রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 240

ঈদে বিটিভিতে উকিল বশীকরণ

সালাহউদ্দিন লাভলু কি পারবেন তার চিরকুমারত্ব ঠেকাতে? উর্মিলা কর কি আজীবন পুরুষবিদ্বেষী হয়ে থাকবেন? নাকি কারও ঘরণী হবেন? মৌসুমী হামিদ কি পারবেন মামলা ঠুকে হলেও বোনের বিয়ে দিতে?

নিজে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে এবং শ্যামল মওলার ঘরণী হতে? আইনুন পুতুল আর রমিজ রাজুর লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম আর কতদিন চলবে? সালাহউদ্দিন লাভলুর এই মধ্য বয়সে একজন পাত্রী জুটলেই খুলে যাবে সব সমস্যার জট।

মাসুম রেজার গল্পে এমনই চিত্র দেখা যাবে ‘ উকিল বশীকরণ’ নাটকে। ঈমাম হোসাইনের প্রযোজনা ও নির্দেশনায় নাটকটি ঈদের দ্বিতীয় দিন বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে প্রচার হবে।

এই নাটকে অভিনয় করেছেন আরমান পারভেজ মুরাদ, সালাহউদ্দিন লাভলু, মৌসুমী হামিদ, শ্যামল মওলা, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, রমিজ রাজু ও আইনুন পুতুল।

নিজের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন কোয়েল

টালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা কোয়েল মল্লিক। দেড় শতকের বেশি সময় ধরে টালিপাড়ায় রাজত্ব করছেন তিনি। দেব-জিতের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়েছেন এ নায়িকা।

পর্দার জীবন নিয়ে কোয়েল যতটা আলোচিত, ঠিক ততটাই আলোচিত তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে। তার লাইভ লাইফ নিয়ে চর্চার শেষ নেই। যদিও তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না কোয়েলের লাভ লাইফ নিয়ে।

সিনেমার পর্দার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ জনপ্রিয় কলকাতার অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যা ২২ লাখ, ফেসবুকে ১৩ লাখ, টুইটারে ১৪ লাখ।

প্রতিদিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কিছু আপলোড করেন তিনি। কখনো তার ছবির খবর, কখনো মডেলিংয়ের ছবি, কখনো আবার পারিবারিক মুহূর্ত বা ছেলের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত তিনি শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বৃহস্পতিবার ছিল বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবস। সে উপলক্ষ্যে কোয়েল জানালেন সোশ্যাল মিডিয়া ঘিরে তার কিছু গোপন তথ্য।

কোয়েল জানান, বর্তমানে তার প্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হচ্ছে ইনস্টাগ্রাম। আর ২০১১ সালে তিনি প্রথমবার টুইট করেন। ‘পাগলু’র শুটিংয়ের সময় তার প্রচণ্ড কনজাংটিভাইটিস হয়েছিল। সেটি জানাতেই টুইট করেছিলেন।

তিনি জানান, সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জয়েন করেছিলেন।

এ ছাড়া সবাইকে বিশ্ব সোশ্যাল মিডিয়া দিবসের শুভেচ্ছা জানান কোয়েল। দায়িত্ব সহকারে সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার আবেদন জানান এ নায়িকা।

সূত্র: জিনিউজ

ফেরিতে আটলান্টিক পাড়ি দিতে গিয়ে অসুস্থ ক্রিকেটাররা

সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকা— টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামার প্রস্তুতি। তবে বাংলাদেশ দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেই প্রস্তুতি যেভাবে হলো, তাতে ভালো কোনো বার্তা দিল না বাংলাদেশ দলের। জার্নির কারণে জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারসহ বেশ কয়েকজন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডোমিনিকায় যাত্রাপথে সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ আর ‘মোশন সিকনেসে’ নুইয়ে পড়েছেন শরিফুল ইসলাম, নুরুল হাসানরা।

ডোমিনিকায় তখন স্থানীয় সময় রাত ১০টা। অথচ গোটা দলের সদস্যরা ক্লান্তি ঘোচাতে আগভাগে ঘুমিয়ে গেছেন। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে সমুদ্রযাত্রা কতটা বীভৎস হতে পারে সে অভিজ্ঞতা শোনালেন অল্প কথায়, যা শুনলে শিউরে উঠতে বাধ্য যে কেউই।

