বৃহস্পতিবার ,১১ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 487

রাশিয়াকে যুদ্ধে নামানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন, আমেরিকা তার দেশকে একটি যুদ্ধে নামাতে চায়। রাশিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে ইউক্রেনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আমেরিকা। আর এ কারণেই ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখান করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেন সংকট সম্পর্কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমেরিকা রাশিয়াকে নানা ধরনের হুমকিধমকি দেওয়ার মঙ্গলবার এ ব্যাপারে প্রথম কোনো বক্তব্য দেন তিনি। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

তিনি বলেন, পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো জোটের বিস্তার নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগ সম্পর্কে আমেরিকা কোনো জবাব দিতে রাজি হচ্ছে না। তিনি সরাসরি সংঘাতের কথা উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে বলেন, ইউক্রেন যদি ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বাসনা পূর্ণ করতে সক্ষম হয়, তা হলে তার পক্ষে এই জোটের অন্য সদস্য দেশগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে টেনে আনা সম্ভব হবে।

ইউক্রেন সীমান্তে বর্তমানে সমরাস্ত্রসহ রাশিয়ার প্রায় এক লাখ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। রাশিয়া এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে হামলা চালানোর মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। মস্কো প্রায় আট বছর আগে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপত্যকাকে রুশ ফেডারেশনে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তখন থেকে পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থি অস্ত্রধারীদের রক্তক্ষয়ী তৎপরতাকে সমর্থন দিয়ে এসেছে।

পুতিন বলেন, আমার ধারণা— ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার কোনো মাথাব্যথা নেই। বরং আমেরিকার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়া। ইউক্রেন কেবল ওয়াশিংটনের এই অশুভ লক্ষ্য চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলের ভুল তথ্যের ব্যাখ্যা

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে একটি ভুলের ব্যাখ্যা দিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিবের লিখিত বক্তব্যের একপর্যায়ে একটি তথ্য ভুলভাবে পরিবেশিত হয়েছে। ভুলবশত ৯ লাখের বদলে ৯ মিলিয়ন বলা হয়েছে।
২০০৪-০৬ সাল পর্যন্ত তিন বছরে লবিস্ট নিয়োগের জন্য প্রকৃত খরচ ৯ লাখ মার্কিন ডলার, ৯ মিলিয়ন ডলার নয়।

অনিচ্ছাকৃত ওই ভুলের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকালের সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, একজন প্রবাসী বাংলাদেশির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়টি সরকার বিএনপির ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার তাদের সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং দুঃশাসনকে প্রলম্বিত করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কৌশল নিয়েছে। আমরা বলতে চাই— দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যদি প্রবাসীরা কোনো পদক্ষেপ কোথাও নেন, দেশের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য যদি কিছু করেন, সে পদক্ষেপের দায়িত্ব তার, বিএনপির নয়। ওই পদক্ষেপকে নৈতিক সমর্থনের দায়িত্ব বাদে অন্য কোনো দায়দায়িত্ব বিএনপি বহন করে না। তবে বিশ্বের দেশে দেশে প্রবাসীদের গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য এ ধরনের দেশপ্রেমিক পদক্ষেপকে বিএনপি সাধুবাদ জানায়। তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

এ সময় মানবাধিকার রক্ষায় বিদেশে লেখা তার কয়েকটি চিঠি উপস্থাপন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে কথা বলছেন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী। আমার চিঠি দেখিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে। দেখুন ওই চিঠি কাকে লেখা হয়েছিল এবং বিষয়বস্তু কি ছিল। বিএনপি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সব ব্যক্তিবর্গের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ভ্যানগার্ড। আর তাই, বিএনপি তার আন্দোলন-সংগ্রামের অংশ হিসেবেই দেশের ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের সমর্থন চায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ চায়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে দেশি-বিদেশি সব অংশীদারদের এই সরকারের সব অপকর্ম সম্পর্কে অবগত করে রাখতে চায়। বিদেশ লেখা আমার ওই চিঠিগুলো কোনো লবিস্ট নিয়োগের বিষয় নয়, মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান মাত্র!

মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ২০০৫ থেকে ২০০৭ সালের তিন বছরে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সংশ্লিষ্টতায় ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) ডলার খরচ করে লবিস্ট নিয়োগ করেছিল বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে। যার প্রমাণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েব পেজে আছে। বিএনপি জানতে চায়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওই টাকার উৎস কী ছিল, কীভাবে ওই টাকা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়েছিল?

লেগুনার হেলপার সেজে হত্যার রহস্য বের করলেন পুলিশ কর্মকর্তা

রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে অজ্ঞাতপরিচয়ে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে ছিল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, চলন্ত এক লেগুনা থেকে কেউ ওই ব্যক্তিকে ফেলে যাচ্ছেন। কিন্তু ফুটেজে সেই লেগুনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট দেখা যাচ্ছিল না। এতে বিপাকে পড়ে যায় পুলিশ। শেষপর্যন্ত লেগুনা হেলপার সেজে সন্ধান চলে সেই লেগুনার। সেই হেলপার হন যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক বিলাল আল আজাদ।

টানা পাঁচদিন ধরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, কোনাবাড়ী, ডেমরা, চিটাগাং রোড আর নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি লেগুনাস্ট্যান্ডে হেলপারি করে তিনি উদঘাটন করেন ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য। শনাক্ত করেন সেই লেগুনা এবং গ্রেপ্তারও করা হয় চারজনকে।

