শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 200

আইএসও সনদ পেল বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড

 

ব্যবসায় পরিচালনার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার স্বীকৃতি হিসেবে আইএসও সনদ পেল দেশের স্বনামধন্য বিজ্ঞাপনী এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড। গুণগত মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন অর্গানাইজেশন ISO ৯০০১:২০১৫ সনদ অর্জন করলো।

সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার বাংলামটরের নাভানা জহুরা স্কয়ারে বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেডের অফিসে গ্রীণ ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের সিইও মো: রাকিবুল হাসান বর্ণমালার কর্মকর্তাদের হাতে আইএসও সনদটি হস্তান্তর করেন।

বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির এক ঝাঁক সৃষ্টিশীল মানুষের হাত ধরে দেশের বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে সফলতা পেয়েছে অনেক কোম্পানি।

বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, মিডিয়া বায়িং, ডিজাইন এন্ড প্রিন্টিং, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফার্ম হিসেবে তাদের অর্জিত সুনামের ধারাবাহিকতায় আন্তজার্তিক এই স্বীকৃতি আইএসও সনদ লাভ করেছে।

উল্লেখ্য, ১ মার্চ ২০১৩ সাল থেকে বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সকল প্রকার প্রচার-প্রচারণা ৩৬০ ডিগ্রি মার্কেটিং সহ বিজ্ঞাপনী সেবা প্রদান করে আসছে। সামনের দিনগুলোতেও মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বদ্ধ পরিকর বর্ণমালা কমিউনিকেশন লিমিটেড।

কোন মন্ত্রণালয় কত নম্বর পেল

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাস্তবায়নের গড় নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাওয়া নম্বরের গড় ৯২ দশমিক ০১ নম্বর, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৮৯ দশমিক ০১ নম্বর। সে হিসেবে এবার বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নের গড় হার ৩ নম্বর বেড়েছে।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০২১-২২ অর্থ-বছরের এপিএতে প্রাপ্ত নম্বর’ প্রকাশ করেছে। তালিকা অনুযায়ী, ৯৯ দশমিক ০৮ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২০২০-২১ অর্থ বছরে আইসিটি বিভাগ ৯৮ দশমিক ৬৬ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছিল। অন্যদিকে, ৭৬ দশমিক ৩২ নম্বর পেয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সবার শেষে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে এ অবস্থানে ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৬৫ দশমিক ৭৬ নম্বর পেয়ে ওই অর্থ বছরে তালিকার একেবারে নিচে স্থান হয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

৯৯ দশমিক ০৮ নম্বর পেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রথম, ৯৮ দশমিক ৯৩ নম্বর পেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ দ্বিতীয়, ৯৮ দশমিক ৫৩ নম্বর পেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তৃতীয়, ৯৭ দশমিক ৮৮ নম্বর পেয়ে অর্থ বিভাগ চতুর্থ, ৯৭ দশমিক ৯৬ নম্বর পেয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পঞ্চম, ৯৭ দশমিক ৭৫ নম্বর পেয়ে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ষষ্ঠ,
৯৭ দশমিক ৩৮ নম্বর পেয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সপ্তম, ৯৭ দশমিক ০৯ নম্বর পেয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় অষ্টম, ৯৫ দশমিক ৭১ নম্বর পেয়ে পরিকল্পনা বিভাগ নবম এবং ৯৫ দশমিক ৫২ নম্বর পেয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ দশম স্থান অর্জন করেছে।

অনান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অবস্থান

১১. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, ১২. খাদ্য মন্ত্রণালয়, ১৩.মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৪. বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, ১৫. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৬.সেতু বিভাগ, ১৭.ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৮. পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ১৯. নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ২০. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ২১. সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২২. জননিরাপত্তা বিভাগ, ২৩. স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ২৪. তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ২৫. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ২৬. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ২৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ, ২৮. শিল্প মন্ত্রণালয়, ২৯. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ,৩০. আইন ও বিচার বিভাগ, ৩১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ৩২. কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, ৩৩. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ৩৪. অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, ৩৫. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ৩৬. পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৩৭. ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, ৩৮. আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, ৩৯. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ৪০. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ৪১. স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ
৪২. রেলপথ মন্ত্রণালয়, ৪৩. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৪. ভূমি মন্ত্রণালয়, ৪৫. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ৪৬. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্ৰণালয়, ৪৭. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ৪৮. গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ৪৯. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ৫০. লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, ৫১. প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্ৰণালয় এবং ৫২. মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আগামী এক বছর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কী কাজ করবে, সেই কাজের একটি অঙ্গীকারনামা হচ্ছে এপিএ। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সচিব ও সচিবরা সই করেন। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো অধীন দপ্তরসংস্থাগুলোর সঙ্গে এপিএ করে থাকে।

