বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 657

সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান

সৌদি আরবের হাইল প্রদেশের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত হাইলের চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল আজিজ খালাফ আল জাকদির সঙ্গে বৈঠককালে এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আওতায় বিনিয়োগ করতে পারে। সম্প্রতি এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ায় এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য সৌদি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন। সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় চেম্বার সভাপতি বাংলাদেশের হালনাগাদ অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সম্ভাব্য ব্যবসায়িক খাতসমূহ যেখানে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ রয়েছে সেই সম্পর্কে সাম্প্রতিক তথ্য প্রদানের অনুরোধ জানায়। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক খাতসহ বিস্তারিত প্রোফাইল পাঠাতে অনুরোধ করেন; যা চেম্বার সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হবে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে উদ্বুদ্ধ করবে।

চেম্বার সভাপতি জানান, তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে সফলতার অংশীদার হতে চায়। হাইল চেম্বার বাংলাদেশকে তাদের পরবর্তী ব্যবসায়িক গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে বলে জানান চেম্বার সভাপতি।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান। এছাড়া বাংলাদেশের হস্তশিল্প, সিরামিক, তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য আমদানির জন্যও ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী হাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি রেক্টর ড. রাশিদ বিন মুসলাত আল শরীফের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সৌদি আরবের সবুজায়ন উদ্যোগের আওতায় মরুভূমির উপযোগী বৃক্ষরোপণ, মরুভূমির বিলুপ্ত বৃক্ষসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ফেলোশিপের আওতায় যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেন। এছাড়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের ছাত্রদের বৃত্তি বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করেন। হাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় মধ্যপ্রাচ্যে তিন নম্বর র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান করছে।

এ সময় দূতাবাসের ইকোনমিক কাউন্সেলর মর্তুজা জুলকার নাইন নোমান ও কাউন্সেলর মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মুসলিম সভ্যতায় মুদ্রার বিকাশ ও উন্নয়ন

ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুদ্রার আকার আকৃতির কোনো রূপ পরিবর্তন সাধন না হলেও পরে এর আকার, নীতি ও বিধিবিধানের অনেক পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক বালাজুরী তার ‘ফতহুল বুলদান’ গ্রন্থে বলেন, “জাহেলিয়া আমলে মক্কাবাসী রোম সম্রাট ‘হেরাকেল’-এর মুদ্রা ‘দিনার’ ব্যবহার করতেন এবং তারা পারস্য সাম্রাজ্যের ‘কায়সারের’ রৌপ্য মুদ্রা ‘দিরহাম’ ব্যবহার করতেন এবং ‘মিসকাল’-এর ভিত্তিতে তারা পরিমাণ নির্ধারণ করতেন। এ সময় আরবরা স্বর্ণ মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-আইন’ এবং রৌপ্য মুদ্রার নাম দিয়েছিল ‘আল-ওরাক’। তার পর রোমানদের মুদ্রা ‘দিনার’ এবং পারস্যদের মুদ্রা ‘দিরহাম’ অধিক ক্ষেত্রে ব্যবহার হতো, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইয়েমেনের মুদ্রা ‘হুমায়রিয়া’ আরবদের মধ্যে প্রচলিত ছিল, কিন্তু খুব ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবহার হতো।

ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.)ও মুদ্রার পরিবর্তন বা উন্নয়নে কোনো মনোযোগ দেননি। উমর (রা.) প্রথম ইসলামি মুদ্রার প্রচলন করেন এবং এতে বেশ কিছু ইসলামি শব্দ সংযোজন করেন। আর এটা করেন তার খিলাফতের ৮ম বর্ষে অর্থাৎ ২০ হি. (৬৪১ খ্রি.) সনে। তিনি পারস্য সম্রাট কায়সারের ‘দিরহামের’ আকার আকৃতির অনুরূপ মুদ্রা তৈরির জন্য নির্দেশ দেন এর ওপর খলিফার নাম, তৈরির স্থান ও তারিখ লিখা হয়। তবে কোনোটির ওপর অতিরিক্তভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ কোনোটির ওপর ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ’ কোনোটির ওপর কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু’ এবং কোনোটিতে ‘উমর’ লিখা হয়। তদ্রুপ দামেস্কে ‘ব্রোঞ্জে’র তৈরি মুদ্রাগুলোয় ‘জায়েজ’ এবং হেমসে তৈরি মুদ্রাগুলোয় ‘তাইয়েব’ কিংবা ‘ওয়াফি’ ইত্যাদি শব্দ সংযোজন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সঠিক ওজন নির্দেশ করা।”

