শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 229

ইমরান-টিনার ‘ইচ্ছে হলেই দিও’

একটুখানি সময়/ইচ্ছে হলেই দিও- এমন কথার গান নিয়ে ঈদের বিশেষ উপহার নিয়ে হাজির হলেন সময়ের সংগীত জুটি ইমরান মাহমুদুল ও টিনা রাসেল। গানটি লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি জুলফিকার রাসেল। আর সেটিতে সুর-সংগীত বসালেন ইমরান নিজেই; গাইলেন টিনা রাসেলের সঙ্গে।

গানটির গল্প ধরে একটি ভিডিও নির্মাণ করলেন চন্দন রায় চৌধুরী। তাতে মডেল হলেন শিল্পী দুজনই। ৫ জুলাই গানচিত্রটি ইউটিউবে উন্মুক্ত হয়েছে সাউন্ডটেকের ব্যানারে।

এ প্রসঙ্গে টিনা রাসেল বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ হয় আমার শেষ মৌলিক গান ‘কি সুন্দর করে বললে’। গানটি থেকে দারুণ সাড়া পাচ্ছি। সেই একই টিমের নতুন গান আসছে এবারের ঈদে। তবে এবারের গানটিতে সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছি ইমরানকেও।

ইমরান বলেন, জুলফিকার রাসেল ভাইয়ের লিরিক আমার অসম্ভব ভালো লাগে। আগেও বেশ কটি গান করেছি উনার কথায়। দারুণ অভিজ্ঞতা। এবার যুক্ত হলো টিনা। এটিও কথা প্রধান গান। চেষ্টা করেছি কথার গভীরতা ধরে সুর-সংগীত সাজাতে। টিনা গেয়েছে চমৎকার, আমিও চেষ্টা করেছি।

নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে নাসিরের হত্যাচেষ্টার মামলার আদেশ ১৮ জুলাই

ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে যে মামলার আবেদন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন করেছেন সে বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে ১৮ জুলাই।

ঢাকা বোট ক্লাবের ধর্ষণচেষ্টার যে ঘটনায় নাসির-অমি গ্রেফতার হয়েছিলেন একই ঘটনায় পাল্টা নায়িকার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান ওই ব্যবসায়ী।

ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজীব হাসান ব্যবসায়ী নাসিরের জবানবন্দি নিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী ১৮ জুলাই আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

মামলার আবেদনে পরীমনির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনেছেন নাসির। পরীমনির সঙ্গে তার সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে।

২০২১ সালের ৯ জুন রাতে বিরুলিয়ায় তুরাগ তীরে ঢাকা বোট ক্লাবে গিয়েছিলেন পরীমনি ও তার সঙ্গীরা। তা ধরেই এই ঘটনার সূত্রপাত।

সেদিন সেখানে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন বলে পরীমনি অভিযোগ তুললে তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ জুন ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পরীমনি সাভার থানায় মামলা করেন। ওইদিন বিকাল তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নাসির ও অমি এবং তিনজন নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় আসামিদের কাছ থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক মামলায় গত ১৫ জুন নাসির ও অমির সাতদিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দু’টি গাড়িতে করে তারা উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন। পথে অমি বলে বেড়িবাঁধের ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে।’

‘অমির কথামতো তারা সবাই রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকা বোট ক্লাবের সামনে গিয়ে গাড়ি দাঁড় করায়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলে। তখন ঢাকা বোট ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেয়। অমি ক্লাবের ভেতরে গিয়ে বলে এখানকার পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পার।’

এজাহারে পরীমনি আরও বলেন, ‘তখন আমার ছোট বোন বনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ও বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করে। টয়লেট থেকে বের হতেই এক নম্বর বিবাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমরা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলে অমিসহ এক নম্বর আসামি মদপানের জন্য জোর করেন। আমি মদপান করতে না চাইলে এক নম্বর আসামি জোর করে আমার মুখে মদের বোতল প্রবেশ করিয়ে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এতে আমি সামনের দাঁতে ও ঠোঁটে আঘাত পাই।’

‘এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে জখম করেন।’