সেন্ট লুসিয়া থেকে মার্টিনেক হয়ে ডোমিনিকা। সব মিলিয়ে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার জার্নি। সমুদ্রে ফেরিতে এর আগে এত সময় কখনই যাত্রার অভিজ্ঞতা নেই বাংলাদেশ দলের কোনো সদস্যের। যাত্রার আগে দল ছিল দ্বিধাবিভক্ত, অনেকেই এই যাত্রার পক্ষে ছিলেন না। তবে উপায় ছিল না হাতে। বিমান যাত্রার খরচ আর ঝক্কি ছিল তুলনামূলক ঢের বেশি। ফেরি যাত্রা যেমন বাড়তি সময় বাঁচায়, তেমন খরচও।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে দুদিন আগের সাইক্লোনে। যার কারণে সমুদ্রে ঢেউয়ের তোড়ও বেশি ছিল। এই ঢেউয়ের মধ্যে জার্নি আর ‘মোশন সিকনেসে’, সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় এক অভিজ্ঞতাই হয়েছে ক্রিকেটারদের।

দলের সেই সদস্যের মতে ফেরি সাইজ খুব বড় নয়। এর সঙ্গে ৭-১০ ফুট উচ্চতার ঢেউ মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরি যেভাবে দুলছিল, তাতে দলের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাঁহাতি পেসার শরিফুল, উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ম্যানেজার নাফিস ইকবাল এবং সাপোর্ট স্টাফের এক সদস্য ‘মোশন সিকনেসে’ আক্রান্ত হন। তাদের কয়েকজন বমিও করেন এ সময়।

তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে— এই বীভৎস যাত্রা শেষে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডোমিনিকায় পৌঁছেছে দল। সেখান থেকে ম্যানেজার নাফিস ইকবাল জানান, তারা এখন বিশ্রামে আছেন। এখন সব কিছু মোটামুটি স্বাভাবিক। সবাই সুস্থ আছেন। পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।

ডোমিনিকায় তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ দুটি ২ ও ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এই ভয়ঙ্কর যাত্রার মাত্র একদিন পরেই মাঠের লড়াই। টেস্ট সিরিজ হারের পর সে লড়াইয়ে কেমন করেন সফরকারীরা, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

এই ছেলেটা এখানে এলো কীভাবে: পাপন

টেস্ট অভিষেকটা ডাক মেরে ক্যারিয়ার শুরু করেন মাহমুদুল হাসান জয়। পরের ইনিংসে করতে পারেন মাত্র ৬ রান।

এমন হতাশাময় অভিষেকের পরও তার ওপর নির্বাচকদের দৃষ্টি ইতিবাচকই ছিল। কারণ অভিষেক টেস্টেই পাকিস্তানি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলিদের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে তাকে।
এর পর নিউজিল্যান্ড সফরে কঠিন কন্ডিশনে ওপেনিংয়ে পাঠানো হয় জয়কে। সেখানে অবশ্য দারুণ পারফরম দেখান জয়। মাউন্ট মুঙ্গানুইতে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, নেইল ওয়াগনারদের মোকাবিলা করে ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন।

এর পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান। ডারবানে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন।

সেই ইনিংসের পর অনেকেই বলেছিলেন, টেস্টে বাংলাদেশ একজন স্বীকৃত ওপেনার পেয়েছে।

কিন্তু ওই সেঞ্চুরির পরই অফফরমে চলে যান জয়। পরের তিন ইনিংসে দুটি শূন্যসহ করেন ৪ রান।
সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টে তার ইনিংস ছিল— ০, ৪২, ১০ ও ১৩।

জয়ের এই অফফরম নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। জয়কে আরও অনেক কিছু শিখে টেস্টে ওপেনিংয়ে নামতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পাপন বলেন, ‘এই ছেলেটা এখানে এলো কীভাবে? ওর তো আসারই সময় হয়নি। আপনারা আমাকে বলেন ওর কি আসার সময় হয়েছে এখনো? তাও প্রথম টেস্ট পাকিস্তানের শাহিন শাহ আফ্রিদির বল ফেস করার জন্য! যে জীবনে এ লেভেলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই খেলেনি। তার পর চলে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সব কঠিন কঠিন কন্ডিশনে ওকে পাঠিয়ে দিচ্ছি ওপেন করতে। ওর তো ভুল আছেই, ওর শেখার এখনো অনেক বাকি। ওকে নিয়ে কথা বলার তো কিছু নেই। ওকে ডেভেলপ করতে হবে।’

