একটি অসহায় পরিবারের লাগানো ১২০ ঝাড় ফলন্ত শিম গাছ শত্রুতা করে কেটে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার ক্ষতি করে দিয়েছে বলে শিম গাছের মালিক কেশবপুর উপজেলার হিজলডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল খালেক জানান। গত ২২ নভেম্বর সকালে নির্জনে হিজলডাঙ্গা-বাদুড়িয়া বিলের মধ্যে মঈনুলের মৎস্য ঘেরের ভেড়িতে রোপনকৃত ওই শিমগাছ কেটে দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান পাশ্ববর্ত্তি বাদুড়িয়া গ্রামের হবিবুর মোড়লের ছেলে শহিদুল ইসলাম শিম গাছের মালিক আব্দুল খালেকের একটি কোদাল চুরি করে নেয়। পরে ওই কোদাল দাবী করলে শহিদুল ইসলাম আব্দুল খালেককে মারপিট করে। এঘটনা এলাকাবাসীকে জানালে ওই শহিদুল শিম গাছ কেটে দেয় বলে আব্দুল খালেক জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে অভিযুক্ত শহিদুল জানায় আমি শিম গাছ কাটিনি। আমাদের জমি নিয়ে যাদের সাথে বিরোধ রয়েছে তারাই আমাকে দোষারোপ করতে একাজ করে থাকতে পারে বলেও শহিদুল জানায়।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ওঠামানার মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৫ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করে। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১৩৪৫ ও ২১৭৯ পয়েন্টে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।
এ সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ৬৩টির এবং অপরির্বতিত রয়েছে ১১২টি কোম্পানির শেয়ার। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানিগুলো-চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এ্যাডভেন্ট ফার্মা, পদ্মা লাইফ, বসুন্ধরা পেপার, জেনেক্স, নাভানা ফার্মা, অরিয়ন ফার্মা, ইস্টার্ন হাউজিং, জেএমআই হসপিটাল ও বিএসসি।
লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৫ পয়েন্ট। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আগের অবস্থান থেকে ৩ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর সূচকের গতি নিম্নমুখী দেখা যায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।
অপরদিকে লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৩৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করে। এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৬৬ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ সময়ের ৯টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮টি কোম্পানির দর। অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টি কোম্পানি শেয়ারের দর।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়ে দুর্নীতিবাজদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলেন। তবে রহস্যজনকভাবে দুদক তাকেই চাকরিচ্যুত করে। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়ে দুদক থেকে চাকরি হারাতে হয় তাকে। সেই শরীফের অনুসন্ধান সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।
কক্সবাজারের কয়েকটি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমে সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা ও একটি দালাল চক্রের রোষানলে পড়ে তদন্তে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা দুদকের সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিনকে প্রথমে বদলি এবং পরে চাকরিচ্যুত করা হয়। তদন্তে অভিযুক্তদের নাম না দেওয়ার জন্য চাপও দেয়া হয়েছিল শরীফকে। কিন্তু দুর্নীতির প্রমাণ থাকায় শরীফ তাতে সম্মত হয়নি। এক পর্যায়ে শরীফকে হত্যাসহ জীবন নাশের হুমকি দেন অভিযুক্তরা।
এদিকে দুদক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চাকরি হারানো পর তার পরিবর্তে পুনঃঅনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আকবরকে। দীর্রদিন পর একটি প্রকল্পের অনুসন্ধান শেষে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এ কর্মকর্তা। তাতে মিলেছে দুর্নীতির সত্যতা। দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, কক্সবাজারে সরকারের ৩ লাখ কোটি টাকার ৭২টি প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে জেলার পানি শোধনাগার প্রকল্পসহ তিনটিতে ভূমি অধিগ্রহণে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়েই অনুসন্ধান করছিলেন দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন। অনুসন্ধানে পৌর মেয়র, তার আত্মীয়-স্বজন, কয়েকজন আমলা, রাজনীতিকসহ অনেকের সম্পৃক্ততা পান তিনি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন চেয়ে দুদকের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন শরীফ। কিন্তু অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সেই প্রতিবেদন বাতিল করে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয় তখন।

