রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 708

আ.লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা সকালে

দলের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা ডেকেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার জানানো হয়, সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্য-সুরক্ষা বিধি মেনে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

আজকের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সম্প্রতি শূন্য হওয়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের উপনির্বাচন, কয়েকটি উপজেলা ও পৌরসভার উপনির্বাচন এবং ৮৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

আজকের বৈঠকে আবেদনপত্র বিচার-বিশ্লেষণ এবং মাঠ জরিপের রিপোর্ট মিলিয়ে এসব নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে তা ঘোষণা করা হবে। দল মনোনীত প্রার্থীরা এসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

স্থানীয় সরকারের ২৮ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে ২৮ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর এসব নির্বাচনের আলাদা আলাদা তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

পাঁচ পৌরসভার মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে ইভিএমে ভোটগ্রহণ চলছে। বাকি চার পৌরসভায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করছে ইসি।

আর চার সিটির পাঁচ সাধারণ ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। এ ছাড়া ছয় ইউপির বিভিন্ন ওয়ার্ডে সমভোট প্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যেও আজ ভোট হচ্ছে। তবে এই ভোট চলছে ইভিএমে। সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর (চকবাজার) ওয়ার্ডে একটি পদের বিপরীতে এ নির্বাচনে লড়ছেন ২১ প্রার্থী। যার মধ্যে ২০ জনই সরকারি দল সমর্থিত। একজন বিএনপি সমর্থিত। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে অন্তত চারজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি রয়েছেন। এদের কারণে শুরু থেকেই সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা যেমন করা হচ্ছে তেমনি প্রশাসনও এ নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনে কোনো ধরনের গোলযোগ সহ্য করা হবে না। ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা নির্বাচনি কর্মকর্তারা বলেন, ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনে জেলা প্রশাসনের ৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

চকবাজার ওয়ার্ডে ৭ বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু ১৮ মার্চ মারা যাওয়ায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৬টি ভোটকক্ষে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ২১৬ জন ও নারী ভোটার ১৫ হাজার ৮২৫ জন।

ভোটের মাঠে রয়েছেন প্রয়াত কাউন্সিলর সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুর স্ত্রী মেহেরুন্নিসা খানম (ড্রেসিং টেবিল), মো. আলী আকবর হোসেন চৌধুরী (মিন্টু) (কাঁটাচামচ), মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন (রেডিও), একেএম সালাউদ্দীন কাউসার লাভু (হেডফোন), কাজী মো. ইমরান (লাটিম), মোহাম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী (সূর্যমুখী ফুল), মোহাম্মদ সেলিম রহমান (ঠেলাগাড়ি), মোহাম্মদ নোমান চৌধুরী (ট্রাক্টর), মো. শাহেদুল আজম (ক্যাপ), মো. নাজিম উদ্দীন (কাঁচি), মো. নুরুল হুদা (ঝুড়ি), মো. সামশের নেওয়াজ (ঘুড়ি), মমতাজ খান (পান পাতা), শওকত ওসমান (এয়ারকন্ডিশনার), মো. রুবেল সিদ্দিকী (করাত), মো. আজিজুর রহমান (হেলমেট), মো. আলাউদ্দীন (টিফিন ক্যারিয়ার), মো. জাবেদ (স্ট্রবেরি), কায়সার আহম্মদ (প্রদীপ), মো. নূর মোস্তাফা টিনু (মিষ্টি কুমড়া) ও মো. আবদুর রউফ (ব্যাডমিন্টন র্যাকেট)।

এদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯০৫ জন। ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।

এ নির্বাচনের আগের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আমিনুল ইসলাম ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনে তার প্রতীক জগ। আমিনুল ইসলাম পৌরসভার সাবেক মেয়র। তিনি জামায়াতের নেতা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এই ভোটে অংশ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ না থাকার অভিযোগ তুলে তিনি ভোট বয়কট করেছেন। এ নির্বাচনে আরও তিনজন মেয়র প্রার্থী আছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের অয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস (নৌকা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া রুলু (মোবাইল ফোন) ও জান্নাতুল ফেরদাউস (নারিকেলগাছ)।

