সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 693

বাংলাদেশের কারা ফেসবুকের গোপন নিষিদ্ধ তালিকায়

ফেসবুক বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংগঠনের একটি তালিকা করেছে। সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর অভিযোগের ভিত্তিতে এ নিষিদ্ধ তালিকা করা হয়। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে করা তালিকায় ৪ হাজারের বেশি ব্যক্তি, সংগঠন ও গোষ্ঠী রয়েছে। এদের মধ্যে আছেন রাজনীতিক, লেখক, দাতা, হাসপাতাল, বহু আগে মৃত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট তালিকাটি প্রকাশ করেছে। এতে রয়েছে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তির নাম।

তালিকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর শ্রেণিতে রয়েছে আল মুরসালাত মিডিয়া। এটির ধরন মিডিয়া শাখা। বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় এবং ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। রয়েছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক হরকাতুল জিহাদ ইসলামী বাংলাদেশ, এদের বিরুদ্ধে আলকায়দার কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছে ফেসবুক। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াভিত্তিক ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ, যা আইএসের সঙ্গে যুক্ত। আছে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ।

তালিকায় আরও রয়েছে-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানভিত্তিক জেমাহ ইসলামিয়া, জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ ও আলকায়দা কেন্দ্রীয় কমান্ডের সঙ্গে যুক্ত সাহাম আল হিন্দ মিডিয়া। যা একটি মিডিয়া উইং বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় ব্যক্তি হিসাবে জমিয়তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের তরিকুল ইসলামেরও নাম রয়েছে।

ফেসবুকের এ তালিকা প্রকাশের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা দাবি জানিয়ে এলেও কোম্পানিটির দাবি ছিল এতে করে তাদের কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়বে। তবে কোম্পানিটির ওভারসাইট বোর্ড জনস্বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাটি প্রকাশের সুপারিশ করেছে। ফেসবুকের বিপজ্জনক ব্যক্তি ও সংগঠন নীতি অনুসারে, তালিকায় থাকা কেউ ফেসবুকে নিজেদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ এবং কোনো ব্যবহারকারী এমন গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রতিনিধি হতে পারবেন না। কোনো ব্যবহারকারী এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর পক্ষে কিংবা সমর্থন অথবা প্রশংসা করে কিছু লিখতে পারবেন না।

কোম্পানিটির কাউন্টার সন্ত্রাস দমন ও বিপজ্জনক সংগঠন বিষয়ক নীতি বিষয়ক পরিচালক ব্রায়ান ফিশম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, কোম্পানি এ তালিকা গোপন রাখে কারণ এটি শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেত্র। তাই আমরা যতটা সম্ভব স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করি। আমরা সন্ত্রাসী, বিদ্বেষী গোষ্ঠী ও অপরাধী সংগঠনকে আমাদের প্ল্যাটফরমে চাই না। তাই আমরা এগুলোকে নিষিদ্ধ করেছি এবং তাদের প্রশংসা, প্রতিনিধিত্ব ও সমর্থনে যে কোনো কনটেন্ট আমরা অপসারণ করি। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে সাড়ে তিন শতাধিক বিশেষজ্ঞ এসব সংগঠনকে থামাতে ও হুমকি মোকাবিলায় কাজ করছেন। আমরা এখন কয়েক হাজার সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে আড়াই শতাধিক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী সংগঠন। আমরা নিয়মিত আমাদের নীতি এবং কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার মতো তা হালনাগাদ করি।

দুবাইয়ে ১ মিলিয়ন দিরহাম জিতেছেন বাংলাদেশি

শূন্য ব্যাংক ব্যালেন্স থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক মাহজুজ ড্রতে রাতারাতি ১ মিলিয়ন দিরহাম জিতেছেন। ৩২ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল কাদের, যার কখনো সংযুক্ত আরব আমিরাতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই; হঠাৎ সাপ্তাহিক লাইভ মাহজুজ ড্রতে দ্বিতীয় পুরস্কার জেতার পর হঠাৎ করেই রাতারাতি কোটিপতি হয়ে গেলেন।

