বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 655

ইসলামি বিপ্লবের পূর্বকথা

জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমার যুদ্ধংদেহী মনোভাব ছোটবেলা থেকেই খুব তীব্র। আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি, শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবির ফিকির ও দর্শন আমার সেই মনোভাবে এক নতুন রঙ লাগায়, এবং আমি আরও বেশি সক্রিয় ও সংগ্রামী হয়ে উঠি।

ওই সব আল্লাহওয়ালাদের সংস্পর্শে আমার অন্তর এই হকিকত উপলব্ধি করে যে, কুরআনের প্রকৃত মর্ম হলো দুনিয়া জুড়ে ইনকিলাব কায়েম করা। এবং আজকের দুনিয়াতেও কুরআনে বিশ্বাসী প্রত্যেকের জন্য ফরজ তার জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য ‘ইনকিলাব’ করা।

আমি আমার সুমহান মুর্শিদদের প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ যে, তারা আমার স্বভাবগত সাধারণ যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে বিশ্বব্যাপী মানুষের মুক্তিতে নিবেদিত মনোভাবে বদলে দেন, এবং আমার জীবনের উদ্দেশ্যকে গতিময় করেন।

এই কারণে আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য কুরআনে নির্দেশিত বিশ্বব্যাপী মানুষের মুক্তির এই সংগ্রাম। এবং একে কার্যত বাস্তবায়নের জন্য সবরকমের চেষ্টাপ্রচেষ্টা আমার একমাত্র কাজ।

আমার মতে ইনকিলাবি মনোভাবই ব্যক্তির খুদিকে জাগিয়ে তোলে, আর যখন মানুষের আপনসত্তা জেগে ওঠে তখন সে কোনো রকমের ভয়ডর ছাড়া তার ওপর আপতিত সব অনাচার-অবিচার বীরবিক্রমে রুখে দেয়, তারপর নীতিহীন আদর্শ আর অন্যায় আইনের ভিত তীব্র আক্রমণে ভেঙেচুরে তছনছ করে ফেলে, অবশেষে গড়ে তোলে জীবনের নতুন বুনিয়াদ।

সোজা কথায় চূড়ান্ত মুক্তির প্রথম ধাপ হলো ‘ইনকিলাবি ঝোঁক’, এই ইনকিলাবি ঝোঁকই ফিকির ও কার্যতৎপরতা তৈরি করে। এই ঝোঁকই রুশ জনগণের মধ্যে মানুষে মানুষে সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য হিম্মত ও সাহস জুগিয়েছে, ফলে তারা শাহেনশাহ জারের অপরাজেয় রাজসিংহাসন ভেঙে চুরমার করে ফেলে।

তারপর এমন শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সারা দুনিয়া যার বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু আমজনতার ইনকিলাবি ঝোঁক কাউকে পরোয়া করেনি, এবং আত্মবিশ্বাস ও একিনের সঙ্গে প্রত্যেক শত্রুকে চুপ করিয়ে দিয়েছে।

জেহাদ ও ইনকিলাব বিষয়ে এখানে একটি আলাপ সবিস্তারে না বললেই নয়: মানুষ জেহাদ বলতে সাধারণত তলোয়ার চালনা বন্দুকের নল দাগানো আর দেশ দখল বোঝে, আর ইনকিলাব বলতে বোঝে কোনো সমাজব্যবস্থা ভাঙা, বিপ্লব, রক্তপাত, ধ্বংস, তোড়জোড় ইত্যাদি।

কিন্তু জেহাদ মানে বন্দুকের নল দাগানো নয় আর ইনকিলাবও নয় স্রেফ ভাঙচুরের প্রতিশব্দ। কুরআনে হাদিসে জেহাদকে নানা ক্ষেত্রে নানান অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এর মানে এই নয় রক্তপাতের জেহাদের অস্তিত্ব নাই। সেটিও আছে।

জেহাদ তলোয়ারেও হয়, কলমেও হয়, জবানেও হয়, অন্তরেও হয়, বেশিরভাগ তো নিজের প্রবৃত্তির সাথেই নিজের জেহাদ করতে হয়।

একইভাবে ইনকিলাবের অর্থ কেবল ভাঙচুর আর প্রথাবিরোধিতা না। সমাজে চলে আসা প্রাচীন রীতিনীতির বিপরীত ধারণা পেশ করাই ইনকিলাবি কাজ নয়, বরং বিদ্যমান সকল ব্যবস্থার জায়গায় কোনো উন্নত ও জীবন্ত ব্যবস্থা সামনে আনাই প্রকৃত ইনকিলাব।

আমরা ভুলবশত মনে করি পুরানো সব নিয়মকানুন মিটিয়ে দেওয়ার নাম ইনকিলাব। এইজন্য আমজনতা ইনকিলাব ভালো চোখে দেখে না। শুধু নতুন ধারণা আর প্রগতিকে উন্নত মনে করা ইনকিলাবের প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করতে না পারার দলিল।

ইনকিলাবের মূলনীতি হলো তা কেবল ওইসব ধারণাই মিটিয়ে দিবে যা টিকিয়ে রাখবার মতো নয়। ইনকিলাব প্রাচীনত্বকে ইনকার নয়, উলটো তা মানবেতিহাসের সমস্ত ‘বাকিয়াত ও স-লিহাত’ (উত্তরাধিকার ও স্থায়ী সৎকর্ম) তার অবস্থানে অক্ষত রাখে,—যাকে অক্ষত রাখা জরুরিও বটে,— এবং নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তনে তার থেকে পুরোপুরি সহায়তা নেয়।

