বৃহস্পতিবার ,৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 643

দ্বিতীয় স্থানেও নেই আওয়ামী লীগ

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনোজিৎ বালা ৬ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই দলের আরেক বিদ্রোহী এএম আমিনুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৪ হাজার ৬২২ ভোট। এ দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর দাপটে কোণঠাসা আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান সাকুর উদ্দীন ভোট পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৫৯১।

২১ হাজার ৬১৪ ভোটারের এই ইউপি নির্বাচনে ভোট পড়েছে ১৭ হাজার ৫১১টি। অর্থাৎ ৮১ দশমিক ০২ শতাংশ। এ হিসাবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তার জামানতের টাকাও রক্ষা করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে এ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়।

একই ধরনের ফল দেখা যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউপি নির্বাচনে। এখানে ৩ হাজার ৩১৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তারেক হোসেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী কামারুজ্জামান কামু ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬৬টি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শেখ কামাল এতই কম ভোট পেয়েছেন যে, তিনিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এমনকি জামানতও রক্ষা করার মতো ভোটও পাননি।

শুধু জামিরা বা বুড়াবুড়ি নয়, এমন ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রতিযোগিতায় আসতে পারেননি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এসব প্রার্থী এতই কম ভোট পেয়েছেন যে তারা দ্বিতীয় অবস্থানও অর্জন করতে পারেননি।

এ ১৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে দুটিতে জাতীয় পার্টি ও বাকি ১৩৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই শাসক দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

তবে ২০২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ৮৩৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার নির্বাচন হওয়া ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সাতটি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং বাকি সাতটি উন্মুক্ত রাখা হয়।

যে সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রার্থী দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মধ্যে দুটিতে তারা ভোট পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে নেই। বাকি পাঁচটির মধ্যে দুটিতে জয়ী ও তিনটিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। উন্মুক্ত করে দেওয়া সাতটি ইউপির হিসাব বাদেই এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ধাপের ফল ঘোষিত ৮৩৩টির মধ্যে ৩৪৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭৭ জনসহ ৪৮৫টিতে জয় পেয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে স্বতন্ত্ররা ৩৩০, জাতীয় পার্টি ১০, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪ ও অন্য চারটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা একটি করে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোট পড়ার হার ৭৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বিএনপি দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে দলটির স্থানীয় অনেক নেতাই এ নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং জয়লাভও করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মাঠপর্যায়ের দলটির কয়েক নেতার অভিযোগ, যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়া এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাপটের কারণে সরকারদলীয় প্রার্থীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

এ কারণে তারা জয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও আসতে পারেননি। যদিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তা মানতে নারাজ। তাদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় বিভিন্ন বিষয় ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। এ কারণে অনেক সময় দলীয় প্রার্থীরা হেরে যান।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান শনিবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, মনোনয়ন বোর্ডের বিবেচনায় সঠিক ব্যক্তিকেই দলীয় প্রতীক দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া সব প্রার্থীই জিতবেন, এমন নয়।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও দলগত বিষয়ের বাইরেও স্থানীয় অনেক বিষয় নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। নানা মেরুকরণের কারণে দলীয় কিছু প্রার্থীর পরাজয় হতে পারে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল আশাব্যঞ্জক। আমাদের প্রার্থীরা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়নি। যারা এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তারাই পরাজিত হয়েছে।

ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে সাতটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এতে দুটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে একই দলের বিদ্রোহী এবং দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

যে দুটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সেগুলো হচ্ছে-তেঁতুলিয়া ও শালবাহন। বাকি পাঁচটিতে হেরে যান। এর মধ্যে তিনটি-দেবনগর, ভজনপুর ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানেও আসতে পারেননি।

তবে বাংলাবান্ধা ও তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল থাকায় এমন ফলাফল এসেছে বলে মনে করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুর রহমান ডাবলু।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হওয়ার কারণে এবং সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে না পারায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ভালো করতে পারেনি। আমি পঞ্চগড় জেলা মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আমি প্রার্থী বাছাই সঠিক না হওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলাম।

ফল বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার জামিরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ হাজার ৬৭৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম সরদার।

তিন হাজার ৩২৬ ভোট পেয়ে তার নিকটতম অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল হাসান। অথচ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু হেনা মোস্তফা কামাল পেয়েছেন মাত্র এক হাজার ১৭৫ ভোট।

এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৫ হাজার ৯৯০টি ভোটের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৫৩টি ভোট পড়ে। ভোট পড়ার হার ৮৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

দ্বিতীয় ধাপে খুলনা জেলায় ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এ জেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে ভোট পাওয়ার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানেও আসতে পারেননি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

