শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 741

মোবাইল-ল্যাপটপ কিনতে দারুণ সুযোগ

ল্যাপটপ, মোবাইল, কম্পিউটার, ট্যাব ইত্যাদি গ্যাজেট কিনতে ক্রেতাদের জন্য দারুণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা ঋণের আওতায় ডিজিটাল ডিভাইস কেনার জন্যে ৭০:৩০ অনুপাতে ক্রেতাকে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।এক্ষেত্রে ভোক্তার কাছে ৩০ টাকা মূলধন রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-বিআরপিডি থেকে সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো সার্কুলারে বলা হয়েছে, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বর্তমানে অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা-কার্যক্রম চলমান থাকায় শিক্ষক বা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।এছাড়াও সরকারের রূপকল্প ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অভিগমন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ মানবসম্পদ উন্নয়নে আইসিটি খাতে অর্থায়নকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, বর্ণিত প্রেক্ষাপটে এ মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে যে, ভোক্তা ঋণের আওতায় গ্রাহকের অনুকূলে ডিজিটাল ডিভাইস (ল্যাপটপ/মোবাইল/কম্পিউটার/ট্যাব ইত্যাদি) ক্রয় বাবদ ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঋণ-মার্জিন অনুপাত ৩০:৭০-এর পরিবর্তে সর্বোচ্চ ৭০:৩০ অনুপাত অনুসরণ করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রুডেনশিয়াল রেগুলেশনস ফর কনজ্যুমার ফিন্যান্সিং, ২০০৪ ও তদসংশ্লিষ্ট বিদ্যমান সার্কুলার বা সার্কুলার লেটারসমূহে বর্ণিত অন্যান্য নির্দেশাবলী পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

চালু হচ্ছে পিপলস লিজিং, ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন হাইকোর্টের

পিপলস লিজিংকে অবসায়নের পরিবর্তে পুনরুজ্জীবিত করতে ১০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল-উল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি পুনর্গঠন বা পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত মাসে ২০১ জন আমানতকারী আবেদন করেন। এর শুনানিতে ২৮ জুন আদালত প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি বোর্ড গঠন করার কথা বলেন।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এক আদেশে এই পর্ষদ গঠন করে দেন।মঙ্গলবার আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পরিচালনা পর্ষদে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রাখা হয়েছে। পর্ষদের অপর সদস্যরা হলেন, সাবেক সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ হাসান শাহীদ ফেরদৌস, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হালিম চৌধুরী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) কাজী তৌফিকুল ইসলাম, ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট নুর-ই-খোদা আবদুল মোবিন ও মওলা মোহাম্মদ, আমানতকারীদের প্রতিনিধি নাশিদ কামাল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান নুরুল কবির।

আদেশে নবগঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যানকে সব সদস্য ও সাময়িক অবসায়কের (অকার্যকর) সঙ্গে কথা বলে সুবিধাজনক সময়ে পর্ষদের প্রথম সভা আহ্বান করতে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। এছাড়া আরও তিনটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আমানতকারীদের বিষয়ে বলা হয়েছে, আমানত ফেরত পেতে আগামী ৬ মাস তারা পিএলএফএসএল এর পর্ষদের কাছে দাবি জানাতে পারবে না। তবে মানবিক কারণে পর্ষদ কোনো আমানতকারীর আমানত ফেরত দিতে পারবে।

অন্যদিকে আদালত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালককে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় জনশক্তি নিয়োগ করতে বলেছে।

এক্ষেত্রে আদেশে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, পিকে হালদার বা তার সহযোগী নয় এবং অন্যান্য খেলাপি পরিচালকদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এমন কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পুনঃনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

অর্ধেক আইসিইউ সচল নয়

দেশে করোনা মহামারির মারাত্মক সংক্রমণ চলছে। প্রতিদিন দুইশর ওপরে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অনেকেই মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন। যাদের বেশির ভাগেরই সুচিকিৎসার জন্য আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট/নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধা দরকার।

কিন্তু দেশের আইসিইউগুলোর করুণদশা বিরাজ করছে। অর্ধেক আইসিইউতে নেই ভেন্টিলেটর সুবিধা, যা আছে সেগুলোও পুরোপুরি কার্যকর নয়। ফলে করোনায় আক্রান্ত অনেকেই শেষ মুহূর্তে যথাযথ চিকিৎসা ছাড়াই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এতে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মতে, একটি আদর্শ আইসিইউর জন্য বেশকিছু সরঞ্জাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-আইসিইউ শয্যা, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ইনফিউশন পাম্প বা সিরিঞ্জ পাম্প, নেবুলাইজার মেশিন, পেশেন্ট মনিটর, পালস অক্সিমিটার, সাকশন মেশিন।

