সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 690

ফের নিলামে উঠছে ১১০ বিলাসবহুল গাড়ি

মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউসহ বিলাসবহুল ১১০টি গাড়ি নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব গাড়ি বিদেশে থেকে কারনেট ডি প্যাসেজ সুবিধায় দেশে এসেছে। এই গাড়িগুলো অখালাস অবস্থায় বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে রয়েছে। এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো গাড়িগুলো নিলামে উঠছে।

শনিবার রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর এই গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করা হবে। এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়েসবাইটে নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

এরআাগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের যুগ্ম-কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

এনবিআর জানায়, আগ্রহী কেউ গাড়ি দেখতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ছবিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে আগে থেকে পাস নিতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের তিনদিন আগে আবেদন করতে হবে। গাড়ি পরিদর্শনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৭, ২৮ অক্টোবর এবং ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

এছাড়া নিলাম থেকে কেউ গাড়ি কিনতে চাইলে তাকে টেন্ডার জমা দিতে হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও মোংলায় কাস্টম অফিসে রাখা টেন্ডার বাক্সে টেন্ডার আবেদন খামে জমা দিতে হবে।

এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো নিলামে তোলা হচ্ছে এসব গাড়ি। এর আগে চারটি নিলামে একটি গাড়িও বিক্রি হয়নি। তবে এবার গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করতে চায় কাস্টমস। সে জন্য নিলামে যেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দরদাতা অংশ নেয় সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পর্যটক সুবিধায় এক দশক আগে এসব গাড়ি এনেছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পর্যটকরা। শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আনার পর আটকে যায় গাড়িগুলো। ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে খালাসের শর্তারোপ করার পরই খালাস না নিয়ে সরে পড়েন পর্যটকরা।

নিলামে তোলা গাড়িগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি হলো যুক্তরাজ্যের তৈরি ল্যান্ড রোভার গাড়ি। এ ধরনের সাতটি গাড়ি রয়েছে। ১১০টি গাড়ির অর্ধেকই মার্সিডিজ বেঞ্জ ও বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের।

কারাগার থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে যা বলেছেন ইভ্যালির সিইও রাসেল

লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল।কারাগার থেকে গ্রাহকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

রাসেল বলেছেন, সময় ও সুযোগ পেলে ৪ মাসের মধ্যেই সব জটিলতা গুছিয়ে তোলা সম্ভব।

শনিবার বিকালে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ইভ্যালি ডটকম বিডি থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইভ্যালির রাসেলের এ কথা জানানো হয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, আইনজীবীর মাধ্যমে ইভ্যালির সিইও রাসেলের কাছ থেকে ওই বক্তব্য পাওয়া গেছে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে ইভ্যালির ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘সম্মানিত’ গ্রাহক- বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অংশীদার হয়ে দেশের অনলাইন কেনাকাটাকে সবার হাতের মুঠোয় নিয়ে যেতে আমরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। এই কাজকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই। সবার সহযোগিতায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। এই সুযোগ পেলে সবার সব ধরনের অর্ডার ডেলিভারি দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম, আছি এবং থাকব।

ইভ্যালির কর্মচারীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, আমাদের ‘সম্মানিত’ সিইও এবং চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় আমাদের ব্যাংকিংও সাময়িকভাবে বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভারসহ, অফিসের খরচ চালানো এবং আমাদের কর্মচারীদের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ওই পোস্টে ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত সার্ভার চালু করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ইভ্যালির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, গ্রাহক ও সেলারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইভ্যালি সর্বোচ্চ সচেষ্ট। দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে গ্রাহকদের সব সময় পাশে পেয়েছে ইভ্যালি। এই ভালোবাসায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ। সামনের দিনগুলোতেও এভাবে আপনাদের পাশে চাই। আপনাদের ভালোবাসার শক্তি আমাদের অদম্য পথচলার প্রেরণা। ইভ্যালির পাশে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

অবশেষে মনোনয়ন জমা দিলেন সিংগাইরের স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি

অবশেষে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান তার মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পেরেছেন। শুক্রবার বিকালে তার ওপর হামলা চালিয়ে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পুত্র, মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা কমিটির সদস্য মো. ফয়জুল ইসলাম খাঁনকে শনিবার আদালতে তোলা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত ।

শনিবার দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৮ এর বিচারক এ আদেশ দেন। মানিকগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে শনিবার বিকালে মো. ওবায়দুর রহমানের মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিষয়টি সিংগাইর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব রোমান চৌধুরী নিশ্চিত করেন।

মাহবুব রোমান চৌধুরী জানান, শনিবার বিকালে সিংগাইরের বলধারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মো. ওবায়দুর রহমানের মনোনয়ন পত্রটি জমা নেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ওবায়দুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবকারী ও সর্মথনকারীসহ কয়েকজনকে নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের দিকে যান। এসময় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মাজেদ খাঁনের ছেলে মো.ফয়জুল ইসলাম খাঁনসহ ৪-৫ জন তাদের ওপর হামলা করে মনোয়নপত্র, ভোটার কার্ড ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায়।