উপ-পরিদর্শক বিলাল আল আজাদ সমকালকে বলেন, ২২ জানুয়ারি ভোরে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা সংলগ্ন ফ্লাইওভারের ওপর ওই ব্যক্তিকে ফেলে যেতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় মামলার পর আমি তদন্তের দায়িত্ব পাই। কিন্তু আলামত কিছুই ছিল না আমার কাছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শুধু দেখতে পাই, লেগুনার পা-দানির রং লাল। সেই সূত্র ধরেই লাল পা-দানির লেগুনা খুঁজতে থাকি। সঙ্গে বোঝার চেষ্টা করি, ফুটেজে দেখা মডেলের লেগুনা কোন রুটে চলাচল করে।

এই কর্মকর্তা বলেন, পূর্ব পরিচিত লেগুনাস্ট্যান্ডের এক লাইনম্যানের মাধ্যমে সাইনবোর্ডে গিয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে হেলপারের চাকরি নিই। ২৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত হেলপারি করে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পেয়েছি। কখনও কখনও স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে চাকরি খোঁজার নামে খুঁজতে থাকি সেই লাল রঙের পা-দানির লেগুনাটি। হেলপার সেজে ঘুমিয়ে ছিলাম গাড়ির ভেতরেই। এভাবে অন্তত ৩০০ লেগুনা যাচাই করেছি।

ভিডিও দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন সমকাল ইউটিউব
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, লাল পা-দানির লেগুনা না পেয়ে যাত্রাবাড়ী স্ট্যান্ডে গিয়ে নিজেই লেগুনা চালানোর আগ্রহের কথা জানাই অন্য চালক সহকর্মীদের কাছে। লাইনে কোনো লেগুনা বসে আছে কি-না, তা খুঁজতে থাকি। শেষপর্যন্ত একজন জানান, একটি লেগুনা নষ্ট হয়ে কদমতলীর একটি গ্যারেজে পড়ে আছে। সেটি মেরামত করে চালানো যাবে। কারণ এর চালক অসুস্থ হয়ে গ্রামে চলে গেছেন। শেষপর্যন্ত কদমতলীর ভুলুর গ্যারেজে গিয়ে পাই সেই লাল পা-দানির লেগুনা।

বিলাল আল আজাদ বলেন, আমি বুঝতে পারছিলাম রহস্য উদঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। এরপর সেই লেগুনার মালিককে খুঁজে বের করি। তার কাছে জানতে চাই, এর আগে কে চালিয়েছিল এই লেগুনা। ঠিকানা নিয়ে জানতে পারি, ফরহাদ নামে সেই চালক মাদারীপুর শ্বশুড়বাড়ি রয়েছেন। এরপর ২৪ জানুয়ারি রাতে টিম নিয়ে চলে যাই মাদারীপুর। পেয়েও যাই চালককে। কিন্তু চালক তথ্যপ্রমাণ দিয়ে বলতে থাকেন, ২১ জানুয়ারি তিনি লেগুনা জমা দিয়ে চলে এসেছিলেন। প্রযুক্তিগত তদন্তেও তার কথার প্রমাণ মেলে। এতে রহস্য উদঘাটনে হতাশ হয়ে যাই।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, তার ডিসি স্যার, এসি স্যার আর ওসি স্যার তাকে নানাভাবে দিকনির্দেশনা আর সাহস দিয়ে চলছিলেন। ফের লেগুনার হেলপার সেজে যান কদমতলীর ভুলুর গ্যারেজে। জানতে পারেন ২২ জানুয়ারি রাতে লেগুনাটি নিয়েছিলেন মঞ্জুর নামে এক চালক। তার হেলপার ছিলেন আবদুর রহমান।

এবার রহস্য উদঘাটনের পালা:

উপপরিদর্শক আজাদ বলেন, দুইজনের নাম জানলেও তাদের কোনো মোবাইল নম্বর বা বাসার ঠিকানা পাচ্ছিলাম না। গ্যারেজ থেকে বলা হয়, ওই দুইজন বিভিন্ন স্ট্যান্ডে আর বিভিন্ন গ্যারেজে থাকেন। কিন্তু দুই-তিনদিন ধরে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর ফের আমি হেলপার সেজে অন্য সহকর্মীদের মাধ্যমে মঞ্জুর ড্রাইভারকে খুঁজতে থাকি। এক পর্যায়ে জানতে পারি, মঞ্জুরের হেলপার রহমান এখন বাসে হেলপারি করেন। শেষপর্যন্ত তাকে আটক করা গেলেও মঞ্জুরকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে আটকের বিষয়টি গোপন রেখে রহমানকে মূলত চোখে চোখে রাখা হচ্ছিল এবং তার মাধ্যমে মঞ্জুরকে খোঁজা হচ্ছিল। এরপর সাইনবোর্ড স্ট্যান্ডে কাকতালীয়ভাবেই পাওয়া যায় মঞ্জুরকে। তাদের দুইজনের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় রিপন আর রুবেল নামে আরও দুইজনকে। ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে পরিচয় লুকিয়ে তার হেলপারি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাইওভারের ওপর সেই লাশটি ছিল একজন মাছ বিক্রেতা মহির উদ্দিনের। তাকে সাদ্দাম মার্কেট এলাকা থেকে লেগুনায় তুলে ফ্লাইওভারে নিয়ে ওই চারজন তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৯০০ টাকা ছিনিয়ে নেন। এরপর তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে ছুড়ে ফেলা হয়।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার চক্রটি রাতের শেষভাগে লোকজনকে লেগুনায় তুলে সবকিছু কেড়ে নেয়। এরপর চোখে মলম বা মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে ফেলে দেয়। মাছ বিক্রেতা মহির উদ্দিন এই ঘটনারই শিকার হয়েছিলেন।