এ ধরনের চিকিৎসাসামগ্রী সব আইসিইউতে নেই। অনেক হাসপাতালে আছে; কিন্তু নষ্ট, যন্ত্রটি কাজ করছে না। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অনেক হাসপাতালে এসব সরঞ্জাম আছে; কিন্ত এগুলো চালানোর মতো লোকবল নেই।

কাজেই সেখানেও আইসিইউ প্রায় অচলই বলা চলে। এভাবে সারা দেশের আইসিইউগুলোতে কোনো না কোনো যন্ত্র বা মানুষের অভাব রয়েছে। কাজেই এগুলো পরিপূর্ণভাবে সচল নয় বলে মনের করেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একটি পুরোনো মেডিকেল কলেজের কোভিড-১৯ আইসিইউতে এক চিকিৎসকের আত্মীয়ের মৃত্যু হয় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, ওই আইসিইউতে শয্যাপ্রতি ভেন্টিলেটর মেশিনগুলোর কয়েকটি নষ্ট।

সেখানে রোগীদের বাইপ্যাপ মেশিন দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ ধরনের (বাইপ্যাপ) মেশিন ভেন্টিলেশনের পরিপূরক কোনো যন্ত্র নয়। একই অবস্থা দেশে দক্ষিণবঙ্গের সবচেয়ে পুরোনো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

একজন স্বাস্থ্যকর্মী তার বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে সেখানকার আইসিইউতে রেখেছেন। তিনি বলেন, ওই হাসপাতালেও ২০ শয্যার আইসিইউ রয়েছে। যার অর্ধেক শয্যার যন্ত্রপাতি নষ্ট।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, রাজধানীর কয়েকটি ছাড়া দেশের বেশির ভাগ আইসিইউর এই করুণদশা, যেখানে শয্যা থাকলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ রোগীর জন্য মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১২৫৯টি। এর মধ্যে রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালে ৩৯৫টি, ২৭টি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬৬টি।

চট্টগ্রামের ৪টি সরকারি হাসপাতালে ৩৩টি এবং চারটি বেসরকারি হাসপাতালে ২৬টি। সিটি করপোরেশন ব্যতীত ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৬৩টি। চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলা ও উপজেলায় ৪১টি।

ময়মনসিংহ বিভাগে ২২টি, রাজশাহী বিভাগে ৫৮টি, রংপুর বিভাগে ৬৭টি, খুলনা বিভাগে ৬৭টি, বরিশাল বিভাগে ২৮টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টি। তবে এসব আইসিইউর মোট কতটি কার্যকর, এর কোনো সঠিক হিসাব নেই অধিদপ্তরে।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আইসিইউ বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় অবশ্যই কার্যকর আইসিইউ প্রয়োজন। আইসিইউ শুধু একটি শয্যা নয়, রোগীর চিকিৎসায় এর সঙ্গে আরও অনেক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

কিন্তু বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক আইসিইউতে নেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্টিলেটর সুবিধা।

অনেক আইসিইউতে নেই সিরিঞ্জপাম্প, এবিজি মেশিন বা ডিফেব্রিলেটর। ফলে রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া হলেও তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

আইসিইউ বিশেষজ্ঞরা জানান, হাসপাতালের সাধারণ শয্যার সঙ্গে আইসিইউ শয্যার পার্থক্য থাকে। কারণ আধুনিক আইসিইউ শয্যগুলো পাঁচটি অংশে প্রয়োজনমতো ওঠানামা করানো যায়।

এছাড়া রোগীর প্রয়োজন অনুসারে শয্যার ওপরের অংশের তাপমাত্রা নিয়িন্ত্রণ করা যায়, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেন্টিলেটর হলো এমন একটি যন্ত্র, যা একজন রোগীর শারীরিক অবস্থা (মস্তিষ্ক, ফুসফুস) বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কৃত্রিমভাবে সরবরাহ করে থাকে।

আইসিইউ রোগীদের সুস্থতার জন্য শরীরে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ বিভিন্ন মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্যালাইনের মাধ্যমে এসব ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে নির্দষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ওষুধ দেওয়া যায় না।

এই কাজটি করে সিরিঞ্জ পাম্প বা ইনফিউশন পাম্প। রোগীর শরীরের কফ-কাশি, জমে গেলে, খাদ্য শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে বা বমি হলে সেটি পরিষ্কার করতে সাকশন মেশিন ব্যবহার করতে হয়।

অন্যদিকে রোগীর অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা দেখা দিলে নেবুলাইজ করতে হয়। এছাড়া প্রতি ১০ শয্যার জন্য প্রয়োজন একটি করে এবিজি মেশিন, ডিফেব্রিলেটর, ইসিজি মেশিন এবং সেন্ট্রাল মনিটর সিসটেম অবশ্যই রাখতে হবে।