নদীর স্রোত যদি বয়ে যায়, তো কেবল সামনের দিকেই এগিয়ে যায়, কিন্তু মাঝপথে যদি বাধাপ্রাপ্ত হয়, তখন তা উপচে পড়ে, আমরা তাকে বলি বন্যা— ইনকিলাব ঠিক এমনই।

নতুনত্ব ও প্রগতিশীলতার মধ্য দিয়ে মানুষ শতশত বছরে যেই অবস্থানে পৌঁছায়, ইনকিলাবের মধ্য দিয়ে অল্পসময়ে সেই অবস্থানে অথবা তার চেয়ে এগিয়ে অনেকদূর চলে যাওয়া যায়।

অবশ্যই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় ইনকিলাব বস্তুবাদী ও যান্ত্রিক ইনকিলাব, কিন্তু এ জরুরি নয় ইনকিলাব চিরকাল বস্তুবাদী ও যান্ত্রিক হবে, বরং খুবই সম্ভাবনা আছে আগামীদিনের ইনকিলাব হবে মানুষের আত্মিক উৎকর্ষ ও বৌদ্ধিক বিকাশের ইনকিলাব।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ লেখেন, ‘মানুষের বিবর্তনের পরবর্তী ধাপ শারীরিক নয় বরং আত্মিক ও বৌদ্ধিক। প্রথমে মানুষ বিবর্তনের মাধ্যমে ইতরশ্রেণির প্রাণী থেকে মানুষের স্তরে এসেছে, তারপর সে দেমাগ খাটিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করে, যন্ত্র ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করে, বর্তমানে সে উন্নতির চূড়ান্ত উৎকর্ষে অবস্থান করছে। এখন তার জন্য জরুরি এই অবস্থান অতিক্রম করা। অর্থাৎ যেই বিবর্তন মানুষকে ইতরশ্রেণির প্রাণী থেকে মানুষে উন্নীত করেছে, তারপর মানুষ নিজের প্রয়োজনেই অস্ত্রশস্ত্র ও যন্ত্র উৎপাদন করেছে, ওই বিবর্তনই মানুষকে আরও সামনে আগাতে বাধ্য করবে, পরবর্তী স্তরের দিকে ঠেলে দিবে। কিন্তু সামনের সেই স্তর আর বস্তুবাদী উৎকর্ষতা হবে না, হবে রুহানি ও বুদ্ধিবৃত্তিক।’

আমার দৃষ্টিতে ইউরোপের এই বস্তুবাদী ইনকিলাবও অদূর ভবিষ্যতে সুনিশ্চিতভাবে মানুষের বৌদ্ধিক ও আত্মিক উৎকর্ষতার ইনকিলাবে পরিবর্তিত হবে। ইউরোপীয়রা এখন যেমন বস্তুগত উন্নতিকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ভাবে, তখন আত্মিক উন্নতিকেও ঠিক তা-ই ভাবতে বাধ্য হবে।

নিঃসন্দেহে আমি হালের বস্তুবাদী ইনকিলাব মন ও প্রাণ দিয়ে সমর্থন করি, এবং এবিষয়ে আমার বক্তব্য হলো : ইউরোপীয়দের দুইশ বছরের বিপ্লব ও সংগ্রাম দুনিয়া জুড়ে তন্ত্র মন্ত্র ও যন্ত্রে যে পরিবর্তনের হাওয়া লাগিয়েছে আর বিজ্ঞান যে মোজেজা দেখিয়েছে, তাকে ইনকার করা মানে আমাদের প্রগতির ওই স্তর থেকে অনেক অনেক পেছনে হটে আসা।

আমি চাই ইউরোপের এই বস্তুবাদী প্রগতিকে গ্রহণ করে নিতে। অর্থাৎ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের উন্নতি আমাদের পার্থিব জীবনের ভিত্তি মজবুত করবে। কিন্তু এর মানে এই নয় বিজ্ঞান আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রের সমাধান বাৎলে দিবে। বিজ্ঞান যে বস্তুগত ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে এ নিয়ে আমার প্রশ্ন নেই, আমার কথা হলো জীবন স্রেফ বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষ অণুর সমষ্টি বটে, কিন্তু অণু রুহের ওপর নির্ভর, এবং সেই রুহ আবার অন্য এক মহাশক্তির ওপর নির্ভর— যিনি ‘হাইয়ুল কাইয়ুম’ (চিরঞ্জীব)।

আমি ম্যাটারিয়ালিস্টিকদের বিশ্বজগৎ সম্পর্কে ধারণাকে ভুল মনে করি না, তবে অবশ্যই অসম্পূর্ণ মনে করি। বস্তুবাদী ধারণা ইনকার করি না, আমি জানি তারা যা বলে তা বস্তুর প্রতিভাস (Phenomenon) সম্পর্কে ঠিক, কিন্তু বস্তুর প্রকৃতরূপ (Noumenon) হলো অবিমিশ্র সত্য— যার জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছে আছে, ইসলামের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘গায়েব’।

জীবন সম্পর্কে বস্তুবাদী ধারণা একপেশে ধারণা, একটি দিকের কথাই বলে কেবল, কিন্তু যথাযথ ও পরিপূর্ণ ধারণা আল্লাহর এই কালামে প্রকাশ পায়— রব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাও ওফিল আ-খিরাতি হাসানা’ (সুরা বাকারা : ২০১)

অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখেরাতেও কল্যাণ দাও।

এই ধারণা বস্তুর প্রতিভাস ও প্রকৃতরূপ দুটোকেই শামিল করে, জীবনের জন্য দুটোর প্রয়োজনই সমান প্রমাণ করে।

সুতরাং উপমহাদেশে ইউরোপের মতো ইনকিলাব হতে আমার কোনো আপত্তি নাই, কিন্তু জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সাহায্যে ইউরোপ যে ভোগবাদী মানসিকতার দিকে চলে গেছে আমি চাই এখানে তা না হোক।

এই ইনকিলাব কেবল বস্তুবাদী ইনকিলাবে সীমাবদ্ধ না থাকুক। আমার দৃষ্টি তো প্রত্যেক মানুষের প্রতি, প্রত্যেকের সম্পর্ক বিশ্বআত্মার সাথে হবে, আর প্রত্যেকেই হবে অভিন্ন— আমি একেই ইসলাম মনে করি। কিন্তু আমার মতে যতক্ষণ না বস্তুজগতের ওপরের মানুষের কর্তৃত্ব এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞান থেকে প্রাপ্ত ফায়দা প্রত্যেকেই সমানভাবে না পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের পরিপূর্ণ ইসলাম ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে।

ইসলামি হুকুমত আল্লাহর নির্ধারিত হুকুমত, আর হুকুমত অর্থ আল্লাহর নেয়ামত আল্লাহর সকল বান্দার মধ্যে ন্যায্যমাফিক হওয়া।

এই ভিত্তির ওপর আমি ইউরোপের বস্তুবাদী ধারণাকে ইসলামের বিপরীত মনে করি না, বরং পরিপূরকরূপে জ্ঞান করি। এবং যতক্ষণ না ইউরোপের বস্তুবাদী ইনকিলাবকে নিজেদের করে না নিব, ইসলামের বিশ্বব্যাপী ইনকিলাবের ধারণা লজ্জাই পাবে কেবল।

সূত্র: মন ও মননের কথা/ মওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদ্মা ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকা বেতনে নিয়োগ

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড। এতে এমটি প্রোগ্রামে ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’ পদে লোক নেবে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদন করা যাবে অনলাইনে, লাগবে না কাজের অভিজ্ঞতা।

পদের নাম: ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।
অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও আবেদন করা যাবে।
কর্মস্থল: যে কোনো স্থান
বয়স: ৩১ অক্টোবর ২০২১ হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর
চাকরির ধরন: ফুল টাইম
বেতন: প্রথম দুই বছরে ৫০,০০০/-, পরে ৬৫,০০০/-

এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ঠিকানা— https://www.padmabankbd.com/career-job-openings

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২১

ভিটামিন ডির ঘাটতি পূরণে কী করবেন?

ভিটামিন ডি শরীরের জন্য খুবই উপকারী একটি উপাদান। এর ঘাটতি হলে শরীরের সামগ্রিক ক্রিয়া নানাভাবে বিঘ্নিত হয়। একটা সময় শরীরে বড় রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

ভিটামিন ডির ঘাটতি বোঝার উপায় ও তার পূরণে করণীয় সম্পর্কে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

তবে তা প্রধানত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে, যাদের ডায়াবেটিস আছে, হৃদরোগ-স্ট্রোক হয়েছে, প্রজনন সমস্যা আছে, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম আছে ও দৈহিক স্থূলতায় আক্রান্ত, এদেরকে নিয়েই আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিককালে গর্ভকালীন সময়ে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা নিয়েও যথেষ্ট গবেষণা হচ্ছে। তবে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ ও অভাবজনিত সমস্যা আলোচনাটি এখনও ব্যাপক মাত্রা পাইনি, যদিও বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্বের দাবিদার।

বাড়ন্তকালে শিশুদের দৈহিক কাঠামো তৈরি করার অন্যতম কাঁচামাল ক্যালসিয়াম- যা শরীরের ভিটামিন ডি দ্বারা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রিত হয়। শিশুদের দৈহিক বৃদ্ধি, দৈহিক স্থূলতা সবকিছু ভিটামিন ডি-র সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট।

বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই কম বয়সী শিশু-কিশোরদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস ক্রমশ বেশি মাত্রায় দেখা দেয়ার পেছনে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি একটি বড় কারণ হয়ে থাকতে পারে। ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে কিছু কিছু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

নাম শুনে ভিটামিন মনে হলেও ভিটামিন ডি আসলে একটি স্টেরয়েড হরমোন। অন্যান্য ভিটামিন যেখানে এন্টি অক্সিজেন বা কো-এনজাইম হিসাবে কাজ করে, ভিটামিন ডি (স্টেরয়েড হরমোন) জিন এক্সপ্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে অর্থাৎ দেহের প্রোটিন তৈরিতে নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকায় থাকে।

প্রাণিজ ও উদ্ভিদজাত স্টেরল ও ফাইটোস্টেরল থেকে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মি দ্বারা রূপান্তরিত হয়ে দেহে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। ভিটামিন ডি-২ ও ভিটামিন ডি-৩ মানব দেহে থাকে।

ভিটামিন ডি-র পরিমাপ

রক্তের সিরামে ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরিমাপ করা হয়। একজন হরমোন বিশেষজ্ঞ বা অন্য কোনো চিকিৎসক যখন রোগীর দেহে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি সন্দেহ করলে তার রক্তের ভিটামিন ডি [২৫(ঙঐ)উ] পরিমাপ করার উদ্যোগ নেবেন।