এ ছাড়া বরিশালে বিসিসির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিন প্রার্থী। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে জাহিদ হোসেন, ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে হুমায়ুন কবির এবং সৈয়দ গোলাম কবির মামুন লাটিম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনটি কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৭ হাজার ২১২ জন ভোটার।

আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ।

দুদক এ মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার সাত দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে হাজির হন।

সেখানে নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে গত মঙ্গলবার দুর্নীতির এ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে আদালতে এসেও ফিরে যান তিনি।

বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ অন্য মামলায় ব্যস্ত থাকায় আজাদকে অন্য কোনো দিন আসতে বলেন।

লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকার পরও করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ ও চিকিৎসার জন্য চুক্তি করে ‘সরকারি অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগে এ মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আবুল কালাম আজাদসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

বাকি চার আসামি হলেন— স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) মো. শফিউর রহমান এবং গবেষণা কর্মকর্তা মো. দিদারুল ইসলাম।

স্বামী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের বিধান কী?

প্রশ্ন: স্বামী থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের বিধান কী? যদি স্বামীর কাছে ফিরতে চায় অথবা ফিরিয়ে আনা হয় তাহলে করণীয় কী?

উত্তর: স্বামী থাকা অবস্থায় অন্য কারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ও স্বামী আছে এমন নারীকে বিয়ে করা, উভয়ই হারাম ও নাজায়েজ। এমন কাজ থেকে বিরত থাকা সবার ওপর ফরজ। কেননা এমন করাটা শরীয়তে ব্যাভিচার বলে গণ্য হয়।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, (তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে) সকল সধবা নারী তবে যারা তোমাদের মালিকানাধীন হয়ে গেছে (তাদের কথা ভিন্ন)। (এসব বিধান) আল্লাহতায়ালা তোমাদের ওপর ফরজ করেছেন (সুরা নিসা-২৪)।

এখন কথা হলো দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম বিয়ের সম্পর্ক হারাম হয়ে যাবে না। কেননা প্রথম বিয়েটা ছিল হালাল আর দ্বিতীয় বিয়েটা হলো হারাম। হারাম বিষয় কখনো হালাল বিষয়ের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে না।

যদি ফিরিয়ে আনা হয় অথবা ফিরে আসতে চায় এবং মহিলার দ্বিতীয় স্বামী (শাব্দিক অর্থে) প্রথম বিয়ে বিষয়ক জানা না থাকে তাহলে ইদ্দত পালন তথা তিন হায়েজ (মাসিক) শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা থেকে বিরত থাকবে। আর যদি দ্বিতীয় স্বামী প্রথম বিয়ে বিষয়ক জেনেও বিয়ে করে তাহলে ইদ্দত পালন করতে হবে না।

তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/৫৮৩, তাফসীরে রুহুল মাআনি ৪/৪-৫, সুনানে বায়হাকী- ১৪২৭৭, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়েবাহ-১৭১৬৩, তুহফাতুল ফুকাহা ২/১১৩, বাদায়িউসসানায়ে ২/৫৪৮, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াহ ১/২৮০, ফতোয়ায়ে কাযীখান ১/২২১, ফতোয়ায়ে শামী ৫/১৯৭।

উত্তর দিয়েছেন- মুফতি আবু বকর রিশাদ, শিক্ষক- জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম হোসাইনিয়া মীরওয়ারিশপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

ম্যানেজার নিয়োগ দেবে ঢাকা ওয়াসা

শূন্যপদে জনবল নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ঢাকা ওয়াসা। দুই পদে আটজনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা যোগ্যতা সাপেক্ষে এসব পদে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম: ম্যানেজার
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ৬০,০০০/-
বয়স: সর্বনিম্ন ৩২ বছর
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক

পদের নাম: ডেপুটি ম্যানেজার
পদ সংখ্যা: ৭ জন
আবেদনের যোগ্যতা : কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ৪০,০০০/-
বয়স: সর্বনিম্ন ৩২ বছর
চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসেবে হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://dwasa.gov.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। এ ছাড়া নিয়োগের বিস্তারিত দেখা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

রক্তে শর্করা কমাবে ৭ খাবার

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। কিডনি ও ডায়াবেটিস তার মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিক উপায়েই রক্তের শর্করা কমানো যেতে পারে।