অর্থবছর শেষ হওয়ার পর ওই বছরের চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো কতটুকু অর্জন করল তার মূল্যায়ন করা হয়। ১০০ নম্বরের সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়নটি করা হয়। এপিএ বাস্তবায়নে সেরা ১০টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্মাননা দেওয়া হয়ে থাকে। ২০১৪–১৫ অর্থবছর থেকে এপিএ চালু করা হয়েছিল।

 

অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতে সমতায় ফিরল পাকিস্তান

নিজেদের মাটিতে আগের তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই হেরেছিল স্বাগতিক পাকিস্তান। তবে রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতে ৭ ম্যাচ সিরিজে ২-২ এ সমতায় ফিরেছে বাবর আজমের দল। রবিবার পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে গিয়ে ১৬৩ রানে থামে ইংল্যান্ডের স্কোর। শেষ ১২ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৯ রানের, হাতে তখন ৩ উইকেট। কিন্তু পেসার হারিস রউফের বোলিংয়ে মামুলি এই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত ৪ বল আগেই ১৬৩ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। ফলে ৩ রানের অবিশ্বাস্য এক জয় পায় স্বাগতিকরা।

করাচির আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মোহাম্মদ নওয়াজ ও মোহাম্মদ হাসনাইনের বোলিং তোপে পড়ে সফরকারীরা। দলীয় ১৪ রানে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ইংলিশরা। তবে চতুর্থ উইকেটে বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুকের ৪৩ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ওঠে তারা। ডাকেট ২৪ বলে ৩৪ রান করে নওয়াজের শিকারে পরিণত হন। এরপর মঈন আলীকে সঙ্গে নিয়ে হ্যারি ব্রুক ৪৯ রানের আরও একটি ‍জুটি গড়েন। মঈন ২০ বলে ২৯ রান করে নওয়াজের শিকার হন।

এরপর ৮ নম্বরে নেমে লিয়াম ডসনের ১৭ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জয়ের দ্বারপ্রান্তেই ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু হারিস রউফের করা ১৯তম ওভারেই এলোমেলো হয়ে যায় ইংলিশদের জয়ের স্বপ্ন। পরপর দুই ডেলিভারিতে ডসন (৩৪) ও অলি স্টোন (০) ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পাকিস্তান। শেষ ৬ বলে ইংল্যান্ডে দরকার ৪ রান, হাতে ১ উইকেট। কিন্তু মোহাম্মদ ওয়াসিমের দ্বিতীয় বলে রেইস টপলে রান আউট হলে ৪ বল আগেই ম্যাচ জিতে যায় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে হারিস রউস ৩২ রানে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। মোহাম্মদ নওয়াজও ৩৫ রানে নেন ৩টি উইকেট। এ ছাড়া হাসনাইন ২টি এবং ওয়াসিম নেন ১টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দারুণ শুরু করে পাকিস্তানের দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। ওপেনিংয়ে ৯৭ রানের জুটি গড়ে আউট হন বাবর আজম (৩৬)। ২৮ বলে ৩ চারে নিজের ইনিংসটি সাজান পাকিস্তানের অধিনায়ক। তবে রিজওয়ান ৬৭ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৮৮ রানে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন রিজওয়ান। এ ছাড়া শান মাসুদের ২১ ও আসিফ আলি অপরাজিত ১৩ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। ইলিংশ বোলারদের মধ্যে রেইস টপলে নেন সর্বোচ্চ ২টি উইকেট। ১টি করে উইকেট নেন লিয়াম ডসন এবং ডেভিড উইলি।

 

সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ৯২ বার

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ৯২ বারের মতো পিছিয়েছে। এর জন্য পরবর্তী তারিখ আগামী ৩১ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা র‍্যাব প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী নতুন তারিখ ঠিক করেন।

এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আসামি আটজন। অপর আসামিরা হলেন: বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর ও আবু সাঈদ।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।

দুমাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। সেই থেকে প্রায় ১০ বছর পেরিয়েছে; কিন্তু এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।