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ১১ ড্রেজার মেশিন জব্দ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ১১ ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে।

ইউএনও অঞ্জন দাশের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর সহকারী কমিশনার ভূমি রাসেল ইকবালসহ তিন ইউপি সদস্য থানা পুলিশ, আনসার সদস্য এবং গণ্যমান্যদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে।

মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের কাটাখালি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৯টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। রাত ১০টার সময় স্টিল ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে ২টি ড্রেজার জব্দ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি সম্পদ রক্ষায় আমাদের সবাইকে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। মেঘনা ও ডাকাতিয়ায় অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

চুয়াডাঙ্গায় সড়কে গাছ ফেলে ঘণ্টাব্যাপী গণডাকাতি চালিয়েছে একদল মুখোশধারী ডাকাত। গরু ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে স্বর্ণের গহনাসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন তারা।

সদর উপজেলার গহেরপুর-সড়াবাড়িয়া সড়কের শালিকচরা নামক স্থানে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১৫-২০ জনের সঙ্গবদ্ধ একদল ডাকাত রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয়। মুখোশধারী ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাটফেরত গরু ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লুটপাট করে। এ ছাড়া ১০-১২ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয় কয়েকজনের কাছ থেকে।

গরু ব্যবসায়ী আলমডাঙ্গার জেহালা গ্রামের কুতুবউদ্দিন ও জোড়গাছা গ্রামের আজাদ হোসেন জানান, হাফপ্যান্ট পরা ডাকাতদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা সাদৃশ্য কিছু ছিল। তারা আমাদের কাছ থেকে গরু বিক্রির ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

ঝিনাইদহ চাকলাপাড়ার বিশ্বজিৎ সাহা, রাজু আহম্মেদ ও মিলন জানান, তাদের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা, একটি স্বর্ণের চেন, একটি ব্রেসলেট ও পাঁচটি আংটি ছিনিয়ে নেয় ডাকাতরা। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সড়াবাড়ীয়া গ্রামের ঠিকাদার ও ইটভাটা মালিক আবদুল ওয়াহেদ মিয়া জানান, তার প্রাইভেট কার থেকে ৯ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাকে মারধর করে ডাকাতরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ডাকাতির পর এলাবাসী টের পায়। তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে আসার আগেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়। রাত ১০টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক, সার্কেল এসপি মুন্না বিশ্বাস ও দর্শনা থানার ওসি লুৎফুল কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা ভুক্তভোগীদের কাছে ডাকাতির বর্ণনা শোনেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তারেক জানান, রাস্তায় বাবলাগাছ ফেলে ডাকাতদল তাণ্ডব চালিয়েছে। আমরা ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু করেছি।

শপথ নিলেন ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র

ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিয়েছেন ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র। মার্কোস জুনিয়রের ডাকনাম বং বং।

গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি বড় ব্যবধানে জয় পান। বিজয়ে ভূমিকা রাখেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট দুতের্তের মেয়ে সারা দুতের্তে। তিনি ইতোমধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। খবর আলজাজিরার।

ফিলিপাইনের নতুন প্রেসিডেন্টের বড় পরিচয় হচ্ছে, তিনি সাবেক স্বৈরশাসক ফার্দিনান্দ মার্কোসের ছেলে। ১৯৮৬ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফার্দিনান্দ মার্কোসের পতনের মধ্য দিয়ে ফিলিপাইনের রাজনীতি থেকে মার্কোস পরিবার বিদায় নিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় জাদুঘরে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শপথ নেন মার্কোস জুনিয়র। ৬৪ বছর বয়সি এ রাজনীতিক এমন সময়ে দায়িত্বে এলেন যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি দীর্ঘ মহামারির ধাক্কা সামলানোর পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে আছে।

ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের শপথের মধ্য দিয়ে রদ্রিগো দুতের্তে বিদায় নিলেও তার পরিবার ক্ষমতার অংশীদার হিসেবেই থাকছে।

রদ্রিগোর মেয়ে সারার মাধ্যমে তিনি নিজের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জি-৭ নেতাদের রসিকতার জবাব দিলেন পুতিন

