মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 674

সেই সৈকত মণ্ডল কারমাইকেল কলেজের ছাত্র নয়

রংপুরের পীরগঞ্জের সহিংসতার ঘটনায় মূলহোতা সৈকত মণ্ডল সরকারি কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র ছিলেন না। কলেজের দর্শন বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সৈকত মূলত পরিচয় গোপন রেখে কলেজের ছাত্রলীগের কমিটিতে যুক্ত হন। এরপর ওই কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্রলীগের দাপুটে নেতা হিসেবে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন।

তার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটে অনুসন্ধান করে দেখে গেছে, সৈকত মণ্ডল রংপুর সরকারি কলেজের ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্র। তার রোল নম্বর-৯১০২৪০৯ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল-১৫২১৭১১২৩৯২। কলেজ কোড-৩২০৭। ২০১৯ সালের চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি জিপিএ ৩ দশমিক ১০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

এ নিয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কলেজ ও মহানগর কমিটির নেতারা পরস্পরবিরোধী কথা বলেন। পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়ায় সহিংস ঘটনার পর ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি ও কারমাইকেল কলেজ শাখা কমিটির দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সৈকত সম্পর্কে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আড়াল করতে নানা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ ও মহানগর কমিটি বলছে, সৈকত পরিচয় গোপন করে সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছিল।

কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে বলেন, কারমাইকেল কলেজে তার সরব উপস্থিতি ছিল। ছিল দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা। যে কোনো কাজে সবার আগে উপস্থিত থাকতেন তিনি।

তবে ২০১৭ সালের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় সরকারি কারমাইকেল কলেজের তৃতীয় ভবনের ২০৮ নম্বর কক্ষে রংপুর সরকারি কলেজের হয়ে সৈকত মণ্ডলকে পরীক্ষার হলে দেখে কর্তব্যরত শিক্ষক-কর্মকর্তারা বিষয়টি হতবাক হন। পরে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় কিছু বলার সাহস পাননি কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বশিরুল হাসান সরকার জানান, সৈকত কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র নয়। কখনো ক্লাসে দেখিনি। তবে সে এখানে খুব ঘোরাঘুরি করতো। তার রেজাল্ট সিটে দেখেছি সে রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র। ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় এ নিয়ে আর কোনো কথা বলিনি।

রংপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু জুবায়েদ খানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।

গেল ১৭ অক্টোবর পীরগঞ্জে হিন্দু মাঝিপাড়ায় সহিংসতার ঘটনার পর গোপনে পালিয়ে যান সৈকত মণ্ডল। তাকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পালিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ কথা জানিয়েছেন সৈকতের বাবা-মা। একই সঙ্গে ঘটনার দিন চেয়ারম্যানের সঙ্গে সৈকত ও দুদু মাস্টারের ছেলে লিয়ন ছিল।

সৈকতকে র্যা ব গাজীপুরের টঙ্গী থেকে প্রথম আটক করে। পরে র্যা বের ডিএডি আব্দুল আজিজ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে এবং গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন পীরগঞ্জ থানার এসআই সুদীপ্ত শাহীন। লিয়ন পলাতক রয়েছে পুলিশ তাকে খুঁজছে বলে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানিয়েছেন।

গ্রেফতারের পর পীরগঞ্জের ঘটনায় তাকে মূলহোতা বলে সৈকতকে চিহ্নিত করে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে র্যা ব। এ ঘটনার পর ব্যাপক আলোচনায় আসেন সৈকত মণ্ডল বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতারা।

এদিকে মঙ্গলবার রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শফিউর রহমান স্বাধীন ও শেখ আসিফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তি এসেছে এই প্রতিনিধির হাতে।

তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- সৈকত মণ্ডল, পিতা রাশেদুল হক, মাতা আঞ্জুয়ারা বেগম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর-১৫২১৭১১২৩৯২, পরীক্ষার রোল নম্বর-৯১০২৪০৯, সেশন-২০১৫-২০১৬, বিভাগ-দর্শন, কলেজ কোড-৩২০৭, রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র।