কিছু একটা হলেই আমরা ওষুধের ওপর নির্ভর করে বসি। আর বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের অনেক ক্ষতিও করে বসে। তাই যে কোনো সমস্যার জন্য প্রথমে প্রাকৃতিক সমাধান বেছে নেওয়াই ভালো।

প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তের শর্করা কমানোর উপায় সম্পর্কে দেওয়া হলো—

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে নানাবিধ রোগ দেখা দেয়। কিডনি ও ডায়াবেটিস তার মধ্যে অন্যতম। প্রাকৃতিক উপায়েই রক্তের শর্করা কমানো যেতে পারে।

কিছু একটা হলেই আমরা ওষুধের ওপর নির্ভর করে বসি। আর বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের অনেক ক্ষতিও করে বসে। তাই যে কোনো সমস্যার জন্য প্রথমে প্রাকৃতিক সমাধান বেছে নেওয়াই ভালো।

প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তের শর্করা কমানোর উপায় সম্পর্কে দেওয়া হলো—

১. দারুচিনি
রক্তে শর্করা প্রাকৃতিক উপায়েই কমাতে পারে দারুচিনি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, দারুচিনিতে ১ শতাংশ ফিনোল নামের উপাদান পাওয়া যায়, যেটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে শর্করা কমাতে অনেক ভালো কাজ করে।

২. ব্লুবেরি
বিভিন্ন সুপারশপে এখন দেখা মেলে বিদেশি ফল ব্লুবেরি। এ ফলটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করার জন্য সুপরিচিত। এ ছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য যৌগসমূহ আপনার সুস্থতা বাড়ানোর জন্যও অনেক উপকারী হতে পারে।

৩. লবঙ্গ
লবঙ্গতে এন্থোকায়ানিন ও কোয়ারসেটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। আর এ উপাদানগুলো এন্টিসেপটিক ও জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে প্রদাহবিরোধী, ব্যথানাশক এবং হজম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।  এ ছাড়া ২০০৬ সালে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব ব্যক্তি ৩০ দিন ধরে প্রতিদিন কিছু মাত্রায় লবঙ্গ পরিপূরক খেয়েছিল তাদের ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কম ছিল।

৪. আদা
পেটের জন্য অনেক উপকারী এবং হজমে সহায়তার জন্য সুপরিচিত একটি উপাদান আদা। এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সমান করার জন্যও একটি দুর্দান্ত বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড সায়েন্সেস অ্যান্ড নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, আদা ডায়াবেটিস প্রতিরোধের একটি কার্যকর চিকিৎসা হতে পারে। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা এবং লিপিড প্রোফাইলের কিছু ভগ্নাংশ উন্নত করতে পারে।

৫. হলুদ
হলুদে থাকা কারকিউমিন নামের উপাদান আমাদের জন্য অনেক উপকারী। এর মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে— এটি রক্তের শর্করা কমাতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কারকিউমিন গ্রহণকারীদের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

৬. রসুন
অনেক পরিচিত একটি মসলা হচ্ছে রসুন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে এটি রক্তের শর্করা কমাতে অনেক কার্যকরী। রসুনে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস আমাদের রক্তনালিগুলোকে প্রসারিত করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি বহু বছর ধরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৭. চেরি
বিদেশি এই ফলটি রক্তের শর্করা কমাতে অনেক কার্যকরী হিসেবে কাজ করে। ২০০৪ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেসব নারী চেরি থেকে অ্যান্থোসায়ানিন উপাদান বেশি খেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রদাহ ও ইনসুলিন প্রতিরোধী সৃষ্টি হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: গেট হেলদি ইউ ডটকম

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান প্রাকৃতিক ৭ উপায়ে

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য খাবার গ্রহণ জরুরি। সুষম খাবার দেহ ও মনের ওপর প্রভাব ফেলে।বিশুদ্ধ খাবারের দোষে আমরা রোগাক্রান্ত হচ্ছি। আর নানান ভেজাল খাবার ও কেমিক্যাল আমাদের শরীরে প্রভাব ফেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমিয়ে দিচ্ছে।

তাই নিজেকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সবারই উচিৎ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। কারণ বিভিন্ন খাবারের গুণের কারণেই আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মেজাজ এমনকি ওজন ভালো থাকে।