দুবাইয়ের ক্রেন অপারেটর খাদারও মাহজুজের প্রথম বাংলাদেশি কোটিপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এবং এ বছর ড্রয়ের ১৬তম সামগ্রিক কোটিপতি।

তিনি বলেন, “আমি এখনো এক মিলিয়ন দিরহামে কতগুলো শূন্য আছে তা নিয়ে লড়াই করছি। যেহেতু আমি ১০ বছর আগে দুবাইতে চলে এসেছি, তাই আমার উপার্জন করা প্রতিটি দিরহাম বাংলাদেশে আমার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যেহেতু তিনি তার উপার্জনের অধিকাংশই তার পরিবারের জন্য বাড়িতে ফেরত পাঠাবেন, তাই তার ফোনের জন্য ইন্টারনেট ডেটা প্ল্যান কেনাও তার পক্ষে কঠিন ছিল।

তিনি বলেন, “আমি নাইট শিফটে কাজ করছিলাম এবং আমার ফোনে ড্র শো লাইভ দেখার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু আমার ডেটা বাফারিং করতে থাকল। আমি অবশেষে আমার রুমমেটকে ফোন করে ফলাফল চেক করলাম এবং জানতে পারলাম এবার আমার ছয়টি নম্বরের মধ্যে পাঁচটি মিলেছে! এটা এতই ভালো যে, আমার মতো মানুষ, যারা খুব ভালো কাজ করে না, তারাও মাহজুজে অংশ নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ ও চিকিৎসা

শরীরের যেকোনো জায়গা বা অঙ্গে কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে টিউমার বলে। এটি মস্তিষ্কের ভেতরে সেটিকে ব্রেন টিউমার বলে থাকি। ব্রেন টিউমার দুই রকম হতে পারে। বিনাইন বা শিষ্ট টিউমার এবং ম্যালিগন্যান্ট বা দুষ্টু টিউমার।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী সহকারী অধ্যাপক ডা. রবিউল করিম

যেকোনো বয়সে ব্রেন টিউমার হতে পারে। মস্তিষ্কে কিছু টিউমারের সূত্রপাত বলে তাকে প্রাইমারি ব্রেন টিউমার বলে। কিছু শরীরের অন্য স্থানের টিউমার থেকে হয়, সেটি সেকেন্ডারি বা মেটাস্টাটিক ব্রেন টিউমার।

ব্রেন টিউমার অত্যন্ত জটিল এবং সংযোজনশীল অঙ্গের টিউমার। ফলে রোগটির চিকিৎসা পদ্ধতিও জটিল এবং ক্ষেত্রবিশেষে অনেক ব্যয়বহুল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ

ব্রেন টিউমারের প্রধান বা স্বাভাবিক লক্ষণ মাথাব্যথা। এ ব্যথা রোগীর কর্মকাণ্ডের সাথে তীব্র হয়। অর্থাৎ রোগী বিশ্রামে থাকলে ব্যথা কম থাকে। কোনো কাজ করলে বাড়ে। অনেক সময় ভোরে মাথাব্যথা হয়। পাশাপাশি বমি বমি ভাব, বমি হয় এবং দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে থাকে।

অনেক সময় রোগীর খিঁচুনি হতে পারে। শরীরের যেকোনো একদিকের হাত- পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যেতে পারে। আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।

ব্রেন টিউমার নির্ণয়

নিউরো মেডিসিন বা নিউরো সার্জন ব্রেনের সিটিস্ক্যান ও এমআরআই, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইলেকট্রো এনকেফালোগ্রাফি বা ইইজি, স্নায়ুতন্ত্রের পরিবহন ক্ষমতা বা নার্ভ কন্ডাকশন টেস্ট বা ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি, সিটি গাইডেড এফএনএসির মাধ্যমে রোগটি নির্ণয় করে থাকেন। তবে এমআরআই পদ্ধতি সব থেকে আধুনিক এবং ব্রেন টিউমার নির্ণয়ের জন্য উন্নত পরীক্ষা।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা বেশ জটিল। তবে চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের ধরন, আকার ও অবস্থানের ওপর। সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। খিঁচুনি, বমির মতো লক্ষণ দেখে এগুলো বন্ধে ওষুধ দেয়া হয়।

একবার যমজ হলে পরেও সম্ভাবনা কতটুকু?

