শুক্রবার ,১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 735

ইরানে বিয়েতে উৎসাহিত করতে ইসলামিক ডেটিং অ্যাপ

ইরান নতুন একটি ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে নারী পুরুষ বিয়ে করার জন্য পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পাবেন।

এর লক্ষ্য হচ্ছে বিবাহিত দম্পতিদের বিয়ে যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়। দেশটিতে বিবাহ বিচ্ছেদের হার ক্রমশ বাড়ছে এবং শিশু জন্মের হারও কমে যাচ্ছে। খবর বিবিসির।

এই ইসলামিক অ্যাপটির নাম হামদান, ফারসি ভাষায় যার মানে ‘সঙ্গী’। ইসলামিক মূল্যবোধ প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত ইসলামিক প্রোপাগান্ডা অর্গানাইজেশান নামে একটি সংস্থার উদ্যোগে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।

দাবি করা হচ্ছে এই অ্যাপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘শুধু স্থায়ী বৈবাহিক সম্পর্কে আগ্রহী অবিবাহিত পুরুষদের’ জন্য সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে দেবে এবং একমাত্র একজন স্ত্রী হবেন এমন পাত্রী খুঁজে দেবে।

ইরানে নারী ও পুরুষ সঙ্গী খোঁজার জন্য ডেটিং অ্যাপসগুলো বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এখন থেকে শুধু বৈধ ডেটিং অ্যাপ হিসাবে ব্যবহার করা যাবে ‘হামদান’।

হামদানের ওয়েবসাইট বলছে অ্যাপ আগে ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করা হবে এবং জীবনসঙ্গী খোঁজার কাজ শুরু করার আগে তাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার পরীক্ষা দিতে হবে।

হামদান অ্যাপ যখন বিয়ে করতে আগ্রহী এমন পুরুষ ও নারী জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবে যারা একে অন্যের জন্য উপযুক্ত, তখন ছেলে ও মেয়ের দুই পরিবারকে তারা একসঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে এবং সেখানে উপস্থিত থাকবেন তাদের সংস্থার উপদেষ্টারা।

বিয়ের পর চার বছর তারা ওই বিবাহিত দম্পতির ‘সঙ্গে সঙ্গে’ থাকবে। হামদান অ্যাপটি তৈরি করেছে তেবিয়ান কালচারাল ইনস্টিটিউট।

তারা বলছে এই অ্যাপ একটা সুস্থ পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরি করবে। তারা বলছে ইরানের শত্রু এবং শয়তানের হুমকির কারণে পরিবারগুলোতে ইসলামিক মূল্যবোধ এখন বিপন্ন।

নাগরিক তথ্য নথিভুক্ত করার জাতীয় সংস্থা ন্যাশানাল অর্গানাইজেশান ফর সিভিল রেজিস্ট্রেশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের মার্চ এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ইরানে তিন লাখ সাত হাজার তিনশ বিয়ে এবং ৯৯ হাজার ছয়শ বিবাহ বিচ্ছেদ নথিভুক্ত হয়েছে।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

রাজধানীর রমনা ও মতিঝিল এলাকার বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে রীতিমতো অতিষ্ঠ। তুচ্ছ ঘটনায় হইচই-মারামারি নিত্যদিনের ঘটনা।

কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য পেশাদার অপরাধী হিসাবেও পুলিশের তালিকাভুক্ত। কেউ কেউ হাত পাকিয়েছেন চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায়। স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ইভটিজিং আর বখাটেপনায় অনেকে সিদ্ধহস্ত।

সূত্র বলছে, পুলিশের রমনা ও মতিঝিল জোনে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ১৯। এর মধ্যে মতিঝিলে ১১ এবং রমনায় ৮। প্রতিটি গ্যাংয়ের পেছনে সরকারদলীয় কতিপয় নেতার আশীর্বাদ রয়েছে। কিশোর গ্যাং লালনপালনের নেপথ্যে তাদের উদ্দেশ্য একটাই-যে কোনোভাবে এলাকার আধিপত্যবজায় রাখা।

পৃষ্ঠপোষক যারা : রমনা ও মতিঝিল এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে পুলিশের তালিকায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার নাম পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ কামাল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন তপু। এর মধ্যে মোরশেদ কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে-তিনি কলাবাগান এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং জসিম গ্রুপকে শেল্টার দেন। এছাড়া হাজারীবাগে সক্রিয় লাভলেন ও বাংলা গ্রুপকে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতা তপুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানার জন্য মোরশেদ কামালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে বক্তব্য চেয়ে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও সাড়া মেলেনি। পুলিশের তালিকায় ছাত্রলীগ নেতা তপুর ৪টি মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে। বক্তব্য জানার জন্য এসব নম্বরে ফোন করা হলে ২টি বন্ধ পাওয়া যায় এবং ২টিতে রিং হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার এবং শান্তিনগর এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং বেইলি কিং রন বা রন গ্রুপের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ১৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ। স্থানীয় থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে। এছাড়া টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসেবন, বখাটেপনা ও ছিনতাইয়ে জড়িত অলি গ্রুপ। এর পৃষ্ঠপোষক অলি গাজী নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের টিএসসি ইউনিটের নেতা বলে পরিচয় দেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে অলি গাজী বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। দলের বদনাম হয়-এমন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই।

পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসাবে নাম আছে কলাবাগান থানা যুবলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া ও হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রবিনের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রবিন যুগান্তরকে বলেন, ‘এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষ-বিপক্ষ আছে। অন্যায় কর্মকাণ্ডে সমর্থন না দেওয়ায় অনেকে ক্ষুব্ধ হন। তাদের মাধ্যমে এ ধরনের তালিকা হয়ে থাকতে পারে। তবে এলাকায় পরিষ্কার বলা আছে মাদক, ইভটিজিং ও মারামারি-এ তিনটি অপরাধে জড়ালে কেউ ছাত্রলীগের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাবে না।’

হাজারীবাগের চৌধুরী বাড়ি মোড়, পার্ক কুঞ্জ এবং বাড্ডা নগর এলাকায় সক্রিয় ‘লাড়া দে’ গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঢালী নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী। কিশোর গ্যাংয়ের লালনপালন ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বেড়িবাঁধ এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সব মিথ্যা। আমাকে এলাকার সবাই ভালো মানুষ হিসাবে জানে। দীর্ঘ ১৪ বছর আমি জাপানে ছিলাম। পারিবারিকভাবে আমাদের বিপুল ধনসম্পদ রয়েছে। চাঁদার টাকায় আমার সংসার চলে না।’

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সক্রিয় চাঁন যাদু গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া রাজার নাম জানা যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ কেউ করতে পারে-এটা শুনে তিনি বাগ্রুদ্ধ। কী বলবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। প্রকৃতপক্ষে চান-যাদু গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশকে তাগাদা দিয়ে আসছেন। অথচ তার নামই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’

সিটি করপোরেশনের ৭২নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাজী বিপ্লবের বিরুদ্ধেও কিশোর গ্যাং লালনপালনের অভিযোগ আছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার তিনি যুগান্তরকে জানান, ‘তিনি ক্লিন ইমেজের নেতা। তার নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে দায়দায়িত্ব তিনি নেবেন না। স্থানীয় কিশোর গ্যাং বিচ্ছু বাহিনী গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন।