এরপরই চাকরিচ্যুত হন শরীফ উদ্দিন। কক্সবাজারের ওই অনুসন্ধানে প্রভাবশালীদের অভিযুক্ত করার জেরেই দুদক কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল ওই সময়।
আরো জানা যায়, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজার পানি শোধনাগার প্রকল্পের দুর্নীতির পুনঃঅনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আলী আকবরকে। তিনি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কমিশনে।
ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে কক্সবাজার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সরওয়ার কামাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় কক্সবাজার পানি শোধনাগার প্রকল্পের জন্য বাঁকখালী নদীর উত্তর পাড়ে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা মূল্যের জমি বাছাই করেন। তিনি দায়িত্ব থেকে চলে যাওয়ার পর মেয়রের দায়িত্ব পান মুজিবুর রহমান। আগের বাছাই করা জমি বাদ দিয়ে বাঁকখালী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা দামের জমি বাছাই করেন মুজিবুর। সেটার বেশিরভাগই ছিল সরকারি রিসিভারে থাকা জমি। মেয়র কৌশলে জমি অধিগ্রহণের আগে রিসিভারকৃত জমির ১ দশমিক ৭২ একর তার স্ত্রী ও শ্যালকের নামে বক্তিগত জমিতে রূপান্তর করেন। এ কাজে মেয়রকে সহায়তা করেন কক্সবাজার সদরের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তারসহ আরও দুজন সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় যাদের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক, সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি), কক্সবাজার ভূমি অফিসের সাবেক কানুনগো বাচ্চু মনি চাকমা, সাবেক ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মিজবাহ উদ্দিন, কক্সবাজার সদরের সাবেক সহকারী কমিশনার রাশেদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমানে সিনিয়র সহকারী সচিব (সাময়িক বরখাস্ত) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নাজিম উদ্দিন, উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো বসন্ত কুমার চাকমা, ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদ ও আবুল হোছাইন, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সৈয়দ নূর, উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ডকিপার জসীম উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জায়েদ হোসাইন, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার, সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) মোহাম্মদ ইসহাক, কক্সবাজার পৌরসভার সচিব রাছেল চৌধুরী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. শামীম হুসাইন, একই শাখার অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউর রহমান, কানুনগো মো. নুরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মো. জিয়াউর রহমান, সার্ভেয়ার মো. সাইফুল ইসলাম, সার্ভেয়ার আইএম আশরাফুজ্জামান, মেয়রের স্ত্রী ফারহানা আক্তার, মেয়রের স্ত্রীর ভাই মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের বাসিন্দা মমতাজুল ইসলাম, মো. মফিজুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, খোরশেদা বেগম, সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোস্তাক আহমেদ, মোসাম্মদ মাহমুদা খাতুন, রেজাউল করিম, মোজাফফর আলী, মো. সালাহউদ্দিন এবং হাসান মেহেদী রহমান।