শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 603

জড়িত ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান

দেশ থেকে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ৪৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশ্বব্যাপী আলোচিত পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসের প্রতিবেদন থেকে যুগান্তরসহ তিনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দুদক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। আজ এ প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।

জানতে চাইলে শনিবার সন্ধ্যায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান যুগান্তরকে বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন অর্থ পাচারের বিষয়ে। সে অনুসারে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস, আইসিআইজেড থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ তালিকা দাখিল করা হবে।

তালিকা প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক যুগান্তরকে বলেন, অর্থ পাচারকারীদের তালিকা দেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। আজ এজন্য দিন ধার্য করা আছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আইসিআইজে (ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম) ২০১৬ সালে পানামা পেপারস এবং ২০১৮ সালে প্যারাডাইস পেপারস তৈরি করে। প্রতিবেদনে বিদেশে অর্থ পাচারের তালিকায় প্রায় ৮ লাখ কোম্পানি এবং ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এত অর্থ পাচারকারী হিসাবে বাংলাদেশের ৮২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম তুলে ধরা হয়। তবে দুদকের দেওয়া প্রতিবেদনে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানযোগ্য। সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের তথ্য আদান-প্রদানসহ একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ অনুসৃত কৌশল পর্যালোচনা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে একটি কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ করা হয়েছে। বিএফআইইউ সে আলোকে ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আবদুল আউয়াল মিন্টুর বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি অভিযোগ বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগে অনুসন্ধান চলছে। মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলা বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুবিভাগে তদন্ত চলছে।

পানামা পেপারস : কর ফাঁকি দিয়ে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়া, আইন অমান্য করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার ও অবৈধ আয়ের টাকায় বৈধ ক্ষমতার মালিক হওয়া প্রসঙ্গে ২০১৬ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পানামা পেপারস শিরোনামে বিশ্বজুড়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী অনেকেই এরূপ অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করেছেন বলে সংবাদে জানা যায়।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে ও আইসিআইজের ওয়েবসাইটে বর্ণিত দেশভিত্তিক তালিকা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশির ক্ষেত্রে প্রথম পর্বে ৪৩ ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৮ ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানসহ ৬১ ব্যক্তি এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে দুদক ১৪ জনের একটি তালিকা আদালতে আজ উপস্থাপন করবে। এর মধ্যে রয়েছেন-বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের পরিচালক উম্মে রুবানা, একই প্রতিষ্ঠানের এমডি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডব্লিউএনর আজমত মঈন, বনানী এলাকার সালমা হক, একই এলাকার এসএম জোবায়দুল হক, বারিধারার কূটনৈতিক এলাকার ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, ধানমন্ডি এলাকার শরীফ জহির, গুলশান এলাকার তারিক ইকরামুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, একই গ্রুপের পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, পরিচালক আহমেদ ইসলাইল হোসেন, পরিচালক আক্তার মাহমুদ। এসব বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য বিএফআইইউ, এনবিআর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো জবাব পাওয়া যায়নি।

প্যারাডাইস পেপারস : ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্যারাডাইস পেপারসের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদের প্রথম পর্বে ১০ জন ও দ্বিতীয় পর্বে ১৯ জনসহ ২৯ জনের নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন-মাল্টিমোড লিমিটেডের আবদুল আউয়াল মিন্টু, একই প্রতিষ্ঠানের নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল, তাজওয়ার মো. আউয়াল, নিউইয়র্কের তাইরন পিআইএর মোগল ফরিদা ওয়াই, যুক্তরাষ্ট্রের শহিদ উল্লাহ, বনানীর চৌধুরী ফয়সাল, বারিধারার আহমেদ সামির, ব্রোমার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, ভেনাস ওভারসিস কোম্পানির মুসা বিন শমসের, বারিধারার ডায়নিক এনার্জির ফজলে এলাহী, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের কেএইচ আসাদুল ইসলাম, খালেদা শিপিং কোম্পানির জুলফিকার আহমেদ, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম তাজুল, বেঙ্গল শিপিং লাইন্সের মোহাম্মদ মালেক, সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানির শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ওসান আইস শিপিং কোম্পানির ইমরান রহমান, শামস শিপিং কোম্পানির মোহাম্মদ এ আউয়াল, উত্তরার এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম, পদ্মা টেক্সটাইলের আমানুল্লাহ চাগলা, নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্টের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মাল্টার মোহাম্মদ রেজাউল হক, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, সেলকন শিপিং কোম্পানির মাহতাবা রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ফারুক পালওয়ান ও গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেমের মাহমুদ হোসাইন।

এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দেশ থেকে পাচার করা টাকা সুইস ব্যাংকসহ বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে কারা রেখেছেন এর তালিকা চান হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়।

এরও আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুদক, সিআইডি ও এনবিআর আদালতে অর্থ পাচারের বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এতে উঠে আসে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নাম। সঙ্গে আসে ক্যাসিনো মমিনুল হক সাঈদের নামও। শতাধিক ব্যক্তির নামে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের তথ্য দেয় দুদক। তবে এতে সন্তুষ্ট হননি আদালত। কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে যারা অবৈধ গাড়ি-বাড়ি তৈরি করেছেন তাদের বিষয়ে আদালত সুনির্দিষ্ট তথ্য চান। এজন্য এসব সংস্থাকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল।

তেলে ভাজা পিঠা

সবজি ঝাল পুলি

যা লাগবে : চালের গুঁড়া ৩ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, পানি পরিমাণমতো, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, তেল পরিমাণমতো, সিজনাল সবজি কুচি ২ কাপ, হাড়ছাড়া মুরগির মাংস ১ কাপ (মোটা কিমা), পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা আধা চা চামচ, রনুস বাটা আধা চা চামচ, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ।

যেভাবে করবেন : হাঁড়িতে পানি ও লবণ দিয়ে ফুটে উঠলে চালের গুঁড়া দিয়ে কাই করে নিন। পুর তৈরির জন্য কড়াইতে ২ টেবিল চামচ তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ কুচি নরম ও চকচকে হলে আদা-রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া দিয়ে ভুনে মাংস দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। ২-৩ তিনিট রান্না করুন। এবার সব সবজি দিন। পরিমাণমতো লবণ দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে পানি শুকিয়ে নিন। কাঁচামরিচ কুচি ও গরম মসলা গুঁড়া দিন। কর্নফ্লাওয়ার গুলে দিয়ে নামিয়ে নিন। আগে করে রাখা কাই থেকে পরিমাণমতো নিয়ে রুটি বানিয়ে ভেতরে সবজি পুর ভরে মুখ বন্ধ করে দিন। তেলে ভেজে পরিবেশন করুন। পইনে সিদ্ধও করতে পারেন।

 

মাছ পিঠা

যা লাগবে : (ক) মাছ ১ কেজি (রুই/ইলিশ), লবণ ১ চা চামচ, হলুদ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, টমেটোসস ১/৪ কাপ, মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ২ কাপ, কাঁচামরিচ কুচি ২ টেবিল চামচ (রুচি অনুযায়ী), ধনিয়াপাতা কুচি আধা কাপ, তেল ১/৪ কাপ।

যেভাবে করবেন : মাছ কেটে ধুয়ে লেজ মাথা বাদ দিয়ে হলুদ-মরিচ গুঁড়া, লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে কাঁটা বেছে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিন, পেঁয়াজ নরম হলে মাছ, টমেটোসস, ধনিয়াপাতা কুচি ও স্বাদমতো লবণ, কাঁচামরিচ কুচি দিয়ে কষিয়ে পুর তৈরি করে নিন।

যা লাগবে (খ) : চালের গুঁড়া ১ কাপ, ময়দা ১ কাপ, পানি ৩/৪ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, তেল ভাজার জন্য।

