বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 658

মহামারিতেও মৌসুমীর ব্যস্ত সময়

প্রিয়দর্শিনীখ্যাত চিত্রনায়িকা মৌসুমী সমসাময়িক অনেকের চেয়েই আলাদা। তার সমবয়সী অনেক শিল্পীই যেখানে করোনাকালে কর্মহীন, সেখানে মৌসুমী ব্যতিক্রম। মিডিয়ায় বেশ ব্যস্ততা নিয়ে সময় পার করছেন। ছবিসহ নানা ধরনের কাজেই তাকে ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে।

সৈয়দ আপন আহসানের নির্দেশনায় একটি তথ্যচিত্র, তোহা মোরশেদের পরিচালনায় একটি তেলের বিজ্ঞাপন, জাহিদ হোসেনের সিনেমা ‘সোনার চর’, আশুতোষ সুজনের ‘দেশান্তর’ এবং মির্জা সাখাওয়াত হোসেনের ‘ভাঙন’ সিনেমার কাজ করছেন।

আরও কয়েকটি কাজের প্রস্তাব তার হাতে রয়েছে। ঠিক এ অবস্থায় কিছুদিনের জন্য তিনি আমেরিকায় ঘুরতে গিয়েছেন।

সেখানে যাওয়ার আগে কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার সৌভাগ্য যে দর্শক থেকে শুরু করে নির্মাতাসহ অনেকেই আমাকে এখনো ভালোবাসেন। তা না হলে এই কঠিন মহামারির সময়েও আমি কাজে ব্যস্ত আছি। এটিকে তাই সৌভাগ্যই বলব। তবে যেসব কাজে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছি তার সবগুলোই মানসম্মত কাজ। করোনা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকায় কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করছি এ পরিস্থিতি যেন অব্যাহত থাকে।

এদিকে এই চিত্রনায়িকা ব্যক্তিগত কাজে এখন আমেরিকায় আছেন। শিগগিরই দেশে ফিরে কাজে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

সালমার পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা করোনাকালেও গানসহ নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কখনো গান, কখনো অসহায়দের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত থাকেন এই সংগীত শিল্পী।

এসব কাজের পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় একটি বিনোদন পার্ক প্রতিষ্ঠা করেছেন। যেটি সম্প্রতি উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই পার্কটির প্রতি বিনোদনপিয়াসীরা ভিড় করছেন। তবে শুধু পার্কেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এটি। পর্যায়ক্রমে এটিতে নতুন নতুন রাইড যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন সালমা।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকটা হঠাৎ করেই এ কাজটি শুরু করেছিলাম। শুরুতে পরিকল্পনা ছোট থাকলেও এখন সেটি বৃহতের দিকেই যাচ্ছে। তবে ধীরে ধীরেই এটির কলেবর বৃদ্ধি করতে চাই। এদিকে সব সময়ের মতোই গানে নিয়মিত কণ্ঠ দিচ্ছেন তিনি। পর্যায়ক্রমে গানগুলো প্রকাশও হচ্ছে।

সেমিফাইনালে যেতে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে ভারত!

আগের ম্যাচে আফগানিস্তানকে পাত্তা দেয়নি ভারত। এবার স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল মাত্র ৩৯ বলেই। ৮১ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে বিরাট কোহলির দল।

১৭.৪ ওভারে ৮৫ রানে স্কটিশদের অলআউট করে দেয় বুমরা-শামিরা। এরপর ব্যাট হাতে নেমে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ৬.৩ ওভারেই খেলা শেষ করে দেন রাহুল-রোহিতরা।

এই ম্যাচ জিতে নেট রানরেট অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে বিরাট কোহলি এন্ড কোং। তাহলে কি সেমিফাইনালে যেতে পারবে ভারত?