আগামীকাল কবি সৈয়দ রনোর জন্মদিন

আগামীকাল ১ জানুয়ারী। কবি সৈয়দ রনোর জন্মদিন। কবির পুরোনাম সৈয়দ নুরুল হুদা রনো। কবি মানিকগঞ্জ জেলাধীন ঘিওর উপজেলার হিজুলিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১ জানুয়ারি ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

বাবা-আলহাজ সৈয়দ আব্দুল লতিফ, হাইস্কুল শিক্ষক এবং মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী, মা-আলেয়ার নাহার (হাওয়া) গৃহিণী। তিন ভাই এবং পাঁচ বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় প্রথম কবিতা প্রকাশ হয়। এরপর থেকে নিয়মিত বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার কবিতা, ছড়া, পদ্য, গল্প, প্রবন্ধ, ভ্রমন কাহিনী, নিবন্ধ, রম্যরচনা প্রকাশ হতে থাকে। বাংলায় এম. এ পাশ করেন। তিনি ২০১৩ সালে লোক সংস্কৃতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

উনিশ বছর যাবত সাপ্তাহিক অন্যধারা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক। সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে সাহিত্যের বিভিন্ন ধারার বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যেই ৬০টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত (ক) কাব্যগ্রন্থ: ১. চেতনায় স্মৃতি স্তম্ভ ২. পিরিতী পরম নিধি ৩. কষ্ট কাহন ৪. নির্বাচিত কবিতা ৫. পদ্য ছন্দ আধুনিক ডটকম ৬. আধুনিক ছড়া উপমায় গড়া ৭. ছবি কথা বলে ৮. কারফিউ ঘেরা পূর্ণিমা রাত ৯. ফেরারী সময় ১০. অলিক ভাবনার খুনসুটি দিন ১১. ঘাস ফড়িং ১২. শিশিরের সূর্যালাপ ১৩. ছেঁড়া খোঁড়া মেঘ ১৪. ভাবের পদাবলী ১৫. বৃষ্টিমাখা রোদ।

(খ) গল্প গ্রন্থ : ১. কল্পলোকের গোলক ধাঁধা ২. কল্পিত গহনে ৩. জীবন বোধের নামতা।

(গ) উপন্যাস : ১. এক অঙ্গে শতরূপ ২. হৃদয় মাঝে তুমি ৩. বিনে সুতার টানে ৪.অলৌকিক শক্তির সন্ধানে ৫. এক দিকের ভালোবাসা ৬. প্রথম দেখা ৭. চাঁদনি রাত ৮. পাঁজর।

(ঘ) রহস্য উপন্যাস : ১. শখের গোয়েন্দা ২. রহস্যের সন্ধানে ৩. মৃত্যুফাঁদ ৪. ভয়ংকর রাত্রি ৫. রাতের শশ্মান ৬. রাতের বেলা ভূতের খেলা ৭. কবর থেকে বলছি।

(ঙ) নাটক : ১. শকুনের থাবা ২. ৭১’-এরপর ৩. কাবা কাবা ৪. ময়লা কাগজ।

(চ) ছড়ার বই : ১. মর্নিং বেল (ছ) সম্পাদিত।

গ্রন্থ : ১. মানিকগঞ্জের কবি ও কবিতা।

(জ) রাজনৈতিক বিশ্লেষণধর্মী গ্রন্থ : ১. এক এগারোর প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ২. ছবি কথা বলে (প্রথম খন্ড) ৩. ছবি কথা বলে (দ্বিতীয় খন্ড)।

(ঞ) গবেষণামূলক গ্রন্থ : ১. লোকসংস্কৃতিতে ধূয়াগান ২. চেতনায় সৈয়দ রনো। ৩. আস্তিক ও নাস্তিক্যবাদের দর্শন।

তিনি ইছামতি সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার –২০১০, বাহন সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার–২০১১, গীতালী ললিতকলা একাডেমী সম্মাননা -২০১২, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল স্মৃতি ফাউন্ডেশন পুরস্কার–২০১৩, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম সম্মাননা-২০১৪ এবং আলপনা বৈঠক সম্মাননা ২০১৪, সুফি মোতাহার হোসেন সম্মাননা-২০১৫, কাব্যকথা সাহিত্য সম্মাননা-২০১৬, মাসিক ভিন্নমাত্রা সম্মাননা-২০১৭ অর্জন করেছেন। তাঁর প্রিয় শখ: বই সংগ্রহ এবং অবসরে বই পড়া।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে আজ রাজধানীর সাংস্কৃতিক বিকাশ কেন্দ্র, পরীবাগে কবি সৈয়দ রনোর সাহিত্য আলোচনা ও মনোজ্ঞ সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন

রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের এই পথিকৃৎ, জনপ্রিয় থ্রিলার সিরিজ মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজের স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার কাজী আনোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মা সাজেদা খাতুনের কবরে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। কাজী আনোয়ার হোসেনের শেষ ইচ্ছা ছিল মার কবরেই থাকবেন তিনি।

এর আগে বাদ জোহর রাজধানীর সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার মসজিদে কাজী আনোয়ার হোসেনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টার দিকে বারডেম হাসপাতাল থেকে কাজী আনোয়ার হোসেনের লাশ সেগুনবাগিচায় তার বাসায় নেয়া হয়।

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ১০ জানুয়ারি থেকে বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বুধবার বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বারডেম হাসপাতালে মারা যান তিনি।

