বৃহস্পতিবার ,৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 644

ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে ‘নোনা জলের কাব্য’

গত এক বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সাড়া জাগানো ছবি ‘নোনা জলের কাব্য’ আগামী ২৬ নভেম্বর ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে। বাংলাদেশে এ ছবির পরিবেশক স্টার সিনেপ্লেক্স। ছবিটিতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, শতাব্দী ওয়াদুদ, তিতাস জিয়া এবং তাসনোভা তামান্না।

লন্ডন, বুসান, গুটেনবার্গ, সাও পাওলো, তুরিন, সিয়াটেল, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘নোনা জলের কাব্য ’ ছবিটি। তবে সবচেয়ে বড় খবর চলচ্চিত্র উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে এবার প্রদর্শিত হয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ ২৬-এ। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এ আসরে নভেম্বরের ৮ তারিখে আইম্যাক্স থিয়েটারে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের এ চলচ্চিত্র। এ সম্মেলনে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অংশগ্রহণ করেছেন।

দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জেলেদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, আবহাওয়ার প্রতিকূলতার মুখে টিকে থাকার লড়াই এবং তাদের সামাজিক রীতিনীতি ও সংস্কার এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়। সমাজ, সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং পরিবেশের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে চলচ্চিত্র তথা বিনোদন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে- এই বিশ্বাস নিয়েই পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নির্মাণ করেছেন ‘নোনা জলের কাব্য‘। তিনি বলেন, ছবিটি নির্মাণ করতে তিন বছর আগে আমি গিয়েছিলাম পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত এক জেলেপাড়ায়। উপকূলবর্তী সেই গ্রামটির এখন আর কোনো অস্তিত্বনেই। মহামারীর কারণে প্রায় দেড় বছর আমার সেখানে যাওয়া হয়ে উঠেনি, কিন্তু এবার যখন পরিচিত সেই জায়গার খোঁজে, প্রিয় সেই মানুষগুলোর খোঁজে গেলাম, গিয়ে দেখি সেখানে কিছু গাছপালা ভেঙে পড়ে রয়েছে, জোয়ারের পানি উঠবে উঠবে ভাব। জানতে পারলাম এ অঞ্চলে গত ২-৩ বছর যাবৎ সমুদ্রের পানির উচ্চতা খুব দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বাবু বলেন, একটি চমৎকার আবহে আমরা এই সিনেমায় কাজ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, সততার এবং নিষ্ঠার সহিত সঙ্গে কাজ করলে একটা সিনেমা মানসম্মত হয়। আমি সিনেমায় চেয়ারম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছি। আমাদের সিনেমায় পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী এবং কলাকুশলী কাজ করেছেন। আমি আশাবাদী আমাদের দেশের চলচ্চিত্র আঙিনায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

পাকিস্তানের পরাজয়ে যা বললেন রমিজ-শোয়েব

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেছে পাকিস্তান। সুপার টুয়েলভের প্রতিটি ম্যাচেই আধিপত্য বিস্তার করেছে খেলেছে বাবর আজমরা।

যদিও সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে গেছে পাকিস্তান।

তবে তাতে আফসোস থাকলেও কষ্ট নেই পাক সমর্থকদের হৃদয়ে। তাদের মতে, গোটা টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত খেলা পাকিস্তান দলকে নিয়ে গর্ব করা যায়। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েই সমর্থকদের মন আনন্দে ভরে দিয়েছে বাবর আজমরা। তাই ফাইনালে না উঠলেও বাবর আজমরা হৃদয় জয় করে নিয়েছে।

অসিদের বিপক্ষে ম্যাচ হারার পর বাবর আজম ও তার দলের প্রশংসায় খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টুইট করেছেন।

এক টুইটে ইমরান খান লিখেছেন, ‘এই পরাজয়ের পরও তোমরা গর্ব করতে পারো। কারণ তোমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছ এবং জয়ের পরও তোমরা যে নম্রতা দেখিয়েছ তার জন্য সকলেই গর্বিত। অভিনন্দন টিম অস্ট্রেলিয়া।’

একইরকম বক্তব্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান রমিজ রাজার। পাকিস্তানের এই টি-টোয়েন্টি দলকে নিয়ে তিনি বেশ গর্বিত।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের পর রমিজ রাজা টুইটে লেখেন, ‘তোমরা সত্যিকার অর্থেই দেশকে একতাবদ্ধ করেছ। লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবাইকে সতেজ করেছ। যেভাবে তোমরা লড়েছ, তাতে আমরা গর্বিত। ভালো খেলেছ ছেলেরা। তোমাদের অভিনন্দন।

শোয়েব মালিকের পক্ষে গলা ফাটিয়ে বিপাকে সানিয়া মির্জা

বিশ্বকাপে স্বামী শোয়েব মালিকের নৈপুণ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাতি তালি দেওয়াকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করেছে ভারতের উগ্রপন্থীরা।

কটাক্ষের শিকার ভারতীয় টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা পাকিস্তানের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শোয়েব মালিকের স্ত্রী সানিয়া মির্জা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন করায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। ভারতীয়দের রোষানলে পড়েছেন দেশটির এই টেনিস তারকা।

বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের হয়ে চিৎকার করেন সানিয়া। স্বামী শোয়েবের দলের জন্য গলা ফাটান, হাততালি দিয়ে পাক খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। মাঠের ক্যামেরায় সেটি ধরা পড়ে ভালোভাবেই।

ভারতীয় তারকার এভাবে প্রকাশ্যে পাকিস্তান সমর্থন করাটা একেবারেই ভাল চোখে নেননি অনেকেই। এরপরেই ভারতীয় নেটিজেনদের রোষের মুখে পড়েন সানিয়া।

টুইটে ভারতীয় এই টেনিস সেনসেশনকে কটাক্ষ করে নানা সমালোচনায় মেতেছেন তারা।

শোয়েব মালিকের পক্ষে হাতে তালি দেওয়াকে পাকিস্তানকে সমর্থন হিসেবে গণ্য করে কেউ কেউ সানিয়ার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অনেকে তো বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে ছেড়েছেন। তারা সানিয়াকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তার আইনমাফিক শাস্তি দিতে আবেদন জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

অনেকেই আবার এর বিপরীত মতও দিয়েছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন সানিয়া। একাধিক পদক জিতে নিজের দেশ ভারতকে গৌরবান্বিত করেছেন। এমন তারকাকে নিয়ে সমালোচনা বা কটাক্ষ করা সমীচীন নয় বলে জানান তারা।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টুইটার

মুখোশধারীদের গুলিতে শ্রমিক লীগ নেতা হত্যা, সাবেক শিবির নেতা গ্রেফতার

কক্সবাজার সদরের লিংকরোডে মুখোশধারীদের গুলিতে নিহত জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যা মামলায় ছাত্রশিবিরের শহর শাখার সাবেক সভাপতি ইমাম খাইরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইমাম খাইর কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস ফুলছড়ি এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে।

শুক্রবার র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরে চাউল বাজার এলাকা থেকে ইমাম খাইরকে (৩৭) আটক করা হয়।

তিনি জানান, আটকের পর তাকে কক্সবাজার সদর থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওই র্যাব কর্মকর্তা।

র‌্যাব জানায়, ইমাম খাইর শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যা পরিকল্পনায় জড়িত ছিল। পাশাপাশি তার কাছ থেকে ওই হত্যাকাণ্ডের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়াও তার সঙ্গে হত্যাকারীদের সর্বদায় যোগাযোগ ও দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। যার সমস্ত প্রমাণ র‌্যাবের কাছে রয়েছে। আটক ইমাম খাইর ছাত্রশিবিরের কক্সবাজার সরকারি কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার শহর শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।

গত ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদরের লিংকরোড স্টেশনে ঝিলংজাইউ নিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য কুদরত উল্লাহ সিকদারের ব্যক্তিগত অফিসে অবস্থান করছিলেন তার বড়ভাই জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার।

এসময় একদল মুখোশধারী মোটরসাইকেলে এসে তাদের লক্ষ্য গুলি ছুড়ে এবং কুপিয়ে জখম করে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের মধ্যে কুদরত উল্লাহ সিকদার ও তার বড়ভাই জহিরুল ইসলাম সিকদারের শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় ওই দিনরাতে চিকিৎসকরা তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ নভেম্বর দুপুরে জহিরুল ইসলাম সিকদার মারা যায়।

এ ঘটনায় গত ৯ নভেম্বর হামলায় আহত কুদরত উল্লাহ সিকদার বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজন আজ্ঞাতের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে এ মামলা নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নামে র‌্যাব-১৫। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল আসামিসহ সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চালায় র্যাব।

কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়েরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা আমার ঈমানি দায়িত্ব। আমি আমার পেশাগত দায়িত্বকে ইবাদত মনে করি। সুতরাং চাঞ্চল্যকর জহির হত্যা মামলা নিয়ে র্যাব শতভাগ পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। আর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে মামলার প্রধান আসামিদের সঙ্গে ইমাম খাইরের নিবিড় সম্পর্কের এবং যোগাযোগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য র্যাবের কাছে আসে। তাই তাকে গ্রেফতার করে ওই মামলায় কক্সবাজার সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে যুগান্তরকে বলেন, র‌্যাব-১৫ কর্তৃক সোপর্দকৃত আসামি ইমাম খাইরকে জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে ট্রাকচাপায় ২ স্কুলছাত্রী নিহত

লক্ষ্মীপুরে দ্রুতগতির ট্রাকচাপায় এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ দুই স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০ টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ সড়কের সদর উপজেলার পালেরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিক উত্তেজিত জনতা প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধ তুলে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

নিহত সানজিদা রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মধ্য কেরোয়া গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর রহমানের মেয়ে ও ফাহমিদা আলমগীর হোসেনের মেয়ে। এরমধ্যে সানজিদা লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও ফাহমিদা ঢাকার সেগুন বাগিচা গার্লস হাইস্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। দুজনে সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন।

