রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 703

জনগণকে সম্পৃক্ত করাই বিএনপির চ্যালেঞ্জ

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কৌশল চূড়ান্তে ব্যস্ত বিএনপি। নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সেই আন্দোলনে পাশে চায় দলটি। বিশেষ করে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ ইস্যুতে বসবেন তারা।

ইতোমধ্যে দলটির বিভিন্ন স্তরের কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছে হাইকমান্ড। আর গণআন্দোলন ছাড়া দাবি আদায় করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু রাজপথের সেই আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারবে কিনা-তা নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে চলছে আলোচনা। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও।

তাদের মতে, আন্দোলন নিয়ে অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সারা দেশে নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে আন্দোলনে আসেনি চূড়ান্ত সফলতা। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া এবারও দাবি আদায় করা সম্ভব হবে না। তাই সব শ্রেণি-পেশা ও সাধারণ মানুষকে আস্থায় আনাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে দেখছেন তারা।

নীতিনির্ধারকরা আরও জানান, অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারের আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সবাইকে সম্পৃক্ত করতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। রাজপথে নামার আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরা হবে। এ ইস্যুতে সভা-সেমিনারসহ বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি সরকারের নানা ব্যর্থতা তুলে ধরে তৈরি করা হবে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন। যা পৌঁছে দেওয়া হবে সারা দেশের আনাচে-কানাচে। বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষ যাতে আস্থা আনতে পারে সেজন্য দেশের বিভিন্ন পেশার গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর চিন্তাও করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক দাবিতেই বিএনপি রাজপথে নামছে-তাদের মাধ্যমে দেওয়া হবে এমন বার্তা।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, নির্যাতন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা ব্যর্থতায় মানুষ বিএনপিকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে। তারা মনে করছে বিএনপিই একমাত্র বিকল্প। তাই সারা দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরাও এবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সরকারের পতনে রাজপথে আছি এবং থাকব।

আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জাতীয় স্বার্থ নিয়েই আন্দোলন করে থাকি। এ আন্দোলনে অবশ্যই জনগণের সমর্থন এবং তাদের সম্পৃক্ততাও রয়েছে। কিন্তু গুলি, হামলা, ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হয়। জনগণ যাতে সেই ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আন্দোলনে শরিক হন আমরা সেদিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে যে সংকট চলছে সেটা বিএনপির একার নয়। গোটা জাতির সংকট। তাই এ সংকট নিরসনে বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশিষ্টজন, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

দলটির নেতারা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ভোটাধিকার হরণ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিভিন্ন খাতে সীমাহীন দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে এ সরকারের ওপর মানুষ ক্ষুব্ধ। মামলা কিংবা হয়রানির কারণে তারা প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। তারা রাজপথে কারও নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে। মানুষের পুঞ্জীভূত এ ক্ষোভকে যারা কাজে লাগাতে পারবে তারাই হবে ভবিষ্যতের ‘হিরো’।

বিএনপি রাজপথে থেকে এর নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু বিএনপি ডাক দিলেই সবাই চলে আসবে না। এজন্য শুরুতে জনগণকে আস্থায় আনতে হবে। দাবির পক্ষে যৌক্তিকতা ও বিএনপি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে কী করতে চায় সে বিষয়ে একটি ইতিবাচক বার্তা জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে দলের একটি উইংকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না, সবার মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা, সব জায়গায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে রক্ষাসহ কয়েকটি বিষয়কে সামনে এনে একটি খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। যা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে সরকারকে বেকায়দা ফেলানো যাবে না। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে চাপে ফেলতে না পারলে সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকার আগ্রহী হবে না। এমনকি দাবির প্রতি সরকার কর্ণপাতই করবে না। তাছাড়া আন্দোলনের কৌশল কী হবে সে বিষয়েও জনগণের মধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। স্পষ্ট করতে হবে জামায়াতের বিষয়ে দলের অবস্থান। ভবিষ্যতে বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়টি অনেকটা জামায়াত জোটে থাকা না থাকার ওপর নির্ভর করবে।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, অতীতের আন্দোলনের ব্যর্থতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। কেন আন্দোলন সফল হয়নি তার সঠিক কারণ নির্ণয় করা হচ্ছে। শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে আন্দোলন করে সফলতা পাওয়া যায় না সেটা আজ প্রমাণিত।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন। কিন্তু সেখানে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়নি। তাছাড়া তৃণমূলের মতো আন্দোলন ঢাকায় গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলনের প্রতি মৌন সমর্থন থাকলেও তারা প্রকাশ্যে রাজপথে নামেনি।

জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আগামী দিনে বিএনপি কি করতে চায় তা এখনই স্পস্ট করতে হবে। কারণ, তাদের অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষ এখনো দ্বিধায় রয়েছে। তাদের আন্দোলনে কেন মানুষ আস্থা রাখবে তা স্পষ্ট করতে হবে। জানান দিতে হবে বিএনপিই বিকল্প শক্তি। আন্দোলন বা নির্বাচনে যাওয়ার আগে জাতির সামনে কিছু প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। ক্ষমতায় গেলে তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না-সবার আগে এ প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। মানুষ যাতে সেটা বিশ্বাস করে সেই আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। কারণ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া একটা সফল আন্দোলন সম্ভব নয়।

 

সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ অগ্রগতির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। সেনাবাহিনী প্রধান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।

নেপালে বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করবে বাংলাদেশ, চুক্তি সই

নেপালের লুম্বিনিতে একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে দেওয়ার চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের (এলডিটি) সঙ্গে এ চুক্তি হয়েছে।

কাঠমুন্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এলডিটি সদর দপ্তরে আয়োজিত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের (এলডিটি) ভাইস চেয়ারম্যান মেত্তেয়া সাক্যপুত্তা চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে এলডিটির পক্ষে প্রকল্প প্রধান সরোজ ভট্টরাইসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও দূতাবাসের পক্ষে প্রথম সচিব মো. আলমগীর ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি মোতাবেক লুম্বিনি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্লটে বৌদ্ধ বিহার তৈরিতে যাবতীয় ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

আবু বকর (রা.) এর জীবন ও অবদান

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) ৫৭৩ সালে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবু কুহাফা ও মায়ের নাম সালমা বিনতে সাখার।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের সম্মান তাকে দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনি রাসূল (সা.)-এর শ্বশুর ছিলেন। রাসূলের মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলমানদের নেতৃত্ব দেন। রাসূলের মেরাজের ঘটনা এক ব্যক্তির কাছে শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করেছিলেন। মুহাম্মাদের প্রতি অতুলনীয় বিশ্বাসের জন্য তাকে ‘সিদ্দিক’ বা বিশ্বস্ত উপাধি প্রদান করা হয়।

তরুণ বয়সে আবু বকর (রা.) একজন বণিক হিসাবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। ইয়েমেন থেকে বাণিজ্য শেষে ফেরার পর তিনি মুহাম্মাদের ইসলাম প্রচারের সংবাদ পান। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ইসলাম গ্রহণ অন্য অনেকের ইসলাম গ্রহণের উৎসাহ জুগিয়েছে।

আবু বকরের পূর্ণ নাম আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়িম ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর আল কুরাইশি। কুরআনে আবু বকরকে ‘গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি’ হিসাবে সম্বোধন করা হয়েছে। হিজরতের সময় মুহাম্মাদের সঙ্গে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেওয়ার কারণে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে।

আবু বকর প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, অন্যান্য সবার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাদের মনে কিছু মাত্রায় দ্বিধা ছিল; কিন্তু আবু বকর বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

আবু বকরের ইসলাম গ্রহণ অনেককে ইসলাম গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ জোগান। তার দ্বারা উৎসাহিত হয়ে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। আবু বকর দাসদের প্রতি সদয় হয়ে অনেককে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দেন। আবু বকরের মুক্ত করা দাসরা অধিকাংশ নারী, বৃদ্ধ বা দুর্বল ব্যক্তি ছিলেন।

৬২৪ সালে আবু বকর মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি রাসূল (সা.) এর তাবুর প্রহরার দায়িত্বে ছিলেন। পরের বছর উহুদের যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। পরে আবু বকর ইহুদি বনু নাদির গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

৬২৭ সালে তিনি খন্দকের যুদ্ধ এবং পরবর্তী বনু কুরাইজা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় মুহাম্মাদ (সা.) সৈনিকদের বেশ কয়েকটি দলে ভাগ করে একেক অংশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি আবু বকরের তত্ত্বাবধানে ছিল।

শত্রুরা নানাভাবে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করলেও আবু বকর তার দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। তার নামে সে অংশে একটি মসজিদ নির্মিত হয়, যা মসজিদ-ই-সিদ্দিকি বলে পরিচিতি লাভ করে।

৬২৮ সালে তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এ সন্ধির অন্যতম সাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর করেন। তিনি খায়বারের যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন।

৬৩০ সালে আবু বকর মক্কা বিজয়ে অংশ নেন। ৬৩০ সালে তিনি হুনায়নের যুদ্ধ এবং তাইফ অবরোধে অংশ নেন। হুনায়নের যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাবাহিনী হুনায়ন উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের তীরের সম্মুখীন হয়।

অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলা হওয়ায় মুসলমানদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। অনেকে ছোটাছুটি শুরু করলেও কয়েকজন সাহাবি মুহাম্মাদ (সা.)কে রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। আবু বকর তন্মধ্যে অন্যতম।