রমনা থানা : রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং বেইলি কিং রন বা রন গ্রুপের লিডার সামিউল হক ওরফে রন এলাকায় প্রভাবশালী হিসাবে পরিচিত। মহল্লায় বের হলেই তার সঙ্গে ১০/২০ জন সঙ্গী জুটে যায়। এদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন অলিগলিতে মহড়া দেন। এ সময় পথচারীদের উত্ত্যক্ত করা হয়। নারীদের দেখে করা হয় অশালীন মন্তব্য। রন’র বাবার নাম মৃত সাইদুল হক। বর্তমানে সিদ্ধেশ্বরী ১১/১/এ, তৃতীয় তলার বাসিন্দা। রন’র সহযোগীদের অন্যতম হলেন রমনা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান। তার অন্যতম সহযোগীদের মধ্যে ইমন, নিলয়, মুসা দেওয়ান, পারভেজ, সৈকত ও সানির নাম উল্লেখযোগ্য। রন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ।

শাহবাগ থানা : সোহরাওর্দী উদ্যান এলাকায় ছিনতাইয়ে জড়িত কিশোর গ্যাং অলি গ্রুপ। লিডারের নাম অলি গাজী। তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের টিএসসি ইউনিটের নেতা হিসাবে পরিচয় দেন। গ্রুপের কোনো সদস্য গ্রেফতার হলেই তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে শাহবাগ থানায়। অলি গাজীর বাবার নাম রফিক গাজী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের দক্ষিণ মহিষদী।

অলি গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ১০/১২ জন। তাদের মধ্যে বাবু, পিতা আবুল কাশেম ওরফে আইয়ুব আলী, সাকিব (সোহরাওয়াদী এলাকায় ভাসমান), শুক্কুর, সুমন ও রিপন, পিতা সেলিম, নবী, লিটন পিতা মোতালেব, বিল্লাল পিতা মকবুল হোসেন এবং রাব্বি অন্যতম।

কলাবাগান : রাজধানীর কলাবাগান থানার আশপাশ, বারেক হোটেল এবং ভূতের গলি এলাকায় সক্রিয় জসিম গ্রুপ। লিডারের নাম জসিম। পিতা হালিম শেখ। ৪১/২ নর্থ সার্কুলার রোডে তার বাড়ি। জসিম গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ১০/১২ জন। এদের মধ্যে শুভ, দিপু, সেলিম, সাইফুল, দিপু ও মেহেদীর নাম আছে পুলিশের তালিকায়। এদের বিরুদ্ধে ইভটিজিং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ের অভিযোগ আছে।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী জসিম গ্রুপের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ কামাল এবং কলাবাগান থানা যুবলীগের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এদের আশ্রয়প্রশ্রয়ে গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্য অপরাধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। এলাকায় মারামারি থেকে শুরু করে ছিনতাই-চাঁদাবাজিতে জড়িত অনেকে।

হাজারীবাগ থানা : হাজারীবাগ থানায় ৫টি কিশোর গ্যাং তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে দুর্ধর্ষ প্রকৃতির একটি হচ্ছে লাভলেন এবং অপরটি বাংলা গ্রুপ। এর সদস্যদের অনেকেই ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং মারামারিতে সিদ্ধহস্ত। লাভলেন গ্রুপের সদস্যরা মদিনা মসজিদ, মিতালী রোড এবং তলাবাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন। সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রহিম, হাসান, সোহাগ, সাব্বির ও ইয়াছিন আরাফাত। এদের বেশির ভাগই বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। লাভলেন গ্রুপের লিডারের নাম ফরিদ।

বাংলা গ্রুপের সদস্যদের দেখা যায় জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং বাংলা সড়ক এলাকায়। গ্রুপের লিডার সাখাওয়াত হোসেন ওরফে বাংলা সৈকত। তার বাবার নাম নাসির হোসেন। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী ১নং গেটে তার বাড়ি। সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে ১৬ জন। এদের মধ্যে শুকুর (স্থানীয় লেদের দোকানের কর্মচারী), সৈকত ওরফে রবিন, সজল হোসেন মজুমদার, মোস্তাফিজ বিল্লাহ রবিন, সজল হোসেন, আকাশ, রাসেল, মুন্না, শাওন, আনোয়ার, পারভেজ, দুলাল, হৃদয়, বাপ্পি ও রাহাদের নাম আছে পুলিশের খাতায়। লাভলেন এবং বাংলা গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বে ইয়াছিন আরাফাত নামের কিশোর নিহত হয়। ২০১৯ সালের ২৯ জুন তার লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী দুটি গ্রুপের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন তপু। হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি রবিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পারফেক্স গ্যাং স্টার নামের একটি গ্রুপ। এ গ্রুপের লিডারের নাম আজিম। এছাড়া কোম্পানিঘাট এলাকায় সক্রিয় সুমন গ্রুপ। লিডারের নাম শেখর সুমন। তিনি ২২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য।

পুলিশের তালিকায় বলা হয়েছে, হাজারীবাগ পার্ক, চৌধুরীবাড়ি মোড়, ষড়কুঞ্জ, বাড্ডা নগর পানির ট্যাং এলাকার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে লাড়া দে গ্রুপের হাতে। ৩০/৩৫ জনের গ্রুপটি দুর্ধর্ষ হিসাবে এলাকায় পরিচিত। গ্রুপ লিডার জনির প্রধান সহযোগী টুটুল ওরফে ড্যান্স টুটুল। সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কথিত ছাত্রলীগ নেতা ফুয়াদ হাসান হৃদয়, আক্তার, চায়না মিলন, ফয়সাল, বাপ্পা, নাঈম ও সুমন।

লাড়া দে গ্রুপের শেল্টারদাতা হিসাবে পুলিশের তালিকায় স্থানীয় প্রভাবশালী সরফুদ্দিন আহম্মেদ ঢালীর নাম আছে। কিশোর গ্যাং লালনপালনের পাশাপাশি তিনি বেড়িবাঁধ এবং সেকশন এলাকায় অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন।

মতিঝিল থানা : রাজধানীর ফকিরাপুল, আরামবাগ ও আশপাশের এলাকায় মিম গ্রুপ নামের একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। লিডার শেখ সাদ আহম্মেদ ওরফে মিম। তার বাবা মৃত শেখ শামীম আহম্মেদ, ফকিরাপুল (সাফায়েত উল্লাহ লেন) এলাকায় তার বাসা। মীম গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোশারফ হোসেন হৃদয় ওরফে চুগনি ও মেহেদী হাসান। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

মুগদা থানা : মুগদা থানা এলাকায় সক্রিয় ৬টি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ১ নম্বরে আছে চান-যাদু গ্রুপের নাম। এদের লিডার হলেন লিমন ওরফে চাঁন। সদস্য সংখ্যা ৭/৮ জন। এদের মধ্যে ইমন ওরফে যাদু, রাব্বি, সাব্বির হোসেন ও শারফিন অন্যতম।

চান-যাদু গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্য একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা যায়। পৃষ্ঠপোষক হিসাবে ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া ওরফে রাজার নাম আছে পুলিশের তালিকায়।

মুগদার ডেভিল কিং ফুল পার্টির লিডারের নাম অপু। তার বাবার নাম জমসের মেম্বার। সদস্যদের মধ্যে লিমন, প্রান্ত, সিফাত ও রবিন অন্যতম। এছাড়া উত্তর মুগদা, ঝিলপাড় ও আশপাশ এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং জিসান গ্রুপের লিডার হলেন শাহনেওয়াজ ওরফে জিসান। বাঁধন, হাসান, রহিত, হৃদয়, নইম, রাব্বি ও শুক্কুর নামের ৮ জন সদস্যকে তালিকাভুক্ত করেছে পুলিশ। গ্রুপের বেশির ভাগ সদস্যরা ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। এছাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে রেসিং, ইভটিজিং ও অহেতুক মারামারিতে জড়িত অনেকে।

