সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 694

বরেণ্য সংগীতশিল্পীদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় টাইমস্কুপের পক্ষ থেকে গত ১২ অক্টোবর শিল্পীদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

স্মারকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন- শাহীন সামাদ, খায়রুল আনাম শাকিল, সালাউদ্দিন আহমেদ, সুজিত মোস্তফা, সালমা আকবর, অনুরুদ্ধ সেন গুপ্ত, শহীদ কবির পলাশ, ত্রীবেণী পান্না, পূজন দাস, শারমিন সাথী ময়না ও ছন্দা চক্রবর্তী।

এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি নুরুল হুদা। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন টাইমস্কুপের অ্যাডমিন ও সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম শান্তি বানু।

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন টাইমস্কুপের অ্যাডমিন অধ্যাপক ফ্লোরা সরকার এবং ধন্যবাদ বক্তব্য দেন টাইমস্কুপ ফাউন্ডার অ্যাডমিন ও সংগঠক এবং আইবিজি নিউজ বাংলাদেশ সংবাদদাতা আনোয়ারুল হক ভুঁইয়া।

তিনি তার বক্তব্যে আগামী বছর জানুয়ারি মাসে ভারত এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক উৎসব করার জন্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন।

এ আয়োজন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, শিল্পীদের এভাবে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে শিল্পীদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সেই সঙ্গে টাইমস্কুপ সাংস্কৃতিক উৎসব পালনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, এভাবে একসঙ্গে সাংস্কৃতিক কাজ করে যেতে পারলে দেশের সাংস্কৃতিক উন্নতির পথ আরও মসৃণ হবে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন টাইমস্কুপের মডারেটর আঞ্জুমান আরা লাকি।

শিল্পকলা একাডেমিতে ‘দুইটি যুদ্ধের একটি গল্প’

১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে প্রদর্শিত হবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ডকু-ড্রামা ‘দুইটি যুদ্ধের একটি গল্প‘।

ফুয়াদ চৌধুরীর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সত্য ঘটনা অবলম্বনে ডকু-ড্রামাটিতে মহি আলম চৌধুরীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়াদ রায়হান, মারজান চৌধুরীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অহনা মিথুন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন- মির্জা শাখেছেপ শাকিব, সাইদুর রহমান পাভেল, জয়শ্রী মজুমদার লতা ও চট্টগ্রামের নান্দিমুখ থিয়েটারের একদল নাট্যকর্মী। ডকু-ড্রামাটি রচনা করেছেন ফাহমিদুর রহমান।

‘দেশটাকে এমনভাবে স্বাধীন করব যাতে দেশের সবাই দরজা খোলা রেখে ঘুমাতে পারে।’এই মূলমন্ত্র নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে নেমেছিলেন সার্জেন্ট মহি আলম চৌধুরী।

অকুতোভয় মহিআলম শত্রুর গুলিকে ভয় পেতেন না। ভয় পেতেন তিনি তার দায়িত্ব ঠিক করে পালন করতে পারবেন কিনা। তাইতো দক্ষ আর দায়িত্বশীল নেতার মতোই প্রতিটা অপারেশনে তিনি সম্মুখে থেকে পরিচালনা করতেন।

তার নিষ্ঠা আর দক্ষসমর পরিকল্পনার জন্য একের পর এক যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে শত্রুমুক্ত করেছেন চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা, বোয়ালিয়া এলাকা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর বোর্ড অফিসের রাজাকার ক্যাম্পে অপারেশনের সময় রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেও তার অনুরাগী সহযোদ্ধারা তাকে কাঁধে নিয়ে পাহাড়ি অরণ্যে দাফন করেন। কিন্তু তার মৃত্যুটা রহস্যই থেকে যায়।

এরপর কেটে যায় অনেকটা সময়। সহযোদ্ধা ছাড়া পরিবারের সদস্যদের কাছে একটা সময় পর্যন্ত অজানাই ছিল মহি আলমের এই বীরগাথা। অজানা ছিল কবরটিও। ভুলতে বসা জাতির এই সূর্যসন্তানের বীরোচিত অবদান একক প্রচেষ্টায় খুঁজে বের করেন শহিদ মহি আলমের ভ্রাতুষ্পুত্রী মারজান চৌধুরী। চাচার করবটা এক নজর দেখার প্রত্যাশায় চলে আসেন অচেনা শহরের অচেনা গ্রামে। আর এসে দেখতে পান তার কল্পনার বীরযোদ্ধা চাচার বীরগাথা হারিয়ে যেতে বসেছে কালের গর্ভে।

