বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 656

ধর্মঘটে আমদানি রপ্তানিতে ক্ষতি শতকোটি টাকা

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশব্যাপী পরিবহণ ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গত দুদিনের ধর্মঘটে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি হয়নি। একইভাবে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য আটকা পড়েছে বেসরকারি আইসিডিগুলোতে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি হয়েছে প্রায় শতকোটি টাকার।

শুধু টাকার অঙ্ক দিয়ে এই ক্ষতি পরিমাপ করা সম্ভব নয় জানিয়ে আমদারি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্দরের কাজ কোনো কারণে একদিন ব্যাহত হলে তার জের টানতে হয় অনেক দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রেতাদের কাছে রপ্তানি পণ্য পৌঁছাতে না পারলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং পরে অর্ডার বাতিল এবং পুনরায় অর্ডার না পাওয়ার শঙ্কা থাকে। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাপ্লাই চেন ব্যাহত হওয়ায় শিল্প-কারখানায় কাঁচামাল সংকট এবং বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। তাই ক্ষতির জের বহন করতে হয় দীর্ঘদিন।

বন্দর সূত্র জানায়, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি না চলার কারণে বন্দর থেকে শুক্রবার কিছু পণ্য ডেলিভারি হলেও শনিবার হয়নি বললেই চলে। একইভাবে রপ্তানি পণ্য বন্দরে নেওয়া যাচ্ছে না। পণ্য বহনকারী কোনো গাড়ি বন্দরে প্রবেশ করছে না। বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বেরও হচ্ছে না। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বন্দরে কনটেইনার জট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাড়ির অভাবে বেসরকারি আইসিডি থেকে রপ্তানি পণ্য বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে আইসিডিগুলোতে রপ্তানি পণ্য আটকা পড়েছে। বেসরকারি আইসিডিগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ রপ্তানি পণ্য এবং ২০ শতাংশ আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে থাকে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক শনিবার যুগান্তকরকে বলেন, ‘পণ্যবাহী গাড়ি না চলায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য ডেলিভারি (সরবরাহ) হচ্ছে না। জেটিতে জাহাজ থেকে আমদানি পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে রপ্তানিতে। বেসরকারি আইসিডি থেকে রপ্তানি পণ্য বন্দরে আসছে না। আগে যেসব পণ্য বন্দরে ছিল, সেগুলো জাহাজে তোলা হয়েছে। নতুন করে রপ্তানি পণ্য না আসায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। রপ্তানি পণ্য বহনকারী কয়েকটি জাহাজ জেটিতে অলস বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ রোববার তিনটি ফিডার জাহাজ রপ্তানি পণ্য নিয়ে কলম্বোর উদ্দেশে বন্দর ছাড়ার কথা। এই তিন জাহাজকে হয়তো কম কনটেইনার নিয়ে বন্দর ত্যাগ করতে হতে পারে। এ ছাড়া আমদানি পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় বন্দরের কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। এতে দেখা দিতে পারে কনটেইনার জট। এটা আমাদের চিন্তার বড় একটি কারণ।’

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সচিব রুহুল আমিন শিকদার যুগান্তরকে বলেন, ‘১৯টি বেসরকারি আইসিডি থেকে শনিবার কোনো রপ্তানি পণ্য বন্দরে পাঠানো যায়নি। সাধারণত প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবোঝাই দুই হাজারের বেশি কনটেইনার জাহাজীকরণের জন্য বন্দরে পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো রপ্তানি কনটেইনার পাঠানো যাচ্ছে না। এগুলো আইসিডিতে রয়ে গেছে। গতকাল বন্দর থেকে দুটি রপ্তানি পণ্যের জাহাজ ছেড়েছে। এগুলোতে কনটেইনারের তেমন সংকট হয়নি। আজ সকালে তিনটি জাহাজ ছাড়ার কথা। সকালের মধ্যে যদি আমরা কনটেইনার বন্দরে পৌঁছাতে না পারি তাহলে এই তিন জাহাজকে বিপুলসংখ্যক কনটেইনার না নিয়ে চলে যেতে হবে। অথবা এগুলোর যাত্রা বাতিলও হতে পারে। ধর্মঘটের কারণে আমদানি পণ্য এবং খালি কনটেইনারও আইসিডিতে আসেনি। ফলে আগামী কয়েক দিন খালি কনটেইনারের সংকট দেখা দিতে পারে। খালি কনটেইনার না পেলে রপ্তানি পণ্য বোঝাই করা যায় না।’

