রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 237

মোবাইলে কথা বলার সময় ট্রেনে কাটা পড়লেন প্রকৌশলী

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারান জাবের খান (২৪) নামে এক প্রকৌশলী। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

শনিবার রাতে ঢাকা সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত জাবের খান কালিহাতী উপজেলার আইয়ুব খানের ছেলে।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পারে নির্মাণাধীন রেল লাইনের কাজ শেষে মোবাইলে কথা বলতে বলতে রেল লাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে পা হারানো গুরুতর আহত অবস্থায় তমা কনস্ট্রাকশনের সাইড প্রকৌশলী জাবের খানকে সাভার এনাম মেডিকেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা গেছেন।

শনিবার বিকেল ৬ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার বিয়ারামারুয়া এলাকায় জামালপুরগামী ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হন।

নিহত জাবের খান তমা কনস্ট্রাকশনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন।

রেললাইনের কর্মীরা জানান, প্রকৌশলী জাবের খান বিকালে নির্মাণাধীন নতুন রেললাইনের কাজ শেষে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরগামী ধলেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিয়ারামারুয়া এলাকায় পৌঁছালে জাবেরকে ধাক্কা দেয়।

এতে তার পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকা সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাকলাইন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

ইসরাইলের পানিসীমায় ৩ ড্রোন পাঠাল হিজবুল্লাহ

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা দেশটির উপকূলীয় ‘কারিশ’ গ্যাস ক্ষেত্রের দিকে তিনটি ড্রোন পাঠিয়েছে।

এর মাধ্যমে ইসরাইলকে প্রয়োজনীয় বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। খবর টাইমস অব ইসরাইলের।

লেবাননের পানিসীমায় অবস্থিত ওই গ্যাস ক্ষেত্রের ওপর নিজের মালিকানা দাবি করছে ইসরাইল।

হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, শনিবার বিতর্কিত কারিশ গ্যাসক্ষেত্র অভিমুখে বিভিন্ন আকৃতির তিনটি ড্রোন পাঠানো হয়েছে।

গ্যাস ক্ষেত্রটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা ছিল এর উদ্দেশ্য। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিশন সফল হয়েছে এবং ইসরাইলকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু বাহিনীর’ তিনটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তেলআবিবের দাবি— ড্রোনগুলোকে ‘ইসরাইলের অর্থনৈতিক পানিসীমা’র আকাশে গুলি করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহ বলেছিল— লেবানন সরকার যদি নিশ্চিত করে এ কথা বলে যে, ইসরাইল সে দেশের পানিসীমা লঙ্ঘন করেছে, তা হলে এই প্রতিরোধ আন্দোলন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইসরাইল ওই পানিসীমায় খননকাজ করার জন্য একটি জাহাজ পাঠিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ ওই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল।

হিজবুল্লাহর উপমহাসচিব শেখ নায়িম কাসেম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, ইসরাইল বিতর্কিত পানিসীমায় জাহাজ পাঠিয়েছে বলে বৈরুত নিশ্চিত করলে তার সংগঠন উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তত রয়েছে।

বিহারে বজ্রপাতে ১০ জনের মৃত্যু

ভারতের বিহার রাজ্যে গত এক সপ্তাহে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু শনিবারই বজ্রপাতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ১০ জনের।

রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সারান জেলায় বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এছাড়া সিওয়ান, হাজিপুর, বাঁকা ও গোপালগঞ্জ জেলায় এক জন করে মারা গিয়েছেন। গত ২৪ জুন থেকে ১ জুলাইয়ের মধ্যে বিহারে বজ্রপাতে মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিহারের উত্তর-মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের একাধিক এলাকায় ভারি বৃষ্টি হয়েছে। বারাউনিতে বৃষ্টির পরিমাণ ৯৩.২ মিমি।

বীরপুরে বৃষ্টি হয়েছে ৬৮.৮ মিমি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বিহারে আরও বৃষ্টিপাত হবে। আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।