তবে ভিটামিন ডি ঘাটতি ও পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি নিরূপনের জন্য রক্তের ক্যালসিয়াম, প্যারাথায়রয়েড হরমোন ও ফসফরাসের মাত্রাও দেখে নিতে হয়। রোগীর দেহে প্রাপ্ত ভিটামিন ডি-র মাত্রা অনুসারে তাকে যে কোনো দলভুক্ত করা হয়-

ভিটামিন ডি- ভিত্তিক শ্রেণী রক্তে ভিটামিন ডি-র

মাত্রা (হম/সখ)

সর্বোচ্চ কাক্ষিত মাত্রা ১০০

আদর্শ মাত্রা ৫০-১০০

পর্যাপ্ত ৩০-৭০

ঘাটতি <৩০

মারাত্মক ঘাটতি <১০

মাত্রাতিরিক্ত >১৫০

রক্তে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি থাকলে একই সঙ্গে রক্তে ক্যালসিয়াম, প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম এবং রক্তে ফসফেটের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। সূর্যরশ্মি ভিটামিন ডি তৈরি করতে যেমন সহায়ক, তেমনই অতিরিক্ত ভিটামিন ডি ধ্বংস করতে ভূমিকা রাখে।

তাই শুধু সূর্যরশ্মি থেকে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরে জমানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে। অর্থাৎ শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি জমার কারণ প্রধানত অতিরিক্ত পরিমাণ ভিটামিন ডি খাওয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি ইনজেকশন, ক্যাপসুল অথবা বিভিন্ন রকম খাদ্যে ভিটামিন ডি যুক্ত করে (ভিটামিন ডি ফর্টিফায়েড) খাবার খেয়ে অতিরিক্ত ভিটামিন ডি দেহে জমা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এদের ক্ষেত্রে শরীরে ভিটামিন ডি-র পরিমাণ বেড়ে গেলে যে লক্ষণগুলো দেখা দেবে তা প্রধানত রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলো শারীরিক দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধা মন্দা, বমি ভাব অথবা বমি হওয়া ইত্যাদি। এ সময় রক্তের ক্যালসিয়াম মাপলে ১৩.৪-১৮.৮ মিলিগ্রাম/ ডেসি লিটার এর মধ্যে থাকতে পারে।

ভিটামিন ডি [25(OH)D] 340-962 নেনোগ্রাম হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত মাত্রার চেয়ে ৪ হাজার গুণ বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি যুক্ত মুখে খাবার ওষুধ, ভিটামিন ডি-র ফর্টিফায়েড খাদ্যগুলো খাওয়া বন্ধ রেখে প্রচুর পানি পান করলে তিন দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত ভিটামিন ডি-র প্রভাবজনিত লক্ষণগুলো দূর হবে এবং ক্রমেই শরীরে এর মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকবে। তবে পরে এ ঘটনার যেন পুনঃরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে খুব দ্রুত কোনো শারীরিক লক্ষণ দেখা দেবে না। বিভিন্ন রকম অসম্পৃক্ত (আপাতদৃষ্টিতে) শারীরিক সমস্যা নিয়ে শিশু-কিশোরদের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

সাধারণত শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথা (মাংস, হাড় ও অস্থিসন্ধিতে) দ্রুত দৈহিক ওজন বৃদ্ধি পাওয়া, কাক্সিক্ষত দৈহিক উচ্চতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া। বালিকাদের ক্ষেত্রে মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা সঠিক সময়ে মাসিক শুরু না হওয়া। বালকদের ক্ষেত্রে বয়োসন্ধিকাল শুরু হতে দেরি হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ বা উপসর্গ থাকতে পারে।

অর্থাৎ ভিটামিন ডি-র ঘাটতি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে যে কোনো লক্ষণকে গুরুত্ব দিয়ে রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা নিরূপণের উদ্যোগ নিতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির মাত্রা বিভিন্ন রকম।

কিন্তু সব দেশেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশের বেশি (শিশু ৬-১৮ বছর বয়সী) ভিটামিন ডি-র মারাত্মক ঘাটতিতে আক্রান্ত।

এক্সরেতে এসব শিশুর ঘাড়ের ঘনত্ব কম দেখা গিয়েছে। আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি মাত্রায় হবে ধারণা করা গেলেও বর্তমান সময়ে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান জানা নেই।

ভিটামিন ডি-র উৎস

উৎস পরিমাণ ভিটামিন ডি-র

উপস্থিতি (ওট)

সূর্যরশ্মি শরীরের ভিটামিন ডি-র চাহিদার

৮০ শতাংশের বেশি ত্বকে

সূর্যরশ্মি পতিত হওয়ার কারণে

তৈরি হয়।

খাদ্য উপাদান ৩.৫ আউন্স ৬০০-১০০০

স্যালমন ফিশ ৩.৫ আউন্স ১০০-২৫০

সার্ডিন (কৌটাজাত) ৩.৫ আউন্স ৩০০

টুনা (কৌটাজাত) ৩.৫ আউন্স ২৩৬

ম্যাকারেল (কৌটাজাত) ৩.৫ আউন্স ২৫০

তাজা মাশরুম ৩.৫ আউন্স ১০০

কৌটাজাত মাশরুম ৩.৫ আউন্স ১৬০০

ডিম (সিদ্ধ) ৩.৫ আউন্স ২০

টক দই ১৭৫ গ্রাম ৫৮-৭১

গরুর কলিজা (রান্না করা) ৭৫ গ্রাম ৩৬

৪০ ওট ভিটামিন ডি-র কার্যকারিতা ১ মাইক্রোগ্রাম সমতুল্য।

সূর্যালোক থেকে ভিটামিন ডি পেতে হলে মার্চ-অক্টোবর মাসের (অন্যান্য মাসগুলোতে আরও বেশি সময় ধরে) প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট রোদ পোহাতে হবে যখন শরীরের ১৮ শতাংশের বেশি অংশে রোদ লাগবে।