প্রাকৃতিক উপায়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় সম্পর্কে দেওয়া হলো—

১. অলিভ ওয়েল
অলিভ ওয়েল স্বাস্থ্যের জন্য এতটাই উপকারি যে এটিকে ‘তরল সোনা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটি ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্থুলতা কমানোর পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে।

২. মসুর ডাল
প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে থেকে মানুষের খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছে মসুর ডাল। এতে থাকা প্রোটিন ও ফাইবার প্রদাহ কমাতে, কলেস্ট্রেরল কমাতে, চর্বি বিপাককে ভালো করতে এবং ক্ষুধা কমিয়ে আনতে সহায়তা করে।

৩. আখরোট
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে অন্যতম একটি খাবার হচ্ছে আখরোট।

গবেষণায় দেখা গেছে যে, অন্যান্য খাবারে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের চেয়ে আখরোটে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এ ছাড়া এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হার্টের জন্য অন্যতম সেরা খাদ্য হিসেবে ভালো প্রমাণিত হয়েছে।

৪. ওটস
ওটসে দ্রবণীয় ফাইবার থাকে যা বিটা-গ্লুকান এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি যৌগ অ্যাভেনথ্রামাইড যেগুলো একসঙ্গে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ স্থূলতা সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সপ্তাহে দুই থেকে চারবার ওটমিল এক কাপ পরিমাণ রান্না খাওয়ার ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

৫. আপেল
আপেল খোসাসহ খেলে তা আপনার জন্য অনেক রোগ প্রতিরোধী বূমিকা পালন করতে পারে। এটি আমাদের অন্ত্রে গিয়ে ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়ায় এবং কলেস্ট্রেরল কমাতে সহায়তা করে।

৬. টমেটো
টমেটো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। এতে থাকা লাইকোপিন নামক উপাদান থাকার কারণে এটি নিয়মিত খেলে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে, ত্বকের ক্ষতি এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সারের বিরুদ্ধেও উপকারি হিসেবে কাজ করে।
আর মজার কথা হচ্ছে, তাজা টমেটোর চেয়ে রান্না করা ও প্রক্রিয়াজাত টমেটোতে এই লাইকোপিনের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে।

 

তথ্যসূত্র: ইটদিস ডটকম

নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেননি অর্ধেক শিক্ষক

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে গবেষণা প্রকল্প পেলেও নির্ধারিত সময়ে সেগুলোর প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, অর্ধেক শিক্ষক তাদের গবেষণা প্রকল্পের প্রতিবেদন নির্ধরিত সময়ে জমা দেননি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গবেষণার প্রকল্প নেওয়ার পর অনেক শিক্ষকের শিক্ষা ছুটিতে চলে যাওয়া, যৌথ প্রকল্পে মতবিরোধ, গবেষণার বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করা প্রভৃতি কারণে প্রকল্পের প্রতিবেদন জমাদানে বিলম্ব হয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও প্রকল্প শেষ করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১২২ জন শিক্ষককে যৌথ ও এককভাবে ৯৮টি গবেষণা প্রকল্প দেওয়া হয়। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ হয়েছে ৪৯টি প্রকল্পের। বাকি ৪৯টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কলা অনুষদে ১৬টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে ২২ জন শিক্ষক গবেষণার কাজে সুযোগ পান। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৭৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৫১ টাকা। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬টি প্রকল্পের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। বাকি ১০টি প্রকল্প জমা দেননি গবেষকরা। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ১৪টি প্রকল্পে ১৯ জন শিক্ষক কাজের সুযোগ পান। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৯ লাখ ১৫ হাজার ৫৩১ টাকা। এতে ৪টি প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয়। বাকি ১০টি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়নি। সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ১১টি প্রকল্পে সুযোগ পান ১৭ জন শিক্ষক। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ২৪৭ টাকা। এর মধ্যে ৭টি প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেন গবেষকরা। বাকি ৪টি জমা দেননি। জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদে ৮টি প্রকল্পে ৯ জন শিক্ষক সুযোগ পান। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৯ লাখ ১২ হাজার ৪৫২ টাকা। এতে ৩টি প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেন। বাকি ৫টি জমা দেননি। প্রকৌশল অনুষদে ৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক গবেষণা কাজের সুযোগ পান। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা। নির্দিষ্ট সময়ে গবেষণা শেষ করেছেন ৬টি এবং ১টি শেষ করা হয়নি। চারুকলা অনুষদে ১টি প্রকল্পে ২ জন শিক্ষক সুযোগ পান। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৩৬ টাকা। সেটি নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয়েছে। কৃষি অনুষদে ৬টি প্রকল্পে কাজের সুযোগ পান ৬ জন শিক্ষক। এতে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৫৮০ টাকা। নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয় ৫টি প্রকল্প আর ১টি নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয়নি। বিজ্ঞান অনুষদে ৩১টি প্রকল্পে ৩৩ জন শিক্ষক গবেষণা কাজে অংশ নেন। সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৮৮ লাখ ৪৯ হাজার ১০০ টাকা। এর মধ্যে ১৪টি প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয়। বাকি ১৭টি নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাবি প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অনেক শিক্ষক গবেষণা প্রকল্প নিয়ে শেষ করতে পারেন না। ছুটি নিয়ে বিদেশে চলে যান। প্রতিবেদন জমাও দেন না। আবার গবেষণার আপডেট জানান না।

