বৃহস্পতিবার ,৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 645

বিদ্রোহীতে ধরাশায়ী আ.লীগ প্রার্থীরা

দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এ ধাপে প্রায় ২৫ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীরা চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়েছেন।

নৌকা প্রতীকে দলীয় প্রার্থীর জয়ের হার ৫৬ শতাংশ। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা একইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সুবিধা পেয়েছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের জয়ের হার ৯ শতাংশ।

যুগান্তরের ব্যুরো ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো ৬৪৭টি ইউনিয়ন পরিষদের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৪৮৬ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭৮ জন জয়ীসহ), স্বতন্ত্র ৩৩০, জাতীয় পার্টি ১০ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ৪টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একটি করে ইউনিয়নে জয় পেয়েছে। এ ধাপে ভোট পড়ার হার ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

যুগান্তরের ব্যুরো ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে আরও দেখা গেছে, ৪৬ জেলার ৬৪৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ৩৬১টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এ হিসাবে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন প্রায় ৫৬ শতাংশ ইউপিতে। অপরদিকে এসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১৬০টিতে; যা প্রায় ২৫ শতাংশ।

এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীকে কোনো প্রার্থী দেয়নি। দলটির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৫০টিতে ও জামায়াতের ৬ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ দুটি দল মিলিয়ে প্রায় ৯ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে জয় পেয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলে বিদ্রোহীদের আধিক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধরণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে বা তারা অংশ নিলে আওয়ামী লীগের এতসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকত না।

যেহেতু বড় দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তাই আমাদের দলের অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী নির্বাচনের মাঠে থেকে গেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ে ত্রুটি ছিল কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ত্রুটির বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী ও বড় দল। এখানে একই ইউনিয়নে অনেক যোগ্য প্রার্থী থাকে। তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তবে যারা শৃঙ্খলা ভেঙে নির্বাচন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দেশের ৬৩টি জেলার ৮৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাতজন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক।

ওইদিনই ভোটের পর স্থানীয়ভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোট হওয়া ৮৩৪টির মধ্যে কয়েকটির ফলাফল স্থগিত রয়েছে। সেসব ইউনিয়ন পরিষদের ফলাফল একীভূত করার পর প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

আমাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : খুলনায় ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, ১০টিতে একই দলের বিদ্রোহী ও ৫টিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

নড়াইলের ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৮টিতে আওয়ামী লীগ, ৪টিতে বিদ্রোহী ও একটিতে বিএনপি জয়ী হয়েছে। ঝিনাইদহের ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে ৬টিতেই সরকারি দলের বিদ্রোহীরা জয়ী হয়েছেন।

বাকি ছয়টিতে দলীয় প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। সাতক্ষীরার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতেই বিদ্রোহী ও তিনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এ জেলায় একটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াত নেতারা চেয়ারম্যান হয়েছেন।

রংপুরের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের তিনটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে বিএনপি, একটিতে জাতীয় পার্টি ও একটিতে জামায়াত জয়ী হয়েছে। যশোরের ২২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ১৩টিতে আওয়ামী লীগ, ৬টিতে একই দলের বিদ্রোহী ও তিনটিতে বিএনপির নেতারা জয়ী হয়েছেন।

মেহেরপুরে ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের সাতটিতে বিদ্রোহী জয়ী হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন মাত্র দুটিতে। চুয়াডাঙ্গার চারটি ইউনিয়ন পরিষদের দুটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় ও দুটিতে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া মাগুরায় দুজন, কুষ্টিয়ায় ৭ জন, বগুড়ায় তিনজন, ফরিদপুরে ৫ জন, রাজশাহীতে ৬ জন, সুনামগঞ্জে ৬ জন, ঢাকা জেলায় ৭ জন, শরীয়তপুরে ৪ জন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের চার জেলায় ২২ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

একইভাবে কুমিল্লা ও আশপাশের ছয় জেলায় ১৩ জন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫ জেলায় তিনজন, নরসিংদীতে ছয়জন, পাবনায় দুজন, লালমনিরহাটে একজন, সিলেট অঞ্চলের তিন জেলায় ১০ জন ও গাইবান্ধায় তিনজন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

নাটোর : জেলার দুটি উপজেলার ১২ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭, বিদ্রোহী ৪ ও বিএনপি (স্বতন্ত্র) ১ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন।

নাটোর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিতরা হলেন-ছাতনী ইউপিতে তোফাজ্জল হোসেন সরকার, তেবাড়িয়ায় ওমর আলী প্রধান, দিঘাপতিয়ায় কাজী শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ, বড় হরিশপুরে ওসমান গণি ভুঁইয়া।

এ উপজেলায় নির্র্বাচিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন-হালসায় শফিকুল ইসলাম শফিক, লক্ষ্মীপুর খোলাবাড়িয়ায় নূরুজ্জামান কালু। কাফুরিয়ায় বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে বড়াইগ্রাম উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিতরা হলেন-বড়াইগ্রামে মমিন আলী, চান্দাইয়ে শাহনাজ পারভীন ও গোপালপুরে আবু বকর সিদ্দিক। এ উপজেলায় নির্বাচিত বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন-জোনাইলে আবুল কালাম আজাদ ও নগর ইউপিতে মস্তোফা সামসুজ্জোহা।

পাবনা : পাবনার সুজানগর উপজেলায় ১০ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৮ ও বিদ্রোহী ২ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা হলেন-ভায়নায় আমিন উদ্দিন (আ.লীগ), দুলাইয়ে সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান (আ.লীগ), তাঁতিবন্দে আব্দুল মতিন মৃধা (আ.লীগ), সাগরকান্দিতে শাহিন চৌধুরী (আ.লীগ), মানিকহাটে শফিউল ইসলাম শফি (আ.লীগ), রানীনগরে বিএম তৌফিকুল আলম পিজুষ (আ.লীগ), নাজিরগঞ্জে মশিউর রহমান খান (আ.লীগ), সাতবাড়িয়ায় আবুল হোসেন (বিদ্রোহী), হাটখালীতে ফিরোজ আহম্মেদ (বিদ্রোহী), আহম্মদপুরে কামাল হোসেন (আ.লীগ)।