পরে এ ঘটনায় মামলা হলে মো.ফয়জুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কাপ্তাইয়ে নৌকার প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে (৫৬) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার রাত বারোটার পর চিৎমরমের আগাপাড়া এলাকায় নিজ বাসাতেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন নিহত নেথোয়াই মারমা।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন তিনি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরী জানিয়েছেন, নেথোয়াই মারমা এতদিন উপজেলা রেস্টহাউজে ছিল। আজই মনোনয়ন জমা দিয়ে চিৎমরমে এলাকায় গিয়েছিল নেতাকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। রাতে তার বাড়িতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে গেছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আমরা জেনেছি আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নেথোয়াই মারমাকে গুলি করে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। পুলিশ সেখানে যাচ্ছে। সেখানে গেলে বিস্তারিত জানতে পারব।

পিরকে ৩ কোটি টাকার গাড়ি উপঢৌকন

গুলশানে একটি বহুমূল্যবান বাড়ির দখল, পালটা দখল নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে চলেছে। বাড়ি দখলে কেউ কেউ ক্ষমতাবলয়ে ঢেলেছেন মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ আবার ছুটেছেন পিরের দরগায়। দিয়েছেন পিরের ছেলেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি। এতেও কাজ হয়নি। তবে নিরাশ হয়নি প্রভাবশালী মহল। পালটাপালটি মামলার শুনানি নিয়ে সব পক্ষই ছুটছে উচ্চ আদালতে।

সরেজমিন দেখা যায়, গুলশানের ৭৮ নম্বর রোডে ৬ নম্বর প্লটে পুরোনো আমলের একটি দেড়তলা বাড়ি। লেক-সংলগ্ন জমিটির আয়তন ৯ কাঠার বেশি। যার বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৬০ কোটি টাকা। মূল্যবান বাড়িটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন অনেকে। ইতোমধ্যে বৈধ মালিক দাবি করে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি দলিলদস্তাবেজ নিয়ে ঘুরছেন ঘাটে ঘাটে। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাঘা বাঘা আইনজীবী। পর্দার আড়ালে থেকে কাজ করছেন ক্ষমতাধর এক লবিস্ট।

৩০ সেপ্টেম্বর সরেজমিন বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা যায়, গেটে একটি পিতলের সাইনবোর্ড লাগানো। তাতে লেখা তিউনেশিয়ার সম্মানিত কনসাল জেনারেলের বাসভবন। লোহার পকেট গেট খোলাই ছিল। ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ৩/৪টি পুরোনো মডেলের গাড়ি পার্ক করে রাখা। প্রতিটি গাড়িতে ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড। কিছুক্ষণ ডাকাডাকির পর এগিয়ে আসেন বৃদ্ধ কেয়ারটেকার আজিজ। তিনি জানান, বাইরে সাইনবোর্ড থাকলেও এখানে কোনো রাষ্ট্রদূত থাকেন না। দূতাবাসের সাইনবোর্ড কেন লাগানো হয়েছে, তা তিনি জানেন না। দেখা যায়, আশপাশের প্লটে সুউচ্চ অত্যাধুনিক বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে একমাত্র দ্বিতল বাড়িটি দেখতে অনেকটাই পরিত্যক্ত সম্পত্তির মতো মনে হয়।