এক্ষেত্রে ভারত বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। আফগান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৭ নভেম্বর। আর কোহলিরা খেলবে তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে নামিবিয়ার বিপক্ষে। তাই কত রান রেট বাড়িয়ে নিয়ে খেলা শেষ করতে হবে জেনেই মাঠে নামবে ভারত।

তাছাড়া টুর্নামেন্ট সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হলেও আয়োজক কিন্তু ভারতই। তাই মাঠ ও উইকেট কেমন তৈরি হবে এসব দায়িত্ব আইসিসির সঙ্গে ভারতের কাঁধেও রয়েছে। সে হিসেবে ভারতের পক্ষে উইকেট থেকে অ্যাডভান্টেজ নেওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

এদিকে কোহলিদের নেট রানরেট এখন ১.৬১৯। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ১.২৭৭। কিন্তু এতে ভয় পাবার কিছু নেই কিউইদের। কারণ চার ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট ৪ এবং নিউজিল্যান্ডের পয়েন্ট ৬। চার ম্যাচের সবগুলো জিতে পাকিস্তানের ৮, তারা সেমিফাইনালের টিকিট কেটে ফেলেছে অনেক আগেই।

নিউজিল্যান্ডের সামনে বাধা এখন শুধু আফগানিস্তান। সেই ম্যাচ জিতলে ভারত যতেই রান রেট বাড়িয়ে নিক তাতে কোনো লাভ নেই। ৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিতে উঠবে কেন উইলিয়ামসনের দল।

অন্যদিকে ভারতের সেমিফাইনালে যেতে হলে, প্রথমত শেষ ম্যাচে জিততেই হবে। আর শেষ প্রতিপক্ষ নবাগত নামিবিয়া। একেবারে সহজ প্রতিপক্ষ। এই দলের বিপক্ষেও রান রেট বাড়িয়ে জয়ের কাজটি সাড়বে ভারত। কিন্তু এরপরও তাদের পয়েন্ট হবে ৬।

তাই তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে নিউজিল্যান্ড বনাম আফগানিস্তান ম্যাচের দিকে। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড জিতে গেলে নেট রান রেটের হিসাব কষা-কষির বালাই নাই ভারতের। সোজা বিদায় নিতে হবে বিশ্বকাপ থেকে। নিউজিল্যান্ড উঠে যাবে সেমিফাইনালে।

কিন্তু আফগানিস্তান জিতে গেলে হিসাবটা জটিল হয়ে যাবে। কারণ তখন নিউজিল্যান্ড, ভারত এবং আফগানিস্তান- তিন দলেরই পয়েন্ট হবে সমান ৬ করে। সে ক্ষেত্রে রানরেটে এগিয়ে থাকা দলেরই পাকিস্তানের সঙ্গী হয়ে সেমিতে উঠবে। আর এই ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত ভারত এগিয়ে। কারণ আফগানদের রানরেট ভারতের চেয়ে কম, ১.৪৮১। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে জিততে হবে কিউইদের বিপক্ষে।

আফগানিস্তানের দিকে তাকিয়ে ভারত

বিশ্বকাপে গ্রুপ-২ থেকে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। ওই গ্রুপ থেকে অপর কোন দল সেমিফাইনালে যাবে তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

যদিও নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ তিন ম্যাচ জিতে তাদের পয়েন্ট এখন ছয়। বাকি একটি ম্যাচ জিতলেই আর কোনো হিসাবের প্রয়োজন হবে না। সরাসরি সেমিফাইনাল খেলবে কিউইরা।

ভারতকে এখন দুই সমীকরণ মেলাতে হবে।

আফগানিস্তানের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড যদি হেরে যায় তখন শুরু হবে ভারতের সেমিফাইনাল সমীকরণ। তখন আফগানিস্তানেরও পয়েন্ট হবে ছয়। আবার গ্রুপের অপর দল ভারত যদি নামিবিয়ার সঙ্গে জিতে তবে তাদের পয়েন্টও হবে ছয়। সেসময় তিন দলের পয়েন্ট ছয় হওয়ার কারণে নেট রান রেটে কারা এগিয়ে তা আমলে নেওয়া হবে।

এদিক দিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে ভারত নিজেদের নেট রান রেট বেশ এগিয়ে নিয়েছে। পয়েন্ট চার হলেও তাদের নেট রান রেট এখন নিউজিল্যান্ড ও আফগানিস্তানের চেয়ে বেশি।