 

সাজেদা চৌধুরীর আসনে ৫ নভেম্বর ভোট

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভায় এ তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১০ অক্টোবর, বাছাই ১২ অক্টোবর ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার ১৯ অক্টোবর। এ উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ইভিএমে। ফরিদপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই আসনটি শূন্য হয়।

 

লেবু চাষ করে বুলবুলের বাজিমাত

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বুলবুল আহমদ। সম্প্রতি লেবু চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন তিনি। গত পৌরসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে চায়না লেবু চাষ শুরু করেন। এখন লেবু থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন তিনি। তাঁকে দেখে অনেকেই লেবু চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিংগা গ্রামের লেবুচাষি বুলবুল আহমদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার সাধারণ জনগণের সেবা করেছেন তিনি। গত পৌর নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। ইতিমধ্যে তিনি মাঠের জমিতে ধান, গরুর খামার, গরুর খাবারের জন্য ঘাস এবং চায়না লেবুর চাষ করেছেন।

এ বছর তাঁর ওই জমিতে রোপণ করা তিন শতাধিক লেবুগাছে প্রচুর ফল এসেছে। একদিন পরপর এক থেকে দেড় হাজার লেবু তুলে লোহাগড়া বাজারে তিন থেকে চার হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে মাসে তাঁর ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি হয়। সরেজমিনে পৌরসভার সিংগা গ্রামে লেবুখেতে গিয়ে দেখা গেছে, উঁচু একটি জমিতে সারিবদ্ধভাবে লেবুগাছ লাগানো হয়েছে। চারপাশ দিয়ে নেটজাল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। খেতের পাশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছ লাগানো হয়েছে। বুলবুল নিজেসহ কিষানিরা গাছের চারপাশ দিয়ে বাঁশ দিয়ে বেঁধে উঁচু করে দিচ্ছেন এবং জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন।

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দোআঁশ মাটি লেবু চাষের জন্য উপযুক্ত। এই লেবুর রস বেশি। গাছে ফলের পরিমাণ বেশি। পোকামাকড়ের উপদ্রবও কম। কম সময়ে ও কম খরচে লেবু চাষ করা সম্ভব। গাছ যত বড় হবে, লেবু তত বেশি হবে। লেবুচাষি বুলবুল জানান, লেবুর খেতে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো সার-ওষুধ দিয়ে দেন। এ বছর লেবু বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় চার লাখ টাকা লাভ হবে। লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন ও রনজু মিয়া জানান, লেবুচাষি বুলবুল তাঁর লেবু খেতের জন্য অফিসে এসে পরামর্শ নেন। অফিস থেকে লোক গিয়ে খেত পরিদর্শন করে এবং তাঁকে পরামর্শ দেয়।

জাতীয় মুদ্রণ ব্যবসায়ী সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

আজ 20 অক্টোবর ’22 জাতীয় মুদ্রণ ব্যবসায়ী সমিতির প্রথম কাউন্সিল ঢাকায় একটি হোটেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব দেওয়ান মোঃ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ।

কাউন্সিল অধিবেশনে ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে জনাব দেওয়ান মোঃ ফজলুর রহমানকে সভাপতি ও
জনাব আসাদুল্লাহ টিটোকে সাধারণ সম্পাদক ও জনাব মোঃ মনিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আগামী দুই বছরের জন্য তেইশ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয় ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- সহসভাপতি জনাব মোঃ ওয়াহিদুর রহমান মিন্টু, সহসভাপতি জনাব মোঃরফিকুল ইসলাম ।
সহ সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি, সহসাধারণ সম্পাদক জনাব আশিস বনিক, সহসাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ মিজানুর রহমান ।

সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোঃ বাহাউদ্দিন সোহেল ।
অর্থ সম্পাদক জনাব সরোজিৎ কুমার সরকার, প্রচার সম্পাদক জনাব মোঃ বিল্টু দেওয়ান , আইন বিষয়ক সম্পাদক জনাব সারোয়ার হোসেন, ক্রিয়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক জনাব মোঃ মাসুদ আল মামুন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোঃ সুমন চোকদার , সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জনাব মোঃ আলিউল ইসলাম পারভেজ, সদস্য – এপোলো নাগ ঝন্টু, সজীব সরকার, উজ্জ্বল হোসেন, হামীম হাবিবুললাহ , মোফাজ্জল হায়দার চৌ. প্রমুখ।
আগামী দিনগুলোতে মুদ্রণ ব্যবসায় সকল বৈষম্য দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