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের জন্য বাছাই করা জমির ২ দশমিক ১৯ একরের মধ্যে ১ দশমিক ৭২ একর জমি মেয়র মুজিবুর রহমান পরিকল্পিতভাবে মোহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তারসহ দুজন সহকারী কমিশনের যোগসাজশে আদালতের রিসিভারিতে থাকা জমি মেয়রের স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও স্ত্রীর ভাই মিজানুর রহমানের নামে দখল দেখিয়ে ছয়টি নামজারির মাধ্যমে বক্তিগত জমিতে রূপান্তর করেন। একই সঙ্গে নামজারি ও জমাভাগের মামলার (মামলা নং-৪১৭০/২০১০) মূল নথি গায়েব করেন। এ ছাড়া প্রত্যাশী সংস্থার প্রতিনিধি না হয়েও সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই ফিল্ড বুকে সই করা, অধিগ্রহণ নথির নোটশিটের আদেশে (নং-০৬, তারিখ-১১/১১/২০১৯) রিসিভারি মামলা ও গোলাভাগের মামলা রয়েছে জেনেও তা নিষ্পত্তি না করে, প্রত্যাশী সংস্থা নির্ধারণ না করে, ২০১৯ সালের ২৭ অক্টোবরের দায়ের করা রিট পিটিশনের (নং-১৪৬৮১/২০১৯) আদেশকে মিসগাইড করে সহকারী কৌঁসুলি মোহাম্মদ ইসহাকের সহায়তায় মিজানুর রহমানকে ২০২০ সালের ৯ জুলাই জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭ কোটি ১৬ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৪ টাকা অবৈধভাবে প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখার দালাল মো. সালাউদ্দিনের কাছ থেকে ঘুষ ও কমিশন হিসেবে মেয়র মুজিবুর রহমান ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার ছেলে হাসান মেহেদী রহমান ৩ লাখ টাকা নেন। বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্ত জসীম উদ্দিন ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ২২ লাখ ৪ হাজার ১৮৭ টাকা পান। সেই টাকা থেকে কমিশন বাবদ ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে নিয়েছেন মেয়র মুজিবুর রহমান। এ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার চেক দেন স্ত্রীর ভাই মিজানুর রহমানকে।
দুদকের অনুসন্ধানে দালিলিক ও সাক্ষ্যপ্রমাণ দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৩৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার সুপারিশ করা হয় অনুসন্ধান প্রতিবেদনে।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন নেইমার। দুটিতেই ছিলেন উজ্জ্বল। সেই দু’বারের চেয়ে এবারের নেইমার আরও পরিণত, আরও নিখুঁত। চোট, ফিটনেস কিংবা অফফর্মের ছায়া এখনও তাঁর পাশে ভিড়তে পারেনি। এটাই ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক। আগের দুই আসরে যে কারণে অনেকটাই হতাশ হতে হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বৃহস্পতিবার ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন। যে মিশনে নেইমার মূল সারথি হলেও তাঁর সঙ্গে থাকবেন আরও অনেক যোদ্ধা। যেটা সেলেকাওদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বেশি মজবুত করেছে। কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুও বলেছিলেন, ‘ব্রাজিল এবার আর নেইমারনির্ভর নয়।’ অনেকটা তেমনি; নেইমারের সঙ্গে এবার আক্রমণভাগে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো, জেসুস, রাফিনহারা। সবাই দারুণ ছন্দে। যেটা তিতের জন্যও স্বস্তির।
প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ সার্বিয়া। যাদের সঙ্গে আগের বিশ্বকাপেও দেখা হয়েছিল ব্রাজিলের। ওই ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জয় পায় হলুদ জার্সিধারীরা। সেই সুখস্মৃতি নিয়ে আজ সার্বিয়ার মুখোমুখি হবে দলটি। যেখানে নেইমারই হতে পারেন ত্রাতা, আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা। এর আগে দুটি বিশ্বকাপে ১০ ম্যাচ থেকে ছয় গোল করেছেন নেইমার। সতীর্থদের দিয়ে গোল করান তিনটি। যার মধ্যে রাশিয়ার মাটিতে পাঁচ ম্যাচ খেলে করেন দুই গোল। এদিকে দারুণ এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নেইমার। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক এখন পেলে। ৯২ ম্যাচ থেকে ৭৭ গোল করেছিলেন সাবেক এই কিংবদন্তি। তালিকায় দুইয়ে আছেন নেইমার। ১২১ ম্যাচ খেলা এই তারকার ঝুলিতে আছে ৭৫ গোল। যেখানে ৬২ গোল করা রোনাল্ডো নাজেরিও আছেন তিনে। আর চার ও পাঁচে থাকা রোমারিও এবং জিকোর গোলসংখ্যা যথাক্রমে ৫৬ ও ৪৮। সে ক্ষেত্রে আর দুই গোল করলেই ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক পেলেকে স্পর্শ করবেন নেইমার। তিন গোল করলে তাঁর রেকর্ডটাও ভেঙে ফেলবেন তিনি।
এই নেইমারকে নিয়ে আশা করতেই পারে ব্রাজিল। কেননা চমৎকার ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছেন তিনি। চলমান মৌসুমে পিএসজির হয়ে খেলা নেইমার এখন পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে কুড়ি ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন। সঙ্গে রয়েছে ১২টি অ্যাসিস্টও।
