শুক্রবার ,৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 590

দুই লাখ কর্মী পুনর্বাসনে ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ

বিদেশফেরত দুই লাখ কর্মীর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সরকার নতুন করে আরও ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এসব কর্মী চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন।

এই অর্থ পুনরেকত্রীকরণে (রি-ইন্টিগ্রেশন) ব্যয় করা হবে। এর আগে বিদেশফেরত কর্মীদের ঋণ দেওয়ার জন্য যে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, নতুন বরাদ্দ তার অতিরিক্ত। নগদ আর্থিক প্রণোদনা হিসাবে ব্যয় হবে নতুন বরাদ্দের বড় অংশ।

বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হলে প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। লকডাউনের কারণে বিভিন্ন দেশে কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক কর্মী চাকরি হারান। বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় ছুটিতে আসা কর্মীদের অনেকে আর কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।

মহামারিকালে কমপক্ষে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে আসেন। তাদের বেশির ভাগ দেশে ফিরেও নানা সমস্যায় পড়েছেন। এ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে সরকার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে চার শতাংশ সরল সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাংককে ঋণের সিংহভাগ জোগান দেয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। বাকিটা সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর কিছু ঋণ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রি-ইন্টিগ্রেশন খাতে নতুন বরাদ্দের কারণে বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য মোট প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বিদেশ থেকে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে দুই লাখ কর্মীর প্রত্যেককে নতুন বরাদ্দ থেকে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ অনুদান দেবে। এছাড়াও নতুন বরাদ্দ অর্থ দিয়ে সারা দেশে ৩০টি ওয়েলফেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তৈরি করা হবে ফিরে আসা কর্মীদের ডেটাবেজ। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে জানান, বিদেশফেরত ১০ হাজারের বেশি লোকের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে প্রবাসী কর্মীদের ঋণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে অভিবাসী কর্মীদের সংগঠন ওয়ার্বি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। সংগঠনের নেতারা বলছেন, অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই ঋণের বোঝা মাথায় নিতে হচ্ছে প্রবাসীদের। ঋণ নিয়ে বিদেশ গিয়ে তা পরিশোধ করতে পারেন না তারা। ফলে ঋণের ঘানি টানতেই চলে যায় জীবনের অনেকটা সময়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শূন্য অভিবাসন ব্যয় করার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় এ দাবি জানানো হয়। ওয়ার্বি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এই আলোচনাসভার আয়োজন করে। সহযোগিতা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)।

ওয়ার্বের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সংসদ সদস্য রোকসানা ইয়াসমিন সুতী, ওয়ার্বের সহকারী পরিচালক সোহরাওয়ার্দী হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা নজরুল আহসান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির পরিচালক জেসিয়া খাতুন।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অভিবাসন ব্যয় প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বেশি। ফলে যারা বিদেশে যান শ্রমিক হিসাবে, তারা ঋণের বোঝা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নেওয়ার কারণে সুদের হার অনেক বেশি থাকে। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যে আয় করেন, তা দিয়ে ঋণ শোধ করা তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ঋণের বোঝা নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন।

এছাড়া করোনা মহামারির কারণে অনেক শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এ কারণে তারা এখন দিশেহারা। এ অবস্থায় সরকারের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। সেই সঙ্গে রেমিট্যান্সের অর্থের সঠিক ব্যবহার করা প্রয়োজন।

চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার, যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিু। এর আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। রেমিট্যান্সের নিুগতি নভেম্বরেও থাকবে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশ্লেষকরা।

তাদের ধারণা, নভেম্বর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৫৫ থেকে ১৬০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। কারণ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো এবং মহামারির কারণে বিদেশফেরত অধিকাংশ প্রবাসী এখনো যেতে পারেননি। এসব কারণে প্রবাসী আয় কমেছে।

রেমিট্যান্স প্রণোদনায় জটিলতা

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনার অর্থ ছাড় নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ রেমিট্যান্স আসে এমন খাতের বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতেও ব্যাংকগুলো প্রণোদনার অর্থ চাচ্ছে। এর মধ্যে আছে, প্রবাসে কর্মরতদের অবসরপ্রাপ্ত সুবিধা, পেনশন তহবিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড।