দিনাজপুর : জেলার হাকিমপুর ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৬ ও বিএনপির ২ ও স্বতন্ত্র ১ চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। হাকিমপুরে খট্রামাধাবপাড়ায় কাউছার রহমান (স্বতন্ত্র), বোয়ালদাড়ে সদরুল ইসলাম (আ.লীগ) ও আলীহাটে আবু সুফিয়ান (আ.লীগ) বিজয়ী হয়েছেন। বোচাগঞ্জ উপজেলায় নাফানগরে শাহনেওয়াজ পারভেজ (বিএনপি), ঈশানিয়ায় উৎপল রায় বুলু (আ.লীগ), মুর্শিদহাটে ওয়াক্কাস কাঞ্চন (বিএনপি), আটগাঁও-এ নুরুন্নবী চৌধুরী (আ.লীগ), ছাতইলে হাবিবুর রহমান হাবু (আ.লীগ) ও রনগাঁও-এ নিমাই চন্দ্র দেবশর্মা (আ.লীগ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

শরীয়তপুর : সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩ বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। আংগারিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, রুদ্রকরে সিরাজুল ইসলাম ঢালী (আ.লীগ), তুলাসারে জামাল ফকির (আ.লীগ), ডোমসারে মজিবুর রহমান খান (স্বতন্ত্র), শৌলপাড়ায় মোহাম্মদ ভাষান (বিদ্রোহী), পালং-এ কেএম আজারুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) ও মাহমুদপুরে শাজাহান ঢালী (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হয়েছেন।

খুলনা : জেলার ২৫ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ১০, বিদ্রোহী ১০ ও বিএনপির ৫ স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। রূপসা উপজেলার আইচগাতীতে আশরাফুজ্জামান বাবুল (আ.লীগ), শ্রীফলতলায় ইসহাক সরদার (আ.লীগ) ও টিএস বাহিরদিয়ায় জাহাঙ্গীর শেখ (আ.লীগ), বিজয়ী হয়েছেন। ফুলতলা উপজেলার সদর ইউপিতে শেখ আবুল বাশার (বিএনপি), জামিরায় সরদার মনিরুল ইসলাম (বিদ্রোহী), দামোদরে শরীফ মো. ভূঁইয়া শিপলু (আ.লীগ), আটরা গিলাতলায় শেখ মনিরুল ইসলাম (আ.লীগ), নির্বাচিত হয়েছেন। ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুরে মনোজিত বালা (বিদ্রোহী), মাগুরখালীতে বিমল কৃষ্ণ সানা (আ.লীগ), খর্ণিয়ায় শেখ দিদারুল ইসলাম দিদার (বিএনপি), ধামালিয়ায় জহুরুল হক (বিএনপি), আটলিয়ায় শেখ হেলাল উদ্দিন (বিএনপি), ভান্ডারপাড়ায় গোপাল চন্দ্র দে (বিদ্রোহী), রুদাঘরায় বিদ্রোহী তৌহিদুজ্জামান, রংপুরে বিদ্রোহী সমরেশ মন্ডল, ডুমুরিয়া সদরে বিদ্রোহী গাজী মো. হুমায়ুন কবীর বুলু, শোভনায় বিদ্রোহী সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য, শরাফপুরে বিদ্রোহী শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মাগুরঘোনায় আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম হেলাল, গুটুদিয়ায় বিদ্রোহী শেখ তুহিনুল ইসলাম ও সাহস ইউপিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মাহবুবুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। বটিয়াঘাটা সদর ইউপিতে আওয়ামী লীগের পল্লব কুমার বিশ্বাস, ভান্ডারকোট ইউপিতে বিদ্রোহী ওবায়দুল্লাহ শেখ ও সুরখালী ইউপিতে আওয়ামী লীগের এসকে জাকির হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ : বাজিতপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন-হুমাইপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম ধনু, দিলালপুর ইউনিয়নে গোলাম কিবরিয়া নোভেল, বলিয়ার্দী ইউনিয়নে আবুল কাসেম (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), সরারচর ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান স্বপন, হালিমপুর ইউনিয়নে উমর ফারুক রাসেল (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), হিলচিয়া ইউনিয়নে মাযহারুল হক নাহিদ, দিঘীরপাড় ইউনিয়নে আব্দুল কাইয়ুম, পিরিজপুর ইউনিয়নে জাফর ইকবাল জুয়েল, মাইজচর ইউনিয়নে তাবারক মিয়াজি (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়), গাজিরচর ইউনিয়নে মো. জুয়েল মিয়া ও কৈলাগ ইউনিয়নে কায়সার এ হাবিব।

করিমগঞ্জ উপজেলায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন-জাফরাবাদ ইউনিয়নে আবু সাদাৎ মো. সায়েম (আওয়ামী লীগ), গুজাদিয়া ইউনিয়নে সৈয়দ মাসুদ (আওয়ামী লীগ), কিরাটন ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম (জাতীয় পার্টি), কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নে আরিফ উদ্দিন আহম্মেদ কনক (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), দেহুন্দা ইউনিয়নে এমএ হানিফ (স্বতন্ত্র-আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), বারঘরিয়া ইউনিয়নে কামরুল আহসান কাঞ্চন (আওয়াম লীগ), গুণধর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবু ছায়েম রাসেল (আওয়ামী লীগ), জয়কা ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), নোয়াবাদ ইউনিয়নে মোস্তফা কামাল (স্বতন্ত্র-বিএনপি সমর্থক), সুতারপাড়া ইউনিয়নে একটি কেন্দ্র স্থগিত অবস্থায় এগিয়ে রয়েছেন কামাল হোসেন (আওয়ামী লীগ) ও নিয়ামতপুর ইউনিয়নে আব্দুল হেলিম (আওয়ামী লীগ)।

তাড়াইল উপজেলায় নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন তালজাঙ্গা ইউনিয়নে আবু জাহেদ ভূঞা (স্বতন্ত্র-আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী), রাউতি ইউনিয়নে ইকবাল হোসেন তারিক (আওয়ামী লীগ), ধলা ইউনিয়নে আফরোজ আলম ঝিনুক (আওয়ামী লীগ), জাওয়ার ইউনিয়নে ইমদাদুল হক রতন (জাতীয় পার্টি), দামিহা ইউনিয়নে একে মাইনুজ্জামান নবাব (আওয়ামী লীগ), দিঘদাইড় ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দিন ভূঞা (জাতীয় পার্টি) ও তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নে সাঈম দাদ খান নওশাদ (জাতীয় পার্টি)।