এবিজি-(আর্টিয়াল ব্লাড গ্যাস এনালাইজার) মেশিন দিয়ে রোগীর রক্তে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন যাচ্ছে কি না, সেটি দেখা যায়। পাশাপাশি রোগীর ইলেকট্রোলাইট পরিমাপ করা যায়।

ইসিজি মেশিন দিয়ে রোগীর হৃদ্যন্ত্রের অবস্থা দেখা হয়। এছাড়া রোগীর মারাত্মক অবনতি ঘটলে শক দেওয়ার জন্য ডিফেব্রিলেটর মেশিনের দরকার পড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ১২৫৯টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে ৬৬০টি। অর্থাৎ অর্ধেক শয্যায় এই গুরুত্বপূর্ণ মেশিণটি নেই।

সূত্র জানায়, ২৯৮টি ভেন্টিলেটর মেশিন কোভিড শুরুর আগেই ছিল। দেশে কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০০টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়।

অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের (এইচএসএম) পক্ষ থেকে ১০০টি কেনা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কেনা হয় আরও ১৪৪টি এবং ইউনিসেফের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে আরও ১৮টি।

অর্থাৎ কোভিডকালীন আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হলেও সেগুলোকে পরিপূর্ণ রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া অনেক বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে নামমাত্রই সুবিধা দেওয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে শুধু শয্যা ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া এনালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. দেবাশিস বণিক যুগান্তরকে বলেন, আইসিইউ সম্পর্কিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন রয়েছে।

কোনো আইসিইউতে যদি সেই গাইডলাইন অনুসারে যন্ত্রপাতি না থাকে, তাহলে সেটাকে আদর্শ আইসিইউ বলা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইসিইউ একটি শয্যা বা একটি নির্দিষ্ট যন্ত্র নয়। এটি একটি চিকিৎসাব্যবস্থা। একটি শয্যার প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো একটি প্যাকেজের আওতায় কেনা হলে পরিপূর্ণ আইসিইউ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

কিন্তু সরকারের ক্রয় পদ্ধতিতে আইসিইউর প্রতিটি যন্ত্র পৃথকভাবে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে কেনা হয়। ফলে বেশির ভাগ হাসপাতালে পরিপূর্ণ আইসিইউ গড়ে তোলা সম্ভব হয় না।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দেশের সরকারি পর্যায়ের কোভিড আইসিইউগুলোয় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি পর্যায়ে অসংগতি থাকতে পারে।

কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু চেনার উপায়

আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল উল আজহা। লকডাউন শেষে খুব শিগগির হয়তো জমে উঠবে দেশের কোরবানীর পশুর সব হাট। কোরবানীর জন্য সবাই নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হৃষ্টপুষ্ট গরু বা ছাগল কিনতে চায়।

সঠিক খাদ্যভাস এবং নির্দিষ্ট পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক খামারি গরু হৃষ্টপুষ্ট করে থাকেন। ১০ বছর আগেও এমন মোটাতাজা এবং ওজনধারী কোরবানীর পশু পাওয়া দুষ্কর ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিরলস প্রচেষ্টা ও বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ফলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে।

তবে প্রতিবছরই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ উপায়ে বেশি লাভের স্টোরয়েড জাতীয় হরমোন সহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করে থাকে। এভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ গরুর মাংস খেলে শরীরে পানি জমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, মূত্রনালী ও যকৃতের বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আশার কথা হলো, কোরবানির পশুর হাটে বেশ কয়েকটি লক্ষণে চেনা যায় কোন পশুটিকে কৃত্রিম উপায়ে ইনজেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মোটাতাজা করা হয়েছে। চলুন জেনে নেয়া যাক, কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা কোরবানির পশু চেনার উপায়।

* আচরণ: স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হৃষ্টপুষ্ট গরুর আচরণ হবে সক্রিয়। দৃষ্টি থাকবে তীক্ষ্ম, যেকোনো পরিবেশে তারা প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করবে। আর কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা গরু পরিবেশ সম্পর্কে ততটা সজাগ থাকবে না। ক্লান্ত এবং নির্জীবের মতো মনে হতে পারে। গরু অস্বস্তিকর অবস্থা অনুভব করবে।

* মাংসের স্থিতিস্থাপকতা পর্যবেক্ষণ: কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর বেশি মাংসল অংশে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে ওই স্থানের মাংস দেবে যাবে এবং দেবে যাওয়া অংশ আবার স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লাগবে। কিন্তু বৈজ্ঞানিক উপায়ে বা স্বাভাবিকভাবে মোটা করা গবাদিপশুর ক্ষেত্রে দ্রুতই মাংস স্বাভাবিক হয়।

* অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি: কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরুর ফুসফুস কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকে ফলে বেশিক্ষণ শ্বাস ধরে রাখতে পারে না। দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। একটু হাঁটলেই হাঁপায়, শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো দুর্বল থাকে। খুবই ক্লান্ত দেখায়। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের সময় যদি শব্দ হয়, তাহলে এ ধরনের গরু না কেনাই ভালো।

* গরুর রানের মাংসের পুরুত্ব: স্বাভাবিক উপায়ে মোটাতাজা গরুর পেছনের রানের মাংস শক্ত হয়। স্টেরয়েড হরমোন ইনজেকশন দেওয়া গরুর রানের মাংস নরম হয়। মাংসের গাঠনিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে পেশির কোষে অতিরিক্ত পানি জমার কারণে মাংস নরম হয়ে যায়। তাই গরুর পেছনের রানের মাংস পরীক্ষা করে কেনা ভালো।

* লালা বা ফেনা: আবহাওয়া খুব গরম না থাকলে যদি গরু মুখে লালা বা ফেনা বেশি থাকে তাহলে তা কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা বলে ধারণা করা হয়। তবে সাময়িকভাবে খাবারের সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত লালা বা ফেনা এবং পেট ফাঁপা দেখা যায়। যেসব গরুর মুখে কম লালা বা ফেনা থাকে, সেই গরু কেনার চেষ্টা করুন।

* হাটাচলা: কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকৃত গরুর শরীর ভারী হয়ে যায়। বেশি পানি জমার কারণে সহজে হাঁটতে চায় না এবং এক জায়গায় বসে থাকে। বসে থাকা গরুকে উঠিয়ে হাঁটিয়ে দেখা উত্তম।

* খাবারে অনাগ্রহ: সুস্থ ও স্বাভাবিক উপায়ে বেড়ে উঠা গরু খাবার দেখতেই জিহ্বা দিয়ে টেনে খাওয়ার চেষ্টা করবে। অন্য সমস্যা থাকলে খাবারে অনাগ্রহ দেখায়।
* মাজেল শুষ্ক থাকা: অসুস্থ গরুর মাজেল বা নাকের উপরের অংশ শুষ্ক থাকে। কিন্তু সুস্থ উপায়ে বেড়ে উঠা গরুর মাজেল বা নাকের উপরের অংশ ভেজা ভেজা থাকে।

* পা ও মুখ ফোলা: ইনজেকশন দিয়ে কিংবা ওষুধ খাইয়ে মোটা করা গরুর পা ও মুখ ফোলা থাকবে, শরীর থলথল করবে, অধিকাংশ সময় এই গরু ঝিমাবে, সহজে নড়াচড়া করবে না।

* তাপমাত্রা: স্বাভাবিক পরিবেশের তাপমাত্রায় সুস্থ গরুর তাপমাত্রা সাধারণত ১০০-১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়ে থাকে। গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ। পরিবেশ এবং ভ্রমণ জনিত ধকলের কারণেও তাপমাত্রা বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে বিক্রেতার কাছে গরু হাটে পৌঁচেছে কখন সে সময়টা জেনে নিতে হবে। দূর থেকে ভ্রমণ করে আসা গরুর তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে সাধারণত ১-২ ঘণ্টা সময় লাগে। অন্যকিছু হলে তা সমস্যা হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে।

নিজে সচেতন থেকে উপরোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে কোরবানির পশু ক্রয় করলে নিরাপদ পশু পাবেন সহজেই। করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুতই কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের কোরবানির পশুটি।

লেখক: প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল
ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফুটবল এবং বাংলাদেশের ফুটবল প্রসঙ্গে

এ লেখা যখন প্রকাশিত হবে তখন কোপা আমেরিকা এবং ইউরো-এর শিরোপা ঘরে তুলেছে যথাক্রমে আর্জেন্টিনা এবং ইতালি। তবে আসর দুটির পর্দা নেমে গেলেও ফুটবলপ্রেমী জাতি হিসেবে আমাদের আলোচনায় এর রেশ রয়ে যাবে। রাত জেগে ফুটবল উপভোগ করা, সমর্থক হিসেবে পরস্পরের বাকযুদ্ধ, এমনকি মারামারির মধ্য দিয়ে এসব উদযাপন আরও অর্থবহ হতো যদি দল হিসেবে বাংলাদেশের বিশ্ব-ফুটবলে মর্যাদাপূর্ণ একটি অবস্থান থাকত।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রিকেটের উত্থানের সঙ্গে ফুটবল হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই এভাবে বলে থাকেন যে- ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার কারণেই ফুটবল পিছিয়ে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে অবশ্য এটিকে অগ্রাহ্য করার অবকাশ নেই। ফুটবল না ক্রিকেট– কোন খেলায় উত্তেজনা বেশি এ নিয়ে ভিন্ন মতবাদ রয়েছে। অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ালে ফুটবলে সব মিলিয়ে সোয়া দুই ঘণ্টা সময় লাগে যার প্রতিটি মুহূর্ত উত্তেজনায় ভরপুর। সে বিবেচনায় ফুটবলই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা।