১০টিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। আর ১০টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। বাকি পাঁচটিতে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে অনেক জটিলতা থাকে। এ নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিষয় ছাড়া স্থানীয় বিষয়ও জড়িত থাকে। সেই কারণে কয়েকজন প্রার্থী পরাজিত হতে পারে। আমরা যা যাচাই-বাছাই করে কেন্দ্রে রিপোর্ট পাঠাব।

আরও দেখা যায়, পঞ্চগড়ে তিনটি, ঠাকুরগাঁওয়ের দুটি, দিনাজপুরে এক, নীলফামারীতে চার, লালমনিরহাটে এক, রংপুরে দুটি, কুড়িগ্রামে তিন ও গাইবান্ধায় ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দ্বিতীয় হতে পারেননি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। একইভাবে বগুড়ায় ১০টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুটি, নওগাঁয় চারটি, রাজশাহীতে দুটি, পাবনায় একটি, মেহেরপুরে দুটি, কুষ্টিয়ায় একটি, চুয়াডাঙ্গায় একটি, ঝিনাইদহে একটি, যশোরে চারটি, মাগুরায় একটি, নড়াইলে চারটি, খুলনায় সাতটি ও সাতক্ষীরায় দুটিতে প্রতিযোগিতায় নেই দলটির প্রার্থীরা।

অন্যান্য জেলার মধ্যে পিরোজপুরে একটি, জামালপুরে দুটি, শেরপুরে একটি, ময়মনসিংহে ১২টি, নেত্রকোনায় চারটি, টাঙ্গাইলে তিনটি, কিশোরগঞ্জে সাতটি, মানিকগঞ্জে একটি, মুন্সীগঞ্জে দুটি, গাজীপুরে একটি, নরসিংদীতে দুটি, ঢাকা জেলায় দুটি, রাজবাড়ীতে একটি, ফরিদপুরে একটি, মাদারীপুরে তিনটি, গোপালগঞ্জে দুটি, সুনামগঞ্জে ছয়টি, সিলেটে তিনটি, মৌলভীবাজারে দুটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি, কুমিল্লায় একটি, নোয়াখালীতে চারটি, লক্ষ্মীপুরে একটি, কক্সবাজারে চারটি ও রাঙ্গামাটিতে দুটি রয়েছে।

যেসব জায়গায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন : পঞ্চগড়ে দুটি, ঠাকুরগাঁওয়ে তিনটি, দিনাজপুরে দুটি, নীলফামারীতে চারটি, লালমনিরহাটে একটি, রংপুরে পাঁচটি, কুড়িগ্রামে দুটি, গাইবান্ধায় দুটি ও জয়পুরহাটে একটি। এছাড়া বগুড়ায় দুটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারটি, নওগাঁয় পাঁচটি, রাজশাহীতে তিনটি, নাটোরে পাঁচটি, সিরাজগঞ্জে একটি, পাবনায়, মেহেরপুরে পাঁচটি, কুষ্টিয়ায় সাতটি, চুয়াডাঙ্গায় একটি, ঝিনাইদহে পাঁচটি ও যশোরে পাঁচটি। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে মাগুরায় দুটি, খুলনায় আটটি, সাতক্ষীরায় আটটি, পটুয়াখালীতে ছয়টি, ভোলায় দুটি, পিরোজপুরে তিনটি, জামালপুরে দুটি, শেরপুরে চারটি, ময়মনসিংহে সাতটি, নেত্রকোনায় তিনটি, টাঙ্গাইলে দুটি, কিশোরগঞ্জে দুটি, মানিকগঞ্জে দুটি, মুন্সীগঞ্জে সাতটি ও গাজীপুরে দুটি। নরসিংদীতে চারটি, নারায়ণগঞ্জে ছয়টি, ঢাকা জেলায় পাঁচটি, ফরিদপুরে পাঁচটি, গোপালগঞ্জে তিনটি, মাদারীপুরে পাঁচটি, শরীয়তপুরে চারটি, সুনামগঞ্জে চারটি, সিলেটে ছয়টি, মৌলভীবাজারে দুটি, হবিগঞ্জে একটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঁচটি, কুমিল্লায় চারটি ও নোয়াখালীতে চারটি। আরও আছে চট্টগ্রামে পাঁচটি, কক্সবাজারে ছয়টি, খাগড়াছড়িতে দুটি এবং রাঙ্গামাটিতে তিনটি ইউনিয়ন পরিষদে।

এসএসসি পরীক্ষা শুরু

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষা বেলা সাড়ে ১১টায় শেষ হবে।