এর আগে গত বছরের ১৩ জুন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে বিচার চান পরীমনি। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন।

নির্দোষ প্রমাণিত হলেন ব্লাটার ও প্লাতিনি

ফিফার সাবেক সভাপতি স্লেপ ব্লাটার ও সাবেক উয়েফা প্রেসিডেন্ট মিশেল প্লাতিনিকে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থেকে অব্যহতি দিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের একটি আদালত।

তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ থেকে তাদের খালাস দেওয়া হয়। শুক্রবার খালাসের রায় দেন আদালত।

সুইস প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ২০১১ সালে প্লাতিনিকে বেআইনিভাবে ২০ লাখ ইউরো প্রদান করেছিলেন স্লেপ ব্লাটার।

তবে ব্লাটার দাবি করেন ১৯৯৮-২০০২ সাল পর্যন্ত করা একটি কলসানটেসি কাজের মজুরি হিসেবে প্লাতিনিকে এ অর্থ দিয়েছিলেন তিনি।

প্রাথমিকভাবে গত নভেম্বরে তাদেরকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। পরে গত জুনে শুরু হয় বিচারকার্য।

দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের জেল বা জরিমানা হতে পারতো। শুরু থেকে অবশ্য কোনোরকম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন ব্লাটার ও প্লাতিনি।

সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণের শহর বেলিনজোনার ফেডারেল ক্রিমিনাল কোর্টের রায়ে ব্লাটার নির্দোষ প্রমাণিত হন।

অন্যদিকে কোনোরকম জালিয়াতির অভিযোগ থেকে খালাস পান প্লাতিনি।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের আদালত এমন রায় দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিফা। তারা জানিয়েছে, বিস্তারিত জানার পর তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে।

রায় শুনতে আদালতে প্রবেশ করার আগে ব্লাটার বলেন, আমি পুরো জীবনে নির্দোষ না। কিন্তু এ বিষয়টিতে আমি নির্দোষ।

তাছাড়া তিনি জানিয়েছে, তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং এ লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স

উন্মোচিত হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জার্সি, ব্যতিক্রম পেছনের দিকে

আসন্ন কাতার বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন করেছে আর্জেন্টিনা। শুক্রবার ৮ জুলাই দেশটির ফুটবল ফেডারেশন টুইটারে নতুন জার্সির ছবি প্রকাশ করেছে।

ছবিতে দেখা যায় অধিনায়ক লিওনেল মেসি বিশ্বকাপ জার্সি পড়ে আছেন। তার হাতে আছে কাতার বিশ্বকাপের বলও।

আর্জেন্টিনা ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে যে জার্সি পড়ে খেলেছিল তাদের নতুন জার্সিটা প্রায় একইরকম।

জার্সিটির সামনের ভাগে রয়েছে তিনটি আকাশী নীল স্টেপ। আর দুটি সাদা স্টেপ।

তবে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে পেছনের ভাগে। জার্সিটির পেছন দিকে সামনের মতো নীল রঙের তিনটি মোটা স্টেপ দেওয়ার বদলে রয়েছে দুটি স্টেপ। মাঝের মোটা আকাশী নীল স্টেপের বদলে অনেকটা আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে ডিজাইন করা হয়েছে।

বরাবরের মতো এবারো আর্জেন্টিনার জার্সির স্পন্সর হলো এডিডাস। তাদের চিরচেনা তিনটি লম্বা কালো স্টেপ দেওয়া হয়েছে কাঁধের ওপর। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও কাঁধের উপরিভাগ অংশে আড়াআড়ি তিনটি কালো স্টেপ ছিল।

এদিকে ২১ নভেম্বর থেকে কাতারে শুরু হবে বিশ্বকাপের নতুন আসর।

বিশ্বকাপে গ্রুপ সি-তে খেলবে আর্জেন্টিনা। এ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব, মেক্সিকো এবং পোল্যান্ড।

ইউএনও’র মোবাইল নম্বর ক্লোন করে টাকা দাবি

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বর ক্লোন করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের ফোন করে নানা প্রলোভনে টাকা দাবি করছে প্রতারক চক্র।