বিষয়টা একেবারেই মেনে নিতে পারেন না। তাইতো পরিবারের বাঁধা আর সামাজিক প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও নিজের গণ্ডির বাইরে পা না রাখা মেয়েটি শুধুমাত্র মনের জোরে একটা ছবির সূত্রধরে আবিষ্কার করেন সেই কবরটি, সঙ্গে উদ্ধার করেন নিজের চাচার বীরত্বের স্বীকৃতি, প্রতিষ্ঠিত করেন শহিদ চাচার প্রাপ্য সম্মান।

ওরা এখন কে কোথায়

নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে … নেই তারা আজ কোনো খবরে’-মান্না দে’র কালজয়ী কফি হাউজের আড্ডা গানের চরিত্রগুলো এক জায়গায় নেই। সময়ের ফেরে তারা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা। তবে বাংলাদেশের প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ খেলা দলের ক্রিকেটাররা এখনো প্রায় সবাই কাছাকাছি। ১৪ বছর আগে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে কম বয়সি ক্রিকেটার ছিলেন তামিম ইকবাল।

আর সবচেয়ে বেশি বয়সি বাঁ-হাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাক। তামিম এই বিশ্বকাপে নেই। দেশের সেরা ওপেনার এখনো তিনি। রাজ্জাক বাংলাদেশ দলের অন্যতম নির্বাচক। আর প্রথম বিশ্বকাপের সহ-অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা সংসদ সদস্য। অভিষেক টি ২০ বিশ্বকাপে খেলা সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রাঙাবেন এবারও। প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে ১১ জন এখনো জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছেন। আফতাব আহমেদ

অবশ্য পুরোদস্তুর কোচ। সেই ১৫ জন এখন কে কোথায়, কী করছেন?

মোহাম্মদ আশরাফুল

বাংলাদেশের প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচের জয়ের নায়কও আশরাফুল। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেদিন ২৭ বলে সাত চার ও তিন ছক্কায় ৬১ রানের দুর্দান্ত

ইনিংস খেলেছিলেন। ওই জয়টাই টি ২০ বিশ্বকাপে টেস্ট খেলুড়ে

দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র জয় হয়ে রয়েছে। আশরাফুল

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এখনো জাতীয় ক্রিকেটার। নিয়মিত ঘরোয়া টুর্নামেন্টে খেলছেন। একই সঙ্গে টিভি ও সংবাদ মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের ভূমিকায় আসেন। ছোটখাটো ব্যবসাও রয়েছে তার।

মাশরাফি মুর্তজা

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। তিনি এখন জাতীয় সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে খেলাটাও চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। সবশেষ ভারতে ২০১৬ টি ২০ বিশ্বকাপেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাশরাফি।

আবদুর রাজ্জাক

এই বাঁ-হাতি স্পিনার এখন জাতীয় দলের নির্বাচক। প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রাজ্জাক ২৫ রানে নিয়েছিলেন চার উইকেট। ভালো পারফরম্যান্সের পরও ক্যারিয়ারের শেষদিকে জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ ছিল তার। তবে নির্বাচক হওয়ায় তিনি খুশি।

আফতাব আহমেদ

দেশের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ক্রিকেটার হওয়ার পরও নিজেকে বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি আফতাব। পরিশ্রমবিমুখ হওয়ায় ক্যারিয়ার অসময়ে থেমে গেছে বলে নিজে স্বীকার করেন। আফতাব এখন কোচ। আগে চট্টগ্রামে একাডেমিতে কোচিং করিয়েছেন। ধীরে ধীরে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। প্রথম বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের সেরা দশেও ছিলেন তিনি।

অলক কাপালি

আরেক অন্যতম প্রতিভাবান ক্রিকেটার। তার কাছে যতটা আশা

করা হয়েছিল তিনি দেশকে ততটা দিতে পারেননি। এখনো জাতীয়

ক্রিকেটে ভালোভাবে খেলছেন কাপালি। ঘরোয়া ক্রিকেট

টুর্নামেন্টে তার উপস্থিতি রয়েছে।

মাহমুদউল্লাহ

প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপ খেলা মাহমুদউল্লাহ

সপ্তম সংস্করণে বাংলাদেশের অধিনায়ক।

টি ২০ ক্রিকেটে তিনি এখন সফল নেতা।

তাকে ঘিরে বাংলাদেশ এবার টি ২০ বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছে।