প্রথম দিন সকালে হচ্ছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা।

এবার সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এবং প্রতি বিভাগে তিন বিষয়ে (নৈর্ব্যক্তিক) পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আগামীকাল সোমবার সকালে মানবিকের বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং বিকালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা।

এবার সর্বমোট পরীক্ষা দিচ্ছে ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ শিক্ষার্থী।

গত বছরের চেয়ে এই সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। গত বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন। অন্যান্য বছর পরীক্ষার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হলেও এবার ৩০ দিনে শিক্ষার্থীরা ফল পেয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এবারে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে এসএসসিতে অংশ নিয়েছে ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। এছাড়া দাখিলে ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী আছে।

পাশাপাশি বিদেশের আটটি কেন্দ্রে ৪২৯ জন পরীক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিয়েছে। সারা দেশে এসএসসিতে ৩ হাজার ৬৭৯টি, দাখিলে ৭১০টি এবং এসএসসি ভোকেশনালে ৭৬০টি কেন্দ্র আছে। গত বছরের চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৫১টি আর কেন্দ্র ১৬৭টি বেড়েছে।

এবারের এই পরীক্ষা হচ্ছে সংক্ষিপ্ত (কাস্টমাইজড) সিলেবাসে। অনুরূপভাবে ১০০-এর পরিবর্তে ৫০ নম্বরে নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষা। তবে পরীক্ষায় প্রশ্নের বিকল্পসংখ্যা আগের মতোই থাকছে।

যেমন: বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদেরকে আগে ৮টি সৃজনশীল প্রশ্নের মধ্যে ৫টির উত্তর দিতে হতো। এখন ৮টির মধ্যে ২টির উত্তর দিতে হবে। মানবিক এবং বিজনেস স্টাডিজে ১১টির মধ্যে উত্তর করতে হবে ৩টি।

এমসিকিউ-এর ক্ষেত্রে মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ৩০টির মধ্যে ১৫টি আর বিজ্ঞানে ২৫টির মধ্যে ১২টির উত্তর করতে হবে। পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টার পরিবর্তে দেড় ঘণ্টা। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় বেশি পাচ্ছে।

বিজ্ঞানে ২৫ নম্বরের ব্যাবহারিক, ২৫ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৫০ নম্বরের সিকিউ প্রশ্ন হতো। আর মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজে ব্যাবহারিকবিহীন বিষয়ে ৭০ নম্বরে সিকিউ ও ৩০ নম্বরে এমসিকিউ পরীক্ষা হতো।

এবারও নির্ধারিত পূর্ণমানের মধ্যে শিক্ষার্থী যা পাবে, সেটা শতভাগে রূপান্তর করা হবে। প্রত্যেক বিভাগে ৩টি করে বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে। বাকি বিষয়ে জেএসসিতে প্রাপ্ত নম্বরের প্রবণতা দেখে নম্বর দিয়ে এসএসসি ও সমমানে ফল দেওয়া হবে। ২৩ নভেম্বর শেষ হবে এই পরীক্ষা।

বিচারক কামরুন্নাহারকে আদালতে না বসার নির্দেশ

ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর মামলা না নেওয়া সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের পর্যবেক্ষণের জেরে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে এই বিচারককে রোববার সকাল থেকে আর আদালতে না বসার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

‘তার ফৌজদারী বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে বর্তমান কর্মস্থল হতে প্রত্যাহার করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে অদ্য ৯:৩০ ঘটিকায় আইন মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।’

এর আগে গত ১১ নভেম্বর দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে আদালত পুলিশের উদ্দেশে এ পরামর্শ দেন। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত আলোচিত এ মামলার রায় দেন। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মামলার দুই ভিকটিম আগে থেকেই সেক্সুয়াল কাজে অভ্যস্ত। তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গিয়েছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন, ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। অহেতুক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া এরপর থেকে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায়- তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

আলোচিত ওই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমি উনার রায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। অবজারভেশনে (৭২ ঘণ্টা পরে পুলিশ যেন কোনো ধর্ষণ মামলার এজাহার না নেয়) উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন এ সম্পর্কে আমি বলতে পারি, এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। এই কারণে আগামীকাল (রোববার) প্রধান বিচারপতির কাছে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন নিয়ে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেজন্য একটা চিঠি লিখছি। এ বিষয়ে ওই বিচারক ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন শেষ পর্যন্ত গড়াল আদালতে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ চেয়ে আবারো আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সোসাইটির সাবেক সদস্য নিউইয়র্ক প্রবাসী ওসমান চৌধুরী।