গবেষণা কার্যের নীতিমালা অনুযায়ী একজন গবেষক গবেষণাকর্মে এককভাবে দুই লাখ টাকা এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা পাবেন। গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় এক বছর। কোনো শিক্ষক নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা না দিলে তাকে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। প্রদেয় টাকা ফেরত না দিলে ওই শিক্ষকের পেনশন থেকে কর্তন করা হবে। প্রথমবার গবেষণা প্রকল্প যথাযথভাবে শেষ না করলে পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষককে গবেষণার কাজ দেওয়া হবে না।

গবেষণা প্রকল্পের প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর বিশিষ্ট গবেষক ড. মনজুর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের শুধু পাঠদান করাই দায়িত্ব নয়; গবেষণায় অবদান রাখাও বড় দায়িত্ব। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জুনিয়র শিক্ষকরা গবেষণা ছেড়ে অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন। তাছাড়া গবেষণার টাকা অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করেন। পরে গবেষণাকার্য পরিচালনা করতে পারেন না বলে প্রতিবেদনও জমা দেন না।

এদিকে গবেষণায় যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা খুবই অপ্রতুল বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। তবে কয়েক বছরের বরাদ্দচিত্রে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গত চার বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায় শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে রাবির গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে। রাবির গবেষণা বরাদ্দ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের গবেষণা বরাদ্দ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সর্বশেষ ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগের ২০২০-২০২১ অর্থবছর বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৩১ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। জানতে চাইলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসি প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান প্রশাসনের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন করাই মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মূল্যায়ন কমিটিকে সক্রিয় করা হবে। পরে যেন নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প জমা দেন শিক্ষকরা, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেননা গবেষণার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নির্ভর করে।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকির অভিযোগ

সাদা পোশাকে ৭-৮ জনের একটি দল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও বাসাবাড়িতে গিয়ে জামায়াত-শিবির অনুপ্রবেশের দোহাই দিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মঙ্গলবার দুপুরে রবির রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীর মাধ্যমে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি আব্দুল লতিফ বরাবর লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

এ সময় তারা রেজিস্ট্রারকে জানান, এ ঘটনার পর থেকে তারা পুলিশের গ্রেফতার আতঙ্কে ভীত ও শঙ্কিত। এ সময় তারা ভিসির কাছে তাদের নিরাপত্তা দাবি করেন। এদিকে দুপুরে এ অভিযোগ করা হলেও রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাহজাদপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেনি বা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে বলেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রুকাইয়া সুস্মিতা জানান, মহিলা পুলিশ ছাড়াই ডিএসবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকে ৭-৮ জনের একটি দল সোমবার আমাদের বাসায় এসে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার জন্য আমাকে এবং আমার পরিবারকে হুমকি দেয়।

অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সাদ বিন শফিক দ্বারিয়াপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। সেখান থেকে তাকে এবং বিভিন্ন এলাকায় থাকা ছাত্রদের দ্বারিয়াপুরের বিসিক রোডের শাহ মখদুম ছাত্রাবাস-২ এ ডেকে নিয়ে আসে ডিএসবি পরিচয়ের পুলিশ।