প্রায় ৩০ বছর বাড়িটিতে বসবাস করছেন রওনক খন্দকার নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বায়নাসূত্রে বাড়ির মালিকানা দাবি করছেন। কিন্তু তার মালিকানা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করেছেন আরেক মালিক দাবিদার সিএ খালেদ রহিম। উভয়েই বাড়ির দখল পেতে মরিয়া। মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাইলে রওনক খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, এই বাড়ির মালিক ছিলেন ফরিদা আমিন। তার কাছ থেকে তিনি প্রথমে বাড়িটি ভাড়া নেন। একপর্যায়ে ফরিদা আমিন বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দিলে তিনি বায়না করেন। কিন্তু রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই ফরিদা আমিন মারা যান। ফলে মালিকানার দাবিতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। নিু আদালতের রায় আছে তার পক্ষে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, রওনক খন্দকারকে ভাড়াটিয়া উল্লেখ করে তাকে উচ্ছেদে মামলা করেছেন সিএ খালেদ রহিম। তার পক্ষে কাজ করছেন কামরুল হুদা নামের এক প্রভাবশালী লবিস্ট। প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এক উপদেষ্টার ভাগনে পরিচয়ে তিনি রাজউকে ক্ষমতাধর হিসাবে পরিচিত। লবিস্ট কামরুল হুদা যুগান্তরের কাছে দাবি করেন, জমিসহ বাড়িটির প্রকৃত মালিক সিএ খালেদ রহিম। তার বর্ণনা মতে, ১৯৬৭ সালে তৎকালীন ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট থেকে প্লট বরাদ্দ পান জনৈক রিনা হুমায়ন। তিনি ১৯৭০ সালে সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বোন ফরিদা আমিনের কাছে প্লটসহ বাড়িটি বিক্রি করে দেন। ফরিদা আমিনের কাছ থেকে ৯৮ সালে ক্রয়সূত্রে বাড়িটির মালিক হন খালেদ রহিম। তিনি বাড়িটি বুঝে পেতে আদালতে মামলা করেছেন। তবে বাড়ির মালিকানার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি খালেদ রহিম। ১১ অক্টোবর বক্তব্য চেয়ে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি খুদেবার্তা পাঠিয়ে বলেন, আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন। তার আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজিবুল আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কাওরান বাজারে তার চেম্বারে গেলে জানানো হয়, তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। তানজিবুল আলমের ভাই ব্যারিস্টার এরশাদুল আলম প্রতিবেদকের কাছে একটি নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাড়ি দেখিয়েই ৫ কোটি : আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার আগেই খালেদ রহিমের লবিস্ট কামরুল হুদা ভিন্নপথে হাঁটেন। বিবদমান বাড়িটি বিক্রির কথা বলে তিনি বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে আর ফেরত দেননি। এর মধ্যে তেজগাঁওয়ের নিউ অটো গ্যালাক্সি গাড়ি শোরুমের মালিক নজরুল ইসলাম আলম খুইয়েছেন ৫ কোটি টাকা। ভুক্তভোগী আলম যুগান্তরকে বলেন, কামরুল হুদা তার শোরুম থেকে বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের একাধিক গাড়ি কেনেন। পূর্বপরিচয়ের সূত্রে তার কাছে গুলশানের বাড়ি বিক্রির প্রস্তাব দেন কামরুল হুদা। তিনি তার চটকদার কথার জালে আটকা পড়েন। বাড়ি কিনতে অগ্রিম হিসাবে ৫ কোটি তুলে দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও রেজিস্ট্রি না পেয়ে তিনি টাকা ফেরত চান। টাকা না পেয়ে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মামলা করেন। প্রতারণার মামলায় কামরুল হুদা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও টাকা ফেরত দেননি। ভুক্তভোগী আলম অভিযোগ করেন, কামরুল হুদা আটরশি পিরের মুরিদ। কথায় কথায় পিরের ক্ষমতার দাপট দেখান। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গুলশানের বাড়ির দখল পেতে লবিস্ট কামরুল হুদা ঘাটে ঘাটে উপঢৌকন পৌঁছে দেন। এর মধ্যে ফরিদপুরের আটরশি পিরের দরবারে দিয়েছেন বিশেষ উপঢৌকন। পিরের এক ছেলেকে দেন ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা মূল্যের মার্সিডিজ গাড়ি। এছাড়া বিএমডব্লিউ, জাগুয়ার এবং ল্যান্ডক্রুজার ব্র্যান্ডের কয়েকটি গাড়ি উপঢৌকন দেওয়া হয় প্রভাবশালী মহলে।

সেদিন পিরের দরগায় যা ঘটেছিল : আটরশি পিরের বড় ছেলে কথিত পিরজাদা মাহফুজুল হকের বনানীর বাড়িতে গাড়ি ডেলিভারি দিতে যান নিউ অটো গ্যালাক্সি শোরুমের গাড়িচালক মফিজুল ইসলাম। বনানী ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত পিরের ছেলের বাড়ির সামনে যাওয়ার পর দায়িত্বরত কর্মীরা সবাইকে জুতা খুলতে বলেন। এ সময় কামরুল হুদাসহ সবাই জুতা খুলে হাতে নেন। বিশেষ ভঙ্গিতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন সবাই। পিরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে এসে মার্সিডিজে ওঠেন কামরুল হুদা এবং মাহফুজুল হক। দুুজনই গাড়ির ভেতরে বসে গাড়ির সার্বিক অবস্থা এবং বিলাসী উপকরণ পরীক্ষা করে দেখেন। এরপর তাদের কাছে গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিউ অটো গ্যালাক্সি শোরুমের বিক্রয় রসিদ অনুযায়ী পিরজাদা মাহফুজুল হকের জন্য ২০১৫ সালের ১০ জুলাই গাড়িটি কেনা হয়। ক্রেতা হিসাবে কামরুল হুদার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ভিভিড গ্রুপ’-এর নামে বিক্রয় রসিদ কাটা হয়। পরে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করা হয় পিরজাদা মাহফুজুল হকের নামে। রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো ভ ১১-১৭৪০।

তবে কামরুল হুদা নামের কোনো মুরিদের কাছ থেকে গাড়ি উপঢৌকন নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন মাহফুজুল হকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবং আটরশি দরবারের কর্মী বিভাগের প্রধান কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘মিয়া ভাইজান (মাহফুজুল হক) কামরুল হুদা নামের কোনো মুরিদের কাছ থেকে গাড়ি উপঢৌকন নিয়েছেন-এমন কথা সত্য নয়।’ তবে আটরশি পিরের ছোট ছেলে ফয়সাল মুজাদ্দেদির প্রেস সেক্রেটারি শামীম হায়দার বলেন, প্রতারণা এবং শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য মুরিদ কামরুল হুদাকে অনেক আগেই পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাকের পার্টির কার্যালয়ে প্রবেশ তার জন্য নিষিদ্ধ।