মুশফিকুর রহিম

দেশের সেরা ব্যাটার মনে করা হয় তাকে। কঠোর পরিশ্রমে মুশফিক নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। অনেকের ধারণা, মুশফিকের ব্যাট জ্বলে উঠলে বাংলাদেশ ভালো করবে।

সাকিব আল হাসান

অভিষেক বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বসেরা এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার বাংলাদেশের বড় ভরসা। সারা বিশ্বে টি ২০ টুর্নামেন্টে খেলছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপের আগে আইপিএল খেলে ভালো প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন সাকিব।

তামিম ইকবাল

এবারের বিশ্বকাপ থেকে তার সরে যাওয়া নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এখনো বাংলাদেশের সেরা ওপেনার এই ওয়ানডে অধিনায়ক। দীর্ঘদিন ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করছেন। নেপালের এভারেস্ট প্রিমিয়ার লিগে (ইপিএল) খেলতে গিয়ে নতুন করে চোট নিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি।

ফরহাদ রেজা

মন্থর উইকেটে এখনো কার্যকর ফরহাদ। প্রথম টি ২০ বিশ্বকাপে তাকে পেস অলরাউন্ডার হিসাবে দলে নিয়েছিলেন নির্বাচকরা। বিশেষ করে

ঘরোয়া কন্ডিশনে এখনো ফরহাদ দুর্দান্ত।

সৈয়দ রাসেল

সাকিব আল হাসানের একাডেমিতে এখন বোলিং কোচ সৈয়দ রাসেল।

দীর্ঘদিন তিনি খেলার মধ্যে ছিলেন না। যশোরে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। তবে আবার তিনি ক্রিকেটে

সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

জুনায়েদ সিদ্দিকী

ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন ব্যাটার জুনায়েদ।

জিয়াউর রহমান

টি ২০ ক্রিকেটে এখনো জিয়াউর রহমানের চাহিদা রয়েছে দলগুলোর কাছে। ঢাকা লিগেও খেলছেন এই পেস অলরাউন্ডার।

নাদীফ চৌধুরী

তাকে নিয়ে যেভাবে আশা করা হয়েছিল তিনি সেটা দিতে পারেননি। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন নিয়মিত।

নাজিমউদ্দিন

তিনিও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লিজেন্ডস একাদশের হয়ে ভারতে খেলেছেন। ২০১৯ সালের

পর তিনি আর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেননি।

আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচে কি বাদ পড়ছেন সাকিব!

আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচে বাদ পড়তে পারেন কলকাতা নাইট রাইডাসের (কেকেআর) তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে কেকেআর দলে ফিরতে পারেন আন্দ্রে রাসেল। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন কলকাতা দলের মেন্টর ডেভিড হাসি।

হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে শেষ কয়েকটা ম্যাচে খেলতে পারেননি রাসেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই অলরাউন্ডারকে বাদ দিয়েই এলিমিনেটর এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার জিতেছে কেকেআর।

ফাইনালে মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের বিরুদ্ধে রাসেল ফিরলে দল যে আরও শক্তিশালী হবে, তা বলাই যায়।

হাসি বলেন, দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বল করছিল রাসেল। ফাইনালে খেলতেই পারে ও।

তবে রাসেল ফিরলে কলকাতা দল থেকে কে বাদ পড়বেন, তা বলা মুশকিল। রাসেল বাদ যাওয়ার পর সাকিব আল হাসানকে দলে আনা হয়। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার দলে ফিরলে বাদ পড়বেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার? তা স্পষ্ট নয় এখনও।

হাসি বলেন, সাকিব অবশ্যই আছে। ও খুব ভাল ক্রিকেটার। দুটি ম্যাচ জিতিয়েছে ও। সবাইকে পাওয়া যাবে ফাইনালে। দল নির্বাচনের সময় বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়বে কোচ।

চট্টগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিদারুল আলমের ওপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বড়উঠান ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় ৭/৮জন সন্ত্রাসী বৃহস্পতিবার রাতের অন্ধকারে ওই হামলা করে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, দারগার হাট পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহমীরপুর বাদামতল রাস্তার মাথায় এ হামলা হয়।

এ সময় তার মাথায় আঘাত লাগলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটে পড়েন। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল মাহমুদ জানান, চেয়ারম্যান দিদারুল আলমের ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত করেছে। এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি।

চট্টগ্রামে বাসা থেকে ৩ জনের লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার এএসআই সালমা বেগম যুগান্তরকে বলেন, বাসার ভেতর থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