ক্ষতিকর প্রসাধনী দিয়ে রং ফর্সা করতে চান লাখ লাখ নারী

আবেগময় কণ্ঠে শিরোমা পেরেইরা বলেন, ‘বিয়ের দিন আমাকে দেখতে সত্যিই খুব খারাপ লাগছিল। এতো খারাপ আর কখনো লাগেনি।’ এটা (শিরোমা পেরেইরা) তার আসল নাম নয়। সামাজিক কারণে এ প্রতিবেদনে তার নাম বদলে দেয়া হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায় রাজধানী কলম্বোর কাছেই থাকেন ত্রিশোর্ধ বছর বয়সী শিরোমা। বিয়ের আগে তিনি তার ত্বকের রঙ ফর্সা করতে চেয়েছিলেন। তার মতো দক্ষিণ এশিয়ায় আরো অনেক নারীই তাদের গায়ের রঙ উজ্জ্বল করতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, ‘বিয়ের দু’মাস আগে আমি একটি সেলুনে গিয়েছিলাম। রঙ ফর্সা করার জন্য তারা তখন আমাকে একটি ক্রিম দিয়েছিল। দু’সপ্তাহ ব্যবহার করার পর দেখলাম আমার মুখ জ্বলে গেছে। আমি ত্বক ফর্সা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা পুড়ে গেল। আমার মুখে প্রথমে শাদা রঙের ছোপ ছোপ দেখা গেল যা পরে কালো দাগে পরিণত হলো ‘

শিরোমার যখন তার বিয়ের কেনাকাটা ও অনুষ্ঠানে কারা কারা অতিথি হয়ে আসবেন সেদিকে নজর দেয়ার কথা ছিল তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন তার ত্বকের চিকিৎসায়। এর পেছনে অনেক অর্থও খরচ হলো তার।

সেলুন থেকে তাকে রং ফর্সাকারী যে ক্রিম দেয়া হয়েছিল সেটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত কোনো প্রসাধনী সামগ্রী ছিল না। এ ক্রিম অবৈধভাবে আমদানি করে কালোবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।

এক বছর ধরে চিকিৎসার পর পেরেইরার গলায় এখনো ওই কালো দাগ রয়ে গেছে। এরকম আরো কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ এখন অনুমোদন নেই এরকম রং ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

কিন্তু এ সমস্যা শুধু শ্রীলঙ্কারই সমস্যা নয়। এশিয়া ও আফ্রিকাতে লাখ লাখ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই নারী, গায়ের রং ফর্সা করার জন্যে এমন কিছু ব্যবহার করেন যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

বাজার

সারা বিশ্বে গায়ের রং ফর্সা করার এই বাজারের আকার ২০১৭ সালে ছিল প্রায় ৪৮০ কোটি ডলার। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের মধ্যে এই বাজার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৮৯০ কোটি ডলারে।

এর চাহিদা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যবিত্ত পরিবারে।

রং ফর্সাকারী এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সাবান, ক্রিম, ব্রাশ, ট্যাবলেট। এমনকি ইঞ্জেকশনও রয়েছে। মানব দেহে মেলানিন পিগমেন্টের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এ ইঞ্জেকশন এবং এগুলো অনেক জনপ্রিয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেবে দেখা গেছে, আফ্রিকাতে প্রতি ১০ জন নারীর চারজন রং ফর্সাকারী পণ্য ব্যবহার করে থাকেন।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নাইজেরিয়াতে। সেখানে ৭৭% নারী ত্বকের রং উজ্জ্বল করার জন্যে নানা ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তার পরেই রয়েছে টোগো, ৫৯% ও দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৫%।

এশিয়ায় ৬১% ভারতীয় নারী ও চীনে ৪০% নারী এসব ব্যবহার করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জিনিসের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদাও বাড়ছে। একই সাথে এসব মোকাবেলা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত বছর ঘানাতে কর্তৃপক্ষ গর্ভবতী নারীদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিল রং ফর্সাকারী ট্যাবলেট না খাওয়ার জন্যে। কারণ এসব ট্যাবলেটে পাওয়া গেছে এন্টিঅক্সিডেন্ট গ্লুটাথিওন।

গর্ভবতী নারীরা মনে করেন তারা যদি এই ট্যাবলেট খান তাহলে তাদের গর্ভে থাকা সন্তানের গায়ের রং ফর্সা হবে।

এ ধরনের পণ্য মোকাবেলার জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতে আছে কঠোর কঠোর আইন। গাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট ও রোয়ান্ডাতে রং ফর্সাকারী যেসব পণ্যে হাইড্রোকুইনোন আছে সেগুলো নিষিদ্ধ করেছে।

শরীরে মেলানিনের (বাদামী কিম্বা কালো পিগমেন্ট, যার কারণে ত্বকের রঙ নির্ধারিত হয়) উৎপাদন কমিয়ে দেয় হাইড্রোকুইনোন। একই সাথে এটি স্থায়ীভাবে ত্বকের ক্ষতিও করতে পারে।

চিকিৎসা

ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, ‘চর্ম চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে হাইড্রোকুইনোন আছে এরকম পণ্য নিরাপদে ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকের যেসব স্থানে কালো দাগ পড়ে গেছে সেগুলো এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায় এবং তাতে ভালো ফল পাওয়াও সম্ভব।’

ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র এন্টন আলেকজানড্রফ বলেন, রং ফর্সাকারী ক্রিমের কোনো কোনোটি হয়তো সহায়ক। কিন্তু সেটা একজন ত্বক বিজ্ঞানীর পরামর্শে ও তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় সেগুলো বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে।