দুই বছর মেয়াদি কমিটির চলতি নির্বাচন ঘোষণার আগে নির্দিষ্ট সদস্য ফি দিয়ে কেউই সদস্যপদ নবায়ন করেননি এবং এমনকি ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করার ফলে সোসাইটির প্রচুর আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে মর্মে তিনি নির্বাচন স্থগিতের আদেশ চেয়েছেন আদালতে। শুক্রবার ১২ নভেম্বর দুপুরে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

ওসমান চৌধুরী জানান, আদালতের নিয়ম অনুযায়ী স্থগিত আদেশ প্রদানের আগে বিবাদীদের নোটিশ দিয়ে অবহিত করতে হয়। তিনি সেই নিয়ম মেনেই তাদের আদালতের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) জ্যামাইকার কুইন্স কাউন্টির সুপ্রিম কোর্টে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ইচ্ছা হলে যথাসময়ে বিবাদীরাও আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের যুক্তিযুক্ত মতামত প্রদান করতে পারবেন বলে জানান ওসমান।

তিনি ২০১৮ সালেও নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণে তার অধিকার ফিরে পেতে এবং তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে- এমন অভিযোগ এনে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক তা আমলে নেননি।
তিনি আগের মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেছেন; যার ইনডেস্ক নম্বর ৭৮৫০/২০১৮। এ বিষয়টি জানিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি, নির্বাচন কমিশন, সাবেক (প্রয়াত) সভাপতি কামাল আহমেদ এবং এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রব-রুহুল পরিষদের আব্দুর রব মিয়া, রুহুল আমীন সিদ্দিকী, নয়ন-আলী পরিষদের কাজী আশরাফ হোসেন (নয়ন), মোহাম্মদ আলী এবং জয়নাল আবেদীনকেও নোটিশ করেছেন ১০ নভেম্বর বুধবার।

নির্বাচনের ঠিক চার দিন আগে ওসমান চৌধুরী এহেন সিদ্ধান্তের ফলে সোসাইটির নির্বাচন আবারো স্থগিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমনি ওসমান চৌধুরী নিজেও আশাবাদী যে তিনি বিচারককে সঠিকভাবে বিষয়টি বোঝাতে পারলে জরুরিভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দিতে পারেন। শুক্রবার তিনি যদি সুপ্রিম কোর্টে অর্ডার টু শোকজ পিটিশন দাখিল করেন এবং তার পিটিশন বিষয়ে শুনানি হয়, তাহলে শুক্রবার শুনানির পর এ ব্যাপারে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। আদালত যদি নিষেধাজ্ঞা দেন, তাহলে নির্বাচন আবারো স্থগিত থাকবে।

বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান

এ কথা বাস্তব যে, আমাদের নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে বিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতিতে মুসলমানদের কোনো অবদান নেই। তবে তাদের এ বিশ্বাস সঠিক নয়; মূলত বিজ্ঞানের আজ যে উত্থান ও উন্নয়নের পেছনে মৌলিক ভূমিকা পূর্ববর্তী মুসলিম মনীষীদের।

বিজ্ঞানকে উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর গোড়ার কারিগর তারা। কিন্তু বিজ্ঞানে আজ মুসলমানদের উল্লেখযোগ্য দখল নেই। এ ময়দানে যখন তারা পিছিয়ে পড়ে তখন এর নেতৃত্বে আসে পশ্চিমারা এবং তাদের হাত ধরেই বিজ্ঞানের আজকের এ অবস্থান।

তবে ইতিহাস এখনো এ কথা ভুলে যায়নি যে, যে সময় মুসলিম আন্দালুসের (স্পেন) অলিগলি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতার আলোয় রঙিন ছিল তখন পশ্চিমে বিরাজ করছিল অসভ্যতা ও মূর্খতার গাঢ় অন্ধকার।

মুসলামানদের এ উন্নতির নেপথ্যে ছিল তাদের ধর্ম ইসলাম, যে ধর্ম তার অনুসারীদের এ কথা জানায় যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু বিদ্যমান, তার সবই মানুষের সেবার জন্য মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।

এদিকে ইঙ্গিত করেই পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কি দেখ না আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, তার সবই আল্লাহ তোমাদের সেবায় নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতগুলো পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন?…(সূরা লুকমান, আয়াত : ২০)।’

একই সঙ্গে ইসলাম মুসলমানদের সব সৃষ্টির যথাযথ ব্যবহারেরও নির্দেশনা দিয়েছে। সুতরাং এ জাতি যদি সৃষ্টিতে গবেষণা করে তাহলে তাদের বিজ্ঞানে অগ্রবর্তী হওয়া খুবই স্বাভাবিক। যেমনটি অগ্রবর্তী হয়েছিলেন মধ্যযুগের মুসলিম বিজ্ঞানীরা।