দেওয়ান ফজলুর রহমান সভাপতি ও
আসাদুল্লাহ টিটো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

ঝিঙে চাষে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পথে চাষীরা

সবুজে মোড়ানো সম্ভাবনাময় বিলের বুকজুড়ে সাজানো ঝিঙে চাষ। এ অঞ্চলে দেখা যায় ঝিঙে গাছের সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে আছে ঝিঙে । সময়ের সাথে সাথে ‘পাহাড়ের পাশের জমিতে ঝিঙে চাষে অর্থনেতিক স্বচ্ছলতার পথে হাঁটছে চাষীরা। মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের চাষী শফিউল করিম বাণিজ্যিক ভাবে ঝিঙে চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন। তুলনা মূলক কম খরচে বেশি লাভ পাওয়ায় ঝিঙে চাষে ঝুঁকছেন তিনি। চাষযোগ্য জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে এসব ঝিঙে চাষ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে ঝিঙে চাষ হয়েছে। উপজেলার জনতাবাজার-গোরকঘাটা প্রধান সড়কের হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী নয়াপাড়া গ্রামের পশ্চিমে ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়ে। এই গ্রামীণ মেঠো পথের রাস্তার পাশে সারি সারি ঝিঙে গাছে ঝুলছে ঝিঙে । শফিউল করিম হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী নয়াপাড়া এলাকার মঞ্জুর আহমেদের পুত্র। ছোট-খাটো ও কৃষি কাজ করলে অভাব-অনটন পিছু ছাড় ছিলো না। দীর্ঘ দিন ধরে পান বরজের পাশপাশি জীবন-জীবিকার তাগিদে অবশেষে শুরু করেন ঝিঙে চাষ।
বাড়ির কয়েক কিলোমিটার দরুতে ¡ ৬০ হেক্টর জমিতে ঝিঙে চাষ করার মাধ্যমে শফিউল করিম বেকারত্ব জীবনের অবসান হয়। এখন সংসারে তাঁর ফিরে এসেছে আর্থিক সচ্ছলতা। আর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি তাঁর। এলাকায় এখন একজন সফল ঝিঙে চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে তিনি ঝিঙে চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন । তার ঝিঙে চাষ দেখতে বা পাইকারী দামে ঝিঙে ক্রয় করতে ছুটে আসছেন ব্যবসায়ীরা। নিয়মিত বেচা বিক্রি চলছে পুরোদমে। শফিউল করিম জানান, তিনি জমি বর্গা নিয়ে ঝিঙে চাষ শুরু করেছেন। বর্তমানে তার ঝিঙে চাষে ৬০ মণের মতো ঝিঙে রয়েছে। আরো রয়েছে জমিতে। মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঝিঙে চাষ করে লাভবান হচ্ছে চাষীরা। বড় মহেশখালী, হোয়ানক, শাপলাপুর, কুতুবজোম, কালারমারছড়া, মাতারবাড়ী সহ কয়েকটি ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর জমিতে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ মণ ঝিঙে তুলে বাজারজাত করছে চাষীরা। আমরা চাষীদের পরামর্শ সহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।

কল ড্রপ হলেই ক্ষতিপূরণ পাবেন গ্রাহক

কল ড্রপ হলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। এখন থেকে একই অপারেটরে কথা বলার সময় প্রথম কল ড্রপ হলেই গ্রাহক ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।
আজ সোমবার রাজধানীর রমনায় বিটিআরসি কার্যালয়ে কল ড্রপ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনলাইনে যুক্ত হয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ক্ষতিপূরণটাই গুরুত্বপূর্ণ না। গ্রাহক যেন নির্বিঘ্ন সেবা পায়, সে উদ্দেশ্যেই এই নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে। অপারেটররা যেন সেবার মান বাড়িয়ে ক্ষতিপূরণ থেকে রেহাই পান, বিটিআরসি সেটাই চাচ্ছে।’

বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ নতুন নির্দেশিকার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় বলা হয়, গ্রাহক এখন থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় কল ড্রপের ক্ষেত্রে প্রতিটি কল ড্রপের জন্য ৩০ সেকেন্ড এবং তৃতীয় থেকে সপ্তম কল ড্রপের বেলায় প্রতিটি কল ড্রপের জন্য ৪০ সেকেন্ড টকটাইম ফেরত পাবেন। ফেরত পাওয়া টকটাইম পরের দিন থেকে ব্যবহার করা যাবে এবং এই টকটাইম শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকের কোনো টাকা কাটা যাবে না। কল ড্রপের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে। কোনো অপারেটর চাইলে কল ড্রপ হওয়ার দিন থেকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে। কল ড্রপের ফেরত প্রাপ্ত টকটাইমের মেয়াদ হবে ১৫ দিন। বিটিআরসি বলেছে, ১০০ সেকেন্ড কল ড্রপের জন্য অপারেটররা ৩০৯ দশমিক ৪৪ সেকেন্ড ক্ষতিপূরণ দেবে।

যেকোনো অপারেটরের গ্রাহক এখন থেকে *১২১*৭৬৫# কোডের মাধ্যমে তার কল ড্রপের পরিমাণ জানতে পারবে। আগামী অক্টোবর থেকে এটা কার্যকর হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, গ্রামীণফোন ও রবি তৃতীয় থেকে সপ্তম কল ড্রপ পর্যন্ত গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে বাংলালিংক দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ কল ড্রপ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়।

বিটিআরসি তিনটি অপারেটর থেকে তথ্য নিয়ে কল ড্রপের পরিমাণ বিশ্লেষণ করেছে। গত মে মাসে বিভাগ অনুসারে গ্রামীণফোনের কল ড্রপের পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ, রবির ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং বাংলালিংকের শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ।

মে মাসের তথ্য দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ১ থেকে ৭ বার পর্যন্ত কল ড্রপের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি ৯৮ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং একবার কল ড্রপের পরিমাণ ৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ১ থেকে ৭ বার কল ড্রপ গ্রামীণফোনে সবচেয়ে বেশি এবং একবার কল ড্রপ বাংলালিংকে বেশি হয়।

কল ড্রপের বিষয়ে টেলিটকের কোনো তথ্য জানায়নি বিটিআরসি। তাদের কাছ থেকে পরে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, নতুন নির্দেশনা টেলিটকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারি এই অপারেটরদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি আছে। তাদের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য একটু সময় দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সক্ষমতার তুলনায় কিছু কিছু এলাকায় গ্রাহক বেশি হওয়ায় কল ড্রপ বেশি হচ্ছে উল্লেখ করে সেসব জায়গায় সক্ষমতা বাড়াতে অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিটিআরসি নতুন এই নির্দেশনা শুধু একই অপারেটরের মধ্যে কল ড্রপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিটিআরসি জানিয়েছে, অন্য অপারেটরে ভয়েস কলের ক্ষেত্রে তিনটি পক্ষ কাজ করে। কল ড্রপের জন্য কোন পক্ষ দায়ী, তা খুঁজে বের করে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিটিআরসি কাজ করছে।

বিটিআরসির সচিব মো. নূরুল হাফিজের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর, কমিশনার প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারাও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী হয়রানির অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবীতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে শ্লোগান দিতে থাকে। সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ক্লাস বর্জন করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-চাষাড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।

পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান ও পরিদর্শক (অপারেশন) হাবিবুর রহমানসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীদের বুঝিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতরের মাঠে নিয়ে যায়। পরে বেলা ২ টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের মাঠেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে এবং তার অপসারন দাবী করে।

এসময় কয়েজন শিক্ষার্থী উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে প্রধান শিক্ষক রফিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, রফিক স্যার যখন ক্লাসে যান তখনি কৌশলে আমাদের শরীরে হাত দেন। আমরা শ্রেণী কক্ষে পড়া দিতে না পারলে তিনি আমাদের ছবি তার মোবাইলে তুলে নিয়ে যেতেন। কখনো পড়া না পাড়লে তিনি আমাদের হাত দিয়ে শরীরে থাপ্পর দিতেন।

আমরা চাই না আমাদের আর কোনো বোন তার দ্বারা হয়রানীর শিকার হোক। তার মতো শিক্ষক আমরা এ বিদ্যালয়ে চাই না। আমরা তার পদত্যাগ চাই।

