শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 740

বাংলাদেশের নির্মাতা আশফাক নিপুণের প্রশংসায় প্রসেনজিৎ

বাংলাদেশের নির্মাতা আশফাক নিপুণের ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’ দুই বাংলাতেই প্রশংসিত হচ্ছে। অনলাইন স্ট্রিমিং ‘হইচই’-এ মুক্তি পাওয়া এই ওয়েব সিরিজ নিয়ে দেশ-বিদেশের অনেকেই প্রশংসা করছেন।

কেউ জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, আবার কেউ মুঠোফোনে। সেই প্রশংসার পালে নতুন করে হাওয়া লাগালেন পশ্চিমবঙ্গের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি।

তিনি ‘মহানগর’র পরিচালক আশফাক নিপুণকে মুঠোফোনে ভূয়সী প্রশংসা করেন। আশফাক নিপুণ তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন।

নির্মাতাকে ফোন দিয়ে সিরিজটি দেখে তার মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। সিরজিটি জন্য আশফাক নিপুণকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। পরে কয়েক মিনিটের একটি অফিসিয়াল অডিও বার্তাও পাঠিয়েছেন প্রসেনজিৎ।

বিষয়টি নিয়ে রোববার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন আশফাক নিপুণ। সেখানে তিনি লিখেছেন, আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। কিছুক্ষণ আগে ভারতের কিংবদন্তি অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি স্বয়ং আমাকে কল করে ‘মহানগর’র ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়েছে তার সঙ্গে, যার পুরোটাই ছিল ‘মহানগর’ নিয়ে।

তিনি আরও লিখেছেন, প্রসেনজিৎ ওই সিরিজে মোশাররফ করিমের অভিনয়েরও অনেক প্রশংসা করেছেন।

অডিও বার্তায় প্রসেনজিৎ বলেছেন, ‘নাম্বার জোগাড় করে আমি নিজে থেকেই আশফাক নিপুণকে ফোন করেছি অভিনন্দন জানানোর জন্য। হইচই-এ আমি ‘মহানগর’ দেখেছি। অসম্ভব একটা ভালো কাজ হয়েছে। অভিভূত হয়ে গেছি। এখানে সবাই খুব ভালো অভিনয় করেছে। বিশেষ করে, করিম ভাইয়ের (মোশাররফ করিম) অভিনয় আমি আগেও দেখেছি, ওসি চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তিনি। দুই বাংলার মধ্যে এমন একজন ভালো অভিনেতা আছেন এটা ভেবেও আমি গর্বিত হচ্ছি।’

তিনি আর বলেছেন, পুরো টিমকে আমার শুভেচ্ছা। আশা করবো বড় পর্দায় জন্য খুব শিগগিরই সিনেমা বানাবেন নিপুণ।

গত ২৫ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’। এই ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, জাকিয়া বারি মম, লুৎফর রহমান জর্জ, শাহেদ আলী, শ্যামল মাওলা, খাইরুল বাসার, নাসির উদ্দিন খান, নিশাত প্রিয়ম, রুকাইয়া জাহান চমক প্রমুখ।

কোপার সেরা একাদশে নেই ডি মারিয়া!

কোপা আমেরিকা ও ইউরো কাপ শেষ হয়ে গেলেও এই দুই টুর্নামেন্টের আমেজ এখনও বিদ্যমান।

এরইমধ্যে টুর্নামেন্ট দুটির সেরা একাদশ ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা।

মঙ্গলবার কোপার টুর্নামেন্ট সেরা একাদশ ঘোষণা করে কনমেবল।

তাতে আধিপত্য চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনারই দেখা গেছে। যেখানে আর্জেন্টিনার ৪ ফুটবলারকে রাখ হয়েছে সেরার তালিকায় সেখানে ব্রাজিলের ৩ জন।

তবে অবাক করা বিষয় হলো আর্জেন্টিনার চার ফুটবলারের মধ্যে নেই আনহেল ডি মারিয়া! যিনি ফাইনালে গোল করে আলবিসেলেস্তেদের জিতিয়ে ২৮ বছরের শিরোপার খরা ঘুচিয়েছেন। হয়েছেন ম্যাচসেরা।

আর সেই ডি মারিয়াই স্থান পাননি কোপার সেরার একাদশে!