ইসলামি মুদ্রা এখান থেকেই শুরু হয়েছে। এরপর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদিন তা পূর্ণতা দান করেন এবং উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের সময় মুদ্রাব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটে এবং তিনি প্রচলিত মুদ্রাব্যবস্থায় পূর্ণ ইসলামি মুদ্রা চালু করেন। এ পর্যায়ে দিরহামের ওজন স্থিতিশীল করা হয়। কারণ ইতঃপূর্বে দিরহামের ওজন বিভিন্ন রকম ছিল। কেন না সে সময় রোম সাম্রাজ্য ও পারস্য সাম্রাজ্যের অধীনে মুদ্রাব্যবস্থা অত্যন্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিপতিত হয়। অতঃপর পৃথিবীতে ইসলামের আলো উদ্ভাসিত হলে পর্যায়ক্রমে পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান হতে থাকে। মাওয়ারদী উল্লেখ করেন, “উমর (রা.) যখন দিরহামের পরিমাণের মধ্যে অনেক পার্থক্য দেখেন যেমন-বাগালি দেরহামের পরিমাণ ছিল আট দাওয়ানেক এবং তাবারি দিরহামের পরিমাণ ছিল চার দাওয়ানেক, মাগরেবি দিরহামের পরিমাণ ছিল তিন দাওয়ানেক আর ইয়েমেনি দিরহামের পরিমাণ ছিল এক দাওয়ানেক। তিনি বলেন, ‘তোমরা লক্ষ্য কর, কোন মুদ্রা বেশি ব্যবহৃত হয় এবং অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করে। অতঃপর দেখা যায়, বাগালি দিরহাম এবং তাবারি দিরহাম সর্বাধিক ব্যবহার হয়। তিনি ওই দুটি মুদ্রা একত্র করেন এবং তা ১২ দাওয়ানেকে পরিণত হয়। তিনি এর অর্ধেক ছয় দাওয়ানেক গ্রহণ করে ‘ইসলামি দিরহাম’ ছয় দাওয়ানেক প্রচলন করেন।

ইমাম আবু উবায়েদ বলেন, ‘উমাইয়া যুগে যখন মুদ্রা তৈরির প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় তখন এর পরিণতি কী হবে তার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়। অতঃপর যখন মুদ্রা তৈরির জন্য সবাই সম্মত হন তখন পূর্ণ দিরহামের বিবেচনা করা হয় আর এর পরিমাণ ছিল আট দাওয়ানেক, এর চেয়ে ছোট দিরহামের পরিমাণ ছিল চার দাওয়ানেক। অতঃপর তারা ছোট ও বড় উভয় ধরনের মুদ্রাকে সমমুদ্রায় পরিণত করেন এবং দুটি মুদ্রাই ছয় দাওয়ানেক করে তৈরি করা হয়।

খলিফা উমর (রা.) স্বর্ণ ও রৌপ্যের মুদ্রার পরিবর্তে পশুর চামড়ার মুদ্রা প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায়-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের ফলে বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য মুদ্রা বহন সহজসাধ্য করা।

বালাজুরী বলেন, উমর (রা.) বলেছেন-“আমি চেয়েছিলাম উটের চামড়া দিয়ে ‘দিরহাম’ তৈরি করতে। আমাকে সতর্ক করা হলো এই বলে যে, ‘তা হলে তো কোনো উটই থাকবে না’ তারপর আমি বিরত হলাম।” উসমান (রা.) তার পূর্বসূরির নিয়মই অনুসরণ করেছেন। তিনিও নতুন মুদ্রা তৈরি করেন এবং তাতে ইসলামি শব্দাবলি সংযোজন করেন। ইমাম মাকরিজি বলেন, উসমান ইবনে আফ্ফান (রা.) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর (২৩ হি./৬৪৪ ইং) ‘দিরহাম’ তৈরি করেন এবং এতে ‘আল্লাহ আকবার’ লিখে নকশা করা হয়।

আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-এর আমলেও আগের মতোই মুদ্রার উন্নয়ন কাজ চালু ছিল। তিনি ইসলামি মুদ্রার প্রচুর উন্নয়ন সাধন করেন, মুদ্রার পুনঃমূল্যায়ন করেন এবং এর ওপর আরবি ইসলামি শব্দাবলি সংযোজন করেন। ‘আলমুকতাতাফ’ নামক সাময়িকীতে এসেছে, ‘আলী (রা.)-এর খিলাফতের সময় যেসব মুদ্রা (হি. ৩৭ সনে) তৈরি করা হয়েছিল সেসব মুদ্রার ওপর লিখা ছিল ‘ওলিআল্লাহু’ এবং হি. ৩৮ ও ৩৯ সনে তৈরি মুদ্রার ওপর লিখা ছিল ‘ওলিআল্লাহু’ এবং হি. ৩৮ ও ৩৯ সনে তৈরি মুদ্রার ওপর লিখা ছিল ‘বিসমিল্লাহি রাব্বি’।