টুইন প্রেগনেন্সি সব সময় একটু ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য অন্তঃসত্ত্বা ছাড়াও তার পরিবারের সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যমজ সন্তান একবার হলে পরে আবারো হবে কি না এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন।

এ বিষয়ে ডক্টর টিভিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল মিটফোর্ড কলেজের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. শামীম ফাতেমা নারগিস জানান, একবার যমজ সন্তান হলে পরবর্তীতেও হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ২৫ বছরের বেশি বয়সীদের যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পাঁচ, ছয় নম্বর সন্তান এক এক করে হয়েছে। তারপরও দেখা যায়, যমজ হচ্ছে। একাধারে তিনবার অর্থাৎ ছয়টি সন্তান হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মা-খালাদের হয়ে থাকলে তাদের মেয়েদেরও যমজ সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্য র‌্যাশিয়াল একটা ফ্যাক্টর কাজ করে। সাধারণত লম্বা মেয়েদের যেমন, আফ্রিকান মেয়েদের যমজ বেশি হয়। তাদের ক্ষেত্রে ২২ শতাংশ সন্তান যমজ হয়।

টুইন প্রেগনেন্সিতে কেন বারবার আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করা হয় বা এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি— এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ডা. রাতু রোমানা (একাডেমিক পরিচালক, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এবং সাবেক অধ্যাপক, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) জানান, যমজ অর্থাৎ এক গর্ভফুলে দুটি বাচ্চা থাকলে তারা একটু বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে থাকেন। কারণ এ ধরনের গর্ভধারণে জটিলতা বেশি হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফলে জটিলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যায়। এ ধরনের সিরিয়াল আল্ট্রাসনোগ্রাফি অনেক সময় মাসে মাসে কখনো দুই সপ্তাহ পরপর করা হয়।

তিনি বলেন, বেশি বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হচ্ছে বলে অনেক গর্ভবতী চিন্তিত হন। আমরা এতটুকু বলতে পারি, বেশি বেশি আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফলে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়— কোনো গবেষণাতেই এমনটি পাওয়া যায়নি। সাধারণত এক্স-রে কিংবা সিটি স্ক্যানের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে। কারণ তাতে রেডিয়েশনের একটি ব্যাপার থাকে। কিন্তু আল্ট্রাসনোগ্রাফিকে কোনো রেডিয়েশন নেই। এটি একটি শব্দতরঙ্গের (সাউন্ডওয়েব) মাধ্যমে করা হয়।

অমুসলিমদের সঙ্গে যেমন ছিল নবীজির আচরণ

মানবতার নবী ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তার উম্মতকে সদা এই নির্দেশই দিয়েছেন তারা যেন ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার সঙ্গে উত্তম আচরণ করে।

মহানবীর (সা.) অতুলনীয় জীবনাদর্শ থেকে কয়েকটি দৃষ্টান্ত তুলে ধরার চেষ্টা করব যাতে আমরা সহজেই বুঝতে পারি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে তার ব্যবহার কেমন ছিল।

হজরত আবুবকর (রা.)এর কন্যা আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মহানবীর (সা.) যুগে আমার অমুসলিম মা আমার কাছে এলেন। আমি মহানবীকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম- আমি কি তার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করব?

