এ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে পঞ্চগড়কে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা কিংবা আলাদাভাবে আলোচনায় নিয়ে আসা যায় এমন পরিস্থিতি সম্ভবত তৈরি হয়নি। কেননা বাংলা সাহিত্যের চলমান ধারা আলোচনা পর্যালোচনায় পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা কাল উর্ত্তীণ সাহিত্য ব্যক্তিত্বের নাম পেশ করা বেশ কঠিন। তবে এটা কোনো গ্লানিকর বিষয় নয় বা এতে খেদেরও কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। বরং উত্তরের এ জনপদে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বা মানচিত্রটিকে সরিয়ে এর ভাষা লোকসাহিত্য ও লোকসংস্কৃতিগত বৃহত্তর অঞ্চলটিকে বিবেচনায় নিলে গর্বিত হওয়ার মতো অনেক বিষয়ই সামনে চলে আসে। কেননা বৃহত্তর রংপুর এবং অ-বিভক্ত ভারতের কুচবিহার ও জলপাইগুড়িজুড়ে ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াইয়া তথা রাজবংশী ভাষা লোকসাহিত্যের যে বিস্তার করতোয়া বিধৌত পঞ্চগড় জনপদ সেই ঐহিত্যের অংশীদার।
পঞ্চগড় যে এক সুপ্রাচীন জনপদ এ নিয়ে বির্তকের কোনো অবকাশ নেই। সুপ্রাচীন বিভিন্ন স্থাপনা যথা, সুফি আউলিয়াদের সাধন ক্ষেত্র বারো আউলিয়ার মাজার, প্রাচীন বোদেশ্বরী মন্দির কয়েকশ বছরের প্রাচীন দুর্গনগরী ভিতরগড় এ জনপদের প্রাচীনত্বের সাক্ষী বহন করে। বাংলাভাষা ও সাহিত্যের পঠন পাঠনে সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন যে, কুচবিহার জলপাইগুড়ি রংপুর এ অঞ্চলগুলো বাংলাভাষা ও সাহিত্যের সুদীর্ঘ সাহিত্য ও পরম্পরার সঙ্গে নানাভাবে সম্পর্কিত। বাংলা গদ্যের প্রথম পর্যায়ের যে নিদর্শন পাওয়া যায় তার প্রচলন ঘটেছিল কুচবিহারের রাজদরবারে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদের পদকর্তাদের কারও কারও এ জনপদে চলাচল ছিল এমন ধারাও প্রচলিত। এ অঞ্চলের ভাষায় চর্যাপদের কিছু কিছু শব্দের উপস্থিতি এবং নেপালের রাজদরবার থেকে বর্তমানে প্রচলিত চর্যাপদগুলোর মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কারের ঘটনা থেকে এর সমর্থন মেলে। সর্বোপরি এ জনপদের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতি, লোকনাট্য ও প্রবাদ প্রবচনের যে বিশাল ভান্ডার তা যে আধুনিক সাহিত্যজনের সাহিত্য ভাষা নির্মাণ-পূর্ণ নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় উল্লেখ করা যায় যে, সংগ্রামী ঐহিত্যের দিক থেকেও পঞ্চগড় জনপদের ইতিহাস অনেক ঘটনাবহুল। প্রজা ও কৃষক বিদ্রোহ, ফকির বিদ্রোহ, সন্নাসী বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন-ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এসব ঘটনার ঢেউ উত্তরের অন্যান্য জনপদের মতো আছড়ে পড়েছিল পঞ্চগড় অঞ্চলে। জনমনে এসব ঘটনা নানামাত্রিক ঘাত অভিঘাত তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক। প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার উঠে এসেছেন জলপাইগুড়ি থেকে। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলো বেশ কয়েকটিতে এ জনপদের যাপিত জীবনের চালচিত্রই জীবন পেয়েছে। কৃষক বিদ্রোহের বীর চরিত্র নূরুল দিনের কথা নিয়ে কালজয়ী কাব্যনাট্য রচনা করেছেন সৈয়দ শামসুল হক যা উত্তর জনপদের সংগ্রামী ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। পঞ্চগড়ে বর্তমান ভৌগোলিক কাঠামোটি নানা প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা ও পরিবর্তনের ফসল। এক সময় এ জনপদ ছিল কুচবিহার রাজ্যের অধীনস্থ। পরিবর্তনের ধারায় রংপুর ও জলপাইগুড়ি জেলার সঙ্গে সম্পর্কিত থাকার পর ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগজনিত পরিস্থিতে এটি বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাধীনতা উত্তরকালে পঞ্চগড়কে ১৯৮০ সালে মহকুমা ও ১৯৮৪ সালে জেলা ঘোষণা করা হয়। সাহিত্য অঙ্গনে পঞ্চগড়ের অবস্থান বিষয়ে আলোচনা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে উল্লিখিত ঘটনাবলি নানা কারণেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।