এদিকে যুগান্তরের অনুসন্ধানে লবিস্ট কামরুল হুদার দেশ-বিদেশে অঢেল সম্পদ এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের চিত্র বেরিয়ে আসে। ফরিদপুরের আটরশি দরবার শরিফের অদূরে সাড়ে সাতরশি এলাকায় বিলাসবহুল বাংলো নির্মাণ করেছেন কামরুল হুদা। ২৫ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়ক থেকে হাঁটা সরু একটি গলিপথ চলে গেছে নিচু গ্রামাঞ্চলের দিকে। কিছুদূর যেতেই সিসি ক্যামেরা লাগানো খুঁটি চোখে পড়ে। অদূরে দেখা যায় বিদেশি স্থাপত্যে নির্মিত একটি অভিজাত বাড়ি। প্রায় ৩ বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত বাড়ির প্রবেশগেট রাজকীয়। বিশাল আকারের স্টিলের গেট। দুপাশে দুটি নিরাপত্তা কক্ষ। গেট খুলে ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায়, বিদেশি মূল্যবান টাইলস বসানো খোলা লন। মার্বেল পাথর এবং বিদেশি কাঠ দিয়ে মোড়ানো বাড়িতে আছে হেলিপ্যাড এবং সুইমিংপুল। ৯/১২ ফুট আয়তনের আমদানি করা একেকটি মার্বেল পাথরের দামই কয়েক লাখ টাকা। অজপাড়াগাঁয়ে এমন প্রাসাদোপম বাড়ি নিয়ে স্থানীয়দের জল্পনাকল্পনার শেষ নেই। বাড়িটি নির্মাণে অন্তত ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অর্থ আত্মসাৎ, তদবির বাণিজ্য এবং অঢেল বিত্তবৈভবের প্রশ্ন নিয়ে কামরুল হুদার মুখোমুখি হয় যুগান্তরের অনুসন্ধান সেল। বনানীর অফিসে বসে তিনি যুগান্তরকে জানান, ‘প্রতারণা করে তিনি কারও কাছ থেকে একটি টাকাও নেননি। গাড়ি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম আলম বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় তাকে ৫ কোটি টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় আইন অনুযায়ী তার টাকা ফরফিট হয়ে গেছে। তারপরও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে গ্রেফতার করানো হয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘তাকে লবিস্ট না বলে পরামর্শক বলা যুক্তিযুক্ত। কারণ জমিজমা-সংক্রান্ত কাজ তিনি ভালো বোঝেন বলে অনেকেই তার কাছে আসে। তিনি শুধু পরামর্শ দেন না, বরং বিনিয়োগও করেন। এটা তার বৈধ ব্যবসা। তবে এখন পর্যন্ত তিনি যা করেছেন, এর সবই আইনি কাঠামোর মধ্যে। তিনি কোনো ধরনের বেআইনি তৎপরতায় জড়িত নন।’ তার গাড়িবাড়িসহ সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আয়কর ফাইলে যথাযথভাবে প্রদর্শিত। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল দাবি করে বলেন, ‘আমি তার রক্তের সম্পর্কের কেউ নই। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আমাকে বিশ্বাস করে গেছেন। তার ব্যক্তিগত বহু কাজে আমি নিয়োজিত ছিলাম।’

ফের জঙ্গিবাদে মদদের অভিযোগ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের বিরুদ্ধে লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার পাশাপাশি ফের জঙ্গিবাদে মদদের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মে পিষ্ট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের কুচক্রী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। এর নেপথ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য এমএ কাশেম। জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়াসংক্রান্ত পর্যাপ্ত প্রমাণাদি যুগান্তরের হাতে রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্লগার রাজীবকে ২০১৩ সালে জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন নাফিস ইমতিয়াজ। এ মামলায় ১০ বছরের সাজাভোগ শেষে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর সেপ্টেম্বরে ইমতিয়াজ ফের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ওই আবেদন গ্রহণ করে তাকে ভর্তির অনুমতি দিয়েছে। এদিকে শনিবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের কবল থেকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

যত অনিয়ম-দুর্নীতি : অনুসন্ধানে জানা গেছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম ও জঙ্গিবাদে মদদের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অসংখ্য অভিযোগ জমা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-বিশ্ববিদ্যালয়টির শীর্ষ ব্যক্তিদের কম মূল্যের জমি বেশি দামে ক্রয় করা হয়েছে। ডেভেলপার্স কোম্পানি থেকে কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি ছাত্রদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের ৯ সদস্যের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়।

এক লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স, অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ, নিয়ম ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা নিজেদের মালিকানাধীন ব্যাংকে এফডিআর করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে ভর্তিও করা হয় কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য- আজিম উদ্দিন আহমেদ ও এমএ কাশেম সিন্ডিকেটের হাতে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই যেন জিম্মি হয়ে আছে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস করার নামে আজিম উদ্দিন ও কাশেম সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে শত শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। পূর্বাচলসংলগ্ন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২৫০ বিঘা নিচু জমি কিনে ৪২৫ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের কাছ থেকে কম মূল্যের জমি বেশি দামে কিনেছেন তারা। সেখানে নতুন ক্যাম্পাস করার নামে সাতগুণ বেশি দামে এ নিচু জমি কেনা হয়েছে। ওই সময় (২০১৪) প্রতি বিঘা জমির বাজার দর ছিল ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু সেই জমি আজিম-কাশেম সিন্ডিকেট কিনেছে বিঘাপ্রতি দুই কোটি টাকা করে। এর মাধ্যমে তারা আত্মসাৎ করেছেন প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা।