তাকে গত ২২-১০-২০২১ তারিখে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করা হয়। একটি কুচক্রী মহল উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে গুজব ও অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে।

মূলত সে তার ছাত্রত্ব পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ শাখার আওতাভুক্ত দর্শন বিভাগ শাখার সহ-সভাপতি পদে কৌশলে অনুপ্রবেশ করে। কারমাইকেল কলেজ শাখার তৎকালীন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক অনেক পূর্বেই তথ্য গোপন ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। বিভিন্ন রকম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সংগঠনে অনুপ্রবেশ করে ষড়যন্ত্র করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। এমন অনুপ্রবেশকারী অপরাধীর দায় সংগঠনের হতে পারে না।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নথিপত্রে দেখা যায়- ২০১৭ সালের ৮ মে কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগ দর্শন বিভাগ ছাত্রলীগের যে কমিটির অনুমোদন দিয়েছে তাতে ওই কমিটির ১ নম্বর সহ-সভাপতি ছিলেন সৈকত মণ্ডল।

কারমাইকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের (সদ্য বিলুপ্ত) সাইদুজ্জামান সিজার জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সৈকত মণ্ডলকে ১৮ অক্টোবর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

ছাত্রত্বের বিষয়ে সিজার জানান, সে তো নিয়মিত কলেজে ক্লাস করেছিল। কলেজে থাকতো। তাই সে কমিটিতে স্থান পেয়েছে।

রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ হোসেন প্রেস রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রেস রিলিজ আমরা দিয়েছি। সৈকত কারমাইকেল কলেজের ছাত্র নয়। সে কৌশলে ভুল তথ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে। সে অনুপ্রবেশকারী। কলেজ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা কমিটি বিলুপ্ত করেছি। সে রংপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র। কিন্তু রংপুর কলেজ ছাত্রলীগে তার কোনো নাম নেই।

রংপুর মেডিকেলে দুই মাথা নিয়ে শিশুর জন্ম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই মাথা নিয়ে একটি শিশু জন্ম নিয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে শিশুটির জন্ম হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নে সেকেন্দার-আফরোজা দম্পতির কোলে সিজারের মাধ্যমে দুই মাথাবিশিষ্ট এক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। ওই দম্পতি মোগলবাসা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির বাবা সেকেন্দার আলী জানান, কুড়িগ্রামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে জানতে পারি তার গর্ভে দুই মাথাবিশিষ্ট একটি সন্তান রয়েছে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে সিজারের মাধ্যমে দুই মাথাবিশিষ্ট নবজাতক শিশুটির জন্ম হয়। নবজাতক ও তার মা সুস্থ রয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল আমিন মাসুদ বলেন, কনজয়েন টুইন এর কারণে এমন বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হয়। কেননা মায়ের পেটে ভ্রূণ অনেক সময় বৃদ্ধি হওয়ার কারণে তা আলাদা হতে পারে না। এ কারণে গর্ভে দেহ এক থাকলেও মাথা আলাদা হয়। এ বাচ্চাগুলোর জন্য জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ পরিবারটি সামান্য মুদি দোকানদার; তাদের পক্ষে এ ধরনের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হবে না। তবে আমাদের সাধ্যমতো আমরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি।

মালয়েশিয়ায় অবৈধদের বৈধ হওয়ার শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর

মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার আগেই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হামজাহ জয়নুদ্দিন।

২০২২ সালের ১ জানুয়ারি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ধরতে একটি বড় আকারের প্রয়োগকারী অভিযান শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রিক্যালিব্রেশন প্ল্যান হলো নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি সুযোগ, যারা অবৈধ বিদেশী কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছেন এবং নথিভুক্ত নিশ্চিত করতে প্রোগ্রামের সঙ্গে নিবন্ধন করার জন্য এগিয়ে আসবেন। সরকারও চায় নিয়োগকর্তারা এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখুক কারণ অবৈধ শ্রমিক থাকলে সমস্যা তৈরি হবে।