উত্তর ও দক্ষিণ মান্ডা এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং বিচ্ছু বাহিনীর লিডার মশিউর রহমান ওরফে প্লাবন। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মাত্র ৪ জনের নাম পেয়েছে পুলিশ। এরা হলেন আল আমিন (১) ও আলামিন (২), রবিন এবং তানভীর। ৭২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাজী বিপ্লব জিসান গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক।

মুগদা থানার বাশার টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে দেয় লিটন হোসেন নামের এক তরুণ। তবে এ গ্যাংয়ের নাম জানতে পারেনি পুলিশ। সদস্যদের মধ্যে নিবিড় ও হৃদয়কে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া উত্তর মান্ডা এবং জার্মান স্কুল এলাকায় সক্রিয় অপর একটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার হিসাবে পুলিশের তালিকাভুক্ত হয়েছেন সানজু। তার বাবার নাম জানু মিয়া। ৮৯/৯০ উত্তর মান্ডা এলাকায় তার বাড়ি। তার সহযোগীদের মধ্যে শামস, মেহেদী ও কালু ওরফে শান্ত অন্যতম।

রামপুরা থানা : রামপুরা থানার হাজীপাড়া, বালুর মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় আকিল ও অন্নয় গ্রুপ। লিডারের নাম আকিল হোসেন। সদস্যদের মধ্যে অন্নয়, শিপলু, ইয়াছিন, শাকিল ও শুক্কুর অন্যতম। এদের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন ছিনতাই, মাদকসেবন ও পথচারীদের টাকাপয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শাহজাহানপুর থানা : শাহজাহানপুর আবুজর গিফারী কলেজ এলাকায় সক্রিয় কিশোর গ্যাং নিবিড় গ্রুপ। সদস্যসংখ্যা ৮/৯ জন। লিডারের নাম শরিফ উদ্দিন ওরফে নিবিড়। অন্য সদস্যদের মধ্যে শাহ জামাল, রানা, জুয়েল, মনির, হামিদ ও বাবু অন্যতম। এদের মধ্যে হামিদ শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তার বাবার নাম শেখ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।

সবুজবাগ থানা : সবুজবাগ ২ নম্বর রোড ও তাজ স্কুলের আশপাশে সক্রিয় মাসুদ গ্রুপ। লিডার মাসুদের বাবার নাম জানু মিয়া ওরফে করম আলী। গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ৮/১০ জন। এদের মধ্যে সৌরভ ওরফে সোহরাব, টুডিও ওরফে টুন্ডা, সজিব ও বাবু ওরফে গেদা বাবু পুলিশের তালিকাভুক্ত।

এছাড়া দক্ষিণ রাজারবাগ ও আশপাশের এলাকায় একটি কিশোর গ্রুপের ৬/৭ জন সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের লিডার সাগর হোসেন নামের এক তরুণ। সদস্যদের মধ্যে সিয়াম, বাপ্পী ও ইয়াসিন পুলিশের তালিকাভুক্ত।

133
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttontwitter sharing buttonpinterest sharing buttonlinkedin sharing buttonprint sharing button
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

আরও খবর
গরু প্রতি বর্গফুট ৪০-৪৫ টাকা খাসি ১৫-১৭ টাকা
গরু প্রতি বর্গফুট ৪০-৪৫ টাকা খাসি ১৫-১৭ টাকা
ময়নাতদন্তে আটকে আছে বিচার কাজ
ময়নাতদন্তে আটকে আছে বিচার কাজ
ঢাকার বাইরে করোনা উপসর্গে ৪৭ জনের মৃত্যু
ঢাকার বাইরে করোনা উপসর্গে ৪৭ জনের মৃত্যু
কালীগঞ্জে তরুণকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
কালীগঞ্জে তরুণকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
প্রথম দিনেই ক্রেতার সমাগম
প্রথম দিনেই ক্রেতার সমাগম
ফের উত্তপ্ত কোম্পানীগঞ্জ হামলা গুলি বোমাবাজি
ফের উত্তপ্ত কোম্পানীগঞ্জ হামলা গুলি বোমাবাজি

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
করোনা
খুলনার চার হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু
একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
একাধিক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
আফগানিস্তানের বাদগিসে যেভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দিলেন মুরব্বিরা
আফগানিস্তানের বাদগিসে যেভাবে যুদ্ধ থামিয়ে দিলেন মুরব্বিরা
১৬ জুলাই: টিভিতে আজকের খেলা সূচি
১৬ জুলাই: টিভিতে আজকের খেলা সূচি
করোনা
রাজশাহীতে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৫ প্রাণহানি
কুয়া
শিশুটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে গভীর কুয়ায় পড়লেন ৩০ জন
শামসুল আলম
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন শামসুল আলম
ইরানে বিয়েতে উৎসাহিত করতে ইসলামিক ডেটিং অ্যাপ
ইরানে বিয়েতে উৎসাহিত করতে ইসলামিক ডেটিং অ্যাপ
সব খবর

 

রাজশাহীতে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৫ প্রাণহানি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে তারা মারা যান।

এর আগে গত ২৮ জুন ও ১৪ জুলাই দুদিন সর্বোচ্চ ২৫ জন করে মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, নতুন করে মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। আটজন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। আর দুজন শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা গেছেন। তারা করোনা নেগেটিভ ছিলেন।

মৃত ১৫ জনের মধ্যে রাজশাহীর ১০ জন, নাটোরের দুই, নওগাঁর এক, পাবনার এক এবং মেহেরপুরের একজন রোগী ছিলেন।

হাসপাতালটিতে এ মাসের ১৬ দিনে ২৮২ জনের মৃত্যু হলো। এর আগে জুন মাসে করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৫৪ জন।

শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন। শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি আছেন ৪৯৮ জন। হাসপাতালে মোট করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা এখন ৪৫৪টি।

খুলনার চার হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু

করোনা ও উপসর্গে খুলনার চার হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতালে একজন, আড়াইশ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দুই, খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও তিনজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার সুভাষ চন্দ্র হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ছোটগল্প || গদাই লস্করি

সময় নেই। হাতে সময় থাকে না। মানুষজন এর মধ্যে আসে। দু’চারজন গ্রাহক। কেউ খাতা, কেউ কলম; একজন এসে পটেটো চিপস চান, অন্যজন পানির বোতল। এসবের মধ্যে কেউ কেউ ফ্লেক্সিলোড-আইটপ কিংবা বিকাশ-নগদ। এভাবেই দিন চলে যায়। সময় কোথায়? এরপর নেশা- ফেসবুক। একদিন লগইন না করলে পেট গুড়গুড় করে। এখন অন্য নেশা নেই। স্কুল-কলেজ জীবনে ভরদুপুরে মাতাসাগর যাওয়া হতো। তালের রসের লম্বা কলসের মুখ বেয়ে গ্যাঁজানো ফেনা গড়িয়ে পড়ে। শুকনো মুখ আর গলা শিরশির করে ভিজে ওঠে। এক-দুই গ্লাস মেরে বাড়ি ফেরা। চোখ-মুখ লাল। কেউ যাতে টের না পায় সে-জন্যে ছোট এলাচ বা দারুচিনির দু’এক টুকরো চিবিয়ে নেয়া।