মুদ্রানীতি আরও উসকে দেবে মূল্যস্ফীতি

নতুন অর্থবছরের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি ও ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে খুব বেশি সহায়তা করবে না। বরং আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, এতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমলে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। এতে মানুষের আয় বাড়বে না। উলটো টাকার ক্ষয়জনিত কারণে মানুষ চাপে পড়বে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে আরও বাড়তে পারে।

ঘোষিত মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে মুদ্রানীতির বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাস্তবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উলটো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ঘোষিত মুদ্রানীতি গতানুগতিক। এখানে নতুন কিছু নেই। দায়সারা ভাবে একটা মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে হবে তাই করেছে। করোনার ক্ষতি মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়াটা ছিল জরুরি। কিভাবে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে তার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। খেলাপি ঋণ কমানোর পদক্ষেপ নেই। কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেই বরং বিভিন্ন সূচকের যে সব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তাতে ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত সুদের হার না বাড়িয়ে বাড়ানো হয়েছে নীতিনির্ধারণী বা রেপো সুদের হার। এতে ব্যাংকগুলো আরও বিপদে পড়বে। অর্থনীতিতে নানা সংকটের মধ্যে যখন ঋণ প্রবাহ আরও বাড়ানোর দরকার ছিল তখনও কমানো হলো। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারে না। এখন যে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে আমদানি ও পণ্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত। মূল্যস্ফীতি কমাতে পণ্য মূল্যের লাগাম টানতে হবে। সে ব্যাপারে মুদ্রানীতি ও বাজেটে কোনো পদক্ষেপ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বরং আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ আমদানি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালুর ঘোষণা দিয়েছেন গভর্নর। এতে অর্থের সরবরাহ আরও বাড়বে। সরকারের ঋণও বাড়বে। পাশাপাশি বিলাস জাতীয় দ্রব্য, বিদেশি ফল, অশস্য খাদ্যপণ্য, টিনজাত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ৭৫ থেকে ১০০ শতাংশ পর্র্যন্ত মার্জিন আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। উল্লিখিত সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। এতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার হিসাবে পরিচিত রেপোর সুদের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই নীতি সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে ব্যাংকগুলোকে এখন বেশি সুদ দিতে হবে। যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আংশিক কাজ দেবে। তবে এর প্রভাবে ঋণের প্রবাহ বেশি কমে গেলে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়ে পণ্যের সরবরাহজনিত সংকটের কারণে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর দিকে তাকালে মনে হচ্ছে তারা মুদ্রানীতির পরিবর্তে শিল্পনীতি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেওয়ার কথা মুদ্রানীতি। দিয়েছে শিল্পনীতি। শিল্পনীতি দেবে সরকার বা সরকারের পক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার কে ঠিক করছে-তা আজও স্পষ্ট নয়। এখানে স্বচ্ছতা দরকার। যেভাবে টাকার মান নির্দেশ দিয়ে কমানো হচ্ছে। এতে বাজারের প্রকৃত প্রতিফলন হচ্ছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই মুদ্রানীতি ব্যাংকের কোনো কাজে আসবে না। কারণ মূল জায়গায় হাত দেওয়া হয়নি। বরং করেছে উলটো। ব্যাংক ঋণের সুদহার না বাড়িয়ে বাড়িয়েছে নীতি সুদহার। এর কোনো অর্থ হয় না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, দুই হাত বেঁধে সাঁতার কাটতে দিলে যেমন সাঁতার কাটা যায় না, তেমনি মূল সুদ না বাড়িয়ে নীতি সুদ হার বাড়ানোর ফলে কোনো কাজ হবে না। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান-কিছুই হবে না। যেমন আছে তেমনই থাকবে। কোনো পরিবর্তন হবে না। অথচ এই সময়ে দরকার ছিল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পদক্ষেপ। যা মুদ্রানীতিতে নেই।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, করোনার পর ব্যবসা-বাণিজ্য এখনও পুরো মাত্রায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এখনও নানা সংকটে ঘুরছে। এই অবস্থায় তাদের সহায়তা করার মতো একটা মুদ্রানীতি দরকার ছিল। কিন্তু মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আবার নীতি সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোও বাধ্য হবে ঋণের সুদের হার বাড়াতে। ঋণের সুদের হার বাড়লে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণের জন্য পণ্যমূল্য কমাতে তদারকি জোরদার ও আমদানির বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে হয়তো এককভাবে এদিকে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি ছিল। তবে এখনও সময় আছে।