নরসিংদী : নরসিংদী সদর উপজেলার চরদীঘলদীতে দেলোয়ার হোসেন শাহীন (আওয়ামী লীগ), আলোকবালী ইউনিয়নে দেলোয়ার হোসেন সরকার দিপু (আওয়ামী লীগ ) এবং রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ীতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী রাতুল হাসান জাকির (স্বতন্ত্র), শ্রীনগরে রিয়াজ মোরশেদ খান রাসেল (আওয়ামী লীগ), পাড়াতলীতে ফেরদৌস কামাল জুয়েল (আওয়ামী লীগ), চরমধুয়ায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আহসান শিকদার (স্বতন্ত্র), মির্জানগরে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী বশির উদ্দিন সরকার রিপন (স্বতন্ত্র), আমিরগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী ফজলুল করিম ফারুক (স্বতন্ত্র), হাইরমারায় কবির হোসেন (আওয়ামী লীগ), মির্জারচরে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী জাফর ইকবাল মানিক (স্বতন্ত্র), নিলক্ষ্যায় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আক্তারুজ্জামান (স্বতন্ত্র), চরসুবুদ্ধিতে নাসির উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনা সদরের চেয়ারম্যান পদে চল্লিশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ মাহবুবুল মজীদ (নৌকা), দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নে মো. সেলিম আজাদ সেলিম (স্বতন্ত্র বিএনপি), মেদনী ইউনিয়নে প্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান খান (স্বতন্ত্র), কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন খান (নৌকা), আমতলা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ সবুজ (নৌকা), সিংহের বাংলা ইউনিয়নে মো. আলী আহসান সুমন (স্বতন্ত্র), ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুর রাজ্জাক (নৌকা), কাইলাটী ইউনিয়নে নাজমুল হক (স্বতন্ত্র, বিএনপি), মৌগাতী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান আবুনী (নৌকা), রৌহা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ (নৌকা)।

বারহাট্টার রায়পুরে আতিকুর রহমান রাজু (স্বতন্ত্র বিদ্রোহী), বাউসী শামসুল হক (নৌকা), বারহাট্টা সদর ইউনিয়নে কাজী সাখাওয়াত হোসেন খান (নৌকা), চিরাম সাইদুর রহমান (নৌকা), সাহতা মিজানুর রহমান চঞ্চল (স্বতন্ত্র বিদ্রোহী), আসমা শফিকুল ইসলাম খান ছন্দু (নৌকা), সিংধা নাসিম তালুকদার (স্বতন্ত্র)।

আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউপিতে মো. আব্দুস সাত্তার (নৌকা), লুনেশ্বরে মো. শাহজাহান কবীর (নৌকা), বানিয়াজানে মো. ফেরদৌস মিয়া (নৌকা), তেলিগাতীতে অখিল চন্দ্র দাস (নৌকা), দুওজ ইউপিতে সাইদুল হক তালুকদার (নৌকা), সুখারীতে মো. শাহজাহান (নৌকা) ও শুনই ইউপিতে মো. রোকন উজ্জামান (নৌকা)।

রাঙামাটি : কাপ্তাই উপজেলার সদর ইউনিয়নে আব্দুল লতিফ (আ’লীগ), রাইখালী ইউনিয়নে মংথুই মারমা (স্বতন্ত্র) ও ওয়াগ্গা ইউনিয়নে চিরঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা (আ’লীগ), বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে তরুণ জ্যোতি চাকমা (স্বতন্ত্র), বরকল সদর ইউনিয়নে প্রভাত চাকমা (আ’লীগ), আইমাছড়া ইউনিয়নে সুবিমল চাকমা (স্বতন্ত্র) ও বড়হরিণা ইউনিয়নে নীলাময় চাকমা (স্বতন্ত্র) এবং বিলাইছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নে সুনীল কান্তি দেওয়ান (স্বতন্ত্র), কেংরাছড়ি ইউনিয়নে রামা চরণ মারমা ওরফে রাসেল (আ’লীগ) ও ফারুয়া ইউনিয়নে বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা (আ’লীগ)।

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) : মহেশপুর ইউনিয়নে সরকারদলীয় প্রার্থী লুৎফর রহমান মিয়া (নৌকা), পারুলিয়া ইউনিয়নে শফিকুল ইসলাম শাওন বিদ্রোহী প্রার্থী (মোটরসাইকেল), মাহমুদপুর ইউনিয়নে এনামুল হক মিরাজ স্বতন্ত্র প্রার্থী (চশমা), সাজাইল ইউনিয়নে মো. মাহাবুবুল আলম বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল), কাশিয়ানী ইউনিয়নে মোহাম্মাদ আলী খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস), রাজপাট ইউনিয়নে মিল্টন মিয়া (নৌকা), রাতইল ইউনিয়নে সরকার দলীয় প্রার্থী বিএম হারুন অর রশিদ পিনুর (নৌকা) চেয়ে বিপুল ভোটে এগিয়ে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আঞ্জুরুল ইসলাম (আনারস)। এছাড়া বাকি ৭টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন যারা-ফুকরা ইউনিয়নে শাহ ইশতিয়াক পটু (অটোরিকশা), ওড়াকান্দিতে বদরুল আলম বিটুল (মোটরসাইকেল), হাতিয়াড়ায় দেবদুলাল বিশ্বাস (চশমা) সিংগায় রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস মোটরসাইকেল), বেথুড়ীতে ইমরুল হাসান মিয়া (চশমা), পুইশুরে কামরুল ইসলাম (টেলিফোন) ও নিজামকান্দিতে কাজী নওশের আলী (টেলিফোন)।

বড়াইগ্রাম : সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মমিন আলী (নৌকা) ১২ হাজার ৬২৮ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান পদে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। জোনাইল ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ (ঘোড়া), নগর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তফা শামসুজ্জোহা (ঘোড়া), চান্দাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহনাজ পারভীন, গোপালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবু বকর সিদ্দিক বিজয়ী হয়েছেন।

ধামরাই : চৌহাট ইউনিয়নে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পারভীন হাসান প্রীতি (ঘোড়া), আমতা ইউনিয়নে মো. আরিফ হোসেন (নৌকা), বালিয়া ইউনিয়নে মো. মজিবর রহমান (নৌকা), যাদবটপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান মিজ (আনারস), বাইশাকান্দা ইউনিয়নে অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান মিজান (নৌকা), কুশুরা ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান (নৌকা), গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে মো. আব্দুল কাদের মোল্লা (নৌকা), সানোড়া ইউনিয়নে মো. খালেদ মাসুদ খান লাল্টু (নৌকা), সোমভাগ ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী প্রভাষক মো. আওলাদ হোসেন (আনারস), ভাড়ারিয়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী মো. মোসলেহ উদ্দিন মাসুম (চশমা), ধামরাই সদর ইউনিয়নে বিদ্রোহী আপন চাচা ও ঢুফাকে হারিয়ে বিজয়ী মো. মশিউর রহমান (চশমা), কুল্লা ইউনিয়নে বিদ্রোহী মো. লুৎফর রহমান (আনারস), সুয়াপুর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কফিল উদ্দিন (নৌকা) ও রোয়াইল ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কাজিম উদ্দিন খান (নৌকা)।

