শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 562

ধোঁকা দিতে আবারো সংলাপের নামে ফাঁদ: চরমোনাই পীর

সরকারের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেছেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করার যখন সময় এসেছে। আবার তামাশা শুরু করেছে। ধোঁকা দেওয়ার জন্য আবারো একটা ফাঁদ তৈরি করেছে সংলাপের নামে। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, এই ধরনের সংলাপ ধোঁকাবাজি।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তান কাজী বশির মিলনায়তনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীলদের ডাকা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট নিরপক্ষ তাই আমরা তার ডাকা সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা সেখানে প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখ হয়, কষ্ট হয়- সংলাপের নামে তামাশা দেখানোর জন্য আমাদেরকে সেখানে ডেকে অপমানিত করবেন, লজ্জা দেবেন। রাস্তার খড় কুটার মতো মনে করবেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী প্রেসিডেন্টের কাছে আমরা সেটা কখনো মেনে নিতে পারিনি।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য নিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ২০ ডিসেম্বর থেকে সংলাপ করছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক, দেশের সচেতন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সংলাপকে পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না। আমরা তাদের ধিক্কার জানাই বিগত সময়ে যারা কলঙ্কিত নির্বাচন করেছে। আমাদের দুঃখ, আজকে বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে কথা বলার মতো বড়গলা থাকে না।

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে চরমোনাই পীর বলেন, আমরা সরকার এবং প্রেসিডেন্টকে বলব- সংবিধানের যে পদ্ধতি রয়েছে, যে আইন রয়েছে, সে নিয়ম অনুযায়ী ইসি গঠন করুন। যাতে নতুন নির্বাচন কমিশন যারাই আসে তারা যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়। এটা আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব থাকবে। আর আমরা সংলাপে যাব কি যাব না, সেটা পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।

সম্মেলনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন নাম ঘোষণা করেন চরমোনাই পীর। এ সময় তিনি দলের ছাত্র সংগঠনের নতুন কমিটির তিন নেতার নাম ঘোষণা করেন। সভাপতি পদে নুরুল করিম আকরাম, সিনিয়র সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল পদে শেখ মো. আল আমিনের নাম ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, খন্দকার গোলাম মাওলা, আশরাফ আলি আকন্দ, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, তথ্য উপদেষ্টা মাওলানা ওবায়দুর রহমান প্রমুখ।

লঞ্চে আগুন: কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি

ঝালকাঠিতে গভীর রাতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

শনিবার সকালে পুড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরিদর্শনে গেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তিন তলা লঞ্চটি এখন ঝালকাঠির দিয়াকুল এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে ভেড়ানো রয়েছে।

তদন্ত কমিটির সদস্য ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো, নাজমুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আমরা পরিদর্শনে এসেছি। এখন পর্যন্ত পরিদর্শনে আছি। ইঞ্জিনরুমসহ পুরো লঞ্চটি দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি।

প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমভি অভিযান -১০ সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। চাঁদপুর ও বরিশাল টার্মিনালে লঞ্চটি থামে এবং যাত্রী ওঠানামা করেন। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে এতে আগুন ধরে যায়।

স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক।

ইঞ্জিন রুম থেকে লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে শুক্রবার তদন্ত কমিটি করে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বন্দর) মো. তোফায়েল ইসলামকে।

নাজমুল আলম ছাড়াও কমিটির অন্য সদস্য বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার (নৌ পুলিশ) মো. কফিল উদ্দিন, নৌপরিবহণ অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার অ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার তাইফুর আহম্মেদ ভূইয়া, ফয়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভুইয়া, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যাপ) সংস্থার পরিচালক মামুন-অর-রশিদ ও বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম

এ কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

লঞ্চে কেন আগুন লাগল? কেমন ছিল অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রায় ৪০০ যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমভি অভিযান -১০ সদরঘাট থেকে ছেড়ে যায়। চাঁদপুর ও বরিশাল টার্মিনালে লঞ্চটি থামে এবং যাত্রী ওঠানামা করেন। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পৌঁছলে রাত ৩টার দিকে এতে আগুন ধরে যায়।

স্মরণকালের ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৮০ জনেরও বেশি যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বেঁচে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক। লঞ্চে কেন আগুন লাগল এ নিয়ে নানা কৌতুহল রয়েছে অনেকের মনে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক পরিচালক মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, সুগন্ধা নদীতে আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে রাসায়নিক পদার্থ ছিল, যার বড় অংশ ছিল কেরোসিন। এ ছাড়া দাহ্যপদার্থ লুব্রিকেট ও হাইড্রোলিক অয়েল ছিল। পাশের স্টোর রুমেও ছিল বিপুল পরিমাণ তেল। এসব পদার্থ লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে থাকলে যেমন নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকতে হয়, তা ওই লঞ্চে ছিল না।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক পরিচালক বলেন, ইঞ্জিন রুমের তেলের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ধরলে ড্রাম গরম হয়ে ভেতর থেকে তেল বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। মুখ বন্ধ থাকায় বেরিয়ে আসতে না পারায় কয়েশ টন শক্তি উৎপাদন করে ড্রামগুলো বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরিত হলে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়ে। এর পর পাশের ড্রামগুলোও বিস্ফোরিত হতে থাকে। বিস্ফোরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কেরোসিন তেলে আগুন লাগলে প্রচুর কালো ধোঁয়া উৎপন্ন হয়। ইঞ্জিন রুম পানির মধ্যে হওয়ায় ধোঁয়া পাইপসহ বিভিন্ন ফাঁকা দিয়ে ওপরে চলে যায়। ধোঁয়ায় জন্য দম বন্ধ হয়ে মানুষ মারা যায়।