যদিও ক্রিকেটপ্রেমীরা এভাবে বলে থাকেন, ক্রিকেট খেলার কোনো একটি বল বা খেলার কোনো নির্দিষ্ট একটি সময় এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ যে তা ফুটবলের পুরো সময়ের উত্তেজনাকে ছাড়িয়ে যায়।

ফুটবলের জন্ম ইংল্যান্ডে (মতান্তরে চীন) হলেও এর রাজত্ব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রাজিল, জার্মানি, আর্জেন্টিনার বাইরেও অনেক শক্তিশালী দল রয়েছে। শুধু সাবেক যুগোস্লাভিয়ার কথা ভাবুন। ১৯৯১ সালে দেশটি নতুন যে ছয়টি দেশে বিভক্ত হয়েছে সেগুলো হলো – সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হারজেগোভিনা, নর্থ মেসিডোনিয়া ও স্লোভেনিয়া। এর মধ্য থেকে প্রতি বিশ্বকাপে ন্যূনতম দুটি দল প্রতিনিধিত্ব করছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ফুটবলের সঙ্গে দেশের ভৌগলিক আয়তন ও জনসংখ্যার কোনো সম্পর্ক নেই। থাকলে চীন, ভারত, রাশিয়া বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই ফুটবল দুনিয়া নিয়ন্ত্রণ করত। যদিও ১৯৫০ সালে ভারত ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও বার্মা খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় ভারতের খেলার কথা হলেও শেষ পর্যন্ত আর খেলা হয়নি। কথিত আছে, সেবার থেকে বুট পরে খেলা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং ভারতীয়রা সেভাবে অভ্যস্ত না-থাকায় অংশগ্রহণ করেনি।

ফুটবলের সঙ্গে অর্থনীতির দারুণ সংযোগ রয়েছে। লা-লিগা, বুন্দেসলিগা, সিরি-এ কিংবা ইংল্যান্ডের একেকটি দলের যে সম্পদ আর রিটার্ন তা পৃথিবীর অনেক দেশের মোট জিডিপির চেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ, স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জিডিপি ৪ বিলিয়ন ডলারের অধিক যার বাৎসরিক টার্নওভার ৮৪০ মিলিয়ন ডলারের মতো। প্রায় একই অবস্থা রিয়েল মাদ্রিদ, ম্যানইউ, বায়ার্ন মিউনিখ, টটেনহ্যাম হটস্পার, ম্যান সিটির মতো দলগুলোর। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গেও এসব লিগের সম্পর্ক রয়েছে। একসময় ইতালিয়ান লিগের অনেক দাপট ছিল। ২০০০ সালের পর থেকে ইতালির অর্থনীতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ায় লিগের গুরুত্ব কমে যায়। সকারনোমিক্স-এর হিসাব বলছে, কোনো দল বড় কোনো টুর্নামেন্ট জিতলে দেশের মোট জিডিপি ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ হারে বাড়ে। পক্ষান্তরে, হারলে ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

আমাদের ফুটবলের জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে গিয়েছে। ১৯৮০-৯০ এর দশকে আমাদের এশিয়ার একটি ভালো দল হিসেবে স্বীকৃতি ছিল। আর দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সেরা দল তো ছিলামই। সময়ের পরিক্রমায় পার্শ্ববর্তী ভুটানের সঙ্গেও আমাদের হারতে হয়েছে। আমাদের ফুটবল যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে পারছে না তার কারণ বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই উঠে আসবে। শারীরিক দুর্বলতা থেকে শুরু করে খেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনা- কী নেই এর মাঝে! একটি সংক্ষিপ্ত অথচ স্বয়ংসম্পূর্ণ আলোচনা করা যাক।