শুক্রবার দুপুর থেকে বিভিন্ন মানুষকে ইউএনও’র মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অর্থ আদায়ের চেষ্টাকালে বিষয়টি প্রকাশ হয়। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে ফেইসবুক আইডি থেকে সতর্কবার্তা পোস্ট করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর।

চান্দিনা ভোমরকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র মজুমদার জানান, আজ (শুক্রবার) বিকাল অনুমানিক ৩টায় ইউএনও’র সরকারি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে। ইউএনও’র ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাম দেই। এ সময় অপর প্রান্ত থেকে জানান, ‘আপনি কি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক?’ উত্তরে হ্যাঁ বলি। তখন তিনি জানান, ‘উপজেলায় পাঁচজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য ৫টি ল্যাপটপ এসেছে। তাদের মধ্যে আপনিও একজন। আপনি ৯ হাজার টাকা প্রদান করে ওই ল্যাপটপটি নিয়ে যেতে পারেন।’

যখন ওই টাকা বিকাশে প্রদান করতে বলেন, তখন বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে আমি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানটি অবহিত করি।

মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সেলিম প্রধান জানান, শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র মজুমদার বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি নম্বরটি নিশ্চিত হয়ে ইউএনওকে ফোন করি এবং ইউএনও সাহেবও জানিয়েছেন এমন আরও কয়েকজন নাকি এমন ফোন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া কেউ যদি আমার নম্বর থেকে এমন বিভ্রান্তিকর ফোন পেয়ে থাকেন, তাহলে তাদেরকে বলব তারা যেন আমাকে জানান।’

বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় ৩ কোটি ৯ লাখ

ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে বিপুল সংখ্যক যানবাহন পারাপার হচ্ছে। শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ঈদযাত্রায় ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ৪১ হাজার ৮১৭ টি যানবাহন পারাপার হয়। এর ফলে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৫০ টাকা।

বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে ১২-১৩ হাজার যানবাহন বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন সেতু পারাপার হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত সেতুর উপর দিয়ে উত্তরবঙ্গগামী ২৯ হাজার ৭২টি যানবাহন পারাপার হয়। আর এতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১২ হাজার ৮৭৮টি যানবাহন পারাপারে টোল আদায় হয়েছে এক কোটি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৫৫০ টাকা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ হাজার ৫৯টি যানবাহন পারাপার হয়। এর ফলে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৭শ টাকা। মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৪০৭টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। টোল আদায় করা হয়েছে দুই কোটি ৭২ লাখ ৩৩ হাজার ৫০ টাকা।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালু হওয়ার পর থেকে কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করে আসছে। বর্তমানে সেতুর টোল আদায় করছে কমিউটার সিস্টেম নেটওয়ার্ক (সিএনএস)।

ইউক্রেন যুদ্ধে যতটা শক্তি প্রয়োগ করেছে রাশিয়া

ইউক্রেনের ‘বিশেষ অভিযানে’ রাশিয়া খুব সামান্য শক্তিই প্রদর্শন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।

শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পশ্চিমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, মস্কো কোনো রাগঢাক ছাড়াই ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াকে পরাজিত করতে পশ্চিমাদের চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেন, একজনও ইউক্রেনীয় বেঁচে থাকা পর্যন্ত পশ্চিমারা আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে চায়। রাশিয়া তাদের স্বাগত জানায় মন্তব্যে করে তিনি বলেন, এটা কেবল ইউক্রেনীয়দের দুঃখ বাড়াবে।

পুতিন বলেন, আজকে আমরা শুনছি যুদ্ধক্ষেত্রে তারা আমাদের পরাজিত করতে চায়। এখানে আমরা যেটা বলতে পারি তা হলো- তারা চেষ্টা করে দেখুক।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার শক্তি অনেক বেশি। ইউক্রেনে ‘বিশেষ অভিযানে’ খুব সামান্য শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

প্রবৃত্তির দাসত্ব, লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষসহ মনের পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষা নিয়ে আবারও এসেছে ঈদুল আজহা।

শনিবার বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ত্যাগের মহিমায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব।

একইসঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোতেও আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করা হচ্ছে। শনিবার সকালে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, কাতার, ওমান, আমিরাত (ইউএই), অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সৌদির বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ (ক্রাউন প্রিন্স) মোহাম্মদ বিন সালমান ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

এদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা আমিরাতের জনগণ, আরব ও ইসলামিক দেশগুলোকে তাদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ঈদুল আজহা উপলক্ষে আরব ও ইসলামিক দেশের বাদশাহ, প্রেসিডেন্ট এবং আমিরদের অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

হিজরি বর্ষপঞ্জিতে শেষ মাস জিলহজের দশম দিনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহৎ উৎসব ঈদুল আজহা। মহান ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর মুসলিম উম্মাহর এই বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বাংলাদেশ উদযাপিত হবে আগামীকাল রবিবার। সূত্র: গালফ নিউজ ও খালিজ টাইমস।

নগদ ডলারের তীব্র সংকট, দাম বেড়ে ৯৮ টাকা

বাজারে নগদ ডলারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা বা অন্য কাজে ব্যাংকে নগদ ডলার পাওয়াই যাচ্ছে না। ফলে এর দামও বাড়ছে হু হু করে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিভিন্ন ব্যাংকে নগদ ডলার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৯৮ টাকা দরে। খোলাবাজারে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ৯৯ থেকে ১০০ টাকা দরে।

এক মাস আগেও নগদ ডলারের দাম বেড়ে ব্যাংকে ৯৮ টাকা উঠেছিল। খোলাবাজারে উঠেছিল ১০৪ টাকায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করায় ব্যাংকে নগদ ডলারের দাম ৯৪ টাকায় নেমে এসেছিল। খোলাবাজারেও এর দাম ৯৭ টাকায় নেমেছিল। কিন্তু গত ৩-৪ দিন ধরে নগদ ডলারের দাম বাড়তে শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে নগদ ডলারের বেশি চাহিদা থাকার কথা নয়। হজের সময় চাহিদা বাড়ে। কিন্তু হাজিরা ইতোমধ্যে সবাই চলে গেছেন। ফলে তাদের জন্য বাড়তি ডলারের প্রয়োজন নেই। ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করায় এ খাতেও নগদ ডলারের চাহিদা কম। সরকারি খাতে তো একেবারেই চাহিদা নেই। তবে ছুটির সময় ভারতে চিকিৎসা নিতে অনেকে যান। তাদের জন্য কিছু নগদ ডলারের চাহিদা রয়েছে। এর বাইরে বেশ কিছু ডলার পাচার হচ্ছে। এ কারণে নগদ ডলারের চাহিদা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাংকগুলো নগদ ডলার কিনছে ৯৪ থেকে ৯৬ টাকা দরে। বিক্রি করছে ৯৫ থেকে ৯৭ টাকা দরে। কোনো কোনো ব্যাংক বিক্রি করছে ৯৮ টাকা দরে। তবে নগদ ডলার ক্রয় বিক্রয় দরের মধ্যকার ব্যবধান এক টাকার মধ্যে রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই ব্যবধান এক টাকার মধ্যে থাকলেও খোলাবাজারে তা নেই। খোলাবাজারে প্রতি ডলার কেনা হচ্ছে ৯৬ থেকে ৯৭ টাকা করে। বিক্রি হচ্ছে ৯৯ থেকে ১০০ টাকা করে।

এদিকে ব্যাংকগুলো আমদানির দেনা পরিশোধের জন্য আগাম ডলার বিক্রির দামও বাড়িয়েছে। এক মাস মেয়াদি আগাম ডলার ৯৫ টাকা তিন মাস মেয়াদি আগাম ডলার ৯৬ টাকা ও ছয় মাস মেয়াদি আগাম ডলার ৯৮ টাকা দরে বিক্রি করছে।

ব্যাংকাররা জানান, আগাম ডলার বেচাকেনায় দাম ওই হারে বাড়ার ফলে অনেকেই প্রত্যাশা করছেন আগামী ছয় মাস পরে আমদানির জন্য ডলার কিনতে হবে ৯৮ টাকা করে। এতে বিশেষ করে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের কাছে ডলার ধরে রাখার প্রত্যাশা বাড়বে। তারা মনে করতে পারে ডলার ধরে রাখলেই দাম বেশি পাওয়া যাবে। এ কারণে আগাম ডলার বেচাকেনায় দাম বাড়ানোর প্রবণতা হ্রাস করা জরুরি।