এই অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, বিস্ফোরণের মাধ্যমে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় লোকজন নিজেদের বাঁচানোর সময় অনেক কম পেয়েছে। এছাড়া গভীর রাতে লোকজন ঘুমিয়ে ছিল। ফলে প্রাণহানি বেশি হয়েছে।

প্রাণহানির জন্য অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক এই পরিচালক। তিনি বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি, আগুন শনাক্তের যন্ত্র ও সতর্কীকরণ পদ্ধতি দুর্বলতা ছিল। ফলে লোকজন যেখানে ছিল, সেখানেই দগ্ধ হয়ে ও ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছে। এ ছাড়া ইঞ্জিন রুমে তেল রাখতে হলে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে সেটা আলাদা করতে হয়। সেটা না করায় দুর্ঘটনার পর মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি বেড়েছে।

প্রযুক্তি সাহিত্যের প্রসার ঘটিয়েছে কিন্তু গভীরতা কিছুটা হ্রাস করেছে: মোঃ জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে দিনাজপুরের বিরল উজেলার মির্জাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী। বর্তমান চাকরি সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। লেখালেখির অভ্যাস ছাত্রজীবন থেকেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে নিয়মিত তার লেখা প্রকাশিত হয়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছোট্ট একটি ভালোবাসা প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। তারপর শুরু হয় উপন্যাস লেখা। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ভ্যালেনটাইনস্ ডে। তারপর বিভিন্ন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় একটি কাব্যগ্রন্থ, ৫টি কিশোর উপন্যাস, ১৪টি উপন্যাস, একটি গল্পগ্রন্থ এবং ধারাবাহিক উপন্যাস গডফাদারের ০১-০৩ খণ্ড।

 

সাহিত্য অঙ্গনে পঞ্চগড়

এ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে পঞ্চগড়কে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা কিংবা আলাদাভাবে আলোচনায় নিয়ে আসা যায় এমন পরিস্থিতি সম্ভবত তৈরি হয়নি। কেননা বাংলা সাহিত্যের চলমান ধারা আলোচনা পর্যালোচনায় পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা কাল উর্ত্তীণ সাহিত্য ব্যক্তিত্বের নাম পেশ করা বেশ কঠিন। তবে এটা কোনো গ্লানিকর বিষয় নয় বা এতে খেদেরও কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। বরং উত্তরের এ জনপদে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বা মানচিত্রটিকে সরিয়ে এর ভাষা লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিগত বৃহত্তর অঞ্চলটিকে বিবেচনায় নিলে গর্বিত হওয়ার মতো অনেক বিষয়ই সামনে চলে আসে। কেননা বৃহত্তর রংপুর এবং অ-বিভক্ত ভারতের কুচবিহার ও জলপাইগুড়িজুড়ে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া তথা রাজবংশী ভাষা লোকসাহিত্যের যে বিস্তার করতোয়া বিধৌত পঞ্চগড় জনপদ সেই ঐহিত্যের অংশীদার।