কার্যকারিতা

তবে ব্রিটিশ স্কিন ফাউন্ডেশন বলছে, “পুরো ত্বক ফর্সা করার নিরাপদ কোন উপায় নেই।”

“দোকানে যেসব ক্রিম বিক্রি হয় সেগুলো যে আসলেই গায়ের রং ফর্সা করে এমন প্রমাণ নেই। এর উল্টো ফলও হতে পারে। এই ক্রিম আপনার ত্বককে অস্বাভাবিক রকমের শাদা অথবা আরো কালোও করে দিতে পারে। এর ফলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে ত্বকের স্বাভাবিক গুণাবলীও,” সতর্ক করে দিয়েছেন আলেকজানড্রফ।

তবে ম্যালাসমার মতো কিছু কিছু সমস্যার চিকিৎসার জন্যে চিকিৎসকরা রং ফর্সাকারী পণ্য প্রেসক্রাইব করে থাকেন।

বয়স হলে শরীরে এরকম সমস্যা দেখা দেয়া খুবই সাধারণ বিষয়। এতে ত্বকে বাদামী কিম্বা ধূসর রঙের দাগ তৈরি হয়। বিশেষ করে মুখে। নারীদের দেহে এরকম হওয়ার হার বেশি। বিশেষ করে গর্ভধারণের সময়।

আলেকজানড্রফ বলেন, ‘একজন চর্ম চিকিৎসকের মাধ্যমে ত্বকের রং ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সেজন্যে অনুমোদিত কিছু ক্রিম আছে যা ডাক্তারদের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নারীরা চিকিৎসকদের পরামর্শ ও নজরদারি ছাড়াই এসব রং ফর্সাকারী কসমেটিক ব্যবহার করতে শুরু করে দেন। কিন্তু এসব প্রসাধনীর গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন:

১. ত্বকে চুলকানি
২. প্রদাহ
৩. জ্বালাপোড়া
৪. ফুলে যাওয়া
৫. ফুসকুড়ি পড়া

মার্কারি

কিছু কিছু পণ্য যেগুলো দ্রুত রং ফর্সা করার দাবি করে সেগুলোতে নানা রকমের ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে। যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর,” বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কিন্তু তারপরেও মার্কারি আছে এরকম পণ্য চীন, লেবানন. মেক্সিকো, পাকিস্তান, ফিলিপিন, থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হচ্ছে।

শরীরে মেলানিন গঠনের প্রক্রিয়াকে শ্লথ করে দেয় এ হাইড্রোকুইনোন।

যেসব পণ্যে মার্কারি আছে সেগুলোর বিক্রি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আফ্রিকার বহু দেশে নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফিলিপিন ও আরো কয়েকটি দেশ অল্প পরিমাণে মার্কারি আছে যেসব পণ্যে সেগুলো বিক্রির অনুমোদন দিয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য

আলেকজানড্রফ বলেন, ‘মার্কারি হচ্ছে বিষ।’ তিনি বলেন, এর ফলে নানা রকমের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মার্কারি আছে যেসব সাবান ও ক্রিমে সেগুলো ব্যবহার করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে। তা হলো:

১. কিডনির ক্ষতি

২. ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া, রং বদলে যাওয়া, কালশিটে দাগ পড়া

৩. ব্যাকটেরিয়া ও ফাংগাল সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া

৪. উদ্বেগ উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা, মানসিক অস্থিরতা থেকে বৈকল্য

৫. স্নায়ু-জনিত সমস্যা

ধারণা

মার্কিন ত্বক বিজ্ঞানী শুয়াই জু বলেন, ‘লোকেরা মনে করেন যে ত্বকের ক্রিম সাধারণত নিরাপদ। এর ফলে স্বাস্থ্যের কী ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে তারা চিন্তাও করেন না। এ মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজন। আমার কাছে যেসব রোগী আসেন তারা আমাকে বিভিন্ন রকমের ক্রিম দেখান যেগুলো তারা কোনো ধরনের প্রেসক্রিপশান ছাড়াই বাজার থেকে কিনেছেন। সেগুলো দেখে সত্যিই আমি অবাক হয়ে যাই।

তিনি যেখানে পড়ান সেখানে এসব ক্রিমের ব্যবহারের ওপর একটি গবেষণা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে স্টেরয়েড আছে এরকম কিছু কিছু ক্রিম ঠিকমতো ব্যবহার না করলে শরীরের ক্ষতি করতে পারে।

বিপদ

বিপদজনক এসব পণ্যের বিক্রি ঠেকাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে শুয়াই জু।

তিনি বলেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প যেরকম নিয়ন্ত্রিত, কসমেটিক শিল্প সেরকম নয়। শীর্ষস্থানীয় যেসব কোম্পানি আছে তারা এ ধরনের বিপদজনক পণ্য তৈরি করে না। কিন্তু এধরনের পণ্য যখন বাইরে থেকে আমদানি করে আনা হয় তখনই নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাজারে এরকম অনেক জাল পণ্য বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করা কঠিন। যারা এসব উৎপাদন করে তাদেরকে পাকড়াও করা সহজ নয়। কিছু কিছু পণ্য আছে যেগুলোতে কী উপাদান আছে সেসবও উল্লেখ করা হয় না। আপনি জানতেও পারেন না কারা এসব উৎপাদন করেছে। পণ্যটি ধরে এর উৎপাদনকারীদের খুঁজে বের করাও সম্ভব হয় না।’

ফলে ত্বকের রং ফর্সা করার এরকম দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে লোকজনকে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।