তবে বেশির ভাগ ব্যাংকেই নগদ ডলার ৯৬ থেকে ৯৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানির জন্য প্রতি ডলার সব ব্যাংকেই ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ঈদের ছুটির সময় বিশ্বের ব্যাংকিং খাত খোলা। ওই সময়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক দেনা পরিশোধ করার শিডিউল রয়েছে। এ কারণে ছুটির দিনেও সাময়িক সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক বিভাগের ডিলিং রুম (যে রুমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন করা হয়) সাময়িক সময়ের জন্য খোলা থাকবে।

রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভে স্বস্তি

আসন্ন কুরবানির ঈদে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে আমদানিতেও কিছুটা লাগাম পড়েছে।

এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দেনা বাবদ ১৯৬ কোটি ডলার পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের উপরে রয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন একসঙ্গে বড় অঙ্কের ওই দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে আসবে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মে ও জুনের আকুর দেনা বাবদ ১৯৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। ওই দেনা পরিশোধের আগে রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ১৮৮ কোটি ডলার। ফলে আকুর দেনা পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪ হাজার কোটি ডলারের নিচে নামার কথা। কিন্তু জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ ১ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

ফলে রিজার্ভ বেড়ে ৪ হাজার ২৬২ কোটি ডলারে উঠে। আকুর দেনা পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৪ হাজার ৬৬ কোটি ডলার রয়েছে। এর মধ্যে আমদানির দেনা পরিশোধের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু ডলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে বিক্রি করেছে। গত অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির দেনা পরিশোধে মোট ৭৬২ কোটি ডলার বিক্রি করেছে।

সূত্র জানায়, রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশের মানি চেঞ্জারগুলো প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স নিয়ে সময়মতো তা ব্যাংকে জমা দিচ্ছেন না। ফলে রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে স্বস্তি বোধ করছেন না। এতে তারা হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠানোয় উৎসাহিত হচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বিলাসী পণ্যের আমদানিতে লাগাম পড়েছে। কিন্তু সার্বিকভাবে আমদানি ব্যয় কমছে না। বরং বেড়েই চলেছে। তবে আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের মে মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছিল ৭৪ শতাংশ। মে মাসে তা কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। জুলাই-এপ্রিলে আমদানি বেড়েছিল ৪৪ শতাংশ। মে মাসে তা ৩৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিলাসী পণ্য আমদানিতে শতভাগ মার্জিন আরোপ ও ঋণ বন্ধ করায় আগামী মাসে আমদানি আরও কমে যেতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। এতে করে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রিজার্ভ চাপে পড়তে পারে। কেননা আগামী মাস থেকে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ আরও কমবে।

এদিকে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির দেনা পরিশোধের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়িয়েছে। অন্যান্য আমদানির দেনার মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ফলে এসব দেনা পরিশোধের সময় এলে রিজার্ভে আরও চাপ বাড়বে। ওই চাপ মোকাবিলা করতেই এখন আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এজন্য আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছে।

আকুর সদস্য ৯টি দেশ বাকিতে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে। প্রতি দুই মাস পরপর দায়দেনা সমন্বয় করে। আকুর সদস্য দেশগুলো হচ্ছে-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ভুটান, ইরান, নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ। এর মধ্যে বাংলাদেশ আকুর সদস্য দেশগুলো থেকে প্রতি মাসেই রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি করে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতি দুই মাস পরপর দেনা শোধ করতে হয়।

বৃহস্পতিবার মে ও জুনের দেনা বাবদ ১৯৬ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। এর আগে মার্চ ও এপ্রিলের দেনা বাবদ ২২৪ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়। মার্চ-এপ্রিলের তুলনায় মে-জুনে আমদানি কমায় দেনা বাবদ ৩০ কোটি ডলার কম পরিশোধ করতে হয়েছে।