শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 592

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত নতুন করে সাজানোর নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

আসন্ন শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি হিসেবে দক্ষতার ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নতুন করে সাজাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলিউশন অ্যান্ড বিয়োন্ড-২০২১’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষতার ফাঁকগুলো শনাক্ত করতে হবে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরায় দ্রুততার সঙ্গে নতুন করে সাজাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, এই সম্মেলন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ এবং সুপারিশ গ্রহণ করবে, যাতে দেশে এবং বিশ্বব্যাপী চাকরির বাজারের চাহিদা পূরণের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যায়।

বঙ্গভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্প-সম্পৃক্ততা জোরদার করতে হবে। কারণ বর্তমান সরকার গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য ইতোমধ্যেই বাজেট বাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রপতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা কৃষি, অটোমেশন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং এবং অন্যান্য খাতে ক্রমবর্ধমানভাবে আরও ভালো করছি। তবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং উন্নয়নে আরও জোর দিতে হবে।’

তিনি দুই ঐতিহাসিক মেগা অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী ‘ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলিউশন অ্যান্ড বিয়োন্ড-২০২১’ আয়োজনের জন্য ইউজিসি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের ধন্যবাদ জানান।

আবদুল হামিদ বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘একই দর্শন মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ রূপান্তরিত হয়েছে।’

সবাইকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটি এখন বাস্তবতা এবং আমরা এটি অস্বীকার করতে পারি না। আমরা কেমন অনুভব করি, কীভাবে কাজ করি, কীভাবে বাস করি, কীভাবে ভ্রমণ করি- তার পুরো ল্যান্ডস্কেপটি পরিবর্তন করার সময় এসেছে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রথম শিল্প বিপ্লব এসেছে স্ট্রিম ইঞ্জিনের মাধ্যমে, দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব এসেছে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মাধ্যমে, তৃতীয় বিপ্লব এসেছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে, সম্পূর্ণ দৃশ্যপট পরিবর্তন করে ফোর্থ আইআর-এ যুক্ত হচ্ছে ইন্টেলিজেন্স। প্রচলিত চাকুরির বাজারে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে অটোমেশন।

তিনি বলেন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবসায়িক ভবিষ্যতের পূর্বাভাসের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, পোশাক শিল্প ও শপিং সেন্টারে রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে, মেশিন লার্নিং সিমুলেশনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, স্মার্ট কৃষিতে ইন্টারনেট অফ থিংস (আইওটি) ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ৫জি প্রযুক্তি ব্যবসায়িক মডেল পুরোপুরি পরিবর্তন করছে এবং বিশ্বজুড়ে এই পরিবর্তনের আরও অনেক দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।

দক্ষতার অভাবে দেশের গ্রাজুয়েটদের বেকারত্বের হার নিয়ে রাষ্ট্রপতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদেশিরা অভ্যন্তরীণ চাকরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে, বিশেষ করে প্রযুক্তিগত এবং ব্যবস্থপনা স্তরে, করপোরেট সংস্থাগুলোতে এবং বহুজাতিক সংস্থাগুলোতে।তিনি বলেন, ‘এই প্রবণতার ফলে বাংলাদেশ থেকে যথেষ্ট পরিমাণে রেমিটেন্স আউটফ্লো হয়।’

রাষ্ট্রপ্রধান আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর, কর্মী নিয়োগে রাজি মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।‘চলতি মাসেই’ এই সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরই বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি এম সারাভানান।

বৃক্ষরোপণ, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন, নির্মাণ এবং গৃহকর্মী নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে জানান মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা সম্মত হয়েছে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সব সেক্টরের জন্য উন্মুক্ত করতে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে শুক্রবার এক বিবৃতিতে মানবসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিদেশি কর্মীদের জন্য স্থায়ী অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) পরিমার্জন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।এ ছাড়া নিয়োগকর্তার বুঝা থেকে অভিবাসী কর্মীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত নতুন পদ্ধতিতে বহুস্তর বিশিষ্ট বার্ষিক ভিসা নবায়ন বা লেভি (মাল্টি টায়ার লেভি) বাস্তবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ রেখেছে মালয়েশিয়া। যদিও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে।