এদিকে গত দুদিন ধরে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে। এতে রপ্তানি পণ্য নিয়ে সংকট দেখা দেওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপুল ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

পোর্ট ইউজার্স ফোরাম ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘সরকার যেখানে ব্যবসা ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে, সেখানে কদিন পরপরই পরিবহণ ধর্মঘট, কর্মবিরতির নামে পণ্য পরিবহণ বন্ধ রেখে বন্দর ও দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে জিম্মি করে ফেলা হচ্ছে। এক দিন বন্দর থেকে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এই ক্ষতির প্রভাব পড়ে পণ্যমূল্যের ওপর। লোকসান সমন্বয় করতে ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেন। অপর দিকে শিল্প কারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দেয়। ব্যাহত হয় উৎপাদন। এ ছাড়া নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেন ব্যাহত হয়। এতে বাজারে পণ্যের সংকট দেখা দেয়। আর সংকট তৈরি হলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়।’

তৈরি পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক শিল্পের। তাই ধর্মঘটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এই শিল্প। আইসিডি থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বন্দরে রপ্তানি পণ্য পৌঁছাতে না পারায় নির্ধারিত জাহাজ ধরা যাবে না। এসব পণ্য পরের জাহাজে পাঠাতে গেলে আরও তিন-চার দিন সময় লাগবে। যথাসময়ে ফিডার জাহাজে পণ্য উঠাতে না পারলে কলম্বো ও সিঙ্গাপুরের ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে মাদার ভেসেল ধরা যায় না। তাই বায়ারের কাছে নির্দিষ্ট সময়ে পণ্য পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একবার শিপমেন্ট বাতিল বা দেরি হলে বায়ার পণ্য গ্রহণ করতে চায় না। সব অর্ডার বাতিল করে দেয়। এতে লোকসান গুনতে হয়। এ ছাড়া ক্ষুণ্ন হয় দেশের ভাবমূর্তি।

মাছ ধরতে গিয়ে মেঘনায় তলিয়ে গেল পিতা-পুত্র

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় বাবা-ছেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেঘনা নদীর মাতব্বরহাট এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজরা হলেন— বাবা মো. নুরুজ্জামান (৫০) ও তার ছেলে নুর উদ্দিন (২৮)। তারা উপজেলার চরফলকন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জাজিরা এলাকার নতুন বাসিন্দা।

এর আগে তাদের বাড়ি সাহেবেরহাট ইউনিয়নের জগবন্ধু গ্রামে ছিল।

নিখোঁজ নুরুজ্জামানের ভাগিনা মো. জিল্লাল জানান, রাতে তারা নদীতে মাছ ধরার সময় একটি পন্টুনের সঙ্গে ধাক্কায় ছয়জনসহ নৌকা ডুবে যায়। এ সময় চার জেলে সাঁতরিয়ে কূলে আসতে পারলেও বাবা-ছেলে নদীতে তলিয়ে যায়।

স্বজনরা জানান, ছেলে নুর উদ্দিন একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন। শখ করে বাবার সঙ্গে নদী মাছ ধরতে যায়। কিন্তু সে সাঁতার জানত না।

ধারণা করা হচ্ছে— সাঁতার না জানা ছেলে নুর উদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলে দুজনই নিখোঁজ হন।

এদিকে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা রাত থেকে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজেও তাদের সন্ধান পায়নি।

স্থানীয় চরফলকন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল দেওয়ান বাবা-ছেলে নদীতে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অটোমান সেনার গচ্ছিত টাকা ফেরত দিল ফিলিস্তিনি পরিবার

১০৬ বছর আগে এক আটোমান সেনার গচ্ছিত আমানত ফেরত দিল ফিলিস্তিনের একটি পরিবার।

পশ্চিমতীরের নাবলুস শহরে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাঘেব হেলমি আল-আলাউফের পরিবার তুরস্কের কনসুল জেনারেল আহমেত রিজা ডেমিরের কাছে সুলতান সুলেইমানের আমলের এ টাকা ফেরত দেয়। খবর আরব নিউজের।