হামজাহ জয়নুদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের যখন টিকা দেয়া হয়েছে, তখন এটি কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিছু অনথিভুক্ত অভিবাসী কোভিড-১৯ এর কারণে মারা গেছে এবং এটি কেবল আরও সমস্যার দিকে পরিচালিত করেছে। তাই ৩১ ডিসেম্বরের আগে নিয়োগকর্তারা তাদের কর্মীদের পুনঃনির্মাণ প্রোগ্রামে নিবন্ধিত করতে হবে।

এদিকে পুনঃনির্মাণ কর্মসূচির দুটি অংশ ছিল – শ্রম এবং প্রত্যাবাসন। “শ্রম” পুনঃনির্মাণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু খাতে যেমন নির্মাণ, উৎপাদন, বৃক্ষরোপণ, কৃষি এবং পরিষেবাতে নিয়োগকর্তাদের বৈধভাবে অনথিভুক্ত বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের অনুমতি দেওয়ার জন্য।

“প্রত্যাবাসন” পুনঃনির্মাণ কর্মসূচি হলো যেখানে নথিবিহীন অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যেতে পারে। চলমান রিক্যালিব্রেসি প্রক্রিয়ায় ২ লাখ ১২ হাজার ৯২৬ বৈধ হওয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ৩১৮ জন নথিভুক্ত কর্মী তাদের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ২০ হাজার ৮৮৯ জন ব্যর্থ হয়েছেন। আরো ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭১৯ এখনও ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেনি।

এ দিকে রিক্যালিব্রেশন প্রোগ্রাম থেকে সরকার ১০৬,৪৬৩,০০০ রিঙ্গিত ডিপোজিট মানি পেয়েছে, আর ১৪৬,২৬৬ রিঙ্গিত আদায় করা হয়েছে লেভি, পাস, ভিসা এবং প্রসেসিং ফি থেকে।

প্রত্যাবাসনের বিষয়ে হামজাহ বলেছেন, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৩ অনথিভুক্ত কর্মীকে যার যার দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সরকার প্রত্যাবাসন কর্মসূচির অধীনে ১,৩৬৮,৭০০ রিঙ্গিত জরিমানা (কম্পাউন্ড) আদায় করেছে।

আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে: সমীর

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানকে মাদককাণ্ডে আটক করা বিতর্কিত এনসিবি কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে এখন নিজেই বেশ বেকায়দায় পড়েছেন।

আরিয়ানকে ছাড়ার ব্যাপারে ২৫ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর এ অভিযোগের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে মঙ্গলবার বিশেষ এনডিপিএস আদালতে হাজির হয়েছিলেন সমীর। খবর এনডিটিভির।

আদালতে তিনি বলেন, মাদক মামলা নিয়ে তাকে নিশানা বানানোর পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে, বিষয়টি আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই। তাই আগভাগেই আইনি সুরক্ষার শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।

আদালতে সমীর দাবি করেন, শুধু তাকে নয়, তার পরিবারের অন্য সদস্য, বোন— এমনকি মৃত মাকেও এ মামলায় জড়িয়ে নিশানা করা হচ্ছে।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে আদালতে জানিয়েছেন সমীর। তিনি বলেন, লক্ষ্য করছি— বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করছেন। বিষয়টি এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর-জেনারেল মুথা জৈনকে জানানো হয়েছে।

এ মামলায় সমীরের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। প্রভাকর নামে যে সাক্ষী সমীর ও কিরণ গোসাভির বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন, তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই মুম্বাই পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে তার আশঙ্কার কথা জানান সমীর।

পুলিশ কমিশনারকে চিঠিতে সমীর আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতে পারে। ঘটনাচক্রে তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরই গোসাভির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী প্রভাকর সইল এনসিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুসসহ একাধিক অভিযোগ আনেন।

যদিও এনসিবি বিবৃতি জারি করে সইলের সব অভিযোগকে খারিজ করেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সমীরও।