তিনি (সা.) বললেন, হ্যা’ (সহিহ বোখারি)। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একদা এক বেদুঈন মসজিদে পেশাব করলো। লোকেরা উঠে (তাকে মারার জন্য) তার দিকে গেল। মহানবী (সা.) বললেন, তার পেশাব বন্ধ করো না। তারপর তিনি (সা.) এক বালাতি পানি আনলেন এবং পানি পেশাবের ওপর ঢেলে দেয়া হল’ (সহিহ বোখারি, কিতাবুল আদব)।

মহানবীর (সা.) আদর্শ এতটাই অতুলনীয় ছিল যে তিনি ইহুদীর লাশকেও সম্মান দেখিয়েছেন। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, একবার এক ইহুদীর লাশ বিশ্বনবীর (সা.) সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আর এতে মহানবী (সা.) সেই লাশের সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে ছিলেন ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না লাশটি তার সামনে থেকে চলে যায়।

পাশ থেকে হজরত জাবের (রা.) বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এটি তো ইহুদীর লাশ। এতে আল্লাহর রাসুল উত্তর দিয়েছিলন, সে কি মানুষ ছিল না? (সহিহ বোখারি, হাদিস নং ১৩১১)।

যে নবী এক ইহুদীর লাশকে সম্মান জানানোর জন্য তার সাথিদেরকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন সেই নবীর উম্মতের পক্ষে কিভাবে সম্ভব শুধু ধমীর্য় মতপার্থক্যের কারণে কারো ওপর অন্যায় অত্যাচার করা।

হজরত সুফিয়ান ইবনে সালিম (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মনে রেখো যদি কোনো মুসলমান অমুসলিম নাগরিকের ওপর নিপীড়ন চালায়, তার অধিকার খর্ব করে, তার কোনো বস্তু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়, তাহলে কিয়ামতের দিন আমি আল্লাহর আদালতে তার বিরুদ্ধে অমুসলিম নাগরিকদের পক্ষাবলম্বন করব’ (আবু দাউদ)।

হজরত আবু বাকারা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন’ (মুসনাদে আহমদ)। এছাড়া মহানবী (সা.) এটিও বলেছেন, ‘তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থেকো, যদিও সে কাফির হয়। তার মাঝখানে আর আল্লাহর মাঝখানে কোনো পর্দা নেই (অর্থাৎ তার বদদোয়া দ্রুত কবুল হয়ে যায়)’ (মুসনাদে আহমদ)।

এছাড়া আমরা লক্ষ্য করি মানব সেবায় আত্মনিয়োগকারী ব্যক্তির প্রতিও মহানবী (সা.) শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেন ও তাদের খেয়াল রাখতেন। একবার তাঈ গোত্রের লোকেরা মহানবীর (সা.) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এতে তাদের কিছু সংখ্যক লোক বন্দী হয়ে এসেছিল। তাদের মধ্যে আরবের প্রসিদ্ধ দাতা হাতেমের এক মেয়েও ছিল। যখন সে মহানবীর (সা.) কাছে বললো, সে হাতেম-তাঈর মেয়ে, এ কথা শুনে মহানবী (সা.) তার সঙ্গে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ব্যবহার করলেন এবং তার সুপারিশক্রমে তার গোত্রের শাস্তি ক্ষমা করে দিলেন’ (সীরাত হালবিয়া, ৩য় খণ্ড, পৃ-২২৭)।

আমরা যদি সেই সময়ের ঘটনা লক্ষ্য করি যখন মক্কার লোকেরা মহানবীর (সা.) কোন কথাই যখন শুনতে চাচ্ছিল না, তখন তিনি (সা.) তায়েফের দিকে দৃষ্টি দিলেন। যখন তিনি (সা.) তায়েফ পৌছলেন, তখন সেখানকার নেতৃবৃন্দ তার সাথে দেখা করার জন্য আসতে লাগলো। কিন্তু কেউই সত্য গ্রহণ করতে রাজী হলো না। সাধারণ লোকেরাও তাদের নেতাদেরই অনুসরণ করল এবং খোদার বাণীর প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করতে লাগলো।

এখানে ঘটনা সংক্ষেপ করছি, কেননা-আপনাদের সকলেরই এ ঘটনা জানা আছে। পরিশেষে তারা সব ভবঘুরে ছেলে ছোকরাদেরকে একত্রিত করলো। তারা প্রত্যেকেই ঝোলা ভর্তি পাথরের টুকরা নিল। তারা নির্মমভাবে মহানবীর (সা.) ওপর পাথর ছুঁড়তে থাকে।