জানা গেছে, আরিফুর রহমান তার পরিবার নিয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন। তার মেয়ে সানজিদা ও ভাগ্নি ফাহমিদাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে তিনি কেরোয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে ঘটনাস্থল পৌঁছলে তারা দুজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এতে রামগঞ্জ থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।

খবর পেয়ে একই সড়কের আটিয়াবাজার এলাকায় জনতা ট্রাকটি আটক করে। এসময় চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় জনতা। তবে এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আরিফুর রহমানের কিছু হয়নি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার এসআই আবদুল হান্নান বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পৌঁছে অবরোধ তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ দাফনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

‘আমরা ইউরোপকে গরম রাখি, তারা আমাদের হুমকি দেয়’

শরণার্থী ইস্যুতে টালমাটাল ইউরোপের দেশ বেলারুশের পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে বেলারুশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলছে, বিশ্বের যুদ্ধকবলিত বিভিন্ন দেশে থেকে পালিয়ে বেলারুশে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের মিনস্ক সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইউরোপের অন্য দেশে ঢোকার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেলারুশের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এর জবাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো বলেন, তারা (ইউরোপ) যদি আমাদের ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে আমরাও জবাব দেব।

তিনি বলেন, আমরা ইউরোপকে গরম রাখি, আর তারা আমাদের হুমকি দেয়। এখন আমরা যদি প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দিই? সেজন্যই পোল্যান্ড, লিথুনিয়ার নেতা ও অন্যান্য নির্বোধদের বলতে চাই- ভেবে তারপর কথা বলবে।

বেলারুশ সীমান্তে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র শীতের মধ্যে শত শত অভিবাসনপ্রত্যাশী খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। তীব্র শীতে ইতিমধ্যে কয়েকজন অভিবাসন প্রত্যাশী মারা গেছে। তারা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে পোল্যান্ড হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে চায়।

এদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা। এই সংকটের জন্য মিনস্ককে দায়ী করছে ইইউ। এর আগেও বিভিন্ন কারণে বেলারুশের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে ইউরোপ। এখন সীমান্তে শরণার্থী ইস্যুতে দেশটিতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে।

 

ইরানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির নতুন আইনে ঝুঁকিতে নারীরা: এইচআরডব্লিউ

ইরানে জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রণীত নতুন আইন নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ খর্ব করে তাদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে বলে সতর্ক করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

চলতি মাসের শেষের দিকে বিলটি আইনে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই আইনের আওতায়, গর্ভকালীন একজন নারীর স্বাস্থ্য হুমকির মুখে থাকলে, শিশুসহ পরিবারের অন্যান্যদের জন্য বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান এবং জনস্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থায় বন্ধ্যাকরণ এবং বিনামূল্যে গর্ভনিরোধক সামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

এইচআরডব্লিউয়ের ইরান বিষয়ক সিনিয়র গবেষক তারা সেপেহরি ফার বলেছেন, ইরানি আইনপ্রণেতারা দেশটির জন্য অধিক গুরুতর সমস্যাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন। উপরন্তু, এর পরিবর্তে নারীদের মৌলিক অধিকারের ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আইন স্পষ্টভাবে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার অধিকার, মর্যাদা এবং স্বাস্থ্যকে ক্ষুণ্ন করবে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

গত এক দশকে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা খাতে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য ইরান জনসংখ্যা নীতিকে পরিবার পরিকল্পনা এবং গর্ভনিরোধক অধিকার প্রদান থেকে বঞ্চিত করেছে।

 

এইচআরডব্লিউ বলছে, নতুন আইনের বেশ কয়েকটি নিবন্ধ নিরাপদ গর্ভপাতের সুযোগকে আরও সংকুচিত করেছে।

বর্তমানে, গর্ভাবস্থার প্রথম চার মাসে বৈধভাবে গর্ভপাত করা যাবে, যদি তিনজন ডাক্তার সম্মত হন।

ডিমের দাম বৃদ্ধি পুষ্টিতে ঘাটতি

সপ্তাহে তিন দিন ভাঙা মুরগির ডিম কিনতেন সুরুজ মিয়া। পেশায় রিকশাচালক সুরুজ পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর একটি বস্তিতে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কন্যাশিশুর সঙ্গে তার ছয় বছরের এক ছেলেও রয়েছে। ইদানীং তিনি ভাঙা ডিমও কিনতে পারেন না। চার-পাঁচ টাকার ভাঙা ডিম এখন সাত থেকে আট টাকায় বিক্রি হয়।

রংপুর থেকে আসা সুরুজ জানান, ‘হামরা গরিব মানুষ বাহে, এলা ডিম কিনে খাবার মুরদ নাই। ডিমের দাম দেখি-হামার ছোলপোলগুলোও এখন ডিম খাবার চায় না।’