এছাড়া অবসরকালীন ছুটির বেতন-ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অবসর সুবিধাও এর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু সরাসরি বা প্রত্যক্ষ রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার নিয়ম আছে। পরোক্ষ রেমিট্যান্সে দেওয়ার নিয়ম নেই। এ কারণে ব্যাংকগুলো ওইসব খাতে প্রণোদনার অর্থ চাইলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা ছাড় করছে না।

এদিকে প্রবাসীরাও বিভিন্ন দেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ফোন করে ওইসব রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনার অর্থ দাবি করছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে আলোচ্য বিষয়ে মত চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত গতিতে কমতে থাকায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আলোকে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কস্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে আসার পর ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। এটা প্রযোজ্য হবে সরাসরি বা প্রত্যক্ষ রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা। কিন্তু পরোক্ষ রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়ার নিয়ম নেই।

পরোক্ষ রেমিট্যান্স বলতে, প্রবাসে কর্মরতদের অবসরপ্রাপ্ত সুবিধা, পেনশন তহবিল, প্রভিডেন্ট ফান্ড, অবসরকালীন ছুটির বেতন-ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসরজনিত সুবিধা বা অন্যান্য আয়কে বোঝায়।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বৈধ উপায়ে যেসব প্রত্যক্ষ রেমিট্যান্স দেশে আসছে সেগুলোর বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হ”েচ্ছ। কিন্তু পরোক্ষ রেমিট্যান্সে এখন পর্যন্ত কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। রেমিট্যান্স দেশে এলে তা কোন খাতে কিভাবে এসেছে সে বিষয়ে একটি বিবরণী ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রেমিট্যান্স শনাক্ত করে। এখন পর্যন্ত যেসব পরোক্ষ রেমিট্যান্স শনাক্ত করা হয়েছে সেগুলোর বিপরীতে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বিদ্যমান নীতিমালায় পরোক্ষ রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ নেই। এতে বলা হয়, বৈদেশিক খাতে লেনদেনের যে কোড লিস্ট আছে তাতে এসব বিষয় রেমিট্যান্স খাতের সেকেন্ডারি ইনকাম হিসাবে বিবেচিত। কাজেই এগুলো রেমিট্যান্স হিসাবে বিবেচিত হয় না। এসব খাতে প্রণোদনার অর্থ দেওয়া হবে কিনা এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে।

রেমিট্যান্সের বিপরীতে সরকারিভাবে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে অগ্রণী ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ১ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৩ শতাংশ দিচ্ছে।

রেমিট্যান্সের গতিবিধি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বেড়েছিল সাড়ে ১২ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কমে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাড়ে ৭ শতাংশ বাড়ে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা আবার আড়াই শতাংশ কমে যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কমে সাড়ে ১৪ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আবার প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ বাড়ে। পরের বছর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়ায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা হয়। এর আলোকে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতিমালা জারি করা হয়। প্রণোদনার পর রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় ১১ শতাংশে দাঁড়ায়। গত অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার আরও বেড়ে ২৬ দশমিক ১০ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে নিম্নগতি চলছে।

বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে

বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, একটা কথা খুব পরিষ্কার মানবাধিকার ও গণতন্ত্র-এ দুটি পরস্পরের পরিপূরক। গণতন্ত্র ছাড়া মানবাধিকার কোনোদিন রক্ষা হতে পারে না, আর মানবাধিকার ছাড়া কখনো গণতন্ত্র চলতে পারবে না। আমাদের যে মানবাধিকার ও হিউম্যান রাইটস সংগঠনগুলো আছে তাদের হিসাব বছরে, প্রায় ৬০৭ জন গুম হয়ে গেছে। আমাদের প্রায় সহস্রাধিক রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছেন, তাদের হত্যা করা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যে ঢাকা কোর্টে যান, জেলা আদালতগুলোতে যান দেখবেন, যারা আসামি হয়ে আসছেন তাদের ৯০ ভাগ বিএনপির নেতাকর্মী।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এই সেমিনার হয়।

