মাদারীপুরের শিবচরের ভ্যানচালক পারভেজ হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন পর খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা পুলিশ।
তারা হলেন— শিবচর থানার চর শরীফাবাদ কান্দির গ্রামের আব্দুস সালাম মাদবরের ছেলে হৃদয় মাদবর (২৩), উৎরাইল গবিন্দ্রকান্দি গ্রামের নুরু মুন্সীর ছেলে আজিজুল মুন্সী (২৮), ভাঙ্গার আতাদি গ্রামের সামচু শেখের ছেলে ফজলে শেখ (৪০) ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের আব্দুল মোল্লা (৩৫)।
নিহত পারভেজের ভ্যানটি ভাঙ্গা থেকে ও শিবচরের একটি পুকুর থেকে তার মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৩ অক্টোবর নাসিরাবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদীর পাড়ে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্বার করে পুলিশ। লাশের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
১৫ অক্টোবর শিবচর উপজেলার ফকিরের কান্দি গ্রামের অজ্ঞাত যুবক পারভেজ ফকিরের বলে তার বাবা বাবুল ফকির শনাক্ত করেন। ওই দিন বাবুল ফকির বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের নামে আসামি করে মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, ১২ অক্টোবর রাত ৮টার সময় হৃদয় ও আজিজুল ভ্যানচালক পারভেজকে নিয়ে বিচারগান শুনতে ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ এলাকার নদীর পাড়ে যায়। সেখানে রাত ১২টার সময় তারা পারভেজকে গাঁজা সেবন করায়। এর পর ভ্যানের রশি তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে।
পরে হৃদয় ও আজিজুল ভাঙ্গা এলাকার ফজলে শেখ ও আব্দুল মোল্লার কাছে ১০ হাজার টাকায় ভ্যানটি বিক্রি করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা হৃদয় ও আজিজুল একজন মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী। টাকার জন্য পারভেজকে হত্যা করে তারা ভ্যান বিক্রি করে।
ভাঙ্গা থানার ওসি বিকাশ মণ্ডল জানান, ১৫ দিন পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি। ভাঙ্গা ও শিবচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছি।
শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে আসামিদের ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।