এখন দুদেশের মধ্যে কর্মীসংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হওয়ার পর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোয় আর কোনো বাধা থাকবে না।

পরিপূর্ণ ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রা শুরু করল ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের ২১৩তম ‘ইউসিবি তাকওয়া ইসলামিক ব্যাংকিং’শাখা

পরিপূর্ণ ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ও পণ্য নিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে গুলশান-১, ঢাকায় যাত্রা শুরু করেছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) ২১৩তম ‘ইউসিবি তাকওয়া ইসলামিক ব্যাংকিং’শাখা। প্রধান অতিথি হিসেবে শরিয়া ভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই শাখার উদ্বোধন করেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আরিফ কাদরী। অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউসিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সৈয়দ ফরিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নাবিল মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আবুল আলম ফেরদৌস, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এন মুস্তাফা তারেক, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোহম্মদ হাবিবুর রহমান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এ টি এম তাহমিদুজ্জামান এফসিএস সহ ব্যাংকের বিশিষ্ট গ্রাহকবৃন্দ, বিভিন্ন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সুধীবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক মূল্যবোধের নিরিখে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচুর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সে ধারাবাহিকতায়, ইউসিবি তার বহুমুখী সেবা ও পন্যের সম্ভারে সংযোজন করেছে ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা ইউসিবি তাকওয়া।এছাড়াও বিশেষ অতিথি তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউসিবি তাকওয়া ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা সর্বাধুনিক, নিরাপদ ও পরিপূর্ন ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সমর্থ হবে।

পরিপূর্ণ ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ও পণ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবি) ২১৩তম ‘ইউসিবি তাকওয়া ইসলামিক ব্যাংকিং’ শাখার উদ্বোধন করছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গ্ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে আরো উপস্থিত রয়েছেন ইউসিবির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আরিফ কাদরী সহ ব্যাংকের বিশিষ্ট গ্রাহকবৃন্দ, ব্যাংকের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সুধীবৃন্দ।

হারাম সম্পর্কে থাকা অবস্থায় ইবাদত ও দোয়া কবুল হবে?

ইসলাম মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে মনোনীত শ্রেষ্ঠ দ্বীন। কিন্তু এখনকার তথাকথিত সমাজে তরুণ-তরুণীদের দ্বীনে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় যে প্রতিবন্ধকতা, সেটা হলো হারাম সম্পর্ক।

এমন অনেকেই আছে যারা হয়তো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, দ্বীনের ব্যাপারেও খুব আগ্রহী। কিন্তু, একটা জায়গায় এসে আটকে গেছে— হারাম সম্পর্ক।

নবী-রাসুলের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ বহির্ভূত তথাকথিত রিলেশনশিপ বা প্রেমের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম । একে অপরের সঙ্গে কামনা-বাসনা সহকারে কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাত, ডেটিং, চ্যাটিং, স্পর্শ, হাসাহাসি, দুষ্টামি সবই ইসলামে নিষিদ্ধ।

এসব রিলেশনশিপ মূলত শয়তানের ফাঁদ। এই ফাঁদে পড়ে নারী-পুরুষ উভয়ে জেনার দিকে ধাবিত হয়-যার পরিনতি খুবই ভয়াবহ।

নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি বিনিময়েও রয়েছে সুস্পষ্ট হুকুম। এ প্রসঙ্গে কুরআনে পাকে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছেন।

পুরুষদেরকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- ‘(হে রাসুল! আপনি) মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তাআলা সে ব্যাপারে খবর রাখেন।’ (সুরা নুর: আয়াত ৩০)

আবার নারীদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- ‘(হে রাসুল! আপনি) ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। সাধারণতঃ প্রকাশমান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বুকের ওপরে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, স্ত্রীলোক অধিকারভূক্ত বাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও (এমন) বালক- যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত অন্য কারো সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (এমনকি) তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