সুনামগঞ্জ : ছাতক উপজেলায় খুরমা উত্তর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ (আ.লীগ), কালারুকা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান অদুদ আলম (আ.লীগ), ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে গয়াছ আহমদ (আ.লীগ), গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান সুন্দর আলী, সদর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম (আ.লীগ বিদ্রোহী), জাউয়াবাজার ইউনিয়নে আব্দুল হক (আ.লীগ বিদ্রোহী), দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নে আবু বকর (আ.লীগ বিদ্রোহী), চরমহল্লা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত (বিএনপি), দোলারবাজার ইউনিয়নে নূরুল আলম (বিএনপি), ইসলামপুর ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. সুফী আলম সুহেল (জামায়াত) জয় পেয়েছেন।

দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নে আব্দুল হামিদ (আ.লীগ), বোগলাবাজার ইউনিয়নে মিলন খান (আ.লীগ), সুরমা ইউনিয়ন পরিষদে এমএ হালিম (আ.লীগ), পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে আব্দুল ওয়াহিদ (আ.লীগ), নরসিংহপুর ইউনিয়নে নূরউদ্দিন আহমদ (আ.লীগ), লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ জহিরুল ইসলাম (আ.লীগ বিদ্রোহী), বাংলাবাজার ইউনিয়নে এম আবুল হোসেন (আ.লীগের বিদ্রোহী), দোহালিয়া ইউনিয়নে শামীমুল ইসলাম (আ.লীগের বিদ্রোহী) ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নে ইজ্জত আলী (বিএনপি) জয় পেয়েছেন।

পীরগঞ্জ : বিজয়ীরা হলেন, চৈত্রকোল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের আরিফুজ্জামান শাহ, ভেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সাদেকুল ইসলাম, বড়দরগায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের মাফিয়া আক্তার শিলা, কুমেদপুরে নৌকার প্রার্থী আমিনুল ইসলাম, মদনখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী চশমা প্রতীকের নুর মোহাম্মদ মন্জু, টুকুরিয়ায় নৌকার প্রার্থী আতাউর রহমান, শানেরহাটে নৌকার প্রার্থী মেজবাহুর রহমান, পাঁচগাছি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বাবলু মিয়া, চতরায় নৌকার প্রার্থী এনামুল হক শাহীন, কাবিলপুরে নৌকার প্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি।

রংপুর : পীরগাছা উপজেলার ৮ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩, বিএনপি ৩, জামায়াত ও জাতীয় পার্টি একটি করে চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলার আওয়ামী লীগ নির্বাচিত প্রার্তীরা হলেন-তোফাজ্জল হোসেন (পরুল ইউনিয়ন), আমিনুল ইসলাম (অন্নদা নগর) ও আবুল বাশার (ইটাকুমারী), বিএনপির নির্বাচিতরা হলেন-মোস্তাফিজার রহমান (পীরগাছা সদর), নজির হোসেন (ছাওলা) ও জুয়েল হোসেন (কান্দি), তাম্বুলপুরে জামায়াতের বজলুর রশিদ ও কৈকুড়িতে জাতীয় পার্টির নুর আলম নির্বাচিত হয়েছেন।

বগুড়া : শিবগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৫, বিদ্রোহী ৩ ও স্বতন্ত্র ৩ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত হলেন-বুড়িগঞ্জে রেজাউল করিম চঞ্চল (আ.লীগ), বিহারে মহিদুল ইসলাম (আ.লীগ), শিবগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শহীদ (আ.লীগ), কিচকে এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী (আ.লীগ) ও দেউলীতে জাহেদুল ইসলাম (আ.লীগ), আটমূলে বিদ্রোহী প্রার্থী বেলাল হোসেন, ময়দানহাট্টায় বিদ্রোহী আবু জাফর মন্ডল ও পীরবে বিদ্রোহী প্রার্থী আসিফ মাহমুদ মিল্টন ও নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থীরা হলেন-মাঝিহট্টতে এসকেন্দার আলী সাহানা, রায়নগরে শফিকুল ইসলাম শফি ও সৈয়দপুরে আবদুল মোত্তালিব। রেপুর উপজেলার নয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের চার ও স্বতন্ত্র পাঁচ প্রার্থী। কুসুম্বীতে শাহ আলম পান্না (স্বতন্ত্র), খামারকান্দিতে আব্দুল মোমিন মহসিন (আ.লীগ), সুঘাটে মনিরুজ্জামান জিন্নাহ (আ.লীগ), সীমাবাড়ীতে গৌরদাস রায় চৌধুরী (আ.লীগ) ও ভবানীপুর ইউনিয়নে আ.লীগের দলীয় সমর্থিত প্রার্থী এসএম আবুল কালাম আজাদ (নৌকা), বিশালপুরে আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন, মির্জাপুর ইউনিয়নে জাহিদুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), খানপুর ইউনিয়নে পিয়ার হোসেন পিয়ার (স্বতন্ত্র) ও শাহবন্দেগী ইউনিয়নে কাজী আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র) নির্বাচিত হয়েছেন।

ফরিদপুর : নগরকান্দা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন-ফুলসুতি ইউনিয়নে আরিফ হোসেন, কাইচাইল ইউনিয়নে মো. মোস্তফা, ডাঙ্গী ইউনিয়নে কাজী আবুল কালাম, চরযশোরদী ইউনিয়নে কামরুজ্জামান সাহেব ফকির ও কোদালিয়া শহীদ নগর ইউনিয়নে জাকির হোসেন নিলু। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন-তালমা ইউনিয়নে মো. কামাল হোসেন, রামনগর ইউনিয়নে কাইমুদ্দিন মন্ডল ও পুড়াপাড়া ইউনিয়নে আতাউর রহমান বাবু ফকির। এছাড়া বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার লস্করদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন।

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন-আটঘর ইউনিয়নে শহিদুল ইসলাম সোহাগ, ভাওয়াল ইউনিয়নে ফারুক উজ জামান ফকির মিয়া, গট্রি ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান লাবলু, মাঝারদিয়া ইউনিয়নে আফসার উদ্দিন মাতুব্বর, সোনাপুর ইউনিয়নে খায়রুজ্জামান বাবু, বল্লভদী ইউনিয়নে খন্দকার সাইফুর রহমান শাইন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন-যদুনন্দি ইউনিয়নে মো. রফিক মোল্যা ও রামকান্তপুর ইউনিয়নে ইসারত হোসেন।