আল-আলাউফের প্রপিতামহ মুতি ছিলেন অটোমান সাম্রাজের একজন যোদ্ধা।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তার প্রপিতামহের এক সহযোদ্ধা ১৫২ অটোমান লিরা (৩০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমান) তাদের পারিবারের কাছে গচ্ছিত রেখে যান। এসময় তিনি বলে যান, যদি ফিরে আসি তাহলে এ আমানতের টাকা ফেরত নেবো।

সেই থেকে এ টাকাগুলো একটি লোহার সিন্দুকে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন ফিলিস্তিনি ওই পরিবারের সদস্যরা।

কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আটোমান সাম্রাজ্যের পতন হয় ব্রিটিশদের কাছে।সেই থেকে ফিলিস্তিনি চলে যায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধিনে।

১৫১৬ সাল থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিন ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ১৯১৭ সালে ব্রিটেনের কুখ্যাত ব্যালফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিকে ইহুদিদের জাতীয় আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

সেই থেকেই ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র শুরু।শত বছর ধরে ইহুদিরা ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর দখল করে চলছে।

টাকা ফিরত দেওয়ার অনুষ্ঠানে রাঘেব হেলমি আল-আলাউফ বলেছেন, তুর্কি সেনার এ আমানতের ব্যাপারে তার প্রয়াত দাদা তার বাবাকে বলে গিয়েছিলেন। তার বাবা তাদের বলে গেছেন। অবশেষে ১০৬ বছর পর তারা এ আমানত তুর্কি সরকারের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।

তুরস্কের কনসুল জেনারেল আহমেত রিজা ডেমিরের বলেন, ভৌগলিক দূরত্ব তুরস্ক ও ফিলিস্তিন জনগণের আত্মাকে আলাদা করতে পারেনি। আমরা এখন দুই দেশের হলেও- এক জাতি।মনেপ্রণে আমরা এখনও এক আছি। ফিলিস্তিনি ওই পরিবারের প্রতি তুরস্কের জনগণের ভালবাসা পৌঁছে দেন এ তুর্কি কূটনীতিক।

চরম নিরাপত্তা হুমকিতে ইসরাইল!

ইসরাইলের একটি পত্রিকা খবর দিয়েছে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর হাতে এক লাখের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের যেকোনো জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।

হিব্রু ভাষার ‘ইসরাইল হাইয়ুম’ নামের পত্রিকাটি বলেছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হলে ইসরাইলকে বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।খবর প্রেসটিভির।

পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয়েছে, “মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে বিশেষ করে সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে প্রতিরোধ অক্ষের বিজয়, আঞ্চলিক রাজনীতিতে হিজবুল্লাহর প্রভাব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে ইসরাইল বহুমুখী সামরিক সংঘাতের প্রস্তুতি জোরদার করেছে।

এ নিয়ে ইসরাইলের সরকার মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং সামরিক শক্তির অভাব করছে।

২০০৬ সালের ৩৩ দিনের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে পত্রিকাটি বলেছে, অধিকৃত ভূখণ্ড এখন এক লাখের বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে গাজা থেকে যুক্ত হবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র।

দেশ ছাড়লেন সাউথ বাংলা ব্যাংকের আমজাদ

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন। স্থলসীমান্ত দিয়ে বুধবার ভারত হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন। তার সঙ্গে স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ এবং মেয়ে তাজরির আমজাদও রয়েছেন। তার পারিবারিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আমজাদ হোসেনের দুর্নীতির কারণে সম্প্রতি তার সব ব্যাংক হিসাব জব্দ (অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ) করেন আদালত। এ ছাড়া সাউথ বাংলা ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে তিনি সরে যেতে বাধ্য হন। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। এ ব্যাপারে জানতে আমজাদ হোসেনের বাংলাদেশি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন দিলে পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোন সংযোগ কেটে দেন। এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। যুগান্তরকে তিনি বলেন, আমজাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- চার দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন আমজাদ হোসেন। আমেরিকা, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। পাচার করা বিপুল অঙ্কের অর্থে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রাসাদ গড়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে তিনি টাকা সরিয়েছেন। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন আমজাদ হোসেন।

আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে নতুন করে আরও ৮২৯ কোটি টাকা জালিয়াতির তথ্য মিলেছে। এর কিছু দিন আগে আরও ৪৩০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ ছিল। এর অনুসন্ধানও শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে তার জালিয়াতি করা অর্থের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে ৯ কর্মচারীর নামে তার ২৫ কোটি টাকা ঋণ তুলে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পর আমজাদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৯৩৫টি ব্যাংক হিসাব জব্দের (ফ্রিজ) আদেশ দেন আদালত।

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ারের আবেদনের পর ২১ অক্টোবর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ হিসাবগুলো জব্দের আদেশ দেন। তবে বেশির ভাগ হিসাবেই বর্তমানে কোনো টাকা নেই। হিসাবগুলোর মধ্যে ৬৭৯টিতে ব্যালেন্স শূন্য। শূন্য ব্যালেন্সের হিসাবগুলোর প্রতিটিতেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। শতকোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও অনেক। বাকি ২৫৬টি অ্যাকাউন্টে থাকা ৫৫ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাচারের তথ্য উদ্ধারে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে চিঠি দিয়েছে। এতে আমজাদ হোসেনের অর্থ পাচার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এসব দেশের মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সব তথ্য বিএফআইউর কাছে পাঠিয়েছে। বিএফআইইউ ইতোমধ্যেই দুদকের কাছে সেসব তথ্য হস্তান্তর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমজাদ হোসেনের পাঁচটি বাড়ি ও গাড়িসহ একাধিক ব্যাংকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।

রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংকে তার বড় অঙ্কের অর্থ জমা রয়েছে। আর সিঙ্গাপুরেও রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এ ছাড়া ভারতের কলকাতায় আমজাদ হোসেনের একটি চিংড়ি রপ্তানি প্রসেসিং কোম্পানি রয়েছে। সেখানে তার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। এর আড়ালে তিনি অর্থ পাচার করেছেন।

ইমিগ্রেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে- আমজাদ হোসেন বছরজুড়েই কলকাতা, দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর ঘনঘন যাতায়াত করতেন। যা স্বাভাবিক যাতায়াত নয় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর আগে বিদেশে অর্থ পাচার ও জালিয়াতির কারণে গত বছরের ৯ জানুয়ারি আমজাদ হোসেন ও পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুর ঘুরে আসেন।

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে: জয়

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, দেশে সম্প্রতি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ২০১৩ সালে দেশে ডিজেলের মূল্য ছিল লিটার প্রতি ৬৮ টাকা, পরবর্তীতে ২০১৬ সালে লিটার প্রতি ৩ টাকা কমিয়ে ৬৫ টাকা করা হয়। এরপর গত সাড়ে পাঁচ বছরে দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি হয়নি।

শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও কিছু তথ্য গুজব থেকে দূরে থাকুন- সত্য তথ্য জানুন’ শিরোনাম দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় আরও লিখেছেন, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এর ফলে ডিজেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হয়।

তিনি বলেন, এবছরের জুন মাসে লিটার প্রতি ২.৯৭ টাকা, জুলাই মাসে ৩.৭০ টাকা, আগস্টে ১.৫৮ টাকা, সেপ্টেম্বরে ৫.৬২ টাকা এবং অক্টোবরে ১৩.০১ টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। এতে গত সাড়ে পাঁচ মাসে ডিজেলের জন্য বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ১১৪৭.৬০ কোটি টাকা। একইসঙ্গে ডলারের মূল্য ২০১৬ সালে ৭৯ টাকা থেকে চলতি মাসে ৮৫.৭৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ফলে ডলারে মূল্য পরিশোধে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে।

সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ভারতে জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পরও পশ্চিমবঙ্গে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯০ রুপি বা ১০৪ টাকা, দিল্লিতে ৯৮.৪২ রুপি বা ১১৪ টাকার সমান। নেপালেও এই মূল্য ১১২.৩৯ নেপালি রুপি বা ৮১ টাকা। প্রতিবেশী এসব দেশের চেয়ে আমাদের মূল্য কম রয়েছে। একারণে আবার চোরাকারবারিরা এখান থেকে প্রতিবেশী দেশে ডিজেল পাচার করছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার ক্রমাগতভাবে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে আসছে। এর ফলে এদেশে দাম কম থাকায় বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে, যা রোধকল্পে এই মূল্যবৃদ্ধি এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