সৌদি খেজুর চাষে একরে ১০ লাখ টাকা ঋণ

চলতি অর্থবছরের কৃষি ও পল্লিঋণ কর্মসূচির আওতায় দেশে চাষযোগ্য আরও চার ধরনের নতুন ফসলের বিপরীতে ঋণ দেওয়া যাবে। এগুলো হচ্ছে-সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামি নারিকেল, সুইট কর্ন ও কফি চাষ। এর মধ্যে সৌদি খেজুর চাষে বাগান পরিচর্যার জন্য একর প্রতি সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৫ হাজার ৪০০ টাকা, ভিয়েতনামি নারিকেল চাষে বাগান পরিচর্যার জন্য একর প্রতি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া যাবে।

সুইট কর্ন চাষে একর প্রতি সর্বোচ্চ ৬৬ হাজার টাকা এবং কফি চাষে বাগান পরিচর্যার জন্য একর প্রতি সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া যাবে। ফসল সংগ্রহের পর থেকেই ঋণের কিস্তি আদায় করতে হবে। তবে সুইট কর্নের ক্ষেত্রে প্রতি বছরের ১৪ মে থেকে ১৪ জুন সময়ে ফসল উত্তোলন করা হয়। এক্ষেত্রে ওই সময়ে ঋণের কিস্তি আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, সুইট কর্নে প্রতি বছর ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর এই এক মাস এবং বাকি তিন ধরনের ফসলে সারা বছরই ঋণ দেওয়া যাবে। সুদের হার ৮ শতাংশ। এসব ফসলের সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২৯ জুলাই চলতি অর্থবছরের জন্য ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লি কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ শতাংশ সুদে এসব ঋণ কৃষি খাতে বিতরণ করতে হবে। ঘোষিত কর্মসূচিতে সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামি নারিকেল, সুইট কর্ন ও কফি চাষে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা ছিল না। কিন্তু পরে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানতে পারে দেশে বর্তমানে সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামি নারিকেল, সুইট কর্ন ও কফি চাষ করা হচ্ছে।

এগুলোতে ভালো ফলনও পাওয়া যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হচ্ছে, অন্যদিকে দেশজ উৎপাদন বাড়ছে। এর মধ্যে সুইট কর্ন ও কফি রপ্তানি করাও সম্ভব। বিদেশ থেকে প্রতি বছর মোটা অঙ্কের সৌদি খেজুর ও ভিয়েতনামি নারিকেল আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে এগুলো উৎপাদন করা সম্ভব হলে আমদানি বাবদ অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এসব সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এবারও হচ্ছে না আয়কর মেলা

করোনা পরিস্থিতির কারণে গতবারের মতো এবারও আয়কর মেলা হচ্ছে না। তবে করদাতাদের সুবিধার্থে সব কর অঞ্চলে নভেম্বর মাসজুড়ে আয়কর মেলার সুবিধা দেয়া হবে।

মঙ্গলবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান ও আভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিম। এর আগে ২০২০ সালেও করোনা সংক্রমণের কারণে মেলা আয়োজন থেকে বিরত ছিল এনবিআর।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মহামারির কারণে সরাসরি কর মেলা করতে না পারলেও ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পুরো মাসব্যাপী কর সংস্কৃতির বিকাশ, করদাতাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর সেবা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, নভেম্বর মাসে দেশব্যাপী ৩১টি কর অঞ্চলের ৬৪৯টি সার্কেলে অফিস চলাকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়কর রিটার্ন গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে রিটার্ন দাখিল করা করদাতাদের তাৎক্ষণি প্রাপ্তি স্বীকারপত্র দেওয়া হবে।

করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গত ৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরপর ১০ই অক্টোবর এনবিআর চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে ১৭টির মতো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি ও মনিটরিং কমিটিসহ বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফের মামলা ও গ্রেফতার জালে বিএনপি

আবার মামলা ও গ্রেফতার জালে বিএনপি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন সাত শতাধিক। এসব মামলায় আসামি এবং গ্রেফতারকৃত বেশিরভাগই বিএনপির নেতাকর্মী।