টুর্নামেন্টে দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন ডি মারিয়া। দুই ম্যাচে ভালো খেলেছেন। অন্য কয়েকটি ম্যাচে বদলি নামানো হয় তাকে। ওই ম্যাচগুলোতেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরিয়েছেন। আলো ছড়িয়েছেন। তবুও টুর্নামেন্টের সেরা একাদশে জায়গা হয়নি তার।

এদিকে অনুমিতভাবেই কোপা আমেরিকার সেরা একাদশে রাখা হয়েছে লিওনেল মেসি ও দলকে নকআউটপর্ব পার করে দেওয়া গোলরক্ষক আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে।

চ্যাম্পিয়ন দল থেকে একাদশে সুযোগ পাওয়া বাকি দুজন হলেন- ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, মিডফিল্ডার রদ্রিগো দি পল।

তিন ব্রাজিলিয়ানের মধ্যে অনুমিতভাবেই জায়গা পেয়েছেন নেইমার। মেসির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ব্রাজিলের বাকি দুইজন হলেন- ডিফেন্ডার মার্কিনিয়োস ও মিডফিল্ডার কাসেমিরো।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সাতজন শেষে বাকি খেলোয়াড়রা হলেন – ইকুয়েডরের লেফট ব্যাক পেরভিস এস্তুপিনান, পেরুর মিডফিল্ডার ইয়োশিমার ইয়োতুন ও চিলিয়ান রাইট ব্যাক মাউরিসিও ইসলা এবং ২৪ বছর বয়সি কলম্বিয়ার ফুটবলার লুইস দিয়াস।

টুর্নামেন্টে মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা দিয়াস। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে জোড়া গোলের পর তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৪টি।

কোপা আমেরিকার সেরা একাদশ:

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস (আর্জেন্টিনা)।

ডিফেন্ডার: ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (আর্জেন্টিনা), মার্কিনিয়োস (ব্রাজিল), পেরভিস এস্তুপিনান (একুয়েডর) ও মাউরিসিও ইসলা (চিলি)।

মিডফিল্ডার: রদ্রিগো দে পল (আর্জেন্টিনা), কাসেমিরো (ব্রাজিল) ও ইয়োশিমার ইয়োতুন (পেরু)।

ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), নেইমার (ব্রাজিল) ও লুইস দিয়াস (কলম্বিয়া)।

ম্যারাডোনার সঙ্গে মেসির তুলনা, যা বললেন ম্যারাডোনার ছেলে

ম্যারাডোনাকে কিংবদন্তি বললেও লিওনেল মেসির নামের আগে তা জুড়তে নারাজ অনেকেই। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি।

বিশ্লেষকরা আর্জেন্টাইন খুদেরাজকে এখনই কিংবদন্তিদের কাতারে দাঁড় করা রাজি নয়। এমনকি ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনাও করতে রাজি নয় তারা।

এর কারণ একটাই। ম্যারাডোনা বিশ্বকাপ জিতেছেন, মেসি জিততে পারেননি। কোপা জয়ের আগে তো দেশের হয়ে মেসির ঝুলি শূন্য ছিল। সে কারণে ক্লাব ফুটবলের রাজা কখনোই ম্যারাডোনাকে পেছনে ফেলতে পারবেন না। এমনটাই দাবি বিশ্লেষকদের।

তবে এবারের কোপা আমেরিকা জয়ের পর ফের সেই তুলনার বিষয়টি আলোচনা এসেছে। এখন মেসি, ম্যারাডোনার সমান হতে পেরেছেন কি না সে প্রশ্ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন দিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে দিয়েগো সিনাগ্রা। যাকে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র হিসেবেও ডাকা হয়।

সিনাগ্রার মতে, ম্যারাডোনার সঙ্গে তুলনার বিষয়টিতে মোটেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না মেসি। বিষয়টি তাকে পীড়া দেয়।

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়াভিত্তিক গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, ‘দিয়েগো ছিলেন দিয়েগো আর মেসি তো মেসি। যারা মেসির সমালোচনা যারা করে, তারা ফুটবলের কিছুই বোঝে না। আমার বাবার সঙ্গে তুলনা করায় মেসিকে অনেক ভুগতে হয়েছে। তাই বলে আমি মেসিকে অপছন্দ করি তা নয়। আমি তাকে ভালোবাসি। ফুটবল ইতিহাসে তার মতো আর কেউ নেই। দেশের হয়ে শিরোপা জেতায় তাকে অনেক সুখী লাগছে। সেটা দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে।’

এরপর প্রয়াত বাবার স্মরণে সিনাগ্রা বলেন, ‘অবশ্যই বাবাকে খুব মিস করি। তার কথাগুলো মনে পড়ে। আর্জেন্টিনার জার্সির প্রতি ভালোবাসাই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে।’