এখন সে-সব কালেভদ্রে হয়। আজকাল দোকান খুলে বসে থাকাই কাজ। সঙ্গ দেয় মোবাইল। বাম হাতের তালুতে রেখে গভীরভাবে দেখতে হয়। ফেসবুকে কে কী লিখেছে? কখনো বাংলা ছায়াছবির ক্লিপ। অন্যকিছু আর ভালো লাগে না। দোকানদারিও। আলম হাতের মোবাইল একপাশে রেখে খাতা খোলে। স্মার্ট মোবাইল। সাড়ে চার ইঞ্চি ডিসপ্লে। পুরাতন। সেটাই দিনে কুড়িবার স্যাভলন দিয়ে মোছে। একটু উজ্জ্বল হয়। এখন যেমন দুধের বলক ওঠার মতো একঝলক আলো ছড়িয়ে নিভে যায়। আলম এবার ফুরসত পায় গ্রাহকের দিকে তাকাবার। তারপর জিজ্ঞেস করে, ‘কত?’
‘কুড়ি টাকা।’
‘উনিশ টাকা পাবেন।’
‘এক টাকা কম কেন?’
‘সমিতির সিদ্ধান্ত।’
‘তা হলে উনত্রিশ দেন। ফ্রি ইন্টারনেট প্যাকেজ আছে।’
‘ত্রিশ টাকা দেন।’
‘এবারও এক টাকা বেশি!’
‘ভাংতি নেই। ত্রিশের উপরে নেন বেশি লাগবে না।’

আলম ড্রয়ার থেকে ফিচার মোবাইল বের করে। গতরাতে কিছু ব্যালেন্স রেখেছিল, সেখান থেকেই ফ্লেক্সিলোড করা যায়। তার আঙুল চলে। মুখে বিড়বিড় শব্দ। জিরো ওয়ান সেভেন ওয়ান এইট…। রাস্তায় মানুষজনের কথাবার্তা। অস্থির দ্রুত যাতায়াত। আজ সকাল সকাল ভিড়। এখানে-ওখানে চার্জার রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। যাত্রীর সঙ্গে দরদাম। আলম একটি রিকশার আবদার করেছিল। ব্যবসার যা অবস্থা! এভাবে জীবন চলে? কুলসুম অবশ্য ‘না’ বলেনি। ঋণ পরিশোধ হলেই এনজিওতে আবার লোন অ্যাপ্লিকেশন করবে।

আবুদস সালাম, লোন সুপাভাইজার সপ্তাহ দুয়েক আগে এসেছিল। মাঠকর্মী বেবির অভিযোগ- এই সমিতিতে নাকি কিস্তি ঠিকমতো কালেকশন হয় না। কয়েকজন খেলাপি। কয়েকজন মহল্লা ছেড়ে পালিয়েছে। তার মধ্যে কুলসুমের নামও গত সপ্তাহে খেলাপির তালিকায় উঠে গেছে। আবদুস সালাম ঘোড়ামুখো মানুষ। মোটিভেশনাল কথাবার্তায় অনেক চৌকস। পরিশেষে সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহ সময়। অগত্যা আলমের সঙ্গে পরামর্শ শেষে কুলসুম পরদিন ঠাকুরগাঁও রওয়ানা দেয়। বড় ভাইয়ের কাছে থেকে অন্তত হাজার পাঁচেক আনতে পারলে লোন অ্যাডজাস্ট করা যায়। একটি ছোট্ট আবদারও আছে আলমের। একটি ইলিশ মাছ- কত যুগ খাওয়া হয় না!
কুলসুম টপাস করে বলে বসে, ‘তোমার মুখের স্বাদ দেখতে গেলে তো কিস্তি আদায় হয় না। এত যে টাকা এনে দিলাম, সমিতি থেকে লোন নিয়ে দিচ্ছি, কিছু তো করতে পারছ না। বড় বড় গল্প করেই দিন পার। দোকানে আড্ডাবাজি বন্ধ করো বুঝলে। সংসার দেখো।’
‘সে-সব উঠিয়ে দিয়েছি। দুটো টুল ছিল, ভেতরে তুলে রেখেছি। বসার জায়গা কোথায়? আড্ডা হবে কোত্থেকে?’
‘তারপরও তো সেদিন দেখলাম, কে যেন দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে গল্প করছে। এসব কী?’
‘আ রে তিনি হলেন জব্বার স্যার, কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল, মানি লোক। কথা বলছেন। নিষেধ করা যায়?’

কুলসুম অন্য কাজে চলে যায় নাকি তাকে মুক্তি দেয়, সে-সব আর ভাবে না আলম। সে গল্পবাজ মানুষ। গল্প করতে, আড্ডা দিতে ভালো লাগে। অবশ্য কখনো কখনো একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। কেউ কেউ তাই অপছন্দ করে। আলম সব বোঝে। তার গল্পের কোনটি যে সত্য আর কোনটি যে গুলতাপ্পি সে ছাড়া আর জানে কে? কেউ আড়ালে-আবডালে তাকে চাপাবাজ, চাপাড়ু আলম, অনেককিছু বলে ডাকে। সবই বোঝে সে। মানুষের মুখ তো বন্ধ করা যায় না। মুখ হলো কামান, সেখান থেকে গোলা বেরিয়ে গেলে, কোথায় ধ্বসে যাবে, কোথায় আগুন লাগিয়ে দেবে কে জানে। কুলসুম অবশ্য ঠাট্টা নাকি সিরিয়াস, এক সন্ধ্যায় মন্তব্য করে, ‘তোমার মুখ হলো গিয়ে পায়ুপথ। ফুসফুস করে পাদতে পাদতে বিকট শব্দে দুপুর কাঁপিয়ে দাও।’
‘এমন কথা বলছ কেন কুলসুম? কোথায় আর কী বললাম?’
‘কেন মনে নাই, সেদিন শাহিন ভাই এলো, তুমি তাকে কাতারের গল্প শোনালে। তিনি নিজেই তো মধ্যপ্রাচ্যে সাত-আট বছর কাজ করছেন, তার কাছে এসব গল্প করা কেন? ফুপাতো ভাইটা কী মনে করল! তোমার আন্ডারে নাকি বিশাল এক অফিস। পচিশ-ত্রিশটা কম্পিউটার, ওয়াইফাই-ইন্টারনেট, ত্রিশজন কর্মচারী, তোমার সই ছাড়া বেতন হয় না কত কি! সব জায়গায় চাপা চলে না বুঝেছ। তুমি ছিলে শ্রমিক। শহর থেকে পিকআপ ভ্যানে ত্রিশ-চল্লিশ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যেত পাথর ভাঙার জন্য। বেতন ভালো ছিল। সেও তো টিকতে পারলে না। বড়ভাই কত তদবির আর টাকা খরচ করে পাঠিয়েছিল।’
‘এসব তোমায় কে বলল? বড়ভাবী? একজন বাজে মহিলা। ভাইকে দাস বানিয়ে রেখেছে।’
‘নিজের দোষে সকল আত্মীয়স্বজন হারিয়েছ তুমি। অন্যের দোষ দিয়ে কী হবে? আড্ডা আর কল্পনায় বাতাসা খাওয়ার দুনিয়া থেকে বাস্তবে নেমে আসো। দোকানদারি ঠিকমতো করো।’

আলমের চেহারায় কেউ বুঝি ঝামা ঘষে দেয়। মনের মধ্যে অসম্ভব রাগ। কেউ বোঝে না তাকে। পরিচিত মানুষজন-বন্ধুবান্ধব কেউ আপন নয়। আজকাল কুলসুম অনেক দূরের মানুষ। সেও অনায়াসে উপদেশ-পরামর্শ দিয়ে বসে। এমন মন খারাপ নিয়েই দোকানে আসে আলম। পৈতৃকসূত্রে ভাড়া নেওয়া পত্রিকার দোকান। ব্যবসা ভালো চলছিল। শহরের মানুষজনের আগমন, নিয়মিত গ্রাহক, দিনশেষে ভালো মুনাফা; বাবা চলে যাওয়ার পর সব ভেসে গেল। সেও এক কাহিনি বটে। আলম এখন সে-সব দিনের ছবি ভাবতে ভাবতে কখনো ক্লান্তি কখনো বিরক্তি বোধ করে। ভালো লাগে না আর। বন্ধুবান্ধবদের কেউ কেউ তরতরিয়ে উপরে উঠে গেল। তাদের বাঘ-ভাল্লুক মারার কোনো গল্প নেই। ডার্কহর্সের মতো এগিয়ে চলা। আলম কী করল? এখন একটি চার্জার রিকশা কিনতে পারলে হাতে কিছু টাকা আসতো। সে ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিচার মোবাইল ডিসপ্লেতে মনোযোগী হয়।
‘নম্বর মিলিয়ে নেন। জিরো ওয়ান সেভেন ওয়ান এইট…।’
‘ঠিক আছে। উনত্রিশ কিন্তু।’
‘হ্যাঁ…হ্যাঁ, বুঝলেন নম্বর কনফার্ম করে নিলে আমার দায় থাকে না। একবার এক মহিলার তিনশ টাকা ফ্লেক্সি করে দণ্ডি দিতে হয়েছে। সেই মহিলা নম্বর ভুল করল, আর আমার খেসারত।’
‘সাবধান থাকা ভালো।’