ইমাম মাকরিজি বলেন, ‘যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.)-এর কাছে মুদ্রার বিষয়টি উঠল এবং কুফা ও বসরার লোকজন তার পুত্র জিয়াদের কাছে উপস্থিত হলো তখন তিনি বললেন, হে আমিরুল মুমিনিন! আল্লাহর নেক বান্দাহ উমর (রা.) দিরহামকে ছোট করেছেন এবং হাতকে বড় করেছেন এবং এর ওপর সৈন্যদের বেতনের জন্য ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে এবং স্বজাতের প্রতি দয়া প্রদর্শন হিসাবে শিশুদের জন্য বণ্টন করা হচ্ছে। আপনি যদি এর চেয়ে স্বল্প ওজনের মুদ্রা প্রচলন করতেন তাহলে সাধারণ মানুষের প্রতি অধিক দয়া প্রদর্শন করা হতো এবং এর দ্বারা একটি উত্তম নিয়ম প্রচলিত হতো।

অতঃপর মুয়াবিয়া (রা.) ছয় দাওয়ানেকের চেয়ে কম ওজনের মুদ্রা প্রচলন করেন যার ওজন ১৫ কিরাত হয়, এক কিংবা দুই দানা কম। এর পর জিয়াদ নতুন করে মুদ্রা তৈরি করেন এবং প্রতি ১০ দিরহামের ওজন সাত মিসকাল করে তা দিরহামের পরিবর্তে ব্যবহার হতো।

মুয়াবিয়া (রা.)-এর কার‌্যাবলি শুধু ‘দিরহাম’ তৈরি করার মধ্যেই থেমে ছিল না, তিনি ৪১ হিজরি/৬৬১ ইং সনে ‘দিনার’ ও তৈরি করেন। মো. আলী, ‘ইরাক রিপাবলিক’ নামক পত্রিকা থেকে সংকলন করেন, চীন প্রজাতন্ত্রের ‘সিয়ান’ নামক গোরস্তানে সম্প্রতি তিনটি আরবি স্বর্ণের টুকরা আবিষ্কৃত হয়েছে অতঃপর এ গোরস্তান ‘চীনা ঐতিহ্য পরিষদ’ কর্তৃক তদন্ত করা হয়েছে এবং তাতে দেখা গেছে ওই মুদ্রাটির ব্যাস ১ : ৯ সেমি, ওজন ছিল ৪,৩ গ্রাম, পুরো ছিল এক মি.লি.। এক পিঠের মধ্যস্থানে তিন লাইনে আরবিতে লিখা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু’, ‘মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ, আরছালাহু বিল-হুদা ওয়া দিনিল-হাক্ক’। প্রত্যেক মুদ্রার অপর পিঠে কুফী অক্ষরে নকশা বিদ্যমান ছিল, সেখানে লিখা এ দিনারটি তৈরি করা হয়েছে মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের সময়।

আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) মুদ্রা বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা হচ্ছে, তিনি মুদ্রার আকার পরিবর্তন করেছিলেন এবং আয়তাকারের পরিবর্তে গোলাকার করে তৈরি করেছিলেন। ঐতিহাসিক জাওদাত পাশা ১৯ হিজরিতে ইয়াজেদ নামক স্থানে তৈরি মুদ্রা দেখেছেন। এর চতুর্দিকে লিখা ছিল, ‘আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের আমিরুল মুমিনিন’। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়েরের পুত্রও মুদ্রার ওপর বিভিন্ন ইসলামি শব্দাবলি সংযোজন করেছিলেন।

অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতানুসারে খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামি দিনার তৈরি করেন এবং তিনিই প্রথম ইসলামি মুদ্রা প্রচলনের পূর্ণ মর্যাদা পেয়েছিলেন এবং তিনিই সমগ্র পৃথিবীতে প্রধান ও প্রথম মুদ্রা তৈরি ও প্রচলনকারী হিসাবে পরিগণিত হয়েছেন। আধুনিক পরিভাষা অনুযায়ী ‘ইসলামি দিনার’ তখনকার ‘হার্ড কারেন্সি’তে পরিণত হয়েছিল।