সামাজিক আন্দোলন

এসব পণ্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে অনেকে সিনেমা নাটকের মতো বিনোদন শিল্পকে দায়ী করে থাকেন। কারণ এগুলোতে বিশেষ ধরনের শারীরিক কাঠামো ও ত্বকের রং-এর ওপর জোর দেয়া হয়।

আর এর ফলে হুমকির মুখে পড়ে লাখ লাখ নারীর স্বাস্থ্য।

গায়ের রং ফর্সা হতে হবে – এ মানসিকতার পরিবর্তনের জন্যে বিভিন্ন সমাজে নানা ধরনের আন্দোলন চলছে।

ভারতে এরকম এক আন্দোলনের নাম: ‘কালোই সুন্দর।’

পাকিস্তানে এরকম এক আন্দোলনের স্লোগান: ‘সুন্দর হতে হলে আপনার ত্বকের রং ফর্সা হতে হবে না।’

গবেষণা : কোভিডের প্রভাবে হ্রাস পেতে পারে শ্রবণশক্তি

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে ভাইরাসটি থেকে মুক্ত হওয়ার পরও অনেকে শ্রবণশক্তির সমস্যায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণা থেকে এ তথ্য দিয়ে তারা জানাচ্ছেন, কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তিরা কানে ব্যথা, কানের ভিতর ভোঁ ভোঁ আওয়াজ, এমনকি শ্রবণশক্তি হ্রাসের মতো শারীরিক উপসর্গের সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার পরেও অনেকে এই কান সংক্রান্ত সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন। তবে কোভিডের নবতম রূপ ওমিক্রন আক্রান্তদের মধ্যে এই উপসর্গটি এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি।

কোভিড আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৮ থেকে ১৫ শতাংশ মানুষের এই শ্রবণশক্তি হ্রাস বা কানে ব্যথার মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, যা একদিকে বিরক্তিকর এবং সেইসাথে উদ্বেগজনকও বটে।

চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার সর্বশেষ বিস্তারে শ্রবণশক্তির এই সমস্যা বেশি করে সামনে আসছে। তবে এর আগে কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গেও বেশ কিছু মানুষ এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। করোনা ভাইরাস কানের সোয়ান কোষগুলিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

আক্রান্ত থাকাকালীন কানের সমস্যা দেখা দিলে সবার প্রথমে একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা জরুরি। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতে কয়েকটি পদ্ধতি যেমন – গভীর শ্বাসের ব্যায়াম, ভাসোডিলেশন (রক্তনালী প্রশস্তকরণ) এবং স্টেরয়েড থেরাপি ইত্যাদি এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে সহায়ক হতে পারে।

কিয়ামতের আগে আরবে প্রাসাদ তৈরির প্রতিযোগিতা হবে

কিয়ামত হবে এ কথা সত্য। কিন্তু কিয়ামত কবে হবে—এ ব্যাপারে একমাত্র মহান আল্লাহই জানেন। তবে মহানবী (সা.) কিয়ামতের কিছু নিদর্শন বাতলে গেছেন, যেগুলো প্রকাশ হতে শুরু করলে বোঝা যাবে, কিয়ামত ঘনিয়ে আসছে। হাদিসে জিবরাঈল নামে একটি বিখ্যাত হাদিস আছে, যেখানে জিবরাঈল (আ.) সাহাবায়ে কেরামকে দ্বিনের বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দিতে মানুষের বেশে এসে মহানবী (সা.)-কে কিছু প্রশ্ন করেন, একজন মুমিনের যেসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ও বিশ্বাস রাখা উচিত, মূলত সেই বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়াই ছিল এ সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্য।

সে হাদিসে জিবরাঈল (আ.) মহানবী (সা.)-কে প্রশ্ন করেন, ‘কিয়ামত কখন হবে?’ তিনি বলেন, ‘যার কাছে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারী থেকে অধিক জ্ঞাত নন। ’ সে ব্যক্তি (জিবরাঈল) বলল, ‘কিয়ামতের নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করুন। ’ তিনি বলেন, ‘দাসী তার মুনিবকে প্রসব করবে, নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, গরিব, বকরির রাখালরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। ’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪৯৯০)
উল্লিখিত হাদিসের একটি চৌম্বকীয় এই অংশে কিয়ামতের অন্যতম নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর ভাষ্যমতে, কিয়ামতের নিদর্শন হলো, ‘দাসী তার মুনিবকে প্রসব করবে, নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, গরিব, বকরির রাখালরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। ’

অন্যান্য হাদিসে মহানবী (সা.) কিয়ামতের আরো নিদর্শন বলেছেন। আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয়, ‘নগ্ন পদ, বিবস্ত্র, গরিব, বকরির রাখালরা বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে। ’

হাদিসের শব্দগুলো দ্বারা বোঝা যায়, এখানে তৎকালীন আরব উপদ্বীপের মানুষের প্রাচুর্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিয়ামতের আগে মহান আল্লাহ তাদের অঢেল সম্পত্তি দান করবেন, ফলে তারা বড় বড় প্রাসাদ তৈরির প্রতিযোগিতায় নামবে।