শেখ হাসিনাকে ফ্রান্স ‘বিরল’ সম্মান দিয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফরকে ঐতিহাসিক বর্ণনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ইউরোপীয় দেশটি তার প্রতি বিরল সম্মান প্রদর্শন করেছে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ফ্রান্সের এক হোটেলে প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বাসস এ তথ্য জানায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ সফরে শেখ হাসিনা যে সম্মান পেয়েছেন এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্র অথবা সরকার প্রধান তা পাননি।

ফ্রান্স সফরকালে শেখ হাসিনার সম্মানে আয়োজিত বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে মোমেন বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্যরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর এবং এলিসি প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া ফরাসি প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউনেস্কো সম্মেলনে যোগদানকারী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতি কে হচ্ছেন

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন অবসরে যাচ্ছেন ৩০ ডিসেম্বর। তিনি অবসরে গেলে কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রধান বিচারপতি-এ নিয়ে বিচারাঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন। প্রথা অনুযায়ী পরবর্তী সিনিয়র বিচারপতিই প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সে নিয়ম মানা হবে কি হবে না-সেই প্রশ্নও সংশ্লিষ্টদের।

অবশ্য এর আগে জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের দৃষ্টান্ত রয়েছে। যদিও সংবিধানে জ্যেষ্ঠতা অনুসরণের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া উচিত। জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী। তার পরের অবস্থানে রয়েছেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননী ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

তাদের মধ্যে একজন হবেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি। তবে সম্ভাব্য প্রধান বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর কথা বেশি শোনা যাচ্ছে। একটি সূত্র মনে করে, বর্তমানে আপিল বিভাগে কর্মরত সব বিচারপতিরই প্রধান বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষমতা রয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত বিচারপতি পদে থাকা যায়। সে হিসাবে বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের ৬৭ বছর পূর্ণ হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর। প্রধান বিচারপতির শেষ কার্যদিবস হচ্ছে ওইদিন।

এদিকে ১৯ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর অবকাশকালীন ছুটি রয়েছে। সেই ছুটি যদি বহাল থাকে, তাহলে প্রধান বিচারপতির শেষ কার্যদিবস হচ্ছে ১৫ ডিসেম্বর। কারণ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, আর ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটি। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন পদে আছেন আর মাত্র ৪৯ দিন (১২ নভেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর)।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন। সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।’

সংবিধানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলা হয়নি। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের যে বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেবেন, তার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে প্রথমে আইন মন্ত্রণালয়কে জানাবেন।

এরপর মন্ত্রণালয় থেকে ওই বিচারপতির ব্যাপারে ফাইল প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পর বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর প্রধান বিচারপতি নিয়োগের গেজেট জারি করবে আইন মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, সংবিধানে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতির মেয়াদ শেষ হলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন। আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে তিনি যে কোনো একজনকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দিতে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা উচিত নয় বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যদিও সংবিধানে এ বিষয়ে পরিষ্কার কিছু বলা নেই, তারপরও এটা করা ঠিক না। যাকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়া হলো তিনি এক বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে চলে যেতে হয়, এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া দরকার। নিয়োগের ক্ষেত্রে কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, কিংবা দলীয় রাজনৈতিক আনুগত্য-এসব বিবেচনায় না এনে বিচার বিভাগের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করলে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পদে থাকাকালীন প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এ নিয়োগের দিন (২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা। বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞার তখন চাকরির মেয়াদ ছিল আরও ১০ মাস।

এখানে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনায় কোনো সাংবিধানিক ব্যত্যয় ঘটেছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগেও সাতবার ঘটেছে। তবে এতে সংবিধানের লঙ্ঘন হয়নি। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির। সংবিধান অনুযায়ী তিনি আপিল বিভাগের যে কোনো একজন বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দিতে পারেন। সবচেয়ে সিনিয়রকে নিয়োগ দিতে হবে-এমন কোনো কথা নেই।’

পাকিস্তানের পরাজয়কে যেভাবে দেখছে ভারতীয় গণমাধ্যম

ভারতকে কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যাত্রা দুর্দান্ত শুরু করেছিল পাকিস্তান। বিরাট কোহলিদের ১০ উইকেটে নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন বাবর আজম ও রিজওয়ান।

সেই পরাজয়ই যেন মনবল ভেঙে দেয় কোহলিদের। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছেও ৮ উইকেটে হারে ভারত। এরপর খর্বশক্তি তিন দলকে হারালেও সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানায় ভারত।

আর অন্যদিকে উল্টোটাই ঘটেছে পাকিস্তান দলের জন্য। ভারতকে নাস্তানাবুদ করে মনবল চাঙা হয়ে যায় পাকিস্তানের। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাবর আজমরা।

সেমিতেও অসিকে বধ করে ফাইনালের টিকিট কাটবে পাকিস্তান এমনটাই বিশ্বাস ছিল অনেকের। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৯তম ওভারে জীবন পেয়ে পরের তিন বলে তিন ছক্কায় পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলেন ম্যাথু ওয়েড!

পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কাটে অস্ট্রেলিয়া।

পাকিস্তানের এই হারকে বড় ম্যাচে পতন হিসেবে দেখছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।

ম্যাচ হারের পর কলকাতার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল ভার্সন শিরোনাম করেছে, ‘উল্কার গতিতে উত্থান এবং পতন, বড় ম্যাচে হতাশ করল পাকিস্তান।’

তবে বাবর আজমের দলের প্রশংসাই ঝরেছে প্রতিবেদনে।

পাকিস্তানের এই পরাজয়ে সেই ভারতের বিপক্ষের ম্যাচের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে প্রতিবেদনের।

সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ট্রফির দাবিদার হিসেবে পাকিস্তানের নাম কখনওই শোনা যাচ্ছিল না। কিন্তু ভারতকে হারাতেই চমকে গেল বিশ্ব। সাড়া জাগিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেন বাবররা।

এর পর একের পর এক ম্যাচে খেলতে নামেন এবং জেতেন। বল হাতে শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলি, হ্যারিস রউফ, ইমাদ ওয়াসিমরা ত্রাস হয়ে ওঠেন ব্যাটারদের।পাকিস্তান শুধু ম্যাচ জেতেনি, লিগ পর্বে হৃদয় জিতে নিয়েছিল।

কিন্তু সেই সব আশা ভেঙে যায় বৃহস্পতিবার। অস্ট্রেলিয়ার সামনে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারল না পাকিস্তান। হতাশ পাকিস্তানের ছবি দেখল বিশ্ব।

হিন্দুস্তান টাইমসের বাংলা ভার্সন শিরোনাম করেছে, ‘বারবার পাঁচবার! অজিদের বিরুদ্ধে নকআউটে হারের ইতিহাস বদলাল না বাবরদের’।