মহান আল্লাহ আমাদেরকে জেনার নিকটবর্তী হতেও নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর জেনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ। (সুরা ইসরা: ৩২)

তবে দয়াময় আল্লাহ বৈধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দিয়েছেন।

সুতরাং মানুষের কর্তব্য, বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কের দিকে পা না বাড়িয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা।

তবে হারাম রিলেশন (অবৈধ প্রেম) গুনাহের কারণ হলেও তা শিরক, কুফরি বা মুরতাদ হওয়া মত গুনাহ নয় যে, এ কারণে তার সকল আমল বরবাদ হয়ে যাবে বা তার আমল কবুল হবে না। বরং এ অবস্থায়ও তার সালাত, সিয়াম, দান-সদকা, দুআ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেকির কাজ বরবাদ হয়ে যাবে না।

বরং এগুলো সে যদি খালিস নিয়তে যথানিয়মে সম্পাদন করে তাহলে মহান আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে আশা করা যায়। কিন্তু হারাম রিলেশনের কারণে গুনাহগার হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় হল, অনতিবিলম্বে তওবা করে এ পথ থেকে ফিরে আসা।

আল্লাহ আমাদেরকে সর্বপ্রকার পাপাচার থেকে তওবায়ে নাসূহা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবায়ে নাসূহা তথা আন্তরিক তওবা করো। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। (সূরা তাহরীম: ৮)

তওবায়ে নাসূহা অর্থ: খাঁটি ও নির্ভেজাল তওবা, একনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ তওবা। অর্থাৎ এমন আন্তরিকতা ও দৃঢ় প্রত্যয় সহকারে তওবা করা যে, তওবা কারী আর কখনো জেনে-বুঝে ওই গুনাহে লিপ্ত হবে না।

কুরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা হলো, মুসলিম নারী-পুরুষ উভয়ে অবৈধ সংস্পর্শ, কথা-বার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ, আসক্তি ও সাজ-সজ্জা থেকে বেঁচে থাকা। নিজেদের দ্বীন ও আত্মসম্মান রক্ষা করা।

সুতরাং প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই ছোট হাদিসটির ওপর আমল করা জরুরি। যার বাস্তবায়নে তিনি মুসলিম উম্মাহকে দিয়েছেন জান্নাতের গ্যারান্টি।

তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; আমি তার জান্নাতের জিম্মাদার হবো।’

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর নারী-পুরুষ উভয়কে অবৈধ আসক্তি, সম্পর্ক, দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা ও যৌন লালসা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশ-ভারতই দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ ও ভারত সঙ্গে অংশীদারিত্বকে অত্যন্ত মূল্যায়ন করে এবং এই দুটি দেশই মূলত দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি চালাবে। স্থানীয় সময় সোমবার (৬ ডিসেম্বর) ‘মৈত্রী দিবস (বন্ধুত্ব দিবস)’ উদযাপনের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন সরকারের প্রতিনিধি ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যাম্বাসেডর কেলি কেইডারলিং এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত কেইডারলিং বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থায়ী বন্ধুত্ব পর্যবেক্ষণ করে এবং পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলে শক্তি ও স্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের সম্মতি অনুসারে ১৮টি বিদেশি রাজধানীতে ঐতিহাসিক ‘মৈত্রী দিবস’-এর যৌথ স্মরণের অংশ হিসেবে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সিনিয়র ডিরেক্টর মিস সুমনা গুহ, ইউএস ফরেন সার্ভিস অ্যাম্বাসেডরের ডিরেক্টর জেনারেল (মনোনীত) মার্সিয়া বার্নিকাট এবং ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি মার্কিন-ভারত বিজনেস কাউন্সিল মিসেস নিশা বিসওয়ালসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন সরকার ও চেম্বার থেকে আমন্ত্রিত অতিথি, কূটনীতিক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রতিনিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ও ভারতীয় প্রবাসী সদস্যরা এবং উভয় দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘এক মিনিট নীরবতা’ পালনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম স্বাধীনতার লড়াইয়ে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করার জন্য তাঁর অটুট নেতৃত্বের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তারাজিৎ সিং সান্ধু একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন যে, ভারত এবং বাংলাদেশ আজ ব্যাপক সম্পর্ক ভাগ করে; যা মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের উৎস। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অনুপ্রেরণাদায়ী নেতৃত্ব’ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে তার নিরলস প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর ছিল বাংলাদেশি ও ভারতীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছরের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি ও ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ইস্টার্ন ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। রিটেইল অ্যান্ড এসএমই ব্যাংকিং বিভাগে ‘সেলস এক্সিকিউটিভ’ পদে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে।

