ভারতকে কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যাত্রা দুর্দান্ত শুরু করেছিল পাকিস্তান। বিরাট কোহলিদের ১০ উইকেটে নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন বাবর আজম ও রিজওয়ান।
সেই পরাজয়ই যেন মনবল ভেঙে দেয় কোহলিদের। পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছেও ৮ উইকেটে হারে ভারত। এরপর খর্বশক্তি তিন দলকে হারালেও সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানায় ভারত।
আর অন্যদিকে উল্টোটাই ঘটেছে পাকিস্তান দলের জন্য। ভারতকে নাস্তানাবুদ করে মনবল চাঙা হয়ে যায় পাকিস্তানের। টানা পাঁচ ম্যাচ জিতে অপরাজিত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠে বাবর আজমরা।
সেমিতেও অসিকে বধ করে ফাইনালের টিকিট কাটবে পাকিস্তান এমনটাই বিশ্বাস ছিল অনেকের। কিন্তু বৃহস্পতিবার ১৯তম ওভারে জীবন পেয়ে পরের তিন বলে তিন ছক্কায় পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলেন ম্যাথু ওয়েড!
পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকিট কাটে অস্ট্রেলিয়া।
পাকিস্তানের এই হারকে বড় ম্যাচে পতন হিসেবে দেখছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।
ম্যাচ হারের পর কলকাতার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার ডিজিটাল ভার্সন শিরোনাম করেছে, ‘উল্কার গতিতে উত্থান এবং পতন, বড় ম্যাচে হতাশ করল পাকিস্তান।’
তবে বাবর আজমের দলের প্রশংসাই ঝরেছে প্রতিবেদনে।
পাকিস্তানের এই পরাজয়ে সেই ভারতের বিপক্ষের ম্যাচের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে প্রতিবেদনের।
সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ট্রফির দাবিদার হিসেবে পাকিস্তানের নাম কখনওই শোনা যাচ্ছিল না। কিন্তু ভারতকে হারাতেই চমকে গেল বিশ্ব। সাড়া জাগিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেন বাবররা।
এর পর একের পর এক ম্যাচে খেলতে নামেন এবং জেতেন। বল হাতে শাহিন আফ্রিদি, হাসান আলি, হ্যারিস রউফ, ইমাদ ওয়াসিমরা ত্রাস হয়ে ওঠেন ব্যাটারদের।পাকিস্তান শুধু ম্যাচ জেতেনি, লিগ পর্বে হৃদয় জিতে নিয়েছিল।
কিন্তু সেই সব আশা ভেঙে যায় বৃহস্পতিবার। অস্ট্রেলিয়ার সামনে স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে পারল না পাকিস্তান। হতাশ পাকিস্তানের ছবি দেখল বিশ্ব।
হিন্দুস্তান টাইমসের বাংলা ভার্সন শিরোনাম করেছে, ‘বারবার পাঁচবার! অজিদের বিরুদ্ধে নকআউটে হারের ইতিহাস বদলাল না বাবরদের’।
এই প্রতিবেদনেও পাকিস্তানের কাছে ভারতের হারের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।
সেখানে লেখা হয়েছে – টুর্নামেন্টের শুরুতে ভারতকে হারিয়ে অতীতের পরিসংখ্যান বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল পাকিস্তান, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে, সেটা সম্ভব হল না। এই পরাজয়ের ফলে ফের একবার অতীতের ইতিহাস ফিরে আসল। এই নিয়ে দুই দলের আইসিসি টুর্নামেন্টের নক আউট পর্বে মুখোমুখি সাক্ষাৎ-এ পাঁচ বারের মধ্যে পাঁচ নম্বর বারই হারল পাকিস্তান।


