অংক শিক্ষক ও উদ্ভাবক। জম্মু ও কাশ্মিরের ওই অংক শিক্ষকের উদ্ভাবিত গাড়ির দামটাও হাতের নাগালে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের তাংমার্গের বাসিন্দা বিলাল আহমেদ ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গাড়ি নির্মাণের কাজ করছেন এবং অবশেষে তিনি গাড়ি নির্মাণ করে মাইলফলক অর্জন করেছেন।

এএনআইকে তিনি বলেন, তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি গাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সে ব্যাপারে এগুতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, আমি প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি গাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলাম কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা এই কাজকে কঠিন করে তুলেছিল। এর পরই সৌর গাড়ির ধারণা মাথায় আসে… এটি বিনামূল্যের জ্বালানি… এবং সম্প্রতি আমি সংবাদপত্রে পড়েছি যে পেট্রোলের দাম ১০ বছরে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৯৫০ সাল থেকে নির্মাণ করা বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়ি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তিনি।

শুধুমাত্র অভিজাতরাই বিলাসবহুল গাড়ি চড়তে পারে এমন ধারণা ভেঙে দিয়ে তিনি একটি সোলার কার তৈরি করেছেন, যা শুধু বিলাসবহুল গাড়ির অনুভূতিই দেয় না, সাধারণ মানুষের জন্যও সাশ্রয়ী বটে।

তিনি বলেন, মানুষকে বিলাসবহুল গাড়ির অনুভূতি দেওয়ার জন্য আমি বেশ চিন্তাভাবনা করে গাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন ভিডিও দেখে নির্মাণ কাজ সংশোধন করেছি এবং এতে বিভিন্ন ফিচার যোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, কাশ্মিরে বেশিরভাগ সময় আবহাওয়া বিষণ্ণ থাকে। আমি সোলার প্যানেল ব্যবহার করেছি যা কম সূর্যালোকের দিনেও কাজ করে। আমি সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য অনেক সোলার কোম্পানিতে গিয়েছি এবং এই সৌর উদ্ভাবনী গাড়িতে কাজ করেছি।

অনেক সময় গাড়ির দরজায় পার্কিং করলে হালকা সূর্যের আলো পাওয়া যেত, এই সমস্যা সমাধাণের জন্য তিনি একটি গুল-উইং দরজা তৈরি করেন যা ফেরারির মতো উপরের দিকে খোলে।

গুল-উইং দরজা তৈরি করা এবং ভারসাম্য বজায় রাখা তার জন্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি একটি কঠিন কাজ ছিল বলেও জানিয়েছেন বিলাল আহমেদ।

রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

টেলিটক এমডি সাহাবুদ্দিনের লাগামহীন দুর্নীতি

সরকারি মোবাইল কোম্পানি টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় সম্পৃক্ততাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।

এর মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। বিটিআরসির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অনিয়মে সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তদন্ত হওয়া জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার কার্যালয়ের ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন সাহাবুদ্দিন। বিএনপি ঘরানার ব্যক্তি হিসাবেই পরিচিত তিনি। সরকার পালটানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোল পালটে তিনি আওয়ামী লীগার বনে যান।

ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল বা ভিওআইপি সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অন্যতম মাধ্যম হিসাবে এখনো সচল। দায়িত্বশীলদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ ব্যবসায় ভর করে শত শত কোটি টাকা চলে যাচ্ছে একটি চক্রের কব্জায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে মাঝেমধ্যে জড়িতদের কেউ কেউ ধরা পড়লেও থেমে নেই অবৈধ এ ব্যবসা। অভিযোগ উঠেছে, ভিওআইপি বাণিজ্যের প্রায় পুরোটার নেতৃত্বে স্বয়ং টেলিটকের এমডি সাহাবুদ্দিন।

এ বিষয়ে ২০২০ সালের ৮ জুন মাজেদুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেখানে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নিউমার্কেট, তুরাগ ও শাহ আলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করে র‌্যাব।

একই বছরের ২৩ জুন বাংলাদেশ টেলিযোযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। তাতে এরসঙ্গে টেলিটকের কতিপয় কর্মকর্তার জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে।

এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটিও করেছিল বিটিআরসি। তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব (কোম্পানি) মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান, বিভাগের উপসচিব বিদ্যুৎ চন্দ্র ও উপসচিব মো. শামসুল আলম।

এই তদন্ত কমিটি চলতি বছর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিদের্শনা দিয়েছিলেন।