প্রতিপক্ষ যখন সার্বিয়া, সে ক্ষেত্রে নেইমারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে রক্ষণ ভাঙা। যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও একই পরীক্ষা দিতে হতে পারে তাঁকে। তবে নেইমারের কাঁধে যে পুরো ভার সেটাও না। তাঁকে সঙ্গ দেবেন রিয়াল মাদ্রিদ মাতানো ভিনিসিয়ুস। গতির সঙ্গে খানিকটা ছন্দের মিলে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন এই ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া গোলমুখে জেসুসও বেশ আগ্রাসী। লং শটে যে কোনো সময় জাল কাঁপিয়ে দিতে পারেন আর্সেনাল তারকা। রিচার্লিসনও দলের প্রয়োজনে গোল করতে পারেন। নিখুঁত পার্সিংয়ের সঙ্গে ব্রাজিলের রক্ষণভাগেও অবদান রাখতে পারেন তিনি। আর নিজের পছন্দের দুটি ধরন- ফ্লিক অন (দ্রুতগতিতে বল ফরোয়ার্ড লাইনে পাঠানো) করে খেলা ও ইনসাইডে কাট করাকে (ডি বক্সের মধ্যে ড্রিবলিং) বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন রিচার্লিসন।
নেইমারের শক্তির জায়গাটা নান্দনিক ড্রিবলিংয়ে। বিশেষ করে দুই উইং থেকে আসা বলগুলো নিয়ে ফিনিশিং করা, এর পর সেন্টার ফরোয়ার্ড দিয়ে লে অফ পাসিং ফুটবলে (ছোট ছোট পাসে রক্ষণ ভাঙা) প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করার মানসিকতাই ব্রাজিলের জন্য আশার দিক। পাশাপাশি ডি বক্সের মধ্যে জটলা থাকলেও সেটা নিখুঁতভাবে ভেদ করতে পারেন তিনি। আর পায়ের কারুকাজ দিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদেরও বোকা বানানোর ক্যারিশমাটা জানা নেইমারের। তাঁর সঙ্গে আরেক তরুণ রদ্রিগোও হতে পারেন তিতের তুরুপের তাস। রিয়ালে সুন্দর ফুটবল খেলা এই ফরোয়ার্ড কাউন্টার অ্যাটাকে যে কোনো সময় ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। সব মিলিয়ে নেইমারের সঙ্গে বাকি ফরোয়ার্ডদের আক্রমণের সুরটা একই সুতায় মিলে গেলে ব্রাজিলের বিশ্বজয় করাও কঠিন হবে না।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব
কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ নভেম্বর) কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নস্থ আস্কারপুর (মাটিকুমড়া) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) নলতা’র উদ্যোগে সাইট সেভার্স ও নব জীবনের সহযোগীতায় এবং রোটারী ক্লাব অব রয়েল সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নলতার সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ার আসাদুসজ্জামান, নবজীবনের সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাসেল খান চৌধুরী, প্রোগ্রাম অফিসার রফিকুল হাসান, আশিকুরজ্জামান খান, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার আনোয়ার হোসেন, আস্কারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানার খাতুন, খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, সাইট সেভার্সের কর্মকর্তা বনফুল চুমকি, সমাজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার সাইদুল ইসলাম প্রমুখ। ক্যাম্পে চক্ষু চিকিৎসা সেবা ও অপরেশনের জন্য রুগি বাছাই করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমন হোসেন। পরে চক্ষু অপরেশনের মাধ্যমে লেন্স সংযোজনের জন্য রুগিদের খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর তাদের উক্ত শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
এনটিভির কুমিল্লা প্রতিনিধি ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক জালাল উদ্দিন (৫১) ইন্তেকাল করেছেন।
বুধবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি–রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তিনি নগরীর মোগলটুলী এলাকার মরহুম অধ্যাপক আবদুল মান্নানের জ্যেষ্ঠপুত্র। তাঁর স্ত্রী এডভোকেট নিগার সুলতানা জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে তাকে নগরীর একটি প্রাইভেট হসপিটালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে পরদিন মঙ্গলবার তাকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।
তাঁর মৃত্যুতে কুমিল্লার সাংবাদিক অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাইয়িদ মাহমুদ পারভেজ। এছাড়া কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।