৬৩০ সালে তাবুক অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। এতে সহায়তার জন্য মুহাম্মাদ মুসলমানদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে বলেন। উসমান ইবনে আফফান এতে প্রায় নয়শ উট এবং একশ ঘোড়া দান করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তার সম্পদের অর্ধেক দান করেন।

আবু বকর তার সব সম্পদ দান করে এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার বক্তব্য ছিল, আমি আল্লাহ ও তার রাসূলকে আমার ও আমার পরিবারের জন্য রেখেছি। ৬৩১ সালে মুসলমানদের একটি দল মুক্তভাবে হজের উদ্দেশে মক্কা গমন করে। আবু বকর এ দলের নেতৃত্ব দেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম আমিরুল হজ বা হজের নেতা হিসাবে স্বীকৃত।

বিদায় হজ থেকে ফেরার কিছুকাল পর মুহাম্মাদ (সা.) অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় তিনি তার মৃত্যুর চার দিন আগ পর্যন্ত নামাজের ইমামতি করেছেন। এরপর অসুস্থতার মাত্রার কারণে ইমামতি করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।

তিনি এ সময় আবু বকরকে নামাজের ইমাম হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। মুহাম্মাদের মৃত্যু সংবাদ প্রচার হওয়ার পর উমর ইবনুল খাত্তাব অশান্ত হয়ে পড়েন এবং তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় আবু বকর বাইরে এসে ঘোষণা করেন, তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদের অনুসরণ করতে তারা জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে, অবশ্যই আল্লাহ সর্বদাই জীবিত থাকবেন কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। আবু বকরের বক্তব্যের পর উমরের অবস্থা শান্ত হয়।

আবু বকরের খিলাফত ২৭ মাস অর্থাৎ দুই বছরের কিছু বেশি সময় স্থায়ী ছিল। এ সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাকে বেশ কিছু অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে হয় এবং তিনি তা সফলভাবে মোকাবিলা করেন। নতুন নবী দাবিকারী বিদ্রোহীদের তিনি রিদ্দার যুদ্ধে দমন করেন। তিনি বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন, যা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এসব অভিযানের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য কয়েক দশকের মধ্যে শক্তিশালী হিসাবে আবির্ভূত হয়। আবু বকর সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে কুরআন সংকলন করেন। ইতোপূর্বে কুরআনের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্নভাবে লিপিবদ্ধ ছিল। মৃত্যুর আগে আবু বকর (রা.) কুরআনের এ কপিটি তার উত্তরসূরি উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিয়ে যান। উমর (রা.)-এর শাসনকালে এটি তার কাছেই রক্ষিত ছিল।

উমর কুরআনটি তার মেয়ে ও মুহাম্মাদ (সা.) এর স্ত্রী হাফসা বিনতে উমরকে দিয়ে যান। পরবর্তী খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.) এ কুরআনের আরও প্রতিলিপি তৈরি করিয়ে তা খেলাফতের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেছিলেন।

৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট আবু বকর (রা.) মারা যান। আয়েশা (রা.)- এর ঘরে মুহাম্মাদ (সা.)-এর পাশে তাকে দাফন করা হয়।

লেখক : সহকারী কর্মকর্তা, ক্যারিয়ার অ্যান্ড প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগ, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষকের মর্যাদা

প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শিখ। এবং যার কাছ থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন কর, তাকে সম্মান কর’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস নং : ৬১৮৪)।

শিক্ষা অনুযায়ী, মানবচরিত্র গঠন ও কর্মের সমন্বয় সাধনই হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তাগিদ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর পরে, রাসূলের পরে ওই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা মহানুভব যে জ্ঞান অর্জন করে ও পরে তা প্রচার করে’ (মিশকাত শরিফ)।

স্বভাবতই শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মার চেয়ে শিক্ষকের অবদান কোনো অংশে কম নয়। মহান আল্লাহতায়ালাও শিক্ষকদের আলাদা মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষকমাত্রই বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী।

কারণ শিক্ষকরা জাতির প্রধান চালিকাশক্তি। এক কথায় বলা যায়, শিক্ষক মানুষ চাষ করেন। যে চাষাবাদের মধ্য দিয়ে মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটিয়ে নীতি-নৈতিকতা ও জীবনাদর্শের বলয়ে একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত ও কর্মময় জীবনকে মুখরিত করে। পাশাপাশি পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্র তার দ্বারা উপকৃত হয়।

মহানবী (সা.) ঐশী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মানবজাতিকে সৃষ্টিকর্তা, মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের নীতিমালা শিক্ষাদান করেছেন। তিনি নিজেই এ পরিচয় তুলে ধরে ঘোষণা করেছেন-‘শিক্ষক হিসাবে আমি প্রেরিত হয়েছি (ইবনু মাজাহ : ২২৫)।’