জার্মানিতে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন বৈঠকের মধ্যাহ্নভোজে আন্তর্জাতিক জোটটির নেতারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে নিয়ে রসিকতা করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পুতিনের খোলা শরীরের ছবি প্রসঙ্গে মজা করে বলেন, আমরাও কি আমাদের কোট খুলে ফেলব? আমাদেরও কি সম্পূর্ণ পোশাক খুলে ফেলা উচিত। রসিকতার ছলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, আমাদেরও দেখাতে হবে যে, আমরা পুতিনের চেয়ে দৃঢ়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জি-সেভেন নেতাদের রসিকতার জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি জানি না তারা ঠিক কতটুকু কাপড় খুলতে চেয়েছিলেন। কোমর পর্যন্ত, নাকি কোমরের নিচে। তবে আমি মনে করি তারা সেটা করলে জঘন্য দেখাবে।

পুতিন বলেন, ছবিতে ভালো দেখাতে হলে অ্যালকোহল কমাতে হবে এবং খেলাধুলায় অংশ নিতে হবে।

প্রকৃত ঘটনা হলো— জি-সেভেন নেতারা পুতিনের ২০০৯ সালের একটি ছবির দিকে ইঙ্গিত করে ওই রসিকতা করেন। পুতিনের ওই ছবিতে দেখা যায়, মাথায় কাউবয় টুপি, আর পরনে খাকি প্যান্ট। সাইবেরিয়ার তুবা অঞ্চলে খালি গায়ে ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরছেন তিনি। এ ছাড়া আরেকটি ছবিতে তাকে খালি গায়ে মাছ ধরতে দেখা যায়।

সূত্র: বিবিসি

তদন্তাধীন ৫৫ মামলায় চার্জশিট মাত্র ৩টিতে

ই-কমার্স প্রতারণার অভিযোগে ২৫টির বেশি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত এক বছরে শতাধিক মামলা হয়েছে। এসবের মধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৫৫টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই মামলাগুলোর মধ্যে মাত্র তিনটিতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। তদন্তাধীন মামলাগুলোর চার্জশিট দ্রুত দাখিল করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীনসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসবের মধ্যে রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডি ও বাড্ডা থানায় করা তিনটি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে করা ওই তিনটি মামলায় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান বলে জানিয়েছেন সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রাজধানীর ভাটারা থানায় এবং যশোর কোতোয়ালি থানায় রিং আইডির পরিচালক সাইফুল ইসলামসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর সাইফুলসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারের পর রিং আইডির প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সাইফুল। রিং আইডি একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফরম হিসাবে অ্যাপ লঞ্চ করে। পরে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে আমানত সংগ্রহ করে। তারা তিনটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তিন মাসেই গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের মূল মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাকসুদুর রহমান, অন্যতম মালিক বীথি আক্তার, সিইও আমানউল্লাহ চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষক বনানী থানার তৎকালীন পরিদর্শক সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা হয়। কোনো মামলাতেই এখনো চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ কর্মকর্তা গ্রেফতার হলেও সোহেল রানা পলাতক থাকেন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি ভারতে গ্রেফতার হন। এখনো তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি। ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মামলাগুলোর চার্জশিট দ্রুত দেওয়ার লক্ষ্যে তদন্তকাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

ধামাকা শপিং ডটকমের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিং আইনে কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসবের মধ্যে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে করা বনানী থানায় এবং ওই বছরের অক্টোবরে করা হাজারীবাগ থানার মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। বনানী থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন পণ্যের লোভনীয় অফার ও ভার্চুয়াল সিগনেচার কার্ড বিক্রির প্রলোভন দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৮০৩ কোটি টাকা আদায় করে প্রতিষ্ঠানটি।

হাজারীবাগ থানায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ধামাকা শপিং ডটকমের কোনো প্রকার অনুমোদন ও লাইসেন্স নেই। নেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্ট। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ব্যবসায়িক লেনদেন করেছে তারা। প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ২০১৮ সালে শুরু হয় ‘ধামাকা ডিজিটাল’ নামে, পরে ২০২০ থেকে ‘ধামাকা শপিং ডটকম’ নামে কার্যক্রম শুরু করে।