পঞ্চগড় যে এক সুপ্রাচীন জনপদ এ নিয়ে বির্তকের কোনো অবকাশ নেই। সুপ্রাচীন বিভিন্ন স্থাপনা যথা, সুফি আউলিয়াদের সাধন ক্ষেত্র বারো আউলিয়ার মাজার, প্রাচীন বোদেশ্বরী মন্দির কয়েকশ বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী ভিতরগড় এ জনপদের প্রাচীনত্বের সাক্ষী বহন করে। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের পঠন পাঠনে সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন যে, কুচবিহার জলপাইগুড়ি রংপুর এ অঞ্চলগুলো বাংলাভাষা ও সাহিত্যের সুদীর্ঘ সাহিত্য ও পরম্পরার সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কিত। বাংলা গদ্যের প্রথম পর্যায়ের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তার প্রচলন ঘটেছিল কুচবিহারের রাজদরবারে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের পদকর্তাদের কারও কারও এ জনপদে চলাচল ছিল এমন ধারাও প্রচলিত। এ অঞ্চলের ভাষায় চর্যাপদের কিছু কিছু শব্দের উপস্থিতি এবং নেপালের রাজদরবার থেকে বর্তমানে প্রচলিত চর্যাপদগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের ঘটনা থেকে এর সমর্থন মেলে। সর্বোপরি এ জনপদের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি, লোকনাট্য ও প্রবাদ প্রবচনের যে বিশাল ভান্ডার তা যে আধুনিক সাহিত্যজনের সাহিত্য ভাষা নির্মাণ-পূর্ণ নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় উল্লেখ করা যায় যে, সংগ্রামী ঐহিত্যের দিক থেকেও পঞ্চগড় জনপদের ইতিহাস অনেক ঘটনাবহুল। প্রজা ও কৃষক বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, সন্নাসী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন-ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এসব ঘটনার ঢেউ উত্তরের অন্যান্য জনপদের মতো আছড়ে পড়েছিল পঞ্চগড় অঞ্চলে। জনমনে এসব ঘটনা নানামাত্রিক ঘাত অভিঘাত তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার উঠে এসেছেন জলপাইগুড়ি থেকে। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলো বেশ কয়েকটিতে এ জনপদের যাপিত জীবনের চালচিত্রই জীবন পেয়েছে। কৃষক বিদ্রোহের বীর চরিত্র নূরুল দিনের কথা নিয়ে কালজয়ী কাব্যনাট্য রচনা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক যা উত্তর জনপদের সংগ্রামী ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। পঞ্চগড়ে বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামোটি নানা প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের ফসল। এক সময় এ জনপদ ছিল কুচবিহার রাজ্যের অধীনস্থ। পরিবর্তনের ধারায় রংপুর ও জলপাইগুড়ি জেলার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার পর ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগজনিত পরিস্থিতে এটি বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাধীনতা উত্তরকালে পঞ্চগড়কে ১৯৮০ সালে মহকুমা ও ১৯৮৪ সালে জেলা ঘোষণা করা হয়। সাহিত্য অঙ্গনে পঞ্চগড়ের অবস্থান বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে উল্লিখিত ঘটনাবলি নানা কারণেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগজনিত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়। এক সময় এই এলাকার স্বনামধন্য ও শিক্ষানুরাগী বহু হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করে যেমন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন তেমনি ভারতীয় বিভিন্ন এলাকা বিশেষত জলপাইগুড়ির বহু মুসলিম পরিবার পঞ্চগড়ে অভিবাসী হয়। শুধু তাই নয় ১৯৪৭ পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নোয়াখালী কুমিল্লাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকেও বিরাট সংখ্যক মানুষ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন পতিত এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বসতি স্থাপন করেন। পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা, রাজনীতি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষ এবং অধিবাসীদের সমন্বয়ী একটি নতুন পথ অন্বেষণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে দাবি করা যায় যে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ সমন্বয়ে এখানে যে স্রোতধারাটি তৈরি হয় সামগ্রিকভাবে তা যে বাঙালি চেতনার মূল সুরটিকেই ধারণ করেছিল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পঞ্চগড়ের ছাত্র-যুব সমাজের অংশগ্রহণ সেই সত্যকেই তুলে ধরে।

দেশ বিভাগ পূর্ববর্তী সময়ে এ অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসাবে জলপাইগুড়ি নামটিই অগ্রগণ্য ছিল। জলপাইগুড়ির আওতাধীন প্রান্তিক শহর পঞ্চগড়ে সে সময় বাংলা সাহিত্যের মূল ধারা চর্চা কতটা ছিল সে বিষয়ে পদ্ধতিগত কোনো গবেষণা না থাকায় খুব বেশি তথ্য নেই। কালোত্তীর্ণ কোনো সাহিত্য প্রতিভার নামও সেভাবে উচ্চারিত হয় না। সম্প্রতি প্রাবন্ধিক আরিফুল ইসলাম পল্লব কর্তৃক পঞ্চগড় সাহিত্য সংসদের তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন পঞ্চগড় থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে স্মৃতি নিয়ে ১৯৩৬ সালে মধ্যযুগীয় পয়ার ছন্দে হজ স্মৃতি নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া তৎকালীন বৈকুণ্ঠপুর পরগনার অন্তর্গত এবং বর্তমান পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন নারী কবির নাম জানা যায়। যার নাম আজিজুন নেছা। যিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত নারীদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিবেদনটিতে প্রদত্ত তথ্যমতে ১৩২৪ বঙ্গাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান পঞ্চগড়ের বোদায় অংশগ্রহণকারী খান বাহাদুর একিনুদ্দিন আহম্মেদ। যিনি নিজেও সাহিত্যচর্চায় ব্যাপৃত ছিলেন। আর একজন গুণী সাহিত্যিক ছিলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে জন্মগ্রহণকারী খান বাহাদুর আমিনুর হক। বিভাগ পূর্বকালে কলকাতা থেকে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন দিনাজপুর নওরোজ সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর সন্তান হেমায়েত আলী এ সময়ের অন্যতম সাহিত্যজন। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী নাজিমউদ্দিন হল ও লাইব্রেরি তার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪১ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক সাহিত্যপত্র নওরোজ। বর্ণিত ঘটনাসূত্রে প্রতিয়মান হয় যে, ব্রিটিশ ভারতীয় পঞ্চগড়ে কোন বড় সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে উঠলেও সাহিত্য সম্পর্কিত যোগসূত্র ও সাহিত্য প্রতিভার দিক থেকে এলাকাটি মোটেও পিছিয়ে ছিল না।