বর্তমান যুগে তার ধারাবাহিকতা শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে (যা আরব উপদ্বীপের অংশ)। ‘বুরজ আল খলিফা’ নামের ভবনটির উচ্চতা দুই হাজার ৭১৭ ফুট। তবে এই রেকর্ড ভেঙে দিতে দুবাইতেই তৈরি হচ্ছে আরো বেশি উচ্চতার ভবন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে নির্মাণকাজ শুরু হয় ‘ক্রিক হারবার টাওয়ার’-এর। এর উচ্চতা হবে তিন হাজার ৪৫ ফুট। এটিকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে ‘ক্রিক হারবার সিটি’। যেখানে সব ভবনই হবে সুউচ্চ। এই শহরে আবাসন হবে প্রায় চার লাখ ৭০ হাজার মানুষের। ক্রিক হারবার সিটির মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে টাওয়ারটি। ধারণা করা হয়েছিল, বুর্জ আল খলিফার পর এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন। কিন্তু আরব উপদ্বীপেরই মূল কেন্দ্র সৌদি আরবের নির্মাণাধীন জেদ্দা টাওয়ার সে রেকর্ড ভেঙে দেবে। মরুভূমির বুকে গড়ে উঠছে আগামী বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা। সৌদি আরবের জেদ্দা নগরীর লোহিত সাগরের তীরে দারুণ এই স্থাপনাটির নির্মাণকাজ চলছে। আকাশচুম্বী এই স্থাপনাটি উচ্চতায় তিন হাজার ২৮০ ফুট বা এক হাজার মিটার, যা কিলোমিটারের হিসাবে বরাবর ১ কিলোমিটার।

২.৬ মিলিয়ন বর্গফুট বা দুই লাখ ৪৩ হাজার ৮৬৬ বর্গমিটার আয়তনের বিশাল এই স্থাপনাটি ২৫২ তলাবিশিষ্ট হবে। ভূমি থেকে দুই হাজার ১৭৪ ফুট ওপরের পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থাকবে এই টাওয়ারে।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে থাকবে একটি পাঁচ তারকা হোটেল, ৯৭টি এপার্টমেন্ট ও সাতটি ডুপ্লেক্স। জেদ্দা টাওয়ারের সাতটি তলার ৩২৫টি রুমে অফিসগুলো থাকবে।

এই টাওয়ারের লিফটগুলো রেকর্ড পরিমাণ উচ্চতা দুই হাজার ১৬৫ ফুট বা ৬৬০ মিটার উচ্চতায় আসা-যাওয়া করবে। লিফটগুলো প্রথমতলা থেকে ঘণ্টায় সাড়ে ১২ মাইল বেগে ওঠা-নামা করবে। লিফটগুলো অতিথিদের ১৫৭ বা ১৫৮ তলায় সাড়ে ৬৬ সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছে দেবে। বিশ্বের অনাগত সর্ববৃহৎ এই স্থাপনার নির্মাণকাজ ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলে এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু স্থাপনা।

সুবহানাল্লাহ! মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণীগুলো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু প্রাসাদ আরব উপদ্বীপে, তাকে টেক্কা দিতে যে দুটি নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, সেগুলোও আরব উপদ্বীপে। ভবিষ্যতে হয়তো এই প্রতিযোগিতা আরো বাড়তে থাকবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুুযায়ী আরবদের বড় বড় প্রাসাদ তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।

ইসলামে পারিবারিক শিক্ষার গুরুত্ব

পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব মানুষ আজীবন বহন করে এবং তা দ্বারা পরিচালিত হয়। পরিবার থেকে সুশিক্ষা পেলে ভালো মানুষ হওয়া সহজ হয়। পক্ষান্তরে পরিবার থেকে সুশিক্ষা না পেলে বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ভালো মানুষ হওয়া কষ্টকর হয়। কাজেই পরিবার অনন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

শৈশব, কৈশোরসহ জীবনের বড় অংশ নিজ পরিবারেই কাটাতে হয়। মানবজীবনে পরিবারের প্রভাব অপরিসীম। সে ক্ষেত্রে পরিবারে শিক্ষাদীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে পরিবারের সদস্যরা সহজে সফল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিভিন্ন কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও যথাযথভাবে পারিবারিক শিক্ষার প্রভাবে সন্তানদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা এবং মন-মানসিকতা ঠিক থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
পরিবার গঠনের আগে পরিবার প্রধানের শিক্ষা অর্জন : সন্তানরা সাধারণত মাতা-পিতার শিক্ষাকেই বড় করে দেখে। তারা মাতা-পিতার অভ্যাস এবং আচার-আচরণগুলোকে নিজের করে নেয়। প্রথমদিকে নিজের অজান্তে এবং পরবর্তী সময়ে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। শুরুতেই মাতা-পিতা সচেতন না হলে সন্তানদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। তাই পরিবার গঠনের আগে পরিবার প্রধানের শিক্ষা অর্জন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান আল্লাহ আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর তাঁর পরিবার সৃষ্টির আগেই তাঁকে শিক্ষাদান করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তৎপর সে সমুদয় ফেরেশতার সামনে প্রকাশ করলেন এবং বলেন, এই সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৩১)

পারিবারিক শিক্ষা নিশ্চিত করার অপরিহার্যতা : মাতা-পিতা ও অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো, তাঁদের সন্তানদের এমন আর্দশ সন্তান হিসেবে গড়ে তোলা, যেন তারা দুনিয়ায় সফল হয় এবং পরকালে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে পারে। এর জন্য পারিবারিক শিক্ষার বিকল্প নেই। পরিবার প্রধানদের পারিবারিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। ’ (সুরা তাহরিম, আয়াত : ৬)

হাদিসে বলা হয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, তাকে পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। স্ত্রী তার স্বামীর সংসার এবং সন্তানের দায়িত্বশীল। কিয়ামতের দিন তাকে এ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৮৫৩; মুসলিম, হাদিস : ৪৮২৮)