প্রতারণার মাধ্যমে মাত্র দুই দিনে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদের ৪৭ কোটি ৪৩ লাখ ১৮ হাজার ৯৬৩ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সিরাজগঞ্জ শপ ডটকমের মালিক জুয়েল রানার (২২) বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ ও ৩১ আগস্ট সিরাজগঞ্জ শপ ডটকম থেকে বিভিন্ন নগদ অ্যাকাউন্টে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একের পর এক ‘রিফান্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের বিরুদ্ধে পাঁচটির বেশি মামলা হয়েছে। এসবের মধ্যে রাজধানীর লালবাগ থানার একটি এবং গুলশান থানার দুটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। এসব মামলায় কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া ও হুমায়ুন কবির (আরজে নিরব) বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে ছিলেন। এখন তারা জামিনে মুক্ত। মামলাগুলোর তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

সিআইডি আরও যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত করছে, সেগুলোর মধ্যে আছে টুয়েন্টিফোর টিকেটি লিমিটেডের বিরুদ্ধে তিনটি (পল্টন, উত্তার পশ্চিম ও কাফরুল থানার), এহসান গ্রুপের বিরুদ্ধে চারটি (পিরোজপুর সদর থানার) এবং র‌্যাপিড ক্যাশ কুইক অনলাইন ই-লোনস অ্যাপ, সহজ লাইফ অ্যান্ড লাইভলি লাইফ, আনন্দের বাজার, তলয় ডটকম, আলিফ ওয়ার্ল্ড এবং দালাল প্লাস ডটকমের বিরুদ্ধে একটি করে মামলা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্র জানায়, ই-কমার্সের ছয়টি মামলার তদন্ত শুরু করে ডিবি। এই ছয়টি মামলায় আসামি ছিল ৩১ জন। মামলাগুলোর মধ্যে তিনটির চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

ডিবি জানায়, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আল আমিন ও তার স্ত্রী পরিচালক শারমিন আক্তারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। উচ্চ কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে ২৩ লাখ আইডির বিপরীতে ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলার তদন্ত চলছে। কলাবাগান থানায় করা মানি লন্ডারিং আইনের মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কোম্পানির হিসাব থেকে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে মানি লন্ডারিং করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধাররা।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নিরাপদ ডটকম নামে একটি অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৬ জুন আদাবর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির সিআইও শাহরিয়ার খান এবং পরিচালক ফারহানাকে গ্রেফতার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। ইতোমধ্যে এই দুইজনের চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় নিরাপদ শপের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত বছরের অক্টোবর করা একটি মামলার তদন্ত চলমান।

এক হাজার ৬০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিওয়ার্ডরুপি ডটকমের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর কদমতলী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। এ মামলায় এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন বলে ডিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর ধানমন্ডি থানায় করা এক মামলায় এজাহারে বলা হয়েছে থান্ডার লাইট টেকনোলজি লিমিটেড দুইটি অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের উপকমিশনার তারেক বিন রশিদ। তিনি জানান, প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইপিসি গ্লোবাল লিমিটেডের নামে গত বছরের ২ নভেম্বর বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলাটিও তদন্তাধীন।

অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা নিয়ে শঙ্কা

বৈশ্বিক সংকটে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য ক্রমেই কমছে। সংকট কাটছে না ডলারের। অপরদিকে কমছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। এছাড়া অব্যাহত আছে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি। ফলে ভারাসাম্যহীন হয়ে পড়ছে বাণিজ্য ঘাটতি।

পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংকটে-মূল্যস্ফীতির চাপে পড়েছে নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সামনে ধেয়ে আসছে আরও মূল্যস্ফীতির ধাক্কা। কারণ সরকারের পক্ষ থেকে আভাস দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির। সর্বশেষ এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনার চতুর্থ ঢেউ, যা বাড়লে নষ্ট হবে সামষ্টিক অর্থনীতির গতিশীলতা।

উল্লিখিত সংকট ও নানামুখী চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ (শুক্রবার) শুরু হলো নতুন অর্থবছরের (২০২২-২৩) যাত্রা। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়, নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিবর্গ ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে আগামী বছরটি পার করতে হবে। এ সময়ে অনেক কিছুর ওঠানামা থাকবে।