বিক্ষোভ কর্মসূচি দেবে বিএনপি

জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দিয়ে আপাতত মাঠে থাকতে চায় বিএনপি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ১৫ দিন ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। এরমধ্যে কেরোসিন, ডিজেল ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নতুন করে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেবে দলটি। আজ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে এ সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিভিন্ন খাতের উৎপাদনসহ অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হবে। দলের একাধিক নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন এ তথ্য।

নেতারা জানান, দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মহামারির প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মানুষের লড়াই অব্যাহত আছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় কঠিন থেকে আরও কঠিন হয়ে উঠছে সেই লড়াই। এর মধ্যে সরকার কেরোসিন, ডিজেল ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে নতুন করে সংকটে পড়েছে মানুষ। দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত পরিবহণ ধর্মঘট। বিএনপিও সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচি দেবে। রোববার (আজ) তা ঘোষণা করা হতে পারে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার নিজেদের লোকজনের পকেট ভারি, ব্যবসা বৃদ্ধি, বাড়তি মুনাফার জন্য কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এসবের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। মানুষ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে আগে থেকেই হিমশিম অবস্থায় ছিল। সাধারণ মানুষের ওপর এই নির্যাতন আরও বাড়িয়ে দেওয়া হলো। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, জনগণের দল। তাই সরকারের এসব গণবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা কর্মসূচি দেব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মানুষের যাতায়াত খরচ, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও সব পণ্যের পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে দামে। আমাদের প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানির যখন দাম কম ছিল, তখন তো দাম কমানো হয়নি। তাহলে এখন বাড়ানো হলো কেন?

তিনি বলেন, এই সরকার যতদিন থাকবে ততদিন কোনো কিছুই ঠিকমতো চলবে না। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশবাসী তাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাবে। আর এজন্যই আমরা দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন থেকে রাজপথের আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দলের প্রধান খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পরেও কঠোর কোনো কর্মসূচিতে যায়নি। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের পর অনিয়মের অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত নীরব বিএনপি। এ অবস্থায় এখন দল পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ তাদের। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এর মধ্যে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দিয়ে আপাতত মাঠে থাকতে চায় বিএনপি।

সূত্র জানায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কেরোসিন, ডিজেল, এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েকজন সিনিয়র নেতা হরতালের মতো বড় কর্মসূচির দেওয়ার পরামর্শও দেন। তবে এখনই এ ধরনের কর্মসূচি না দেওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ নেতা। তাদের যুক্তি, হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হলে এ সুযোগ নিয়ে ‘তৃতীয় পক্ষ’ কোনো বিচ্ছৃঙ্খলা করতে পারে। এতে করে সরকারও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, সাধারণ মানুষ আর ধ্বংসাত্মক কোনো কর্মসূচি চায় না। তবে অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায়। জনগণ যাতে সম্পৃক্ত হয় ধারাবাহিকভাবে তেমন কর্মসূচি দেওয়া হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। এর মধ্যেই তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি জনগণের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এসব ইস্যুতে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। আবারও নতুন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়া হবে।

মদ চুরির পথ খোলা রাখতে দৌড়ঝাঁপ

শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা মদ-বিয়ার খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মদ-বিয়ার আমদানি ও বিক্রির হিসাব রাখতে এনবিআর একটি সফটওয়্যার চালু করে। কিন্তু চুরির পথ খোলা রাখতে সেই সফটওয়্যার ব্যবহার করতে নারাজ ডিপ্লোমেটিক বন্ডের ওয়্যারহাউজগুলো। নিরাপত্তার অজুহাতে ৬টি প্রতিষ্ঠান একযোগে সফটওয়্যার ব্যবহার না করতে বিভিন্ন মহলে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। অন্যদিকে সফটওয়্যার ব্যবহার করে মদ-বিয়ার বিক্রির আগ্রহ প্রকাশ করায় নতুন ৩টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