সেমিনারে ইংরেজিতে লেখা ‘Disenfranchisement under the authoritarian regime’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়। ২০০৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা চিত্র তুলে ধরা হয় এই গ্রন্থে। অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের আমলে ‘গুম’ হওয়া সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, বিএনপির সাজেদুল ইসলাম সুমনের ভাগ্নি আফরা আনজুম, ওমর ফারুকের স্ত্রী পারভীন আখতার, ছাত্রদলের মাহবুবুর রহমান বাপ্পীর বোন ঝুমুর আখতার স্বজনদের সন্ধান চেয়ে আবেগময় কণ্ঠে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ, কানাডা, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা করতে না দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আজ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক তিনি। আজ তার ন্যূনতম যে চিকিৎসার অধিকার তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের বেদনার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ৮ বছর ধরে আমরা এই পরিবারগুলোর কান্না শুনেছি, শিশুদের কান্না শুনেছি। এখনো শিশুরা অপেক্ষা করে থাকে কখন তার বাবা ফিরে আসবে। এ রকম একটা ভয়াবহ মর্মস্পর্শী পরিস্থিতির মধ্যে আমরা আছি। বাংলাদেশে আমরা যারা আছি বারবার এ কথা বলার আর প্রয়োজন নেই যে, কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে।

দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে, বিচার বিভাগের ওপর এ দেশের মানুষ কোনো আস্থা রাখতে পারছে না। প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে, গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলা হয়েছে। বলতে কোনো দ্বিধা নেই আজকে যারা গণমাধ্যমকর্মী আছেন তারা সবচেয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে এখন কথা বলার স্বাধীনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ‘জাতীয় ঐক্য’ সৃষ্টি করার আহবান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির অধ্যাপক তাজমেরী ইসলাম, আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।

 

কানাডায় ঢুকতে পারলেন না মুরাদ হাসান

বিতর্কিত রাজনীতিবিদ ও সদ্য পদত্যাগকারী প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপিকে কানাডায় ঢুকতে দেয়নি দেশটির বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি।

টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

কানাডার স্থানীয় বাংলা অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, কানাডায় বসবাসরত তার ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে কানাডার সরকারি সূত্র থেকে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কানাডা বর্ডার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।

নারীর প্রতি অশোভন মন্তব্য করে বিতর্কিত সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান আমিরাতের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরন্টো পিয়ারসন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এ সময় কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় তার প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও তাকে জানানো হয়।

পরে তাকে মধ্যপ্রচ্যের একটি দেশের বিমানে তুলে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

কানাডায় ঢুকতে পারেননি মুরাদ

নানা বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো জামালপুর-৪ আসনের এমপি ডা. মুরাদ হাসানকে কানাডায় ঢুকতে দেয়নি দেশটির বর্ডার সার্ভিস এজেন্সি।
টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

কানাডার স্থানীয় বাংলা অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

তবে ডা. মুরাদ এ মুহূর্তে কোথায় অবস্থান করছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

তাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশের একটি বিমানে উঠিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি সূত্রের দাবি, মুরাদ হাসান বর্তমানে মন্ট্রিয়ালে অবস্থান করছেন।
মন্ট্রিয়াল কানাডার কুইবেক প্রদেশের বৃহত্তম এবং উত্তর আমেরিকার নবম বৃহত্তম শহর।

মন্ট্রিয়াল প্যারিসের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর যেখানে ফরাসি প্রাথমিক ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে ৬৭.৯ শতাংশ লোক ফরাসিতে এবং ১৬.৫ শতাংশ ইংরেজিতে কথা বলে।
তবে ডা. মুরাদের মন্ট্রিয়ালে অবস্থানের বিষয়ে কোনো দেয়নি কানাডার সরকারি সূত্র। কানাডা বর্ডার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।

এ বিষয়ে যমুনা টিভির কানাডা প্রতিনিধি রনি ইউসুফ বলেন, ডা. মুরাদ হাসান আমিরাতের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে টরন্টো পিয়ারসন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এসময় কানাডা ইমিগ্রেশন এবং বর্ডার সার্ভিস এজেন্সির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। দীর্ঘ সময় ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি গণমাধ্যমের একটি সূত্র জানাচ্ছে, তিনি টরেন্টোতে ঢুকতে না পেরে মন্ট্রিয়ালে চলে গেছেন। এখন সেখানেই অবস্থান করছেন।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তাকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক কানাডিয়ান নাগরিক কানাডায় তার প্রবেশের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলেও তাকে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, নারীর প্রতি অশোভন ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও কয়েকটি অডিও ক্লিপ ফাঁসের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ডা. মুরাদ। কোণঠাসা হয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্ট করেন তিনি। গত পাঁচ দিন ধরে অগোচরে থাকা মুরাদকে এদিন রাত ৯টার দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ রজনীগন্ধায় দেখা যায়।
অবশেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২১ মিনিটে সফল হন মুরাদ। এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে৮৫৮৫ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কানাডার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি।