পদের নাম: সেলস এক্সিকিউটিভ
পদ সংখ্যা: অনির্দিষ্ট
যোগ্যতা: যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম স্নাতক পাস
অভিজ্ঞতা: প্রয়োজন নেই। তবে সেলস বিষয়ে ছয় মাসের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। লিখিত ও মৌখিক যোগাযোগে দক্ষতা থাকতে হবে। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা ও ইন্টারনেট বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে।
কর্মস্থল: চট্টগ্রাম
বেতন: ১২,০০০/-, ট্রেনিং পিরিয়ড শেষে ১৪,০০০/-

এতে নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন।

আবেদনের প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন, http://ebl.bdjobs.com/

আবেদনের শেষ তারিখ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১

শরীরে ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা মেটাতে কী খাবেন

ফলিক অ্যাসিড বা ফোলেট শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ভিটামিন। এটিকে ভিটামিন বি-৯ বলা হয়ে থাকে।

ফোলেট বা ফলিক অ্যাসিড আমাদের শরীরে সুস্থ লাল রক্ত কণিকা গঠন করে। এ ছাড়া অনাগত শিশুর বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি কমায়। আর শরীরে এটির অভাবের কারণে অ্যানিমিয়া হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর আমাদের শরীর ফলিক অ্যাসিড উৎপাদন করতে পারে না। এ কারণে বিভিন্ন সুষম খাবার থেকে ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করতে হয়।

এ জন্য বিভিন্ন ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জানুন শরীরে ফলিক অ্যাসিডের চাহিদা মেটাতে কী খাবেন—

১. ব্রকলি
ব্রকলি ক্রসিফেরি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত একটি শীতকালীন সবজি। আমাদের দেশে এটিকে অনেকে সবুজ ফুলকপিও বলে থাকেন। ফলিক অ্যাসিডের পাশাপাশি এতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে। এ ছাড়া এটি হৃদরোগ, বহুমূত্র এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। আর ব্রকলি জারণরোধী ভিটামিন এ ও সি সরবরাহ করে কোষের ক্ষতিও রোধ করতে সহায়তা করে।

২. পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি
পাতাযুক্ত সবুজ শাকসবজি যেমন— বাঁধাকপি, পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাকে ফলিক অ্যাসিড থাকে।

৩. মটরশুটি ও শিম
মটরশুটি ও শিমে ফলিক অ্যাসিড থাকে। এটি সিদ্ধ করে বা রান্নায় খাওয়া যেতে পারে।

৪. লেবুজাতীয় ফল
লেবু বা লেবুজাতীয় বিভিন্ন ফল যেমন— কমলা, বাতাবিলেবু, মাল্টা ইত্যাদিতে ফলিক অ্যাসিড থাকে।

৫. কলিজা বা লিভারের মাংশ
আমিষের মধ্যে কলিজা বা লিভারে ফলিক অ্যাসিড থাকে।

এগুলোর বাইরেও বিভিন্ন ফল যেমন— কলা, তরমুজ, টমেটো বা টমেটোর রসে ফলিক অ্যাসিড থাকে। আর মুরগির মাংস ও ডিমেও ফলিক অ্যাসিড থাকে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন ডটকম, এনএইচএস ডট ইউকে

সেদিন যা ঘটেছিল

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের গেস্টরুমে আসামিরা সভা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ১৭তম ব্যাচের ছাত্র আবরারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুসারে পরদিন সারা রাত আবরারকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে আবরারকে নির্মমভাবে মারধরের ভয়াবহ চিত্র।

চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ১১ আসামি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। বাকি ১৪ জনকে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ততার কারণে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আসামিদের মধ্যে ৮ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

চার্জশিটে আসামি অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মনিরুজ্জামান মনির, মুজাহিদুর রহমান, এএসএম নাজমুস সাদাত, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম তানভীর, মুনতাসির আল জেমি, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহর বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তারা একই উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবরারকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি, লাথি মেরে, কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে, ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আসামি এসএম মাহমুদ সেতু ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আবরারকে মারার জন্য হুকুম দেয়।

আসামি মেহেদী হাসান রাসেল, মিজানুর রহমান মিজান, মুহতাসিম ফুয়াদ, আকাশ হোসেন, মোয়াজ ওরফে মোয়াজ আবু হোরায়রা, মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ অর্মত্য ইসলাম, মাজেদুর রহমান ওরফে মাজেদ, অমিত সাহা, ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্না, মুজতবা রাফিদ, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, শামছুল আরেফিন রাফাত এবং মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান ওরফে জিসানকে বিভিন্নভাবে আবরারকে পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপর আসামিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে মিটিং করে, মেসেঞ্জারে মেসেজের মাধ্যমে কথা আদান-প্রদান করে। আবরারকে তার রুম থেকে ডেকে ঘটনাস্থল ২০১১নং রুমে নিয়ে তার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন চেক করে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দেয়। এরপর স্টাম্প এনে দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে আবরারকে নির্মমভাবে মারধর ও পিটিয়ে হত্যার কাজে সহায়তার কাজ করে তারা।

আবরার শিবির করেন-এমন মিথ্যা তথ্য দেয় আবরারের রুমমেট আসামি মিজানুর রহমান। তার তথ্যের ভিত্তিতে আসামি মেহেদী হাসান রবিন বুয়েট শেরেবাংলা আবাসিক হলের ছাত্রলীগ সদস্যদের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সব আসামিকে মেসেজ দিয়ে আবরারকে মারধর করে হত্যার সমর্থন আদায় করে।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিন এ সমর্থন আদায় করা হয়। ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর থেকে ৫ অক্টোবর হলের ক্যান্টিন, গেস্ট রুমে আসামি মেহেদী হাসান, মনিরুজ্জামান, মুজতবা রাফিদ, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, ইফতি মোশাররফ, এহতেশামুল রাব্বি, ইশতিয়াক মুন্না, মুজাহিদুর রহমান, অমিত সাহা, মিজানুর রহমানসহ দফায় দফায় মিটিং করে।

মেহেদী হাসান, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল জিয়নসহ কয়েক আসামি আবরারকে ধরে আনতে বলে সংশ্লিষ্টদের। সেই মোতাবেক ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর আসামি এহতেশামুল রাব্বি, মুনতাসির আল জেমি, এএসএম নাজমুস সাদাতসহ কয়েকজন আসামি আবরারের ১০১১ নম্বর রুমে গিয়ে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তার ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইলসহ ২০১১ নম্বর রুমে আনে।

আসামিরা আবরারকে শিবির করার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নানা তথ্যউপাত্ত বিষয়ে নানা প্রশ্ন করে। সে সময় উত্তেজিত হয়ে আবরারকে ক্রমাগত চড়-থাপ্পড়, লাথি, কিল-ঘুষি মারে। কনুই দিয়ে পিঠে আঘাত করে। এরপর ক্রিকেট স্টাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

শূন্যস্থান কখনো পূরণ হয় না

কান্না চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। এ কান্না ছেলের মৃত্যুশোকের সঙ্গে একরকম আনন্দেরও। কারণ ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলো।

বুধবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা যায় পুরান ঢাকার নিু আদালত প্রাঙ্গণে। ওই সময় বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর আসামি ও তাদের স্বজনদের অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