এসময় শিক্ষার্থীরা নাসিক ৪, ৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবীতে আমরা আন্দোলন করলে তিনি নাকি আমাদের পরীক্ষা দিতে দিবে না। তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এমন কথা কীভাবে বলেন? তিনি আমাদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন আমরা যেনো না করি।

এ বিষয়ে নাসিক ৪, ৫ ও৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম জানায়, আমি একজন মা এবং ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা আমারই মেয়ে। তাদেরকে হুমতি তো প্রশ্নই আসে না। আমি ছাত্রীদের বিক্ষোভের কথা শুনে ঘটনাস্থলে যাই। এবং তাদের অভিযোগ শুনে দুই দিন সময় চাই।

যাতে করে বিষয়টি নিয়ে সকলের সাথে কথা বলে সমাধান করা যায়। কিন্তু তারা আমার সেই কথা না রেখে রাস্তায় গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তখন আমি আর সেখানে না থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন চলে আসি মাসিক সভায় যোগদানের জন্য।

এদিকে সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের কেউ প্ররোচিত করে এই বিক্ষোভে বাধ্য করেছে। তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের করা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি জানান। প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, এসব ছাত্রীরা হচ্ছে কোমলমতি।

তারা এখনো ষড়যন্ত্র কি তা বুঝে না। তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে মিথ্যা বলানো হচ্ছে। দীর্ঘ দিন বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিল না। আমার যোগদান কেউ কেউ ভালো ভাবে নেয়নি। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, লেখা পড়ার মান বৃদ্ধিসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি অল্প সময়ের মধ্যে। আজকে আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করানো হচ্ছে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক। আমি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষিকার সাথে কথা বলে জানা গেছে অন্য তথ্য। সাবেক শরীর চর্চা বিষয়ক শিক্ষিকা সুমিতা নাথ, গানের শিক্ষিকা শাহীন চৌধুরী, ইংরেজী শিক্ষিকা ফরিদা আক্তার, সমাজ বিজ্ঞান শিক্ষিকা শাসচ্ছুন্নাহার শিলা উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, আমরা কখনো প্রধাণ শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের করা অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারিনি।

২০১৯ সালে রফিক স্যার এখানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর পরে করোনা কারণে প্রায় দুই বছর বিদ্যালয় বন্ধ ছিলো। গত বছরের শেষের দিকে যখন বিদ্যালয় চালু হয় তখন থেকে এখন পর্যন্ত রফিক স্যার আমাদের সাথে এমন কোন আচরণ করে নাই যাতে তার অন্য কোন উদ্দেশ্যর প্রকাশ পায়। তবে গত কয়েকদিন যাবৎ শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে। এবং আজকে হঠাৎ তারা শ্রেণী কক্ষ থেকে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।

এদিকে বেলা ২টায় বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা এ.এস.এম অফিসার আবু তালেব। তিনি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষিকা এবং এডহক কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত বিষয়টি জানেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমরা ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।

এই বিদ্যালয়ের দুজন খন্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন সোহেল ও বিল্লাল নামে। গত রবিবার তারা পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে চাকরি ছেড়ে দেয়। সেই শিক্ষকদের আবার ফেরত আনার জন্য ছাত্রীরা দাবী করেছে। আমরা পুরো বিষয়টিই তদন্ত করে দেখবো। এবং সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের একটি সুত্র জানায়, পদত্যাগী খণ্ডকালীন দুই শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের একটি চক্র প্রধান বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছে। অনেক অবৈধ সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয় গেছে চক্রটির। প্রদত্যাগী দুই শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যের ইন্দনে রাতারাতি ফেস্টুন বানিয়ে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।

তাদের বিরুদ্ধে এমনও অভিযোগ রয়েছে, তারা শিক্ষক দীর্ঘদিন থেকে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। এই প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে তারা পরীক্ষার আগেই প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের কাছে কৌশলে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিতেন।

এতে করে তার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতো। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করায় তাদের প্রাইভেট শিক্ষার্থী ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে।

প্রধান শিক্ষক যোগদান করার পর তিনি নিজেই এসব প্রশ্নপত্র তার নিয়ন্ত্রনে রেখে তৈরী করতেন। এরফলে ওই দুই শিক্ষকের প্রাইভেট শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছ্।

এসব নানাবিধ কারনেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের ফুঁসলিয়ে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে এ আন্দোলন করানো হয়।