প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ফুটবল কোথায় যেতে চায় তার কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। মুখে মুখে বুলি আওড়ালে এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় না। প্রয়োজন বয়সভিত্তিক ফুটবল ও পেশাদার লিগ। বয়সভিত্তিক যে আয়োজন রয়েছে তা আমাদের ফুটবলকে সামনে নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট নয়। পেশাদার লিগ অনেকটা দায়সারাভাবে চলছে এবং এর মান নিচে নেমে গেছে। বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন যারা আসছেন তাদের মান খুবই নিম্ন। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতেও শোনা যায়। অথচ এক সময় আজামাত রহিমভ (যিনি পরে উজবেকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন) বা এমেকা ইজিউগো (যিনি ১৯৯৪ সালে নাইজেরিয়ার হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন) আমাদের ঘরোয়া লিগ মাতিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, ফুটবলে জয়ের জন্য যে কৌশল দরকার তা আমরা প্রয়োগ করতে শিখিনি। এ কৌশল বাস্তবায়নে মাঠে অনেক কিছু করে দেখাতে হয়। এর একটি হলো ফরমেশন অনুযায়ী খেলা। এ ফরমেশন অনেক রকমের হতে পারে, ৪-২-৪, ৪-৪-২, ৪-৩-৩, ৫-৩-১, ৩-৪-৩, ইত্যাদি। ব্রাজিল ১৯৫০ এর দশকে অনেক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলত; যেখানে ৪-২-৪ ফরমেশন প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বর্তমানে ৪-৩-৩ বা ৪-৪-২ ফরমেশনের বহুল প্রয়োগ হলেও আধুনিক ফুটবলে কৌশল নির্ধারণ করা হয় প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা বিবেচনায়। কোপার ফাইনালে দি মারিয়াকে সেভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। পুরা টুর্নামেন্টে বদলি হিসেবে খেলতে নামা ডি মারিয়া এদিন শুরু থেকে খেলেছেন। কারণ ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাক রেনান লোদি যেভাবে বারবার উইং ধরে উঠে যান সেটিই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি।

ইউরোপ কিংবা ল্যাটিন আমেরিকার যে ফুটবল কৌশল তা অনেকটাই আলাদা। ইউরোপিয়ানরা লং পাসে গতিময় ফুটবল খেলতে ভালোবাসে। আর ল্যাটিন ফুটবলের সৌন্দর্য হচ্ছে ছোট ছোট পাস, অনেক বেশি বলের পজেশন। তবে কৌশল নির্ধারণে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হচ্ছে ২০১৪ সালে জার্মানির শিরোপা। যে দলের সঙ্গে যেভাবে খেলা দরকার সে কৌশল প্রয়োগ করে দলটি সেবার চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। কৌশলের বিষয় এলে আরও অনেক কিছু চলে আসে। বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের অফসাইড ট্র্যাপে ফেলাও কৌশলের অংশ।

তৃতীয়ত, ফুটবল খেলা একটি স্কিল। কারও খেলা সম্পর্কে অনেক জ্ঞান থাকতে পারে কিন্তু মাঠে করে দেখানোই আসল কাজ। খেলার মূল অংশ হলো বল রিসিভ, নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং ও পাসিং। পাসিং-এর ক্ষেত্রে আবার লম্বা ও ছোট পাস বিবেচনায় নিতে হয়। আমাদের ফুটবলারদের মাঝে এ চারটি স্কিলেরই ঘাটতি দেখা যায়। সাইড পরিবর্তন করে পাস দিয়ে খেলাকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়া কিংবা উইং ধরে উঠে আক্রমণ করার মতো স্কিল আমরা রপ্ত করতে পারিনি। অন্তত বিগত সময়ে আমার নজরে আসেনি।

চতুর্থত, বলের পজেশন নেবার যে দক্ষতা আমাদের দরকার সেটি নেই। বলের পজেশন রক্ষা করতে হলে নিজেদের সীমানার বিপজ্জনক বল ক্লিয়ার করলেও তা নিজ দলের কাউকে দেবার স্কিল থাকতে হয়। অযথা থ্রো-ইন ও কর্ণার থেকে দলকে বাঁচাতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফুটবলে এরকম দেখিনি। বড় দলগুলো যে কোনো বিবেচনাতে বলের পজেশন হারাতে চায় না। হ্যান্ডবলে একটি বল হারানো মানে একটি গোল হজম করা। ফুটবলে এরকম না-হলেও কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিয়ে বলের পজেশন খেলার জয়-পরাজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পঞ্চমত, একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ঘিরে খেলার কৌশল নির্ধারণের মতো কোনো খেলোয়াড় আমাদের নেই। পত্র-পত্রিকায় যতই ছবি ছাপা হোক আর টিভির বিজ্ঞাপনে দেখানো হোক সে রকম কেউ আমাদের নেই। আর্জেন্টিনার মেসি, পর্তুগালের রোনাল্ডো, ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচের হিসাব বাদ দিলেও পার্শ্ববর্তী ভারতের বাইচুং ভুটিয়া কিংবা হাল আমলের সুনিল ছেত্রির মতোও কেউ নেই যাকে ঘিরে জয়ের নিশানা স্থির করা যায়।

ষষ্ঠত, ফুটবলের জন্য যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং কোচিং দরকার তা প্রয়োজন ও পরিকল্পনার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। স্থানীয় ও জাতীয় উভয় ক্ষেত্রেই মাঠ, খেলার সরঞ্জাম এবং কোনো কোচিং সহায়তা নেই। অনেকেই শুধু ব্যক্তিগত নৈপূণ্য দিয়ে একদম স্থানীয় পর্যায় থেকে উঠে আসছেন যা আসলে দেশকে অনেক দূর নিয়ে যাবার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রসঙ্গত, জনসংখ্যার বিপরীতে খেলার মাঠের অভাবে কার্যত আমাদের আগামী প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক গঠন বাধগ্রস্থ হচ্ছে।