সূত্রমতে, ১৫ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশনায় টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগ। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন সেই বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) মো. মাহবুব উল আলম, সদস্য সচিব হলেন একই বিভাগের উপসচিব (কোম্পানি) এবিএম সাদিকুর রহমান, সদস্য হলেন-টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং অ্যান্ড ভ্যাস ডিপার্টমেন্ট থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ পরীক্ষায় সফটওয়্যার সাপোর্টের বিপরীতে ভেন্ডর কোম্পানি সিনটেক্স সিস্টেমের নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫১ টাকার বিল প্রদানের চেষ্টার অভিযোগে টেলিটকের ক্রয় বিভাগের সব কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়।

সাহাবুদ্দিনের সীমাহীন দুর্নীতির আলামত ধ্বংস সম্পর্কে তথ্য ও টেলিটকের বহুল জনপ্রিয় টেলিপে অ্যাপস পুনরায় চালুকরণ প্রসঙ্গে নুরুল জিহাদ নামের এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বরাবর।

সেখানে তিনি কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন এমডি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেন, টাকা খেয়ে টেলিটকের জনপ্রিয় অ্যাপ টেলিপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে সব মোবাইল ব্যাংকিং বিজনেস পাইয়ে দেওয়ার জন্য কারিগরি ত্রুটির কথা বলে ইচ্ছে করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় অ্যাপটি। এছাড়া নুরুল জিহাদ আরেক অভিযোগে উল্লেখ করেন, সাহাবুদ্দিন টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে প্রতি বছর অগ্রগতির রিপোর্ট পেলেও বাস্তবে স্থবির হয়ে পড়ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তাকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর কারণে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাবুদ্দিন ও টেলিটকের এডমিন বিভাগের ডিজিএম কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সাহাবুদ্দিন নিজে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ তোলেন আল আরাফাত সিকিউরিটি সার্ভিস লি.র কর্মচারী মানিক আলী।

জানা যায়, টেলিটকের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের শতকরা ৯০ ভাগ ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয় না। এ ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে গত ৩ বছরে প্রায় ৩৪২ কেটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় টেলিটকের টাওয়ার ভাড়ার নামেও চলছে লাগামহীন দুর্নীতি। টেলিটকে ডিজিএম পদমর্যাদার কর্মকর্তারা যেখানে কোনো গাড়ি পান না সেখানে এমডি একাই দখল করে আছেন ৫টি গাড়ি। নিজের জন্য, স্ত্রীর জন্য, দুই ছেলের জন্য দুটি, এমনকি শ্বশুরবাড়ির জন্য একটিসহ ৫টি গাড়ি ব্যবহার করেন টেলিটক এমডি সাহাবুদ্দিন।

অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছেন সাহাবুদ্দিন। গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। রাজধানীর পিঙ্ক সিটির এ ব্লকে ডুপ্লেক্স বাড়িসহ ঢাকায় রয়েছে তার ৯টি বাড়ি। বসুন্ধরা আবাসিক এইচ ব্লকে পাঁচ কাঠায় ৯ তলা বাড়ির কাজ শেষ পর্যায়ে, বাড্ডার টেকপাড়ায় ১০ কাঠা জায়গায় টিনশেড ঘর, রূপনগরে ১৫ কাঠার ২টি প্লট, পশ্চিম রামপুরায় ৮ তলা বাড়ি, আফতাবনগরে ৫ কাঠা প্লটে বাড়ি, মধ্য বাড্ডায় ৫ কাঠা জায়গার উপর ৬ তলা বাড়ি, বাড্ডা কাদেরিয়া হাউজিংয়ের পাশে ৩৫ কাঠার দুটি প্লট, পশ্চিম ধানমন্ডির বসিলায় ২০ কাঠার ২টি প্লট ও পশ্চিম নাখালপাড়ায় ৬ তলার একটি বাড়ি রয়েছে সাহাবুদ্দিনের। ঢাকার বাইরে ৭২ বিঘা জমি কিনেছেন। এছাড়াও নামে-বেনামে বহু সম্পত্তির মালিক বনেছেন সাহাবুদ্দিন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। আমার নামে কোথাও কোনো জমি নেই। যতটুকু আছে তা আমার স্ত্রীর নামে। আমি টেলিটকে যোগদানের আগেই পিংক সিটির ওই বাড়ি কেনা। অল্প জমি আমরা ৬ জনে মিলে কিনেছিলাম বসুন্ধরায় আর পৈতৃকভাবে কিছু পেয়েছিলাম এতটুকুই। এর বাইরে কোথাও কোনো সম্পত্তি নেই আমার।