দেশে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নয়

ডলার সাশ্রয় করে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে দেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত বেশি কার্যকর হবে।

এ ছাড়া দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী যেসব পণ্য স্থানীয় উৎপাদিত হয় সেগুলোর আমদানিও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একই কারণে বাণিজ্যিকভাবে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় প্রায় বন্ধ রেখেছে।

সূত্র জানায়, রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে পণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন বাড়ানো হয়েছে। বিলাসী পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু এতেও পণ্যের আমদানি ব্যয় কমেনি। বরং বেড়েই চলেছে। তবে বিলাসী পণ্যের এলসি খোলা কিছুটা কমেছে। এগুলোর আমদানি আরও কমাতে এলসি মার্জিনের হার বাড়িয়ে শতভাগ করা হচ্ছে।

বৈদেশিক সহায়তার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ের শর্ত অনুযায়ী বিদেশ থেকে কিছু পণ্য আমদানি করতে হয়। অথচ ওইসব পণ্য দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। দেশি পণ্য ব্যবহার না করে বিদেশ থেকে এনে ব্যবহারের ফলে দেশি পণ্য মার খাচ্ছে।

অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। কাজেই বিদেশি সহায়তানির্ভর যে প্রকল্পে দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানির শর্ত রয়েছে-সেগুলো বাস্তবায়নে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তবে যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয় না, কেবল সেগুলো আমদানিতে কোনো বাধা নেই।

নতুন করে যেসব বৈদেশিক সহায়তানির্ভর প্রকল্প নেওয়া হবে সেগুলোতে দেশে উৎপাদিত হলে ওই পণ্য ব্যবহারের সুযোগ রেখে বিদেশ থেকে একই পণ্য আমদানির শর্ত পরিহার করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ডলার সংকটের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতেই এমন পদক্ষেপ।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে আমদানির বিকল্প পণ্য দেশে উৎপাদনের জন্য কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মসলাজাতীয় পণ্য, তৈলবীজ, দুধ, কৃষি পণ্য উৎপাদনে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এসব খাতে সহজে ও কম সুদে ঋণ দিতে একটি বিশেষ তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির বিপরীতে সরকার থেকেও বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, রিজার্ভ সাশ্রয় করতে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এগুলো সবই সাময়িক। তবে আমদানির বিকল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণের জোগান বাড়ানো হয়েছে। আরও বাড়ানো হবে। এ জন্য একটি বিশেষ তহবিলও গঠন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, প্রতি বছর অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে ৯৭০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে যা মোট আমদানি ব্যয়ের ৪৭ শতাংশ। আমদানির ৫৩ শতাংশই ব্যয় হয় শিল্প খাতে। ১২ শতাংশ ব্যয় খাদ্যপণ্য আমদানিতে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। সম্পদের বণ্টনে বৈষম্যের কারণে একটি বড় ধনিক শ্রেণিও তৈরি হয়েছে। ফলে বিলাসী পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এগুলোর আমদানি স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। কৃষি ও শিল্প খাতের অনেক পণ্য দেশে উৎপাদন হচ্ছে। এগুলোর ব্যবহার বাড়ালে ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব। কোনো পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলেই আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি ঠিক নয়। বাজারে ওই পণ্যের চাহিদা, সরবরাহ ও উৎপাদন ঠিক থাকলে আমদানি না করে বাজার তদারকি করেও দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে ডলার সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশে উৎপাদন সম্ভব এমন পণ্য প্রতি বছর আমদানি হয় ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। ৩০০ কোটি ডলারের বেশি শুধু বিলাসী পণ্য আমদানি হয়। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৬৮১ কোটি ডলারের ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে চাল ও গম ১৮১ কোটি ডলার, চিনি ও লবণ ৭৫ কোটি ডলার, দুধ ৩২ কোটি ডলার, ডাল ২৬ কোটি ডলার, পেঁয়াজ ১৬ কোটি ডলার, মসলা ৪০ কোটি ডলার, অন্যান্য পণ্য ১৫৭ কোটি ডলারের আমদানি হচ্ছে।