আলমের মোবাইল টুং শব্দে বেজে উঠল। স্মার্ট ফোন। একঝলক আলো তুলে জানিয়ে দিল বার্তা এসেছে। সে সেদিকে তাকিয়ে অস্থির প্রায়। ক্যাশে ত্রিশ টাকা রেখে হাতের তালুতে তুলে নিল মোবাইল। মিজানুর মেসেঞ্জারে রিপ্লাই দিয়েছে মনে হয়। একটা চাঞ্চ দিলে কেল্লা ফতে। আলমের চোখের দৃষ্টি ক্ষীণ। চশমার ফাঁক দিয়ে দৃষ্টি হামলে পড়ে। এখন তো নায়ক হওয়ার বয়স নেই। দেখতে দেখতে চুয়ান্ন-পঞ্চান্ন হয়ে গেল। সার্টিফিকেটে অবশ্য আটচল্লিশ। আজরাইলের খাতায় কত কে জানে! বয়স চুরির দায় তো টানতে হবে। সেখানে জারিজুরি চলে না। জেলখানা মসজিদের ঈমাম, আমিনুল হক, নোয়াখালির মানুষ। এখানে মাঝে মধ্যে আড্ডা দিতে আসে। রাস্তার ওপারে মঞ্জুরুলের চা-স্টল। প্লাস্টিকের প্যাকেটে কেক ঝোলে। সেইসঙ্গে কলা। কতদিনের কেক কে জানে! কলা কার্বাইডে পাকা, পেকে পেকে বাইরে বাহারি হলুদ; ভেতরে গজগজ শক্ত আর বিস্বাদ। আলম চা খাওয়ায়। চিনিছাড়া চা কষাটে, তবু খেতে হয়; ডায়াবেটিস। ব্লাড সুগার প্রায়শ বারো-চোদ্দো-আঠারো ওঠানামা করে। কোনোদিন দোকানে আসতে ইচ্ছে করে না। কুলসুমও নিষেধ করে। স্কুল খোলা থাকলে কোনো নিষেধ শোনে না আলম। শোনার উপায় এবং সুযোগ নেই। একদিন আমিনুল থুতনির একগোছা দাড়ি নড়িয়ে বলে উঠে, ‘বুইচচেননি, আল্লার আরসের নিচে এক গাছ আছে। হের নাম হইল গিয়া হায়াতের গাছ, মানে বুইচচেননি; আয়ুর গাছ। সেই গাছের পাতায় দুইন্যার সকল আদমের নাম-ঠিকানা লেখা। একডা করি পাতা ফড়ি যাইব, বাতাসে ভাইসতে ভাইসতে উইড়া গিয়া পড়ব আযরাইলের হাতে, পাতায় নাম-ঠিকানা দেওয়া আছে; ব্যস খেল খতম। আযরাইল হেই মাইনষের জান কবজ কইরা লইব। ভাই তো জানেন, আযরাইলের কোনো দয়ামায়া নাই।’
‘জানি তো। আরও একজনের বুকে কোনো দয়ামায়া নাই, জানেন?’
‘সে ব্যাডা আবার কেডা?’
‘কেন? সীমার? আপনি মীর মোশারফের বিষাদ সিন্ধু পড়েন নাই? ইয়া মোটা বই। এক হাজার পৃষ্ঠা। আমি এক ঘণ্টায় শেষ করেছি। আপনি পড়েন নাই? হুজুর মানুষদের তো পড়া উচিত।’
‘সীমার তো কাফের। সে বই পইড়ছি। এক হাজার পৃষ্ঠার তো না, তিন সাড়ে তিনশ পাতা হইব।’
‘আপনি অরিজিনাল পড়েন নাই। অরিজিনালটা একহাজার পৃষ্ঠার মতো।’
‘ও আইচ্ছা। তয় ভাইজান উডি।’

আলম তাকিয়ে থাকে। খেলা ঠিক জমল না। কোথায় একটু গল্পগুজব করবে, বাঘ শিকারের দু-একটি বোম; সে সুযোগ মাটি হয়ে গেল। সে হাতের কাছে রাখা সাপ্তাহিক পত্রিকায় আরও একবার চোখ বুলিয়ে নেয়। সালমান শাহর মৃত্যু নাকি আত্মহত্যা প্রচ্ছদকাহিনি। একটি বই লিখবে। সালমান খানের মৃত্যু রহস্য। সে আর সময় করে বসা হয় না। শীতকাল এলে লেপমুড়ি দিয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে গুমোট গরম। শেষ কবে ছবি দেখেছিল? মনে পড়ে না। আজকাল এমনই হয়। কিছু ভালো লাগে না। বয়স হচ্ছে। স্মৃতি কখনো ড্রপ করে। শৈশব আর কৈশোরের দিনকাল জেগে ওঠে সহসা। অথচ একটু আগে কত টাকা ফ্লেক্সিলোড দিল মনে থাকে না। মনের পরতে পরতে এখন অনলাইন ফেসবুক। বড়ই মজা। কোনোদিন কোনো ভাবনা লিখে দেয়। হোয়াটস্ ইন ইয়োর মাইন্ড। কোনোদিন নাথিং। পারিবারিক গ্রুপছবির দু-একটি পোস্ট মেরে লিখে দেয়: আমাদের জন্য দোয়া করবেন, অথবা আজ বড়বোনের মেয়ের বিবাহের দাওয়াত খেয়ে আসলাম। বিরিয়ানি আর বোরহানির গন্ধ হাতে-মুখে লেগে আছে। আমিন…সুম্মা আমিন।

আলম আজও যথারীতি ঘুম থেকে জেগে লগইন করে। গ্রামীণ ফোনের সতেরো টাকায় এক জিবি অফার। ইউটিউবে হারানো দিনের ছবি দেখা হয়। ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’। রিমঝিম বরষাতে কত কথা মনে পড়ে। কত না স্মৃতি বুক উথাল-পাথাল করে দেয়। চোখের দৃষ্টি ভিজে উঠে। সে একহাতে মোবাইল নিয়ে সামনে এগোয়। কুলসুমকে দেখিয়ে আসা যাক। সে ভোর-সকালে ওঠে। ফযরের নামাজ পড়ে নাশতা তৈরি করতে লেগে যায়। ছেলেমেয়ের স্কুল-কলেজ। কুলসুম আটার মণ্ড ডলতে ডলতে জিজ্ঞেস করে, ‘কী?’
‘দেখ এই সেই ছবি, মডার্ণ সিনেমায় দেখেছিলাম। আমরা তিন বন্ধু মিলে। প্রথম শো-তেই প্রথম মার বুঝলে। শাবানা-অলিভিয়ার ফাটাফাটি অ্যাকটিং।’
‘বিশাল কাজ করেছ। সেই বন্ধুরা এখন কোথায়? তোমার মতো এই ডাল আর ওই ডাল ধরে ঝুলে আছে? বান্দর কোথাকার!’