স্মার্টফোনই সামলে নিল গুলির আঘাত, বাঁচল যুবকের প্রাণ

প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে স্মার্টফোন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক এই ডিভাইস ছাড়া একটা দিন কাটানোর কথাও ভাবতে পারেন না অনেকে। স্মার্টফোনে আসক্ত হয়ে মানুষ দিন দিন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে অভিযোগ তুলে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সামাজিকীকরণের দিকে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে স্মার্টফোনের কারণেই প্রাণে বেঁচে গেলেন এক যুবক।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের ওই যুবক সম্প্রতি সশস্ত্র ডাকাত দলের কবলে পড়েন। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা তার দিকে গুলি ছুঁড়লে পকেটে থাকা পাঁচ বছরের পুরোনো মটোরোলা স্মার্টফোন গুলি লাগলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। গুলির আঘাতে অবশ্য ফোনটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানা গেছে।

অবশ্য শুধু মটোরোলা জিফাইভ মডেলের ওই স্মার্টফোনই নয়, ফোনের সঙ্গে লাগানো ইনক্রেডিবল হাল্কের কভারটিও গুলির আঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। তবে প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই যুবক আহতাবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ওই ব্যক্তি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেখানকার চিকিৎসক পেড্রো কার্ভাহো স্মার্টফোনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। যেখানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় প্রায়ই করুণ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, সেখানে ফোনটি গুলির বেশির ভাগ আঘাত সামলে নেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকদের অবাক করেছে।

পার্টিতে হিংস্র বাঘ, তোপের মুখে দম্পতি

সম্প্রতি পার্টিতে হিংস্র বাঘ দিয়ে এনে তোপের মুখে পড়েছেন এক দম্পতি। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার পাশের এক ভবনে ওই পার্টির আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার একটি ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে, দুবাইয়ের এক দম্পতি তাদের অনাগত সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশের জন্য একটি পার্টির আয়োজন করে। ওই পার্টিতে তারা এক বাঘের সাহায্যে একটি বেলুন ফাটান।

ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই বাঘ উড়তে থাকা একটি বেলুন ফাটিয়ে দিচ্ছে। বেলুন থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে গোলাপী রঙের পাউডার।

এদিকে, ওই ভিডিওর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা। পার্টির মতো জনবহুল স্থানে বাঘ নিয়ে আসা উচিত কী না তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এক নেটিজেন ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, এই ভিডিও দেখে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আর উনারা মনে করছেন এটা স্বাভাবিক ঘটনা।

বন্যপ্রাণীরা বন্যেই সুন্দর বলে মন্তব্য করেছেন আরেক নেটিজেন।

জনসম্মুখে কোনো বন্যপ্রাণী আনা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনানুযায়ী নিষিদ্ধ। তাই সম্প্রতি দুবাইতে এ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

দেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আসবে

ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেছেন, বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আসবে।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই ইকোনমিক জোন হবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ ইকোনমিক জোন। তারপর মিরসরাইয়ে আরেকটি জাপানি ইকোনমিক জোন হবে।

তিনি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। ডিকাবের সভাপতি পান্থ রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক একেএম মঈনউদ্দিন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপানি বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ হবে বিনিয়োগের নতুন ফ্রন্টেয়ার।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে সব সময়েই মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জাপান। এই সম্পৃক্ততা উচ্চ পর্যায়ে যাতে প্রত্যাবাসন করা যায়। কারণ রোহিঙ্গা সংকট থাকলে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।

এতে করে উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলা কঠিন হবে। তাই জাপান আন্তরিকভাবে চায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হোক। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়ে এই সংকটের সমাধানের বিষয়ে জাপানের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট।

এটা বাস্তবায়ন করতে রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা দেবে জাপান। তিনি বলেন, ভাসানচরে ইউএনএইচসিআর যোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অপেক্ষাকৃত ভালো সমন্বয় হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ইতো নাওকি বলেন, ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অংশীদার হিসাবে বাস্তবসম্মত ভূমিকা পালন করতে হবে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে প্রথম কোয়াড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কোয়াড কোনো একক দেশকে টার্গেট করে করা হয়নি। কোয়াড যে কোনো দেশের জন্য উন্মুক্ত। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশকে কোভ্যাক্সের আওতায় করোনার আরও টিকা সরবরাহ করবে।

জাপানের পরিকল্পনায় এটি রয়েছে। ঠিক কত টিকা দেওয়া হবে সেটি এই মুহূর্তে আমি বলতে পারব না। তবে আশা করছি এটা নভেম্বরে আসতে পারে।