এসব পণ্য দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে পাম ও সয়াবিনের চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভোজ্যতেল আমদানি কমানো সম্ভব হবে। পরিশোধিত ভোজ্যতেল ৯৩ কোটি এবং অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি হচ্ছে ৫১ কেটি ডলারের। অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের চেয়ে পরিশোধিত তেলর দাম ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি। ফলে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি করে দেশীয় কোম্পানিতে পরিশোধ করে বাজারজাত করলে অর্ধেক অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশে তেলবীজ উৎপাদন বাড়িয়ে এ আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের বীজ আমদানি হচ্ছে ৬৬ কোটি ডলারের। এ খাতেও আমদানি কমানো সম্ভব।

প্রতি বছর গড়ে বিভিন্ন ফল আমদানি হয় ৪৮ কোটি ডলারের। এর বিকল্প হিসাবে দেশে ফলের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্পের মধ্যবর্তী কাঁচামালের মধ্যে ১৭ কোটি ডলারের সিমেন্ট আমদানি হচ্ছে। অথচ দেশেই চাহিদার চেয়ে বেশি সিমেন্ট উৎপাদন হচ্ছে। একই সঙ্গে রপ্তানিও হচ্ছে। পেপার ও পেপার বোর্ড দেশে উৎপাদন হচ্ছে। অথচ বছরে আমদানি হচ্ছে ২৪ কোটি ডলারের। এগুলোও আমদানি কমানো সম্ভব। দেড় কোটি ডলারের ডিজেল ইঞ্জিন আমদানি হচ্ছে। এগুলোও দেশে তৈরি সম্ভব।

দেশে টাইলসের বাজার স্বয়ংসম্পূর্ণ। বৈদ্যুতিক তার, কাঠ, সিমেন্ট, রড, এসব চাহিদা অনুযায়ী দেশে পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও বিদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫৬০ কোটি ডলার এসব পণ্য আমদানি হয়। এর মধ্যে সিরামিক টাইলস আমদানি করা হয় ৮৭ কোটি ডলারের। অথচ দেশের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি বছর বিদেশে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের সিরামিক টাইলস রপ্তানি হচ্ছে। একইভাবে বিদেশ থেকে প্রতি বছর ৫৮ কোটি ডলারের সিরামিক পণ্য আমদানি করা হচ্ছে। অথচ দেশে উৎপাদিত সিরামিক সামগ্রী প্রতি বছর ৮২ কোটি ডলারের রপ্তানি করা হচ্ছে।

এর বাইরে সরকার খাদ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিভিন্ন সময় চাল, ডাল, গম, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে থাকে। এ খাতেও বাড়তি ডলার ব্যয় হচ্ছে। দেশে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় তদারকি করে এ খাতেও আমদানি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিলাসী পণ্যের মধ্যে বছরে গড়ে চার কোটি ডলারের পশুপাখি, ৮১ লাখ ডলারের পশুপাখির উপকরণ, ছয় কোটি ডলারের মাছ, ৩৩ কোটি ডলারের দুধ, ডিম ও মধু, ৫৫ লাখ ডলারের সবজি, কফি, চা ও মসলা আমদানি হয় ৪০ কোটি ডলারের, দুই কোটি ডলারের বাদাম, ১৭ লাখ ডলারের জুতা, ফার্নিচার ৯০ লাখ ডলারের, ছাতা আমদানি হয় ৩৭ লাখ ডলারের।

‘বিএনপির হারুনের অনুরোধে সংসদে আরেকটি গান গেয়েছিলেন মমতাজ’

পদ্মা সেতু নিয়ে সংসদে মমতাজের গান সম্পর্কে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘রিজভী হয়ত জানেন না, বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা হারুনুর রশীদের অনুরোধে মমতাজ আরেকটি গান গেয়েছিলেন।’