১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগজনিত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়। এক সময় এই এলাকার স্বনামধন্য ও শিক্ষানুরাগী বহু হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করে যেমন, ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন তেমনি ভারতীয় বিভিন্ন এলাকা বিশেষত জলপাইগুড়ির বহু মুসলিম পরিবার পঞ্চগড়ে অভিবাসী হয়। শুধু তাই নয় ১৯৪৭ পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নোয়াখালী কুমিল্লাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকেও বিরাট সংখ্যক মানুষ পঞ্চগড়ের বিভিন্ন পতিত এলাকায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় বসতি স্থাপন করেন। পঞ্চগড়ের মানুষের জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা, রাজনীতি ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় মানুষ এবং অধিবাসীদের সমন্বয়ী একটি নতুন পথ অন্বেষণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে দাবি করা যায় যে, ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ সমন্বয়ে এখানে যে স্রোতধারাটি তৈরি হয় সামগ্রিকভাবে তা যে বাঙালি চেতনার মূল সুরটিকেই ধারণ করেছিল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পঞ্চগড়ের ছাত্র-যুব সমাজের অংশগ্রহণ সেই সত্যকেই তুলে ধরে।
দেশ বিভাগ পূর্ববর্তী সময়ে এ অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসাবে জলপাইগুড়ি নামটিই অগ্রগণ্য ছিল। জলপাইগুড়ির আওতাধীন প্রান্তিক শহর পঞ্চগড়ে সে সময় বাংলা সাহিত্যের মূল ধারা চর্চা কতটা ছিল সে বিষয়ে পদ্ধতিগত কোনো গবেষণা না থাকায় খুব বেশি তথ্য নেই। কালোত্তীর্ণ কোনো সাহিত্য প্রতিভার নামও সেভাবে উচ্চারিত হয় না। সম্প্রতি প্রাবন্ধিক আরিফুল ইসলাম পল্লব কর্তৃক পঞ্চগড় সাহিত্য সংসদের তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন পঞ্চগড় থেকে জলপাইগুড়ি হয়ে পবিত্র হজব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে স্মৃতি নিয়ে ১৯৩৬ সালে মধ্যযুগীয় পয়ার ছন্দে হজ স্মৃতি নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। এ ছাড়া তৎকালীন বৈকুণ্ঠপুর পরগনার অন্তর্গত এবং বর্তমান পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন নারী কবির নাম জানা যায়। যার নাম আজিজুন নেছা। যিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের ইংরেজি শিক্ষিত নারীদের মধ্যে অন্যতম। প্রতিবেদনটিতে প্রদত্ত তথ্যমতে ১৩২৪ বঙ্গাব্দে কলকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান পঞ্চগড়ের বোদায় অংশগ্রহণকারী খান বাহাদুর একিনুদ্দিন আহম্মেদ। যিনি নিজেও সাহিত্যচর্চায় ব্যাপৃত ছিলেন। আর একজন গুণী সাহিত্যিক ছিলেন পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে জন্মগ্রহণকারী খান বাহাদুর আমিনুর হক। বিভাগ পূর্বকালে কলকাতা থেকে তার একাধিক বই প্রকাশিত হয়। তিনি ছিলেন দিনাজপুর নওরোজ সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা। পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর সন্তান হেমায়েত আলী এ সময়ের অন্যতম সাহিত্যজন। দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী নাজিমউদ্দিন হল ও লাইব্রেরি তার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪১ সালে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক সাহিত্যপত্র নওরোজ। বর্ণিত ঘটনাসূত্রে প্রতিয়মান হয় যে, ব্রিটিশ ভারতীয় পঞ্চগড়ে কোন বড় সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে উঠলেও সাহিত্য সম্পর্কিত যোগসূত্র ও সাহিত্য প্রতিভার দিক থেকে এলাকাটি মোটেও পিছিয়ে ছিল না।