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা গত বছর ২৫ নভেম্বর মারা যান। ৬০ বছর বয়স হয়েছিল তার। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী এ কিংবদন্তি। বুয়েনস আয়ার্সে নিজ বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। তবে তার মৃত্যুর জন্য চিকিৎসকদের অবহেলা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আর্জেন্টিনার আদালতে এ নিয়ে মামলাও চলছে।

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম স্মরণে ফুলপুরে দোয়া মাহফিল

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার ফুলপুর পৌর শাখা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠত হয়েছে।

এতে দোয়া পরিচালনা করেন ভালুকা উপজেলার পশ্চিম নিশন্দা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব রূপসী বাজার মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা আমজাদ হোসেন।

পৌর শাখা যুগান্তর স্বজন সমাবেশের আহবায়ক মিজানুর রহমান আকন্দের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মাওলানা কারী সুলতান আহম্মদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাফিউল্লাহ সৈকত, সাংবাদিক মোখছেদুল হক দুলাল, মো. আবু রায়হান, বাহার উদ্দিন, মফিদুল ইসলাম, আকিকুল ইসলাম, সিটি কম্পিউটারের সজিব, এনামুল, ব্যবাসায়ী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন যুব

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় শিশু সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টিকে (০৯) অপহরণ এবং ধর্ষণ শেষে হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক লোমহর্ষক বর্ণনা দিল আসামি নজরুল ইসলাম (৩৫)।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি নজরুল। তিনি শিশু টুনি ওরফে বৃষ্টিকে ধর্ষণ-হত্যার লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন।

এর আগে ভোরে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বারুইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি নজরুলকে গ্রেফতার করে পিবিআই কিশোরগঞ্জের একটি দল। নজরুল কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহা জুড়ি গ্রামের ছমর উদ্দিনের ছেলে।

গ্রেফতারের পর পিবিআই তাকে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালতে সোপর্দ করে।

আদালতে জবানবন্দিতে নজরুল ইসলাম জানিয়েছে, সে তার কাকরল ক্ষেতে বৃষ্টির জমা পানি নামিয়ে বাড়ি ফেরার সময় পাটক্ষেতের পাশে সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টিকে দেখতে পেয়ে ধর্ষণের জন্য জড়িয়ে ধরে। এ সময় শিশুটি এ কথা তার মা-বাবার কাছে বলে দিবে বলে জানালে নজরুল মেয়েটির মুখ চেপে নিকটবর্তী পাটক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়।

সেখানে শিশুটিকে সে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টি বাঁচার চেষ্টায় নড়াচড়া করলে নজরুল মুখ এবং গলা সজোরে চেপে ধরে।

ধর্ষণ শেষে হত্যার পর নজরুল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক আচরণ ও চলাফেরা করতে থাকে। পরবর্তীতে সে গা ঢাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পলাতক হয়ে সর্বশেষ ঢাকার আশুলিয়ায় অবস্থান নেয়।

কিশোরগঞ্জ পিবিআই এর একটি বিশেষ টিম মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার বাড়ইপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হলে নজরুল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেন ১৬৪ ধারায় নজরুল ইসলামের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

ধর্ষিত হয়ে নিহত সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টি একই গ্রামের চুন্নু মিয়ার মেয়ে ও লোহাজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

কিশোরগঞ্জ পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, ঘাতক নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই এর পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, গ্রামের পাশে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে প্রতিদিনের মতো গত ২ জুলাই সকালে চুন্নু মিয়া মাছ ধরতে যাওয়ার সময় মেয়ে সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টিকে সঙ্গে নিয়ে যায়।

ওইদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ ধরতে না পারায় এবং বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় চুন্নু মিয়া মেয়ে সাদিয়াকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। মাছ ধরা শেষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুজি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে জয়নালের পাটক্ষেতে দুই পা কাঁচা পাট গাছে পেঁচানো এবং গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় সাদিয়া আক্তার টুনি ওরফে বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়। পরের দিন কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর ধর্ষণের পর সাদিয়াকে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান।

এ ঘটনায় বাবা চুন্নু মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে কটিয়াদী থানায় মামলা দায়ের করেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর পিবিআই, কিশোরগঞ্জ জেলার ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

ধর্ষণ করে হত্যা মামলাটি পিবিআই সিডিউলভূক্ত হওয়ায় পিবিআই গত রোববার ১১ জুলাই মামলাটি পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাখরুল হক খান এর ওপর তদন্তভার অর্পণ করা হয়।

আইএস আমাদের এবং সব মুসলিমের শত্রু: তালেবান

আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে তাদের শত্রু বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আইএস আমাদের শত্রু এবং সব মুসলিম দেশ এই গোষ্ঠীর বিরোধী।খবর তাসনিম নিউজের।