শনিবার দুপুরে মন্ত্রী তার চট্টগ্রাম নগরীর বাসায় সাংবাদিকদের একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ায় সারা দেশের মানুষ যখন উল্লসিত, তখন বিএনপি খেই হারিয়ে ফেলেছে। বিএনপি এবং পদ্মা সেতু নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাদের যখন মানুষ ধিক্কার দিচ্ছে, তখন তারা খেই হারিয়ে নানা ধরনের উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে।’

‘সরকার পদ্মা সেতু নিয়ে সংসদে গান করছে। এটার পরিবর্তে বন্যায় দুর্গত মানুষের সহায়তায় যেন আওয়ামী লীগ ঝাঁপিয়ে পড়ে’- রিজভীর এমন বক্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর রিজভী সাহেব কয়েক দিন নিখোঁজ ছিলেন, হঠাৎ বের হয়ে তিনি এখন নানা ধরনের কথা বলছেন।’

সংসদে মমতাজের গান গাওয়া প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদে এমপি মমতাজ যখন বক্তব্য শেষ করতে যাচ্ছিলেন, তখন বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা হারুনুর রশীদ আরেকটি গান গাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন মমতাজকে। তার অনুরোধে মমতাজ আরেকটি গান গেয়েছিলেন। সেটি মনে হয় রিজভী সাহেব জানেন না।’

যুবলীগের দোয়া মাহফিল ও বস্ত্র বিতরণ

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মোনাজাত ও অসহায়, দুস্থ প্রতিবন্ধীদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার বাদ আসর সুত্রাপুরস্থ পুরান ঢাকার শিংটোলা জামে মসজিদে দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবুর উদ্যোগে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত শেষে তোবারক বিতরণ করা হয়।

দোয়া ও মুনাজাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ও ১৯৭১ সালের নিহত সকল শহীদ এবং শেখ ফজলে শামস পরশের পিতা শেখ ফজলুল হক মণি ও মা আরজু মণির রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

দোয়া ও মোনাজাত পূর্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু বলেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ একজন মানবিক গুণাবলি অধিকারী। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার। পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। নিজস্ব গুণাবলির মধ্যদিয়ে তিনি আজ সংগঠনকে আলোকিত করে তুলেছেন।

তিনি আরও বলেন, তিনি যুবলীগের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের যে কোনো সংকটে বিশেষ করে করোনাকালীন সময়সহ সর্বশেষ বন্যায় বিপর্যস্ত অসহায় মানুষের পাশে তার নেতৃত্বে যুবলীগ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি যুবলীগকে মানবিক যুবলীগে রূপান্তরিত করেছেন। আদর্শ ও স্বচ্ছতায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এক অনন্য উদাহরণ।

রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে আরও উন্নত করতে চাই: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে খাদ্য নিরাপত্তা একসময় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বর্তমান সরকারের আমলে খাদ্য নিরাপত্তায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দুর্যোগেও দেশে এখন খাদ্য সংকট হয় না।

শনিবার সকালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ ভবনে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি অনেক উন্নত হয়েছে, এটিকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে না পারলে এটি সম্ভব হবে না। কোনো ফসলের উৎপাদন একটু বাড়লেই কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পায় না। সেজন্য আমরা কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কাজ করছি। রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিরসনে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে নেদারল্যান্ডস শীর্ষস্থানীয় দেশ, বর্তমানে দ্বিতীয় অবস্থানে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে (গ্রিন হাউস, বিরূপ পরিবেশে) ফসল উৎপাদনে বিশ্বের উদাহরণ। নেদারল্যান্ডসের এ অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিকে আমরা কাজে লাগাতে কাজ করছি।

সভায় প্রবাসী ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য আনার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তুলে ধরেন।

কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের বৈঠক

নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশ ভবনে ওয়াগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চের প্রেসিডেন্ট ড. সজুকজে হেইমোভারারের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি উন্নতির বিষয়ে আলোচনা করেন।