১-৭০ বছর বয়সী মানুষের গড়ে প্রতিদিন ৬০০ ওট এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৮০০ ওট ভিটামিন ডি গ্রহণ করা দরকার।

কাদের ভিটামিন ডি ওষুধ হিসেবে খেতে হবে

* নবজাতক যারা শুধুই মায়ের দুগ্ধ পান করছে ও যারা ১০০০ মিলিলিটারের কম শিশুখাদ্য গ্রহণ করে।

* শিশু-কিশোর যারা অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা নগরে বা অস্বাস্থ্যকর শহরে (ঢাকা অন্যতম) বসবাস করছে।

* দৈহিক স্থূল শিশু-কিশোর যাদের ত্বকের বিভিন্ন অংশে মকমলের মতো কালো অংশ দেখা দিচ্ছে।

* ধর্মীয় বা অন্য কারণে পোশাকে প্রায় সারাদেহ আবৃত শিশু-কিশোর।

* খাদ্য নালীর সমস্যার কারণে হজম ও বিপাকীয় কার্যক্রম হ্রাস পেলে।

* প্রাতিষ্ঠানিক জীবনযাপন (হেস্টেল, হাসপাতাল বা অফিস) যাতে রোদে যাওয়ার সুযোগ কমে যায়।

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি খুব বেশি হলে ৪০ হাজার ওট সপ্তাহে এবং পরে মাসে একটি করে ভিটামিন ডি ক্যাপসুল খেয়ে যেতে হবে। ঘাটতি কম হলে ২০ হাজার ওট ক্যাপসুল যথেষ্ট হতে পারে।

ভিটামিন ডি-র ঘাটতি থাকলে তো বটেই, অন্য ক্ষেত্রেও, সব সূর্যালোকে যেতে হবে নিয়মিত। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশে প্রচলিত খাদ্যগুলোতে ভিটামিন ডি-র উপস্থিতি খুবই কম, তারপরও যেসব খাদ্যে ভিটামিন ডি-র কিছু পরিমাণে উপস্থিতি আছে তা যতটা সম্ভব নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

পরীক্ষা শেষ না হতেই হাতে হাতে ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র!

বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় ৫ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০০টি প্রশ্নের প্রিন্ট করা উত্তরপত্র ফেসবুকে পাওয়া গেছে।

শনিবার বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ১৫১১টি পদের বিপরীতে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন চাকরিপ্রত্যাশী।

ফেসবুকে উত্তরপত্র পাওয়ার ঘটনায় চাকরিপ্রার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন— পরীক্ষা ৪টার সময় শেষ হওয়ার ৫-১০ মিনিটের মধ্যেই ১০০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের প্রিন্ট কপি কীভাবে ফেসবুকে পাওয়া সম্ভব। এটা অবশ্যই আগে প্রিন্ট করে সরবরাহ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থীর দাবি, প্রশ্ন ফাঁস না হলে এটা হওয়া সম্ভব নয়।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কামাল নামে এক চাকরিপ্রত্যাশী বলেন, যদি টাকা দিয়েই পরীক্ষার উত্তরপত্র পাওয়া যায় তাহলে এত কষ্ট করে পড়ে লাভ কী। আর এ নিয়োগে পদ দেড় হাজারেরও বেশি। এত বড় একটি নিয়োগে যদি এ ধরনের অনিয়ম হয় তাহলে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

একাধিক পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করেই বিভিন্ন অখ্যাত প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। আর এর ভোগান্তি আমাদেরই পোহাতে হচ্ছে।

রুবেল নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, এমনিতেই করোনায় জীবন থেকে নিয়ে গেছে আড়াই থেকে তিন বছর। তারপর সরকার চাকরির বয়সসীমা বাড়ায়নি। তার ওপর আবার যদি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে তাহলে আমাদের উপায় কী?

পরীক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির জিএম আজিজুল হককে একাধিকবার তার অফিসিয়াল নাম্বারে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটিতে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, উত্তরপত্রটির বিষয়ে আমরাও অবগত হয়েছি। তবে উত্তরপত্রটি কখন সবার হাতে এসেছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারেননি। আবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিন্ট করা উত্তরপত্র ফেসবুকে আসা এটিও একটি অস্বাভাবিক বিষয়। তারপরও আমরা এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অসঙ্গতি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের পদাবনতি

শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে অসঙ্গতি সংক্রান্ত শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিক্ষক সম্রাট কুমার দে’কে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে যবিপ্রবির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামের রিজেন্ট বোর্ডের ৭২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈশ্বিক মহামারির কারণে সদস্যদের অনেকে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এবং অনেকে সশরীরে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাধারণ আচরণ, শৃঙ্খলা ও আপিল সংক্রান্ত বিধি অনুযায়ী সম্রাট কুমার দে গুরুদণ্ড প্রাপ্য হওয়ায় তাকে বর্তমান পদ থেকে নিম্নপদে বা নিম্নতর বেতনক্রমে অবনতকরণ এবং আগামী দুই বছর তিনি সহকারী অধ্যাপকের জন্য পদন্নোতির আবেদন করতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার শুরুতে রীতি অনুযায়ী যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও যেন ঝরে না পড়ে এবং কোনো ক্লাস যেন মিস না করে, এজন্য শারীরিক ও ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আগামী বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে আমরা ‘ব্লেন্ডেড লার্নিং সিস্টেম’-এ চলে যাচ্ছি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি বিভাগের প্রত্যেকটিতে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করি, এ পদ্ধতিতে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিবান্ধব, দক্ষ, যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।