যেভাবে করবেন : পানি ও লবণ ফুটিয়ে ময়দা ও চালের গুঁড়া দিয়ে সিদ্ধ কাই করে ভালো করে ময়ান করে নিন। ডিম্বাকৃতির রুটি তৈরি করে নিন। রুটিতে মাঝখানে লম্বাভাবে পুর বিছিয়ে দিন। পুরের দুই পাশে রুটি ফিতার মতো কেটে বেণির মতো বুনে নিন। শেষের অংশ লেজের মতো থাকবে। মাথার অংশে লবঙ্গ দিয়ে চোখ বসিয়ে দিন। ডুবো তেলে মচমচে করে ভেজে পরিবেশন করুন।

 

নকশি পিঠা

যা লাগেবে : পিঠা তৈরির জন্য-চালের গুঁড়া ২ কাপ, পানি আড়াই কাপ, লবণ ১/৪ চা চামচ, খেজুর কাঁটা কয়েকটি, বাঁশের চটা প্রয়োজনমতো। ভাজার জন্য তেল আধা লিটার। সিরা তৈরির জন্য-চিনি বা গুড় ২ কাপ, পানি ২ কাপ, এলাচ ২-৩টি, দারুচিনি ২ ইঞ্চি পরিমাণ দুই টুকরা, তেজপাতা ১টি।

যেভাবে করবেন : হাঁড়িতে পানি ফুটতে দিন। পানি ফুটে উঠলে লবণ ও চালের গুঁড়া দিন। মাঝারি আঁচে ঢেকে সিদ্ধ করুন ৮-১০ মিনিট। নাড়বেন না। আঁচ কমিয়ে হাঁড়ি চুলায় রেখেই নেড়ে কাই করুন। চুলা থেকে নামিয়ে কাই ভালোভাবে মথে নিন। ভেজা নেকড়া দিয়ে ঢেকে রাখুন। কাই ৪-৫ ভাগ করুন। প্রত্যেক ভাগ কাই দিয়ে আধা ইঞ্চি পুরু রুটি বেলুন। রুটির ওপর হাত দিয়ে তেল মেখে খেজুর কাঁটা দিয়ে নকশা করুন। বড় মোটা সুই (কাথা সেলাইয়ের সুই) দিয়ে বড় নকশার ভেতর থেকে কাই তুলে নিন ও ছোট নকশার ভেতর জিগজ্যাগ করে দিন। পিঠার চারদিকে বাঁশের চটা দিয়ে দাঁত কেটে দিন। লোহার কড়াইতে তেল গরম করে মৃদু আঁচে পিঠা ভাজুন। খেয়াল রাখুন পিঠা যেন ভেতরে বাইরে সমান ভাজা হয় এবং গাঢ় রং না হয়। ভাজার পর বেশ কয়েক সপ্তাহ সংরক্ষণ করতে পারেন। পরিবেশনের আগে সিরা তৈরির উপকরণ দিয়ে মাঝারি ঘনত্বের সিরা করে নিন। এলাচ দারুচিনি তেজপাতা তুলে ফেলে দিন। কড়াইতে তেল গরম করে বাদামি রং করে পিঠা ভেজে তেল ঝরিয়ে সিরায় ফেলুন। ২-৩ বার উল্টে দিন। ৫-৬ মিনিট পর সিরা থেকে পিঠা তুলে পরিবেশন করুন।

গোলাপ পিঠা

যা লাগবে : চালের গুঁড়া ২ কাপ (শুকনা), ময়দা ২ কাপ, তরল দুধ ৪ কাপ, ডিম ২টি, ঘি আধা কাপ, এলাচ-দারুচিনি গুড়া আধা চা চামচ করে, চিনি ৩ কাপ, পানি ২ কাপ, তেল ভাজার জন্য।

যেভাবে করবেন : হাঁড়িতে দুধ ফুটতে দিন। দুধ ফুটলে চালের গুঁড়া ও ময়দা দিয়ে সিদ্ধ কাই করে নিন। কাই শক্ত হবে। সিদ্ধ কাইয়ে ডিম ও ঘি দিয়ে এমনভাবে ময়ান করতে হবে যেন হাতে না লাগে। চিনি, পানি, এলাচ দারুচিনি গুঁড়া একসঙ্গে জ্বাল করে মাঝারি ঘনত্বের সিরা তৈরি করে রাখুন। মেখে রাখা সিদ্ধ কাই থেকে পরিমাণমতো কাই নিয়ে ছোট রুটি বেলে অথবা বড় রুটি বেলে গোল কাটার বা বোতলের মুখ দিয়ে কেটে জোড়া দিয়ে গোলাপ তৈরি করুন। ডুবো তেলে মচমচে করে ভেজে সিরায় ফেলুন। সিরা থেকে ৫-৭ মিনিট পর তুলে নিন।