আবার সেই নিচু জমি ভরাটের নামেও ৩৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ আজিম-কাশেম সিন্ডিকেট যে ডেভেলপার্স কোম্পানির কাছ থেকে জমি কিনেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৪ কোটি টাকা কমিশন নিয়েছে-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, বায়নার সময় ৪ কোটি টাকা ও পরে জমি রেজিস্ট্রি হওয়ার পর নগদ ১০ কোটি টাকা কমিশন তুলেছে। আশালয় হাউজিং কোম্পানির ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বনানী শাখার অ্যাকাউন্ট নং-১০৩১২০০০০০০৮৭১ থেকে সাউথইস্ট ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ নগদ ৫ কোটি টাকা তুলে কাশেমের বাসায় ও প্রিন্সিপাল শাখার কর্মকর্তা কাওসার মাহমুদ আজিমের বাসায় ৫ কোটি টাকা পৌঁছে দেন। আরও জানা গেছে, ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) নানা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে। দুদক কর্মকর্তাদের কাছে কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুর্নীতির কথা স্বীকার করে।

শিক্ষার্থীদের টাকায় বিলাসবহুল জীবন ট্রাস্টিদের : অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর টিউশন ফির বোঝা চাপিয়ে সেই টাকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। ছাত্রদের টিউশন ফি থেকে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের ৯ সদস্যের জন্য ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল ৮টা রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিস বেঞ্জ গাড়ি ক্রয় করে। এ গাড়ির চালকদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং তেলের খরচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড থেকেই বহন করা হয়। এ আজিম-কাশেম বিশ্ববিদ্যালয়টিকে তাদের অর্থ আয়ের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছেন। যার কারণে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স বাবদ প্রতিটি বোর্ড অব ট্রাস্টির মিটিংয়ে ২০১৮ সাল থেকে এক লাখ টাকা এবং অন্যান্য মিটিংয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে আসছেন। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরে তারা তা ৫০ হাজার টাকা ও ২৫ হাজার টাকা করে নেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক সিটিং অ্যালাউন্স ফি নির্ধারিত আছে। করোনাকালে অনলাইনে মিটিং করেও সমপরিমাণ অ্যালাউন্স গ্রহণ করেছেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। আজিম-কাশেমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সিন্ডিকেটই সব অনিয়ম-দুর্নীতির কলকাঠি নাড়ছে। সিন্ডিকেটের অপর সদস্যরা হলেন-প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বেনজির আহমেদ, রেহেনা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান ও আজিজ আল কায়সার টিটো। আজিম-কাশেম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অমান্য করে আটটি কমিটির বিপরীতে ২৫টি কমিটি গঠন করে অতিরিক্ত সিটিং অ্যালাউন্স আদায় করে। এসব কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব ক্ষমতা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছেন তারা। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ-অবৈধ সব কমিটিতেই আজিম বা কাশেম নিয়মবহির্ভূতভাবে সদস্য হয়েছেন।

আরও জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেরা যে ব্যাংকের পরিচালক, সেই ব্যাংকে বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডের ৪০৮ কোটি টাকা এফডিআর করে রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সম্পত্তির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টের মোট অর্থের (২০২১ সালের ৩১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী) ৪৩ ভাগেরও বেশি (৪০৮ কোটি ৪০ লাখ) টাকা নিজেদের মালিকানাধীন সাউথইস্ট ব্যাংকে জমা রেখেছেন। আজিম-কাশেম এবং তাদের স্ত্রীরা উক্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এ তহবিল দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৬ অক্টোবর চিঠি ইস্যু করেছে ইউজিসি। ওই চিঠিতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য ও তাদের পরিবারের মালিকানাধীন ও নেতৃত্বাধীন ব্যাংক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় হিসাব এবং তহবিল সরিয়ে নিতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিকে (এনএসইউ) নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন একাধিকবার সতর্ক করলেও নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অনিয়ম চলছেই। শুধু তাই নয় ভর্তি বাবদ গ্রহণ করা হয় অতিরিক্ত অর্থ। ইউজিসি এ কারণে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পরামর্শমূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। এছাড়া আইন অনুষদে বার কাউন্সিলের অনুমোদিত (৩০ জন প্রতি সেমিস্টার) আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করে। যাদের বার কাউন্সিল সনদ নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

বিগত বছরগুলোর নানা ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে-প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সিন্ডিকেটের মদদে একরকম জঙ্গি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। বিভিন্ন সময়ে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের অভিযোগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী আটকও হন, যা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ভর্তি করে নতুন করে জঙ্গি মদদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষ।

ট্রাস্টিদের আত্মীয়দের নিয়োগ : সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আত্মীয়করণের মাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আত্মীয়করণের মাধ্যমে এমএ কাশেম তার মেয়ের জামাইকে ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেন এবং অপর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য বেনজির আহমেদ তার ছেলে রাহাত আহমেদকে প্রধান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে স্টার্টআপ নেক্সট নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি প্রোগ্রাম চালু করে। এছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের এ সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে নিকটাত্মীয় ও পরিচিতজনদের নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

উল্লিখিত সব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মন্তব্য নিতে শনিবার আজিম উদ্দিন আহমেদ ও এমএ কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাদের মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদক একাধিকবার কল করলেও তারা কেউ রিসিভ করেননি।