একটি আধুনিক গবেষণায় ড. নাজদাহ খামাস বলেন, ‘সিরিয়ায় দিনার পাওয়া গিয়েছিল ১৯৫৪ সালে, এর পর লেবাননে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখান থেকে করাচির জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হয় এবং এখনো সেখানেই আছে। এ আরবীয় নতুন দিনার তৈরি হয়েছিল ৭৪ হিজরি সনে। এর প্রথম পৃষ্ঠায় অঙ্কিত ছিল খলিফা আব্দুল মালিকের ছবি, দণ্ডায়মান, তরবারি হাতে, পরনে যুদ্ধের পোশাক। এর চতুর্দিকে লিখা ছিল বিপরীত দিক থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু’, ‘মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ’ প্রথম পিঠের মধ্যখানে ছিল বাইজেনটাইন ক্রস, এর চতুর্দিকে লিখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ’। এ দিনার হিজরি ৭৪ সনে তৈরি করা হয়েছিল। গবেষকরা এ মতকেই সমর্থন করে বলেন, তিনিই প্রথম ইসলামি দিনার তৈরি করেন, তবে এর দ্বারা গবেষণায় প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামি মুদ্রা প্রস্তুতকারী হিসাবে উমর (রা.)-এর নাম অস্বীকার করা যায় না।

মতামতগুলোর সমন্বয় সাধনে এভাবে বলাই ভালো-ইসলামি মুদ্রা তৈরি ও প্রচলনের কাজ প্রথম শুরু হয়েছে হজরত উমর (রা.)-এর সময়ে এবং এর পূর্ণতা ঘটেছে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের আমলে। উপরোক্ত বর্ণনা থেকে এটাই পরিষ্কার হলো যে, হিজরির প্রথম শতাব্দী সমাপ্তির আগেই ইসলামি মুদ্রা তথা ইসলামি স্বর্ণ মুদ্রা ‘দিনার’ এবং ইসলামি রৌপ্য মুদ্রা ‘দিরহাম’ গোটা পৃথিবীর প্রধান মুদ্রায় (ঐধৎফ ঈঁৎৎবহপু) পরি

ওলিকুল শিরোমণি হজরত শাহ জালাল (রহ.)

এ দেশে ইসলামের সুমহান বাণী প্রচারে ওলি-আউলিয়া, পীর-মাশায়েখ অনন্য অবদান রেখেছেন। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ দেশের মানুষ ইমানের চেতনায় উজ্জীবিত হয়েছে। শিরক ছেড়ে দিয়েছে। তাওহিদ ও একত্ববাদকে ইমানের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। যাদের পদধূলিতে এ ভূমি পূর্ণতা পেয়েছ-সেই ওলি-আউলিয়াদের প্রাণপুরুষ হজরত শাহজালাল (রহ.)। যাকে ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি-দরবেশ বলা হয়। যার আগমনে এ মাটি প্রাণ পেয়েছে। ইমানের বীজ গ্রথিত হয়েছে মানুষের চিন্তা ও মননে। সেই মহান প্রবাদ পুরুষ ৬৭১ হিজরিতে প্রাচীন আরব ও আজমের হেজাজ ভূমি তৎকালীন ইয়েমেন প্রদেশের কুনিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যার পুরো নাম শেখ শাহ জালাল উপনাম মুজাররদ।

তার বাবা শায়খ মুহাম্মদ (রহ.)। মা সৈয়দা ফাতিমা হাসিনা সাইদা। মাত্র তিন মাস বয়সে তিনি মাকে হারান। বাবাও চলে যান পাঁচ বছর বয়সে। তার লালন পালনের দায়িত্ব পড়ে মামা হজরত সৈয়দ শায়খ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দী (রহ.)-এর ওপর। হজরত শাহ জালাল (রহ.) তার মামা ও শিক্ষাগুরু শায়েখ সৈয়দ আহমদ কবির সোহরাওয়ার্দীর কাছ থেকে আরবি ভাষায় কুরআন-হাদিস শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামের প্রাথমিক অনুশাসনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। পরে মামা আহমদ কবির হজরত শাহ জালাল (রহ.) কে ইয়েমেন থেকে মক্কায় নিয়ে যান। পবিত্র মক্কা শহরে আহমদ কবিরের একটি আস্তানা ছিল, সেখানে তিনি অন্য শিষ্যদের সঙ্গে ভাগ্নেকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি শরিয়ত ও মারেফাত উভয় ধারার শিক্ষায় শিক্ষিত হন।

পারিবারিক সূত্রে হজরত শাহ জালাল (রহ.) একটি দরবেশ পরিবারে জন্ম নিয়েছেন। পিতা একজন ধর্মানুরাগী মুজাহিদ। যিনি ইয়েমেনে ধর্মযুদ্ধে নিহত হন। মাতুলের দিক থেকে সৈয়দ বংশের প্রখ্যাত দরবেশ সৈয়দ জালাল সুরুখ বোখারির দৌহিত্র। অন্যদিকে আহমদ কবির তার মামা। যাকে শিক্ষা গুরু হিসাবে পান। তিনিও সে সময়ের একজন প্রখ্যাত দরবেশ। এক কথায় তিনি একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।