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে ৫ খাবার

আমরা যে খাবার খাই তা কেবল আমাদের স্বাদই মেটায় না; বরং আমাদের শরীরকে পুষ্ট করে এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করে।

বিভিন্ন খাবার আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত ডিএনএ মেরামত করে, অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং চাপ কমায়।

হলিস্টিক লাইফস্টাইল এবং ওয়েলনেস কোচ লুক কৌতিনহোর মতে, আমরা যে খাবার খাই তা অভ্যন্তরীণ অঙ্গ মেরামত ও ডিএনএ স্বাস্থ্য ভালো রাখার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী এবং জেনেটিক রোগ থেকে আমাদের প্রতিরোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের আলোকে জেনে নিন, ৫ সুপারফুড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

১. হলুদ
হলুদে কারকিউমিন নামক একটি সক্রিয় যৌগ থাকে যেটির অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর এর কারণে এটি ত্বক, হার্ট, জয়েন্ট ও অন্যান্য অঙ্গের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় কার্যকরী ভূমিকা রাখে। নিয়মিত হলুদ খাওয়ার ফলে তা ক্যান্সার, আলঝেইমার বিষণ্নতা ও আর্থ্রাইটিসের মতো জটিল রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

২. ডালিম
ডালিম হল স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি, যা আপনাকে সুস্থ ও ফিট থাকতে সহায়তা করবে। এতে ভিটামিন সি, আয়রন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ফোলেট, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন কে থাকে। আর ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য হৃদরোগ, ক্যান্সার, আর্থ্রাইটিস ও অন্যান্য প্রদাহজনক অবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারে।

৩. গ্রিন টি
গ্রিন টি একটি রিফ্রেশিং ও হাইড্রেটিং পানীয় ছাড়াও এটি পলিফেনল (প্রাকৃতিক যৌগ) সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে এবং ক্যান্সারের মতো অনেক গুরুতর রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করতে পারে। গ্রিন টি পান করলে মেটাবলিজম বাড়াতে পারে এবং ক্যালোরি বার্ন হতে সাহায্য করতে পারে। তাই নিয়মিত এই পানীয়টি পান করলে তা ফ্রি র্যাডিক্যালের গঠন কমাতে এবং র্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।

৪. মাশরুম
মাশরুম হচ্ছে আরেকটি দুর্দান্ত খাবার, যেটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে ক্যালোরি কম, ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, আয়রন, সেলেনিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে তা বিভিন্ন গুরুতর রোগ যেমন আলঝেইমার, হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. নারিকেল তেল
নারিকেল তেলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো ত্বকের অবস্থা, মৌখিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে, দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া নারিকেল তেল শক্তিরও একটি দুর্দান্ত উত্স আর এটি আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ রাখতে সাহায্য করতে পারে।

বাদাম কাঁচা না ভাজা কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

আমরা প্রায়ই অবসর সময়ে বাদাম খেয়ে থাকি। আর এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি খাবার।

বাদামে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, প্রোটিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আর বাদাম খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা মিলেছে গবেষণায়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে— এটি কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মতো সমস্যায় উপকার করে।

তবে বাদাম নিয়ে অনেকের মাঝেই প্রশ্ন ওঠে— কাঁচাবাদাম ও ভাজা বাদামের মধ্যে কোনটিতে পুষ্টি উপাদান বেশি। তাই আজকে জেনে নিন কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর—