ব্যয় ভোগান্তির মুখে ৩ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিস্তার নেই। ব্যয় এবং ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে সরকার গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। কিন্তু এই দ্বৈত খপ্পর থেকে তারা বের হতে পারেনি। একবার ১২শ’ টাকা করে ফি দিয়ে তারা কেন্দ্রীয় পরীক্ষা দেয়। সেই ফল নিয়ে এখন আবার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে আরেক দফা ফি গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের মাথায় হাত পড়েছে। এই সংকট উত্তরণে তারা সরকারের ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী বলছেন, লাভ হয়েছে একটিই। তা হচ্ছে, বারবার পরীক্ষা দিতে হচ্ছে না। কিন্তু ব্যয় কোনো অংশে কমেনি। বরং বেড়েছে। একই অবস্থা ভোগান্তির ক্ষেত্রেও। যদি মেডিকেলে ভর্তির মতো অভিন্ন পরীক্ষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম এবং পছন্দ তালিকা ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ বণ্টন করে দেওয়া হতো তাহলে তারা খরচ এবং এক ক্যাম্পাস থেকে আরেক ক্যাম্পাসে দৌড়ানোর ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘কমিটির দায়িত্ব ছিল পরীক্ষা নিয়ে জিআরই-টোফেলের মতো শিক্ষার্থীদের একটা সমন্বিত স্কোর দেওয়া। যে কারণে আমরা কোনো পাশ-ফেলের ফল না দিয়ে কে কত পেয়েছে সেটি প্রকাশ করেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক কাউন্সিল ও ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্কুলার দিয়ে ভর্তি করবে। শিক্ষার্থীরা এখানে সবচেয়ে বড় যে সুবিধা পেয়েছে সেটি হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয় বা অনুষদ ও বিভাগ ধরে পরীক্ষা দেওয়া লাগছে না। তিনটি পরীক্ষা দিয়ে তিন গুচ্ছের (জিএসটি, কৃষি এবং প্রকৌশল) ত্রিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। পরীক্ষা কমে যাওয়ার কারণে তাদের ব্যয় এবং ভোগান্তি কমেছে। সুতরাং এ দুটি বেড়েছে-এমন পর্যবেক্ষণ সঠিক নয়।’

সরকারি ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছের নাম ‘জিএসটি’ (জেনারেল, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি)। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি করবে। এ ক্ষেত্রে অন্য শর্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ঠিক করতে পারবে। ১২শ টাকা ফি দিয়ে এই পরীক্ষায় আবেদন করতে হয়েছিল ভর্তিচ্ছুদের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা ফি নেবে কিনা সেটি আগে আলোচনা হয়নি। প্রথমে এই ফি ৬শ টাকা নির্ধারণের কথা ছিল। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে কম আবেদনকারী পাওয়ায় খরচ পোষাতে গিয়ে পরে ফি বাড়ানো হয়। ৩ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে আবেদন করেছিল।

ভর্তিচ্ছুরা বলছেন, শুরুতে তারা ভেবেছিলেন, খরচের পর্ব এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই তারা ১২শ টাকা খরচ করা নিয়ে আপত্তি তোলেননি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, খরচ আগের মতোই আছে। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আগের মতোই অর্থ আদায়ে নেমেছে। আগে ফি নিয়ে পরীক্ষা নিত। অর্থাৎ পরীক্ষার ব্যয় বাবদ কিছু শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয় করত। এখন কেবল আবেদন মূল্যায়ন করে মেধাক্রম তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ধার্য শুরু হয়েছে। অবস্থা এমন যে, কোথাও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের অনুষদ ধরে আবেদন করে একাধিক দফায় ফি পরিশোধ করতে হবে। অথচ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের যেমন একটি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, তেমনি একটি আবেদন ও একবার ফি নেওয়া হলেও কিছু সাশ্রয় হতো। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আগের মতোই ভর্তির সুযোগ নিশ্চিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেক বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন নিয়ে ছুটতে হবে। অথচ মেডিকেল কলেজে ভর্তির মতো পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বণ্টন করে দিলে এই ঝক্কি হতো না।

শিক্ষার্থীদের উল্লিখিত অভিযোগের প্রমাণ মেলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সার্কুলার থেকে। প্রতিষ্ঠানটি গত ৩ নভেম্বর সার্কুলার জারি করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, অনুষদভিত্তিক ৬৫০ টাকা আবেদন ফি ধার্য করেছে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪টি অনুষদ আছে। এখন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করতে চাইলে তাকে ২৬শ টাকা দিয়ে আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেবে।