পঞ্চগড়ে একটি দৃশ্যমান সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে উঠার প্রক্রিয়াটি প্রধানত বিগত শতকের পঞ্চাশ-এর দশক থেকে শুরু হয়। নাট্যচর্চা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, সাহিত্য সম্মেলন, পত্রপত্রিকা প্রকাশনা ইত্যাদি নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মননচর্চার একটি ধারা ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়। ১৯৫৬ সালে পঞ্চগড় শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় নজরুল পাঠাগার। পাঠাগারটি গুণিজন ও সাহিত্যানুরাগীদের অন্যতম সম্মেলন কেন্দ্রে পরিণত হয়। পাঠাগারটিতে বিভিন্ন সময়ে সাহিত্যবিষয়ক আসর ছাড়াও সাহিত্য সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে তিন দিনব্যাপী, ১৯৮১ সালে দুদিনব্যাপী এবং ১৯৮৫ সালে দিনব্যাপী সাহিত্য সম্মেলনে যথাক্রমে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট্য নজরুল গবেষক খান মুহাম্মদ ময়নুদ্দীন, বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. আশরাফ সিদ্দিকী এবং বিশিষ্ট আইন বিশারদ ও কলাম লেখক গাজী সামছুর রহমান। ১৯৮৮ সালে একটি ছাত্র সংগঠনের আমন্ত্রণে পঞ্চগড়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুবাদে কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে স্থানীয় ও লেখকদের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। ১৯৯৮ সালে পঞ্চগড়ের বোদায় সাহিত্য ও বিজ্ঞান মঞ্চ আয়োজিত নজরুল-জীবনান্দ-ব্রেখট জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি শামসুর রাহমান ও কবি ত্রিদিব দস্তিদার। এ সময় তিনি তিন দিনব্যাপী অবস্থানকালে জেলার লেখক ও সাহিত্যানুরাগীদের অনুরোধে আরও কয়েকটি সভায় অংশ নেয়। এ ছাড়া গত ২০১৯ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট এর আয়োজনে পঞ্চগড়ে দুদিনব্যাপী নজরুল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, বর্তমান মহাপরিচালক কবি মো: নুরুল হুদাসহ স্থানীয় লেখক কবিরা অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকাল থেকেই পঞ্চগড়ে যেসব গুণিজন লেখালেখি, পত্রপত্রিকা প্রকাশনা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে যুক্ত ছিলেন তারা হলেন কবি ও প্রাবন্ধিক ও লোক গবেষক আব্দুল লতিফ সাপির, স্বভাব কবি রসরাজ আহম্মেদ হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রধান, হাসান ইমাম মো: করিম দাদ, দীনেশ চন্দ্র পাল, হাসিম আক্তার মো: করিম দাদ বাচ্চু, প্রয়াত দুলাল রায়, হাফিজ আনসারি, জলবাংলা কবি খ্যাত লেখক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

পঞ্চগড়ের সাহিত্যযাত্রায় কয়েকটি পাঠাগার অঞ্চল ভেদে সৃজনশীলতা চর্চার পরিশেষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এগুলোর মধ্যে তেঁতুলিয়া জাগরনী পাঠাগার, মীরগড় আদর্শ পাঠাগার উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পঞ্চগড়ের বোদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একুশ স্মৃতি পাঠাগার। পাঠাগারটি বেশ কয়েকটি পাঠচক্র আয়োজনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালের নতুন পরিস্থিতি এবং নতুন আশা প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে একটি বাঁক পরিবর্তন এবং নতুন দিগন্ত অন্বেষণের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ পরিবর্তমান সময়কে ধারণ করে পঞ্চগড়ে ৭০, ও ৮০-এর দশক থেকে যারা লেখালেখিতে ব্যাপৃত ছিলেন বা আছেন তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রবন্ধকার ও কবি বিভুরঞ্জন সরকার, কবি প্রবন্ধকার ও লোক গবেষক মোঃ আব্দুল লতিফ সাপির এবং ফখরুল ইসলাম মানিক এদের ৩ জনের বেড়ে ওঠা পঞ্চগড়ের বোদায়। বর্তমানে বিভু রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতায় পেশায় ঢাকায় অবস্থানরত। আর আব্দুল লতিফ সাপির ও ফখরুল ইসলাম মানিক প্রয়াত।