তালেবানের সঙ্গে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো রকম সম্পর্ক নেই বলে জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে তালেবানের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমাদের দ্বিতীয় আবাস এবং লাখ লাখ আফগান শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য আমরা এই দেশটির কাছে কৃতজ্ঞ।

পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করাকে তালেবান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপিকে তিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে মন্তব্য করে বলেন, আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিশ্বাসী নই। আমরা আমাদের দেশ থেকে কাউকে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করতে দেব না।

আফগানিস্তানের চলমান সংঘর্ষ সম্পর্কে তালেবান মুখপাত্র বলেন, আমরা আফগান জনগণের কোনো ক্ষতি করব না এবং তাদের জানমালের হেফাজত করা আমাদের কর্তব্য।

আফগান সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য তালেবান কাতারের রাজধানী দোহায় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে বলেও জানান জবিউল্লাহ মুজাহিদ।

তিনি দোহা সংলাপের সফলতা কামনা করেন। তালেবান মুখপাত্র বলেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে আফগানিস্তানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চাই। আমাদের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও আমার বলপূর্বক কাবুল দখল করব না বরং সংলাপকে প্রাধান্য দেব।

ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে যা বললেন এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ইসরাইলের নতুন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজোগের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে এই টেলিফোন আলাপকে বিরল ঘটনা উল্লেখ করে কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘ বছর বৈরি সম্পর্ক থাকার পর সাবেক মিত্র দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ফোনালাপ করলেন।

এর আগে শনিবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে এরদোগান বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি নিপীড়নের বিরুদ্ধে তুরস্ক কখনও চুপ থাকবে না।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরাইল ও তুরস্ক এক সময় আঞ্চলিক অংশীদার ছিল। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে। তুরস্ক সরকার প্রায় ইসরাইলের ফিলিস্তিন নীতি নিয়ে সমালোচনা করে থাকে।

ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট হেরজোগের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুইদেশের সম্পর্ক ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট এরদোগান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে প্রাকৃতিক শক্তি (এনাজি), পর্যটন এবং প্রযুক্তিতে দুই দেশের পারস্পারিক সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মতামতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও বিশেষ করে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

গত সপ্তাহে ইসরাইলে নতুন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজোগ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত জুনে ইসরাইলের সংসদ নেসেটে ভোটে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

সাবেক আ.লীগ-ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেয়ায় মো. সাজ্জাত হোসেন ও মো. ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায়।

একই ঘটনায় একই দিনে নগরের কোতোয়ালি থানায় মো. সাজ্জাত হোসেনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার (১৩ জুন) সাতকানিয়া থানার মামলাটি দায়ের করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের এবং কোতোয়ালি থানার মামলাটি দায়ের করেন শেখ মো. ফারুক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি।

মো. সাজ্জাত হোসেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে সম্প্রতি তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া মো. ফখরুদ্দিন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।

মামলার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন।

তারা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেয়ায় মো. সাজ্জাত হোসেন ও মো. ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা এবং একই ঘটনায় মো. সাজ্জাত হোসেনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।’

 

কামাল-তারেকের ষড়যন্ত্র চুরমার করে জাতি এগিয়ে যাবে

দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন ড. কামাল হোসেন সাহেব-বার্গম্যান-তারেক রহমানরা দেশের মানুষের গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথে যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকে ভেঙে চুরমার করে বাঙালি জাতিকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের এক জরুরি বৈঠক শেষে নেতারা এসব কথা বলেন। এর আগে ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ছাত্রলীগের করোনাকালীন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি সত্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের সময় দেশে হয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের সময়, বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগকে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।

করোনাকালে ছাত্রলীগের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন এই করোনাকালে মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দেশে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পবিত্র ঈদুল আজহা সমাগত। ঈদুল আজহার জন্য লকডাউন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তাই ঈদের সময়ও মানুষ যাতে সচেতন থাকে এবং মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে পরামর্শ দেন।

৭৫ পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়, তখন আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান এবং খুনী মোশতাক-জিয়ারা যখন দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তখন তাদের (বঙ্গবন্ধুসহ) রক্তের ওপর, সেই মুহূর্তে ড. কামাল হোসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি এই ঘটনার নিন্দাও জানাননি কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানানোর মতো সৎ সাহস তার ছিল না।

