শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 739

কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের শুষ্কতা এড়াতে করণীয়

ঘণ্টার পর ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করার ফলে চোখের ওপর প্রচুর চাপ পড়ে। এই চাপে কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম হতে পারে। যারা দীর্ঘসময় কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের ৫০-৯০ শতাংশই সমস্যাটিতে আক্রান্ত হতে পারেন। কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোমের প্রচলিত উপসর্গ হলো- চোখ ক্লান্ত হওয়া, চোখ শুষ্ক হওয়া, চোখে ব্যথা হওয়া ও মাথাব্যথা করা।

কম্পিউটার ব্যবহারে চোখে সমস্যা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো চোখের পলক ফেলার হার কমে যাওয়া। গড়ে একজন মানুষ মিনিটে চোখের পলক ফেলেন ১৫ থেকে ২০ বার। সে হিসাবে ঘণ্টায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ বার। তবে ইউনিভার্সিটি অব আইওয়া হসপিটালস অ্যান্ড ক্লিনিকসের তথ্য বলছে, কম্পিউটার ব্যবহারের সময় আমরা ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কম চোখের পলক ফেলি। কেবল তাই নয়, এসময় চোখের যেসব পলক পড়ে তা অসম্পূর্ণ হতে পারে।

স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ও ব্যবহারকারীরা কি করছেন তার ওপর ভিত্তি করে চোখের পলক ফেলার হার ব্যক্তিভেদে কম-বেশি হতে পারে। আপনি কম্পিউটারে যত বেশি চিন্তাশীল কাজ করবেন চোখের পলক তত কম পড়বে। আমাদের চোখ নিজেকে আর্দ্র রাখতে টিয়ার লেয়ারকে রিফ্রেশ করে। কিন্তু একাজটা নির্ভর করে চোখের পলক পড়ার ওপর। চোখের পলক সংখ্যা যত কমে, আর্দ্রতাও তত কমে যায়। এভাবে একসময় ড্রাই আইজ ডিজিজ বা শুষ্ক চোখের উপসর্গ প্রকাশ পায়। চোখের শুষ্কতা থেকে দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। তাছাড়া অত্যন্ত উজ্জ্বল মনিটরের কারণেও চোখের ক্ষতি হয়।

চোখের যত্নে কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

* ২০-২০-২০ নিয়ম: চোখ সুরক্ষার জন্য একটি নিয়ম হচ্ছে ২০-২০-২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর পর, ২০ ফুট দূরত্বের কোনো জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখ বিশ্রাম পাওয়ায় চোখে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকে এবং চোখের ওপর চাপ কমে।

* সহজে পাঠযোগ্য ফন্টের ব্যবহার: স্ক্রিনে পড়া বা লেখার জন্য ছোট ফন্ট ব্যবহার করবেন না। চোখের জন্য আরামদায়ক ফন্ট নির্বাচন করুন। কারণ ছোট ছোট লেখা চোখের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

* ঘনঘন চোখের পলক ফেলুন: কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়। এর ফলে চোখের পানি কমে যায় ও চোখ শুষ্কতা বা ড্রাই আই হতে পারে। এ অবস্থায় চোখ শুষ্ক বলে মনে হবে। কাঁটা কাঁটা লাগবে। চোখে অস্বস্তি ও ক্লান্তি আসবে। কম্পিউটারে কাজের সময় ঘনঘন চোখের পলক ফেলুন।

* একটানা কাজ নয়: একটানা বেশিক্ষণ কম্পিউটারের সামনে কাজ করবেন না। মাঝে মধ্যে কাজ থেকে বিরতি নিন। আর প্রত্যেক বিরতিতে নিজেকে একটু ঝাঁকিয়ে নিন। একটু হাঁটাচলা করুন, হাত পায়ের পেশিগুলোকে বিশ্রাম দিন। সঙ্গে একটু গরম চা বা কফিও খেতে পারেন। এতে কাজে নতুন উদ্যোমও তৈরি হবে।

* নিয়মিত চোখ পরীক্ষা: যারা কম্পিউটারে নিয়মিত কাজ করেন, তাদের প্রত্যেকের বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা আপনাকে চোখের সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে। কম্পিউটার ও আপনার চোখের দূরত্ব কতটা হওয়া উচিত ডাক্তারের থেকে তা জেনে নিন।

* সঠিক আলোর ব্যবহার: অভ্যন্তরীণ কোনো উজ্জ্বল আলো বা সরাসরি সূর্যের আলো কম্পিউটারে পড়লে তা চোখ ব্যথার কারণ হতে পারে। কম্পিউটারকে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে ঘরের জানালা বরাবর কম্পিউটারের অবস্থান না হয়। মাথার ওপর সরাসরি ফ্লুরোসেন্ট লাইট এড়িয়ে চলা ভালো। এছাড়া স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা সহনীয় মাত্রায় রেখে কাজ করা উচিত। উজ্জ্বলতা বেশি হলে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়।