বিগত আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি লেখালেখিতে সক্রিয় থেকে যারা পঞ্চগড়ের সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত হয়েছেন তারা হলেন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার মোঃ সফিকুল ইসলাম, কবি ও প্রাবন্ধিক প্রবীর চন্দ, গল্পকার প্রাবন্ধিক ও কবি মাজেদুল ইসলাম বাবুল, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সংগঠক মনি শংকর দাশগুপ্ত, গীতিকার ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক আবু ছায়েদ, কবি ও প্রবন্ধকার মোঃ আরিফুল ইসলাম পল্লব প্রমুখ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজস্ব মেধা, মননশীলতা ও সাহিত্য ভাবনার মাধ্যমে সাহিত্য অঙ্গনে নতুন ঢেউ সৃষ্টির অন্তর্গত তাগিদে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিশীল লেখক কবি পঞ্চগড়ে সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত আছেন। তাদের অনেকেরই একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, অনেকের গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে যারা আলোচিত ও পরিচিত হয়ে উঠেছেন তারা হচ্ছেন যথাক্রমে কলামিস্ট প্রবন্ধকার ও কবি চিররঞ্জন সরকার, কবি অনিন্দিতা ইসলাম, কবি শাহিন শাজনিন, কবি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, শাহেদ সাফায়েত, কবি শাহজামাল সরকার, রাহেদুল ইসলাম মিন্টু, নুরুজ্জামাল হালিম, হাজ্জাজ তানিম, সরকার হায়দার (ভূমিজ), এসএ মাহমুদ সেলিম, তোফাজ্জল হোসেন কাজল, মুজাহেদুল ইসলাম নয়ন, সৌমিত্র জয়দ্বীপ, মামুনুর রশীদ, শৈশব রাজু, মোঃ লুৎফর রহমান, সুমন রহমান, শওকত আলী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, যে কোনো এলাকায় একটি সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা সাংগঠনিক উদ্যোগে সাহিত্য প্রকাশনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পঞ্চগড়েও বেশ কিছু সাহিত্যপত্র ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এলাকার সাহিত্যমনস্ক মানুষের সমাদৃত হয়। এ ক্ষেত্রে দীনেশ চন্দ পাল সম্পাদিত করতোয়া ও উত্তরাশা, হাসিম আক্তার মো: করিম দাদ সম্পাদিত উন্মেষ, অধ্যক্ষ আবু জেকের সম্পাদিত পঞ্চশিখা, প্রয়াত মোঃ নুরুল হোসেন (বিএসসি) সম্পাদিত বোদার ইতিবৃত্ত, বোদা থেকে মুহম্মদ ফজলুল করিমের সম্পাদনায় উত্তর মেঘ, হুমায়ুন কবির মজুমদারের সম্পাদনায় তৃণাঙ্কুর, শিশির সংঘ সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশিত উদ্ভব এবং শিশির, তেঁতুলিয়া থেকে শফিউল ইসলাম সম্পাদিত লাল পলাশের দিনগুলি, পঞ্চগড় থেকে আরিফুল ইসলাম পল্লব সম্পাদিত কথা, পিলসুজ ইত্যাদি ছোট ছোট প্রকাশনা বিভিন্ন সময় সাহিত্য উদ্যোগের স্বাক্ষর বহন করে। এসব প্রকাশনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব না হলেও এগুলো যে এলাকার সাহিত্য তাড়িত মানুষের অন্তরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তাই আমরা অপেক্ষায় আছি একদিন পঞ্চগড়েও তার সাহিত্যকৃতির জন্য আমাদের সাহিত্য অঙ্গনে গুরুত্বসহ উপস্থাপনের যোগ্য হয়ে উঠবে। পঞ্চগড়ে লেখক কবিদেরও তাদের সুকৃতির জন্য পাঠক নিজে থেকে খুঁজে নেবেন।

এক মেসেজের দাম ১ কোটি ৩ লাখ টাকা

১৫টি ইংরেজি অক্ষরের দুই শব্দের এসএমএস বা মেসেজ ‘মেরি ক্রিসমাস’। বিক্রি হলো ১ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকায়!

এমন খবরে বিস্ময় ধরে রাখা দায়! এসএমএস তথা মোবাইল ফোনের ক্ষুদে বার্তাও বিক্রি হয়? তাও আবার কোটি টাকার বেশি দামে?

ঘটনা সত্য। মঙ্গলবার প্যারিসের নিলামকারী প্রতিষ্ঠান আগুটস অকশন হাউসের এক নিলামের আয়োজনে বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে।

তবে ঘটনার পুরোটা জানলে বিস্ময়ের সূচক নিচের দিকে নামবে। কারণ এসএমএস বা মেসেজটিকে অসাধারণের কাতারে ফেলা যায়। এটি বিশ্বের প্রথম এসএমএস। ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর অর্থাৎ ২৯ বছর আগে পাঠানো হয়েছিল এটি। তাই ক্ষুদে বার্তাটির এতো কদর।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ১৯৯২ সালের বড়দিনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের টেলিকম প্রতিষ্ঠান ভোডাফোনের ব্যবস্থাপক রিচার্ড জারভিসকে এ বার্তা পাঠিয়েছিলেন প্রকৌশলী ২২ বছরের নিল প্যাপওয়ার্থ। আর সেই বার্তাই মঙ্গলবার ১ লাখ ২১ হাজার মার্কিন ডলারে ‘নন-ফাঞ্জিবল টোকেন’ বা এনএফটি হিসেবে বিক্রি হয়েছে।