তুহিন হোসেন নামে এক প্রার্থী ফোন করে যুগান্তরকে বলেন, এখন যদি প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এই কাজ শুরু করে তাহলে একজন শিক্ষার্থীর ২৫-৩০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাবে। কেননা কোথায় ভর্তির সুযোগ হবে তা আগাম কারও পক্ষে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে হবে। বিশেষ করে, যেসব ভর্তিচ্ছু তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েছে এবং যাদের এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ কম, তাদের ঝুঁকিমুক্ত থাকতে এই কাজটি বেশি করতে হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক ছাত্রী যুগান্তরকে জানান, পরীক্ষা নিতে প্রশ্ন তৈরি, মুদ্রণ, উত্তরপত্রের কাগজ কেনাসহ নানান খরচ আছে। এখন সেই খরচ না থাকার পরও যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অস্বাভাবিক হারে ফি নির্ধারণ করে তাহলে তো বলতেই হবে-অতিরিক্ত টাকা কামানোর মোহ থেকে সংশ্লিষ্টরা এখনো ফিরে আসতে পারেননি।

তরিকুল ইসলাম নামে একজন জানান, ‘ভর্তিচ্ছুদের অনেককেই একাধিক অনুষদে আবেদন করতে হবে। একটি হচ্ছে, নিজে যেই বিভাগে এইচএসসি পাশ করেছে সেটির পাশাপাশি বিভাগ পরিবর্তনের জন্য পছন্দের এক বা একাধিক অনুষদে আবেদন করবে। আর এমনটি হলে এক শিক্ষার্থীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন বাবদই ২ হাজার টাকা ব্যয় হবে। ফলে কেউ ১০টিতে আবেদন করলে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। এর বাইরে যাতায়াত ব্যয় তো আছেই। এতে উচ্চশিক্ষায় ভর্তিটা দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের জন্য আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফরিদউদ্দিন বলেন, ‘অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় আমার জানা নেই। তবে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বিভাগের শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটিই আবেদন নেব। এজন্য একটিই ফি নেওয়া হবে। বিভাগ পরিবর্তনের বিষয়টিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

পুনঃনিরীক্ষা আজ থেকে : এদিকে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় ফল নিয়ে অসন্তুষ্টদের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন আজ নেওয়া শুরু হবে। এর জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আজ (রোববার) সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানালেন অভিনেত্রী নাজিফা

আবারও বিয়ে করেছেন দেশের টিভি নাটকের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাফিজা জাহান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দিয়ে নিজেই তিনি এই বিয়ের খবর জানিয়েছেন।

বর রাজীব হাসান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। নাজিফা জাহান নিজেও বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।

শুক্রবার শাড়ির ঘোমটা দেওয়া একটি ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে নাজিফা লেখেন, তোমার সঙ্গে দেখা না হলে, ভালোবাসার দেশটা আমার দেখা হতো না। এরপরই কানাঘুষা শুরু হয়।

এর আগে নাফিজা জাহান দীপ নামের এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীকে বিয়ে করেন।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর নাফিজা সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। শনিবার সকালে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

স্বামী রাজীব হাসানের সঙ্গে তোলা একটি ছবি দিয়ে লেখেন, পূর্বের সংসারে দীর্ঘ সময় পূর্ব থেকে ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য আমার পক্ষের প্রচেষ্টা কেউ দেখতে পায়নি। আমার প্রতিদিনের সকালের শুরুটাও কেউ দেখেনি, আর সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে গভীর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার দৃশ্যটাও কেউ দেখেনি। সবকিছু সবাই দেখতে পায় না। এমনকি আমরা ইচ্ছা করেও সব কিছু প্রকাশ্যে আনি না সমাজের লোকেদের মন্তব্যের ভয়ে। বেঁচে থাকার জন্য সবাই সংগ্রাম করে আর আমিও ব্যতিক্রম নই।

নাফিজা আরও লেখেন, যারা সবার বেলায় মনগড়া মন্তব্য করেন তারা আমার স্থানে নিজেকে বসিয়ে একবার চিন্তা করবেন আশা রাখি। দ্বিতীয় বিবাহ জগতে এইটাই প্রথম না।

নাফিজার বিয়ের খবরে শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

‘জীবনটা কফির মতো’

দীর্ঘ সময় ধরেই অভিনয় অঙ্গনে অবস্থান করছেন মডেল ও অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। ছোটপর্দায় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন অল্প সময়েই।

ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যায় পতিত হলে হোঁচট খান এই অভিনেত্রী। তবে অল্প দিনের বিরতির পর ফিরে আসেন চিরচেনা অভিনয় জগতে। তারপর থেকে নাটকেই অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি।

আলোচিত অভিনেত্রী প্রভা যে চমৎকার গান করতে জানেন, তা অজানা ছিল অনেকের। সম্প্রতি প্রিয় শিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের গাওয়া ‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’ গানটি গেয়েছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও সরব প্রভা। নিয়মিত সেখানে ছবি পোস্ট করে থাকেন এই অভিনেত্রী। ইনস্টাগ্রাম ছবি পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে তার ভক্তরা হুহু করে লাইকের বন্যা বয়ে দেন।

ইনস্টাগ্রামের সর্বশেষ পোস্টে লাস্যময়ী ভঙ্গিমায় তোলা একটি ছবি পোস্ট করেছেন প্রভা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কফিতে চুমুক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ক্যাপশনে লিখেছেন- ‘জীবন হলো কফির মতো। এটি যত গাঢ় হয়, তত বেশি শক্তি জোগায়।’

বলার অপেক্ষা রাখে না, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই মূল্যবান এই মন্তব্য করেছেন প্রভা। জীবনের নানা রঙ দেখেছেন তিনি। মসৃণ পথচলায় হোঁচট খেয়েছেন, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন।