এই প্রতিবেদনেও পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।

সেখানে লেখা হয়েছে – টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতকে হারিয়ে অতীতের পরিসংখ্যান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল পাকিস্তান, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে, সেটা সম্ভব হল না। এই পরাজয়ের ফলে ফের একবার অতীতের ইতিহাস ফিরে আসল। এই নিয়ে দুই দলের আইসিসি টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বে মুখোমুখি সাক্ষাৎ-এ পাঁচ বারের মধ্যে পাঁচ নম্বর বারই হারল পাকিস্তান।

নতুন বাইক কিনেই সড়কে প্রাণ গেল ৩ বন্ধুর

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন কিশোর নিহত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মকবুল (১৭), রাকিব (১৮) ও আসাদুল ইসলাম (১৭)। তার পরস্পর বন্ধু।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাকিব গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন মোটরসাইকেল কিনে। গতকাল সে বন্ধুদের নিয়ে বাইক চালায়। আজও মকবুল ও আসাদকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়।

উপজেলার মাটিকাটা এলাকা থেকে তারা বাইক যোগে বঙ্গবন্ধু সেতু আঞ্চলিক মহাসড়কের দিকে যাচ্ছিল। পথে রুহুলি এলাকায় একটি দেয়ালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা খায় তাদের বাইকটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়।

ভূঞাপুর থানার ওসি আব্দুল ওহাব দুর্ঘটনার সত্যতা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

দামুড়হুদায় ৪ ইউপি নির্বাচনে দুটিতে নৌকা ও দুটিতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ৪টির মধ্যে দুই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ও দুটিতে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাচন কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার এই ফলাফল ঘোষনা করেন। জুড়ানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী সোহরাব হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৫৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী রুহুল আমিন (মোটর সাইকেল প্রতীক) পেয়েছেন ৬ হাজার ৯০ ভোট।

দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হযরত আলী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী শরিফুল আলম (মোটর সাইকেল) পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৩১ ভোট।

কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী আব্দুল করিম (আনারস) ১৮ হাজার ৬০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী খলিলুর রহমান ভুট্টো পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৩৯ ভোট।

কুড়ুলগাছি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল উদ্দিন (মোটর সাইকেল) ৮ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সরফরাজ উদ্দিন (আনারস) পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০৯ ভোট।

বিশ্বকে পারলেও আমাদের বোকা বানাতে পারবেন না: এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, আপনারা (গ্রিস) তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বিশ্বকে বোকা বানাতে পারবেন কিন্তু আমাদের পারবেন না।

শরণার্থী ইস্যুতে আঙ্কারার বিরুদ্ধে গ্রিসের অভিযোগের জবাবে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। খবর ডেইলি সাবাহর।

শরণার্থী ইস্যুতে সম্প্রতি গ্রিস ও তুরস্কের সম্পর্ক আবারও তিক্ত হতে শুরু করেছে। গ্রিস তাদের জলসীমায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে তুরস্কের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে এরদোগান বলেন, শরণার্থীদের সঙ্গে গ্রিসের আচরণের সব তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আপনারা তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বিশ্বকে বোকা বানাতে পারবেন কিন্তু আমাদের পারবেন না।

এরদোগান এসময় শরণার্থী সংকট নিয়ে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনেন।

এরদোগান বলেন, শরণার্থী সংকটের মূল তুরস্ক এটি বলা এক ধরনের অকৃতজ্ঞতা, যেখানে তুরস্ক ৫০ লাখের মতো শরণার্থীর বোঝা বইছে।

গ্রিস অভিযোগ করেছে, তুরস্ক ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রের মতো আচরণ করছে। তারা শরণার্থীদের গ্রিসের জলসীমায় ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

অপরদিকে তুরস্ক উল্টো গ্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, গ্রিস শরণার্থীদের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহার করছে।

গ্রিস ও তুরস্ক দুটি দেশই ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু দেশ দুটির মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বিদ্যমান। শরণার্থী সংকট ছাড়াও দেশ দুটির মধ্যে সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের অধিকার নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

এজিয়ান সাগরের তীরে তুরস্কের কানাক্কালে, বালিকেশির, ইজমির, মুগলা ও আইদিন এ পাঁচটি প্রদেশ অবস্থিত। এ প্রদেশগুলোর কাছে থাকা গ্রিসের দ্বীপ হয়ে শরণার্থীরা ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করে।

উন্নত জীবনের সন্ধানে এ এজিয়ান সাগর ব্যবহার করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে হাজার হাজার মানুষ ঢোকার চেষ্টা করেছেন। এ বিপজ্জনক যাত্রায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে আবার ধরা পড়েছেন। মূলত যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ এ দুটি দেশকে ইউরোপে ঢোকার ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে।

পুরো গ্রিসই মার্কিন ঘাঁটি হয়ে গেছে: এরদোগান

পুরো গ্রিসই মার্কিন ঘাঁটি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে গ্রিস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে রূপ নিয়েছে।

গ্রিসের আলেকজান্দ্রোপলিতে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য সামরিক স্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন।খবর ডেইলি সাবাহর।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের সঙ্গে নানা বিষয়ে তুরস্কের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এর মধ্যে গ্রিসে মার্কিন সারমিক উপস্থিতি আরও ক্ষিপ্ত করে তুলেছে দেশটিকে।

এদিকে সাগরে শরণার্থীদের মৃত্যুর বিষয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে গ্রিসের অভিযোগ সম্পর্কে এরদোগান বলেন, আপনারা তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিশ্বকে বোকা বানাতে পারবেন ঠিকই। কিন্তু আমাদের বোকা বানাতে পারবেন না।

এরদোগান এসময় শরণার্থী সংকট নিয়ে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিটসোটাকিসের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ আনেন।

গ্রিস ও তুরস্ক দুটি দেশই ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কিন্তু দেশ দুটির মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ বিদ্যমান। শরণার্থী সংকট ছাড়াও দেশ দুটির মধ্যে সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের অধিকার নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে তুরস্কের। পাশাপাশি তুরস্কের বিতর্কিত দ্বীপ নিয়ে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। যখন প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চরমে ঠিক সেই সময়ে এসে আগুনে ঘি ঢালছে ইসরাইল।

ভ্যাটের বোঝা কমছে রপ্তানিমুখী শিল্পে

ভ্যাটের বোঝা কমছে রপ্তানিমুখী শিল্পে। বন্দর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিএন্ডএফ, বিমা কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট সেবার বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে ভ্যাট কমিশনারের কাছ থেকে অব্যাহতির সনদ নিতে হবে না।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।