আলম কিছু বলে না। সকাল সকাল এ-সব আদিখ্যেতা না দেখানোই ভালো। কেন যে মন এমন হয়। এমন হয়, মাঝে মধ্যে মুখে রা থাকে না; নিশ্চুপ বসে থাকতে ইচ্ছে করে। সকাল এগারোটায় দোকানে এসে আশপাশ-সামনে পানি ছিটিয়ে যুতমতো বসে। ফেসবুক-এ ভাবগম্ভীর পোস্ট লেখে: ‘বিদায় বন্ধুগণ। ইন্টারনেট জগৎ থেকে বিদায়।’ রাস্তার ওপারে চা-স্টলের দিকে তাকায়। পুব দেয়াল ঘেঁষে একটি বেঞ্চ। সেখানে শারাফত আর হাসানাত বসে আছে। মঞ্জুরুল গরম পানিতে কাপ ধোয়। চা-এর লিকারে কনডেন্সড্ দুধ ঢেলে চামচ নাড়ে। বাতাসে টুন টুন শব্দ ঝংকার কারও অবহেলা হয়ে ভেসে আসে। কোথায় কেউ তো ডাকল না। তারপর কী ভেবে আবার ফেসবুক লগইন। একটিও লাইক-কমেন্ট নোটিফিকেশন নেই। সহসা চোখের সামনে অন্ধকার। কেউ আলো ঘিরে দাঁড়ায়।
‘কি বে আলম, তখন থেকে তোকে ডাকছি, আয় চা খাবি, শুধু ফেসবুক নিয়ে পড়ে আছিস?’
‘আ রে না, আমি এখন ফেবুতে নাই। ওটা শালা অলস লোকের আড্ডা। ফালতু জিনিস।’
‘এখন তো ওসব বলবিই। প্রতিদিন তো বাঙ্গি ফাটাস। সেখানেও ফাটাবি।’
‘বাঙ্গি তো আপনিই ফাটে। আমার ফাটানোর দরকার পড়ে? চল চল চা খেয়ে কথা হবে।’
‘শারাফত ভাই বসে আছে। চায়ের সাথে সামুচা।’
‘গ্রেট!’

তখন একজন মহিলা এসে দাঁড়ায়। একটি ছোট মেয়ে। সে জুলজুল চোখে ঝুলে থাকা পটেটো চিপসের দিকে বারকয়েক তাকায়। আলম চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে, ‘কী নেবেন বলেন? চিপস্ দেব?’
‘আপনার বিকাশ এজেন্ট নম্বরে টাকা তোলা যাবে? আমার বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই। পাঠাতে বলব?’
‘কত?’
‘দুই হাজার।’
‘এখন নেই। এজেন্ট আসেনি। দুপুর একটায় আসেন।’

আলম টেবিলের কোনা ওপরে তুলে দরজা খুলে বের হয়। হাসানাত ফিরে গেছে চা-স্টলে। সে-সময় মোবাইলে নোটিফিকেশন আওয়াজ। আলো ঝলকে উঠে। আলম কোথায় যায়? সময় হাতে নেই। চা আর সামুচার সঙ্গে একটি-দুটি কাহিনি না বললে মনে শান্তি আসে না। সে থমকে দাঁড়ায়। কুলসুম কী যেন বলে। ‘তোমার মুখ, মুখ তো নয়, পায়ুপথ, পেটের ভুটভুটি যতক্ষণ না বেরোচ্ছে, শান্তি নাই।’

কথা অসত্য নয়। এ হলো তার রোগ। সুভাষবাবু ভুটিবাবুর মোড়ে পান দোকান চালাতেন। তার মুখেও কত গল্প ছিল। একদা শহরে নাকি বাঘ হেঁটে বেড়াত। তার ঠাকুরদাদারা গাদাবন্দুক দিয়ে বাঘ শিকার করতেন। আলম আর দাঁড়ায় না। রাস্তা ক্রস করতে করতে ফেসবুকের নোটিফিকেশন পড়ে নেয়। রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে দু’জন। প্রথমজন কুমারি রেখা বসু। প্রোপিক: একজোড়া হলুদ ফুল। কী ফুল কে জানে। দ্বিতীয়জন জিনের বাদশা। আরবীয় বেদুঈন হাতে লাল পতাকা। ঘোড়ায় চড়ে দ্রুত আগুয়ান। মুখবইয়ে মুখছবি নেই। বিমূর্ত ছবি। এসব কি ফেক আইডি? আলম ছবিতে তর্জনী স্পর্শ করে দিলে একটি ট্রান্সপারেন্ট বৃত্ত ঘুরতে শুরু করে। সার্ভার সময় নেয়…নিতে থাকে। অফারের নেট স্পিড স্লো। বৃত্ত ঘোরে…ঘুরতে থাক। কাউকে কি ছবি দেখে চেনা যায়? কেমন চরিত্র হতে পারে এই দু’জন মানুষ? একজন আবার মহিলা, সঠিক কি না কে জানে; নিশ্চয় কবি। দেশে কাকের তুলনায় কবির সংখ্যা বেশি। কে বলেছিল? মনে পড়ে না। রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে। প্রোফাইল দেখা দরকার, কিন্তু নেট যে চলে না। আলম চার্জার রিকশা বাঁচিয়ে রাস্তা পেরোয়। স্টলের বেঞ্চে বসে। হাসানাত চায়ে চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘তারপর কেমন চলছে দিনকাল? আমাদের বসার টুল-বেঞ্চ তুলে দিলি। আড্ডাও বন্ধ।’
‘আ রে ভাই দেখছিস তো, ফ্রিজ বসিয়েছি। কোল্ডড্রিংক্স চলছে।’
‘মালপানি তবে বেশ করছিস, যা হোক তোর ব্যবসা ভালো হোক; শুভকামনা।’
‘ওয়েলকাম। আমার সমুন্ধির কর্পোরেট থেকে লোন নিয়েছি। তোদের দরকার হলে বলিস।’
‘সে-সবে তো অনেক শর্ত। ইন্টারেস্ট কত? কালেকশন ফ্রিকোয়েন্সি?’
‘অতসব বুঝি না। তোর কত লাগবে বল? পাঁচলাখ দশলাখ কোনো ব্যাপারই না। মোবাইলে একটা কল দেব, ব্যস তিনদিনের মধ্যে ক্যাশ।’
‘বলিস কী!’
‘আ রে আমি হলাম উপদেষ্টা। যে এগারোজন সদস্য, তার একজন। হুহ্ হুহ্!’
‘ওরা এগোরো জন।’
‘হা হা হা! ছবিটা এগারো দ্বিগুনে বাইশবার দেখেছি। কি ছবি মাইরি!’