বাংলাদেশকে দেওয়া অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার বিষয়ে ইতো নাওকি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডোজ টিকা দিয়েছে।

দুই মাসের মধ্যে পাঁচ চালানে এসব টিকা বাংলাদেশে এসেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের জন্য যখন অনেক বাংলাদেশি অপেক্ষায় ছিলেন তখন জাপান বাংলাদেশকে টিকা সরবরাহ করেছে।

বাংলাদেশ ভালোভাবে টিকাগুলো কাজে লাগিয়েছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, কোভিড-১৯ একটি বৈশ্বিক সংকট। এ সংকট সমাধানে একে অন্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

জাপান সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে ও সব সময় থাকবে। জাপান সরকার করোনার টিকা ছাড়াও অন্যান্য মেডিকেল সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, যা পাইপলাইনে আছে। এগুলো বিভিন্ন হাসপাতাল ও কিছু ইনস্টিটিউটকে দেওয়া হবে।

এদিকে গত ২৪ জুলাই জাপান থেকে উপহারের অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই লাখ ৪৫ হাজার ২০০ ডোজ টিকার প্রথম চালান দেশে পৌঁছায়। এরপর ৩১ জুলাই দ্বিতীয় চালানে সাত লাখ ৮১ হাজার ৩২০ ডোজ টিকা দেশে আসে। গত ২ আগস্ট আসে উপহারের আরও ছয় লাখ ১৬ হাজার ৭৮০ ডোজ টিকা।

এরপর ২১ আগস্ট চতুর্থ চালানে সাত লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ঢাকায় আসে। সবশেষ পঞ্চম চালানে গত ২৮ আগস্ট আসে আরও ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৯২০ ডোজ টিকা।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো বন্ধু এবং উন্নয়ন অংশীদার। আগামী বছর আমরা দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবো।

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ অতিমাত্রায় যুক্ত থাকার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া চাইলে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ তার টেকসই অর্থনৈতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে যে কোনো দেশের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।

দাম বাড়তে বাড়তে এখন লাগামহীন

গত কয়েক বছর ধরেই নিত্যপণ্যের বাজারে থেমে থেমে একরকম অস্থিরতা থাকছেই। একটু একটু করে প্রতি বছরেই বাড়ানো হয়েছে দাম।

বিশেষ করে গত পাঁচ বছরে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এই মুহূর্তে মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষের জন্য যেন লাগামহীন- এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।

তাদের মতে, কখনো আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, আবার কখনো সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে প্রতিবছরই এসব পণ্যের দাম বাড়িয়েছে মিল ও মোকাম মালিক এবং আমদানিকারকরা।

এর নেপথ্যে সক্রিয় থাকছে অসাধু ব্যবসায়ীদের সেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্যরা। যারা সবসময়েই থাকেন অধরা। ফলে প্রতিবছরই তারা ভোক্তার পকেট কেটে নিয়ে যাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে এসে বাড়তি দামে রীতিমতো হাঁসফাঁস করতে হয় ক্রেতাদের।

গত পাঁচ বছরের (২০১৬ অক্টোবর-২০২১ অক্টোবর) পণ্যমূল্যের দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে পঁাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২৩৫ টাকা।

কেজিতে গরুর মাংস ও রুই মাছ যথাক্রমে ১৫০ ও ১৩০ টাকা বেড়েছে। কেজিপ্রতি চালে ১৭-২০ টাকা, ডাল ৩০ টাকা, চিনি ২০ টাকা ও দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে।

পাশাপাশি এই পাঁচ বছরে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৬৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিমের (১২ পিস) দাম বেড়েছে ২৫ টাকা। তাছাড়া সবজির দাম গত পাঁচ বছরে অনেক বেড়েছে।

সব মিলে ক্রেতা সাধারণের এসব পণ্য কিনতে সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে সবচাইতে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে নিম্ন আয় ও খেটে খাওয়া মানুষ।

গত ১৬ জুন জীবনযাত্রার ব্যয় ও ভোক্তাস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়ের ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

সেখানে বলা হয়, ২০২০ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং পণ্য ও সেবা-সার্ভিসের মূল্য ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে, যা গত তিন বছরে সর্বোচ্চ।

কারণ ২০১৯ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ। এছাড়া ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ এবং ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকায় ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা সার্ভিসের মধ্যে থেকে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী এবং ১৪টি সেবা-সার্ভিসের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নেওয়া হয়।

জানতে চাইলে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, সর্বশেষ বিগত তিন বছর হিসাব করলে রাজধানীসহ দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