গ্রুপে ভারতের রানরেট +১.৬১৯, নিউজিল্যান্ডের +১.২৭৭ ও আফগানিস্তানের ১.৪৮১।

এদিক দিয়ে বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছে ভারতই। এখন তাদের চাওয়া থাকবে আফগানিস্তান যেন নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেয়। একই সঙ্গে শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে বড় ব্যবধানে যেন হারাতে পারে কোহলির দল। তাই পুরো ভারত এখন তাকিয়ে আছে আফগানিস্তানের দিকে।

আ.লীগের কার্যালয়ের সামনে নৌকা প্রতীকে আগুন

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নৌকা প্রতীকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের নতুন বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকায়, দুপক্ষের মধ্যে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ-সংঘাতের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

কাইচাইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা খান বলেন, কাইচাইচাইল ইউনিয়নের নতুন বাজারে আমার একটি নির্বাচনী কার্যালয় আছে। কার্যালয়ের সামনে বাঁশ ও কাপড় দিয়ে একটি নৌকা প্রতীক তৈরি করে রেখেছি।

শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির হোসেন ঠান্ডু মাস্টারের কর্মীরা ওই প্রতীকী নৌকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। যারা নৌকা পুড়িয়েছে, তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কাইচাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন ঠান্ডু মাস্টার বলেন, আমার কোনো কর্মী নৌকায় আগুন দেয়নি। আমাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করে, তারা নিজেরাই নৌকায় আগুন দিয়েছে। এ ধরনের নোংরা রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া, যুবকের আত্মহত্যা

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় ছোট ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের গোলাহাট আটকেপড়া উর্দুভাষীদের নতুন ক্যাম্প (সিনেমা হল ক্যাম্প) এলাকার নিজ বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন।

নিহত ওই যুবকের নাম মুরাদ হোসেন (৩৫)। তিনি একই এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে। তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মুরাদের ছোট ভাই রিয়াজ হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল শহরের সিটি কমিউনিটি সেন্টারে। অনুষ্ঠানে স্ত্রীর সঙ্গে মুরাদের ঝগড়া হয়। পরে কাউকে কিছু না জানিয়ে মুরাদ বাড়িতে চলে আসে।

পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের লোকজন মুরাদকে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। মুরাদকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সৈয়দপুর থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সিংহের লেজ ধরে ঘুরতে বের হলেন শিল্পপতির মেয়ে

আর দশটা সাধারণ প্রাতঃভ্রমণের মতো বেশ খোশমেজাজেই সিংহের লেজ ধরে ঘুরতে বেড়িয়েছেন ভারতের বিজনেস টাইকুন হর্ষ গোয়েঙ্কার মেয়ে বসুন্ধরা পাটনি। মেয়ের এই দুঃসাহসিক ভ্রমণের ভিডিও শেয়ার করেছেন স্বয়ং হর্ষ গোয়েঙ্কা। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের আরপিজি গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা শুক্রবার তার ভ্যারিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করেন।ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘দ্যাটস মাই ডটার। ক্যান ইউ ইমাজিন হার মাদার।’ শেষে একাধিক ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন তিনি।

তবে কবে এবং কোথা থেকে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, মাথায় হ্যাট পরিহিত বসুন্ধরা পাটনি একটি পূর্ণবয়স্ক সিংহের লেজ ধরে জঙ্গলের রাস্তায় হাঁটছেন।

এদিকে, ওই ভিডিও টুইটারে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়। ভিডিও দেখে অনেকেই বসুন্ধরার সাহসের তারিফ করেছেন।

এই ধরনের ট্যুর দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় উদ্যানগুলোতে জনপ্রিয়। যেখানে মানুষ বণ্য পরিবেশে প্রশিক্ষিত এবং বন্দি অবস্থায় বেড়ে উঠা ‘সিংহের সঙ্গে হাঁটার’ অভিজ্ঞতা পেতে পারেন।

তবে এই ধরনের ট্যুর নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক আছে। কেউ কেউ মনে করেন এই ধরনের ট্যুর পশু নির্যাতনের ইঙ্গিত বহন করে।আবার কারো কারো ধারণা এই ধরনের পর্যটন সিংহের অস্তিত্ব রক্ষায় সাহায্য করে।

স্বামীর নতুন সঙ্গীর ছবি দেখে ৫ সন্তানকে হত্যা করেছিলেন মা!