অন্যদিকে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন মামলার বাদী আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। তার চোখ দিয়ে ঝরছিল জল। তিনি দুই বছরের অধিক সময় আদালত প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়িয়েছেন। কুষ্টিয়া থেকে ভোরে ঢাকায় আসতেন-যেতেন মধ্যরাতে। খেয়ে না-খেয়ে ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছেন। রায় শেষে আবরারের বাবার সঙ্গে কথা হয় যুগান্তরের।

পাশাপাশি তারই (বরকত উল্লাহ) মোবাইল ফোন দিয়ে গ্রামে (কুষ্টিয়ায়) অবস্থান করা আবরারের মায়ের সঙ্গেও কথা হয় ৫ মিনিট ৩ সেকেন্ড। দুজনই প্রায় একই সুরে বলছিলেন-‘রায় এসেছে, হয়তো সেটি কার্যকরও হবে। কিন্তু আমাদের বুকের ধন কি কখনো ফিরে আসবে। আমাদের শূন্যবুক, শূন্যস্থান কি কখনো পূরণ হবে?’

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর একটি কালোদিন-কালো অধ্যায়। ওইদিন বুয়েটের শেরে-বাংলা হলে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ছেলের মৃত্যুশোক আজও মা-বাবাকে স্তব্ধ করে। বুধবার ভোরেই আদালতে বাবার সঙ্গে আবরার ছোট ভাই মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর পৌনে ২টার দিকে আবরারের বাবা কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘অনেক তো বলছি, প্রায় দু’বছর ধরে বলেই আসছি। বিচারের জন্য গ্রাম থেকে রাজধানীতে আসি ভোরে, আবার মধ্যরাতে গ্রামে ফিরি। আজ রায় হয়েছে। এ রায়ের জন্য খেয়ে না-খেয়ে কতবার যে আদালতে ঘুরেছি, এ হিসাব নেই। এখন আর কাঁদতে পারি না। বুকে ব্যথা হয়। শ্বাস ফেলতে কষ্ট হয়। অনেক কষ্ট করেই বড় ছেলে আবরারকে পড়িয়েছিলাম।’

সন্তানহারা বাবার আর্জি-‘খুনিরা আমার বুকের ধনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি জানি, আমার বাবা কত ভালো মানুষ ছিল। মাথা নিচু করে হাঁটতেন। এমন কোনো কাজ করতেন না, যার জন্য মানুষ তাকে মন্দ বলবে। পড়াশোনা শেষে দেশের বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। উচ্চ শিক্ষা করে দেশে ফিরে-দেশের উন্নয়ন করবে। কিন্তু কী নির্মম-আমার সেই ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে বার বার পানি খেতে চেয়েছিল, দেওয়া হয়নি।’ বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ বাবা। বললেন, ‘ আমি যখন পানি খাই, মনে হয় বাবা (আবরার) পানি চাচ্ছে…।’

আবরারের বাবার সঙ্গে এই প্রতিবেদক যখন কথা বলছিল, ওই সময় আদালত ভবনের নিচে, প্রিজন ভ্যান ঘিরে আসামি, আসামিদের স্বজনরা কান্না করছিল। আসামিরা শুধু চিৎকার করছিল। এমনটা দেখে আবরারের বাবা বলছিলেন, ‘আমার বাবা হয়তো কান্নাও করতে পারেনি। বুকের ওপর লাফিয়ে লাফিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। আজ তারা কাঁদছে, স্বজনরা কাঁদছে। আর আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে কেঁদে যাচ্ছি। ফাঁসির রায় কার্যকর হলে তাদের অভিভাবকরাও বুঝবে, শূন্যবুক কীভাবে হাহাকার করে। সন্তান হারানোর ব্যথা কী। কেমন লাগে। আমি জানি, সন্তান হারানোর যন্ত্রণার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ কিংবা আসামিদের ফাঁসির কোনো অঙ্কই যে মেলে না। যাদের ফাঁসি হবে, তাদের অভিভাবকরাও আমাদের মতো কাঁদবে-যন্ত্রণায় ভুগবে।’