সপ্তমত, আমাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক গঠন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে মানানসই নয়। এখানে গঠন বলতে শুধু উচ্চতা বা শরীরের আকার বুঝানো হয়নি বরং ফুটবল খেলার জন্য যে শারীরিক সক্ষমতা দরকার সেটিও বলা হয়েছে। তবে এটিও মাথায় নিতে হবে, শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মানসিক সক্ষমতাও সমান গুরুত্ব বহন করে। শুধু শরীর দিয়ে খেলা হলে আফ্রিকান দেশ ঘানা বা ক্যামেরুনই সব সময় কাপ ছিনিয়ে নিত। খেলার স্কিল অর্জনের মাথার ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হয়। ফুটবল শুধু পায়ের খেলা নয়; এখানে মাথারও সমান ব্যবহার রয়েছে।

বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ফুটবলকে গুরুত্ব দেয়ার সময় এসেছে। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাওয়া একটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে ফুটবল হতে পারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন মাত্রা। ফিফা র্যাংকিং-এ ১৮৪ তে থাকা দেশটির ফুটবল সবার ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে আর রাত জেগে নিজেদের খেলা দেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে সে প্রত্যাশা

টিকার তথ্য দিতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা

করোনা সংক্রমণ রোধ ও ঝুঁকি এড়াতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ জুলাই) ঢাকা কলেজ থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ইউজার নেম (dcstudent) ও পাসওর্য়াড (destudent) ব্যবহার করে নিজ নিজ ক্লাস রোল দিয়ে লগইন করে কভিড-১৯ রেজিষ্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর নিমিত্তে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

এতে আরও বলা হয়, আবাসিক ছাত্রদের রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। টিকা সনদ ছাড়া কোন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে অবস্থান করতে পারবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়, টিকার তথ্য প্রদানের কার্যক্রম শুরু হবে ১৪ জুলাই, চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত।

তথ্য প্রদানের জন্য ক্লিক করুন: www.dhakacollege.eshiksabd.com ওয়েবসাইটে।

‘দক্ষতা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে দক্ষতা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বৃদ্ধির আহবান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন।

সোমবার (১২ জুলাই) শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধি শীর্ষক পাঁচদিনের ভার্চুয়াল কর্মশালার সমাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে যুগোপযোগী গুণগত শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন দিয়ে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারেকে সহায়তা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগের আহ্বান জানান।

আইএমসিটি বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ মনির উল্লাহ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউজিসি সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান। কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন আইএমসিটি বিভাগের পরিচালক ((অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাকছুদুর রহমান ভূঁইয়া এবং পাবলিক বিশ্বদ্যিালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. গোলাম দস্তগীর।

পাঁচ দিনের কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন ছিলেন কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের, জেনারেল সার্ভিসেস, এস্টেট এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরিচালক ড. মো. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়া, রিসার্চ সাপোর্ট এন্ড পাবলিকেশন বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেন ও এসপিকিউএ বিভাগের পরিচালক ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

কর্মশালায় কমিশনের ২০ জন সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং সহকারী পরিচালক ও সমমানের কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক

তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমি আইন ২০১৩ এর ধারা-২৬ (২) এবং ধারা ২৬ (৩) অনুযায়ী প্রথিতযশা কবি মুহম্মদ নুরুল হুদাকে তিন বছরের জন্য বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ করা হলো।

উত্তরা ব্যাংকের পর্ষদ সভা ১৮ জুলাই

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কোম্পানিটি পর্ষদ সভা আগামী ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, ওই দিন কোম্পানিটির পর্ষদ সভা দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক বা ছয় মাসের অর্ধবার্ষিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে তা শেয়ারহোল্ডারদের ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশ করা হবে।