আগুটস অকশন হাউসের উন্নয়ন প্রধান ম্যাক্সিমিলিয়েন আগুতেস বলেন, বিশ্বের প্রথম এসএমএস বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরে দেওয়া হবে।

রোজ হাশরে আল্লাহ আমার করো না বিচার

আমরা সেই সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করি যিনি আমার প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে অবগত আছেন। শুধু তাই নয় বরং আমাদের প্রতিটি কর্ম তার কাছে লিপিবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষিত থাকে।

তাই মানুষের উচিত আল্লাহকে প্রকাশ্য ও গোপনে সর্বাবস্থায় ভয় করা। আমাদের হৃদয়ে যদি আল্লাহর ভয় থাকে যে তিনি আমাকে দেখছেন তাহলে আমরা অনেক পাপ করা থেকে বেঁচে যাব।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘(হে রাসূল!) আপনি বলে দিন, যদি তোমরা তোমাদের মনের কথা গোপন করে রাখ অথবা প্রকাশ করে দাও, আল্লাহ সে সবই জানতে পারেন। আর আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে, সেসবও তিনি জানেন। আল্লাহ সব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।’ (সূরা আল-ইমরান, আয়াত : ২৯)।

আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘আকাশসমূহে এবং পৃথিবীতে যা আছে সবই আল্লাহর। আর তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ কর বা তা গোপন কর আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে এর হিসাব নেবেন। অতএব, তিনি যাকে চাইবেন ক্ষমা করবেন এবং যাকে চাইবেন আজাব দেবেন। আর আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বশক্তিমান’ (সূরা বাকারা, আয়াত : ২৮৪)।

এ থেকে এটা স্পষ্ট বোঝা যায়, মানুষের প্রত্যেক কাজেরই হিসাব দিতে হবে, তা যতই গোপন হোক কিংবা প্রকাশ্য আর এর জন্য পুরস্কার, শাস্তি বা ক্ষমা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী পেতেই হবে।

পবিত্র কুরআনে যথার্থই বলা হয়েছে, ‘যে সৎকর্ম করে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দকর্ম করলে তার প্রতিফল সে-ই ভোগ করবে। তোমার প্রতিপালক তার বান্দাদের প্রতি কোনো জুলুম করেন না।’ (সূরা হা-মিম সিজদা, আয়াত : ৪৬)।

রোজ হাশরে আল্লাহতায়ালা মানুষের পাপ-পুণ্যের ফয়সালা করবেন এবং যার যার দুনিয়ার আমল-আখলাক কর্মফল অনুযায়ী নিখুঁত নিক্তিতে বিচার করবেন। যারা অন্যায়, অপরাধ, দুর্নীতি ও অসৎকর্মে নিজকে নিয়োজিত রাখবে এবং পাপাচারে লিপ্ত থাকবে, প্রতিফলস্বরূপ তিনি তাদের কঠিনতম শাস্তির ভয়াবহ কষ্টে নিপতিত রাখবেন।

আর যারা সৎকর্মের মধ্যে নিজকে সমর্পণ করবে এবং ইসলামের বিধিবিধান অনুযায়ী ইহকালীন জীবন অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাদের সুখ-শান্তিময় বেহেশত প্রদান করবেন। শুধু তাই নয়, সেসব নেক আমলকারীকে সম্মানজনক পুরস্কার প্রদান করবেন।

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য আছে নিয়ামতে ভরা জান্নাত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা লুকমান, আয়াত : ৮-৯)।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে, আজ কারও প্রতি জুলুম করা হবে না। আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।’ (সূরা আল-মুমিন, আয়াত : ১৭)। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেকের মর্যাদা তার কর্মানুযায়ী, এটা এ জন্য যে আল্লাহ প্রত্যেকের কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেবেন এবং তাদের প্রতি অবিচার করা হবে না।’ (সূরা আল আহ্কাফ, আয়াত : ১৯)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।’ (সূরা আজ-জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)।

হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, ‘দুনিয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন করছে আর আখিরাত সম্মুখে আসছে আর এদের প্রত্যেকটির সন্তানাদি রয়েছে। তবে তোমরা আখিরাতের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কেননা এখন আমলের সময়, এখানে কোনো হিসাব নেই, আর আগামীকাল হিসাব নিকাশ হবে, সেখানে আমল করার কোনো সুযোগ নেই’ (বোখারি)।