প্রমাণ পেলেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সাবেক কর্মীর ফাঁস করা তথ্য দেখা গেছে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের নিরাপত্তার বদলে ব্যবসায়িক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। এ ছাড়াও গ্রাহকদের প্রতি ফেসবুকের আন্তরিকতার অভাব, নীতিমালার ব্যত্যয়, প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এ ছাড়া মুনাফা ধরে রাখতে সংস্থাটি শিশু ও কিশোর বয়সিদের মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করে।

এহেন পরিস্থিতিতে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে ফেসবুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনার এলিজাবেথ ডেনহ্যাম। ফেসবুক ব্রিটিশ আইন লঙ্ঘন করছে কি না, সেটি যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত সাবেক কর্মী ও তথ্য ফাঁসকারী ফ্রান্সেস হাউগেনের কাছে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে চিঠিও লিখেছেন তিনি। ফ্রান্সেস হাউগেনের হাতে থাকা ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ও গবেষণা প্রতিবেদন যুক্তরাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এলিজাবেথ ডেনহ্যাম বিশ্লেষণ করে দেখতে চান বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

যদিও এর আগে অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ফেসবুক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ‘প্রতিষ্ঠানটির যে মিথ্যা চিত্রায়ণ করা হচ্ছে তার সঙ্গে আমাদের বেশিরভাগ পরিচিত নয়’- দাবি করেন তিনি।

তবে, ডেনহ্যাম বলেছেন, ‘ফ্রান্সেসের সাক্ষ্য থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যের ওপর আমরা ঘনিষ্ঠ নজর রাখছি-অভিযোগগুলোর সম্পূর্ণ প্রতিবেদনে প্রবেশাধিকার চেয়ে তার কাছে চিঠি লিখেছি আমি।’ ‘যুক্তরাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে তার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখতে চাই আমি ওই ক্ষতিকর প্রভাবগুলো কী যুক্তরাজ্যের ওপরও পড়ছে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর?’ ফ্রান্সেস হাউগেন যে অভিযোগ তুলেছেন তার মধ্যে যে দুটি অভিযোগ রাজনীতিবিদদের কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেসবুকের মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম সেবা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং সামাজিক বিভক্তি বাড়িয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করে ফেসবুকের অ্যালগরিদম।

ড্রপ আউট হওয়া পল মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ড্রপ আউট হওয়া একটা ছেলে মাত করল বিশ্বকে। প্রযুক্তি জগতে এলো আমূল-পরিবর্তন। বদলে গেল মানুষের জীবনযাপনের ধরন। বিংশ শতকের শেষদিকে যে জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় এত সব ঘটে গেল তিনি আর কেউ নন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। আজকের আয়োজনে এ প্রযুক্তি মহারথির কথা লিখেছেন- তানভীর তানিম

জন্ম

পল অ্যালেনের পুরো নাম পল গার্ডনার অ্যালেন। তবে পল অ্যালেন নামেই তিনি অধিক পরিচিত। অ্যালেন ১৯৫৩ সালের ২১ জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে জন্মগ্রহণ করেন।

পরিচয়

প্রকৃতপক্ষে পল অ্যালেন ছিলেন আমেরিকান উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী। তিনি বিল গেটসের সঙ্গে মিলে মাইক্রোসফট করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত। এ ছাড়া পিসির সফটওয়্যার সিস্টেম ও অ্যাপ্লিকেশন উদ্ভাবনে তার যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

বিল গেটসের সান্নিধ্য

পল অ্যালেন ওয়াশিংটন উপশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি বেসরকারি স্কুল, লেকসাইডে পড়াশোনা করেন। সেখানেই বিল গেটসের সঙ্গে তার প্রথম দেখা। এরপর দু’জনের সম্পর্ক মোড় নেয় বন্ধুত্বে। তারা দু’জনেই কম্পিউটারের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী ছিলেন।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

অ্যালেন ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা চালিয়ে যান। তবে ১৯৭৪ সালে তিনি ড্রপ আউট হন। এর দু’বছর পর, বস্টনের আমেরিকান অ্যাডভান্স-টেকনোলজি কোম্পানি হানিওয়েল ইনকরপোরেটেড (পরে নামকরণ করা হয় হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেটেড)-এ কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসাবে যোগ দেন। অন্যদিকে গেটস তখন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অ্যালেন এবং গেটস আবার একত্রিত হন এবং বেসিক (BASIC)-এর মাধ্যমে প্রথম মাইক্রো কম্পিউটারের সফটওয়্যার তৈরি করেন। বেসিক মূলত বড় ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা। যা তখন মাইক্রো কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়।

মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা

শুরুতে পল অ্যালেন এবং বিল গেটস মাইক্রো-সফট নামে একটি কোম্পানি গঠন করেন। এটিই পরে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট করপোরেশন নামে আত্মপ্রকাশ করে।

মাইক্রোসফট থেকে অবসর

ক্যারিয়ারের শেষদিকে পল অ্যালেন মাইক্রোসফটের প্রধান প্রযুক্তিবিদ হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে হজকিন রোগে আক্রান্ত হলে তিনি কোম্পানি থেকে পদত্যাগ করেন। তবে তখনো তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

পল অ্যালেনের কর্মযজ্ঞ

অ্যালেনের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অ্যালেন ইনস্টিটিউট ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, যা তিনি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া তিনি গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে জড়িত ছিলেন। তিনি এমন সব অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভিন্ন জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছিল।