বিক্রেতারা জানান, ডিম এখন দামি, তাজা ডিমের সঙ্গে ভাঙা ডিমের দামও বেড়েছে। সুরুজের সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তানরাও ডিমের কী উত্তাপ তা টের পাচ্ছে। পুষ্টিবিদরা জানান, পুষ্টির গুরুত্বের দিক থেকে ডিম অন্যতম। ডিমের দাম বাড়লে তো অপুষ্টি মানুষের সংখ্যাও বাড়ে। পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে অসুখ-বিসুখও বেড়ে। অপুষ্টি এখন অধিকাংশ মানুষের নিত্যসঙ্গী।

রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, মহল্লা থেকে গ্রাম-সর্বত্রই ডিমের বাজার চড়া। যে মুরগির (পোলট্রি) ডিম (একটি) কয়েকদিন আগেও সাড়ে ছয় টাকা থেকে সাত টাকা দরে পাওয়া যেত। সেখানে এখন কোথাও সেটির দাম ১০ টাকা, কোথাও ১১ টাকা। এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম কোন পর্যন্ত যাবে তা ভেবে বেশ চিন্তিত মধ্য-নিুবিত্তের মানুষরা।

ভোক্তাদের বক্তব্য, উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও সবজি-নিত্যপণ্যে এখন হাত ছোঁয়ানো যায় না। গরু-খাসি কিংবা মহিষের মাংস তো বহু দিন ধরেই সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাস তিনেক আগেও রাজধানীর কাওরান বাজারের ডিমপট্টির পাইকারিবাজারে এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ছিল ৭৬ টাকা থেকে ৭৮ টাকা।

তবে মাসখানেক আগে আচমকা দাম বেড়েছে বলে জানান ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী বিমল সাহা।

সেগুনবাগিচা এলাকার দোকানদার মিলন শাহ জানান, দেড় মাস আগে এক ডজন ডিম খুচরা বিক্রি করেছেন ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

গুলিস্তান ফুটপাতের এক ডিমবিক্রেতা (ডিমের রোল) জানান, ‘ম্যালা দিন আগে ডিমের রোল (এগরোল) বেচসি ১২ ট্যাহা থেইকা কুড়ি ট্যাহা। এহন বেচসি ২৫ ট্যাহা থেকে ৩০ ট্যাহা। ডিম বেশি দাম দিয়া কিনি- হেইলাইগ্যা রোল-অ বেশি দামে বেচি।’

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় একটি ব্যাংকে আয়া’র কাজ করেন রহিমা খাতুন। মাস শেষে এক হাজার ৫০০ টাকা পান। কমলাপুরের রেললাইন ঘেঁষা ১০ ফুট বাই ৮ ফুটের একটি ঝুপড়িতে ৫০০ টাকায় দুজন মিলে থাকেন। মতিঝিল কলোনিবাজার থেকে তিনি নামেমাত্র বাজার করেন। ভাজা ডিমের ঝোল তার বেশ প্রিয়। কিন্তু এখন তার ডিম কেনার সাহসই হয় না। আর তার ডিম খাওয়া তো দূরের কথা। এমন চিত্র শুধু রাজধানীতে নয়। দেশের অনেক জায়গায়ও ডিমের খুচরা বাজার দর অনেক চড়া।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, ডিম ব্যবসায়ী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারিকালেও ডিমের বাজার এমন চড়া হয়ে ওঠেনি। উৎপাদন প্রায় শতভাগ হলেও ডিমের দাম বাড়ছে।

খামারি-পাইকারি বিক্রেতারা জানান, পোলট্রি খাদ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ কারণে বাধ্য হয়েই ডিমের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আবার খুচরা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছামতো ডিমের দাম বাড়াচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন চার কোটির বেশি ডিম উৎপাদন হয়। এক লাখ পোলট্রি খামারের সঙ্গে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যোগাযোগ ও মিডিয়া উপদেষ্টা সাজ্জাদ হোসেন শাহীন বলেন, পাইকারি বাজারে ১০ নভেম্বর লাল ডিম প্রতিপিসের দাম ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা, সাদা ডিমের দাম ৭ টাকা ৫০ পয়সা। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে ডিমের দাম একই দিন কম-বেশি হয়। খুচরা বিক্রেতা ডিমের দাম বেশি রাখলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। বর্তমানে উৎপাদন প্রায় শতভাগ। তবে পোলট্রি ফিডের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এতে ডিমের দাম বাড়ে।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গাজীপুর খামার থেকে পাইকারি প্রতিপিস ডিম ৮ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ৯৭ টাকা ২ পয়সায় এক ডজন বিক্রি হয়েছে। আর রাজধানীতে প্রতিপিস খুচরা ডিম ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক ডজন ডিম ১২০ টাকা থেকে ১২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাস দেড়েক আগেও খুচরা ডিমের ডজন ছিল ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে।

রাজধানীর মতিঝিলের একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নার্গিস আক্তার শিউলি জানান, শুধু রাজধানী নয়, সর্বত্র সন্তানদের ডিম খাওয়াতে অভিভাবকরা পছন্দ করেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর টিফিনে ডিম থাকে। কিন্তু ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকায় এক হালি ডিম কিনতে তাদের অভিভাবকদের চিন্তা বেড়েছে।

মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা খাতুন জানায়, তাদের ফেলে বাবা অন্যত্র চলে গেছে। একটি বস্তিতে মায়ের সঙ্গে সে থাকে। স্কুলে তার টিফিন আনা হয় না। আগে বাসায় মাঝেমধ্যে ভাজা ডিম দিয়ে ভাত খেতে পেত। এখন তার মা ডিম কেনে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত উচ্চমানের। ডিম মস্তিষ্ক আর পেশি গঠনে এবং রোজকার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ডিম হলো সবচেয়ে বেশি পুষ্টিতে ঠাসা খাবার। লাল ডিম ও সাদা ডিমে প্রোটিন ও পুষ্টিগুণের কোনো ফারাক নেই। তাই একে ‘সুপার ফুড’-এর শিরোপা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শিশু থেকে বয়স্ক সবার পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিম ও ডিম উৎপাদনে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা দেওয়া উচিত। ডিম সব সময় নিুবিত্তদের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ ডিমের দাম বাড়লে মধ্যবিত্তের ঘরে পুষ্টিতে আঘাত আসে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, বিশ্বের এমন কোনো হাসপাতাল নেই যেখানে রোগীর খাদ্যে ডিম দেওয়া হয় না। সবখানে ডিম থাকবেই।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রফেসর ড. শওকত আরা শাকুর মিলি যুগান্তরকে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হলো ডিম। চোখ ভালো রাখতেও ডিমের কোনো জুড়ি নেই। একমাত্র ডিমে আছে সঠিক পরিমাণে ক্লোরিনা। তাই বুদ্ধি বাড়াতে আর স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে ডিম উপযুক্ত খাদ্য। ডিমে থাকা লিউটেইন ও জিআক্সানথিন চোখ ভালো রাখে। এ কারণে ডিমের দাম সব মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কী পরিমাণ ডিম উৎপাদন হলো সেই হিসাব মুখ্য নয়। ডিমের দাম কমিয়ে সবার ক্রয়সীমার মধ্যে রাখাই মুখ্য হওয়া উচিত।

পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো জানান, ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ডিমের রঙ বদলায় কেবল মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। লাল ও সাদা দুই ধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট (দ্রবণীয় মাত্র ১.৫ গ্রাম) থাকে।

তিনি বলেন, কাঁচা ও অতিরিক্ত তেলে না ভেজে সিদ্ধ ডিম প্রতিদিনের মেনুতে রাখা উচিত।

সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে ডিমের দাম রাখা উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, খুচরা বাজারে ডিমের হালি ৩০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত। সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিম উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া হোক।

পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা জানান, ডিমে অনেকটা কোলেস্টেরল আছে। কিন্তু তা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং হার্টের উপকারী হাই ডেনসিটি কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) পরিমাণ বাড়িয়ে হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। হার্টের অসুখ বা কোলেস্টেরলের ভয়ে যারা ডিম খেতে ইতস্তত করেন তাদের আশ্বস্ত করেছেন পুষ্টিবিদরা।

স্বর্ণের দাম বাড়ল ভরিতে যত

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। ২২, ২১ ও ১৮- এই তিন মানের (ক্যারেট) স্বর্ণের ভরিতে ২ হাজার ৩৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরির দাম পড়বে ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা।

শুক্রবার স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার থেকে এই দর কার্যকর হবে।

স্বর্ণের নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ৭৪ হাজার ৩০০ টাকা। যা ৭১ হাজার ৯৬৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল শুক্রবার পর্যন্ত।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম পড়বে ৭১ হাজার ১৫০ টাকা। শুক্রবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৬৮ হাজার ৮১৭ টাকায়।

আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৪০২ টাকা। শুক্রবার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল ৬০ হাজার ৬৯ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে স্বর্ণ প্রতি ভরির দাম পড়বে ৫২ হাজার ৭৯ টাকা। যা শুক্রবার পর্যন্ত বিক্রি হয় ৪৯ হাজার ৭৪৬ টাকায়।

এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ হাজার ২১৫ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম রয়েছে ৯৩৩ টাকা।

‘এমপি লীগ’ই শেষকথা ত্যাগীরা কোণঠাসা

রাজশাহীতে এখন ‘এমপি লীগ’ই শেষকথা। আদর্শের রাজনীতি বলতে কিছু নেই। যারা যতক্ষণ এমপির স্বার্থ হাসিলসহ মন জুগিয়ে চলতে পারবে, ততক্ষণ তারাই এমপির ডান হাত। তাদের হাতেই থাকে সবকিছু। যে কোনো বিষয়ে তারা যেটি বলে, সেটিই সিদ্ধান্ত। প্রশাসনও তাদের সমীহ করে চলে।

প্রতিটি সংসদীয় আসনে শাসক দল আওয়ামী লীগে সদর-অন্দরের এমন চিত্র ধরা দিয়েছে যুগান্তরের অনুসন্ধানে। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিশেষ কিছু ব্যক্তির ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গত এক যুগে সরকারদলীয় দলে এমন দুরবস্থার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে।