* গ্লেয়ার কমানো: কম্পিউটার মনিটরের আন্টি গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার করে এবং চশমায় অ্যান্টি রিফ্লেকটিভ প্লাস্টিকের কাচ ব্যবহার করলে গ্লেয়ার কমানো যায়। এছাড়া কম্পিউটারের মনিটর যদি পুরোনো মডেলের হয়, তাহলে নতুন মডেলে বদলে ফেলুন।

* কাজের জায়গা বদল: আপনার কাজের জায়গা মাঝে মধ্যে বদলে নিন। বসার জায়গা, টেবিল চেয়ারের বদল প্রয়োজন। চেয়ারটি হাইড্রোলিক হলে ভালো হয়, যাতে কাজের সময় চোখের উচ্চতা কম্পিউটার মনিটরের চেয়ে সামান্য উঁচুতে থাকে। মনিটর চোখের বরাবর থাকতে হবে।

* কাজের অবসরে চোখ ম্যাসাজ: কাজের অবসরে চোখ বন্ধ করে দুইহাতের তালু দিয়ে চোখে ঢেকে রাখুন এক মিনিট। এরপর ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং চোখের পেশি শিথিল করুন। প্রতি অবসরে এমনটা করতে পারেন। একে চোখের যোগ ব্যায়াম বলে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের চোখকে প্রশান্তি দিতে এটি ভালো উপায়।

* অন্ধকারে কাজ পরিহার করুন: কখনোই অন্ধকার ঘরে বসে কম্পিউটারে কাজ করা উচিত নয়। আলোর ব্যবস্থা কম থাকলে মনিটরের ব্রাইটনেস কমিয়ে নিন।

* চোখে কম্পিউটার গ্লাস: কম্পিউটার ব্যবহারে চোখের সমস্যা এড়াতে সবচেয়ে ভালো উপায় কম্পিউটার গ্লাস। চোখ পরীক্ষককে দেখিয়ে এই ধরনের চশমা ব্যবহার করতে পারেন।

বাংলাদেশে টিকা সংকট সমাধানের আশ্বাস মার্কিন রাজনীতিবিদদের

বাংলাদেশে করোনার টিকা সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রভাবশালী নেতা কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্ট।

কানেকটিকাটে অবস্থিত ফাইজার গ্লোবাল সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় গবেষণা বিভাগের সহায়তায় বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ভ্যাকসিনের সহ-উৎপাদন ও ভ্যাকসিন সরবরাহের উপায় অনুসন্ধান করতেও সম্মত হন তিনি।

গত ১২ জুলাই গভর্নরের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের সঙ্গে সাথে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম

এর আগে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড সিটিতে বাংলাদেশি আমেরিকানরা রাষ্ট্রদূতের সম্মানে একটি স্বাগত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেখানে কংগ্রেসম্যান জন বি লারসন (ডেমোক্র্যাট-কানেকটিকাট), কংগ্রেস জাহানা হেইস (ডেমোক্র্যাট-কানেকটিকাট), কানেকটিকাটের লেফটেন্যান্ট গভর্নর সুসান বাইসিউইচ, রাজ্য সিনেটর সৌদ আনোয়ার, ম্যানচেস্টার সিটি মেয়র জে মুরান, কানেকটিকাট ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ন্যান্সি ডিনার্ডো, ডা. মেহেদী আনোয়ারসহ স্থানীয় কমিউনিটির নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার সময় কংগ্রেস সদস্য লারসন এবং কংগ্রেসওমেন হেইস করোনার টিকাদানসহ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ বাংলাদেশ-মার্কিন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়নসহ বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিরও প্রশংসা করেছেন।

কানেকটিকাট প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ম্যানচেস্টার প্রবাসী আব্দুল কাইয়ুম আর নেই। স্থানীয় সময় শনিবার (১০ জুলাই) রাতে ম্যানচেস্টার মেমোরিয়ায়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানস্যারে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। ম্যানচেস্টার প্রবাসী প্রকৌশলী আমিরুজ্জামান টুটুল তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

ম্যানচেস্টারের বায়তুল মামুর মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জানান, হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম নিজের ভাগ্য গড়তে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
প্রায় ৯ বছর নিউইয়র্কে বসবাসের পর ১৯৯৯ সালে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশে কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে চলে যান এবং সেখানেই পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেন।