গত ২০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের এক আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিটি ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজকে পণ্য মদ-বিয়ার আমদানিসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যেমন বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অফিস কোড, ইনভয়েস নম্বর, আমদানি করা পণ্যের ব্র্যান্ড ও নাম, পরিমাণ, সিআইএফ মূল্য সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্য বিক্রয়ের সময় সফটওয়্যারে লগইন করে কূটনৈতিক বা বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পাশবুক অথবা কর অব্যাহতির সনদ নম্বর এবং পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে বরাদ্দ অনুযায়ী পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এক্স বন্ড নম্বর, বিক্রীত পণ্যের নাম, পরিমাণ, বিল অব এন্ট্রি নম্বর, সিআইএফ মূল্য সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি কূটনীতিক ও সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রাপ্যতার ভিত্তিতে চাহিদা মোতাবেক পণ্য সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিপ্লোমেটিক বন্ড অটোমেশন সিস্টেমে আপলোড করবে। একই সঙ্গে সিস্টেম থেকে পাওয়া ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরযুক্ত কর অব্যাহতি সনদ তাদের জন্য প্রস্তুত করবে। অর্থাৎ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনীতিক বা সুবিধাপ্রাপ্ত প্রয়োজনীয় মদ-বিয়ার, সিগারেটসহ যাবতীয় পণ্যের তথ্য এনবিআরের সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। সে অনুযায়ী পণ্য বিক্রির সময় ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো পণ্য সরবরাহ করে তা সিস্টেমে আপলোড করবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, ডিপ্লোমেটিক বন্ডের মদ-বিয়ার বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে দীর্ঘদিন যাবৎ এনবিআর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসাবে একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়। সফটওয়্যার ব্যবহারে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। উলটো সিস্টেমের নানা কারিগরি ত্রুটি তুলে ধরে সফটওয়্যার ব্যবহারে অপারগতা প্রকাশ করে এবং বিভিন্ন মহলে তদবির শুরু করেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত ১ অক্টোবর থেকে ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলোর সফটওয়্যার ব্যবহারে নির্দেশনা থাকলেও তারা আদালতে রিট করেছে। তাই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সফটওয়্যার চালুর আগে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোর সঙ্গে এনবিআর ও ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট কয়েক দফা বৈঠক করে। বৈঠকে ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় একই ধরনের আপত্তির কথা জানানো হয়। যেমন টস বন্ড থেকে বলা হয়, সফটওয়্যারটিতে এক বন্ডের স্টক অন্য বন্ড দেখতে পারে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক গোপনীয়তা ভঙ্গ হয়, যা ব্যবসার জন্য হুমকিস্বরূপ। এছাড়া আরও বলা হয়, সফটওয়্যার চালু করার পর কম্পিউটারের ইউআরএলে ‘নট সিকিউরড’ দেখা যায়। যা প্রতিষ্ঠান ও কূটনীতিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে কূটনীতিক ও সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস ও বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের তথ্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। এছাড়া সফটওয়্যারটির প্রযুক্তিগত অনুমোদন বা নিবন্ধনের ঘাটতি আছে কিনা-সে বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

একইভাবে সাবের ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বলা হয়, এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহারে প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা খুবই সীমিত। অপরদিকে যেসব ব্যক্তির কাছে পণ্য বিক্রি করা হয় তারা অত্যন্ত সম্মানীয়, স্থানীয় আইনের ঊর্ধ্বে ও দায়মুক্তিপ্রাপ্ত। এ ধরনের ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় সফটওয়্যারটি কতটুকু কার্যকর তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ভবিষ্যতে তৃতীয় পক্ষ দ্বারা কূটনীতিকদের তথ্য বেহাত বা অপব্যবহার হলে জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। সেই পরিস্থিতি কীভাবে উত্তরণ করা হবে তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ইস্টার্ন ডিপ্লোমেটিক সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, সফটওয়্যারে হালনাগাদকৃত কর অব্যাহতি সনদ প্রদর্শিত হচ্ছে না। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা যাচ্ছে না। যার ফলে সফটওয়্যারটিতে বর্তমান ভার্সন ব্যবহার সম্ভব নয়। এছাড়া কারিগরি দিক পর্যালোচনা এবং সামগ্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা (ফায়ারওয়াল) সুনিশ্চিত করার জন্য সফটওয়্যারটি প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণী শর্ত উত্তীর্ণ কিনা সেটি কারিগরি খাতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা ও সুরক্ষামান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এছাড়া সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া কয়েকটি হ্যাকিংয়ের ঘটনা উল্লেখ করেছে ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলো। যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভার হ্যাক করে অর্থ পাচার, চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তার আইডি-পাসওয়ার্ড হ্যাক করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, সুপার শপ স্বপ্নের ভাউচার হ্যাক করে লাখ লাখ টাকা গায়েব, বিকাশের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে টাকা আত্মসাৎ, সার্ভার সমস্যার কারণে পাসপোর্ট সরবরাহ বন্ধ এবং অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভার ডাউনের কারণে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়।