একজন প্রাজ্ঞ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সত্যিকারভাবে শিক্ষক সমাজ বদলে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন। আদর্শ শিক্ষকই শুধু আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারেন। জ্ঞানই মানুষের যথার্থ শক্তি ও মুক্তির পথনির্দেশ দিতে পারে।

এ মর্মে নবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারও পদ গৌরব লোভনীয় নয়। তা হলো-১. ধনাঢ্য ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ ধনসম্পদ দান করেছেন এবং তা সৎপথে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; ২. ওই ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ বিদ্যা দান করেছেন এবং সে অনুসারে সে কাজ করে ও অপরকে শিক্ষা দেয় (বুখারি : ৭১)।

শিক্ষকরা সমাজের বিবেক। শিক্ষকরা হচ্ছেন দেশ গড়ার প্রধান নিয়ামক শক্তি। তাই ইসলামের আলোকে শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন কর।’ উমর (রা.) ও উসমান (রা.) তাদের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তারা শিক্ষক ও ধর্ম প্রচারকদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। হজরত উমর (রা.), ওসমানের (রা.) যুগে মুয়াজ্জিন, ইমাম ও শিক্ষকদের সরকারি ভাতা দেওয়া হতো (কিতাবুল আমওয়াল, ১৬৫)।

‘শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে; শিক্ষা বাঁচলে দেশ বাঁচবে।’ দেশব্যাপী শিক্ষকদের বৈধ অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করা, শিক্ষকদের জীবনের মান উন্নত করার ব্যাপারে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, আদর্শ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি এবং শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হওয়া সময়ের অনিবার্য দাবি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন

লেখক : শিক্ষার্থী : বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইন্টারনেট বিল নিয়ে নতুন নির্দেশনা

দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতাদের (আইএসপি) জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এই নির্দেশনায় ব্রডব্যান্ড সেবায় গ্রাহকদের বিলের বিষয়ে নতুন শর্ত দিয়েছে সংস্থাটি।

বিটিআরসির নতুন শর্ত অনুযায়ী, এখন থেকে ব্রডব্যান্ড সেবা টানা ৩ দিন বিচ্ছিন্ন থাকলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ওই মাসে কোনো বিল নিতে পারবে না ইন্টারনেট সেবাদাতারা।টানা একদিন বিচ্ছিন্ন থাকলে মাসিক বিলের ৫০ শতাংশ ও টানা দুই দিন বিচ্ছিন্ন থাকলে ২৫ শতাংশ নিতে পারবে ইন্টারনেট সেবাদাতারা।

নির্দেশনায় বিটিআরসি বলেছে, গ্রাহক অভিযোগ (টিকেটিং নাম্বারসহ) দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করতে হবে। গ্রাহক কোনো অভিযোগ জানালে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া অভিযোগ সমাধানের তথ্য কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

গত জুন মাস থেকে সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগের মাসিক ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে বিটিআরসি। সে অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে ৫ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) গতির ইন্টারনেটের সর্বোচ্চ মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১০ এমবিপিএসের মূল্য ৮০০ টাকা এবং ২০ এমবিপিএসের মূল্য ১২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

করোনা টিকা সর্বজনীন করতে বাংলাদেশের আহ্বান

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ফাতিমা করোনা টিকা লাভে সর্বজনীন ও সাশ্রয়ী অধিকার নিশ্চিত করতে অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান। যাতে সবাই কোভিড সংকট থেকে টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত পুনরুদ্ধারের সুযোগ পান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বক্তব্য অনুসরণে রাষ্ট্রদূত বলেন, টিকা উৎপাদনে সক্ষম উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি ভাগ করে নিলে উৎপাদন ও বিতরণ পর্যায়ে বিশাল সক্ষমতা সৃষ্টি হবে; যা ভ্যাকসিন সমতা নিশ্চিত করতে পারবে। স্থানীয় সময় বুধবার (৬ অক্টোবর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটির সাধারণ বিতর্কে প্রদত্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটি কোভিড-১৯ অতিমারি এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন জনিত দ্বৈত সংকটকালে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে- “সংকট, প্রতিকূলতা মোকবিলায় সক্ষমতা এবং পুনরুদ্ধার-এজেন্ডা ২০৩০ এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা”।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায় গৃহীত সাম্প্রতিক পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আসন্ন জলবায়ূ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক রাষ্ট্র সম্মেলনে যাতে সাহসী ও উচ্চাভিলাষী ফলাফল অর্জিত হতে পারে সে বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা দরকার।