আর যেন কোনো সন্তান খুন না হয়, খুনের দায়ে কারও ফাঁসি না হয়-এমন আকুতি জানিয়ে বরকত উল্লাহ বললেন, ‘এ রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। রায় কার্যকর হলেই আমার বাবা (আবরার) শান্তি পাবে। এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটাতে কেউ সাহস পাবে না। রাজনৈতিক দল প্রধান-নেতাদের কাছে অনুরোধ, শিক্ষার্থীদের হত্যাকারী বানাবেন না। হিংস্র-বর্বর হতে সহযোগিতা করবেন না। হিংস্ররা মুহূর্তের মধ্যেই মানুষকে হত্যা করে। রাজনৈতিক শক্তি হত্যার জন্য হতে পারে না, উন্নয়ন-সভ্যতার জন্যই হতে হবে। নতুন করে সন্তান হারানোর তালিকায় আর যেন কোনো মা-বাবার নাম না ওঠে।’

দুপুর ২টা ৩ মিনিটে আবরারের মা রোকেয়া বেগমের (৫৭) সঙ্গে মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। কলটি রিসিভ করলেই কানে ভেসে আসে কান্না। নিজের পরিচয় দিয়ে কথা বলতেই বললেন, ‘আমার বাবাকে আমি ভুলি না, চোখের সামনে ভেসে আসে সব। এখন নিজেকে অপরাধীও মনে হয়, বাবাকে যদি ঢাকায় না পাঠাতাম হয়তো বেঁচে যেত। আমি নিজ হাতে বাবাকে বুয়েটে ভর্তি করিয়েছি। দিনের পর দিন বাবার সঙ্গে ঢাকায় ঘুরেছি। আমার আশা-আসামিদের ফাঁসি এবং যাবজ্জীবন দ্রুত কার্যকর হবে। আমি ভাবছি, যাদের ফাঁসি হবে, তাদের অভিভাবকদের কথা। কোনো বাবাই চায় না সন্তান সন্ত্রাসী হোক, কাউকে খুন করুক। কেউ না কেউ তাদের সন্ত্রাসী বানায়, খুন করতে সাহস দেয়। তারা কারা?’

রোকেয়া বেগম আরও জানান, আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেছি। ছেলেকে বুয়েটে ভর্তি করাতে ঢাকায় থাকতে হয়েছে। কিন্তু যে দিন আবরারের লাশ গ্রামের বাড়িতে এলো-সেই দিনের পর থেকে আর কোনো দিন ঢাকায় যাইনি। আবরারের বয়স যখন ১৩ দিন, তখন আমার বিসিএস পরীক্ষা ছিল। ছেলেকে কার কাছে রেখে যাব, তার বাবা ব্যাংকে চাকরি করতেন। সেই পরীক্ষা আর দেওয়া হয়নি। কিছুদিন পর সিলেটে একটি ভালো চাকরি হয়।

কিন্তু ছেলের জন্য চাকরিতেও যোগদান করিনি। আমার বয়স যখন ৩ বছর ৭ মাস তখন আমরা বাবা মারা যান। বাবার মুখ আমি স্মরণ করতে পারিনি। যখন আবরার আমার কোল জুড়ে এলো, সেই দিন থেকেই মনে হয়েছে, আবার আমার বাবার কাছে ফিরে এসেছে। বাবা বলেই তাকে ডাকতাম। সেই বাবাকেও খুন করা হয়েছে, আমার বুক শূন্য করে দেওয়া হয়েছে।’ কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এ মা।

তিনি আরও বললেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা অমিত শাহ। সে হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে না থাকলেও মোবাইলের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সমস্ত পরিকল্পনা করেন।

এদিকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আবরারের বাবা আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় হাঁটছিলেন। তার সঙ্গে তার ভাই, শ্যালক ও বোনের মেয়ে ছিলেন। চাচা মনিরুল ইসলাম বললেন, ‘আবরারকে সে স্কুলে নিয়ে যেতেন। কোলেপিঠে করে বড় করেছিলেন।’