যদি এক কথায় উত্তর বলতে হয়, তবে বলা চলে কাঁচা ও ভাজা দুভাবেই বাদাম খাওয়া স্বাস্থ্যকর। কারণ দুভাবেই বাদাম খেলে তার পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে যদি বাদাম কাঁচা অবস্থায় অথবা হালকা ভেজে খাওয়া যায়, তা হলে বাদামের পুষ্টি উপাদান একই থাকে। কিন্তু আবার অতিরিক্ত ভেজে বা তেল দিয়ে ভাজা হলে বাদামের পুষ্টিগুণ কিছুটা কমে যায়।

এদিকে কাঁচাবাদাম অত্যন্ত পুষ্টিকর। কিন্তু এতে অনেক সময় ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

আর ভাজা বাদামে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিনের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে। এ ছাড়া বাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বিরও ক্ষতি হতে পারে এবং অ্যাক্রিলামাইড তৈরি হতে পারে। তবে এগুলোর ক্ষতি ক্ষুব বেশি পরিমাণে নয়।

কিন্তু বাদাম ভাজার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তাপমাত্রা ও ভাজার সময়কালের ওপরে বাদামের পুষ্টিগুণে প্রভাব ফেলতে পারে। বাইরে পাওয়া বিভিন্ন ভাজা বাদাম না খেয়ে কাঁচা বাদাম কিনে সেটিকে হালকা আঁচে ভেজে খাওয়া ভালো। আর তেল দিয়ে ভেজে খেতে চাইলে নারিকেল তেল ব্যবহার করা উচিত, এতে পুষ্টির তেমন পার্থক্য হয় না।

পুরুষের ত্বকের যত্ন

কাজের জন্য ব্যস্ততা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু আমাদের চেহারার প্রতি কি আমরা নজর দিচ্ছি? আমাদের সমাজে ব্যস্ত পুরুষরা ত্বকের যত্নের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে থাকেন। শোবিজ বা করপোরেট অফিসে যারা কাজ করেন তাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখা বাঞ্ছনীয়। নারীদের তুলনায় তারা কম সচেতন থাকেন বলেই অল্প বয়সে বুড়িয়ে যান।

অনেকে মনে করেন, রূপচর্চা মেয়েলি ব্যাপার। নিয়ম মেনে রূপচর্চা করা অসম্ভব। ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক জিনিসগুলো এড়িয়ে চললে ত্বক সুস্থ রাখা যায়। যদি নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করে মেনে চলি তবেই পাব নিজের আসল সৌন্দর্য।

খাবার: সারাদিন যেহেতু নানান কাজে পরিশ্রমের মাত্রা একটু বেশি হয়ে যায় তাই খাবারের সময় একটু খেয়াল রেখেই খেতে হবে। সবসময় গুরুপাক খাবার যেমন- বিরিয়ানি, পোলাও, কাচ্চি বিরিয়ানি বা বিভিন্ন ফাস্টফুড না খাওয়াই ভালো। খাবারে আমিষের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বজায় রেখে সবজির দিকে নজর দিতে হবে। তাহলে চেহারায় উজ্জ্বলতা বাড়বে বৈ কমবে না।

পানি: পানি এমন একটি উপাদান যা শরীরের সতেজটায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পরিশ্রম করলে তৃষ্ণা পায় আর আমরা পানি পান করি। এছাড়াও সারাদিনে কমপক্ষে দুই লিটার পানি পান করা উচিত। এতে শরীরের বর্জ্য পদার্থ শরীরের ভেতরে জমতে পারে না। ফলে শরীর হয় তাজা আর ত্বক হয় উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।

রোদ: আল্ট্রাভায়োলেট ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এজন্য রোদে বের হওয়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে আপনার ত্বকের জন্য মানানসই সানস্ক্রিনের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রোদে পোড়া ভাব দূর করতে এটি সহায়ক, ত্বক ক্যান্সারও রোধ করে।

সুইমিংপুল: এ পানিতে ক্লোরিন থাকে, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। সুইমিং পুলের পানি ব্যবহার করে বাড়িতে এসে ত্বক ও চুল সাবান এবং শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত।