দেশের বাইরে থেকে আসা অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা রপ্তানি আয়, রেমিটেন্স, ওডিএ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি অর্থায়ন পুনরুজ্জীবিত করতে উন্নয়ন অংশীদারদের যে ভূমিকা রয়েছে তা পালনের প্রতি অনুরোধ জানান। রেমিটেন্সের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় চাকরি পুন:প্রাপ্তিতে অভিবাসী কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ডিজিটাল বৈষম্য দূর কল্পে সকল অংশীজনদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি এলডিসিসহ সদ্য উত্তরিত দেশগুলোর জন্য সাহসী ও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি গ্রহণেরও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে নারীদের তাৎপর্যপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলা ও উত্তরণ প্রচেষ্টায় অবশ্যই নারীদের সম্মুখসারিতে স্থান দিতে হবে।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয়াবলী নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দ্বিতীয় কমিটি কাজ করে থাকে।

স্ত্রীর জন্মদিনে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের গাড়ি উপহার

দুবাইয়ে স্ত্রীর জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য স্বামী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্ত্রীকে তার বিশেষ দিনের জন্য একটি লাল রঙের রোলস-রয়েস দিয়ে অবাক করে দেবেন।

বিসিসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আমজাদ সীথারা এ সপ্তাহের শুরুতে স্ত্রী মারজানার ২২তম জন্মদিনে তাকে লাল রঙের ২০২১ রোলস রয়েস উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিলাসবহুল গাড়িটির বাজার মূল্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার।

গাড়ির দুই-দরজা সংস্করণে একটি শক্তিশালী ৬.৬ লিটার রয়েছে, গাড়ির টার্বো-চার্জযুক্ত ভি-১২ ইঞ্জিন ৪.৪ সেকেন্ডে 0 থেকে 60mph পর্যন্ত ত্বরান্বিত করে। এটি আট গতির, স্যাটেলাইট-এডেড স্বয়ংক্রিয় ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে বিতরণ করা ৫৯১ বিএইচপি বিস্ময়কর শক্তির গর্ব করে।

এ দম্পতি গত বছরের জুনে মহামারির মধ্যে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের মেয়ের জন্মের সাথে তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন।

মারজানা বলেন, আমাদের শিশুকন্যার আগামীকাল এক মাস পূর্ণ হবে। তিনি বলেন, আমার ধারণা ছিল না যে, তিনি আমাকে এ গাড়িটি উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এটি একটি বিশাল বিস্ময় ছিল। তিনি আমার মেয়ে এবং আমাকে শোরুমে নিয়ে যান এবং জায়গাটি বেলুন এবং অন্যান্য পার্টি ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। এ সময় আমি খুব উত্তেজিত ছিলাম। এটা আমার স্বপ্নের গাড়ি এবং আমি এটাকে উপহার হিসেবে পাওয়ার আশা করিনি

শরীর ঠিক রাখে ৭ খাবার

সুস্থ সুন্দর জীবনযাপন কার না চাওয়া। শরীর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া।

বিভিন্ন খাবারের নানা রকম গুণাবলি আছে। আর কিছু খাবারের অ্যাসিড আমাদের শরীরে বেশি বেড়ে গেলে তা শরীরের হাড় এবং গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু থেকে ক্ষারীয় পদার্থ গ্রহণ করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া মাথাব্যথা, বদহজম, ব্রণ, জয়েন্টের ব্যথা, নখ ও চুলের ভাঙন ছাড়াও ওজন কমাতে অসুবিধা এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে।

তাই আমাদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। আজ জানুন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে যেগুলো আপনার শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে—

১. পালং শাক
রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত পালং শাক। এতে থাকা ক্লোরোফিল শরীরের শক্তিশালী ক্ষারক এবং রক্ত উৎপাদক হিসেবে কাজ করে।

২. লেবু পানি
লেবুকে সাধারণত একটি অম্লীয় খাবার বলে মনে করা হয়। কিন্তু আসলে এটি আপনার শরীকে ক্ষার হিসেবে কাজ করে। তাই আশ্চর্যজনক স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস লেবু পানি পান করুন।

৩. রসুন
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও বিভিন্ন শক্তিশালী ক্ষমতাসহ রসুনের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি অত্যন্ত ক্ষারীয় হওয়ায় তা শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪. আদা
অন্যতম একটি সুপরিচিত সুপারফুড হিসেবে পরিচিত হচ্ছে আদা। এর ডিটক্সিং বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ হওয়ায় এটি একটি ক্ষারীয় খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর এটি বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং পানীয়তে যোগ করা সহজ। শরীরকে ক্ষতিকারক অ্যাসিড ও প্রদাহ থেকে মুক্তি দিতে আদা খেতে পারেন।

৫. কাজুবাদাম
বিভিন্ন পুষ্টিগুণের পাওয়ারহাউস হিসেবে বিবেচনা করা হয় কাজুবাদামকে। এতে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অন্য যে কোনো বাদামের চেয়ে বেশি থাকে। এ ছাড়া এটি একটি ক্ষারীয় গঠনকারী খাবার হওয়ায় তা শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