প্রয়াত আব্দুল কাইয়ুমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আশিকুর রহমান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানচেস্টারে বায়তুল মামুর মসজিদ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তার বিশেষ অবদান ছিল। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ওই মসজিদের সহ-সভাপতি এবং ২০১৭ সাল থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

রোববার দুপুরে বায়তুল মামুর মসজিদে তার জানাজা শেষে এনফিল্ডের মুসলিম কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে ম্যানচেস্টারসহ কানেকটিকাট প্রবাসীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আব্দুল কাইয়ুমের মৃত্যুতে বায়তুল মামুর মসজিদ কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্মার্টফোনের আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

করোনাভাইরাস নিত্যজীবনে প্রভাব ফেলেছে। অনেকের সঙ্গী এখন আইপ্যাড, ই-বুক, ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ। হাতে হাতে স্মার্টফোন তো রয়েছেই। বেশিরভাগ সময় ভার্চুয়াল জগতে বিচরণ বেড়ে গেছে মানুষের। অনেকে স্মার্টফোনে নাটক-সিনেমা, ওয়েব সিরিজও দেখেন। আবার কেউ অনলাইন গেমস-এ মেতেছেন। অর্থাৎ দিনের অধিকাংশ সময় স্মার্টফোনের পর্দায় কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থী থেকে পেশাজীবী সবাই।

এখন আর বিষয়টি অজানা নয় যে, স্মার্টফোনে স্ক্রিন টাইম বেড়ে গেলে শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। সংসার হতে পারে প্রেমশূন্য, বাড়তে পারে অশান্তি। বিশেষ করে শিশুদের স্মার্টফোনে গেম খেলার অভ্যাস ডেকে আনে অন্য বিপদ। গেমের মতো মজার দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর পড়াশোনার মতো নীরস বিষয়ে আগ্রহ কমে যেতে পারে। এছাড়া গেম খেলার সময় মন এতো একাগ্র থাকে যে চোখের পলক পড়া কমে যায়। তাই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, দিনে স্ক্রিন টাইম দুই ঘণ্টার বেশি যেন না হয়।

যদি ইতোমধ্যেই স্মার্টফোনের ক্লান্তি, স্ট্রেস বা চাপে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন তাহলে হঠাৎ করে এখনই বন্ধ করতে পারবেন না। কিন্তু সময়টা যাতে কমিয়ে আনা যায় সে চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন, বিশ মিনিট অন্তর মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে বিশ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে বিশ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন এবং বিশবার চোখ পিটপিট করুন। এতে চোখে চাপ কম পড়ে। গদি আঁটা চেয়ারে সোজা হয়ে বসতে হবে। পা যেনো মাটিতে পৌঁছায়। এতে ঘাড়ে ও কোমরে চাপ কম পড়বে। চোখের ক্ষতি কমাতে ল্যাপটপ, টিভি, স্মার্টফোনের উজ্জ্বলতা ও কন্ট্রাস্ট কমিয়ে রাখতে হবে। ঘরের আলো স্মার্টফোনের আলোর চেয়ে যেনো কম উজ্জ্বল হয় লক্ষ্য রাখতে হবে। দরকার হলে দু’একটা আলো নিভিয়ে দিতে হবে। তবে একদম অন্ধকার ঘরে স্মার্টফোন ব্যবহার করা অনুচিত।

খোলা জানালা বা চড়া আলো পেছনে না রেখে, যেনো পাশে থাকে, বাঁ-দিকে থাকে, তাহলে বেশি ভালো হয়। না হলে পর্দায় তা প্রতিফলিত হয়ে সমস্যা বাড়ায়। কম্পিউটারে বসলে মনিটর যেনো বিশ থেকে বাইশ ইঞ্চি দূরে চোখের সমান্তরালে দশ ডিগ্রি হেলে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। চোখের লেভেল থেকে স্ক্রিন একটু নিচে থাকলেও চোখে কম চাপ পড়ে। তাই এক ফুট দূরে রেখে স্মার্টফোন দেখার অভ্যাস করা দরকার। অর্থাৎ বই পড়ার সময় যে দূরত্ব থাকে সে দূরত্ব থাকা দরকার। আর হ্যাঁ, আধ ঘণ্টার বেশি এক জায়গায় টানা বসে থাকা উচিত নয়।

রাতে ঘুমানোর সময় বিছানায় ফোন রাখবেন না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই মেসেঞ্জার বক্স চেক করবেন না। অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এলে বুঝতে পারবেন। এ জন্য ঘনঘন ফোন দেখার দরকার নেই।