নানাবিধ সংকটের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বলেছেন, শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের কথা। বুধবার সংসদে অর্থবিল উত্থাপনের সময় বলেছেন, এটি সবাই স্বীকার করেন যে, অর্থনৈতিক এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে না। আজকে যদি স্বাভাবিক সময় হতো, তাহলে যেসব সংশোধনের প্রস্তাব আমাদের কাছে আসছে সেখান থেকে অনেক সংশোধনী গ্রহণ করতে পারতাম। কিন্তু আমি আগেই বলেছি সময়টি এখন স্বাভাবিক নয়।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, দুটি সমস্যা আছে। এক ডলার সংকট, দ্বিতীয় মূল্যস্ফীতি। শুধু আন্তর্জাতিক কারণে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে এটি ঠিক নয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতিতে অবদান রাখছে। এর মধ্যে নতুন বাজেট সম্প্রসারণমূলক। ফলে বর্তমান মূল্যস্ফীতি ৭.৪ শতাংশ বিরাজ করলে আগামীতে আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা মন্ত্রীরা বিভিন্ন স্থানে বলছেন। সেগুলো বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে। অপর দিকে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেই। যেসব কর্মসূচির মাধ্যমে গরিব মানুষের কাছে পৌঁছানো যাবে বিশেষ করে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বৃত্তি এসব কর্মসূচির আওতা ও ভাতা কোনোটি বাড়ানো হয়নি।

এ অর্থবছরেও চলমান সংকটগুলো বিদ্যমান থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউক্রেন ও রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ কবে থামবে সেটি নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছে না। ফলে জ্বালানি তেল ও সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার বিষয়টি প্রায় অনিশ্চিত।

গত অর্থবছরে মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে অতিরিক্ত ৮২০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় ৭৬ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। আগামীতেও এই ব্যয় অব্যাহত থাকবে। আর এসব পণ্য ভর্তুকিতে চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) ৮২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এটি এক লাখ কোটি টাকা পৌঁছাতে পারে বলে অর্থ বিভাগ আশঙ্কা করছে। ফলে বড় অঙ্কের বর্ধিত ভর্তুকির টাকা সংস্থান করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ডলার সংকট কাটছে না। বিপরীতে টাকার মূল্য কমছে। বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের প্রধান শক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে না। বৈশ্বিক সংকট না কাটা পর্যন্ত নতুন অর্থবছরেও এ পরিস্থিতি বিরাজমান থাকবে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশরে মধ্যে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়েই নতুন অর্থবছরের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে নতুন বাজেটে এ উদ্যোগ নেই বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

তাদের মতে, চলতি বাজেটের (২০২২-২৩) আকার টাকার অঙ্কে বেড়েছে ২০ শতাংশ। এই টাকা বাজারে আসবে। ফলে সম্প্রসারণ মূলক বাজেট মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

এ বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এটি আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ এরই মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে করোনার চতুর্থ ঢেউ। এ ঢেউ বিগত সময়ের মতো ছড়িয়ে পড়লে অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি আবারও থমকে যাবে।

যদিও অর্থ বিভাগ বলছে রাজস্ব বাড়াতে নজর দেওয়া হবে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় কর সংগ্রহে। এ ছাড়া বাড়ানো হবে ভ্যাট ও আয় করের নেট। বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা হবে। দেশে চার কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত। যার অধিকাংশই আয়কর দিচ্ছে না। করযোগ্য আয়ধারী সবাইকে কর জালের আওতায় আনা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় নতুন অর্থবছরে টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ সাধনের নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে। যা খুব শিগগিরই ঘোষণা দেওয়া হবে। আমদানিনির্ভর ও কম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যয় বন্ধ রাখা হবে। নিম্ন অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন গতি হ্রাস করা হবে। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তার অর্থ ব্যবহার এবং উচ্চ-অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার তাগিদ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ এমকে মুজেরি যুগান্তরকে জানান, অর্থনীতি স্থিতিশীলতার জন্য দুটি বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া। মূল্যস্ফীতি বেশি হলে সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে একে সংযত রাখার জন্য দৃষ্টি দিতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে-বহির্খাত (আমদানি-রপ্তানি)। এখন সেখানে অস্থিরতা চলছে।

আমদানি ও রপ্তানির মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। কার্ব মার্কেট ও ব্যাংকের মধ্যে ডলারের দামের পার্থক্য বেশি, এটি কমিয়ে আনতে হবে। না হলে অবৈধপথে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো বেড়ে যাবে। মনে রাখতে হবে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের শক্তিশালী উৎস রেমিট্যান্স। অনেক শ্রমিক বিদেশে যাচ্ছে। কিন্তু বৈধপথে সে তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে না।