পুঁজিবাজারে উত্তরা ব্যাংক ১৯৮৪ সালে তালিকাভুক্ত হয়।

ওয়ালটন পণ্যই আমাদের নির্ভরতা: সাইমন সাদিক

মাল্টিন্যাশনাল সুপারব্র্যান্ড ওয়ালটন। দেশসেরা ব্র্যান্ড। দেশের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স মার্কেট পণ্যের লিডার। বাংলাদেশের শীর্ষ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। দেশীয় কারখানায় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে দেশকে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইমন সাদিক। ২০১২ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘জ্বী হুজুর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে নাম লেখান তিনি। উপহার দিতে থাকেন একের পর এক দর্শক নন্দিত সিনেমা। ২০১৮ সালে ‘জান্নাত’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা ক্যাটাগরিতে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বাংলা চলচ্চিত্রের এই অভিনেতা ওয়ালটনের সঙ্গে কাজ করছেন দীর্ঘ দিন ধরে। ওয়ালটনের ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম নিয়ে ঘুরছেন শহর থেকে গ্রামে। তিনি দেখেছেন ওয়ালটনের প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চলছে ওয়ালটনের ‘মেগা ঈদ ফেস্টিভ্যাল’। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন- ১১ এর আওতায় এই ফেস্টিভ্যালে ওয়ালটন ফ্রিজ, টিভি, এসি, ওয়াশিং মেশিন, ফ্যান, গ্যাস স্টোভ ও রাইস কুকার ক্রেতাদের জন্য রয়েছে দেশের ইলেকট্রনিক্স বাজারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। এখন ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করে মিলিয়নিয়ার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এছাড়া, পণ্যভেদে আছে ফ্রি ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ অসংখ্য সুবিধা। এই সিজনে এখন পর্যন্ত ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার বা ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন ৫ ক্রেতা। তারা হলেন, আড়াইহাজারের পোশাক শ্রমিক সেলিম মিয়া, রাজবাড়ীর দর্জি হানিফ সরদার, নীলফামারীরর জলঢাকার মাজেদুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার কামাল আলী ও নোয়াখালীর মাসুদের রহমান।

দেশব্যাপী ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় মিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়ালটন ফ্রিজ ক্রেতাদের হাতে চেক তুলে দিয়েছেন সাইমন সাদিক। এসময় দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তিনি। দেশীয় পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের সঙ্গে থাকতে পেরে গর্ববোধ করেন বলেও জানান এই অভিনেতা।

তিনি বলেন, দেশের ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের বিশাল অংশ ওয়ালটনের দখলে। ওয়ালটন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করছে। এসব কারণে ওয়ালটন নিয়ে গর্ব করতে পারেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। সারাদেশে ছড়িয়ে আছে ওয়ালটনের শোরুম। ঘরের পাশের শোরুম থেকেই কিনতে পারছেন পছন্দের পণ্যটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা আজ গর্বের সঙ্গে ওয়ালটন নিয়ে বলতে পারেন- ‘আমাদের পণ্য, এটি আমাদের দেশে উৎপাদিত হচ্ছে’। এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গর্বের সঙ্গে কাজ করছে ওয়ালটন। এছাড়া, ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় দেশব্যাপী আকর্ষণীয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।

তিনি আরও বলেন, ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরছে ওয়ালটন। তারা দেশ-বিদেশে বাংলাদেশকে যেভাবে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে সেটি যেমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গর্বেরও। সারাবিশ্বে ওয়ালটন দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমান অনেক ভালো হতে পারে। ওয়ালটনের ওপর মানুষের আস্থা অনেক মজবুত। কোনো দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি এই আস্থা আমাদের আশান্বিত করে।

‘পোড়ামন’ সিনেমার এই অভিনেতা বলেন, বিশ্বের অন্যত্র তৈরি যেসব পণ্য আমাদের দেশে আমদানিকারকরা আনেন সেগুলো বাদ দিয়ে দেশে তৈরি ওয়ালটনের এসব পণ্যের দিকে দিন দিন ঝুঁকছে মানুষ।

তিনি বলেন, ওয়ালটন পণ্য আমাদের নির্ভরতার একটি জায়গা দিয়েছে। সাশ্রয়ী দামে আন্তর্জাতিকমানের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে তারা। নিত্য দিনে একটি পরিবারে যা কিছু ইলেকট্রনিক্স পণ্য প্রয়োজন; এর সবই তৈরি করছে ওয়ালটন। এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে দেশব্যাপী ওয়ালটনের সব সেলস আউটলেটে। একসময় একটি ভালো মানের টিভি আনতেও মানুষকে ঢাকা যেতে হতো। এখন বাড়ির কাছেই ওয়ালটন শোরুম। সব ধরনের আকর্ষণীয় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সহজেই কেনা যাচ্ছে ওয়ালটনের এসব শোরুম থেকে।

ওয়ালটন কখনো কোনো ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণা করে না জানিয়ে সাইমন সাদিক বলেন, ওয়ালটন পণ্য কেনায় নানা সুবিধা দিচ্ছে ক্রেতাদের। ক্রেতা যে সুবিধা পাচ্ছেন সেই সুবিধা সেই ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে আনুষ্ঠানিকভাবে। ওয়ালটন এই স্বচ্ছতার উদাহরণ হয়ে আছে সারাদেশে। ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় ১০ লাখ টাকা হস্তান্তর করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে ওয়ালটন। ব্যবসায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখছে তারা।