সাহিত্য একাডেমির সর্বোচ্চ সম্মান ‘ফেলো’ শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান ‘ফেলো’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক ও সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। কলকাতা সাহিত্য একাডেমি তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে। শনিবার কলকাতায় সাহিত্য একাডেমি সভাঘরে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হাত ফেলোশিপ তুলে দেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি চন্দ্রশেখর কাম্বার। খবর হিন্দুস্থান টাইমসের।

সাহিত্য একাডেমির সচিব কে শ্রীনিবাস রাও বলেন, বহু সম্মানে ভূষিত শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা শুধু বাংলা ভাষী মানুষদের কাছে নয় সারা দেশে জনপ্রিয়। তাকে ফেলোশিপ দিতে পেরে সাহিত্য একাডেমি গর্বিত। পুরস্কার পেয়ে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরস্কার তাকে আরও অবনত করে। তার মনে প্রশ্ন তোলে এ সম্মান তার প্রাপ্য কি না। তবে তার লেখা শিশুদের মধ্যে যে জনপ্রিয় তা তাকে উদ্বেলিত করে। জীবনের অবিমিশ্র পথে পরিকল্পনাহীনভাবে চলতে চলতে তার লেখক হয়ে ওঠা।

এদিন সাহিত্য একাডেমি সভাঘরে শীর্ষেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সৃষ্টি কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা সভায় অংশ নেন কবি সুবোধ সরকার, প্রচেত গুপ্ত, স্মরঞ্জিত চক্রবর্তী প্রমুখ।

পাকস্থলীর ক্যান্সার কেন হয়, লক্ষণ

পাকস্থলীর ক্যান্সার সবচেয়ে জটিল রোগগুলোর মধ্যে একটি। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিতে পারলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় মৃত্যুও হতে পারে।

এ রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে এবং অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থান ফেলে দিলে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বৃহদন্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

রোগের প্রাথমিক অবস্থায় হজমক্রিয়ার গোলযোগ বা খাদ্যগ্রহণের পর পেটে অস্বস্তি অনুভুতি ছাড়া আর তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না। এ সমস্যাগুলোকে রোগী তেমন গুরুত্ব দেন না, মনে করেন গ্যাস্ট্রিক হয়েছে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে সাময়িক আরাম অনুভব করেন। ফলে ক্যান্সার পাকস্থলী থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। রোগটি ছড়িয়ে পড়লে যে উপসর্গ দেখা দেয়-

* অল্প খেলে তৃপ্তি চলে আসে * পেট ফেঁপে ও ফুলে থাকে * বমি হয় * রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় * খাদ্যগ্রহণের পর খাদ্যনালীতে ব্যথা হয় * শরীরের ওজন কমে যায় * বমির সঙ্গে রক্ত কিংবা কালো পায়খানা হতে পারে

এ সমস্যাগুলো হলে অপারেশন করালেও রোগীর আয়ুকাল খুব বেশি বাড়ানো যায় না। সাধারণত চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে এ ক্যান্সার বেশি হয়ে থাকে। নারীদের চেয়ে পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন। যে কারণে পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-

* হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি নামক এক প্রকার জীবাণুর আক্রমণ

* প্রচুর পরিমাণে মদপান

* অত্যধিক লবণ আছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* সংরক্ষিত টিনজাত খাবার

* অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অভাব রয়েছে এমন খাবার গ্রহণ করা

* যারা ধূমপায়ী এবং ধুলাবালি স্থানে বাস করে তাদের মধ্যেও এ ক্যান্সার হতে পারে

* বংশগত কারণেও পাকস্থলীতে ক্যান্সার হয়

এক সময়ে জাপানে পাকস্থলী ক্যান্সারের কারণে অনেক লোক মারা যেত। বর্তমানে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সের পর যাদের হজমক্রিয়ার গোলযোগ হচ্ছে তাদের এন্ডোস্কোপি করে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা হয়।

আমাদের দেশে রোগীরা যখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হন তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার পাকস্থলীর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, এরফলে চিকিৎসা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। এ জন্য উপরের সমস্যাগুলো দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

আড়াই মাস পরই সুখবর দিলেন আলিয়া

বিয়ের আড়াই মাস যেতে না যেতেই সুখবর নিয়ে ভক্ত-শুভাকাঙক্ষীদের সামনে হাজির হয়েছেন বলিউড সেনসেশন আলিয়া ভাট। যে খবরের জন্য কৌতুহল ছিল বি-টাউনে।

সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একাধিক ছবি শেয়ার করে আলিয়া ক্যাপশন জুড়ে দিয়েছেন। লিখেছেন, শিগগিরই আমাদের সন্তান আসছে।