আমরা যদি ভাবি, এ দুনিয়া হচ্ছে আনন্দ-ফুর্তির জায়গা, যখন যা ইচ্ছা করব, আমাকে কে ধরবে? তবে একটি কথা আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে আর তা হচ্ছে, এ দুনিয়া এক পরীক্ষা কেন্দ্র। আমরা সবাই পরীক্ষা দিচ্ছি, যে ভালো পরীক্ষা দেবে, সে ভালো ফল লাভ করবে এটাই স্বাভাবিক। সেদিন কেউ বলতে পারবে না, হায়! আমি যদি আবার দুনিয়াতে যেতে পারতাম তাহলে ভালো কাজ করে আসতাম। আমরা যা কিছুই করি না কেন আল্লাহ তা জানেন ও দেখেন।

তাই আমাদের এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করতে হবে যেন আমার দ্বারা কোনোরূপ অন্যায় কাজ সংঘটিত না হয়। আমার হাত ও মুখ দ্বারা কারও ক্ষতি হোক এমন কোনো কাজ যেন আমি না করি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

পরম সৌভাগ্যের অধিকারী যারা

আল্লাহর অপার অনুগ্রহে যারা হেদায়েত লাভ করেছেন তারা সৌভাগ্যবান। সৌভাগ্যবানকে আরবিতে ‘সাঈদ’ বলে। তারা দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত বরকত লাভে ধন্য।

পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ গ্রন্থে অসংখ্য স্থানে আল্লাহ ও তার প্রিয়তম রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.) সৌভাগ্যবানদের সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছেন। পরম সৌভাগ্যের অধিকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিতে তুলে ধরা হলো।

মুক্বিনীন তথা নিশ্চিত বিশ্বাসী

যারা মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ়ভাবে ইমান আনে এবং সৎকর্ম করে তারা সৌভাগ্যবান। তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা অদৃশ্যে ইমান আনে, সালাত কায়েম করে ও তাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে এবং তোমার প্রতি যা নাজিল হয়েছে ও তোমার আগে যা নাজিল হয়েছে তাতে যারা ইমান আনে ও আখিরাতে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী, তারাই তাদের প্রতিপালক নির্দেশিত (হেদায়েতের) পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।’ (সূরা বাকারা : আয়াত : ৩-৫)।

ইবাদতকারী পরহেজগার অবলম্বনকারী

আল্লাহপাক মানুষকে কেবল তার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। যারা তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে কেবল তার জন্য ইবাদত করে, তাকে সর্বান্তকরণে একমাত্র ইলাহ হিসাবে মান্য করে তারাই সফলকাম ও সৌভাগ্যবান। আল্লাহপাক বলেন, ‘পরহেজগারদের বলা হয়-তোমাদের পালনকর্তা কী নাজিল করেছেন? তারা বলে, মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্য কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেজগারদের গৃহ কী চমৎকার? (সূরা আন নাহল : আয়াত : ৩০)।

আমলে সালেহ বা সৎকর্ম সম্পাদনকারী

মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ইমান আনয়নের পর যারা কেবল তারই সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করে তারা সত্যিকার অর্থে পরম সৌভাগ্যবান। তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ইমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং প্রতিদানে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার দেব যা তারা করত।’ (সূরা আন নাহল : আয়াত : ৯৭)।

আল্লাহ ও তার রাসূল (সা.) কে যে ভালোবাসে

যারা মহান আল্লাহ ও তার প্রিয় রাসূল মুহাম্মাদ (সা.)কে একনিষ্ঠভাবে ভালোবাসে এবং কুফুরিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে তারাই সৌভাগ্যবান। এ প্রসঙ্গে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নবি (সা.) বলেছেন, তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে সে ইমানের স্বাদ আস্বাদন করতে পারে-১।

আল্লাহ ও তার রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা; ৩। কুফরিতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা। (সহিহ বুখারি : হাদিস : ১৬)।

শুকরিয়া আদায়কারী

আল্লাহ প্রদত্ত যে কোনো নেয়ামত চাই সেটি ভোগ্য কিংবা অভোগ্য হোক সব ক্ষেত্রেই যারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তারা পরম সৌভাগ্যের অধিকারী। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারীদের অচিরেই প্রতিদান দেবেন। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত : ১৪৪)।

আবু বাকরাহ (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবি (সা.)-এর কাছে কোনো খুশির খবর এলে অথবা তিনি কোনো সুসংবাদ পেলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া স্বরূপ সিজদায় পড়ে যেতেন। (সুনানে আবু দাউদ : হাদিস : ২৭৭৪)।

ইস্তেগফার তথা অত্যধিক ক্ষমা প্রার্থনাকারী

যারা ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কৃত অপরাধ ও পাপ মার্জনার জন্য মহান আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করে তারা পরম সৌভাগ্যবান। আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি (সা.) বলেছেন-যে ব্যক্তি তার আমলনামায় অধিক পরিমাণে ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ যোগ করতে পেরেছে, তার জন্য সুসংবাদ, আনন্দ অর্থাৎ সে পরম সৌভাগ্য। (সুনানে ইবনে মাজাহ : হাদিস: ৩৮১৮)।