বেশিরভাগ পশ্চিমারা বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদানের কথা কৌশলে চেপে রাখলেও তাদের উদারপন্থি একাধিক গবেষক এটার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন যে, পশ্চিমারা বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবন দানে আরব মুসলিমদের কাছে ঋণী।

কেননা, বিজ্ঞান ও গবেষণা জ্ঞান মুসলমানদের আবিষ্কার। তারাই এর মধ্যে প্রথম প্রবেশ করে এবং পরে তা ইউরোপ ও গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়।

ফিলিপ হিট্টি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হিস্ট্রি অব দি আরবস’-এ লিখেছেন, ‘মধ্য যুগে কোনো জাতিই সর্বক্ষেত্রে এতটা উন্নতি করতে পারেনি, আরব ও আরবি ভাষাভাষীরা যতটা করেছে’। আরবি ভাষা ও ইসলামবিষয়ক পশ্চিমা গবেষক মন্টগোমারি ওয়াট লিখেছেন, ‘আব্বাসি শাসনামলে বাগদাদে বিশ্বের সর্বপ্রথম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কায়রোতে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়, যেখানে একসঙ্গে অন্তত ৮ হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারত। এখানে ছিল নারী-পুরুষের পৃথক পৃথক ওয়ার্ড।

একইভাবে ভিন্ন ভিন্ন রোগীকে আলাদা আলাদা বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হতো। তা ছাড়া, এখানে পাঠাগার ও সেমিনার কক্ষও ছিল। এসব সুবিধা সে সময়ে পশ্চিমা বিশ্বে ছিল কল্পনাতীত।’

রবার্ট ব্রিফোট লিখেন, ‘বিজ্ঞানে আমরা আরব মুসলিমদের কাছে শুধু এ জন্য ঋণী নয় যে, তারা আমাদের বিপ্লবী ধারণা ও সৃজনশীলতা উপহার দিয়েছে; বরং বিজ্ঞানের উত্থানে আরব কালচার ও সংস্কৃতিও বেশ প্রভাব রেখেছে। এক কথায়, বিজ্ঞানের অস্তিত্বই আরবদের থেকে।..এটাও স্বতঃসিদ্ধ যে, আধুনিক শিল্প-সভ্যতার সূচনাতেও এ আরবদেরই অবদান।’

ইতিহাসের নিরপেক্ষ অধ্যয়ন এ কথাই বলে যে, আরব মুসলিমরা আন্দালুসে এমন এমন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল যেখানে ইউরোপের যুবরাজরাও জ্ঞানার্জনের জন্য আসতে বাধ্য হতো। পরে তারা দেশে ফিরে সেখানেও একই ধারার শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করতে সচেষ্ট হয়। একইভাবে স্পেনে বিদ্যমান অসংখ্য কিতাবাদি ও বইপত্র থেকেও ইউরোপ ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়। এ সবকিছুই পরে ইউরোপে বিজ্ঞানের পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইউরোপে ইসলামি সংস্কৃতি পৌঁছার বড় একটি মাধ্যম ছিল ইতালীয় উপদ্বীপের দক্ষিণে, ভূমধ্যসাগরের মাঝ বরাবর অবস্থিত সিসিলি দ্বীপ, এখানে মুসলমানরা অন্তত ১৩০ বছর শাসন করেছে। সে সময়ে এটিকে ইউরোপে ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র বিবেচনা করা হত। একই সঙ্গে ক্রুসেড এবং বাইতুল মাকদিস দর্শন ইউরোপীয়দের আরবদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেয়। এ সময়ও তারা আরবদের থেকে সভ্যতা শেখে।

ফরাসি চিকিৎসক ও ঐতিহাসিক গুস্তাভ লে বোন (১৮৪১-১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দ) তার গ্রন্থ আরব সভ্যতায় লিখেছেন, ‘পশ্চিমাদের ওপর আরবদের যে বিশাল অবদান আমরা তা ততক্ষণ পর্যন্ত অনুধাবন করতে পারব না, যতক্ষণ আমরা ইউরোপের সেই অতীতের সঙ্গে পরিচিত না হব, যখন তারা আক্ষরিক অর্থে অজ্ঞতার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।

মধ্যযুগে ইউরোপীয় এ অজ্ঞতার দীর্ঘ এক ইতিহাস রয়েছে। যখন সেখানের কিছু সচেতন ও বুদ্ধিমান লোক আরবদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করল, তখন দেখল-মরুর লোকদের থেকে তারা বেশ পশ্চাৎপদ এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তারা তাদের ইউরোপ থেকে অজ্ঞতার অন্ধকার নির্মূলের ইচ্ছা করল। কিন্তু জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোর উৎস তো আরবদের কাছে।