ওয়াগেনিংগেন বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ কৃষি গবেষনা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কৃষিপণ্যের জাত উন্নয়ন ও উন্নততর কৃষি-প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে নিয়মিতভাবে প্রায়োগিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কৃষিমন্ত্রী ড. সুকেকে ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের কৃষি ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ও গবাষণালব্ধ ফলাফল প্রয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন শস্য ও পন্যের উৎপাদন বৃদ্ধি,বহুমুখীকরণ, কৃষিজাত পন্য সংরক্ষণ ও আধুনিক উপায়ে বাজারজাত করণ ও জলবায়ু পরিবর্তন জনিত অভিযোজন সংক্রান্ত প্রয়োগিক গবেষণার বিষয়ে আলোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে কৃষি ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন শস্য ও শাক-সবজি উৎপাদনের বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় চলে এসেছে।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলাদেশের কৃষি গবেষণামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণামূলক প্রকল্প চালুকরনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। ওয়াগেনিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

কৃষিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ ডেল্টা প্লানের কৃষি ক্ষেত্রকে বৃহত্তর অবস্থানে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, মো. রুহুল আমিন তালুকদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আজও মনে পড়ে

বাবা আমার বলতেন প্রায় দেশে থাকিতে
রাস্তাঘাটে চলাফেরায় বিপদ যদি আসে
রিপোর্ট করবে সাথে সাথে পুলিশের কাছে।

বহু বছর পরে
হঠাৎ একদিন পড়েছিলাম সত্যি বিপদে।
কি করি? কাকে বলি? ভাবছি আমি বসে,
পড়ল মনে হঠাৎ তখন বাবার কথা শেষে।

সরাসরি চলে গেলাম ওসি বাবুর কাছে,
বলতে কথা ধরে মোরে ঢুকালো হাজতে।
অপরাধটি কী আমার জানতে যখন চাই?
পঞ্চাশ হাজার না দিলে কোন কথা নাই।

টাকা আমি কোথায় পাবো?
থাকিনে এই দেশে।
বলে বেটা ডলার পাউন্ড দেন যা কিছু আছে।
বুঝলে কেমনে আমার কাছে ডলার পাউন্ড আছে?
এত কথা বলার সময় নেই আমার কাছে,
আজান দিছে মসজিদে নামাজে ডাকতিছে।

বেশ কিছুক্ষণ এমন করে চলিতে লাগিল।
পুলিশের এক কর্মকর্তা আসিয়া বলিল,
বড় স্যারে কল করিছে আসেন আমার সাথে।

সন্ধ্যা এখন রাত হয়েছে, পেটে বড় খিদে,
থাকতে হবে জেলে আজ পড়েছি বিপদে।

এসপি সাহেব ক্ষমা চেয়ে বসিতে বলিল,
সঙ্গে সঙ্গে ওসিকেও তলব করিল।
মাথায় আমার প্রশ্ন তখন ঘুরপাক করিল,
ঘটনার আগাগোড়া কি করে জানিল?
আমাকেই বা কী করে সকলে চিনিলো?

ওসি সাহেব এসেই তখন হাতজোড় করিল।
এরই মাঝে হোটেলের ম্যানেজার আসিল,
যত্ন সহকারে তার হোটেলে নিয়ে গেল।
যা কিছু দরকার তার ব্যবস্থাও করিল।

হতভম্ব হয়ে গেলাম সবকিছু দেখিয়া,
বুঝিতে পারিলাম শেষে ঘটনা জানিয়া।

দেশ থেকে ফিরে আমি সুইডেনে এসে
বলেছিলাম ঘটনাটি বাবার পাশে বসে।

প্রথমে রেগে ছিলেন বাবা ঘটনা শুনিয়া,
ধীরে ধীরে শান্ত হলেন সব কিছু জানিয়া।
চোখ ভরা জলে বাবা আবেগের মাঝে
কেঁদেছিলেন কিছুক্ষণ আপ্লুত হয়ে।

গভীর ভালোবাসা দেশের প্রতি,
বেড়েছিল আরো বেশি দেখে সেই স্মৃতি।
সেদিনের সেই কথা আজও মনে জাগে,
ঘটেছিল ঘটনাটি বহু বছর আগে।

পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করিয়া,
ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ করিতে গিয়া,
বেঁচে থাকতে চাই আমরা জীবন ভরিয়া,
জীবনটি যদি আরও সুন্দর হতো
পুরনো স্মৃতিগুলোও মধুর লাগিত।