এর পরই শুরু হয়ে যায় কমেন্টের বন্যা। সামাজিক মাধ্যমে বলিউডসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকারা আলিয়া ভাট ও রণবীর কাপুরকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন।

বিয়ের পর এত দ্রুত অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনা বলিউডে বিরল। আলিয়া মাতৃত্বের স্বাদ দ্রুতই নিতে আগ্রহী।

আলিয়া-রণবীরের পরিবারে এখন খুশির জোয়ার বইছে। কাপুর ও ভাট পরিবার নতুন অতিথিকে বরণ করার জন্য মুখিয়ে আছে।

পাঁচ বছর প্রেমের পর বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমিকযুগল রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী-স্ত্রী হয়েছেন ১৪ এপ্রিল। রণবীরের বাসভবন বাস্তু ভবনে ওই দিন ভারতীয় সময় দুপুর ৩টার দিকে সাতপাকে বাঁধা পড়েন রণবীর-আলিয়া।

১৬ এপ্রিল রাতে ছিল রণবীর-আলিয়ার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে হাজির হয়েছিলেন বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানসহ বহু তারকা।

আফ্রিকায় রণবীর-আলিয়ার মধুচন্দ্রিমা হবে— এমন খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করলেও এ যুগলকে দ্রুতই কাজে ফিরতে দেখা গেছে।

আগামীতে রণবীর-আলিয়াকে অয়ন মুখার্জির ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ সিনেমায় দেখা যাবে, যেটি মুক্তি পাবে ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২। এই প্রথম দর্শক বাস্তবের এই যুগলের রোমান্স পর্দায় দেখবেন।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

জীবনের প্রথম উপার্জন দিয়ে যা কিনেছিলেন আলিয়া

জীবনে যত অর্থই উপার্জন করা হোক না কেন প্রথম উপার্জনের অনুভূতিই আলাদা। সেই উপার্জনকে অকারণে খরচ করে ফেলেছেন এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কারণ প্রথম উপার্জন প্রতিটি মানুষের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রথম ধাপ, এটি গর্বের।

তাই প্রথম উপার্জনের টাকা দিয়ে কী কিনেছেন, কাকে দিয়েছেন— এসব স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখেন অনেকে।

বলিউডের ডিম্পল গার্ল আলিয়া ভাট তাকালেন সেই স্মৃতির ফ্রেমে। জানালেন নিজের প্রথম উপার্জনের টাকা হাতে পেয়ে কী করেছিলেন তিনি!
সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলিয়া বলেন, প্রথম উপার্জনের টাকা হাতে পেয়েই দামি একটা ব্যাগ কিনি আমি। আসলে সুন্দর সুন্দর ব্যাগ আমাকে খুব আকর্ষণ করে।

জিমে যাওয়ার জন্য বাহারি প্যান্টও কেনেন তিনি।

আলিয়া জানান, তিনি ভ্রমণপিপাসু। বছরে একবার হলেও দারুণ একটা ট্রিপ দেন। সেখানেও মন উজাড় করে খরচ করেন।

এ অভিনেত্রী বলেন, ‘হোটেলে থাকাতেই আমি খরচ করি বেশি। তবে বেড়াতে গিয়ে কেনাকাটা করতে মোটেই পছন্দ করি না।

আরও বিশেষ দুটি শখের কথা জানান আলিয়া। ব্যক্তিগত বিমান আর পাহাড়ের কোলে একটা ছবির মতো বাড়ি। সেই সঙ্গে আশাও রাখেন কোনো না কোনো দিন নিশ্চয়ই এ দুটো জিনিসও তার হবে।

২০১২ সালে করণ জোহরের হাত ধরে ‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় আলিয়া ভাটের। তার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। একের পর এক হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। এ মুহূর্তে বলিউডে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের তালিকায় প্রথম সারিই অভিনেত্রী আলিয়া।

আগামী সেপ্টেম্বরে মুক্তি পাচ্ছে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’। যে সিনেমায় স্বামী রণবীর কাপুরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আলিয়া।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

পেসার খালেদের কীর্তিই বাংলাদেশের প্রাপ্তি

কিছু দিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন বাংলাদেশের পেসার খালেদ আহমেদ।

তবে কাঙ্ক্ষিত ফাইফারের কাছাকাছি গিয়েও তার দেখা পাননি। প্রথম ম্যাচে এক ইনিংসে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। পরের ম্যাচে এক ইনিংসে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট।

শ্রীলংকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ছিলেন উইকেটশূন্য।

এবার স্বরূপে ফিরলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৫ উইকেট পেলেন খালেদ আহমেদ।