অনেকে গ্রেফতার আতঙ্কে এলাকা ছাড়া। শুধু তৃণমূল নেতাকর্মী নন, কেন্দ্রীয় একাধিক নেতাও আছেন গ্রেফতার আতঙ্কে। এদিকে মঙ্গলবার নয়াপল্টনে সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় আটক করা হয়েছে অর্ধশত নেতাকর্মীকে। এ ঘটনায়ও মামলা এবং অনেককে আসামি করা হবে এমন শঙ্কা আছে। সবমিলিয়ে বিএনপিকে নতুন করে চাপে ফেলার জন্যই এসব করা হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

এবার দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার নানুয়া দীঘিরপাড়ে অস্থায়ী মণ্ডপে কুরআন শরিফ রাখাকে কেন্দ্র করে ১৩ অক্টোবর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়। পরে তা চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ঘটনার পর থেকে দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে শুরু হয় দোষারোপের রাজনীতি। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ইন্ধনদাতা হিসাবে বিএনপিকে দায়ী করে বক্তব্য দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। অন্যদিকে সরকারের মদদেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি বিএনপির।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানায় বিভিন্ন সংগঠন। সরকারও এ ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেয়। পেছনের ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করতে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এ পর্যন্ত ১২৩টি মামলায় প্রায় ২০ হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন সাত শতাধিক।

বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী জানান, তারা আগামী দিনে সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে করেছে দলটির হাইকমান্ড। ওইসব বৈঠকের মতামত নিয়ে একটা খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তা নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতও নেবে বিএনপি। এরপর চূড়ান্ত করা হবে আন্দোলনের রূপরেখা। পাশাপাশি সারা দেশে তৃণমূল পুনর্গঠনেও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দল গোছানোর কাজও শুরু হয়েছে।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি যখন আন্দোলনের প্রস্তুতি ও দল গোছানোর কাজ শুরু করেছে ঠিক সেই মুহূর্তে নেতাকর্মীদের আবার মামলা জালে আটকানোর জন্য সরকার পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসেছে।

কারা এ সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই নেতাকর্মীদের নামে দেওয়া হয়েছে মামলা। অনেক এলাকায় মামলার আগেই নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপিকে জড়ানোর কৌশল হিসাবে অসংখ্য অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। যাদের নামে মামলা নেই তাদেরও আটক করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করছে বিএনপি। কিন্তু ধানের শীষ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে স্থানীয় নেতারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যেসব এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে সেখানে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের এসব মামলায় জড়ানো হচ্ছে। গ্রেফতারের ভয়ে নির্বাচন ছেড়ে অনেকে আত্মগোপনে। গ্রেফতার এড়াতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। যারা বাড়িতে আছেন তারাও রাতে ঘরে ঘুমাতে পারছেন না। তৃণমূলের সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা করে তাদের বাসায় প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পেছনে ক্ষমতাসীনদের মদদ রয়েছে। সরকারের এজেন্টরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গ্রেফতারও হয়েছেন। কিন্তু নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে তারা এখন বিএনপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, সরকার একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নানা ব্যর্থতা আড়াল ও বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে তারা বিভিন্ন এজেন্ট দিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে। ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা এবং তাদেরকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মামলার জালে জড়িয়ে অনেক নেতাকর্মীই বাড়িছাড়া।

মির্জা ফখরুল বলেন, মামলা ও গ্রেফতার জালে বিএনপিকে বন্দি করার কৌশল আওয়ামী লীগের বেশ পুরোনো। এর আগেও সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তারা মামলাকে বেছে নেয়। এসব মামলার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বিএনপিকে নির্মূল করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে তৃণমূলের পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় কয়েক নেতাও নজরদারিতে রয়েছেন। ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসাবে তাদেরও গ্রেফতার করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কুমিল্লার ঘটনার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমানকে জড়িয়ে একটা অডিও ভাইরাল করা হয়। যদিও ওই অডিওকে মিথ্যা বানোয়াট এবং সুপার এডিটেড বলে দাবি করেছে বিএনপি। এদিকে নোয়াখালীর সংঘর্ষের ঘটনায় ইতোমধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে নেওয়া হয়েছে রিমান্ডে। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম দাবি করেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে বিভিন্ন মন্দিরে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফয়সাল ইনাম কমল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলুসহ বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