এই যখন অবস্থা, তখন আওয়ামী শিবিরে চাপা অসন্তোষের পালে প্রতিবাদের জোরালো বাতাস বেশ জোরেশোরে বইতে শুরু করেছে। কেউ কেউ সাহস করে কথা বলছেন। ফাঁস করে দিচ্ছেন সব গুমোর। অনেকে আবার কৌশলী। হেনস্তা হওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে চান না। তারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে নানা বঞ্চনা আর ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন-কীভাবে তাদের চোখের সামনে আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহাসিক বড় দল থেকে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শ পালিয়ে গেল, ক্ষমতার অপরাজনীতির কাছে হেরে গেল আদর্শের রাজনীতি।

আশার আলোর বাতিঘরগুলো নিভু নিভু প্রায়। চারিদিকে জেঁকে বসেছে হাইব্রিড। তোষামোদকারীদের জয়জয়কার। যুগান্তরের কাছে তারা এমন ভাষায় তুলে ধরেছেন সেসব কষ্টের কথা।

তবে আশার কথা, এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক প্ল্যাটফরমে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করছেন। চাইছেন কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ। প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয় দলের এই দুর্বৃত্তায়নের বৃত্ত ভাঙতে কঠোর হবেন। বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন, মূল্যায়ন করবেন।

সূত্রগুলো জানায়, টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের আদর্শিক রাজনীতি প্রায় উধাও। এই এক যুগে দলের দুর্দিনের সঙ্গী ত্যাগী নেতাকর্মীদের বড় অংশই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। তেমনইভাবে হাইব্রিডদের অনেকেই সেসব পদ-পদবিতে আসীন। জেলার প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় এখন সংগঠন চলছে এক ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর। যাকে সবাই নাম দিয়েছেন ‘এমপি লীগ’।

এমপিরা ভবিষ্যতে ক্ষমতার রাজনীতির রোডম্যাপ ঠিকঠাক রাখতে বিকল্প নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে চান না। বরং রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রে রূপ দিতে যে যার মতো আস্থাভাজনদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজস্ব শক্তির নিশ্ছিদ্র বলয়। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়াও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বহাল এই নিখুঁত কারুকাজ। ত্যাগীদের ত্যাগ করে বসিয়ে দিচ্ছেন নিজের ধ্বজাধারীদের।

এ সুবাদে বিতর্কিতরাও এমপিদের আশীর্বাদে যেখানে-সেখানে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদপদবিতে শক্ত আস্তানা গেড়ে বসছেন। কেউ কেউ মনোনয়ন পেয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন।

এসব নিয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাবলু যুগান্তরের কাছে মুখ খোলেন। রাখঢাক না রেখে খোলাখুলি তুলে ধরেন বাস্তব চিত্র।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগের রাজনীতি রাজশাহীতে এখন ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। সংসদ সদস্যরা এলাকায় নিজের মতো করে দল চালান। যারা কেবল শুধু হুজুর হুজুর করতে পারেন; পদপদবি, সুযোগ-সুবিধা তারাই লুটছেন। ত্যাগীরা উপেক্ষিত। দলীয় রাজনীতি ও সংগঠন নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই বললেই চলে। জেলা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে সংসদ সদস্যরা প্রায়ই থাকেন না।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা যুগান্তরকে বলেন, ‘এমপি সাহেবরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন ও কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে হয়তো তারা জেলা কমিটির কর্মসূচিতে থাকতে পারেন না। সংসদ সদস্যরা জেলা কমিটির সদস্য। তাদেরকে ডাকা হয়। কিন্তু আসতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে দলকে শক্তিশালী করতে হলে পদবঞ্চিতদের মান-অভিমান ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। এটা অব্যাহত থাকলে তা দলের জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।’

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ চলে মূলত এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুগত দুই নেতার ইশারায়। তারা হলেন উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। এলাকার সবাই তাদেরকে এমপির ডান ও বাম হাত বলে জানে। এমপির কাছে পৌঁছাতে নেতাকর্মীদের এই দুই নেতার কাছে ছুটতে হয়।

গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বদি রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে উধাও দুই বছর। গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এমপি ফারুকের বিরাগভাজনে পরিণত হন। এ কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত দলীয় পদও হারাতে হয়। অবশ্য এ ঘটনার আগে বদিউজ্জামানও এমপির ডান হাত বলে পরিচিত ছিলেন।

অপরদিকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি রবিউল আলম দলে ভিড়েই রাতারাতি হিরো বনে যান। এমপির বদান্যতায় পেয়ে যান পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের টিকিট। এই আলমও একসময় এমপি ফারুকের দক্ষিণহস্ত ছিলেন। কিন্তু এমপির মতের বাইরে কিছু কাজ করায় তার নাম এমপির আস্থার খাতা থেকে বাদ পড়ে। এখন আবার এমপির কাছে ভিড়তে মরিয়া আলম।