স্মার্টফোনে বেশি সময় কাটালে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। এ কারণে ক্লান্তি, আসক্তি এবং কুঁড়েমি একত্রে চেপে বসলে স্বাভাবিক জীবনের লক্ষ্যবিন্দু নড়ে যেতে পারে। এ জন্যই বলা হয়, স্মার্টফোন পারিবারিক ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ব্যাহত করছে। তবে এ থেকে বেরিয়ে আসারও উপায় রয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে উপায়গুলো আবিষ্কার করেছেন। তারা বলছেন, স্মার্টফোন নির্ভরতা কাটাতে সময় লেগে যেতে পারে প্রায় ছয় মাস। তা লাগুক, কিন্তু শুরু করতে হবে এখন থেকেই। কেননা অতিরিক্ত স্মার্টফোন নির্ভরতা কাটাতে না-পারলে সুস্থ্য স্বাভাবিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

বেলুন হতে পারে বিপদের কারণ

জন্মদিন বা ঘরোয়া পার্টিতে শিশুদের আনন্দ দিতে নানা রঙের বেলুন থাকবে না, তা চিন্তাই করা যায় না। তবে অনেকে বেলুন শুধু ফুলিয়েই নয়, বরং বেলুন ফাটিয়েও শিশুদের আনন্দ দিয়ে থাকেন। এছাড়া মুখ দিয়ে বেলুন অতিরিক্ত ফুলানোর সময় তা ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

তবে গবেষকরা ফেলুন ফাটানোকে বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেননা বেলুন ফাটার শব্দে শিশুর শ্রবণশক্তি আজীবনের জন্য নষ্ট হতে পারে। কানাডার অডিওলজিস্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার গবেষকরা একটি বেলুন ফাটালে যে শব্দদূষণ হয় তার মাত্রা নির্ণয় করেন। তারা তিন পদ্ধতিতে বেলুনগুলো ফাটান- পিনের সাহায্যে, হাত দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে এবং মুখ দিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত বেলুন ফুলিয়ে, যতক্ষণ না পর্যন্ত বেলুনটি বিস্ফোরিত হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, মুখ দিয়ে বেলুন ফোলানোর সময় তা বিস্ফোরিত হলে সর্বোচ্চ শব্দ হয়। এ সময় ১৬৮ ডেসিবল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হতে পারে। যা একটি শর্টগান এর শব্দের চেয়ে বেশি এবং ৩৫৭ ম্যাগনাম রিভলবার এর সমতুল্য। এই মাত্রার শব্দ একজন প্রাপ্ত বয়স্কের জন্যও অনিরাপদ। অন্য দুই পদ্ধতিতে বেলুন ফাটলে কিছুটা কম শব্দ উৎপন্ন করে কিন্তু তারপরও তা বিবেচ্য বিষয়।

গবেষকদের মতে, বেলুন ফাটানোর বিকট আওয়াজ কানের ভেতরের লোমগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে, যা পরবর্তীতে আর গজায় না, তাই এটি স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট করে বধির করে দিতে পারে।

গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক বিল হডগেটস বলেন, ‘যেসব কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, সেসব বিষয়ে আমরা সতর্ক করতে চাইছি। কারণ শ্রবণশক্তি যদি একবার নষ্ট হয় তাহলে কোনো হিয়ারিং এইড দিয়েই তা স্বাভাবিকের মতো করা সম্ভব নয়। আমরা বাচ্চাদের বেলুন নিয়ে খেলতে বা আনন্দ করতে নিষেধ করছি না। তবে বেলুন ফাটাতে নিষেধ করছি। যেকোনো পিলে চমকানো আচমকা আওয়াজ শ্রবণশক্তির ওপর দীর্ঘকালীন প্রভাব ফেলতে পারে।’

বিনামূল্যে সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ পানি

আমরা সবাই শুনে এসেছি যে, পানির অপর নাম জীবন। কারণ আমাদের বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন। আর জেনে অবাক হবেন— এই প্রয়োজনীয় উপাদানটি আপনার শরীরের বিভিন্ন সমস্যার বিপরীতে একদম ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

আমরা প্রতিদিনের কাজেই ব্যবহার করে থাকি পানি। এটি আমাদের শরীরকে ভালো রাখার পাশাপাশি মনকে ভালো রাখতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া শরীরের ব্যথা নিরাময়ে, শরীরের তাপমাত্রা সঠিক রাখতে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতেও অনেক কার্যকরী হিসেবে কাজ করে পানি। এমনকি শরীরের বিভিন্ন রোগ, যেমন— ডায়রিয়া, জ্বর ও শরীর দুর্বলতার বিরুদ্ধে প্রধান ওষুধ হিসেবে কাজ করে পানি। আর এ সমস্যাগুলোর জন্য পানি হচ্ছে বিনামূল্যের সবচেয়ে কার্যকরী ওষুধ।

সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে সারাদিনই ব্যবহার হয় পানি। সকালে ঘুম থেকে উঠে বা বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে এসে প্রথমেই সবার চিন্তা আসে পানি পান করার। আর এটিও নিমিষেই দূর করে ফেলতে পারে ক্লান্তি এবং শরীরে জোগায় শক্তি।

এর বাইরেও অনেক সমস্যা সমাধানে পানি কাজ করে ওষুধের মতোই। জানুন পানির কিছু গুণাগুণ—

১. ওজন কমাতে
ওজন কমাতে ওষুধের মতো কাজ করে পানি। খাওয়ার আগে মাত্র আধা লিটার পানি পান করুন, তাতেই এটি ওজন কমাতে কাজ করবে ওষুধের মতো।

২. জ্বরের জন্য
প্রচণ্ড জ্বরের সমস্যা সমাধান করতেও পানি অনেক কার্যকরী। জ্বরের জন্য প্রচুর পানি পান করলে অনেক উপকার মিলে। এ ছাড়া জ্বর কমাতে পানি দিয়ে মাথায় পট্টি দেওয়া, মাথা পানি দিয়ে ধোয়া ও কাপড়ের সাহায্যে পানি দিয়ে শরীর মুছলে সেটি কাজ করবে জ্বরের সমাধান হিসেবে।

৩. ডায়রিয়া কমাতে
ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়। আর এটি হলে সবচেয়ে ভালো ওষুধ হচ্ছে পানি। ডায়রিয়া কমাতে হলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি ও স্যালাইন পানি খেতে পারেন। এ ছাড়া নিতে হবে প্রচুর বিশ্রাম। এতে কমে আসবে ডায়রিয়া।

৪. হজমশক্তি বাড়াতে
আমাদের শরীরের হজমশক্তি বাড়াতে পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যত বেশি পরিমাণে পানি পান করা হবে শরীরের হজমশক্তি ততই ভালো হবে।

৫. ক্লান্তি দূর করে
শরীরের ক্লান্তি দূর করতে পানির কোনো বিকল্প নেই। আমাদের একটু কোনো কাজ করতেই লাগে পানির পিপাসা। আর এ সময় পানি পান করলেই দূর হবে শরীরের ক্লান্তিভাব।

৬. শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করার ফলে এটি আপনার শরীর থেকে ইউরিয়া নাইট্রোজেন নামে রক্তের প্রধান টক্সিনকে বের করে দেয়। এটি লিভারের প্রোটিন ভেঙে ফেলতে ও কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করে। বেশি পানি পান করলে তা আমাদের রক্ত থেকে ইউরিয়া নাইট্রোজেন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।

৭. শরীরের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি
একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ অংশই পানির সমন্বয়ে গঠিত। আর এর জন্য পানি আমাদের শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে থাকে।

আপনি খাবার না খেয়েও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবেন। কিন্তু পানি পান না করলে সেটি আমাদের শরীরের ওপরে প্রভাব ফেলে মাত্র দুদিনেই। আর পানি ছাড়া বেঁচে থাকা যায় সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের কাছাকাছি সময়। তাই পানি আমাদের জন্য অপরিহার্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র; ইসাবেল হেলথকেয়ার ডটকম

নবজাতককে কখন গোসল করাবেন?

অনেকে প্রশ্ন করেন, সিজারে বাচ্চা হয়েছে, কতক্ষণ পর গোসল করাতে হবে?

এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈমা সুলতানা।

নবজাতককে প্রথম ৭২ ঘণ্টা গোসল করানো যাবে না। নরমাল কিংবা সিজারের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম নেই। একটি বাচ্চার জন্ম যেভাবেই হোক, সুস্থ বাচ্চার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়মই চলবে।

অনেকে জানতে চান বাচ্চাকে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে নাকি কুসুম গরম পানি দিয়ে? এক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হলো, আপনাদের কাছে যে তাপমাত্রা সহনীয় মনে হয়, তা দিয়ে গোসল করাবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, বাচ্চাকে অনেকক্ষণ ধরে গোসল করানো যাবে না। কারণ গোসল করানোটা একটা স্বাভাবিক যত্নের অংশ।

