সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
রেইনকোট
-আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সৃজনশীল প্রশ্নের দিকগুলো
১. পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ।
২. নিজেদের বাঁচানোর জন্য পাকিস্তানি আদর্শের সঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষের একাত্মতা প্রকাশের চেষ্টা।
৩. মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর সাহসিকতা।
৪. বাঙালির চেতনার ক্ষেত্র শহিদ মিনার ধ্বংসের মাধ্যমে বাঙালিকে অবরুদ্ধ করার অপপ্রয়াস।
৫. গেরিলা হামলার সঙ্গে শিক্ষকদের সম্পৃক্তার নিরূপণ।
৬. কলেজে যাওয়ার পথে ভীতু নুরুল হুদার চেতনায় সাহসিকতার জাগরণ।
৭. গেরিলা যোদ্ধাদের কলেজ রেকি করার কৌশল।
৮. পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাহসিকতার জন্য রেইনকোটের প্রতীকী ব্যবহার।
৯. ঢাকা শহরের আতঙ্কগ্রস্ত জীবনের চিত্র।
১০. শিক্ষক নুরুল হুদার দেশপ্রেমের প্রকাশ।
মূলদিক : পাক বাহিনীর সঙ্গে গেরিলা লড়াইয়ের জন্য কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদার ভীতু মনে উষ্ণতা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম জাগরণের ক্ষেত্রে রেইনকোটের প্রতীকী ব্যবহার।
মডেল সৃজনশীল প্রশ্ন-১
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মতো চীৎকার করতে করতে।
তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
ক. কার জন্য নুরুল হুদাকে তটস্থ থাকতে হয়?
খ. নুরুল হুদার স্ত্রী কেন বাড়ি পাল্টানোর জন্য হন্যে হয়ে লেগে গেলেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের সঙ্গে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের কবিতাংশে আলোচ্য গল্পের মূল উপজীব্যের প্রতিফলন হয়েছে কি? যুক্তি দাও।
সোনার তরী
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
অসামান্য প্রতিভার অধিকারী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) আধুনিক বাংলা কবিতার প্রাণপুরুষ। তার সাহিত্যসাধনার একটি বৃহৎকাল বাংলা সাহেত্যের ‘রবীন্দ্রযুগ’ নামে পরিচিত। মানুবধর্মের জয় ও সৌন্দর্য-তৃষ্ণা রোমান্টিক এই কবির কবিতার মূল সুর। কবিতা ছাড়াও তিনি ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি ও সংগীত রচনায় কালজয়ী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। নিজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগ্রহণে নিরুৎসাহী হলেও ‘বিশ্বভারতী’ নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি স্বাপ্নিক ও প্রতিষ্ঠাতা। মাত্র পনেরো বছর বয়সে তার প্রথম কাব্য ‘বনফুল’ প্রকাশিত হয়। বাংলা ছোটগল্পের তিনি পথিকৃৎ ও শ্রেষ্ঠ শিল্পী। ‘সোনার তরী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। শতাধিক বছর ধরে এ কবিতা বিপুল আলোচনা ও নানামুখী ব্যাখ্যায় নতুন নতুন তাৎপর্যে অভিষিক্ত। একই সঙ্গে, কবিতাটি গূঢ় রহস্য ও শ্রেষ্ঠত্বেরও স্মারক। মহৎ সাহিত্যের একটি বিশেষ গুণ হলো কালে কালে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিবেচনার আলোকে তার শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপিত হতে থাকে। বাংলা কবিতার ইতিহাসে ‘সোনার তরী’ তেমনি আশ্চর্যসুন্দর এক চিরায়ত আবেদনবাহী কবিতা। এ কবিতায় দেখা যায়, চারপাশের প্রবল স্রোতের মধ্যে জেগে থাকা দ্বীপের মতো ছোটো একটি ধানক্ষেতে উৎপন্ন সোনার ধানের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষারত নিঃসঙ্গ এক কৃষক। আকাশের ঘন মেঘ আর ভারী বর্ষণে পাশের খরস্রোতা নদী হয়ে উঠেছে হিংস্র। চারদিকের ‘বাঁকা জল’ কৃষকের মনে সৃষ্টি করেছে ঘনঘোর আশঙ্কা। এরকম এক পরিস্থিতিতে ওই খরস্রোতা নদীতে একটি ভরাপাল সোনার নৌকা নিয়ে বেয়ে আসা এক মাঝিকে দেখা যায়। উৎকণ্ঠিত কৃষক নৌকা কূলে ভিড়িয়ে তার উৎপাদিত সোনার ধান নিয়ে যাওয়ার জন্য মাঝিকে সকাতরে মিনতি জানালে ওই সোনার ধানের সম্ভার নৌকায় তুলে নিয়ে মাঝি চলে যায়। ছোট নৌকা বলে স্থান সংকুলান হয় না কৃষকের। শূন্য নদীর তীরে আশাহত কৃষকের বেদনা গুমড়ে মরে। এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আশে কবির জীবনদর্শন। মহাকালের স্রোতে জীবন-যৌবন ভেসে যায়, কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষেরই সৃষ্ট সোনার ফসল। তার ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর করালগ্রাসের শিকার।
‘সোনার তরী’ কবিতাটি পড়ার সময় যে দিকগুলো ভালো করে খেয়াল করতে হবে
‘সোনার তরী’ কবিতায় কোনো কোনো সমালোচক কবির জীবনদর্শনের প্রতিফলন দেখেছেন। তবে এ কবিতায় কবি শাব্দিক অর্থে যেভাব প্রকাশ করেছেন, ভাবার্থে অন্য ভাব বুঝাতে চেয়েছেন। এ জন্যই এ কবিতা নিয়ে সমালোচকদের মাঝে এত কৌতূহল দেখা দিয়েছে। [চলবে]