পুলিশের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বরকতুল্লাহ বুলু। যুগান্তরকে তিনি বলেন, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে। তারা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর কৌশল হিসাবে এখন বিএনপিকে এসব ঘটনায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে। অথচ ঘটনার পর আমাদের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মিলে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিহত করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী অনেককে আশ্রয় দিয়েছে। যারা সহিংসতা নিরসনে মাঠে ছিলেন সেসব নেতাকর্মীর নামে উল্টো মামলা দেওয়া হয়েছে। সেজন্যই আমি শুরু থেকেই এ ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকার সেদিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিএনপিকে ঘায়েলে মনগড়া তত্ত্ব প্রকাশ করছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে সরকারের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন এসব করছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির অভিযোগ, মামলার জালে আটকানো সরকারের পুরোনো কৌশল। মামলা দিয়ে বিএনপিকে কাবু রাখতে চায় সরকার। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীর নামে এক লাখ সাত হাজার মামলা দিয়েছে। এসব মামলায় ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের প্রায় সব নেতাই এসব মামলার আসামি। কারও কারও বিরুদ্ধে শতাধিক মামলাও রয়েছে। এখনও এসব মামলায় অনেকে কারাগারে। মামলায় হাজিরা দিতে প্রায় প্রতিদিন কেন্দ্রীয়সহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে। কেউ কেউ পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেক মামলার বিচারও শুরু হয়েছে। আবার পুরোনো অনেক মামলায় নেতাদের নামে পরোয়ানাও জারি হচ্ছে। সোমবার দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর কিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২০১৮ সালের একটি মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন। আগামী নির্বাচনে অনেক নেতাকে অযোগ্য করতে সরকার এসব মামলা দ্রুত শেষ করতে চায় বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

কুমিল্লা নামে বিভাগ না করলে অবরোধের হুমকি

কুমিল্লা নামে বিভাগ না করলে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এলডিপির ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই হুশিয়ারি দেন।

সরকারের সমালোচনা করে এ সময় এলডিপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ মৃত্যু শয্যায়। তারেক রহমান বিদেশে নির্বাসিত। এ অবস্থায় বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি এই স্বৈরাচার সরকার পতনের আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শোনা যাচ্ছে- বিএনপি নেতারা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে বসে আছেন। এ জন্যে তারা আন্দোলনে যেতে রাজি নয়। কিন্তু এ সরকারকে একদিন না একদিন তাদের সমস্ত অপকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

সরকারকে হুমকি দিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার আজ যে অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে- তাতে এখনই ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে জাতীয় সরকার গঠন না করলে পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।

গত ২১ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেঘনা ও পদ্মা নামে দুটি বিভাগ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কুমিল্লার বিভাগের নাম হবে মেঘনা ও ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে পদ্মা। তবে কুমিল্লা নামে বিভাগের দাবি নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেন, ‘কু’ নাম দিয়ে আমি কোনো বিভাগ দেব না।এ সময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার দাবি জানিয়ে বলেন, আপা কুমিল্লার নামে। সারা কুমিল্লার মানুষ কুমিল্লা নামে চায়।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ‘কু’ নাম দেব না আমি। আমি কুমিল্লা নামে দেব না। কারণ তোমার এই কুমিল্লা নামের সঙ্গে মোশতাকের নাম জড়িত। সে জন্য দেব না। না, আমি দেব না তো বললাম। তোমরা যদি রাজি থাক ওই কুমিল্লা নাম নিলেই মোশতাকের কথা মনে আসে।

এ সময় বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, আপা পৃথিবীর কোনো কুলাঙ্গারের ওপর দেশের পরিচয় হয় না আপা। বাংলাদেশের পরিচয় বঙ্গবন্ধুর ওপর। মোনায়েম খানের ওপর না। বঙ্গবন্ধুকেই চিনে বাংলাদেশ, সারাবিশ্ব। যখন বাংলাদেশ চিনত বলত শেখ মুজিবের দেশ।

