গাজীপুরের শ্রীপুরে মায়ের পরিকল্পনায় বাবার ওপর হামলা, কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

0
55
আটক কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্য। ইনসেটে কিশোর গ্যাং লিডার জাকারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামে সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১টার দিকে পুলিশ আটককৃতদের উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী ব্যক্তি হলেন মো. আসাদ মিয়া, যিনি উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে। আটককৃতরা হলেন—তার ছেলে আরিব (১৭), শ্রীপুর গ্রামের ওয়াদ্দাদা দিঘী পাড় এলাকার রতন মিয়ার ছেলে মো. জাহিদ (১৭), সাতখামাইর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে জিহাদ (১৭) এবং টেংরা গ্রামের হাবিজ উদ্দিনের ছেলে মারুফ (১৮)।

কীভাবে ঘটলো হামলা?

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতখামাইর রেলস্টেশনের পাশে একটি অন্ধকার স্থানে কিশোর গ্যাং আসাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা তার কাছ থেকে ৩,৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে। আসাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে চার কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে।

ছেলের ভূমিকা: পরিকল্পক নাকি পর্যবেক্ষক?

এ হামলায় সরাসরি অংশ না নিলেও আসাদের ছেলে আবির পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সে দূর থেকে মেসেজের মাধ্যমে পুরো ঘটনা পরিচালনা করছিল।

পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও হামলার নেপথ্যে

ভুক্তভোগী আসাদ মিয়া জানান, তার প্রথম স্ত্রী পারুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন শিউলীকে। দুই বছর আগে পারুল দেশে ফিরে আসার পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি শুরু হয়। পারুল তার বাড়ি দখল করে তাকে ও তার বৃদ্ধা মাকে বের করে দেন। বর্তমানে তিনি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। পারুল তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন, যাতে তিনি এখন জামিনে আছেন।

সোমবার সকালে পারুলের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারুল তার ভাগ্নে জিহাদকে বিষয়টি ‘সাইজ’ করার দায়িত্ব দেন। এরপর জিহাদ ও আবির শরণাপন্ন হয় কিশোর গ্যাং লিডার জাকারিয়ার কাছে।

হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন

জিহাদ জানিয়েছে, তার খালা পারুল তাকে খালুকে ‘সাইজ’ করার দায়িত্ব দেন। এরপর জাকারিয়ার নেতৃত্বে ১২ থেকে ১৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্য রাত সাড়ে ৯টার দিকে হামলা চালায় এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত পারুল বলেছেন, তিনি আসাদকে শুধুমাত্র ‘সাইজ’ করতে চেয়েছিলেন, মারধরের পরিকল্পনা করেননি।

পুলিশের বক্তব্য

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চার কিশোরকে আটক করেছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও পারিবারিক কলহের জেরে এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।


 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here