৩১.৩ ওভারে তিনটি মেডেনসহ ১০৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করলেন এ ডানহাতি পেসার। ক্যারিয়ারে ৯ম টেস্টে এসে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে নিলেন ৫ উইকেট।

জেডেন সিলসকে নুরুল হাসানের ক্যাচ বানিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফাইফারের দেখা পান খালেদ। এর পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস থামে ৪০৮ রানে। ১৭৪ রানের লিড নেন স্বাগতিকরা।

খালেদের এই সাফল্যে দারুণ উৎফুল্ল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ফাইফারের নাম লেখার সঙ্গে সঙ্গে মাঠেই খালেদকে জড়িয়ে ধরেন অধিনায়ক।

ড্রেসিংরুমেও আনন্দ প্রকাশের প্রাপ্তি ছিল এটিই। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডও ভূয়সী প্রশংসা করলেন খালেদের।

উইন্ডিজের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান কাইল মেয়ার্স খালেদের শিকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে দ্বিশতক হাঁকানো এ অলরাউন্ডারকে ১৫০ ছুঁতে দেননি খালেদ। ২০৮ বলে ১৪৬ রানে মেয়ার্সকে শরিফুলের ক্যাচ বানান খালেদ।

তার আগে অ্যালজারি জোসেফকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন খালেদ। জোসেফ করেন ৬ রান। শেষ ব্যাটার হিসেবে তুলে নেন জাইডেন সিলসকে।

শেষ পর্যন্ত খালেদের বোলিং ফিগার ৩১.৩-৩-১০৬-৫।

ফের ব্যাটিং বিপর্যয়, হারের শঙ্কায় বাংলাদেশ

সেন্ট লুসিয়া টেস্টেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ইনিংস হারের শঙ্কা হাজির। এবারও ক্রিজে আছেন নুরুল হাসান, তবে সঙ্গী হিসেবে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। চতুর্থ দিনের বাংলাদেশ ‘অন্তত’ ইনিংস হারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারবে কি এই জুটি, উত্তরটা আপাতত সময়ের হাতে তোলা থাক।

সেন্ট লুসিয়া টেস্টে ইনিংস হার এড়াতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৪২ রান, হাতে রয়েছে ৪ উইকেট। উইন্ডিজকে ৪০৮ রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে কূলকিনারা করতে পারেনি বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় সেশনেই মাত্র ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসেন টাইগাররা।

বৃষ্টিবিঘ্নিত শেষ সেশনে আরও ৩ উইকেট খুইয়ে সাকুল্যে ১৩২ রান স্কোরবোর্ডে জমা করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের নেওয়া ১৮৪ রানের লিড টপকে ইনিংস হার এড়াতে তাই চতুর্থ দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যানকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাসী বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে তারা হালে পানি পান কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তৃতীয় দিন দ্বিতীয় সেশনে উইন্ডিজের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়েন টাইগাররা। দলীয় ও ব্যক্তিগত মাত্র ৪ রানেই কেমার রোচের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। বেশিক্ষণ উইকেটে টিকতে পারেননি অপর ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (১৩) এবং চারে নামা এনামুল হক বিজয়ও (৪)। এ দুজনকেও নিজের শিকার বানিয়েছেন এই ইনিংস দিয়ে টেস্টে ২৫০ উইকেটের মালিক বনে যাওয়া রোচ।

এক প্রান্ত আগলে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে সঙ্গীর অভাবে তিনিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েন। ৯১ বল থেকে ৮ চারে ৪২ রান করে আলজারি জোসেফের বলে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি হয়ে ফেরেন শান্ত। শান্ত ফেরার আগেই অবশ্য সাঙ্গ হয়েছিল এই টেস্টে লিটন দাসের যাত্রাও। ৩২ বলে ১৯ রান করে তিনি আউট হয়েছেন জেডেন সিলসের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে।

অ্যান্টিগা টেস্টের দুই ইনিংসে অর্ধশত রানের দেখা পেলেও এই টেস্টে ব্যাট হাতে পুরোপুরি ব্যর্থ অধিনায়ক সাকিব। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮ রানে ফিরেছিলেন, দ্বিতীয় ইনিংসে সেই রান সংখ্যা দ্বিগুণ করতে পারলেও তা দলের জন্য যথেষ্ট ছিল না মোটেও।

১৪ বলে ১৬ রান নিয়ে সোহান এবং ১৩ বল খেলে এখনো রানের খাতা খোলার অপেক্ষায় থাকা মিরাজ শুরু করবেন চতুর্থ দিনের খেলা।