তাই বাধ্য হয়ে আরব মুসলিমদের দরজায়-ই কড়া নাড়ল তারা। আরবদের থেকে সাধ্যমতো জ্ঞান অর্জন করল। আসলে সেকালে জ্ঞান-বিজ্ঞানের রাজভাণ্ডারের অধিপতি তো ছিল আরবরাই।

মুসলিম স্পেনের বিশিষ্ট শল্যবিদ আবুল কাসেম জাহরাবির ‘আততাসরিফ’ গ্রন্থটি ১৪৯৭ সালে ল্যাটিন ভাষায় প্রকাশিত হয়। পরে ইউরোপের প্রায় সব ভাষায় এটির অনুবাদও হয়। আততাসরিফ গ্রন্থটি অন্তত ৫০০ বছর শল্যচিকিৎসায় পশ্চিমাদের কাছে উৎসগ্রন্থ হিসাবে সমানভাবে সমাদৃত ছিল।

এমনকি এ গ্রন্থের ব্যাপারে এ কথাও প্রচলিত ছিল যে, এটি ইউরোপে শল্যচিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ভিত্তি স্থাপনে অন্যতম প্রধান সহায়ক হিসাবে ভূমিকা রেখেছে। সে সময়কার চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের জন্য ত্রিশ খণ্ডের এ বিশ্বকোষটি ছিল অক্সিজেনস্বরূপ। সার্জারি থেকে শুরু করে মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, অপথ্যালমোলজি, অর্থোপেডিকস, প্যাথলজি, দন্তবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান, শিশু চিকিৎসা সবই অন্তর্ভুক্ত ছিল আততাসরিফের ভেতর।

আরেক ফরাসি দার্শনিক রেনো গেনট-যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করে আব্দুল ওয়াহেদ নাম ধারণ করেন, তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের সাংস্কৃতিক প্রভাব ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, আততাসরিফ ও অন্যান্য আরব গবেষকদের বইপত্রে ব্যবহৃত শব্দগুলো এমন আরবি ভাষা ছিল, যার মাধ্যমে ইউরোপে আরবীয় চিন্তাধারা স্থানান্তরিত হয়।

এ সময় ইসলামি দর্শন ও আদর্শের স্থানান্তরে আমরা চিকিৎসা শাস্ত্রের পাশাপাশি অনেক কিছুই অর্জন করতে সক্ষম হই।’ আরবদের বইপত্র ইংরেজি ভাষার ওপর এত ব্যাপক প্রভাব ফেলে যে, কিছু শব্দ বিশ্লেষণ করলে আমরা ইংরেজির ওপর আরবির সে প্রভাব স্পষ্ট দেখতে পাই। যেমন : ‘আমিরুল বাহার’ থেকে admiral-এর উৎপত্তি, ‘কিমিআ’ থেকে chemistry, ‘আলজাবার’ থেকে algebra, ‘কিনদি’ থেকে candy, ‘কহওয়া’ থেকে coffee, ‘ইয়াসমিন’ থেকে jasmine, ‘লেমু থেকে lemon, ‘মাখাজিন’ থেকে magayine, ‘সুক্কার’ থেকে sugar, ‘শরাব’ থেকে syrup-এজাতীয় আরও বহু শব্দ আরবির পরিবর্তিত রূপ। উপরোক্ত আলোচনাটি প্রকৃত ইতিহাসের সামান্যতম একটি অংশ। আমরা যদি হতাশাগ্রস্ত না হয়ে এ আলোচনা থেকে আমাদের হৃদয়ে কিছুটা আশার আলো সঞ্চারণ করতে পারি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রায়োগিক চর্চায় ফের মনোযোগী হতে পারি, তাহলে আমাদের সেই সোনালি অতীত আবার ফিরিয়ে আনতে পারব ইনশাআল্লাহ! আল্লাহ কবুল করেন। আমিন

তথ্যসূত্র : দুনিয়া ডটকম

সাফল্যের মূলমন্ত্র আল-কুরআন

আল কুরআনুল কারিম। মানবজাতির জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার। কুরআনের স্পর্শ ছাড়া মানবজনম অর্থহীন। কুরআন বিমল সফলতার মৌলিক পাথেয়।

কুরআন সঠিক পথের দিশারি। কুরআনের স্নিগ্ধ অফুরন্ত ঝরনা ধারা সবার জন্যই অবারিত। কুরআন সফলতার দিকে পথ প্রদর্শন করতে থাকবে মহাপ্রলয়কাল পর্যন্ত।