মামা মোফাজ্জেল হোসেন বলল, ‘সে ছিল আমাদের আলোকরশ্মি। যেমন মেধাবী-তেমনি ভদ্র। সেই প্রিয় ভাগ্নেকেই নির্মমভাবে খুন করা হলো।’ ফুফুতো বোন আফরিদা তানজীনার ভাষ্য, ‘আবরার তার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট। এক সঙ্গে খেলা করতেন। তাদের বোন নেই-আপন বোন হিসেবেই দেখতেন-মানতেন। সেই ভাইটাকে কেড়ে নিল সন্ত্রাসীরা।’

এদিকে আসামিদের বেশ কয়েকজন স্বজনদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত এক আসামির বড় ভাই বললেন, তার ভাই সোজা-সাপ্টা মানুষ ছিল। বুয়েটে ভর্তির আগেও কোনো রাজনীতি করত না। রাজনীতির নামে কারা তাদের ক্ষমতাবান করে তোলে। কারা তাদের ব্যবহার করে। ফাঁসির আরেক আসামির বৃদ্ধ মা ছেলের দিকে তাকিয়ে কাঁদছিলেন।

নাম জানতে চাইলে, পাশে থাকা এক যুবক প্রতিনিধিকে ধাক্কা দেয়। প্রিজন ভ্যানে থাকা ওই আসামি চিৎকার দিয়ে বলছিলেন, তার কোনো অপরাধ নেই। সে অপরাধে সম্পৃক্ত নয়। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ইসতিয়াক হোসেনের মা কুলসুমা-আরা বেগম ছেলের জন্য কাঁদছিলেন। জানালেন, তার ছেলে ভালো মানুষ। কিন্তু ছেলে কেন ফাঁসল। কে তাদের হিংস্র করল।’ মিডিয়া কর্মীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন এ মা…।

শাবনাজের আহ্বান

ঢালিউডের এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনাজ এখন আর অভিনয়ে নেই। সাংসারিক কাজেই ব্যস্ত থাকেন এই চিত্রনায়িকা। তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবী একটি কাজে যুক্ত আছেন ছোটবেলা থেকেই। চাঁদনীখ্যাত নায়িকা শাবনাজ সবাইকে রক্তদানে আহ্বান জানিয়েছেন।

শাবনাজ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি রেডক্রিসেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের সেবায় এগিয়ে আসার জন্য শাবনাজ জীবনে প্রথম ‘বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির রেডক্রিসেন্ট ব্লাড সেন্টার’-এ প্রথম রক্ত দেন ১৯৯৬ সালের ১ ডিসেম্বর। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বহুবার মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন রক্ত দিয়ে।

শাবনাজ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি রেডক্রিসেন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কারো রক্ত লাগলেই আমি রক্ত দিতে ছুটে যেতাম। আমার আব্বু আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা দিতেন। আব্বুর কারণেই সাহসী হয়ে উঠেছিলাম রক্ত দিতে। আব্বু সবসময় বলতেন বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। যে কারণে সেই ১৯৯৬ সাল থেকে আমি এখনো কারো যদি রক্তের প্রয়োজন হয়, আমি সহযোগিতার হাত নিয়ে পাশে দাঁড়াই।

আমার শরীরের এক ব্যাগ রক্তের জন্য যদি একজন মানুষের সারা জীবনের জন্য উপকার হয়, তাহলে সেটা আমার সৌভাগ্য। আর বিপদে মানুষের পাশে মানুষইতো দাঁড়াবে। সবাইকে বলছি রক্তদানে এগিয়ে আসবেন। রক্তদান করলে শরীর আরো সুস্থ থাকে, ভালো থাকে।

বর্তমানে শাবনাজ তার স্বামী চিত্রনায়ক নাঈমের সঙ্গে টাঙ্গাইলের পাথরাইলে গ্রামের বাড়িতে আছেন। নাঈম কিংবা শাবনাজ দু’জনের কেউ এখন আর অভিনয় করছেন না। তবে যেকোনো সময়ই দু’জনে অভিনয়ে ফিরতে পারেন। সর্বশেষ নাইম-শাবনাজ সাংবাদিক অভি মঈনুদ্দীনের সাংবাদিকতায় দুই দশক পুর্তি ও জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন গত ৩১ অক্টোবর।