আব্দুল মজিদ মাস্টার ছিলেন বিএনপির উপজেলা সভাপতি। সরকার দলীয় দলে যোগ দিয়েই কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। দলের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তবে এবার মনোনয়ন পাননি। এমপি ওমর ফারুকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেতার এখন বড়ই দুর্দিন।

এদিকে এমপির নিজস্ব বলয় তৈরির এ রকম বহু ঘটনা ও অঘটনের কারণে আওয়ামী লীগে দুর্দিনের কান্ডারি উপজেলা কমিটির সাবেক সভাপতি রবু মিয়াসহ অনেক ত্যাগী নেতার এখন দলে কোনো পদ নেই। প্রাণপ্রিয় সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাইলেও তারা অনেকটা কোণঠাসা।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনি আরেক উপজেলা তানোর। সেখানে আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন একসময় ছিলেন তার দুটি শক্তিশালী হাত। কিন্তু মধুর সে সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এ কারণে রাব্বানী-মামুনকে আর দলীয় কর্মসূচিতে ডাকা হয় না।

এমপি ফারুক চৌধুরী তার চাচাতো ভাই বাবু চৌধুরীকে উপজেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করেন। অবশ্য বর্তমানে এমপি ফারুক তার ভাতিজা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর রশীদ হায়দার ময়নার ওপর বেশি নির্ভরশীল। তাই তানোরে এমপির সব কাজ ময়নার হাতের কবজায়। দলের পুরোনো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা এখন নিষ্ক্রিয়। প্রবীণ নেতাদের কেউ এখন খোঁজও নেন না।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘বদি কিংবা রাব্বানী-মামুনই বলেন-কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তারা দলের বিরুদ্ধে কাজ করেন। সব সময় নৌকা ডুবাতে মরিয়া। আমি বাঁচাতে চাই। বিরোধ বলতে এটুকুই। এজন্য নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ার ভয়ে তারা দলীয় কর্মসূচিতে আসেন না।’

এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের কোনো বলয় নেই। যারা দলকে ভালোবাসেন, তারাই আমার সব। এছাড়া মনে রাখতে হবে, রাজশাহী আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য উর্বর এলাকা না। ভোটের রাজনীতির হিসাবনিকাশ মেলাতে সব সময় কিছু লোক অন্য দল থেকে যুক্ত হয়। সারা দেশেই একই চিত্র। যোগ্য মনে করলে রাজনৈতিক কারণেই তাদের দলে জায়গা দেওয়া হয়। সংগত কারণে রাজশাহীতেও কিছু নেতা অন্য দল থেকে এসেছেন। কেউ পদপদবিও পেয়েছেন। আবার কেউ পাননি।’

এদিকে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও দলীয় রাজনীতিতে কয়েকজনের ওপর নির্ভরশীল। দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্মকে তিনি প্রশ্রয় দেন না বলে তার যথেষ্ট সুনাম আছে এলাকায়। মন্ত্রী নিজেই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তবে বাঘায় মন্ত্রীর অতি ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিতদের স্থানীয়রা ‘চার খলিফা’ বলে নাম দিয়েছেন। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু, অধ্যক্ষ নছিমুদ্দিন ও সদস্য মাসুদ রানা তিলু। আসল কথা হলো-এই চারজনের কথার বাইরে এখানে কিছুই হয় না।

আওয়ামী লীগের প্রথম সারির ত্যাগী নেতা বলে পরিচিত বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্কাছ আলী এবং তার অনুসারীরা দলে এখন গুরুত্বহীন। এ কারণে তারা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সময় পার করছেন।

অপরদিকে চারঘাটে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলামই দলের শেষকথা। তবে বাঘা-চারঘাট সংসদীয় আসনে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ অথবা বিপক্ষের কোনো নেতাই যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

রাজশাহী-৩ সংসদীয় আসন পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। সরকারি দলের এমপি আয়েন উদ্দিন। তবে অভিযোগ আছে তিনি নিজস্ব ক্ষমতাবলয় দিয়ে এখানে গড়ে তুলেছেন বিশাল সাম্রাজ্য।

গুরুতর অভিযোগ, সরকারি ও ব্যক্তিগত কয়েক শ বিঘা জমির কিছুটা কিনে বাকিটা নিয়েছেন দখল করে। এভাবে গড়ে তুলেছেন বিশাল মৎস্য খামার। মাঠের ভেতরে বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি। এসব কাজে সঙ্গী হাইব্রিড ও বিতর্কিতরা। যারা এখন এমপি আয়েন উদ্দিনের অতি আস্থাভাজন। নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তিনি নিজের ভাইকে বানিয়েছেন ঘাসিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান। ভগ্নীপতি আব্দুস সালাম মোহনপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি। একেবারে নিখুঁত পরিবারতন্ত্র।

তবে এমপি আয়েন উদ্দিন সংগঠনের কোনো ধার ধারেন না। সাধারণ লোক তো দূরের কথা, হামলা-মামলার ভয়ে দলের পদধারী কোনো নেতাও আয়েনের অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন।

এসব অভিযোগের পুরোটাই অস্বীকার করেন এমডি আয়েন উদ্দিন। রোববার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি করেন। দলে যার যেমন অবদান, তাকে সেভাবেই মূল্যায়ন করা হয়।’