কুরআনের পরিচয় কুরআনের ভাষায়

কুরআন নিজেই নিজের পরিচয় পেশ করেছে। নিজের পরিচয় উল্লেখ করতে গিয়ে কুরআন বলে-‘নিশ্চয় এটা সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সংরক্ষিত কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না’। (সূরাতুল ওয়াকিয়া : ৭৭, ৭৮, ৭৯)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-‘বরং এটা সম্মানিত কুরআন। লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।’ (সূরাতুল বুরুজ : ২১, ২২)।

কুরআন মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক

কুরআন নির্দিষ্ট কোনো গোত্র, সম্প্রদায় বা দলকে সঠিক পথ দেখায়-এমন নয় । বরং কুরআন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত আগত প্রতিটি মানুষকেই সফলতার পথে অগ্রগামী হওয়ার নির্দেশনা দেয়। ইরশাদ হয়েছে ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যে কুরআন মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী’। (সূরাতুল বাকারা : ১৮৫)।

কুরআন সরল সঠিক পথ দেখায়

কুরআনের পথপ্রদর্শনে কোনো ভুল নেই। ইরশাদ হয়েছে-‘এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে’। (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)। কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো রজ্জু বা রশি। এ রশি যারাই মজবুতভাবে ধরে রাখবে তারাই সফলতার পথে অগ্রগামী হতে পারবে। ইরশাদ হয়েছে-‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর। কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)।

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির (রহ.) তার তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করেন-হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কিতাবুল্লাহ তথা কুরআন হচ্ছে আকাশ থেকে জমিনে পাঠানো আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রজ্জু বা রশি’।

এমনিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-‘নিঃসন্দেহে এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সুদৃঢ় রশি। এটি একটি বিমল আলোকরেখা। একটি উপকারী প্রতিষেধক। যারা এ কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে তারা সব বিভ্রান্তি পথভ্রষ্টতা থেকে বেঁচে থাকবে। যারা কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলবে তারা চিরকালীন (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি লাভ করবে’। (তাফসিরুল কুরআনিল আজীম ১/৪৭৮ দারুল হাদিস কায়রো মিসরের সংস্করণ)।

পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে কুরআন

হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন-‘তোমরা কুরআন পাঠে আত্মনিয়োগ কর। কারণ, কুরআন কিয়ামতের কঠিন মুহূর্তে তার পাঠকের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে সুপারিশ করবে’। (সহিহ মুসলিম)।

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন সুপারিশকারী। আর তার সুপারিশ কবুল করা হবে। যে কুরআনকে তার সামনে রাখবে অর্থাৎ কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়বে কুরআন তাকে পথ দেখিয়ে দেখিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে কুরআনকে উপেক্ষা করে পেছনে রাখবে কুরআন তাকে হাঁকিয়ে হাঁকিয়ে জাহান্নামে পৌঁছে দেবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান)।

সার কথা কুরআন মানবজাতির সফলতার মৌলিক পাথেয়। হাজার বছর ধরে কুরআন অসংখ্য বনি আদমকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন, আমরাও কুরআন স্নিগ্ধ আলোয় নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেই যুগ থেকে যুগান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

লেখক : খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ টঙ্গী গাজীপুর

ডেঙ্গির পরে প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে কী খাবেন

কিছুদিন আগেও যেন এক আতঙ্কের নাম ছিল ডেঙ্গি। সারা দেশেই বেড়ে গিয়েছিল ডেঙ্গির তাণ্ডব। আর এ সময়টাতেও মশার পরিমাণ কম নয়। এ কারণে ডেঙ্গি হওয়ার ভয়টা কিন্তু থেকেই যায়।

ডেঙ্গি হলে রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায়। আর এ উপাদানটি রক্ত জমাট বাঁধতে এবং রক্তপাতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তপাত এবং ফুসকুড়ি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়াও যাদের রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যায় তাদের বিভিন্ন রকমের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

কিন্তু ভালো খবর হচ্ছে যে, আপনি প্রকৃতিক উপায়েও রক্তের প্লাটিলেট বাড়িয়ে নিতে পারেন। এর জন্য আপনাকে খেতে হবে বিভিন্ন রকমের খাবার। যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। জানুন যে ধরনের খাবার খেলে বাড়বে রক্তে প্লাটিলেট—

১. ভিটামিন বি-১২
ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার খেলে তা আপনার রক্তে প্লাটিলেট বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এমনকি এই ভিটামিনের অভাবেও অনেক সময় প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার যেমন- ডিম, মাছ, মুরগি ও অন্যান্য মাংস খেতে পারেন।