এর মধ্যে তিনদিন কেটে গেছে। আলম খুব নিবিষ্ট মনে টিভি দেখতে থাকে। কুলসুম চা হাতে ঘরে এলে মুখ তুলে তাকায়। আজ হলো কী? কোনোদিন তো নিজ গরজে চা তৈরি করে না। আলম খুব আগ্রহ নিয়ে কাপে চুমুক দেয়। একটু কি কষা লাগে? তার হাতে মোবাইল। সেখানে নেট চলছে ধীরস্থির। সেদিন কে যেন বলছিল- গদাই লস্করি। এর অর্থ জানা নেই। তখন ঠিক করেছিল, কোনো অভিধান দেখে জেনে নেবে; মনে নেই। কুলসুম বলে, ‘তুমি আট-দশ লাখ টাকা লোন করিয়ে দিতে পারবে বলেছিলে কাউকে?’
‘কে বলল?’
‘কে আবার! শারাফাত ভাইয়ের বউ। ভাবী কাল দুপুরে এসেছিল। তুমি নাকি এনজিও-র উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। তোমার সুপারিশ ছাড়া লোন হয় না। ইত্যাদি।’
‘তেমন তো বলি নাই। আমি বলেছি, আমার সমুন্ধির সেখান থেকে লোন নিয়েছি। ওরা দোকানের ফ্রিজ আর মালামাল দেখে জিজ্ঞেস করল, তাই বলা।’
‘বুঝেছি। শোনো যেখানে-সেখানে লম্বা লম্বা গল্প করো না। এসব করে লাভ কি? বিপদ বাড়ে। আকতারভাই হলেন আমাদের দূর-সম্পর্কের আত্মীয়। তেমন ঘনিষ্ঠতা ছিল না। আজ তার এনজিও আছে। তোমার পুজি নেই। তাই হাত পেতে একলাখ টাকা লোন করে দিয়েছি। সেই লোন ঠিকমতো পরিশোধ করলে কথা রক্ষা হয়, মানও থাকে। এখন গুলতাপ্পি ছেড়ে মন দিয়ে দোকানদারি করো।’

আলম নিশ্চুপ। একটিও কথা নেই। চায়ের কাপ থেকে হালকা ধোঁয়া উপরে উঠে যায়। বড় বিস্বাদ লাগে চা। নিজেকে তার লুকোনোর কোনো ফাঁকফোকর নেই। সে কী করে? অন্ধকারে মাথা নিচু অকারণ কিছু হাতড়ে চলে? তখন মোবাইলের ফেসবুক আসে আর যায়। নেট স্পিড অনেক স্লো। গদাই লস্করি চাল। একটি বৃত্ত ঘুরছে…ঘুরতে থাকে। আলমের মাথা ঘোরে। এই বৃত্ত থেকে সে বেরোবে কবে? বেরোতে পারবে? কে জানে?

 

চুলে ছাড়াও নারিকেল তেলের ৭ জরুরি ব্যবহার

নারিকেল তেল আমাদের সবার পরিচিত। অনেকেরই ধারণা— এই তেল শুধু চুলের জন্যই উপকারী। চুল ছাড়াও বহু জরুরি কাজে এই তেল ব্যবহার হয়ে থাকে।

নারিকেল তেল খাবারেও অনেক গুরুত্ব পায়। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের জন্যও বেশ উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাবলি। এই তেল মেদ কমাতে, বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে, ক্ষুধা কমাতে, কোলেস্টেরল কমাতে এবং আমাদের অন্ত্রকেও ভালো রাখতে সহায়তা করে।

নারিকেল তেলের অনেক ব্যবহার রয়েছে। এটি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এবং বাড়ির বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন। নারিকেল তেলের বিভিন্ন ব্যবহার ও কৌশল ব্যবহার করে এড়াতে পারেন অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা এবং সাশ্রয় করতে পারেন আপনার অর্থ। এ ছাড়া বিভিন্ন কাজে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের বিকল্প হিসেবেও বেছে নিতে পারেন এই তেল।

জানুন নারিকেল তেলের হরেকরকম ব্যবহার—

১. শক্তি বৃদ্ধি করতে

নারিকেল তেল মাঝারি চেইন ট্রাইগ্লিসারাইডস (এমসিটি) নামের ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি সহজেই শরীরে শোষিত হয়। তাই এটি আপনার দেহে, মস্তিষ্কে এবং কোষের শক্তি বৃদ্দি করতে পারে।

কফির ক্রিমার খাওয়ার অভ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন নারিকেল তেল। আপনার কফিতে পছন্দমতো প্রাকৃতিক মিষ্টির সঙ্গে এক চামচ নারিকেল তেল বা কাঁচা নারিকেল মিশিয়ে বা ব্লেন্ড করে খেতে পারেন। এটি আপনার শক্তি বুস্ট করতে হতে পারে অনেক কার্যকরী।

২. রান্নার কাজে ব্যবহার
রান্নার কাজেও ব্যবহার করা যায় নারিকেল তেল। বিশেষ করে ফ্রাইস করার ক্ষেত্রে এটি অনেক ভালো তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ডিম, স্ট্রে-ফ্রাই, তরকারী বা ফ্রেঞ্চ টোস্টের মতো খাবার তৈরি করার সময় এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া কিছু বেকড সামগ্রীর রেসিপিতে যেমন— রুটি, মাফিনস, ব্রাউনিজ এবং কেকের জন্য মাখন বা অন্য তেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন নারিকেল তেল।

৩. দাঁত ও মুখের যত্নে
নারিকেল তেল আপনার দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এতে একটি অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেটি স্ট্রেপ্টোকোকাস নামের মুখের ব্যাক্টেরিয়াকে মেরে ফেলে। ফলে ফলক, গহ্বর ও মাড়ির রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে।
এর জন্য সকালে খালি পেটে এক টেবিল চামচ নারিকেল তেল দিয়ে ব্রাশ করে মাউথওয়াশ বা হালকা লবণযুক্ত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেই মিরবে উপকার।

৪. মেকআপ রিমুভার হিসাবে ব্যবহার
মুখে দেওয়া মেকআপ শক্ত হয়ে গেলে সেটি সহজেই তুলে ফেলতে পারে নারিকেল তেল। এর পাশাপাশি এটি ত্বককে মসৃণ করতেও কাজ করবে এটি।

৫. শেভিং ক্রিমের বিকল্প হিসেবে
শেভিং ক্রিম শেষ হয়ে গেছে? নারিকেল তেল ব্যবহার করতে পারেন শেভিং ক্রিমের বিকল্প হিসেবে। ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করার পরিবর্তে নারিকেল তেল ব্যবহারে ত্বক ময়শ্চারাইজড এবং ক্লিন শেভের জন্য ত্বককে নরম ও মসৃণ করবে।

৬. ঠোঁট ফাটা রোধ করে
নারিকেল তেলে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য থাকার কারণে এটি খুব ভালো ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। এটি ঠোঁটে ব্যবহারের ফলে ঠোঁট অনেক মসৃণ হয় এবং এটিতে প্রাকৃতিকভাবে এসপিএফ-৭ থাকায় এটি সূর্যের থেকে ত্বককেও কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করে।

৭. কাঠের আসবাবপত্র চকচকে করে
কাঠের আসবাবপত্র পরিষ্কার করে চকচকে করে তুলতে কাজে দিতে পারে নারিকেল তেল। বিভিন্ন রাসায়নিক পরিষ্কারকারক পদার্থগুলোতে প্রচুর বিষাক্ত উপাদান এবং গাড় সিন্থেটিক গন্ধ থাকায় এটি ঘরের বাতাসকে দূষিত করতে পারে। তাই এর পরিতর্তে আপনি নারিকেল তেল ব্যবহার করে পেতে পারেন চকচকে আসবাবপত্র।

এর জন্য গলিত নারিকেল তেলে এক টুকরো লেবুর রস এবং কিছু সাদা ভিনেগার মিশ্রিয়ে ঘরেই বানিয়ে ফেলতে পারেন পরিষ্কারকারক এই নারিকেল তেলের এই মিশ্রনটি

‘বিএনপির অপপ্রচার সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চহারে ছড়িয়ে পড়েছে’

বিএনপির মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চহারে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি জনগণের জন্য কিছুই তো করবেই না। উল্টো সরকার করতে গেলে অপপ্রচার আর গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়া কোনো দলই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মুখে বড় বড় কথা বললে তাদেরকে জনগণের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবারও স্মরণ করে দিয়ে বলেন, মহামারিকালে এখনকার রাজনীতি হচ্ছে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন একমাত্র রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি।

শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ‘জাতীয় মানদণ্ড আইন’ চায় বিএনপি