তার দাবি, কেউ বিপক্ষে নেই, সব নেতাকর্মী তার পক্ষে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জমি কিনেই মৎস্য খামার গড়েছেন। যারা এসব বলছে সেগুলো নিছক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। বরং কেউ তার বিরুদ্ধে একটি অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারবে না।

ওদিকে জেলার বাগমারায় বিরাট এক লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। বিভিন্ন দল থেকে লোক এনে তিনি নিজের মতো করে দল সাজিয়েছেন। সেখানে জামায়াত নেতাদেরও ঠাঁই দিতে ভুল করেননি। বলা যায়, একেবারে ‘রাজনীতির ডিপার্টমেন্টাল স্টোর’। সেখানে সব দলকে পাওয়া যাবে।

২০০৯ সালে এমপি হওয়ার পর তিনি এলাকার রাজনীতিতে এমন অভূতপূর্ব মিলন ঘটিয়েছেন। নিজেই উপজেলা কমিটির সভাপতি। বিএনপি থেকে আসা মাসুদুর রহমান উপজেলা কমিটির আইন সম্পাদক। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির ক্যাডার আতাউর উপজেলা কমিটির সদস্য। জামায়াত নেতা হাফিজুর ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এখন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক। জাপার লাঙ্গল নিয়ে ভোট করা মোজাম্মেল হক এখন আওয়ামী লীগের সদস্য। কুখ্যাত রাজাকার সাহেব আলির ছেলে আয়েন উদ্দিনও উপজেলা কমিটির সদস্য (!)

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, বাগমারার সংসদ সদস্য এনামুলের বদান্যতায় এখানে সর্বদলীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে কারও কিছু বলার নেই, করারও নেই। এটিই হলো বাস্তবতা।

এ প্রসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘উন্নয়ন আর ভোটের রাজনীতিতে দলকে এগিয়ে নিতে কিছু লোক অন্য দল থেকে এসে ভালো কাজ করছেন। দল লাভবান হয়েছে। দলের ত্যাগীদেরও সম্মান ও মূল্যায়ন করেছি। বিভক্তি বিভাজনের রাজনীতি বাগমারায় নেই। মানুষের উন্নয়নে কাজ করছি। বাগমারার মানুষ খুশি।’

রাজশাহীর পুঠিয়া-দুর্গাপুর আসনের এমপি ডা. মনসুর রহমান রাজনীতির বাইরের লোক। এখানকার চিত্র অন্য এলাকার ঠিক বিপরীত। পুঠিয়া দুর্গাপুরে এমপির কোনো রাজনীতি নেই। এই আসনের সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা এখন জেলা কমিটির সম্পাদক। সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এমপির যোগাযোগও প্রায় শূন্য। নেতাকর্মীরা সাবেক এমপি দারার নেতৃত্বে চলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে বলেন, ডা. মনসুর এমপির সঙ্গে দলের কেউ না থাকার কারণ তিনি কাউকে চেনেন না। চেষ্টাও করেন না। এমপি দলীয় কর্মসূচিতে থাকেন না।

সাবেক এমপি দারা যুগান্তরকে বলেন, ‘পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের নেতাকর্মীরা সংগঠিত। এমপি সাহেব তার মতো চলেন। ওসব নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। দলের নেতাকর্মীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসেন। আমি সাধ্যমতো দেখি।’

ডা. মনসুর রহমান এমপি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি এলাকার উন্নয়নে মনোযোগী। রাজনীতির জটিল গর্তে আটকাতে চাই না।’ তার দাবি, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যথেষ্ট যোগাযোগ রয়েছে।

এদিকে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল ঘটে। আগের কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাদ পড়েন। ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে এই দুই নেতার অনুসারীরা কেউ পদ পাননি। অন্যদিকে জেলা কমিটিতে ঢুকে পড়েন হাইব্রিডরা।

অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহীতে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার অগ্রনায়ক ছিলেন জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান। কিন্তু প্রকৃত আদর্শিক নেতা হওয়ায় অনেক অপ্রিয় সত্য বলে দেওয়াই তার কাল হয়েছে। হারাতে হয়েছে পদও। এসব কারণে তিনিসহ তার অনুসারীরা এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। এর ফলে মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে পড়েছে।

জেলা কমিটিতে পদবঞ্চিত হয়েছেন সাবেক কমিটির সহসভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রবু মিয়া, মোকবুল হোসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক হিরু মাস্টার। এই হিরু মাস্টার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ৩১ বার জেলে গেছেন। অবজ্ঞা আর বঞ্চনার কারণে সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মজিদ সরদারসহ শতাধিক একনিষ্ঠ নেতা এখন দল থেকে কার্যত ছিটকে পড়েছেন।

রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো সংসদ সদস্য নেই। সরকারের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এখানে এমপি। তবে অবাক বিষয় হলো-বিএনপির দুর্গ বলে খ্যাত এই আসনটিতে আওয়ামী লীগ খুবই সুসংগঠিত।