৬. আঙুর
আঙুর ফল বিপাক বৃদ্ধির মাধ্যমে ওজন কমাতে সাহায্য করার জন্য অনেক পরিচিত। এটি ক্ষারীয় হওয়ার পাশাপাশি এতে চিনির পরিমাণ কম থাকে। তাই এটি প্রাকৃতিক মিছরিগুলোর মধ্যে একটি, যা আপনার শরীরের জন্য উপকারী।

৭. চিয়া বীজ
দেখতে অনেক ছোট হলেও চিয়া বীজ অত্যন্ত পুষ্টিকর। এটি আপনার ক্ষারত্বে সহায়তা করার পাশাপাশি ফাইবার, প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সরবরাহ করে আপনার শরীরকে ঠিক থাকতে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র: গেট হেলদি ইউ ডটকম।

বাঙালির বিবাহ উৎসব

প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়ে নির্বাচন হলেই ছেলেপক্ষের এবং মেয়েপক্ষের নিকটতম লোকজন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বাগদান। বাগদান মানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু।

মেয়ের হাতের অনামিকা আঙ্গুলিতে বিয়ের কন্যা-নির্বাচন চিহ্ন হিসেবে আংটি অথবা গলায় সোনার চেইন পরিয়ে পাকা কথা শেষ করা হয়। বর্তমানে ছেলেকেও মেয়েপক্ষের একজন অভিভাবক আংটি পরান।

এক্ষেত্রে ছেলের পক্ষ থেকে প্রধান ভূমিকায় মা-খালারা এবং মেয়ের পক্ষ থেকে বাবা-চাচারাই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। দিন-ক্ষণ ঠিক করে পাকা কথা দিয়ে মিষ্টি মুখ করান একে অপরকে। মুখে সবার হাসি আর কুশলবিনিময় করে আনন্দ ভাগাভাগি করেন দুইপক্ষ।

বাঙালির সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠান বিবাহ। বর-কনেকে সাজিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসানো হয়। কবুল কবুল কবুল সম্মতি উচ্চারণ, কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ বিবাহ নিবন্ধন ও উপস্থিত সবার প্রাণখোলা দোয়া মোনাজাত- কিংবা যাজকের সামনে সম্মতি ধ্বনি বা, বৌদ্ধ ভিক্ষুর মঙ্গলবার্তা অথবা অগ্নিকুণ্ড প্রদক্ষিণ ও উলুধ্বনির আবহে মালাবদল এবং পাত্রের হাতে রঙিন হয়ে ওঠা কন্যার সিঁথি এভাবেই খুশির জোয়ারে বিয়ের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বাঙালি।

জমকালো উৎসবে আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব মিলে পোশাকের জাঁকজমক আর পোলাও, রোস্ট, রেজালা, কাবাব, বোরহানি নিয়ে চলে বাঙালি ভোজন। কন্যাদান এ দিনই হয়। মা-বাবার আদুরে কন্যাকে অশ্রুজলে বিদায় দিয়ে রিক্ত মনে সবাই বাড়ি ফেরেন।

ওদিকে শুরু হয়ে যায় বরপক্ষের আনন্দ। নতুন বউ, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীর মুখরতায় বাড়ি হৈ হৈ রবে পূর্ণ হয়। এভাবে নানা আমোদে ও আয়োজনে দুই-একটি দিন পার হয় বরের বাড়িতে।

নতুন দিন শুরুতে বউভাতের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বরের বাড়িতে। কনেপক্ষের সবাই এ দিন আমন্ত্রিত হন, পাশাপাশি বরপক্ষের এলাকার লোকজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন সবাই মিলে ভোজন উৎসবে একত্রিত হন।

আনন্দ হাসি মশকরায় দিনটি শেষে বর ও কনেকে নিয়ে কনের বাবা-মা নিজ বাড়িতে নিয়ে আবার আনন্দের জোয়ার জাগিয়ে তোলেন। প্রতি বছর এমনইভাবে হাজারো বাঙালির বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে।

মুসলিম বিবাহ উৎসব

ধর্মের ব্যাখ্যাতে মুসলমানদের বিবাহ আর ওয়ালিমা ছাড়া আর তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। হাঁটি হাঁটি পা পা করে সময় এগোনোর সাথে সাথে নিকটবর্তী লোকাচার ও সংস্কৃতি যুক্ত হয়েছে। গ্রাম ও শহরের মানুষ এখন বেশ কয়েকটি উৎসব রীতিমতো পালন করে যাচ্ছেন। এগুলোর মধ্যে-

পাত্র-পাত্রী দেখা: মুসলিম সমাজে এখন রীতিমতো পাত্র-পাত্রী দেখা চলছে। সমাজ, সংস্কৃতি, অঞ্চল, শিক্ষা দেখে উভয় উভয়কে পছন্দ করছেন। এটি চলে আসছে আধুনিকের প্রারম্ভ থেকেই।