অবিশ্রান্তভাবে পাথর মারতে মারতে মহানবীকে (সা.) শহর থেকে বাইরে নিয়ে গেল। শ্রেষ্ঠ রাসুলের দু’টি পা রক্তাক্ত হয়ে উঠলো। তারপরও তারা ঠান্ডা হলো না, যতক্ষণ না তিনি (সা.) শহর থেকে কয়েক মাইল দূরে একটি পাহাড়ে এসে পৌছলেন। এই লোকগুলো যখন তার পিছু পিছু ধাওয়া করছিল, তখন তিনি এই ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছিলেন যে, আল্লাহর গজব না আবার তাদের ওপর পড়ে।

তিনি আকাশের দিকে মুখ তুলে দেখছিলেন এবং কাতর প্রাণে প্রার্থনা করছিলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি এদেরকে ক্ষমা করে দাও! কেননা এরা জানে না, এরা কি করছে।’ একটু ভেবে দেখুন, আঘাতে জর্জরিত ও লোকদের তাড়া খেয়ে তার শরীরে চলার মত আর শক্তি ছিল না। এত কিছুর পরও তিনি (সা.) তাদের অভিশাপ দেননি বরং তাদের জন্য দোয়াই করেছেন।

এমনই ছিলো মানবদরদী রাসুল, শ্রেষ্ঠ রাসুল মহানবীর (সা.) আদর্শ। আমরা যদি মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখতে পাই, তিনি কতইনা উত্তম আচরণ করেছেন অন্যান্যা ধর্মাবলম্বীদের সাথে আর একই শিক্ষা আমাদেরকে দিয়ে গেছেন। তিনি (সা.) যে দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

তাই এরূপ আজিমুশ্বান নবীর (সা.) ওপর লক্ষ লক্ষ দরূদ ও সালাম। ইয়া রাব্বি সাল্লি আলা নাবিয়্যেকা দায়েমান ফি হাযিহিদ্দুনিয়া ওয়া বাসিন সানী। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে বিশ্বনবীর (সা.) জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

ইমামকে রুকুতে পেলেও কি ‘ছানা’ পড়তে হবে?

‘ছানা’ পড়া সুন্নত। নামাজে নিয়ত বাঁধার পর প্রথম কাজ হলো ছানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা…) পড়া। কেউ একা নামাজ পড়ুক বা জামাতে উভয় অবস্থায় ছানা পড়তে হয়।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে অনেকের যে ভুলটা হয়ে থাকে তা হলো— ইমামকে যদি রুকুতে পাওয়া যায়, তা হলে প্রথমে তাকবির বলে হাত বাঁধে তার পর দ্রুত ছানা পড়ে রুকুতে যাওয়া।

অনেক সময় ছানা পড়তে পড়তে ইমামের রুকু শেষ হয়ে যায়, ফলে ওই রাকাত ছুটে যায়। এটি ঠিক নয়।

এ অবস্থায় ছানা পড়তে হবে না, হাতও বাঁধতে হবে না; বরং নিয়ম হলো— প্রথমে দাঁড়ানো অবস্থায় দুহাত তুলে তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত ছেড়ে দেবে, তার পর দাঁড়ানো থেকে তাকবির বলে রুকুতে যাবে।

এ ক্ষেত্রে অনেকে আরেকটি ভুল করে থাকে, ইমাম রুকুতে চলে গেছে, এখন দ্রুত রুকুতে শরিক হয়ে রাকাত ধরা দরকার, তা না করে এ সময়ও আরবিতে উচ্চারণ করে নিয়ত পড়তে থাকে, ফলে ওই রাকাত পায় না। এটি আরও বড় ভুল।