স্বামীর সঙ্গে তার এক নতুন সঙ্গীর ছবি দেখে নিজের পাঁচ সন্তানকে হত্যা করেছিলেন এক তরুণী। এই অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, জার্মানির জলিঙ্গেন শহরে বাসিন্দা ওই নারীর ২৮ বছর বয়সী ওই তরুণী স্বামীর সঙ্গে নতুন এক পার্টনারের ছবি দেখার পর নিজের পাঁচ সন্তানকে গতবছর সেপ্টেম্বরে হত্যা করেছিলেন।

বিচারক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷ ১৫ বছর কারাভোগের পরও ওই তরুণী প্যারোল আবেদন করতে পারবেন না বলে অপরাধের ধরন বিবেচনা করে আদালত জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই তরুণীর ছয় সন্তান ছিল৷ স্বামীর সঙ্গে নতুন এক সঙ্গীর ছবি দেখার পর তিনি স্বামীকে মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে জানান, স্বামী আর তার সন্তানদের কখনো দেখতে পারবেন না৷ এরপর পাঁচ সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাথটাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়৷

সন্তানদের বয়স আট মাস থেকে আট বছর পর্যন্ত ছিল৷ সবচেয়ে বড় ১১ বছরের সন্তান ওই সময় বাড়িতে না থাকায় বেঁচে যায়৷

সন্তানদের হত্যার পর চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচার চলাকালীন আদালতে একেবারে চুপ ছিলেন তিনি৷ পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় তার মুক্তির দাবি জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী৷ সেটা সম্ভব না হলে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া ও মানসিক চিকিৎসার আবেদন করা হয়েছিল৷

তবে আদালতের নিয়োগ দেওয়া এক বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, তার মারাত্মক কোনো মানসিক রোগ নেই৷

নতুন সংকটে শিল্প খাত

করোনা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে শিল্পের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারেও। বাড়ছে পণ্যের দাম। জ্বালানি তেলের কারণে পণ্য পরিবহণ ব্যয়ও বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত। ব্যাংকে বেড়েছে ডলারের দাম। এভাবে মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে দেশের প্রায় সব ধরনের শিল্প।

বাড়তি ব্যয়ে পণ্য উৎপাদন করতে হচ্ছে। কিন্ত হঠাৎ করে বেশি দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়লেও ক্রেতারা দাম বাড়াননি। সব মিলে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে শিল্প খাত।

এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য উদ্যোক্তারা করোনাকালীন প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, এলসির সীমা বাড়ানো, চলতি মূলধনের ঋণসীমা বৃদ্ধির দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রণোদনার ঋণ এক দফার পরিবর্তে একাধিকবার দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। এসব বিষয়ে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে বেশি সংকটে পড়েছে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প। এর মধ্যে পোশাক শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৬ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। পোশাক শিল্পের অবস্থা জানিয়ে গত ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ফারুক হাসান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, করোনায় তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল ও স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য কল্পনাতীতভাবে বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী তুলার দাম মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে নিট সুতার দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। একই কারণে ফেব্রিক্সের দাম বেড়েছে ২৫ এবং আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি বা এক্সেসরিজের দাম বেড়েছে ১৫ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী পরিবহণ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়ভাবে পণ্য পরিবহণের খরচ বেড়েছে কয়েকগুণ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নিজ নিজ ব্যাংক থেকে দেওয়া ক্রেডিট লিমিট বা কম্পোজিট লিমিটেডের মধ্যে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে পারছে না। পণ্যের দাম বাড়ায় এলসি খুলতেও বেশি ঋণ লাগছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে গেলে ব্যাংকের দেওয়া এলসি লিমিটের অতিরিক্ত ঋণের জন্য জামানত চাওয়া হচ্ছে। ব্যাক টু ব্যাক এলসির বিপরীতে অতিরিক্ত ঋণের জন্য জামানত চাওয়া কোনোভাবে যুক্তিযুক্ত নয়। তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি কার্যক্রমকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ব্যাক টু ব্যাক এলসি ও চলতি মূলধনের চলমান সীমা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গত দুই মাসে বিশ্ব বাজারে সব ধরনের কাঁচামালের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু রপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে দুই মাস আগে। এখন বাড়তি দামে কাঁচামাল আমদানি করে পোশাক তৈরি করতে বেশি খরচ পড়ছে। কিন্তু ক্রেতা পণ্যের দাম বাড়াতে চাচ্ছে না। এতে করে দেশের রপ্তানি খাত নতুন সংকটে পড়েছে।