বাগদান: পাত্র-পাত্রীর পছন্দের চিহ্ন স্বরূপ স্বর্ণ পরিয়ে পরিবারের সম্মতিসাপেক্ষে দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয় বাগদানের দিন।

মেহেদি সন্ধ্যা ও গায়েহলুদ: শহরের ঘরে ঘরে এখন মেহেদি সন্ধ্যা করা হয়। বন্ধু-বান্ধবের আনাগোনা, প্রতিবেশীর ফুর্তি আর স্বজনদের বিয়ে ব্যস্ততায় উদযাপিত হয় মেহেদি। হলুদে নাচ-গান আর অভিনয়ের মাঝে উৎসব আরও প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।

আকদ: অনেক পরিবারই বিয়ের পর্বটা আগেভাগেই করে রাখেন। এটিই আকদ। পরে উপযুক্ত সময় বুঝে বিয়ের অনুষ্ঠান করে থাকেন।

বিয়ের অনুষ্ঠান: এটি প্রধান অনুষ্ঠান। শেরওয়ানি, শাড়ি বা লেহেঙ্গায় রাজা-রানীর বেশে কন্যাদানের মাধ্যমে পালিত হয় বিয়ের অনুষ্ঠান।

ওয়ালিমা: বরপক্ষের এই বড় আয়োজনের মাধ্যমে বন্ধু, স্বজন ও এলাকাবাসীকে দাওয়াত দিয়ে করা হয় ওয়ালিমা বা বউভাত অনুষ্ঠান।

হিন্দু বিবাহ উৎসব

আবহমানকাল থেকে হিন্দু বা সনাতন ধর্মীয় বিয়ের রীতিনীতি চলে আসছে। হিন্দু ধর্মের বিয়ে বেশ কয়েকটি আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

পাটিপত্র: বাগদান অনুষ্ঠানে পাটিপত্র করা হয়। এই পাটিপত্র উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে পুরোহিত লেখেন। পাটিপত্রে বর-কনের স্বাক্ষর থাকে। এরপর কোনো পক্ষের অসম্মতি প্রকাশ করার সুযোগ থাকে না। তবে আধুনিক সময়ে অনেকে পাটিপত্র করছেন না।

এরপর আসে আশীর্বাদ আসর। এর প্রধান উপকরণ ধান, দুর্বা, প্রদীপ, চন্দন, পান, সুপারি ও বড় মাছ। পঞ্জিকা অনুসারে শুভদিন দেখে আশীর্বাদ করা হয়।

পানখিল, দধিমঙ্গল ও গায়েহলুদ: গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের জন্যও দিনক্ষণ আছে। এখানেও শুভ দিনক্ষণ দেখে গায়ে হলুদের জন্য হলুদ কোটা হয়। পাঁচ-সাতজন সধবা স্ত্রীলোক মিলে হলুদ কোটেন। এই হলুদই পরে গায়ে হলুদের দিন গায়েহলুদ দেয়া হয়।

গায়েহলুদের আগের দিন আরশি দেখা হয়। সাধারণত পাত্র-পাত্রী জরুরি কোনো কাজ না থাকলে অমঙ্গলের কথা ভেবে বাহিরে যান না।

বরবরণ, সাতপাক, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সম্প্রদান ও অঞ্জলি: গোধূলির শেষ লগ্নে অর্থাৎ সন্ধ্যার পর যখন রাত গড়ায় তখন বর বরণ শুরু। অনুষ্ঠান দুই পর্বের। একটি সাজ বিয়ে, অন্যটি বাসি বিয়ে। দুটি আসরই কনের বাড়িতে বসে। তবে কোনো কোনো সময় বাসি বিয়ে বরের বাড়িতেও হয়ে থাকে। সাজ বিয়ে বিয়ের মূল পর্ব।

এই পর্বেই কনে আর বরকে সাতবার প্রদক্ষিণ করে বরণ করে নেয়। বরণ শেষে বর-কনে দুজনের দিকে শুভ দৃষ্টি দেয়, একই সময় মালা বদল করা হয়। পরে পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ করে বর-কনের ডান হাত একত্রে করে কুশ দিয়ে বেঁধে দেন।

সিঁদুর দান: এরপর সিঁদুর দান বা বাসি বিয়ের পর্ব। বাসি বিয়েতে বিভিন্ন দেবদেবীর অর্চনা শেষে বর কনের কপালে সিঁদুর দিয়ে দেন। তারপর উভয় মিলে সাতবার অগ্নিদেবতা প্রদক্ষিণ করেন।

বউভাত: বউভাত অনুষ্ঠান বরপক্ষ অনেক ঘটা করে পালন করেন। বাড়ির বউকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এ অনুষ্ঠানে।