নিয়তের বিষয়ে আগেও বলা হয়েছে যে, নিয়ত অর্থ সংকল্প করা, যা দিলের কাজ। উচ্চারণ করে নিয়ত পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশের দার্জিলিং সাজেকভ্যালি

প্রকৃতির অপার কৃপায় সাজেকভ্যালি যেন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের দার্জিলিং। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে এই পর্যটন এলাকাটি। ইতোমধ্যে সাজেকে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটন রিসোর্ট।

ইটকাঠের শহুরে জীবনের কোলাহল থেকে ছুটি নিয়ে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন প্রকৃতির রাজ্যে। এ কারণে আনন্দ ভ্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে স্থানটি।

সাজেকভ্যালির অবস্থান রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী এলাকায়। ওপারে ভারত আর এপারে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দেখা মেলে সাজেকভ্যালির প্রকৃতির ভূস্বর্গ। মেঘে ছুঁয়ে যায় আকাশছোঁয়া পাহাড় চূড়ায়। ছুঁয়ে যায় হিমেল বাতাস। চারদিকে ঘন সবুজের সমারোহ। পাদদেশে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি নদী সাজেক। সেই অপরূপ পাহাড়ি নদীর নাম ঘিরেই সাজেকভ্যালি।

সেখানে বিভিন্ন পর্যটক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেকভ্যালি ঘিরে পর্যটন স্থাপনার আবিষ্কার ২০০৮ সালের দিকে। ওই সময় স্থানীয় লোকজন এবং বিজিবির উদ্যোগে নির্মিত হয় কয়েকটি সাধারণ কটেজ। পরে পরিচিতি পাওয়ায় ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পর্যাপ্ত রিসোর্ট। যেখানে রয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ স্থানীয় লোকজনের বহু স্থাপনা।

সরকারিভাবে সাজেকভ্যালিকে পর্যটন জোন ঘোষণা করার কথা থাকলেও আজও তা হয়নি। পর্যটন জোন ঘোষণা করা হলে দ্রুত অর্থনৈতিক অবস্থা পাল্টে যাবে বলে মন্তব্য বিভিন্ন মহলের।

সাজেকের প্রকৃতি এখন সজীব। প্রকৃতির ছোঁয়া, হিমেল হাওয়ার পরশ নিতে আর মেঘের বিশাল রাশিমালা ‘ছুঁতে’ এবং সকাল-বিকাল দৃষ্টিনন্দন কুয়াশা উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সড়কপথে সাজেক যাওয়া যায় সরাসরি ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে। চট্টগ্রাম থেকেও যাওয়া যায় সরাসরি খাগড়াছড়ি জেলা হয়ে সড়কপথে। বিভিন্ন মহলের মন্তব্য— সরকারিভাবে পর্যটন ঘোষণা করা হলে সাজেকভ্যালি হবে বাংলাদেশের দার্জিলিং। এতে দ্রুত পাল্টে যাবে অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।

স্থানীয় বাসিন্দা এরিন্টা ত্রিপুরা জানান, সাজেক থেকে সামান্য দূর পায়ে হেঁটে গেলেই ভারতের মিজোরাম। বাংলাদেশ ও ভারত সরকার সফল উদ্যোগ নিলে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট পয়েন্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভ্রমণে অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে সাজেকভ্যালি। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে মোটেল, রিসোর্ট গড়ে তোলা হলে এবং রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানির ব্যবস্থাসহ সর্বাত্মক সুবিধা নিশ্চিত করা হলে সাজেকভ্যালি থেকে আয় হবে বিপুল টাকার রাজস্ব।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানান, সাজেককে পর্যটন জোনে পরিণত করতে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। সাজেকের রাস্তাঘাটগুলো সমতলের মতো উন্নত করা হলে এখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম হবে। এখন মানুষ রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনার ভয়ে অনেকে সাজেকে আসতে চাইছে না।