বিমানবন্দরে বিতর্কিত এ সংসদ সদস্যকে অনেকটা নির্বিঘ্নেই ফ্লাইটে ওঠতে দেখা যায়। এসময় জিন্স প্যান্ট ও ব্লেজার পরা মুরাদের ডান হাতে ছিল মেরুন রঙের একটি হ্যান্ড লাগেজ, বাম হাতে ধরা ছিল পাসপোর্ট, কাঁধে ছিল একটি চামড়ার ব্যাগ।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়ার নাতি ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে চরম আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তৎকালীন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান।
এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও কটূক্তি করেন তিনি। তার ওই মন্তব্যের পর ঢাবি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। উত্তাল হয়ে উঠে ক্যাম্পাস।
এর মধ্যেই দেওয়ার মধ্যেই ডা. মুরাদ হাসানের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ঢাকাই সিনেমার নায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপের ওই অডিওতে মুরাদ হাসানকে অশ্লীল কথাবার্তা ও নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সরকার। এরপর সোমবারই (৬ ডিসেম্বর) মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দেন মুরাদ।

ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু আজ

সারা দেশে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ কর্মসূচি।

চার দিনের এ কর্মসূচি চলবে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে প্রায় দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ (ঢাকা) শিশু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঢাকায় জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করবেন।

জাতীয় পুষ্টি সেবা ও জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজর (ডিপিএম) ডা. গাজি আহমাদ হাসান বলেন, ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সারা দেশে ছয় থেকে ১১ মাস বয়সি প্রায় ২৩ লাখ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল (এক লাখ আই.ইউ) খাওয়ানো হবে। এ ছাড়া ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখ শিশুকে একটি করে লাল রঙের (দুই লাখ আই.ইউ) ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সারা দেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে এই জাতীয় ক্যাম্পেইন চলবে। তবে করোনার কারণে এবার বাস ও রেলস্টেশনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র পরিচালনা বন্ধ থাকবে।

ওয়ার্ড পর্যায়ে ইপিআই আউট রিচ সেন্টার, কমিউনিটি ক্লিনিক, পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি), উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতালের ইপিআই কেন্দ্র ও মেডিকেল কলেজে কেন্দ্র করা হবে।

এ ছাড়া শহরাঞ্চলে আরবান ডিসনেপনসারি এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান যেমন, সূর্যের হাসি ক্লিনিক ও মেরিস্টোপের মতো বিভিন্ন বেসরকারি এনজিওগুলোতে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিটা কেন্দ্রে হেলথ ওয়ার্কারের সঙ্গে দুজন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবে।

প্রত্যেক উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধান করতে স্বাস্থ্য সহকারী ও হেলথ ইন্সপেক্টর নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি এনজিও কর্মীরাও সহায়তা করবে।

নেতাদের ‘একক আধিপত্য’ প্রথা ভাঙছে বিএনপি

সাংগঠনিক জেলা শাখার কমিটি গঠনে বিএনপি স্থানীয় নেতাদের ‘একক আধিপত্য’ প্রথা ভেঙে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকা বেশ কয়েকজন নেতার কারণে সংশ্লিষ্ট জেলায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি না হওয়ায় বিএনপি এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা জেলার শীর্ষ পদে নিজেদের অনুসারী রেখে স্থানীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগও পেয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এমন অবস্থায় ‘অতি গ্রুপিং’ সৃষ্টিকারী নেতাদের বাদ দিয়ে তৃণমূলের পরিচ্ছন্ন ও পরীক্ষিতদের দিয়ে জেলার নতুন কমিটি দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি ঘোষিত নতুন কমিটিতে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী তিন নেতাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বরিশাল মহানগরের মজিবর রহমান সরোয়ার, খুলনা মহানগরের নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও রাজশাহী মহানগরের মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে কমিটিতে রাখা হয়নি।

নরসিংদী ও ফরিদপুরের নতুন নেতৃত্ব গঠনেও একই পথে হাঁটছে দলটি। সেখানেও কেন্দ্রীয় দুই নেতার অনুসারীদের না রাখার বিষয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের আপত্তি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে।

দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, জেলা শাখায় কেউ ২০ বছর, আবার কেউ ৩০ বছর ধরে নেতৃত্বে রয়েছেন। এটা তো হতে পারে না। আবার একাধিক নেতা কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার পরও জেলার নেতৃত্বে আছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতা এক পদ’ কার্যকরে তাদের একাধিকবার জেলার পদ ছাড়ার অনুরোধ করা হলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

তারা আরও বলেন, স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকবে। এর মানে এই নয় যে, একজন নেতার একক আধিপত্যের কারণে ওই জেলায় কোনো নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে না। এখন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যারা এলাকায় থাকেন, ত্যাগী ও পরীক্ষিত এমন স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তবে দলটির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার ধারণা-কয়েকজন নেতার একক আধিপত্য ভাঙতে গিয়ে কয়েকটি গ্রুপের অনুসারীরা বিএনপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা জানান, বরিশালের রাজনীতিতে সরোয়ার একটি ‘ফ্যাক্টর’। তাকে সম্মানজনকভাবে স্থানীয় রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ ছিল। একইভাবে খুলনার মঞ্জুর ক্ষেত্রেও। তারা দুজনই দলের পরীক্ষিত নেতা। অথচ তাদের অনুসারীদেরও নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। এতে করে দীর্ঘ বছর ধরে যারা তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তাদের মনোবল ভেঙে গেছে এবং এটাই স্বাভাবিক। সব গ্রুপের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন-কর্মসূচি সফল হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব জেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ সেখানে কাজ চলছে। নতুন কমিটি করা হচ্ছে। কমিটি পুনর্গঠনে যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে ও হবে। বিগত সময়ে হামলা-মামলা মোকাবিলা করে যারা রাজপথে ছিলেন তারাই অগ্রাধিকার পাবেন। কারণ, সামনে আমাদের কঠিন সময়। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্দোলন করতে হবে। তাই আন্দোলনমুখী নেতৃত্বকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবার মতামত নিয়ে এসব কমিটি করবেন।

বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা ও মহানগর, রাজশাহী মহানগর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বাদ দিয়ে খুলনা মহানগর শাখার আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনের মাধ্যমে খুলনা বিএনপিতে মঞ্জুর ৩৩ বছরের একক আধিপত্যের অবসান ঘটেছে।

সাবেক ছাত্রদল নেতা মঞ্জু ১৯৮৮ সালে খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হন। এরপর ১৯৯৩ সালে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক, ২০০৯ সালে আহ্বায়ক এবং একই বছরে সভাপতি হন। মঞ্জুর সঙ্গে বাদ পড়েছেন সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনিও।

রাজশাহী মহানগর কমিটি থেকে বাদ পড়েন আরেক প্রভাবশালী নেতা সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সেখানে প্রবীণ নেতা কবির হোসেন ও মিজানুর রহমান মিনু অনুসারীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটিতে স্থান পাননি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদের অনুসারীরা।

এর আগে নভেম্বরে মজিবর রহমান সরোয়ারকে বাদ দিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এ কমিটির মাধ্যমে বরিশাল বিএনপিতে সাবেক এমপি, মেয়র ও হুইপ সরোয়ারের প্রায় ৩০ বছরের একক আধিপত্যের অবসান হয়।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, কমিটিতে এমন নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে, যারা অপেক্ষাকৃত কম গ্রুপিং করেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চান দ্রুত সময়ের মধ্যে তৃণমূলের পুনর্গঠনের কাজ শেষ করতে। এক্ষেত্রে যারা বাধা, তাদেরই বাদ দেওয়া হয়েছে। কে কোনো বলয়ের নেতা, তা দেখা হয়নি।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ‘এক নেতার এক পদ’ গঠনতন্ত্রে সংযুক্ত করে বিএনপি। পরে বিএনপির বরিশাল মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, নরসিংদী জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) নজরুল ইসলাম মঞ্জু, রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ দুই পদে থাকা নেতাদের একটি পদ ছেড়ে দিতে বলা হয়। কিন্তু উভয় পদ ধরে রাখায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হন। এ কারণে এখন সংশ্লিষ্ট জেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠনে তাদের মতামত খুব একটা প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, নরসিংদী ও ফরিদপুর জেলারও আহ্বায়ক কমিটি শিগগিরই দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতার গ্রুপিংয়ের কারণে এ দুই জেলার কমিটি গঠন করা যায়নি। পরে দলের হাইকমান্ড ফরিদপুর জেলার কমিটি গঠনে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে ও নরসিংদী জেলার কমিটি গঠনে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দায়িত্ব দেয়। তারা ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠকও করেছেন। জানা গেছে, এ দুই জেলায়ও একক আধিপত্য প্রথা ভেঙে দেওয়া হবে।