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অতীতে যেভাবে আমাদের মুগ্ধ করেছে, আমরা প্রত্যাশা করি সমানের দিনগুলোতেও তারা মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। সংগঠনকে শক্তিশালী করবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহউদ্দিন নাছিম বলেন, এই কঠিন সময়ে ছাত্রলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে বিশেষ করে বন্যা শুরু হচ্ছে, এ সময় ছাত্রলীগকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। অতীতে ছাত্রলীগ যেভাবে কাজ করেছে, লকডাউন যখন শিথিল হচ্ছে তখনও ছাত্রলীগ যাতে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষকে সচেতন করে, মানুষকে যাতে ক্ষুধার কষ্ট পেতে না হয় সেজন্য দুস্থ মানুষকে সহযোগিতা করবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মানুষকে সচেতন করবে, সহযোগিতা করবে।

বৈঠকে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল উপস্থিতি ছিলেন। এছাড়াও অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শাহাবুদ্দিন ফরাজি, সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা।

গ্রাহকের পরিচয় গোপন রেখে রপ্তানি নয়

রপ্তানির আড়ালে দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ মর্মে মঙ্গলবার সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বলা হয়েছে, গ্রাহকের পরিচয় গোপন করে বা বেনামে শেল ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো পণ্য রপ্তানি করা যাবে না।

বিদেশে শেল ব্যাংকের সঙ্গে দেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্পর্কও রাখতে পারবে না। আন্তঃদেশীয় সীমান্ত ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে। দেশি ব্যাংকগুলোর বিদেশি ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব (নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট) খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। অন্যথা হলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, রপ্তানি বাণিজ্যের লেনদেনকে ঝুঁকিমুক্ত করতে, যথাসময়ে রপ্তানির মূল্য দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং রপ্তানির আড়ালে টাকা পাচার বন্ধ করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো গ্রাহকদের নজরে আনার জন্যও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে।

শেল ব্যাংকিং হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা। এতে ব্যাংক গ্রাহকের নাম-ঠিকানা ছাড়াই শুধু একটি কোড নম্বরের ভিত্তিতে হিসাব খুলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য করা যায়। নাম-ঠিকানা থাকে না বলে এতে গ্রাহকের পরিচয় জানা যায় না। ফলে আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ রয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী দেশে শেল ব্যাংকের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। তবে কিছু দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে।

যেসব দেশে লেনদেন নীতিমালা শিথিল, ওইসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে শেল ব্যাংক পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। এমন কয়েকটি দেশের শেল ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক এলসির মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি করেছে-যা বেআইনি। এ বিষয়টি তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তঃদেশীয় সীমান্ত এলাকায় ব্যাংকগুলোকে প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত এলাকায় থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ঝুঁকি মোকাবিলার বিধিনিষেধগুলো মেনে চলতে হবে।

একই সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে অর্থ পাচারের কোনো ঘটনা না ঘটে। বিদেশি ব্যাংকে নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। কোনো ব্যাংক এসব বিধি না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকে এলসি খোলার মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে তৃতীয় কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে এলসির সত্যতা যাচাই করে নিতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় কোনো সন্দেহ হলে পণ্য রপ্তানি করা যাবে না।

এলসির বাইরে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়েছে, এক্ষেত্রে চুক্তির সত্যতা, যে ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে তার সঠিকতা, গ্রাহকের অবস্থা ও সুনাম সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনে তৃতীয় কোনো ব্যাংকের সহায়তা নিতে হবে। চুক্তির কাগজপত্র যথাযথভাবে নিরীক্ষণ করে নিয়ে ব্যাংক এর সত্যতা ও ঝুঁকির সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পদক্ষেপ নিতে হবে। এগুলো নিশ্চিত না হয়ে রপ্তানি করলে মূল্য দেশে না আসার ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে দায়দায়িত্ব প্রধানত ব্যাংকের ওপরই বর্তাবে।

রপ্তানির আড়ালে দেশ থেকে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে অর্থ পাচার হচ্ছে তার ১৯ শতাংশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে। দেশ থেকে গত অর্থবছর ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর ১৯ শতাংশ হিসাবে অন্তত ৭৬০ কোটি ডলার প্রতি বছর দেশ থেকে পাচার হচ্ছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে অপ্রত্যাবাসিত অর্থাৎ রপ্তানি আয় দেশে না আনার পরিমাণ বাড়ছে। এগুলো দেশে আনার ক্ষেত্রে তদারকি বাড়ানো হলেও তেমন একটা আসছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ওইসব অর্থ বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। করোনার সময়ে অপ্রত্যাবাসিত রপ্তানি আয়ের পরিমাণ আরও বেড়েছে।