জানা গেছে, ১৭ অক্টোবর ভ্যাট নীতির সদস্য মাসুদ সাদিকের সভাপতিত্বে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে রপ্তানিমুখী শিল্প মালিকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শিল্প মালিকরা বন্দর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিএন্ডএফ, বিমা কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট সেবার বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে জটিলতার কথা তুলে ধরেন।

শিল্প মালিকরা বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানি খাত ভ্যাটের আওতামুক্ত। আবার ভ্যাট অব্যাহতির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান সাধারণ আদেশ মোতাবেক অব্যাহতি সনদ নেওয়া জটিল প্রক্রিয়া। এতে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া কত দিন পরপর অব্যাহতিপত্র নিতে হবে তা উল্লেখ নেই।

যেহেতু রপ্তানি খাত ভ্যাটের আওতামুক্ত সেহেতু ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা রেখেও যদি বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়, তাহলে রপ্তানিকারকদের জন্য তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসাবে কমিশনারের কাছ থেকে অব্যাহতি সনদ গ্রহণের বিষয়টি বাতিল করা জরুরি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আলোচ্য সেবার বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে ভ্যাট কমিশনারেটে আবেদন করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (যেমন বন্দর সেবার ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষ) এবং সেবা সংস্থার (ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিএন্ডএফ, বিমা কোম্পানি ও শিপিং এজেন্ট) ক্ষেত্রে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রপ্তানিকারকের ভ্যাট নিবন্ধন ও অন্য কাজগপত্র (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন, রপ্তানিকারক সংগঠনের সদস্য সনদ) যাচাই করে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেবে। বর্তমানে এ সেবার বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে ভ্যাট কমিশনারের কাছ থেকে ভ্যাট অব্যাহতির সনদ নিতে হয়। একইসঙ্গে আরও সিদ্ধান্ত হয়, এ সুবিধার অপব্যবহার রোধে প্রতি বছর রপ্তানিমুখী শিল্পকে নিরীক্ষা করা হবে।

 

এনবিআর সূত্র জানায়, রপ্তানিমুখী শিল্প আগেও ভ্যাটের আওতামুক্ত ছিল, এখনো আছে। নতুন ভ্যাট আইনে সব শ্রেণির ব্যবসায়ীদের ভ্যাট কমপ্লায়েন্ট করতে রপ্তানিমুখী শিল্পের অব্যাহতির আদেশটি সংশোধন করা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে বিধায় আদেশ পুনরায় সংশোধন করে আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কারণ সরকার রপ্তানিমুখী শিল্পকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এজন্য আবার কমিশনারের কাছ থেকে সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা ঝামেলার সৃষ্টি করে।

এনবিআরের এ সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে। তিনি আরও বলেন, শুধু বন্দর বা সিএন্ডএফ সেবার ক্ষেত্রেই নয়-গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ক্ষেত্রে এ নিয়ম চালু করা উচিত। এখন গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিলের ভ্যাট অব্যাহতি পেতে ঝামেলা পোহাতে হয়। কেউ যদি এ সুবিধার অপব্যবহার করে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত। কিন্তু বিধি-বিধান পরিপালনের নামে ব্যবসার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা কাম্য হতে পারে না।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন-বন্দর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও শিপিং এজেন্ট সেবার বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি প্রক্রিয়া সহজ করেছে, এ জন্য এনবিআরকে ধন্যবাদ। কিন্তু রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে-গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ।

এসব ইউটিলিটি বিলের বিপরীতে ভ্যাট অব্যাহতি পেতে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। সবার আগে এগুলোর সুরাহা করা প্রয়োজন। যত সহজে ব্যবসায়ী অব্যাহতি পেতে পারে সে উদ্যোগ নিতে হবে।

এবার বাড়তে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম

আসন্ন শীত মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। তবে কমছে গ্যাস উৎপাদন। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি কমেছে। এ অবস্থায় শীতে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা মেটানোর মতো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ফলে আসন্ন শীত মৌসুমে তীব্র গ্যাস সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাড়তি গ্যাসের জোগান দিতে আমদানি করা এলএনজি এখন একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই এলএনজির দামও আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ গুণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশের জ্বালানি খাতের জন্য ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে এক হাজার কোটি টাকা।

অথচ গত ৭ মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামের বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ক্ষতির মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা কঠিন।

এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, শীতের সময়ে এমনিতেই গ্যাসের চাপ কমে যায়। তাতে সরবরাহ লাইনে গ্যাস বাড়িয়ে চাপ বাড়াতে হয়। না হলে শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া শীতে গ্যাসের বাড়তি চাহিদাও তৈরি হয়।

গ্রীষ্মকালে প্রতিদিন গড়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের (এমএমসিএফডি) চাহিদা থাকে ৩ হাজার ঘনফুট। শীতকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ ঘনফুটে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে চাহিদা বাড়ে ১২০০ ঘনফুট। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ চাহিদা বাড়ে শীতে।

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, গত ২০ বছরে দেশে মাত্র ২৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে চারটি। নোয়াখালীর সুন্দলপুর, কুমিল্লার শ্রীকাইল ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ক্ষেত্রগুলোতে মজুত তেমন বেশি ছিল না।

বেশিরভাগই তোলা হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ভোলায় একটি গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া গেছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে প্রতিদিন ২ হাজার ৯০০ ঘনফুটের মতো। ঘাটতি রয়েছে ১৩০০ ঘনফুট। ঘাটতি ৩১ শতাংশ। চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের জোগান দিতে হলে প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজার ঘনফুট এলএনজি আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ করতে হবে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। এখন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি দেওয়া হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থারমাল ইউনিটের (২৭ দশমিক ৯৬ ঘনমিটার) দাম গত বছরের মার্চে ছিল ৫ ডলার। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ ডলারে। এখন তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ ডলারে।

এই বাড়তি দরে পেট্রোবাংলা আমদানি করতে চায়নি। কিন্তু এখন শীতের কারণে ঘাটতি প্রকট হওয়ায় আমদানি শুরু করেছে। এতে স্পটভিত্তিতে গ্যাস কিনছে সংস্থাটি।

শীতের শুরুতে দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। এতে সক্ষমতা থাকলেও পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে পারছে না গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো।

কোনো কোনোটি দিনের পর দিন বন্ধই রাখতে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোতে নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির আবেদনের স্তূপ পড়েছে। সরবরাহ না থাকায় এর কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী বৃহস্পতিবার দেশের গ্যাস ক্ষেত্রগুলো থেকে ৩ হাজার ৪২ ঘনফুট এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু বিতরণ করা হয়েছে ২৯১৩ ঘনফুট এমএমসিএফডি।

এরমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে ১০৯১ ঘনফুট। যা মোট গ্যাস বিতরণের ৩৭ শতাংশ। যদিও পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোর দিনে চাহিদা ছিল ২২৫২ ঘনফুট গ্যাস। এছাড়া সার কোম্পানিগুলোর দিনে চাহিদা ছিল ৩১৬ ঘনফুট গ্যাস।

বিতরণ করা হয়েছে ১২৮ ঘনফুট। মোট বিতরণের ৪ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। শিল্পকারখানাসহ অন্যান্য সব খাতে বিতরণ করা হয়েছে ১৬৯৫ ঘনফুট গ্যাস। যা মোটা বিতরণের ৫৮ শতাংশ।

বর্তমানে পেট্রোবাংলার অধীনে ৬টি বিতরণ কোম্পানি সারা দেশে গ্যাস বিতরণ করছে। এরমধ্যে শুধু তিতাসের চাহিদা ১৫৯৮ ঘনফুট। এরমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৭৫০ ঘনফুটের বিপরীতে ২৯৯ ঘনফুট গ্যাস বিতরণ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার।

এছাড়া সার কারখানায় ১০৪ ঘনফুটের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৮ ঘনফুট গ্যাস। আর বেসরকারি খাতে শিল্পকারখানায় বিতরণ করা হয়েছে ১২৯১ ঘনফুট। যদিও এ খাতে চাহিদা ছিল ১৬০০ থেকে ১৮০০ ঘনফুট ।

বাখরাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ৫০১ ঘুনফুট চাহিদার বিপরীতে বিতরণ করেছে ২০৯ ঘনফুট। সার কারখানাগুলোর চাহিদা ৫২ ঘনফুট থাকলেও এই খাতে কোনো গ্যাস দেওয়া হয়নি। বেসরকারি শিল্পকারখানায় বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৮৮ ঘনফুট।

জালালাবাদ গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অধীনে বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে চাহিদা ছিল ৩৯৫ ঘনফুট। বিতরণ করা হয়েছে ২৫২ ঘনফুট। সার কারখানায় বিতরণ করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৫ ঘনফুট। চাহিদা ছিল ৪৫ ঘনফুট গ্যাস। আর শিল্পকারখানায় বিতরণ করা হয়েছে ১০৩ ঘনফুট গ্যাস।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানিতে বৃহস্পতিবার বিতরণ করা হয়েছে ১২৯ ঘনফুট গ্যাস। যদিও এই কোম্পানির চাহিদা ছিল ৩০০ ঘনফুটের বেশি।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি থেকে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর জন্য ১৮৫ ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৬ ঘনফুট। সার কোম্পানিগুলোতে চাহিদা ছিল ১১৫ ঘনফুট, বিতরণ করা হয়েছে ৭৯ দশমিক ৫ ঘনফুট।

বাকি খাতগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে ১৮২ ঘনফুট। সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানিতে এই দিন বিতরণ করা হয়েছে মাত্র ৯৫ দশমিক ৬ ঘনফুট। চাহিদা ছিল ২০০ ঘনফুটের বেশি।

দেশে বর্তমানে ৪টি কোম্পানির অধীনে গ্যাস উৎপাদন করা হচ্ছে। এরমধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড থেকে বৃহস্পতিবার উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ ৬৩৩ দশমিক ৪ ঘনফুট।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডে ৮৭ ঘনফুট, বাপেক্স থেকে ৮৪৬ দশমিক ৫ ঘনফুট। আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরণ ও তাল্লুর গ্যাস কূপগুলো থেকে উৎপাদিত হয়েছে ১৫৫৪ ঘনফুট এবং আরপিজিসিএল থেকে উৎপাদিত হয়েছে ৬৪১ ঘনফুট গ্যাস।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে না। বিদ্যমান ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন কমছে। ফলে ক্রমান্বয়ে আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ছে দেশ।

অর্থাৎ বিদেশ থেকে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়ে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস খাতে ভর্তুকি বাবদ ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত ৪ মাসেই ১ হাজার কোটি টাকার পর আরও ৯ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ এ খাতে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। ভবিষ্যৎ গ্যাসের চাহিদা পূরণে ওই বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সংস্থানের চেয়ে গ্যাস অপচয় রোধেই বেশি জোর দেওয়া হয়।

ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গ্যাসের রেশনিং করার কথা বলা হয়। এছাড়া চাহিদার পিক-অফপিক আওয়ার বিবেচনায় নিয়ে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের সরবরাহ সাময়িক বন্ধ রাখার বিষয়ও আলোচনায় আসে।

পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যবহার করা গ্যাসের জন্য আলাদা ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) গ্যাসের চাহিদা নিরূপণ করতে জুনে এক অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পিডিবির বিদ্যুৎ উৎপাদনের গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহ নিরূপণ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কমিটিকে।

মন্ত্রণালয়ের ওই বৈঠকে তাদের প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়েছে এই চাহিদা গড়ে ১০০ থেকে ৫৫০ এমএমসিএফডি ঘনফুট। এ ঘাটতি শুধু পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে।

বর্তমানে দেশে যে সরবরাহ করা হয়, তার মধ্যে পিডিবির একার চাহিদাই প্রায় ১৫০০ ঘনফুট। যদিও সরবরাহ করা হয় গড়ে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি।

জ্বালানি বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেণ, দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের সিংহভাগ আসে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে। গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

তাদের মতে, বাজারে এমনিতেই সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি বাড়ানো হয়েছে ডিজেলের দাম। তাতেই গণপরিবহণের ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার।

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আরও ভোগান্তিতে পড়বে। সরকার জরুরি অবস্থা সামাল দিতে একটি তহবিল গঠনের কথা দীর্ঘদিন ধরে বলে এলেও তা করা হয়নি।

এরকম তহবিল করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও অন্তর্বর্তীকালীন সময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত।

সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘সারা দুনিয়াতে তেল, গ্যাস, কয়লার দাম বেড়ে গেছে। অনেক দেশ টাকা দিয়েও এসব পণ্য কিনতে পারছে না।

বহু দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সংকটে পড়েছে, তীব্র লোডশেডিংয়ে পড়েছে অনেক ধনী দেশও। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সংকট হয়নি। আগামীতেও আমাদের তেল ও আমদানি করা এলএনজিতে সংকট হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, কয়েক বছর পরপর ছোট একটি-দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

অনুসন্ধানে বাড়তি জোর না দেওয়াই সরকারের সবচেয়ে বড় ভুল। তিনি বলেন, কম সম্ভাবনা নিয়েও অনেক দেশ এর চেয়ে বেশি অনুসন্ধান চালায়।