২. ফোলেট
ফোলেট একটি বি টাইপ ভিটামিন; যা কোষের সুস্থভাবে বৃদ্ধির জন্য অনেক প্রয়োজনীয়। এটি ভিটামিন বি-৯ এবং ফোলাসিন নামেও পরিচিত। এ ভিটামিনটি প্লাটিলেটের মাত্রা বাড়াতে, টিস্যু বৃদ্ধিতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

৩. ভিটামিন সি
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার ইমিউনিটি বুস্টিং বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক জনপ্রিয়। সেই সঙ্গে এটি প্লাটিলেটের সংখ্যা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সাইট্রিক ফলের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি শরীরের আয়রন শোষণ করার ক্ষমতাও বাড়ায়; যা প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে আরেকটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান।

৪. আয়রন
শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে তার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া শরীরের টিস্যুতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহনকারী লোহিত রক্তকণিকা হ্রাস পেতে পরে এর অভাবে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলে তা লোহিত রক্তকণিকার মাত্রা এবং প্লাটিলেটের সংখ্যাও বাড়াতে পারে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ডাক বিভাগে ৫৭ জনের চাকরি

শূন্যপদে জনবল নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল কর্যালয়,রাজশাহী। অস্থায়ী ভিত্তিতে ৮ পদে ৫৭ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম : ড্রেসার (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা

পদের নাম : পোস্টম্যান (গ্রেড-১৭)
পদ সংখ্যা: ৩০ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৯,০০০ থেকে ২১,৮০০

পদের নাম: প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার (গ্রেড-১৯)
পদ সংখ্যা: ১২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,৫০০ থেকে ২০,৫৭০ টাকা

পদের নাম: অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০

পদের নাম: নিরাপত্তা প্রহরী (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ৩ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা

পদের নাম: রানার (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা

পদের নাম: পরিচ্ছন্নতা কর্মী (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০

পদের নাম: গার্ডেনার (মালী, গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় পাস।
বেতন: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে; প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://pmgsc.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের শেষ সময়: ৭ ডিসেম্বর ২০২১ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে ডিএমপির নিষেধাজ্ঞা

রোববার থেকে শুরু হচ্ছে এ বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানে হয়।
নিষেধাজ্ঞাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ব্যতীত জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আদেশ রোববার থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনগুলোতে পরীক্ষা চলাকালে বলবৎ থাকবে।

ব্যান্ডশিল্পী রুমনের একক গান

গানের সঙ্গে এতগুলো বছরের পথচলা কিন্তু তবুও যেন নতুন করে একটা পথে যাওয়া হয়ে উঠেনি জনপ্রিয় ব্যান্ড পার্থিবের ভোকাল এবং গিটারিস্ট রুমনের। বিংশ শতাব্দীর প্রথমটায় ব্যান্ড মিউজিকের স্বর্ণযুগে বাউণ্ডুলে, নিঝুম রাতে, একার মতো একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেয় ব্যান্ডটি; যার সবটির নেপথ্যেই ছিলেন রুমন।

তবে ব্যস্ততা যেন তাকেও ছাড় দেয় না। ফুলটাইম চাকরি, কনসার্ট, ব্যান্ড, পরিবার সব কিছু নিয়ে ব্যস্ত থেকেও কি যেন করা হয়ে উঠছিল না তার। এত কাজের মাঝেও প্রতিদিন নিজের বেডরুম স্টুডিওতে গান বানিয়ে গিয়েছেন, তার কোনোটাই প্রকাশ করা হয়নি। এরই মধ্যে গীতকবি বন্ধু রাসেলের দেয়া ‘ভাঙছে পাজর’ নামে লেখা গান নিয়ে বসার পর হঠাৎ একটা সুরে যেন পুরো গানটি বসে গেল। পরে গানটিতে কণ্ঠ দিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন রুমন।

প্রথমবার এককভাবে গান প্রকাশ করা নিয়ে রুমন বলেন, সবময়ই ইচ্ছে ছিল নিজের গান নিয়ে কিছু করার কিন্তু হয়ে উঠছিলান। আসিফ ইকবাল ভাইকে ধন্যবাদ এবার সুযোগটা করে দেয়ার জন্য।

গানটির মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেন ইমরান কবির হিমেল। নান্দনিক সিনেমাটোগ্রাফি আর সাধারণ প্রেজেন্টেশনে গানটিকে করে তুলেছে অসাধারণ। ১১ নভেম্বর গানটি গানচিলের ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রকাশ হয়। এছাড়া গানটি পাওয়া যাবে স্বাধীন মিউজিক, প্ল্যাশ, ভাইব এবং জিপি মিউজিকের অ্যাপ থেকে।