বর্তমানে সাজেকে প্রায় ১৫০টি পর্যটন রিসোর্ট গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব রিসোর্ট সব ব্যক্তিমালিকানায় তৈরি। এখন সাজেকে যে হারে পর্যটক যাচ্ছেন, সেখানে সরকার চাইলে পাঁচতারকা মানের সুপার স্টার আবাসিক হোটেল নির্মাণ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাঙামাটি পর্যটন মোটেল অ্যান্ড হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, পর্যটকরা অনেকেই এখন সাজেকভ্যালি যাচ্ছেন ঘুরতে। পর্যটক টানতে সাজেকে নতুন উন্নতমানের রিসোর্ট গড়ে তোলা উচিত। সাজেকভ্যালি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটনশিল্পকে উন্নত করতে পর্যটন খাতকে আরও ঢেলে সাজাতে হবে।

শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়ক ৫ খাবার

শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশও জরুরি। অনেক শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। এ জন্য অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাবারও অনেকাংশে দায়ী।

আমরা যে খাবার খাই তা থেকে পুষ্টি শোষণ করে মস্তিষ্ক। তাই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি জরুরি।

শিশুরা অনেক সময় খাবার বেছে বেছে খায়। তাই তারা বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার না খেলে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে করে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশটাও হয় না।

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরি—

১. ডিম

আপনার সন্তানের সকালের নাস্তার প্লেটটিতে কার্বস, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এ খাবারগুলো সারাদিনের জন্য তার শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ডিমের মধ্যে প্রোটিন বেশি থাকে এবং কোলিন থাকে, যা স্মৃতির বিকাশেও সহায়তা করে।

২. তৈলাক্ত মাছ

তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ যুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকায় তা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হচ্ছে কোষের বিল্ডিং ব্লকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

৩. ওটস

ওটস ও ওটমিল শক্তির জন্য একটি চমৎকার উৎস এবং মস্তিষ্কের জন্য জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা বাচ্চাদের সন্তুষ্ট রাখে এবং তাদের জাঙ্ক ফুডে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে। এ ছাড়া এগুলোতে ভিটামিন ই, বি কমপ্লেক্স এবং জিঙ্কও থাকে, যা বাচ্চাদের মস্তিষ্ককে তাদের সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। বাড়তি স্বাদের জন্য আপেল, কলা, ব্লুবেরি— এমনকি বাদামের মতো যে কোনো ফল যোগ করতে পারেন এর সঙ্গে।

৪. রঙিন সবজি

রঙিন সবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে তা মস্তিষ্কের কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ নিশ্চিত করতে টমেটো, মিষ্টি আলু, কুমড়া, গাজর বা পালং শাকজাতীয় সবজি খাওয়াতে পারেন।

৫. দুগ্ধজাত খাবার
দুধ, দই ও পনির জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন বি থাকার কারণে তা মস্তিষ্কের টিস্যু, নিউরোট্রান্সমিটার এবং এনজাইমের বৃদ্ধির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব খাবারে ক্যালসিয়ামও অনেক বেশি থাকায় শিশুদের  শক্তিশালী এবং দাঁত ও হাড়ের বিকাশের সহায়তা করে। তাই শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ান। আর তারা সরাসরি দুধ না খেতে চাইলে দই, পুডিং বা প্যানকেক তৈরির সময় পানির পরিবর্তে দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়ক ৫ খাবার

শিশুদের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশও জরুরি। অনেক শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। এ জন্য অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাবারও অনেকাংশে দায়ী।

আমরা যে খাবার খাই তা থেকে পুষ্টি শোষণ করে মস্তিষ্ক। তাই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার বিষয়টি অনেক বেশি জরুরি।

শিশুরা অনেক সময় খাবার বেছে বেছে খায়। তাই তারা বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার না খেলে তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে করে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশটাও হয় না।

শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য যেসব খাবার খাওয়া জরুরি—

১. ডিম

আপনার সন্তানের সকালের নাস্তার প্লেটটিতে কার্বস, প্রোটিন এবং অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখার চেষ্টা করুন। এ খাবারগুলো সারাদিনের জন্য তার শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ডিমের মধ্যে প্রোটিন বেশি থাকে এবং কোলিন থাকে, যা স্মৃতির বিকাশেও সহায়তা করে।