মানসিক চাপ: স্ট্রেস, বিষণ্ণতা, অপর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক। প্রয়োজনে মেডিটেশন, ইয়োগার সাহায্য নিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সব চাপ ভুলে হালকা হয়ে ঘুমাতে যান।

ধুলো-ধোঁয়া: যানবাহনের ধোঁয়া দূষণ ও ধুলা থেকে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে। ঘরে ফিরে চিকিৎসকের পরামর্শে ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন।

ধূমপান: এটি শুধু শরীরের অভ্যন্তরে নয়, ত্বকেরও ক্ষতি করে।

সাবান : আপনার ত্বকের ধরন বুঝে ডাক্তারের পরামর্শে সাবান ব্যবহার করুন।

কুয়েট বন্ধ ঘোষণা, বিকালের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর জেরে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শুক্রবার বিকাল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন।

গত ৩০ নভেম্বর ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর সাক্ষাতের পর ড. সেলিমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ক্যাম্পাসের বাসার টয়লেটে অচেতন হয়ে পড়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর লাঞ্ছনার পর গত মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছে। পাল্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ উঠেছে, ওই সাক্ষাতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং মানসিক নির্যাতন চালান। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের মুখে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার কমিটির দুই সদস্য দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। ড. সেলিম কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন কুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বেলা সোয়া ১১টায় তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

পরে ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় শিক্ষক ড. সেলিমের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

অপর দাবিগুলো হলো— ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এবং শিক্ষকের পরিবারকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. সজল কুমার অধিকারী বলেন, শিক্ষক সেলিমের মৃত্যু একটি সম্ভাবনার মৃত্যু।

এ ধরনের মানসিক নির্যাতনের মূলোৎপাটন করতে হবে। প্রফেসর ড. মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের সেসব মানসিক নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ড. সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার জন্য দায়ী ছাত্রদের স্থায়ীভাবে ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার ও শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও প্রশাসনিক ভবনের ভেতরের ফাঁকা অংশে অবস্থান শুরু করেন। সেখানে দুপুর ২টার দিকে কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আমাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সেলিম স্যারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম।

তার সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার বা মানসিক চাপ দিইনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি লালন শাহ হলের ডিসেম্বরের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে ফজলুল হক হলের বর্ডার কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান নিজের লোককে ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচিত করার জন্য শিক্ষক সেলিমকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিমকে জেরা করা শুরু করে। পরবর্তী সময় তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা ওই শিক্ষকের কক্ষে অবস্থান করে। পরে শিক্ষক ক্যাম্পাসসংলগ্ন বাসায় যান। সেখানে দুপুর ২টার দিকে টয়লেটে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুয়েট সূত্র জানায়, ড. সেলিমের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম মৌখিকভাবে কমিটির দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. কল্যাণ কুমার হালদার লিখিতভাবে কমিটিতে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বিকাল ৪টায় জরুরি সিন্ডিকেটের সভা আহ্বান করেন। সেখানে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা মুলতবি করা হয়। আজ সকাল ১০টায় আবার সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।

উচ্চশিক্ষা সনদধারী বেকার তৈরি করতে চাই না

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষায় যে পরিমাণ শিক্ষার্থী আছে, পৃথিবীর খুব কম দেশে এরকম নজির দেখা যায়। যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে উচ্চশিক্ষিত মানুষদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আমরা উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষা সনদধারী বেকার তৈরি করতে চাই না।

শুক্রবার দুপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাবির সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সনদ দিয়ে বের করব, আর সে বেকার থাকবে- তা হবে না। উচ্চশিক্ষা পাওয়া বিশ্বে কোথাও সহজ নয়। আমরা এমন দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করব, যারা ভৌগোলিকভাবে খুব ছোট আয়তনের দেশটিকে বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করবে। কেননা দেশটির একটা বিশাল ইতিহাস রয়েছে, হাজার বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজয়ের ইতিহাসও রয়েছে।