খ্রিস্টান বিবাহ উৎসব

খ্রিস্টান সমাজেও সাধারণত প্রথমে পাত্রী দেখা হয়। বরপক্ষ কনে নির্বাচন করে কনের চরিত্র, দোষ-গুণ, বংশ পরিচয় জেনে নেন। পরে শুভদিন দেখে শুভকাজ করা হয়।

কনে নির্বাচন ও বাগদান: বরপক্ষের প্রস্তাবে কনেপক্ষ রাজি হলে বাগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোনো কোনো জায়গায় এ অনুষ্ঠানকে পাকা দেখা-ও বলে। অনেকে এ অনুষ্ঠানকে পানগাছ অনুষ্ঠান বলেন। বাগদান উপলক্ষে পান, সুপারি, বিজোড় সংখ্যক মাছ নিয়ে যাওয়া হয় বলেই এ নাম ধারণা করা হয়।

বাইয়র ও নাম লেখা: এই অনুষ্ঠানে বরপক্ষের লোকজন কনের বাড়িতে যায়; যা আগেই কথা বলে ঠিক করে রাখা হয়। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত বর-কনে সবার আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। বিয়ের তিন সপ্তাহ আগে কনের বাড়িতে পুরোহিতের কাছে বর-কনে নাম লেখান। অনেকে এ অনুষ্ঠানে আতশবাজি ও বাজনার আয়োজন করেন।

বান প্রকাশ, অপদেবতার নজর ও কামানি বা গা-ধোয়ানী: এই অনুষ্ঠানে বর-কনে বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। মণ্ডলীর বিধি অনুযায়ী এ সময় বিয়ের ক্লাস করতে হয়। এটি বিয়েপূর্ব বাধ্যতামূলক ক্লাস ব্যবস্থা।

নাম লেখা থেকে শুরু করে বিয়ের আগ পর্যন্ত বর ও কনেকে অতি সংযমী জীবন করতে হয়। অনেকে এ সময় ভূত-প্রেত ও অপশক্তির নজর থেকে রক্ষার জন্য জপমালা গলায় পরেন। বিয়ের আগের রাতের অনুষ্ঠানকে গা-ধোয়ানী বলে। অনেক খ্রিস্টান সমাজে এই দিন গায়েহলুদ মাখিয়ে জাঁকজমকের সঙ্গে অনুষ্ঠান করা হয়।

কনে তোলা: বিয়ের দিন ভোরে বাদক দলসহ বরের আত্মীয়-স্বজন কনের বাড়ি গিয়ে কনেকে নিয়ে আসেন। কনেকে ঘর থেকে আনার সময় তার হাতে পয়সা দেয়া হয়। কনে বাড়ি থেকে আসার সময় সেই পয়সা ঘরের মধ্যে ছুড়ে ফেলে। এর অর্থ হলো যদিও সে বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছেন তারপরও বাড়ির লক্ষ্মী ঘর থেকে চলে যাচ্ছে না।

গির্জার অনুষ্ঠান: শুরুতে গির্জার প্রবেশ পথে যাজক বর-কনেকে বরণ করে নেন। তারপর বর-কনে দুজনের মধ্যে মালা বদল করা হয়। এরপর কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘরে তোলা: এ অনুষ্ঠানে উঠানের দিকে মুখ করে বড় পিঁড়ির উপরে বর-কনেকে দাঁড় করানো হয়। এরপর বর-কনে সাদা-লাল পেড়ে শাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে ঘরে ওঠে। এ সময় বর ও কনে একে অপরের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে থাকেন।

বৌদ্ধ বিবাহ উৎসব

ধর্মীয় ও সামাজিক এই দুই দিকের প্রাধান্য দিয়ে বৌদ্ধ বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়ে থাকে।

পাকা-দেখা: পাকা দেখার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় বিয়ের কথা। পাত্র-পাত্রী উভয়কে দেখে অভিভাবকের মাধ্যমে পাকা কথা ও দিন ধার্য করা হয়।

গায়েহলুদ: বাঙালি সংস্কৃতির সব ধর্মেই এখন গায়েহলুদ অনুষ্ঠান দেখা যায়। বৌদ্ধ ধর্মেও গায়েহলুদ হয়।

বিবাহ অনুষ্ঠান: সামাজিকভাবে সবাইকে নিয়ে ধর্মীয় রীতি ঠিক রেখে বৌদ্ধ বিহারে পাত্র-পাত্রীকে নিয়ে আসা হয়। এখানে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে বুদ্ধের পূজা করা হয়। ত্রি-স্মরণ পঞ্চশীল পূজার মাধ্যমে বৌদ্ধ ভিক্ষুকের আশীর্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

ফুলশয্যা: নতুন বউকে ঘরে এনে বাড়ির সবাই মিলে পালন করেন ফুলশয্যা অনুষ্ঠান। নানা গল্প, তামাশা, খোলা গলায় গান আর নাচে চলে বর ও কনেকে নিয়ে আমোদ।