একদিকে করোনা মহামারির প্রভাবে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আয়-রোজগার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে বাজারে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ছে। ফলে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জীবনমান বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর বাড়াতে হচ্ছে। ভোক্তার স্বার্থে পণ্যের দাম কমাতে যা করা দরকার সেভাবে একটি রোডম্যাপ ঠিক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পণ্যের দাম কমাতে হবে।

রাজধানীর কাওরান বাজারের আল্লারদান রাইস এজেন্সির মালিক মো. সিদ্দিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গত পাঁচ বছর আগে প্রতিকেজি মিনিকেট চালের খুচরা মূল্য ছিল ৪৮-৫০ টাকা, যা এখন ৬৫-৬৭ টাকা বিক্রি করছি।

পাশাপাশি মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা জাতের চাল প্রতিকেজি বিক্রি করছি ৪৮ টাকা, যা একদিন আগেও ৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে পাঁচ বছর আগে এই মোটা চাল ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি।

তিনি জানান, পাঁচ বছরে চালের দাম অনেক বেড়েছে, যা বাড়ার কথা না। তিনি জানান, প্রতি বছর প্রত্যেকটি মৌসুমে চালের বাম্পার ফলন হচ্ছে। কিন্তু ঠিক সেই সময় চালের বাজারে দাম বাড়ছে।

আর এই দাম বাড়াচ্ছে মিল মালিকরা। তারা অতি মুনাফা করতে সিন্ডিকেট করে প্রতি বছর দাম বাড়াচ্ছে। তদারকি সেখানে করা উচিত।

রাজধানীর নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন যুগান্তরকে বলেন, এখন পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৭২৫ টাকা। পাঁচ বছর আগে ঠিক একই সময় ৪৮০-৪৯০ টাকায় বিক্রি করেছি।

প্রতিকেজি চিনি বিক্রি করেছি ৬০ টাকা, তা এখন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালোমানের মসুর ডাল (ছোট দানা) সর্বোচ্চ ১২০ টাকায় বিক্রি করছি, যা পাঁচ বছর আগে ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি।

পাশাপাশি এক ডজন ফার্মের ডিম ১২০-১১৫ টাকা, যা পাঁচ বছর আগে ৮৫-৯০ টাকায় বিক্রি হতো। আর প্রতি কেজি দেশি পেঁযাজ ৩৫ টাকায় বিক্রি করেছি, যা এখন ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, পণ্যের দাম গত পাঁচ বছরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এই গত কয়েকদিন আগে ভোজ্যতলের দাম বেঁধে দিল সরকার। কিন্তু মিলমালিকরা সেই দরে বিক্রি করছে না।

ফলে খুচরা বাজারেও নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না। কিন্তু তদারকি সংস্থা খুচরা বাজারেই অভিযান করছে। তারা এসে ক্রয়ের রশিদ দেখতে চাইছে, কিন্তু মিলাররা বেশি দরে বিক্রি করলেও রশিদ দিচ্ছে না।

তাই দেখাতেও পারছি না। জরিমানা গুনতে হচ্ছে। কিন্তু মিলমালিকদের তারা কিছুই বলছে না। তারাও জানেন খুচরা বাজারে বেশি দরে এনে বেশি দরেই বিক্রি করতে হবে। দাম যা বাড়ানোর মিল মালিকরা বাড়ায়।

কিন্তু তারা সেখানে অভিযান পরিচালনা করে না। অভিযান পরিচালনা করতেও দেখা যায় না। সেখানে অভিযান করলে পণ্যের দাম কমবে।

অন্যদিকে এই পাঁচ বছরে মাছ মাংসের দামও বেড়েছে। যেখানে বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, পাঁচ বছর আগে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আবার সরবরাহ বেশি থাকলে ১০০ টাকায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা।

যা পাঁচ বছর আগে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছর আগে প্রতি কেজি রুই মাছ ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখানে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি।

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা সাজেদা বেগম যুগান্তরকে বলেন, এখন প্রতিদিনই পণ্যের দাম বাড়ছে। তাছাড়া পাঁচ বছর আগে পণ্যের দাম যা ছিল তা দুইগুণ বেড়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে আয় কমেছে সেখানে পণ্যের দাম বাড়ায় কিনতে খুব হাঁসফাঁস লাগছে। কারণ পেটে ক্ষুধা রেখে হিসাব করে পণ্য কিনতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যেনও কোনো লোক নেই-ক্ষুব্ধ মন্তব্য তার।