শিক্ষা পদ্ধতির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইন্ডাস্ট্রির ভিত্তিতে একাডেমিক লেটার করতে হবে। বর্তমান শিল্পে ও কর্মজগতে কোন শিক্ষা প্রয়োজন সেটিকে মাথায় রেখে চাহিদা মোতাবেক যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। সেই মোতাবেক শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বস্তির বর্তমান যে জায়গাটি আছে নতুন বা সৃজনশীলতাকে আলিঙ্গন করতে হবে। নতুনত্বকে মেনে নিতে হবে। তাকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য খোলা মন নিয়ে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীকে শুধু জ্ঞান দান করলাম, পরীক্ষা শেষে সনদ দিয়ে দিলাম, সে বেরিয়ে গেল। তার নিজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারল কিনা, উদ্যোক্তা হতে পারল কিনা, ভালো চাকরি পেল কিনা- এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিতে হবে। শিক্ষক যেন মনে না করেন যে, একাডেমিক পাঠ শেষ আমার আর দায়িত্ব নেই- এটা যেন না হয়।

এর আগে এদিন সকালে শিক্ষামন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামানের কবর স্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ শামসুজ্জোহা ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন তিনি।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহী অঞ্চলকে শিক্ষা নগরী বলা হয়। এটাতে আমরা গর্ববোধ করি। তবে এখানে কোনো বাণিজ্যিক শিল্পকারখানা নেই। তেমন কর্মসংস্থানের সুযোগও নেই। শিক্ষা নগরী হিসেবে রাজশাহীতে যদি পাবলিক সরকারি একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয় তাহলে রাজশাহীবাসী কৃতজ্ঞ হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনে এ সময় মেয়র শিক্ষামন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করে সহযোগিতা কামনা করেন।

রাবি ভিসি প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আব্দুস সালামের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন— রাজশাহী-৩ আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন— রাবির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. সুলতান-উল-ইসলাম, প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া। মুখ্য আলোচক ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মশিউর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রফেসর মলয় ভৌমিক।

সিনেমায় সুজন হাবিব

মঞ্চ নাটক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করলেও পরে টিভি নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত তরুণ অভিনেতা সুজন হাবিব। নাটকে সফলতার কারণেই এবার সিনেমায়ও অভিষেক ঘটছে তার। এটির নাম ‘জীবন পাখি’। পরিচালনা করছেন আসাদ সরকার।

সম্প্রতি রাজশাহীর কয়েকটি লোকেশনে এটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। এ সিনেমার একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন সুজন হাবিব।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিনেমা প্রতিটি অভিনয় শিল্পীরই আরাধ্য একটি জায়গা। আমিও ঠিক তাই মনে করি। প্রথমবার একটি গল্পপ্রধান সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। আশা করছি এটি মুক্তি পেলে দর্শক আমাকে ভিন্নভাবে দেখতে পাবেন।

এদিকে নাটকের অভিনয়ে তুমুল ব্যস্ততা রয়েছে তার। সম্প্রতি একাধিক খণ্ড নাটকে অভিনয় করছেন সুজন হাবিব। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাটক হলো পারভেজ নয়নের পরিচালনায় ‘কর্ম ফল’, খলিরুর রহমান নয়নের ‘পুরুষ বাঁশি’, রাইসুল তমালের ‘বইওয়ালা’, পনির খানের ‘শটকার্ট সেলিব্রেটি’ এবং রাকেশ বসুর ‘হাই ভোল্টেজ’।

এ ছাড়াও কিছুদিন আগে একটি ওয়েব কন্টেন্টেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। বুলবুল মাসুদের পরিচালনায় এটির নাম ‘দ্বিতীয় ঈশ্বর’। অভিনয়ের ধারাবাহিকতায় নিজেকে প্রতিনিয়তই এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সুজন হাবিব।

শশী কি ফুরিয়ে যাচ্ছেন

কালজয়ী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ত্ব জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস নিয়ে তারই সহধর্মিণী চিত্রনায়িকা সুচন্দা নির্মাণ করেছিলেন সিনেমা। প্রায় দুই দশক আগের এই সিনেমাটি দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়।