হজরত শাহ জালাল (রহ.) মাত্র ৩২ বছর বয়সে ৭০৩ হিজরি মোতাবেক ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে দ্বীন প্রচারের উদ্দেশে সিলেটে আসেন। তার আগমনের কারণ সম্পর্কে জানা যায়, একদিন হজরত শাহজালাল (রহ.) স্বপ্নে দেখলেন মহানবি (সা.) তাকে তৎকালীন ভারতবর্ষের গৌড় রাজ্যে ইসলাম প্রচারের জন্য আদেশ দিলেন। তিনি এ স্বপ্নের কথা তার মামা সৈয়দ আহমদ কবির (রহ.) কে বলেন। এ কথা শোনার পর সৈয়দ আহমদ কবির (রহ.) হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর হাতে এক মুঠো মাটি দিলেন। আর বললেন, ‘যে স্থানের মাটির রং ও গন্ধ এ মাটির সঙ্গে মিলে যাবে সেখানেই তুমি অবস্থান গ্রহণ করবে। আর দ্বীন প্রচারের কাজ শুরু করবে।’ ভারতবর্ষে গমনের উদ্দেশে তিনি তার মামা সৈয়দ আহমদ কবির (রহ.)-এর দোয়া নিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আরবের মক্কা থেকে বিদায় নিলেন।

তার এ দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেকেই তার সফরসঙ্গী হয়। মুরিদ হয়। এদের নিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি এসে পৌঁছলেন। তখন তার সঙ্গে ছিল ৩৬০ জন সাথী। ভারতবর্ষে পৌঁছার পর তিনি সবার আগে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন। অতঃপর সুলতানুল মাশায়েখ হজরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া (রহ.)-এর আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। বিদায়কালে হজরত নিজামউদ্দীন আউলিয়া (রহ.) হজরত শাহজালাল (রহ.) কে দুই জোড়া কবুতর উপহার দেন। যা জালালি কবুতর নামে সুপরিচিত।

উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত ইসলাম প্রচারক হজরত শাহজালাল (রহ.)। যিনি সিলেট এলাকাসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ইসলাম ধর্ম প্রচারে কাজ করেছেন। তার দাওয়াতকালীন উত্তম ব্যবহার ও গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে। যে ধারাবাহিকতায় এ দেশের মানুষের মনে ইসলাম অদ্যাবধি একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।

একপর্যায় যখন সঙ্গী-সাথির সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে গেল তিনি সিলেটে আস্তানা তৈরি করলেন। তার সাহচর্য লাভ করার জন্য দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসত। তিনি ধর্মপ্রিয় এ মানুষগুলোকে ইসলামের জীবন বিধান সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতেন। একই সঙ্গে শিষ্যদের তিনি বিভিন্ন স্থানে ধর্ম প্রচারের জন্য পাঠিয়ে দেন। যে কারণেই তিনি সুদূর ইয়েমেন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। ইসলামের এ নিবেদিত প্রাণ ১৫০ বছর বয়সে ১৩৪৭ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। সিলেটেই তাকে সমাহিত করা হয়। তার মাজার সিলেট সদরের অন্তর্গত। স্থানীয়ভাবে এটিকে দরগা এলাকা বলা হয়। আর প্রবেশ পথটিকে বলা হয় দরগা গেট।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

৫৬০ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে

জনবল নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে ‘সহকারী স্টেশনমাস্টার’ পদে স্থায়ীভাবে ৫৬০ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এ পদটির জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিকে বর্ধিত করে ২৩৫ জনের পরিবর্তে ৫৬০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে।

 

পদের নাম: সহকারী স্টেশনমাস্টার (গ্রেড-১৫)

পদ সংখ্যা: ৫৬০ জন

যোগ্যতা: যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস।

বেতন: ৯,৭০০/- থেকে ২৩,৪৯০/-

চাকরির ধরন: স্থায়ী

এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

বয়স: আবেদনের সময়সীমা ১৮-৩০ বছর। তবে আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবার এ বছর ১ সেপ্টেম্বরে যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তারাও আবেদন করতে পারেবেন। আর প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://br.teletalk.com.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ২২ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

চাকরিপ্রার্থীদের স্বপ্নভঙ্গ, একদিনে ১৯ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা

একদিনে আবারও ১৯ টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পরীক্ষা আজ। একই দিনে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা থাকায় বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। কারণ তাদের অনেকেই একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছেন।

এর আগের শুক্রবারও (২৯ অক্টোবর) একই দিনে বিসিএসসহ ১৩ প্রতিষ্ঠানের চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখের বেশি। একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা পড়ায় বিপাকে পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

আজ সকাল, দুপুর ও বিকালে ১৯ প্রতিষ্ঠানে এসব পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা।

এতে কোনটা রেখে কোনটায় অংশ নেবেন-তা নিয়েই চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। অনেকেই কষ্টের টাকায় আবেদন করেছেন। কিন্তু একাধিক পরীক্ষা একই সময়ে হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারছেন না। প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্বপ্নভঙ্গ ও অর্থের অপচয় হওয়ায় চাকারিপ্রার্থীদের আক্ষেপের শেষ নেই।