শীতকালে কোনো বাচ্চার জন্ম হলে আমরা মায়েদের পরামর্শ দিয়ে থাকি, বাচ্চাকে একটা টাওয়েলে কিছুটা পেচিয়ে রাখতে। এতে তার শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা গরম থাকবে। তবে অনেকে গরমকালে বাচ্চা হলে, একই কাজ করেন। বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যাবে এই ভয়ে ফ্যান ছাড়ে না। শীতকালের মতো যত্ন করে। এটা করা যাবে না। ছোট বাচ্চাদের এমন তাপমাত্রায় রাখতে হবে যাতে তারা অতিরিক্ত ঘেমে কিংবা ঠান্ডা না হয়ে যায়। কারণ ঘেমে গেলে লে ঠান্ডা লেগে যাবে। আমরা বলে থাকি, একজন নবজাতকের জন্য কক্ষের তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে রাখতে হবে। এসি ব্যবহার করলেও তাপমাত্রা এটিই রাখতে হবে। নবজাতকের জন্য এটিই সহনীয় তাপমাত্রা।

আমরা মায়েদের আরেকটি কমন প্রশ্নের সম্মুখীন হই। সেটা হলো, বাচ্চা দুধ টানতে পারছে না, নাকে শব্দ করছে। মা কল করে বাচ্চার এ ধরনের সমস্যা বললে চিকিৎসক হয়তো ঠান্ডার কোনো ওষুধ দেন। এসব ক্ষেত্রে আগে আসলেই বাচ্চার ঠান্ডা লেগেছে কিনা যাচাই করে নিতে হবে। কারণ ৩ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের ন্যাজাল ব্লকেট বা নাকে শব্দ করা খুব কমন ব্যাপার। এক্ষেত্রে আমরা ন্যাজাল স্প্রে দিয়ে নাকটা একটু পরিষ্কার করে দিতে পরামর্শ দেই। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, কাশি না থাকে এবং ঠিকমতো মায়ের বুকের দুধ টেনে খেতে পারে তাহলে কোনো সমস্যা নেই।

অনেক সময় বাচ্চার নাক বন্ধ থাকলে তাদের দুধ খেতে সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে ন্যাজাল ড্রপ দিয়ে নাকটা পরিষ্কার করে দিলে আর সমস্যা থাকবে না।

আমাদের সমাজে এখন কম ওজনের বা অপরিণত শিশু জন্মের হার বেড়ে গেছে। একটা শিশু মাতৃগর্ভে ৩৭ থেকে ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকলে তার কোনো সমস্যা হবে না। ৩৭ সপ্তাহের আগেই বাচ্চার ডেলিভারি হয়ে যায় এবং ওজন কম থাকে, তাদের আমরা অপরিণত বাচ্চা বলে থাকি। ৩৫ সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ডেলিভারি হয়ে গেলে অবশ্যই বাচ্চাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। এসব বাচ্চার বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ যত্নগুলো চিকিৎসকরা মায়েদের শিখিয়ে দেন। এসব বাচ্চারকে খাওয়ানোর জন্য আলাদা কিছু কৌশল রয়েছে।

অপরিপক্ক বাচ্চার যত্নে চিকিৎসকরা কেএমসি (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার) শিখিয়ে দিবেন। কেএমসি নিয়ে আমি অনেক দিন কাজ করছি। এটি এতটাই উপকারী যে, যেসব বাচ্চা ১২-১৫শ’ গ্রাম নিয়ে জন্ম নিচ্ছে, এই বিশেষ যত্নে তারা বেড়ে উঠছে। আগে এক সময় দেখা যেত, খুব কম বাচ্চাই ১১শ’ গ্রাম নিয়ে জন্ম নিয়েছে। কিন্তু এখন এ ধরনের ঘটনা খুবই কমন ব্যাপার এবং এ বাচ্চাগুলো বর্তমানে কেএমসির মাধ্যমে বেঁচে থাকছে।

সেশনজটের ধকল স্কুল-কলেজে

বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এবার সেশনজটের ধকল পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। প্রায় ১৬ মাস বন্ধ থাকায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা হয়নি। এসএসসি-এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষাগুলো শুধু বন্ধই নয়, একটির পেছনে আরেকটি হাজির হওয়ার পথে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে পরীক্ষাগুলোর তারিখ পুনর্নির্ধারণও করা যাচ্ছে না। কবে নাগাদ এগুলো নেওয়া যাবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। গণসাক্ষরতা অভিযানের (ক্যাম্পে) উপ-পরিচালক কেএম এনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, করোনার দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পরিমাপ করে বোঝানো যাবে না। পরীক্ষাগুলো আটকে আছে। ঠিকমতো শ্রেণি কাজ হয়নি।

যদিও সরকারি লোকজনের কথায় মনে হতে পারে অনলাইনে শতভাগ শিক্ষা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। করোনায় শিক্ষার ক্ষতি পূরণে সরকার ইতোমধ্যে ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্ল্যান’ নামে একটি দলিল তৈরি করেছে। এর আলোকে কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী শিখন ঘাটতি পূরণে কাজ করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেশনজট সৃষ্টি হয়ে থাকে। আগের বছরের পরীক্ষা না হওয়ায় পরের বছরের পরীক্ষা আটকে যায়। এভাবে চলতে চলতে সৃষ্টি হয় সেশনজট। করোনার কারণে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবার স্কুল-কলেজে।