২. তৈলাক্ত মাছ

তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ যুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড বেশি থাকায় তা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এ ছাড়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হচ্ছে কোষের বিল্ডিং ব্লকের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান।

৩. ওটস

ওটস ও ওটমিল শক্তির জন্য একটি চমৎকার উৎস এবং মস্তিষ্কের জন্য জ্বালানী হিসেবে কাজ করে। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা বাচ্চাদের সন্তুষ্ট রাখে এবং তাদের জাঙ্ক ফুডে আসক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখে। এ ছাড়া এগুলোতে ভিটামিন ই, বি কমপ্লেক্স এবং জিঙ্কও থাকে, যা বাচ্চাদের মস্তিষ্ককে তাদের সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। বাড়তি স্বাদের জন্য আপেল, কলা, ব্লুবেরি— এমনকি বাদামের মতো যে কোনো ফল যোগ করতে পারেন এর সঙ্গে।

৪. রঙিন সবজি

রঙিন সবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে তা মস্তিষ্কের কোষকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাই আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ নিশ্চিত করতে টমেটো, মিষ্টি আলু, কুমড়া, গাজর বা পালং শাকজাতীয় সবজি খাওয়াতে পারেন।

৫. দুগ্ধজাত খাবার
দুধ, দই ও পনির জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন বি থাকার কারণে তা মস্তিষ্কের টিস্যু, নিউরোট্রান্সমিটার এবং এনজাইমের বৃদ্ধির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর এসব খাবারে ক্যালসিয়ামও অনেক বেশি থাকায় শিশুদের শক্তিশালী এবং দাঁত ও হাড়ের বিকাশের সহায়তা করে। তাই শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ান। আর তারা সরাসরি দুধ না খেতে চাইলে দই, পুডিং বা প্যানকেক তৈরির সময় পানির পরিবর্তে দুধ ব্যবহার করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

কুবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মারামারি, আহত ১০

সিনিয়রের নাম ধরে ডাকা কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম বাঁধন অর্থনীতি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিম আহমেদ সোহাগের নাম ধরে ডাকেন।

সোহাগের বন্ধু ওয়াকিল বিষয়টি শুনলে ১২তম ব্যাচের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাফী, সোহাগ ও ওয়াকিল ২০০৩নং রুমে বাঁধনকে ডেকে শাসান। একপর্যায়ে বাঁধনকে তারা চড় মারেন।

এ ঘটনার পর বাঁধন ১৩তম ব্যাচের তার বন্ধুদের বিষয়টি জানান। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ২০০৩নং রুম থেকে শাফীকে ডেকে নিয়ে যান ১৩তম ব্যাচের সাদমান।

এ সময় হানিফ, সাদমান, মিরাজ, রবিনসহ ৮ থেকে ১০ জন শাফীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ৩০৩ নং রুমে একদফা মারধর করেন।

এর পর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের রুমে (৩০৩) ডেকে নিয়ে বিচারের নামে আধাঘণ্টা ধরে ফের তাদের মারধর করেন শাখা ও হল ছাত্রলীগের নেতারা। এতে ১৩তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ বিষয়ে ১৩তম ব্যাচের কর্মী হানিফ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের বন্ধুকে মারধরের বিষয়ে জানতে তাদের রুমে যাই। তবে সেখানে আমরা কাউকে আঘাত করিনি।

১২তম ব্যাচের ছাত্র শাফী হাসান বলেন, আমি হলের সিনিয়র হিসেবে জুনিয়রদের আচরণের বিষয়ে তাদের বুঝিয়ে বলি। কিন্তু তারা এসে আমাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, হলের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়ে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। এটি হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়, আমরা বসে বিষয়টি সমাধান করে দেব।

এ বিষয়ে প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আবাসিক হলের বিষয়গুলো প্রভোস্ট দেখভাল করেন। হল প্রভোস্টসহ হলের যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তারা অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।