পঞ্চগড়ে একটি দৃশ্যমান সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে উঠার প্রক্রিয়াটি প্রধানত বিগত শতকের পঞ্চাশ-এর দশক থেকে শুরু হয়। নাট্যচর্চা, পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, সাহিত্য সম্মেলন, পত্রপত্রিকা প্রকাশনা ইত্যাদি নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মননচর্চার একটি ধারা ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়। ১৯৫৬ সালে পঞ্চগড় শহরে প্রতিষ্ঠিত হয় নজরুল পাঠাগার। পাঠাগারটি গুণিজন ও সাহিত্যানুরাগীদের অন্যতম সম্মেলন কেন্দ্রে পরিণত হয়। পাঠাগারটিতে বিভিন্ন সময়ে সাহিত্যবিষয়ক আসর ছাড়াও সাহিত্য সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৬ সালে তিন দিনব্যাপী, ১৯৮১ সালে দুদিনব্যাপী এবং ১৯৮৫ সালে দিনব্যাপী সাহিত্য সম্মেলনে যথাক্রমে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট্য নজরুল গবেষক খান মুহাম্মদ ময়নুদ্দীন, বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক ড. আশরাফ সিদ্দিকী এবং বিশিষ্ট আইন বিশারদ ও কলাম লেখক গাজী সামছুর রহমান। ১৯৮৮ সালে একটি ছাত্র সংগঠনের আমন্ত্রণে পঞ্চগড়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুবাদে কবি নির্মলেন্দু গুণের সঙ্গে স্থানীয় ও লেখকদের সঙ্গে আলাপচারিতা হয়। ১৯৯৮ সালে পঞ্চগড়ের বোদায় সাহিত্য ও বিজ্ঞান মঞ্চ আয়োজিত নজরুল-জীবনান্দ-ব্রেখট জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন কবি শামসুর রাহমান ও কবি ত্রিদিব দস্তিদার। এ সময় তিনি তিন দিনব্যাপী অবস্থানকালে জেলার লেখক ও সাহিত্যানুরাগীদের অনুরোধে আরও কয়েকটি সভায় অংশ নেয়। এ ছাড়া গত ২০১৯ সালে নজরুল ইনস্টিটিউট এর আয়োজনে পঞ্চগড়ে দুদিনব্যাপী নজরুল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, বর্তমান মহাপরিচালক কবি মো: নুরুল হুদাসহ স্থানীয় লেখক কবিরা অংশ নেন।
মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকাল থেকেই পঞ্চগড়ে যেসব গুণিজন লেখালেখি, পত্রপত্রিকা প্রকাশনা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজে যুক্ত ছিলেন তারা হলেন কবি ও প্রাবন্ধিক ও লোক গবেষক আব্দুল লতিফ সাপির, স্বভাব কবি রসরাজ আহম্মেদ হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রধান, হাসান ইমাম মো: করিম দাদ, দীনেশ চন্দ্র পাল, হাসিম আক্তার মো: করিম দাদ বাচ্চু, প্রয়াত দুলাল রায়, হাফিজ আনসারি, জলবাংলা কবি খ্যাত লেখক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
পঞ্চগড়ের সাহিত্যযাত্রায় কয়েকটি পাঠাগার অঞ্চল ভেদে সৃজনশীলতা চর্চার পরিশেষ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এগুলোর মধ্যে তেঁতুলিয়া জাগরনী পাঠাগার, মীরগড় আদর্শ পাঠাগার উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পঞ্চগড়ের বোদায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একুশ স্মৃতি পাঠাগার। পাঠাগারটি বেশ কয়েকটি পাঠচক্র আয়োজনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালের নতুন পরিস্থিতি এবং নতুন আশা প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে একটি বাঁক পরিবর্তন এবং নতুন দিগন্ত অন্বেষণের প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এ পরিবর্তমান সময়কে ধারণ করে পঞ্চগড়ে ৭০, ও ৮০-এর দশক থেকে যারা লেখালেখিতে ব্যাপৃত ছিলেন বা আছেন তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য বিশিষ্ট কলামিস্ট প্রবন্ধকার ও কবি বিভুরঞ্জন সরকার, কবি প্রবন্ধকার ও লোক গবেষক মোঃ আব্দুল লতিফ সাপির এবং ফখরুল ইসলাম মানিক এদের ৩ জনের বেড়ে ওঠা পঞ্চগড়ের বোদায়। বর্তমানে বিভু রঞ্জন সরকার সাংবাদিকতায় পেশায় ঢাকায় অবস্থানরত। আর আব্দুল লতিফ সাপির ও ফখরুল ইসলাম মানিক প্রয়াত।