চলতি বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল যথাক্রমে ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে। মহামারির ডামাডোলে সেই পরীক্ষা এখন পর্যন্ত হয়নি। যথাসময়ে পরীক্ষা দুটি নেওয়া গেলে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা এখন কলেজে ক্লাস করত। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায়। অন্যদিকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উল্লিখিত দুই পরীক্ষার কাজ শেষ না করলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে এ পরীক্ষা দুটি পিছিয়ে যাবে।

সে ক্ষেত্রে এ দুই স্তরে সেশনজট আরও দীর্ঘায়িত হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতিই আমাদের অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য করছে। তবে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি আছে। এইচএসসিও নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। কিন্তু বিদ্যমান অবস্থার কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, পরীক্ষা কবে নাগাদ নেওয়া যাবে সেটিরই নিশ্চয়তা নেই। এখন পর্যন্ত সরকারের চিন্তা হলো, ‘কাস্টমাইজড’ সিলেবাসের ভিত্তিতে ক্লাস শেষে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে বিকল্প পন্থা নেওয়া হতে পারে। সেটি হচ্ছে, সিলেবাসের ওপর মূল্যায়ন করা। যেহেতু আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি এসএসসি পরীক্ষা নিতে হবে তাই ডিসেম্বরের মধ্যে এবারের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার কাজ শেষ করতে হবে। শিগগিরই বিকল্প পন্থা অবহিত করার লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংবাদ সম্মেলনে আসবেন।

শিক্ষা বিশ্লেষকরা জানান, বিদ্যমান ছাত্রছাত্রীদের সেশন পেছালেও তাদের কম-বেশি লেখাপড়া চলছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে প্রাক-প্রাথমিক বা প্লে, নার্সারি ও কেজি বা শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের। এ বছর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুই বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা স্তর চালু করা হয়।

পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে ভর্তির বয়স আরও এক বছর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ৪ বছর বয়সি শিশুরা পারবে ভর্তি হতে। এর ফলে অন্তত ৬০ লাখ শিশু ভর্তি উপযোগী বলে জানা গেছে। এসব শিশুর প্রায় সবই ভর্তিবঞ্চিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। জীবনের শুরুতেই তারা সেশনজটে পড়ে গেল। অনেকটা ঘরবন্দি ও লেখাপড়াবিহীন জীবন কাটছে তাদের। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৩৭ লাখ শিশু প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হয়।

গত ১৬ মাসে স্কুল ও কলেজে একটি পরীক্ষাও নেওয়া যায়নি। গত বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এবারের এ দুই পরীক্ষাও বাতিলের চিন্তাভাবনা চলছে। সাধারণত নভেম্বরে এ পরীক্ষা দুটি হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ দুই স্তরের সেশনজট দূর করার লক্ষ্যে গত বছর পরীক্ষা না নিয়ে পরের শ্রেণিতে অটোপাশ দিয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে।

করোনা শুরুর আগে নেওয়া হয়েছিল গত বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। যে কারণে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ঘরে বসেই তাদের বছরটি পার হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তারা দ্বাদশ শ্রেণিতে উঠার বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারেনি। আর গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় ‘অটোপাশ’।

একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল স্কুল-কলেজের অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে। প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে ষষ্ঠ, সপ্তম, নবম শ্রেণিতে অটোপাশ দেওয়া হয়।

পিইসি উত্তীর্ণরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও মাধ্যমিকের কোনো স্বাদ পায়নি এখনও। এসএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় বর্তমানে দশম শ্রেণিতে দুটি ব্যাচ আছে। এবারে যারা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারাও অটোপাশে উঠেছে দ্বাদশ শ্রেণিতে। তাদের এইচএসসির টেস্টও বাতিল করা হয়। আর এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও দিতে পারেনি গতবছরের অর্ধবার্ষিক, প্রি-টেস্ট এবং টেস্ট পরীক্ষা। সর্বশেষ এখন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা কোনো অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা নিতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোপাশ দিয়ে সেশন বাঁচানো গেছে। কিন্তু এতে ছাত্রছাত্রীরা শেখার ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারেনি। এখন সেটা থেকে বাঁচানোর পথ বের করতে হবে। আর সে জন্য কয়েক বছর মেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি কোভিড রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করা দরকার।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এবারে জানুয়ারিতে ক্লাস শুরু করা যাবে- এমন আশা থেকে গত বছরে সরাসরি ক্লাসরুমে না পড়ানোর ক্ষতি পোষানোর পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু এবার কবে ক্লাস শুরু করা যাবে তা নিশ্চিত নয়। তাই কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। বারবার কোনো পরিকল্পনা করা যায় না। তাই ক্লাস কার্যক্রম চালু হলে একটি ‘পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা’ (রিকভারি প্ল্যান) তৈরি করা হবে।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি দফায় দফায় বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ ছুটি।