আজ যে ১৯টি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে সেগুলো হচ্ছে- স্থানীয় সরকার বিভাগ, কর কমিশনারের কার্যালয়, কর অঞ্চল-১৪, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, শ্রম আদালত সিলেট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট, খাদ্য অধিদপ্তর, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, সমন্বিত সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়া, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি পদের ব্যবহারিক বাদে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। খাদ্য অধিদপ্তরে পরীক্ষা হবে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ)।

শ্রম আদালত সিলেটের পরীক্ষা হবে সিলেটে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়ার পরীক্ষা হবে বগুড়ায়। আর বাকি সব প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ঢাকায় হবে।

যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন ব্রেইন স্ট্রোক

স্ট্রোক সমস্যাটিকে ভয় পান না এমন মানুষ খুব কমই মিলবে। আর এটি ভয় পাওয়ার মতোই একটি বিষয়। কারণ এটি হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হওয়া ছাড়াও মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে অনেক বেশি।

কিন্তু অবাক করা বিষয় এই যে, অনেকে বুঝতেই পারেন না স্ট্রোক হয়েছে কিনা। এ কারণে স্ট্রোক হলেও অনেকে সেটিকে সাধারণ অসুস্থতা ভাবেন। যার কারণে স্ট্রোকের যে ধরনের চিকিৎসা নেওয়া দরকার সেটি নেওয়া হয় না।

তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে সবারই জানা উচিত স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণগুলো। আজ জানুন যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন ব্রেইন স্ট্রোক—

১. ভারসাম্য হারানো
স্ট্রোক হলে ভারসাম্য হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের স্ট্রোক হয় তারা প্রায়ই ভারসাম্য হারানো বা মাথা ঘোরা অথবা মাথা ভারী হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় তারা কিছু ধরে রাখা বা বসে পড়ার মতো প্রবণতা রাখেন।

২. চোখের সমস্যা
স্ট্রোক হওয়ার পর অনেকেই দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া বা চোখের সমস্যা হওয়ার অভিযোগ করেন। এমটি হলে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যা দায়ী করতে পারেন যেমন, খুব বেশি রোদে হাঁটা বা শরীরে পানি কমে যাওয়া। তাই এ ধরনের সমস্যা হলে সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৩. মুখ ঝুলে পড়া বা অবস
স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে মুখের অর্ধেক অংশ (বিশেষ করে মুখের এক পাশের নিচের অর্ধেক) নিচু হয়ে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটি হলে কথা বলার সময় মনে হবে মুখের একপাশ অবস হয়ে আছে। এমনটি হলে দ্রুতই চিকিৎসা নিতে হবে।

৪. বাহু দুর্বলতা
স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাহু দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। এমনটি হয়ে থাকলে কোনো কিছু ধরার চেষ্টা করলে হাত থেকে জিনিস পড়ে যাওয়ার মতো দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

বেশিরভাগ সময় স্ট্রোক হওয়ার পরে রোগী যেদিকে পড়ে যায় সেদিকেই আক্রান্ত হয়। এর কারণ হচ্ছে স্ট্রোক হলে শরীরের পেশিগুলো অবশ হয়ে যায় এবং শরীরের ওজন ধরে রাখতে না পেরে পড়ে যায়।

৫. কথা বলায় সমস্যা
স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে (বিশেষত যদি স্ট্রোকটি মস্তিষ্কের বাম দিকে হয়) কথা বলার সমস্যা দেখা দেবে। রোগী তাদের সামনে কারও সঙ্গে কথা বলার সময় এটি প্রথম লক্ষ্য করা যায়। এ সময় রোগী নীরব ও বিভ্রান্ত হতে পারে। একটি শব্দ পুনরাবৃত্তি করতে পারে, অথবা বক্তৃতা অস্পষ্ট বা এমনকি অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার ও যত্ন

কাপড় পরিষ্কারের জন্য প্রায় বাসাতেই ওয়াশিং মেশিনের ব্যবহার দেখা যায়। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার করা সুবিধাজনক, সময় সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক।