ফরিদপুরের স্থানীয় নেতারা জানান, এ জেলায় মূলত বিএনপির দুটি গ্রুপ রয়েছে। একটির নেতৃত্বে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ। আরেকটির নেতৃত্ব আছেন প্রয়াত নেতা চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে নায়াব ইউসুফ।

নায়াব ইউসুফের সঙ্গে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলও রয়েছেন। এ কারণে এ বলয়ের নেতাকর্মীরা স্থানীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী। দুগ্রুপের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই ফরিদপুরে। তবে স্থানীয় অধিকাংশ নেতা চাইছেন-দুগ্রুপের বাইরে কাউকে জেলার নেতৃত্বে আনা হোক। এটি করা হলে দলের জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হবে।

আল্লাহর অস্তিত্ব: সহজাত প্রামাণ্য সত্য

আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও যুক্তিকে দেয়া যায় না আল্লাহকে পুরোপুরি বয়ানের দায়িত্ব। কারণ যে আমরা সৃষ্ট, তাদের সৃষ্ট যুক্তিপ্রণালী কীভাবে ধারণ করবে তাকে, সৃষ্টির কোনো কিছুতেই যার প্রতিতুলনা নেই?

প্রকৃতিবিজ্ঞানও পারবে না তাকে পুরোপুরি বুঝাতে। কারণ সীমিত প্রকৃতি কীভাবে বয়ান করবে তাকে, যে সীমার উর্ধ্বে? বিশ্বজগত কীভাবে তাকে বুঝাবে, যিনি বিশ্বজগতের একজন নন?

সময় ও স্থান কীভাবে তাকে বুঝাবে, যিনি সময় ও স্থানের অধিন নন? সময়কে তিনি সৃষ্টি করেছেন সময়ের প্রয়োজন ছাড়া, স্থানকে তিনি সৃষ্টি করেছেন স্থানের প্রয়োজন ছাড়া।

তারা কেবল পারে তার নিদর্শনকে বুঝতে। যে নিদর্শন মানুষের চিরায়ত অনুভবে পল্লবিত, চিরহৃদয়ে জাগ্রত, অভিজ্ঞতার পরিসরে ব্যাপ্ত, নিখিলের চরাচরে বাকমুখর।

সেই মুখরতার শব্দাবলী শুধু শব্দ হয়ে নয়, নৈশব্দেও কথা বলছে। বলছে, আল্লাহর অস্তিত্ব স্বত:স্ফূর্ত সত্য, সহজাত বাস্তবতা!

আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ কী? প্রাচীন আরবের এক বেদুইন প্রশ্নটির জবাব পেয়েছেন প্রকৃতিনির্ভর যুক্তিবাদের সারল্যে।

তিনি বললেন, উটের বর্জ্য প্রমাণ করে উটের অস্তিত্ব। গাধার বর্জ্য জানায় গাধার অস্তিত্বের বার্তা। পায়ের দাগ বলে দেয় কেউ হেঁটে গেছে। অতঃপর, কক্ষপথসম্পন্ন আকাশ, বিচিত্র পথে সজ্জিত জমিন, তরঙ্গকল্লোলিত সাগর প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ না হওয়ার কোনো কারণ নেই ।

তর্কপ্রিয়তায় যারা নিমজ্জিত, তারা বলবেন, প্রমাণটি প্রত্যক্ষ নয়, পরোক্ষ। কিছু আলামতের উপর ভর করে ধরে নেয়া হচ্ছে স্রষ্টার থাকা বাস্তব। কিন্তু পরোক্ষ প্রমাণ কি প্রমাণ নয়?