রাবির নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপউপাচার্য হিসেবে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু। মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপসচিব নূর-ই-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ (সংশোধিত আইন-১৯৯৯) এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগ আগামী ১৭ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, উপ-উপাচার্য পদে অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলামের নিয়োগের মেয়াদ হবে ৪ বছর। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তিনি নিয়মিত চাকরির বয়সপূর্তিতে মূল পদে প্রত্যাবর্তনপূর্বক অবসর গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন শেষে উক্ত মেয়াদের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবেন।

এ পদে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। তার নিয়োগ ১৭ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

ঐশ্বরিয়ার জন্য এত বড় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন সুস্মিতা!

বলিউড সেনসেশন ঐশ্বরিয়া রাই এখন অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন অভিনয়ে। বচ্চন পরিবারের বউ হয়ে অনেকটা সংসারী হয়ে গেছেন। যতদিন সিনেমা করেছেন ততদিন তার সমকক্ষ কেউ ছিল না। তিনিই ছিলেন বলিউডে নম্বর ওয়ান চয়েজ।

সুহাসিনী সুস্মিতা সেনও একটা সময় পর্দা কাপিয়েছেন। তার ছিপছিপে গড়ন আর অসাধারণ নাচ সবাইকে মুগ্ধ করেছে।

এই দুই অভিনেত্রীর একটা জায়গায় মিল রয়েছে। দুজনই বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার মুকুট মাথায় পড়েছেন।

ঐশ্বরিয়ার জন্য বড় একটি ত্যাগের কথা সামনে এনেছেন সুস্মিতা সেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ১৯৯৪ সালের ‘মিস ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতা থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিয়েছিলেন সুস্মিতা সেন। তার কারণ, ঐশ্বরিয়া রাই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্যর জন্য নাম সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি খোলাসা করেন সুস্মিতা। কেন সরিয়ে নিয়েছিলেন তার কারণও জানান সাবেক বিশ্ব সুন্দরী।

সুম্মিত জানান, ওই সময়ে ঐশ্বর্যা একজন প্রতিষ্ঠিত মডেল। সুন্দরী হিসেবে নাম-ডাক হয়েছিল তার। কিন্তু আমি তখনও নিজের জায়গা তৈরি করতে পারিনি। প্রতিযোগিতায় নাম লেখাতে গিয়ে আমি জানতে পারি, ঐশ্বরিয়া রাই সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

একইসঙ্গে তাকে জানানো হয়, ততক্ষণে আরও ২৫ জন মডেল প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের নাম সরিয়ে নিয়েছেন। সবাই ভেবেছিলেন, ঐশ্বর্য থাকলে অংশ নিয়ে লাভ নেই।

সেই সময় সুস্মিতাকেও প্রতিযোগিতার এক কর্মী বলে বসেন, ‘আপনি নাম জমা দেওয়ার আগে ভেবে নিন। ঐশ্বর্য রাই অংশ নিচ্ছেন।’’ সুস্মিতা তৎক্ষণাৎ ফর্ম ফেরত নিয়ে নেন।

মজার বিষয় হচ্ছে পরে ওই প্রতিযোগিতায়ই অংশ নিয়ে মিস ইউনিভার্স হন সুস্মিতা। সেই ঘটনাও খুলে বলেন।

ফরম ফেরত দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পরে মায়ের কাছে বকুনি খেতে হয় সুস্মিতাকে। তার মা তাকে বলেন, প্রতিযোগিতায় না গিয়ে হাল ছেড়ে দিলে তুমি? তোমার যদি মনে হয়, ঐশ্বর্য খুব সুন্দরী, সে-ই জিতবে, তাহলে তার কাছে হারতে অসুবিধা কোথায়?

মায়ের কথা শুনে প্রতিযোগিতায় যোগ দেন সুস্মিতা। তার ফলাফল, ঐশ্বর্যাকেও হারিয়ে দেন তিনি। অর্জন করেন ‘মিস ইন্ডিয়া’-র মুকুট। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন ঐশ্বর্য। পরবর্তীকালে ঐশ্বর্যকেও এই গল্প বলেছিলেন বলিউড সেনসেশন।