কুমিল্লা নামে অন্য জেলাগুলো আসতে চায় না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নামে অন্য জেলাগুলো আসতে চায় না। আমরা চেষ্টা করেছি তো। নোয়াখালী আসবে না, ফেনী আসবে না, চাঁদপুর আসবে না, লক্ষ্মীপুর আসবে না, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসবে না।

বাহাউদ্দিন বলেন, আপা আপনি দিলেই সবাই মানবে।

তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুমি (বাহাউদ্দিন) সবার কাছ থেকে লেখায় আন। তোমাকে দায়িত্ব দিলাম সবার কাছ থেকে মানায় নিয়ে আস। যাও।

সড়ক উন্নয়নে অনিয়ম-ধীরগতি

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং ধীরগতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর বাইরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। তবে বৈঠকের পুরো সময়ই আলোচনার বিষয় ছিল সড়কপথের উন্নয়ন। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সড়কের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে। যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

কমিটির বৈঠকে সড়কের ঢাকা জোনের অসমাপ্ত ৯টি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর কারণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন কমিটির কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাঙ্গা প্রকল্পে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা সড়কের চারটি জোন নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। ওই কাজ কবে শেষ হবে তা জানতে চেয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় তা জানাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ-এই চারটি জোনে কী কী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের হার, ব্যয়, মেয়াদ এবং খরচ বাড়লে তা কী পরিমাণ বেড়েছে তারও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। একই তথ্য দিতে বলা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়মের পাশাপাশি আর্থিক এবং ভৌত অগ্রগতি সমান সমান হওয়া এবং দফায় দফায় সময় বাড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এসব অনিয়ম নিয়ে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয় কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, সেখানে দেখা গেছে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি সমান সমান। কিন্তু কোনোভাবেই এটা হওয়ার কথা নয়। এক শতাংশ হলেও তো পার্থক্য থাকবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় কোনো যুক্তি দিতে পারেনি। আমাদের অনেক প্রশ্নের তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়কের কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। জবাবে কমিটির সদস্যরা ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোকেও এক ধরনের অনিয়ম বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘বুঝলাম ব্যয় বাড়ছে না। কিন্তু প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় জনগণ তো সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া ওই প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণে মানুষকে দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।’

কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এবি তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উল্লিখিত অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সংসদীয় কমিটিতে এ ধরনের আলোচনা বলা যায় একধাপ অগ্রগতি। অর্থাৎ এতদিন ধরে শুনছি প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়, বাস্তবায়ন দেরি হয়, অনিয়ম হয় কিন্তু সেগুলোর কোনো সমাধান হয়নি। তবে সমস্যাগুলো যেমন চিহ্নিত, তেমনি সমাধানও চিহ্নিত। কিন্তু সমাধান হয় না কেন? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সমাধানের পথ সবারই জানা। অথচ ওই পথে চলা যাচ্ছে না। বাধাগুলো কোথায়? সমাধান করা যায় না কেন? নাকি আমরা সমাধানের পথে যেতে চাচ্ছি না। এগুলোর বিশ্লেষণ দরকার। সেই জায়গা থেকে বলা যায় সংসদীয় কমিটির যে আলোচনা সেটি ইতিবাচক। এবার সমাধানের দিকেই যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি ও বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না। ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প তৈরিতে ত্রুটি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে চলমান প্রকল্পে পরবর্তী সময়ে নতুন আইটেম যোগ করতে হয়। এ কারণে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ওই দিন অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘প্রকল্পটি তৈরির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের খুঁজে বের করুন, কারা জড়িত ছিলেন। শুধু তাই নয়, এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটিও জানাতে হবে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি বলেছেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যাতে একজন প্রকল্প পরিচালক একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে না থাকেন। সেই সঙ্গে তারা যাতে প্রকল্প এলাকায় থাকেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, শুধু বড় ঠিকাদাররা যেন কাজ না পান, ছোট ঠিকাদাররাও যাতে কাজ পান সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কেননা এক ঠিকাদার একাধিক কাজ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

দিন-রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। খবর বাসসের।

আবহাওয়া অফিসসূত্র জানায়, লঘুচাপের বাড়তি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। তাই বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।

গত সোমবার চাঁদপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।