পারিবারিক শিক্ষার প্রভাব : সন্তানের জীবনে পারিবারিক শিক্ষার অন্যতম প্রভাব আছে। পরিবারে যে শিশু সঠিক শিক্ষা পায়, সে বড় হয়েও সঠিক পথে অবিচল থাকে। অপরদিকে যে শিশু পরিবারে খারাপ শিক্ষা পায়, সে বড় হয়েও খারাপ পথেই চলতে থাকে। হাদিস থেকে পারিবারিক শিক্ষার প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। আবু হুরাইয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক সন্তান ফিতরাতের (ইসলাম) ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মাতা-পিতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান কিংবা অগ্নিপূজক বানায়। ’ (বুখারি, হাদিস : ১৩১৯; মুসলিম, হাদিস : ৬৯২৬)

লুকমান (আ.) এর পারিবারিক শিক্ষা : লুকমান (আ.) স্বীয় পুত্রকে নানামুখী শিক্ষা দান করেন। তিনি সন্তানকে আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, নামাজ কায়েম করা, অহংকার পরিহার করে বিনয়ী হওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করা, আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং সবক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও শালীনতা অবলম্বনের শিক্ষা দান করেন। এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হওয়ায় তা সবার জন্য একান্ত পালনীয়। আল্লাহ বলেন, ‘স্মরণ করো, যখন লুকমান উপদেশচ্ছলে তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘হে বৎস, আল্লাহর কোনো শরিক করো না। নিশ্চয় শিরক চরম জুলুম। ’ (সুরা লুকমান, আয়াত : ১৩)

পরিবারে ইসলামচর্চা : পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা ও দ্বিন পালনে সচেষ্ট হওয়া একান্ত জরুরি। পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ বজায় থাকলে পরিবারের সদস্যদের জন্য ধর্মীয় বিধি-নিষেধ পালন করা সহজ হয়। সন্তানরাও দ্বীনি আবহে বেড়ে ওঠায় তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, মাতা-পিতার প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। বাস্তবতার আলোকে দেখা যায়, এমন পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হয় না। সন্তানরা নেশা ও মাদকে জড়ায় না। আর্থিক টানাপড়েনের মধ্যেও আত্মিক সুখ-শান্তি বিরাজ করে। আল্লাহ বলেন, ‘এবং তোমার পরিবারবর্গকে নামাজের আদেশ দাও ও তাতে অবিচলিত থাকো। ’ (সুরা তা-হা, আয়াত : ১৩২)

হাদিসে বলা হয়েছে, আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর বাবা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দাও। ১০ বছর হলে প্রয়োজনে নামাজের জন্য প্রহার করো। আর তাদের শোয়ার জায়গা পৃথক করে দাও। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৫)

পরিশেষে বলা যায়, পরিবার এক অনন্য শিক্ষাগার। পারিবারিক স্কুলেই সন্তানের শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। এখানে মাতা-পিতা ও মুরব্বিদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করে সন্তান সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। কাজেই মাতা-পিতা সন্তানদের আল্লাহভীতি, পরকালীন জবাবদিহিতা, মুসলমানদের দায়িত্ব-কর্তব্য, আল্লাহর হক, বান্দার হক, পারস্পরিক সহমর্মিতা ইত্যাদি শেখানোর চেষ্টা করবেন। সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেবেন। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গী-সাথি ও বন্ধু-বান্ধবদের সম্পর্কেও নজর রাখবেন।

মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে জেতালেন মার্টিনেজ

শেষ কবে হারের স্বাদ পেয়েছিল সেটা হয়তো ভুলেই গেছে লাতিন আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা। একের পর এক জয় ও ড্র’তে অপরাজিত থাকার রেকর্ডের সংখ্যাটা দিন দিন বাড়িয়েই নিচ্ছে দলটি। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকে ছাড়া পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়ে আরো একটি জয় তুলে নিল লিওনেল স্কোলানির দল।

বুধবার ভোরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ঘরের মাঠ এস্তাদিও মারিও আলবারতো কেমপেসে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা।

এই জয়ে টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। দলের জয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজ।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আলবিসেলেস্তারা। সুযোগ বানাতে পারেনি সফরকারী দল কলম্বিয়াও। তবে ২৯ মিনিটে সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজ। গোলের কারিগর ছিলেন ডিফেন্ডার মার্কুস একুনা। বাঁ দিক থেকে তার বুদ্ধিতৃপ্ত হাওয়ায় ভাসানো বল ক্রস বক্সের ভেতরে বুক দিয়ে দারুণভাবে নিচে নামিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে কাছের পোস্টে লক্ষ্যভেদ করেন মার্টিনেজ।

প্রথমার্ধে আর কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি স্কোলানির শিষ্যরা। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতি থেকে ফিরে কিছুটা আক্রমণাত্বক মনোভবে খেলতে থাকে ডি মারিয়া-মার্টিনেজরা। ৬৪মিনিটে ডি মারিয়ার দারুণ এক প্রচেষ্টা রুখে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস। বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে থেকে বা পায়ের জোরাল শট নিয়েছিলেন মারিয়া কিন্তু ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ভার্গাস।

৭৪ মিনিটে গোল পোস্টের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে লো সেলসোর নেওয়া শটে ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠা কলম্বিয়া শেষ দিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণে বেশ কয়েকবার হানা দেয়, কিন্তু জমাট রক্ষণভাগ আর ভাঙতে পারেনি। এর ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

এই জয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ১৫ ম্যাচ শেষে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে আর্জেন্টিনা রয়েছে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে ১৬ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ স্বপ্ন মলিন হয়ে যাচ্ছে কলম্বিয়ার।

এর আগের ম্যাচেও আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন না লিওনেল মেসি, সে ম্যাচেও চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।