বিগত আশি ও নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি লেখালেখিতে সক্রিয় থেকে যারা পঞ্চগড়ের সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত হয়েছেন তারা হলেন প্রাবন্ধিক ও গল্পকার মোঃ সফিকুল ইসলাম, কবি ও প্রাবন্ধিক প্রবীর চন্দ, গল্পকার প্রাবন্ধিক ও কবি মাজেদুল ইসলাম বাবুল, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সংগঠক মনি শংকর দাশগুপ্ত, গীতিকার ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক আবু ছায়েদ, কবি ও প্রবন্ধকার মোঃ আরিফুল ইসলাম পল্লব প্রমুখ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজস্ব মেধা, মননশীলতা ও সাহিত্য ভাবনার মাধ্যমে সাহিত্য অঙ্গনে নতুন ঢেউ সৃষ্টির অন্তর্গত তাগিদে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিশীল লেখক কবি পঞ্চগড়ে সাহিত্যচর্চায় নিবেদিত আছেন। তাদের অনেকেরই একাধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, অনেকের গ্রন্থ প্রকাশের অপেক্ষায়। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে যারা আলোচিত ও পরিচিত হয়ে উঠেছেন তারা হচ্ছেন যথাক্রমে কলামিস্ট প্রবন্ধকার ও কবি চিররঞ্জন সরকার, কবি অনিন্দিতা ইসলাম, কবি শাহিন শাজনিন, কবি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, শাহেদ সাফায়েত, কবি শাহজামাল সরকার, রাহেদুল ইসলাম মিন্টু, নুরুজ্জামাল হালিম, হাজ্জাজ তানিম, সরকার হায়দার (ভূমিজ), এসএ মাহমুদ সেলিম, তোফাজ্জল হোসেন কাজল, মুজাহেদুল ইসলাম নয়ন, সৌমিত্র জয়দ্বীপ, মামুনুর রশীদ, শৈশব রাজু, মোঃ লুৎফর রহমান, সুমন রহমান, শওকত আলী প্রমুখ।
প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, যে কোনো এলাকায় একটি সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা সাংগঠনিক উদ্যোগে সাহিত্য প্রকাশনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পঞ্চগড়েও বেশ কিছু সাহিত্যপত্র ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এলাকার সাহিত্যমনস্ক মানুষের সমাদৃত হয়। এ ক্ষেত্রে দীনেশ চন্দ পাল সম্পাদিত করতোয়া ও উত্তরাশা, হাসিম আক্তার মো: করিম দাদ সম্পাদিত উন্মেষ, অধ্যক্ষ আবু জেকের সম্পাদিত পঞ্চশিখা, প্রয়াত মোঃ নুরুল হোসেন (বিএসসি) সম্পাদিত বোদার ইতিবৃত্ত, বোদা থেকে মুহম্মদ ফজলুল করিমের সম্পাদনায় উত্তর মেঘ, হুমায়ুন কবির মজুমদারের সম্পাদনায় তৃণাঙ্কুর, শিশির সংঘ সংগঠনের উদ্যোগে প্রকাশিত উদ্ভব এবং শিশির, তেঁতুলিয়া থেকে শফিউল ইসলাম সম্পাদিত লাল পলাশের দিনগুলি, পঞ্চগড় থেকে আরিফুল ইসলাম পল্লব সম্পাদিত কথা, পিলসুজ ইত্যাদি ছোট ছোট প্রকাশনা বিভিন্ন সময় সাহিত্য উদ্যোগের স্বাক্ষর বহন করে। এসব প্রকাশনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব না হলেও এগুলো যে এলাকার সাহিত্য তাড়িত মানুষের অন্তরের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তাই আমরা অপেক্ষায় আছি একদিন পঞ্চগড়েও তার সাহিত্যকৃতির জন্য আমাদের সাহিত্য অঙ্গনে গুরুত্বসহ উপস্থাপনের যোগ্য হয়ে উঠবে। পঞ্চগড়ে লেখক কবিদেরও তাদের সুকৃতির জন্য পাঠক নিজে থেকে খুঁজে নেবেন।