এতে কেন্দ্রীয় একটি চরিত্রে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পান অভিনেত্রী শারমিন জোহা শশী। এরপর সিনেমায় সেভাবে অভিনয় না করলেও নাটকে অভিনয় ক্যারিয়ার গড়েন তিনি। এক খণ্ড ও ধারাবাহিক নাটকে জনপ্রিয়তা নিয়ে কাজ করতে থাকেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও তাকে নিয়মিত কাজ করতে দেখা যায়। কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই অভিনেত্রী গত কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আগের মতো অভিনয় ব্যস্ততাও এখন তার নেই।

করোনাকাল শুরু হওয়ার আগেই তার অভিনয়ে মন্দা শুরু হয়েছে। নির্মাতারাও তাকে নিয়ে নাটক তৈরিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শশীও কোনো এক অজানা কারণে মিডিয়ার অনুষ্ঠানগুলোতেও কম উপস্থিত হচ্ছেন। কেন তিনি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছেন তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছেন ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই উতরাইয়ের কারণে অভিনয়ে মনোযোগ দিতে পারছেন না শশী। কারও কারও মতে তিনি হয়ত গোপনে সংসারি হয়েছেন, যার কারণেই মিডিয়ায় কিংবা অভিনয়ে কম দেখা যায় তাকে।

তবে শশী ঘনিষ্ঠ একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন শশী আসলে নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তাই কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে তাকে। শিগগিরই সবার সামনে বিশেষ কিছু কাজ নিয়ে হাজির হবেন তিনি। তবে যাই হোক না কেন, এই অভিনেত্রীর বিপুলসংখ্যক ভক্ত রয়েছেন দেশ-বিদেশে। তারা শশীর সুনিপুণ অভিনয়শৈলী দেখার অপেক্ষার আছেন।

জিদান-রোনাল্ডোকে দেখতে এক সপ্তাহ কলা খেয়ে কাটিয়েছেন এমবাপ্পে

অবশেষে প্রকাশ পেল ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের আত্মজীবনীমূলক কমিকস ‘আমার নাম কিলিয়ান’।

২৩৩ পৃষ্ঠার বইটিতে নিজের বেড়ে ওঠার গল্প বলেছেন এমবাপ্পে। প্যারিসে বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসে নিজের সম্পর্কে আরেকটি অবাক করো তথ্যও জানালেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকা।

রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি দেখতে গিয়ে পুরো সময়টা নাকি কলা খেয়ে কাটিয়েছেন এমবাপ্পে। সে সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর।

এমবাপ্পের প্রতিভাকে ওই বয়সেই পেতে চেয়েছিল রিয়াল। তাকে কি করে একাডেমিতে অন্তর্ভূক্তি করা যায় সেই প্রচেষ্টায় ব্যস্ত ছিল রিয়ালের কর্মকর্তারা।

সে সময় এমবাপ্পেকে রাজি করতে তার দুই আদর্শ জিনেদিন জিদান ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ব্যবহার করেছিল রিয়াল।

কিশোর এমবাপ্পের সঙ্গে রোনাল্ডো
কিশোর এমবাপ্পের সঙ্গে রোনাল্ডো

দ্য প্যারিসিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার বয়স যখন ১৪ তখন জিদান আমাকে মাদ্রিদে কিছু সময় কাটানোর নিমন্ত্রণ পাঠান। ওই বয়সের এক বাচ্চার জন্য এটা একটা স্বপ্ন, অসাধারণ কিছু। মাদ্রিদে থাকাকালীন ওই সময়ে সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো পুরো সপ্তাহ আমি কলা খেয়ে থেকেছিলাম। আমি খুব ভয়ে ছিলাম। বন্ডির একটা ছেলেকে জিদান তার গাড়িতে চড়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। আমি বুঝতে পারছিলাম না কীভাবে কথা বলব। আমার প্রথমেই যেটা মনে হয়েছিল। সেটা খুব ভালো একটা মুহূর্ত। আমি কি জুতা খোলার প্রস্তাব দিয়েছি? হ্যাঁ, গাড়ির ভেতরে। কিন্তু আমি আর বেশি কিছু বলব না, তাহলে আর কেউ বই পড়বে না।’