– ওয়াশিং মেশিন সময় ও শ্রম বাঁচায়।
– আজকাল অধিকাংশ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মজীবী। এক্ষেত্রে ঘরের কাজের জন্য সময় বের করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজের মধ্যে কাপড় ধোয়ায় আমাদের অনেকটা সময় চলে যায়। ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে কর্মজীবীরা দৈনন্দিন এই কাজটিকে এখন অনেকটাই সহজ এবং অল্প সময়ে করতে পারেন।
– ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে চাইলে কর্মস্থল থেকে ফিরে রাতেও কাপড় ধোয়া ও শুকানো যায়।
– কিছু ওয়াশিং মেশিনের ‘হট ওয়াশ’ সিস্টেম কাপড় পরিষ্কারের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস দূর করে।
– শুধু পরিধেয় বা গৃহসজ্জার কাপড় নয়, ওয়াশিং মেশিনে পরিষ্কার করতে পারেন-কুশন কাভার, বাজারের ব্যাগ, পাপোশ, কাপড়ের জুতা, বাচ্চাদের কাপড়ের খেলনা, মাউস প্যাড, রান্নাঘরের সরঞ্জাম, যেমন-ওভেনের মুখের রাবার ব্যান্ড, গ্লাভস, অ্যাপ্রোন প্রভৃতিও।

ওয়াশিং মেশিনের যত্নের উপায়
ওয়াশিং মেশিন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এটির সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য—
– নিয়মিত ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করুন। ডিটারজেন্ট সাবান জমে অনেক সময় মেশিনের ভেতরে অনেক অংশ ব্লক হয়ে যায়। তাই ধোয়ার কাজ হলে ভালভাবে মেশিনের ভিতরটা ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন।
– ওয়াশিং মেশিনে একসঙ্গে বেশি কাপড় দেবেন না। ধারণক্ষমতার চেয়ে ১ বা ২ কেজি কম দিন। বেশি জামাকাপড় একসঙ্গে দিলে মেশিন দুর্বল হয়ে পড়ে। জামাকাপড়ও ভালো পরিষ্কার হয় না।
– কাপড়ে সেফটিপিন বা আর্টিফিশিয়াল বোতাম থাকলে মেশিনে দেওয়ার আগে তা খুলে নিন। নয়তো মেশিনে দাগ পড়ে যাবে। কাপড়ও ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
– মেশিনে দুর্গন্ধ হলে পানিতে ২ কাপ লেবুর রস বা ভিনেগার মিশিয়ে মেশিন পরিষ্কার করুন।
– ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করার পর বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ রাখুন।
– ওয়াশিং মেশিনে ভোল্টেজ ওঠানামা করলে মেশিনের ক্ষতি হতে পারে। এজন্য ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন।

ভারি কাপড়ের যত্ন
– বালিশের কাভার, বিছানার চাদর, পর্দা, ভারি গায়ের চাদর, ডেনিম বা গ্যাবাডিন প্যান্টের মতো ভারি কাপড় হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে মেশিনে দিন। এতে ভারি কাপড় অধিক পরিষ্কার হবে।
– জিন্স, জ্যাকেট, গ্যাবাডিন প্যান্ট ইত্যাদি ভারি কাপড় উল্টে ধোয়া ভালো। এতে কাপড়ের অভ্যন্তরীণ ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।

লিকুইড ব্যবহার করুন
অনেকেই অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিং মেশিনে কাপড় পরিষ্কার হয় না, গুঁড়ো সাবান বেশি খরচ হয়, কাপড় নষ্ট হয়ে যায় দ্রুত ইত্যাদি। আপনার এসব দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে লিকুইড। ওয়াশিং মেশিনে কাপড় দেয়ার আগে পানিতে গুঁড়ো পাউডার গুলে কিংবা কাপড় ধোয়ার লিকুইডে কিছুক্ষণ কাপড় ভিজিয়ে রাখুন। এরপর কাপড় মেশিনে দিন। মেশিনের মধ্যে দেয়ার জন্যও লিকুইড ব্যবহার করুন। এতে যেমন গুঁড়ো পাউডার খরচ কমবে তেমনি কাপড়ও অধিক পরিষ্কার হবে।

মুক্ত হোক শৈশব
বাচ্চাদের কাপড়ে দাগ লাগার ভয়ে আমরা বড়রা অনেক সময়ই শিশুদের মাঠে, ঘরের বাইরে, খোলা স্থানে বা কাদা মাটিতে খেলতে দিতে চাই না। এটা মোটেও উচিত নয়। শিশুদের শরীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে মাঠে, ঘরের বাইরে, খোলা স্থানে খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তাই শুধুমাত্র পোশাকে দাগময়লা লাগার ভয়ে শিশুদের কখনোই খেলাধুলায় বাধা দেয়া উচিত নয়। আর যেহেতু এখন ওয়াশিং মেশিনের মাধ্যমে খুব সহজেই কাপড় পরিষ্কার করা যায় তাই, শিশুদের দাগ থেকে দূরে না রেখে বরং চিন্তাহীনভাবে মুক্ত শৈশব গড়ে তুলতে উৎসাহিত করুন। পাশাপাশি শিশুদেরও লন্ড্রিজাতীয় কাজে উৎসাহী এবং নিযুক্ত করুন। শিশুদের খুব হালকা ধরণের কাপড় কিংবা নিজের পোশাক নিজে ধোয়ার মাধ্যমে লন্ড্রিজাতীয় কাজে উৎসাহী করতে পারেন। পাশাপাশি অন্যান্য সহজ ছোট ছোট গৃহস্থালি কাজেও শিশুদের অভ্যস্ত করুন। এটা শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া রোধসহ সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।