এসব ছাত্রদের মধ্যে সাদ বিন শফিক ও হাসিবুর রহমান বলেন, ডিএসবি পুলিশের ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি দল তাদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দেয়।

আন্দোলনরত ছাত্ররা জানান, কোনো একটি মহল তাদের এ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টা করছে। এছাড়া সুষ্ঠু তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতেই ডিএসবি পুলিশের এ অপতৎরতা বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার দায়িত্বে নিয়োজিত ডিএসবি পুলিশের এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, ৮ জন নয়, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ৪ জন। আমাদের কাছে ইনফরমেশন ছিল, এ আন্দোলনে জামায়াত-শিবির ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখানে যাই। সোমবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কথা বলি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্যতা রক্ষা করেই কথা বলা হয়েছে। তাদের কাউকেই কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। ইনফরমেশনের জন্য আমরা সেখানে যেতেই পারি।

তিনি আরও বলেন, স্মারকলিপিতে পরোক্ষভাবে হুমকির কথা বলা হয়েছে। ফলে হুমকির বিষয়টি সত্য নয়।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে রবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসিও আমাকে কিছু বলেননি। তারা জানালে ওই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কাটার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেল জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব খান মোহাম্মদ আরমানের কাছে অসুস্থতার কথা বলে ২ সপ্তাহের সময় চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আমরা তাকে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ৩ দিনের সময় দিয়েছি। এর আগে বুধবার পর্যন্ত তাকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। নির্যাতনের শিকার ওই ১৪ শিক্ষার্থীসহ ৫৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন জানান, আমি ২ সপ্তাহের সময় চেয়ে একটি আবেদন করেছি তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব বরাবর। তার কোনো জবাব পাইনি।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জানান, এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ভিসিকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ভিসির সঙ্গে পরামর্শ করে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ জানান, আমাদের শিক্ষার্থীদের ডিএসবি পুলিশের হয়রানির বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয় সেজন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

উল্লেখ্য, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা কর্তৃক ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কর্তনের ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সুবিচারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার পর্যন্ত আন্দোলন শিথিল করে। এ অবস্থায় ডিএসবি পুলিশের আচরণে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রবির ক্যাম্পাস। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা চেয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসির কাছে।

 

অবশেষে মঞ্চে উঠছে বটতলার ‘মার্ক্স ইন সোহো’

৬ অক্টোবর পর্দা উঠছে বটতলা ও যাত্রিকের নতুন নাটক ‘মার্ক্স ইন সোহো’। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।

মৃত্যুর ১০০ বছর পর কার্ল মার্ক্স কি সত্যি সোহোতে বা পৃথিবীতে ফিরেছেন? ফেরার প্রয়োজনীয়তাও কি আছে? এই যে পৃথিবীতে বাস করছি আমরা যেখানে নানা বৈষম্য বিদ্যমান, শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, তার জীবন যেখানে মূল্যহীন, যেখানে মানুষের মধ্যে অসহিষ্ণুতা এবং ভেতরে ভেতরে চিৎকার- রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা হঠাৎ হঠাৎ বাইরে বেরিয়ে আসা দু’একটা চিৎকারেরও টুটি চেপে ধরা- এমন অস্থির সময়ে মানুষের মুক্তি কোথায়?

গোটা বিশ্ব যেখানে পুঁজিবাদের দাস, সেখানে কার্ল মার্ক্স কি ফিরছেন এসব থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে; নাকি তার নামে চালু বদনামগুলো পরিষ্কার করতে? এসবই জানা যাবে নাটকের গল্পে, বোঝা যাবে শুধু একজন দার্শনিক নন, এক ব্যক্তি কার্ল মার্ক্সকেও।

বটতলা হাওয়ার্ড জিনের লেখাকে আশ্রয় করে তাই কার্ল মার্ক্সকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দর্শকের সামনে। ৬ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নাটক মঞ্চস্থ হবে বাংলাদেশ মহিলা সমিতিতে। জাভেদ হোসেনের অনুবাদে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন নায়লা আজাদ। নাটকটিতে অভিনয় করেছেন হুমায়ূন আজম রেওয়াজ ও উম্মে হাবিবা।