সূত্র জানায়, একই অবস্থা অন্যান্য শিল্প খাতে। শিল্পের প্রায় সব ধরনের কাঁচামালই আমদানি করতে হয়। এছাড়া স্থানীয়ভাবে যেসব কাঁচামাল পাওয়া যায় সেগুলোর দামও বেড়েছে। এ অবস্থায় বেশি দামে কাঁচামাল কিনে আগের দামে পণ্য বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। ইচ্ছে করলে যেভাবে খরচ বেড়েছে, সেভাবে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সব ধরনের পণ্যের পরিবহণ ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশ্ব বাজারে গত বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল ২০ ডলারে নেমেছিল। এখন তা বেড়ে ৯০ ডলারে উঠেছে।

অক্টোবরে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামই বেড়েছে। করোনার কারণে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এখন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া হঠাৎ করে সব দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দাম বাড়ছে। গত বছরের জুনে জ্বালানিবহির্ভূত পণ্যের দামের (শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, পণ্য) গড় সূচক ছিল ৭৫ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১১০ ডলার। খাদ্য উপকরণের গড় সূচক একই সময়ে ৮০ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৫ ডলার। একই সময়ে জাহাজে পণ্যের পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।

উদ্যোক্তারা জানান, করোনা পরিস্তিতির উন্নতি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হয়েছে। এ কারণে পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বিশ্বের খ্যাতিমান ব্র্যান্ডগুলোর শোরুম এখন খালি। পণ্যের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতারা জাহাজের পরিবর্তে বিমানে দ্রুত পণ্য পাঠানোর তাগিদ দিচ্ছেন। ক্রেতাদের রপ্তানির আদেশও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্টের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাক টু ব্যাকের আওতায় নতুন এলসি খোলা বেড়েছে ৫১ দশমিক ০৮ শতাংশ। আমদানি বেড়েছে ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে ১১ শতাংশ, এলসি খোলা বেড়েছে ১২ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ এবং আমদানি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

বেড়েছে বেশকিছু পণ্যের দাম

পরিবহণ ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে দেশব্যাপী বাস ও ট্রাক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খাদ্যবোঝাই ট্রাক রাজধানীর পাইকারি আড়তে এসে পৌঁছায়। সেজন্য শুক্রবার পর্যন্ত পাইকারি পর্যায়ে কোনো পণ্যের সংকট হয়নি। এদিন পর্যন্ত পাইকারিতে পণ্যের দামও ছিল স্বাভাবিক।

তবে পাইকারি আড়ত থেকে খুচরা বিক্রেতাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পরিবহণ না পাওয়া বা বিকল্প বাহনে বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে। এতে খুচরা পর্যায়ে বেশকিছু পণ্য যেমন-আটা, ভোজ্যতেল, শুকনা মরিচ, রসুন, কিছু সবজি বাড়তি দরে বিক্রি হয়েছে। এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধর্মঘট চলমান থাকলে শুক্রবার রাতেই আর বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক রাজধানীতে আসবে না। এরই মধ্যে অনেক ট্রাকমালিক পণ্য আনা-নেওয়ার বায়না বাতিল করেছে। অনেকেই টাকা ফেরত দিয়েছে। এতে শনিবার (আজ) থেকেই রাজধানীর পাইকারি বাজারে ভেঙে পড়বে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। ফলে পণ্যের সরবরাহ সংকট দেখা দেবে। তাই স্বভাবতই পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা পর্যায়ে অস্বাভাবিক বেড়ে যাবে সব ধরনের পণ্যের দাম। আর এই বাড়তি দরের বোঝা সব সময়ের মতো সাধারণ ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। বিক্রেতারা শুধু দামে সমন্বয় করবে।

রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার প্রতিকেজি শিম বিক্রি হয়েছে ১২০-১৬০ টাকা, যা ধর্মঘটের আগে ৮০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৬০-৮০ টাকা। প্রতিকেজি পটোল বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা, যা আগে ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হয়েছে। মানভেদে এক কেজি গাজর বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা, যা ধর্মঘটের আগে ১৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা।

নয়াবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল যুগান্তরকে বলেন, ভোরে কাওরান বাজারে পাইকারি আড়তে সবজি নিতে গিয়েছি। সবজিও কিনেছি। সেখানে ধর্মঘটের কোনো প্রভাব দেখিনি। সব ধরনের সবজির ট্রাক রাতেই এসেছে। তাই দাম বাড়েনি। তবে সবজি কিনে কাওরান বাজার থেকে নয়াবাজারে আসার মতো কোনো পিকআপ পাইনি। অনেক চেষ্টার পর একটি ভ্যান যেতে রাজি হলে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হয়েছে। এ ছাড়া পৌঁছাতে সময় বেশি লাগায় সবজিও নষ্ট হয়েছে। সব মিলে বাড়তি টাকা ব্যয় হওয়ায় কিছু টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। যদি ধর্মঘট চলমান থাকে তবে কাল (আজ) থেকেই সব ধরনের পণ্যের দাম হু-হু করে বেড়ে যাবে।

খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, প্রতিকেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হয়েছে ৩৮-৪০ টাকা। যা দুই দিন আগেও ৩৫-৩৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৭৬০ টাকা। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। যা ধর্মঘটের আগে বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকা। প্রতিকেজি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা। দেশি শুকনা মরিচ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা।

রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা ঊর্মি বেগম যুগান্তরকে বলেন, বাজারে সব ধরনের সবজি আছে। তবে দাম গত দু-একদিনের তুলনায় বেশি। বিক্রেতারা বলছেন, ধর্মঘটের কারণে দাম বেড়েছে। পাশাপাশি একাধিক পণ্যের দাম বাড়তি।

তিনি বলেন, এমনিতেই কয়েক মাস ধরে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি দরে আমাদের নাভিশ্বাস বাড়ছে। ঠিক সে সময় সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এতে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। পরিবহণ খরচ বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষের আরও ভোগান্তি হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পণ্যের দাম কমানোর জন্য সরকার কোনো উদ্যোগ তো নেয়নি, বরং দাম আরও বাড়ানোর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এ দেশে কি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তা করার মতো কেউ নেই?

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ড. গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি এমন একটা পণ্য যার দাম বাড়লে মূলত সবকিছুর দাম বাড়ে। এতে সার্বিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লেই পরিবহণের ভাড়া বাড়বে। ফলে পরিবহণে যেসব পণ্য আসবে সেগুলোর দামও বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। পাশাপাশি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে ক্রেতার কিনতে হবে বাড়তি দরে।

তিনি জানান, করোনাকালে এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে। ফলে ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। এমনিতেই বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। এর সঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ানো মানে ভোক্তার জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তাই এই বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আবারও একটু বিবেচনা করা দরকার। এছাড়া পরিবহণ ধর্মঘট চলছে। আর এই ধর্মঘট চলমান থাকলে পণ্য সংকটের শঙ্কা দেখা দেবে। ফলে পণ্যের দাম আরও বাড়বে। যার ধকল সাধারণ ক্রেতাকেই নিতে হবে।

জানতে চাইলে বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলে দাম বাড়ার অজুহাতে যাতে অসাধুরা পণ্যের দাম না বাড়ায় এজন্য মোকাম, পাইকারি আড়ত ও খুচরা বাজার-এই তিন স্তরে নজরদারি করা হবে। কেউ অসাধু পন্থার আশ্রয় নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।