অসুস্থ ব্যক্তির সেবাকারী

মানবসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি বিশেষ করে যারা বিকলাঙ্গ, জখমপ্রাপ্ত মুমূর্ষু ব্যক্তি, যে কোনো ধরনের রোগীর খেদমতে নিয়োজিত তারা সৌভাগ্যবান।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে লোক আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি হাসিলের আশায় কোনো অসুস্থ লোককে দেখতে যায় অথবা নিজের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করতে যায়, একজন ঘোষক (ফিরিশতা) তাকে ডেকে বলতে থাকেন-কল্যাণময় তোমার জীবন, কল্যাণময়, তোমার এ পথচলাও। তুমি তো জান্নাতের মধ্যে একটি বাসস্থান নির্দিষ্ট করে নিলে। (জা’মে তিরমিযি : হাদিস : ২০০৮)।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী

যারা যে কোনো মূল্যে সদাচরণের মাধ্যমে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে তারা সৌভাগ্যবান। আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুনেছি, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তার জীবিকা বৃদ্ধি হোক অথবা তার মৃত্যুর পর সুনাম থাকুক, তবে সে যেন আত্মীয়ের সঙ্গে সদাচরণ করে। (সহিহ বুখারি : হাদিস : ২০৬৭)।

সংকটকালীন আল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারী

যারা বিপদ আপদে ধৈর্যহারা না হয়ে আল্লাহর কাছে পরিত্রাণের আশায় প্রার্থনা করে তারা পরম সৌভাগ্যবান। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন-যে লোক বিপদাপদ ও সংকটের সময় আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ লাভ করতে চায় সে যেন সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় বেশি পরিমাণে দোয়া করে। (জামে তিরমিযি : হাদিস : ৩৩৮২)।

চারটি জিনিস আছে যার

আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহে যে ব্যক্তি চারটি জিনিসের মালিক সে পরম সৌভাগ্যবান। হজরত সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, চারটি জিনিসে সৌভাগ্য বিদ্যমান-নেককার স্ত্রী, প্রশস্ত সুরম্য গৃহ, উত্তম প্রতিবেশী, আরামদায়ক দ্রুতগামী যানবাহন। (সহিহ ইবনে হিব্বান : হাদিস : ৪০৩২, সহিহ আলবানী : হাদিস : ২৮২)। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘দুনিয়া হলো ক্ষণিক উপভোগের বস্তু। আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ (উপভোগের বস্তু) সাধ্বী নারী।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)।

লেখক : মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা, সোনাপুর, সদর, নোয়াখালী

মাদ্রিদে সিলেট জেলাবাসীর সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটের সংস্কৃতির সুবাস বাংলাদেশ, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ ও কালের পরিবর্তন হলেও প্রবাসে সিলেটবাসীদের সৌহার্দ আর সম্প্রীতির বন্দন ছিন্ন হয়নি। এই মর্মার্থ উপলব্ধি করেই আমাদের কাজ করে যেতে হবে। এতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্মের অনেকেই শিকড় সন্ধানে উৎসাহী হবে। স্পেনে বসবাসরত সিলেট জেলাবাসীর এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দেশ রেস্তোরাঁয় সিলেট জেলার বালাগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ, কোম্পানীগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা এবং ওসমানী নগরের প্রবাসী নেতাদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ কমিউনিটি নেতা মাওলানা আসাদুজ্জামান রাজ্জাক। বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি আল মামুন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কামরুজমান সুন্দর, স্পেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম সেলিম, জকিগঞ্জ কল্যাণ সমিতি স্পেনের সভাপতি আহমদ আসাদুর রহমান সাদ, স্পেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তামিম চৌধুরী, কানেক্ট বাংলাদেশের সমন্বয়ক আফসার হোসেন নীলু, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা সাইফুল ইসলাম ইকবাল, দক্ষিণ সুরমা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি সেলিম আলম, বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান, লুৎফুর রহমান, স্পেন বাংলা প্রেস ক্লাবের সদস্য কবির আল মাহমুদ, সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল আজিজ মবু, সামসু আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সবাই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নিউইয়র্কে বাসের ধাক্কায় বাংলাদেশি প্রকৌশলীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী নাজমুল আহসান বাবুল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ব্যস্ত এলাকা জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিট ও ব্রডওয়ের মাঝের রাস্তায় সিটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত স্থানীয় এলমহার্স্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

যুক্তরাষ্ট্রের মাগুরা জেলা সমিতির নেতারা জানান, নিহত নাজমুল আহসান বাবুল পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। তিনি চলতি বছরে মাগুরা জেলা সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী এবং লায়ন্স ক্লাবের গভর্নরও ছিলেন। প্রবাসে নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্তা ছিল বলে জানা গেছে।

তার দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। নাজমুল আহসান বাবুলের আকস্মিক মৃত্যুতে নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতারা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।