মৃত্যু

২০১৮-এর ১৫ অক্টোবর এ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

স্মৃতিচারণ

পলের মৃত্যুকে অপূরণীয় ক্ষতি আখ্যা দিয়ে বিল গেটস সে সময় বলেছিলেন, পলকে ছাড়া কম্পিউটার জগতে এত বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হতো না। অন্যদিকে তার সহকর্মীরা এক বিবৃতিতে জানায়, এ মৃত্যু প্রযুক্তি জগৎসহ আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের ক্ষতি। প্রযুক্তি জগতে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তার জন্য আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

সম্প্রীতির আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রিয় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে বাংলা ভূখণ্ডে নানা জাতি-গোষ্ঠী ও ধর্ম মতের অনুসারীরা পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে মিলেমিশে একত্রে বসবাসের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য সংহত রেখেছে।

যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এটাই ধর্মের শিক্ষা। মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও মালিক এক। তার ধর্মও এক ও অভিন্ন। তার সব সৃষ্টির মাঝে মানুষ সর্বোৎকৃষ্ট। তার এ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যেন নিজেদের মাঝে সাম্য, একতা, মানবতা এবং সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যমে সহাবস্থানে বসবাস করেন এ শিক্ষাই সৃষ্টিকর্তা দিয়েছেন।

ধর্মে এক ধর্মাবলম্বী অন্য ধর্মাবলম্বীকে সম্মান করার আদেশ বিদ্যমান। কোনো ধর্মই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা জঙ্গিবাদের শিক্ষা দেয়নি। প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। ধর্মপালন কিংবা বর্জন ব্যক্তির নিজস্ব অধিকার। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন-‘তুমি বল, তোমার প্রতিপালক প্রভুর পক্ষ থেকে পূর্ণ সত্য প্রেরিত, অতএব যার ইচ্ছা সে ইমান আনুক, আর যার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক’ (সূরা কাহাফ : ৩০)।

অথচ আজ সারা বিশ্বে চলছে ধর্মের নামে অধর্মের কাজ। মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি এবং যুদ্ধবিগ্রহ। এক ধর্মাবলম্বী অপর ধর্মাবলম্বীকে হত্যার প্রয়াস। এক জাতিগোষ্ঠী অপর জাতির ওপর আক্রমণ। সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার।

মানবতার কবি, অসাম্প্রদায়িক কবি কাজী নজরুল যিনি জাতি ধর্ম, বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে ছিলেন। তাই তো তিনি লিখেছেন, ‘গাহি সাম্যের গান/ যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা ব্যবধান,/যেখানে মিশেছে হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিষ্টান।’ তিনি লিখেছিলেন ‘মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান/নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,/সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।’

আমাদের এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাঁধনে আবদ্ধ, এখানে কোনোরূপ সন্ত্রাস ও জনজীবনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, নাশকতামূলক কাজে লিপ্ত কোনো অপশক্তির স্থান নেই। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দৃষ্টান্তই আমরা লক্ষ করে আসছি।

আসলে কে কোন ধর্মের অনুসারী তা মূল বিষয় নয়, বিষয় হলো আমরা সবাই মানুষ। মানুষ হিসাবে আমরা সবাই এক জাতি। আমার ধর্মের সঙ্গে, আমার মতের সঙ্গে আরেকজন একমত নাও হতে পারে, তাই বলে কি তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট করব?

মহানবী (সা.) মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন। অথচ বিরোধী মক্কাবাসীরা তার (সা.) এবং তার (সা.) অনুসারীদের ওপর কতই না নির্মম অত্যাচার করেছে। এর প্রতিবাদে তিনি (সা.) যুদ্ধে জড়িত হননি।

অত্যাচারের সীমা যখন ছাড়িয়ে যায় তখন তিনি (সা.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান। তারপরও মক্কার সেই বিরোধীরা মদিনায় গিয়ে আক্রমণ করে। তখন তিনি (সা.) আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে নির্দেশিত হন-‘যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে (আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধ করার) অনুমতি দেওয়া হলো। কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে’ (সূরা হাজ : ৪০)।

ফলে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ করা হয়। নিজেদের অস্তিত্বকে রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেন। তবে বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িত নয় কিংবা বৃদ্ধ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়নি। এমনকি মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সা.) সব ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী ধর্ম কর্ম পালনের শিক্ষা দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেন-জেনে রাখ, যে ব্যক্তি কোনো অঙ্গীকারাবদ্ধ অমুসলমানের ওপর জুলুম করবে, তার অধিকার খর্ব করবে, তার ওপর সাধ্যাতীত কোনো কিছু চাপিয়ে দেবে বা তার অনুমতি ছাড়া তার

কোনো বস্তু নিয়ে নেবে আমি পরকালে বিচার দিবসে তার বিপক্ষে অবস্থান করব (আবু দাউদ)। অমুসলমানদের উপাসনালয়ে হামলা ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। শুধু তা-ই নয় অমুসলমানরা যেগুলোর উপাসনা করে সেগুলোকেও গালমন্দ করতেও বারণ করা হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন-‘তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, যাদের তারা আল্লাহকে ছেড়ে উপাস্য রূপে ডাকে, নতুবা তারা অজ্ঞতার কারণে শত্রুতাবশত আল্লাহকে গালি দেবে (সূরা আনআম : ১০৯)।