লক্ষণীয়
– কাপড়ের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে আলাদা আলাদাভাবে ধুতে চেষ্টা করুন। সুতি কাপড়ের সঙ্গে ভারি জিনস ধুবেন না।
– এখনকার মেশিনে কাপড় ধোয়ার জন্য আলাদা আলাদা অপশন থাকে। মেশিন চালু করার আগে কাপড়ের ধরন অনুযায়ী অপশন নির্ধারণ করে দিন। যেমন-সুতি কাপড়ের জন্য কটন অপশন।
– মেশিনে ধোয়া কাপড় অবশ্যই রোদে বা বাতাসে কিছুক্ষণ মেলে রাখবেন।
– ওয়াশিং মেশিনের ড্রায়ারে ভেজা পোশাক দেওয়ার আগে সেগুলো ভালো করে ঝাঁকিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এতে কাপড়ের মান ভালো থাকে এবং কাপড় কুঁচকে যায় না।

হলুদ দুধের ৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা

দুধ অনেক স্বাস্থ্যকরী একটি উপাদান এটি আমরা কম-বেশি সবাই জানি। কিন্তু খুব সহজেই এটিকে আরও বেশি স্বাস্থ্যকর করে তোলা যেতে পরে তা জানেন না অনেকেই।

অনেক যুগ আগে থেকেই হলুদ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। আর শুধুমাত্র দুধের সঙ্গে উপকারি এ উপাদানটি মিশিয়ে নিয়ে পেতে পারেন দুধ ও হলুদের উপকারিতা এক সঙ্গেই। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে এবং মৌসুমি ঠাণ্ডা-জ্বর দূর করতেও অনেক উপকারি হতে পারে।

তাই আজ জানুন হলুদ দুধের ৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা—

১. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ
হলুধ দুধে কারকিউমিন থাকে যেটি হলুদে থাকা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। আর এটির কারণে তা আপনার কোষের ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে ও শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপূর্ণ খাবারগুলো আপনার সংক্রমণ ও রোগের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

২. জয়েন্টের ব্যথা কমায়
হলুদ দুধে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য থাকে। আর এ কারণে এটি অস্টিওআর্থারাইটিস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস থেকে জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

৩. মস্তিষ্কের কার্যকরিতা উন্নত করে
হলুধ দুধে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যেও অনেক উপকারি। এতে থাকা কারকিউমিন মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) এর মাত্রা বাড়াতে পারে। আর এ কারণে এটি আপনার মস্তিষ্ককে নতুন সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

৪. মেজাজ ভালো রাখে
হলুদ দুধ মস্তিষ্কের উন্নতি করে মেজাজ ভালো রাখতেও অনেক উপকারী। এতে থাকা কারকিউমিন নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) এর মাত্রা বাড়াতে পারে বলে তা বিষন্নতার লক্ষণ হ্রাস করে বলে মিলেছে গবেষণায়।

৫. হৃদরোগে উপকারী
সারা বিশ্বেই এখন অন্যতম একটি মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে হৃদরোগ। আর হলুদ দুধ আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে হলুদ মেশানোর কারণে তাতে থাকা কারকিউমিন আপনার রক্তনালীর আস্তরণের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে যা এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হিসাবেও পরিচিত। আর সঠিক এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম

ইউট্যাবের নতুন প্রেসিডেন্ট ড. ওবায়দুল, মহাসচিব ড. মোর্শেদ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম এবং মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

বৃহস্পতিবার রাতে ইউট্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের নির্বাচিত করা হয়।‌

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ইউট্যাবের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন প্রেসিডেন্ট ও মহাসচিব। একই সঙ্গে তাদেরকে নতুন দায়িত্ব দেয়ার জন্য ইউট্যাবের সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানান সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতা।

জাবির এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এ ইউনিটের ৭ ও ৮ নভেম্বরের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়েছে। এ পরীক্ষা আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর নেওয়া হবে। তবে অন্যান্য দিনের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে দেশব্যাপী চলমান পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ৭ ও ৮ নভেম্বরের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জাবি ভর্তি পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) আবু হাসান।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে আগামী ৭ নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পিছিয়ে আগামী ২০ নভেম্বর ও ৮ নভেম্বরের পরীক্ষা আগামী ২১ নভেম্বরে নেয়া হবে। অন্যান্য দিনের পরীক্ষা যথাসময়ে হবে।