কল-কারখানার দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ‘জাতীয় মানদণ্ড আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কোম্পানির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত-আহত শ্রমিকদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে গিয়ে দলের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ দাবি জানান। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, একটা ঘটনা ঘটবে,আমরা কয়েক দিন হৈ চৈ করব তারপর সবাই আবার চুপ করে যাবো। সেটা না, এটার একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি যে, একটা জাতীয় মানদণ্ড আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার যে, এ ধরনের দুর্ঘটনায় শ্রমিকরা কী ক্ষতিপুরণ পাবে, আহতরা কী ক্ষতিপূরণ পাবে, নিহতরা কী ক্ষতিপুরণ পাবে, মালিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে এবং যারা এটার পরিদর্শনের দায়িত্বে তাদের কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে- সব কিছু সেটার মধ্যে থাকা দরকার। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থ আইএলও কনভেনশন-১২১, তার প্রাসঙ্গিক রেকমেন্ডেশন-১৯৫৮ সালের মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন এবং রানা প্লাজার (সাভার) দৃষ্টান্ত অনুযায়ী এই জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, মনে রাখতে হবে যে, মানুষ কাজ করতে যায় জীবন বাঁচানোর জন্য, জীবিকা অর্জনের জন্য। সেখানে কাজ করতে যেয়ে যদি মানুষকে অকালে জীবন দিতে হয় তাহলে তো সেটা কারখানা না, ওটা একটা মৃত্যুকূপ।

তিনি বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী হাসেম ফুড কোম্পানির ৯৯৩ কোটি টাকাসহ পুরো সজীব গ্রুপের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অথচ এ কারখানার শ্রমিকেরা গত ২ মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইম ভাতা না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছে এবং পুলিশের মধ্যস্থতায় গত ৫ তারিখ আংশিক পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকেরা অকালে নিহত হলেন এবং গতকাল পত্রিকায় এসেছে তাদের স্বজনেরা খালি হাতে ফিরে গেছেন। এমন অমানবিক ঘটনা নিন্দনীয় এবং বিচারযোগ্য অপরাধ।

তিনি বলেন, জানা গেছে- চাপের মুখে গতকাল কিছু শ্রমিক জুন মাসের বেতন পেয়েছেন। অন্যদেরে প্রাপ্যতা অনিশ্চিত। এখনো ওভার টাইম এবং বোনাস দেয়া হয়নি। অবিলম্বে সকল শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাস প্রদানের জন্য আমরা দাবি জানাচ্ছি।

গত মঙ্গলবার রূপগঞ্জের ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সেখানে গিয়ে কর্মহীন শ্রমিকদের কাজের প্রত্যাশায় দাবি জানাতে দেখেছি। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন বেতনহীন এসব শ্রমিকদের অবিলম্বে প্রাপ্য পরিশোধ করা জরুরি। একই সাথে আমরা চাই, সজীব গ্রুপের প্রত্যেকচি কারখানা যথাযথ পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য ও নিরপত্তা ব্যবস্থা কর্মোপযোগী করে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের কাজে ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। যাতে তারা পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করতে পারে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় ভবন নীতিমালা অনুযায়ী এই আয়তনের ভবনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি সিঁড়ি থাকা জরুরি ছিল। অথচ ছিল মাত্র ২টি। পুড়ে নিহত হওয়া ৪৯টি লাশই পাওয়া গেছে ভবনের চতুর্থ তলায়। সেখানে কর্মরতদের কাছে জানা যায় যে, চতুর্থ তলার গেট বন্ধ ছিল বলে কেউ বের হতে পারেনি। বিষয়টি উপযুক্ত তদন্ত আমরা দাবি করছি।

তিনি বলেন, ১১ বছর ৪ মাস বয়সের হাসনাইন, ১২ বছর বয়সের শান্তা, ১৪ বছর বয়সের মুন্না, ১৫ বছর বয়সের শাহানা ও নাজমুল, ১৬ বছর বয়সের ফয়সাল, ১৭ বছর বয়সের ইউসুফ ও আল আমীনের মতো শিশু-কিশোরসহ ১৬ জন নারী ও ২৩ জন পুরুষ শ্রমিকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে এমন মর্মান্তিক ও অকাল মৃত্যুতে এবং ১২ বছরের রুমা ও ১৫ বছরের নদিয়ার মতো অসংখ্য আহতদের শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনার ভাষা আমাদের নেই। গত পরশু ওই কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে শোকার্ত পরিবারের আহজারি এবং বেতন না পাওয়া কর্মহীন শ্রমিকদের দুরবস্থা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।

তিনি জানান, শিশুশ্রম আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ। আমরা জেনেছি, সেখানে প্রচুর শিশু শ্রমিক ছিল। বেতন পায় না অনেক দিন। এটা নিয়ে তারা বিক্ষোভ করেছে রাস্তায়। পুলিশ গিয়ে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে, সমঝোতা করে বলা হয়েছিল যে, ৫ তারিখে আংশিক পরিশোধ করা হবে। সেটাও ৫ তারিখে পরিশোধ করা হয়নি। ৮ জুলাই বিনা বেতনে চলে গেল আমাদের এই ভাই-বোনেরা।

তিনি বলেন, যারা মারা গেছেন তাদের আত্মীয়স্বজনরা খালি হাতে ফিরে গেছেন। মালিকপক্ষ থেকে নাকি বলা হয়েছে যে, তাদের কার্ড দেন বা পরিচিতির ইয়ে দেন। কোথায় পাবে সেই কার্ড। যারা মারা গেছে তারা তো কার্ডসহ জ্বলে-পুড়ে চলে গেছে। এটা চেয়ে যদি আপনি বকেয়া পরিশোধ না করেন তার মানে আপনি পেমেন্ট করতে চাচ্ছেন না।

সূচকের উত্থানে শেষ হলো পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনের লেনদেন। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক বেড়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

এদিন ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছে ৬ হাজার ৩০৭ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই-৩০ সূচকের কোনও পয়েন্ট না বাড়লেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে অবস্থান করছে ২২৭৪ পয়েন্ট ও ১৩৫৯ পয়েন্টে।

এ দিনে লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৭৪ কোম্পানির এবং কমেছে ৮৩ কোম্পানির। এ ছাড়া দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টি কোম্পানির শেয়ারের।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বেড়েছে সূচক। সিএএসপিআই সূচক ১২৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৩২৭ পয়েন্টে।

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করল সরকার

কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক ভার্চুয়াল সভাশেষে এ দাম ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এতে দেখা গেছে গতবারের চেয়ে এবার গরুর চামড়ায় প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা আর ছাগলের চামড়ায় ২ টাকা বেড়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। গত বছর যা ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একই চামড়া ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; গত বছর যা ছিল ২৮ থেকে ৩২ টাকা।

এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা; গত বছর যা ছিল ১৩ থেকে ১৫ টাকা। পাশাপাশি প্রতি বর্গফুট বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা, গত বছর যা ছিল ১০ থেকে ১২ টাকা। সবক্ষেত্রেই দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গতবছর এক্সপোর্ট ট্রেডটা ভালোই হয়েছে। সবদিকে প্ল্যান করেই এগোতে হবে। সবার একটাই ইচ্ছা যেন চামড়ার ন্যায্য মূল্য পায়। আমরা ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিয়েছি, এটি খুব একটা স্বস্তির নয়। যেহেতু দেশে দাম পাওয়া যাচ্ছে না তাই রফতানির অনুমতি দিয়েছি। এটা স্থায়ী হোক সেটা আমি চাই না। এবার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।’

এ সময় ব্যবসায়ীরা কোরবানির পরপরই দ্রুত চামড়ায় লবণে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদ দিলে কোরবানির ৬ ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় পর্যাপ্ত লবণ দেয়ার জন্য বলেন মন্ত্রী।

সভায় শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদসহ ব্যবসায়ী নেতারা বক্তব্য দেন।