ভালো-মন্দ দুই সময়ে নিজের আশেপাশের মানুষ ও পরিবেশ ভালোভাবে অনুভব করেছেন। সেই সুবাদে জীবন নিয়ে তার অভিজ্ঞতাও বেশ স্পষ্ট।

টানা তিন ছক্কায় বিধ্বস্ত রাবাদার হ্যাটট্রিকে প্রতিশোধ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আজ বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডকেও হারাল তারা।

কিন্তু লাভ হলো না তাতে। হাসি ফুটল অ্যারন ফিঞ্চদের মুখে। দিনের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল অসিরা।

কারণ ইংল্যান্ডকে ১৩১ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলেই সেমিফাইনালের দুয়ার খুলত প্রোটিয়াদের।

কিন্তু তা আর হয়নি। কাগিসো রাবাদাকে ১৬তম ওভারে ছক্কার হ্যাটট্রিক হাঁকিয়ে প্রোটিয়াদের সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেন লিয়াম লিভিংস্টোন। তার দ্বিতীয় ছক্কার পরই ১৩১ পেরিয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিশ্চিত হয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সঙ্গী হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

এর পর থেকে বাকিটা সময় ছিল আনুষ্ঠানিকতার। আর সেই আনুষ্ঠানিকতা রাবাদা সাড়লেন প্রতিশোধ নিয়ে।

ছক্কার হ্যাটট্রিকে তুলোধোনা হওয়ার পর নিজের শেষ ওভারে উড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের তিন উইকেটে। টানা তিন বলে।

ভয়ংকর হয়ে ওঠা ক্রিস ওকসকে ফেরালেন, এরপরের দুই বলে ইয়ন মরগান আর ক্রিস জর্ডানকেও।

রাবাদার এই হ্যাটট্রিকের কারণে থমকে যায় ইংলিশদের ইনিংস। শেষ ওভারের প্রয়োজনীয় ১৪ রান আর তুলতেই পারল না তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ছোড়া ১৯০ রানের লক্ষ্য পার করতে গিয়ে ৮ উইকেটে ১৭৯ রানে থামে ইংল্যান্ড। ১০ রানে জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

যে জয় হতাশার কিংবা সান্ত্বনার। তবুও প্রাপ্তি রাবাদার ওই হ্যাটট্রিক।

৩৪ মিনিটে ৩ গোল দিয়েও ড্র নিয়ে ফিরল বার্সেলোনা

পাঁচ ম্যাচে মাত্র এক জয় নিয়ে শনিবার সেল্তা ভিগোর মাঠে নেমেছিল বার্সেলোনা।

বালাইদোসের স্টেডিয়ামে ৩৪ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল কাতালানরা। এমন দুরন্ত খেলা কতদিনে দেখেনি বার্সা সমর্থকরা। এ যেন মেসি ভর করছে খেলোয়াড়দের মাঝে।

কিন্তু কোথায় কী! দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই বার্সা সমর্থকদের সব সুখস্মৃতি হাওয়ায় উড়িয়ে দিল সেল্তা।

যোগ করা মাত্র পাঁচ মিনিট সময়ের পঞ্চম মিনিটে গিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করে ফেলল তারা!

প্রথমার্ধে ৩-০তে এগিয়ে থাকা বার্সা মাঠ ছাড়ল ড্র নিয়ে। এ কী ভাবা যায়? চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরল বার্সা সমর্থকরা

ড্রয়ের হতাশাকে আরো বাড়িয়ে দিল আনসু ফাতির চোট। ৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ তারকাকে ফের মাঠের বাইরে থাকতে হবে।

প্রথমার্ধে মাঝমাঠে দারুণ খেলেছেন নিকো গঞ্জালেস। ফাতি-মেম্ফিসরা ছিলেন ক্ষুরধার। ৫ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে দারুণ বাঁকানো শটে ফাতি লিড নেন ।

১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুন করেন বার্সা অধিনায়ক ব্যববুসকেতস। ৩৪ মিনিটে বার্সার তৃতীয় গোলটি আসে মেম্ফিসের পা ছুঁয়ে।

৩-০ গোলের ব্যবধানে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বিরতিতে যায় বার্সা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই এ যেন অন্যরকম সেল্তা। একের পর এক আক্রমণে বার্সাকে ব্যাতিব্যস্ত করে রাখে বার্সা।

৫০ মিনিটে গালার্দোর শট জালে জড়ালেও গোল বাতিল হয় অফসাইডে। ৫২ মিনিটে বার্সা গোলরক্ষব টের স্টেগেনের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান ইয়াগো আসপাস।

৬৯ মিনিটে সেল্তার নোলিতো বল জালে জড়ালেও হ্যান্ডবলের কারণে গোল বাতিল হয়। ৭৪ মিনিটে দারুণ হেডে করেন সেল্তার দ্বিতীয় গোল সেই নোলিতোই।

৩-২ ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে বার্সা এমনটাই ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে সব হিসাব-নিকাষ ওলট-পালট করে দেন আসপাস।

৯৫ মিনিটে আসপাসের শটেই সমতাসূচক তৃতীয় গোলটি পা সেল্তা।

এ ফলাফলের পর ৬ ম্যাচে মাত্র এক জয়ে লিগে ১২ ম্যাচ শেষে এখন ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ৯ নম্বরে বার্সা। ১২ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রিয়াল সোসিয়েদাদ। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে রিয়াল মাদ্রিদ। তিন নম্বরে থাকা সেভিয়ারও পয়েন্ট ১২ ম্যাচে ২৪।