মানুষের জ্ঞান এখন ম্যাক্রোকসমিক লেভেলে; অতিক্ষুদ্র মহাজাগতিক স্তরে। আগে যে পরমাণুকে মনে করা হতো অখন্ড, ভাঙ্গন-বিরোধী, সেই পরমাণু ভেঙ্গে এখন খণ্ড-বিখণ্ড। এখন অসংশয় বাস্তব হয়ে উঠেছে ওয়াবেস; সেই সব তরঙ্গ, যাকে না দেখা যায় চোখে, যা না আসে কোনো মাপযন্ত্রের আওতায়। অপ্রত্যক্ষ এই বাস্তবতা শতাব্দী আগেই যুক্তি ও প্রমাণ পদ্ধতিকে দিয়েছে বদলে।

বিজ্ঞান বলছে, মহাবিশ্বের কোন কিছুরই সর্বশেষ প্রকৃতি সরাসরি জানতে পারে না মানুষ। সে কেবল পারে কোন জিনিসের প্রভাব বা ফলাফল দেখে তার অস্তিত্বের সম্ভাবনা বা নিশ্চয়তায় উপনীত হতে। বিজ্ঞানে এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় পরোক্ষ প্রমাণ।

পরোক্ষপ্রমাণের ব্যবহার এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির এক অগ্রসর প্রয়োগ। মরুভূমির বেদুইন সহজাত প্রজ্ঞায় যাকে ধরতে পেরেছিলো।

এই প্রজ্ঞা স্বত:স্ফূর্ত। একটি বিজন দ্বীপে একটি শিশুকে রেখে আসুন। সে বড় হোক। ভাবতে ও বিচার করতে শিখুক। বিশ্বনিখিলের বিদ্যমানতার পেছনে সেও আপন প্রক্রিয়ায় এক স্রষ্টার অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেবে।

যে সাক্ষ্য সে শুনতে পায় হাওয়ায়, পড়তে পারে গাছের পাতায়-ফলে-ফুলে, তরঙ্গের উচ্ছ্বাসে কিংবা ধুলার বিস্তারে।

লেখক: কবি, গবেষক, চেয়ারম্যান, ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ

কুয়েতে প্রথম ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত

কুয়েতে প্রথম করোনার নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি ইউরোপীয় নাগরিক; যিনি আফ্রিকার একটি দেশ থেকে কুয়েতে এসেছেন।

তিনি করোনার দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করেছিলেন এবং এখন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। কুয়েত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. আব্দুলাহ আল-সানাদ ভাইরাসের বিস্তার রোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের (তৃতীয়) বুস্টার ডোজ গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে কুয়েতের করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে। অনিরাপদ জমায়েত এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

বিয়ের পরদিনই হেলিকপ্টারে কোথায় গেলেন ভিক্যাট

সব আলোচনার অবসান ঘটিয়ে বৃহস্পতিবার বিয়েটা সেরেই ফেলেছেন বলিউডের আলোচিত জুটি ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ। ভারতের রাজস্থানে সিক্স সেন্স রিসোর্টে তাদের রাজকীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এদিকে বিয়ের পরদিন স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালেই নবদম্পতিকে জয়পুর বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে যেতে দেখা গেছে। বিয়ের পরদিনই নবদম্পতি মধুচন্দ্রিমায় গেলেন কী না তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। তবে তারা কোথায় গেছে তা জানা যায়নি বলে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ওই যুগলের হেলিকপ্টারে জয়পুর ছাড়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে নববধূ ক্যাটকে প্যাস্টেল হলুদ সালোয়ার কামিজ ওড়নায় বেশ স্নিগ্ধ লাগছিল। অন্যদিকে ভিকিও হালকা রঙের কুর্তা পরেছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে।

এদিকে, শোনা যাচ্ছিল বিয়ের কোনো ছবি যেন ফাঁস না হয় সে জন্য চূড়ান্ত গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়েছিলেন এই যুগল। কিন্তু বিয়ের পর পরই নিজের ভ্যারিফাইড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিয়ের চারটি ছবি পোস্ট করেছেন ক্যাটরিনা। ওই ছবিগুলোতে হাসিমুখে পোজ দিতে দেখা গেছে নবদম্পতিকে।

ভিডিও’র ক্যাপশনে ক্যাট নতুন জীবনের শুরুতে ভক্তদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদও চেয়েছেন।

এর আগে অবশ্য শোনা যাচ্ছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইমে শতকোটি রুপিতে নিজেদের বিয়ের ছবি ও ভিডিও’র স্বত্ব বিক্রি করেছেন ভিক্যাট। তাই বিয়ের ছবি প্রকাশ নিয়ে এতো গোপনীতা।

এদিকে, প্রিয়াংকা চোপড়া, দীপিকা পাড়ুকোন, আনুশকা শর্মা, আলিয়া ভাট, সারা আলী খানসহ কয়েকজন বলিউড তারকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাটরিনা কাইফ এবং ভিকি কৌশলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।