অবশ্য এনবিআরের সিস্টেম ম্যানেজার জাহিদ হোসেন বলছেন, সফটওয়্যারের সিকিউরিটি নিয়ে ডিপ্লোমেটিক বন্ডের প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এনবিআরের ডাটা সেন্টারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সব সিকিউরিটি ফিচার রয়েছে। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ ডাটা সেন্টার থেকে কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সফটওয়্যার পরিচালিত হয়। তাছাড়া ডিপ্লোমেটিক বন্ডের সফটওয়্যার তো জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নয়। এটি ব্যবহার করবে এনবিআর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো। এখান থেকে তথ্য চুরির শঙ্কা অমূলক, ভিত্তিহীন।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এনবিআরের আরও আগে খোলাবাজারে মদ-বিয়ার বিক্রি বন্ধে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। ডিপ্লোমেটিক বন্ডগুলো সিকিউরিটির ভুয়া অভিযোগ তুলে সফটওয়্যার ব্যবহার করতে না চাইলে এনবিআরের উচিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। সফটওয়্যারে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকে তবে সেটি ঠিক করে যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করা উচিত। এক্ষেত্রে যত বাধা-বিপত্তি আসুক কেন, সেগুলো মোকাবিলা করলে এ খাতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

আরও ৩ প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে লাইসেন্স : সফটওয়্যার মেনে ব্যবসা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ৩টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হচ্ছে-পর্যটন করপোরেশন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এবং হোটেল সোনারগাঁও। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বন্ড লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। শিগগিরই এসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

দিন-রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে

সারা দেশের রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

রোববার আগামী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ৩১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

পর্তুগালে সাধারণ নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি

পর্তুগালের সংসদে ২০২২ সালের বাজেট সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমতি না পাওয়ায় রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছেন। ৩০ জানুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ বিষয়টি ব্যক্ত করেন।

গত সপ্তাহে সংসদে ২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হলে বর্তমান কোয়ালিশন সরকার তাদের সহযোগী এবং বিরোধী দল থেকেও সমর্থন হারায় অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ সোশ্যালিস্ট পর্টি বাদে বাকি শরিক দলগুলো বিই, পিসিপি, পিইভি এই বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে; তবে দুটি দল ভোট প্রদানে বিরত থাকে।

বুধবার রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুসারে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী শীর্ষ দলগুলোর কথা শুনেছেন এবং তাদের বেশিরভাগই সংসদ ভেঙে দেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিলেন। তাই রাষ্ট্রপতি এ ঘোষণা প্রদান করেন । পর্তুগিজ সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বাজেটের বিরোধিতাকারী দলগুলো বলছে এই বাজেট গণমুখী নয়। এমনকি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বাজেট প্রণয়ন হয়নি যদিও বাজেটের মাত্র কয়েকটি বিষয়ের বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল পিএসডি বলছে একটি বামপন্থি দল সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও সঠিকভাবে বেতন বাড়ানো হচ্ছে না এবং এ বাজেটেও খুবই সামান্য বৃদ্ধি উল্লেখ করা আছে।

তবে ক্ষমতাসীন বলছে এই বাজেট মহামারিপরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; তাছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দূরদর্শী পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিত। যদি দুই-একটি খাতে কোনো তারতম্য থাকতে পারে তবে তা যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সংসদের কার্যপ্রণালী থেকে জানা গেছে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।