ফলে ইসলাম সব ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এক সামাজিক সম্প্রীতি সৃষ্টির ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে। কাজেই ধর্মীয় উন্মাদনায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো স্থাপনা ভাঙা ও জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ করা বা হত্যা করা কোনো ধর্মীয় কাজ নয়।

মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণে সবাইকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘হে মানবমণ্ডলী! সাবধান, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কেন না তোমাদের পূর্বের জাতিগুলো ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে’ (ইবনে মাজা)। আমাদের দেশে প্রাচীনকাল থেকে মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান এবং বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানে বসবাস করে আসছে।

তাই এ দেশে যারা ধর্মকে পুঁজি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। আমরা আশা করব এ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী সবার মাঝে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন থাকবে অটুট-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

প্রেমের নবী মোস্তফা

রাসূল আমাদের আদর্শ। আমাদের চেতনা। সবার প্রিয়। পথচলার প্রেরণা। স্বজন থেকেও আপন। আত্মার চেয়েও দামি। আমাদের শিক্ষক তিনি। আমাদের রাহবার তিনি। তিনি মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ।

যিনি এসেছিলেন কল্যাণ নিয়ে। বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হয়ে। কেবল ব্যক্তি কিংবা পারিবারিকই নয় বরং পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা ও সামগ্রিক চেতনার আদর্শিক রূপকার হিসাবে। ব্যক্তি জীবনে চলন বলন ও কথনে, পারস্পরিক আচার আচরণে যেমন ছিলেন সমুন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।

তেমনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ছিলেন একজন সফল সমাজ সংস্কারক। বর্বর এক জাতিকে যিনি উন্নীত করেছেন আদর্শের শ্রেষ্ঠ মানদণ্ডে। বানিয়েছেন সত্যের মাপকাঠি। শরিয়তের কষ্টিপাথর। যাদের সমর্থনে নির্ণীত হয় করণীয়। প্রত্যাখ্যানে নিরূপিত হয় বর্জনীয়।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল প্রবাদতুল্য। অবিমিশ্র। মা-বাবা ও সন্তান-সন্ততির চেয়ে বেশি। আপন সত্ত্বা থেকেও বেশি। তাদের ভালোবাসার সামনে দুনিয়ার সম্পদ ছিল মূল্যহীন। যৌবনের রূপ লাবণ্য ছিল অর্থহীন। ক্ষমতার দাপট ছিল গুরুত্বহীন।

আনুগত্য ও ভালোবাসার যে দাস্তান তারা রচনা করেছেন ইতিহাসের পাতায় তা বিরল এক অধ্যায় হিসাবে জ্বলজ্বল করছে। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এর অফুরন্ত নজির রয়েছে।

হিজরতের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত। ‘দারুননদওয়া’য় সিদ্ধান্ত হলো প্রত্যেক গোত্রের একেকজন লোক শরিক হয়ে রাসূলের গৃহ ঘেরাও করবে। যখনই তিনি বের হবেন তখন একযোগে আক্রমণ করবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা তার গৃহ ঘেরাও করে বসল। রাসূলে আকরাম (সা.) আঁচ করতে পেরে এ রাতেই হিজরতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। হজরত আলী (রা.)কে দায়িত্ব দিলেন, তিনি যেন তাঁর কাছে গচ্ছিত আমানত যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে দেন। তখন হজরত আলী (রা.) রাসূলের দেওয়া এ গুরু দায়িত্ব আদায়ে একটুও পিছপা হননি। বরং নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তার বিছানায় শুয়ে পড়লেন। প্রিয় নবীকে বাঁচানোর জন্য নিজের জীবনেরও পরওয়া করেননি।

বদর যুদ্ধের আগের দিন। রাসূল (সা.) যখন চিন্তাক্লিষ্ট। তখন আনসার সাহাবায়ে কেরাম দরাজ কণ্ঠে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা বনি ইসরাইলের মতো যুদ্ধের ময়দান থেকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে চলে আসার লোক নই! আমরা তো আপনার ডানে-বামে, সম্মুখে-পেছনে থেকে যুদ্ধ করে যাব। আপনার নির্দেশে জীবন কুরবান করে দিতে আমাদের মন উৎসুক হয়ে আছে। (বুখারি)।

এ ছিল রাসূলের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসার এক ঝলক। তাদের জীবনালেখ্যে এমন আরও কত শত ঘটনা রয়েছে যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাদের ভালোবাসার এ অপরূপ দাস্তান দেখে হজরত আবু সুফিয়ান (রা.) কাফের থাকাবস্থায়ই আশ্চর্যের আতিশয্যে বলেছিলেন, মুহাম্মাদের সহচরবৃন্দ তাঁকে যতটুকু ভালোবাসে আমি এর নজির কোথাও দেখিনি।

রাসূল (সা.)-এর প্রতি তাদের এ অনাবিল ভালোবাসা ও আনুগত্যের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দেন, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। রাসূল (সা.) বলেন, সাহাবিরা সবাই ন্যায়নিষ্ঠ। তাদের মধ্য থেকে যাকেই তুমি অনুসরণ করবে, নিশ্চিত সফলকাম হবে।

লেখক : সৈয়দপুর জামিয়া এমদাদিয়া মাদ্রাসা, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